গর্ভবতী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গর্ভবতী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গর্ভাবস্থায় নারীদের ৮ অস্বস্তিকর বিষয়!
সন্তান জন্মদানে একজন নারীর জীবনে আনন্দের বিষয় হলেও গর্ভাবস্থায় তার মাঝে এমন কিছু পরিবর্তন আসে যা বেশ বিব্রতকরও বটে। গর্ভবতী হবার আগে এসব ব্যাপারে জানা থাকে না অনেকেরই। তাই গর্ভাবস্থার শুরুতে এসব পরিবর্তনে একেবারে আকাশ থেকে পড়েন তারা।
০১. অযথাই সারা দিন বমি বমি ভাব :- ব্যাপারটাকে মর্নিং সিকনেস বলা হলেও সারাদিন ধরে আপনার বমি পেলে অবাক হবেন না। অনেক সময়ে ডেলিভারির আগে পর্যন্ত চলতে পারে এই সমস্যা।
০২. ব্রণের সমস্যা :- যারা মনে করেন টিনেজ বয়স পার হয়ে গেছেন বলে ব্রণ আর ভোগাবে না, তাদের জন্য আছে দুঃসংবাদ। গর্ভাবস্থায় সিস্টিক অ্যাকনি দেখা দিতে পারে আপনার ঘাড়ে, কানের পেছনে, থুতনি জুড়ে, এমনকি বুক ও পিঠে। গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা জুড়ে যদি আপনার ত্বক থাকে ঝকঝকে,তবে এমনটাও হতে পারে যে সন্তান জন্ম নেবার পর পরই আপনার মুখ ভরে যাবে ব্রণে।
০৩. নাক হয়ে উঠবে আপনার শত্রু :- যেন সুপার পাওয়ার পেয়ে যাবে আপনার নাক। গন্ধ শুঁকে দূর থেকে আপনি বুঝে যাবেন আপনার স্বামী বাইরে থেকে কি খেয়ে এসেছেন! কিছু খাবার খাওয়ার জন্য সময়ে অসময়ে আওনার মন ছটফট করবে। আবার কিছু খাবারের গন্ধ এতো তীব্র মনে হবে যে সেগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে আপনাকে। কি খেতে পারবেন কি পারবেন না, তার পেছনে কোনো কারণ থাকবে না। চিকেন ফ্রাই এর গন্ধ আপনার কাছে অসহ্য লাগতে পারে। আবার কাঁচা বাঁধাকপির প্রতি বেড়ে যেতে পারে ভালোবাসা।
০৪. শারীরিক অবস্থার চাইতেও খারাপ হয় মানসিক অবস্থা :- বিজ্ঞাপন দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন আপনি। ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়লে রাগে চিৎকার করতে ইচ্ছে হবে। এটা-সেটা ভুলে যাবেন খুব সহজেই।
০৫. মুখের ওপর থাকে না নিয়ন্ত্রণ :- আগে হয়তো নাক ডাকতেন না আপনি। কিন্তু এখন দেখা যাবে এতো জোরে নাক ডাকছেন আপনি যে তার শব্দে নিজেই ঘুম থেকে উঠে গেছেন। খাবারের স্বাদ পালটে যাবে একেবারেই। স্বাভাবিক সব খাবারের স্বাদ লাগবে অস্বাভাবিক। কখনো কখনো মনে হবে আপনি খাবারের বদলে লোহার টুকরো গলাধঃকরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
০৬. হঠাৎ করেই ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায় :- হরমোনের প্রভাব দেখা যায় আপনার শরীর জুড়ে। সব সময়ে ঘামতে থাকবেন আপানি, ঘামের পরিমাণও বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও বেড়ে যাবে শরীর জুড়ে রোমের পরিমাণ।
০৭. টয়লেটে যাওয়া মানে এক বিভীষিকা :- অল্প একটু নড়াচড়া করতেই প্রস্রাব পাবে আর টয়লেটে যাবার দরকার হবে আপনার। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যাওয়াটাও খুব স্বাভাবিক। আর এ সবের ফলে টয়লেটে যাওয়ার ব্যাপারটাকে রীতিমত দুঃস্বপ্ন মনে হবে আপনার।
০৮. শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল :- অকারণেই শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল। মাথাব্যাথা, পিঠে ব্যাথা, বুক জ্বালাপোড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। শরিরে পানি আসে আর পা ফেলতেও হয় কষ্ট।
০১. অযথাই সারা দিন বমি বমি ভাব :- ব্যাপারটাকে মর্নিং সিকনেস বলা হলেও সারাদিন ধরে আপনার বমি পেলে অবাক হবেন না। অনেক সময়ে ডেলিভারির আগে পর্যন্ত চলতে পারে এই সমস্যা।
০২. ব্রণের সমস্যা :- যারা মনে করেন টিনেজ বয়স পার হয়ে গেছেন বলে ব্রণ আর ভোগাবে না, তাদের জন্য আছে দুঃসংবাদ। গর্ভাবস্থায় সিস্টিক অ্যাকনি দেখা দিতে পারে আপনার ঘাড়ে, কানের পেছনে, থুতনি জুড়ে, এমনকি বুক ও পিঠে। গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা জুড়ে যদি আপনার ত্বক থাকে ঝকঝকে,তবে এমনটাও হতে পারে যে সন্তান জন্ম নেবার পর পরই আপনার মুখ ভরে যাবে ব্রণে।
০৩. নাক হয়ে উঠবে আপনার শত্রু :- যেন সুপার পাওয়ার পেয়ে যাবে আপনার নাক। গন্ধ শুঁকে দূর থেকে আপনি বুঝে যাবেন আপনার স্বামী বাইরে থেকে কি খেয়ে এসেছেন! কিছু খাবার খাওয়ার জন্য সময়ে অসময়ে আওনার মন ছটফট করবে। আবার কিছু খাবারের গন্ধ এতো তীব্র মনে হবে যে সেগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে আপনাকে। কি খেতে পারবেন কি পারবেন না, তার পেছনে কোনো কারণ থাকবে না। চিকেন ফ্রাই এর গন্ধ আপনার কাছে অসহ্য লাগতে পারে। আবার কাঁচা বাঁধাকপির প্রতি বেড়ে যেতে পারে ভালোবাসা।
০৪. শারীরিক অবস্থার চাইতেও খারাপ হয় মানসিক অবস্থা :- বিজ্ঞাপন দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন আপনি। ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়লে রাগে চিৎকার করতে ইচ্ছে হবে। এটা-সেটা ভুলে যাবেন খুব সহজেই।
০৫. মুখের ওপর থাকে না নিয়ন্ত্রণ :- আগে হয়তো নাক ডাকতেন না আপনি। কিন্তু এখন দেখা যাবে এতো জোরে নাক ডাকছেন আপনি যে তার শব্দে নিজেই ঘুম থেকে উঠে গেছেন। খাবারের স্বাদ পালটে যাবে একেবারেই। স্বাভাবিক সব খাবারের স্বাদ লাগবে অস্বাভাবিক। কখনো কখনো মনে হবে আপনি খাবারের বদলে লোহার টুকরো গলাধঃকরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
০৬. হঠাৎ করেই ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায় :- হরমোনের প্রভাব দেখা যায় আপনার শরীর জুড়ে। সব সময়ে ঘামতে থাকবেন আপানি, ঘামের পরিমাণও বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও বেড়ে যাবে শরীর জুড়ে রোমের পরিমাণ।
০৭. টয়লেটে যাওয়া মানে এক বিভীষিকা :- অল্প একটু নড়াচড়া করতেই প্রস্রাব পাবে আর টয়লেটে যাবার দরকার হবে আপনার। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যাওয়াটাও খুব স্বাভাবিক। আর এ সবের ফলে টয়লেটে যাওয়ার ব্যাপারটাকে রীতিমত দুঃস্বপ্ন মনে হবে আপনার।
০৮. শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল :- অকারণেই শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল। মাথাব্যাথা, পিঠে ব্যাথা, বুক জ্বালাপোড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। শরিরে পানি আসে আর পা ফেলতেও হয় কষ্ট।
গর্ভকালীন যত্ন
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কিছু অতিপ্রয়োজনীয় টিপস !
স্বাস্থ্যকর সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য
মায়েদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন
করা প্রয়োজন। সেদিকেই লক্ষ্য
রেখে কিছু টিপস দেয়া হলো :
— আপনি প্রেগন্যান্সি প্রাপ্তির
জন্য চিন্তা-
ভাবনা করলে গর্ভধারণের
আগে পরিকল্পনা করে নিজেকে সম্পূর্ণ
তৈরি করে নিন। কখনও কখনও
আপনার এমন যেন মনে না হয়,
আপনি প্রেগন্যান্ট।
আপনার চিন্তা-ভাবনার প্রভাব
গর্ভজাত শিশুর ওপর ভীষণভাবে পড়ে।
শেষ কবে ঋতুচক্র হয়েছিল তার ওপরও
লক্ষ্য রাখুন। নয়তো সন্তানের
জন্মের তারিখও সঠিকভাবে নির্ধারণ
করা সম্ভব হয় না।
— শিশুর স্বাস্থ্য পূর্ণরূপে মা-বাবার
স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।
প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডে মা যা আহার
গ্রহণ করবে, তা শিশুর বিকাশে সহায়ক
হয়। তাই ভোজনে ভিটামিন ‘সি’,
ফাইবার্স, আয়রন, ফলিক
অ্যাসিডযুক্ত খাদ্য অবশ্যই
নেয়া উচিত। বেশি তেল
বা ঘি দিয়ে রান্না খাবার খেলে শিশু
স্বাস্থ্যবান হয়, একথা সম্পূর্ণ ভুল।
সুতরাং এমন ভোজন নেয়া উচিত
যা পুষ্টিকর, যেমন—তাজা ফল, সবুজ
সবজি, দুধ, দই
ইত্যাদি উপযোগী খাবার। আর
অকারণে ওষুধ সেবনের
কোনো প্রয়োজন নেই।
— যদি আপনি অন্য কোনো রকমের
ওষুধ সেবন করেন
তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে গর্ভধারণের
আগেই ওষুধ সেবন বন্ধ করা।
এতে আপনার বডি স্ট্যাটাস নরমাল
থাকবে। আর শিশুর কোনো রকমের
সমস্যা হবে না।
— ধূমপান ও ড্রিঙ্ক করলে গর্ভজাত
শিশুর পক্ষে হানিকারক হয়।
যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী ধূমপান
করেন তাহলে গর্ভধারণ করার আগেই
আপনাদের ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
যেসব মহিলা ধূমপান করেন
তারা সময়ের আগেই সামান্য থেকে কম
ওজনের শিশুর জন্ম দেন। ধূমপানের
জন্য কম ওজনেরও সন্তানের জন্ম হয়
বা মৃত শিশুরও জন্ম হতে পারে।
— যদি আপনি কোনো রাসায়নিক
সংস্থা বা এক্সরেসংক্রান্ত
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন তাহলে এর
বিষজাতীয় ধোঁয়া আপনার সন্তানের
জন্য ক্ষতিকারক। এসব স্থান
থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি।
— মানুষের মধ্যে একটি ভুল
ধারণা রয়েছে যে কম্পিউটারের
কুপ্রভাব গর্ভজাত শিশুর ওপরে খুব
বেশিভাবে পড়ে। বর্তমান ব্যস্ত
যুগে মহিলারা আইটি সেক্টরে কর্মরত।
এতে কোনো সমস্যা হয় না।
— শিশুর জন্মের আগে তার সুরক্ষার
জন্য ব্লাড টেস্ট অবশ্যই করাবেন।
এইচআইভি টেস্ট করানোও জরুরি। আরো টিপস দেখুন
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের বিশেষ যত্ন
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্।
এই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর,
সাবলীল স্বাস্থ্যে উন্নত রাখার জন্য
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের যথোপযুক্ত
যত্ন ও পরিচর্যা দরকার। এর জন্য
প্রথমেই প্রয়োজন পরিবারের সবার
মানসিকতার পরিবর্তন।
মনে রাখতে হবে, একজন নারী তাঁর
শরীরের মধ্যে ধারণ করছেন আরেকজন
ক্ষুদ্রাকৃতির মানুষ। এই ক্ষুদ্রাকৃতির
মানুষটি পেটের ভেতর বেড়ে ওঠার জন্য
চাই পরিবেশবান্ধব অবস্থা—
সেটা হবে খাদ্য, আলো, বাতাস, বিশ্রাম
ও সময়মতো চিকিত্সকের পরামর্শ
এবং সে অনুযায়ী পথ্য ও পরীক্ষা।
পুরো গর্ভাবস্থাকে এ জন্য
তিনটি সময়ে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথম তিন মাস
প্রথম গর্ভধারণের লজ্জা,
বমি বমি ভাব, এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য
ইত্যাদি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
অথচ এই সময়ই বাচ্চার অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গগুলো পূর্ণ রূপ লাভ
করে (পিরিয়ড অব অরগানোজেনেসিস)।
তাই মাকে এ সময় সহমর্মিতার
পাশাপাশি বমি বেশি হলে বমিনাশক,
অম্লনাশক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার
জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের
পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ও
অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ
সময় ছোট কয়েকটি পরীক্ষা—যেমন
রক্তের হিমোগ্লোবিন, সুগার ও গ্রুপ
করে রাখা উচিত। খুব বেশি প্রয়োজন
না হলে আলট্রাসনোগ্রাম করার
দরকার নেই।
দ্বিতীয় তিন মাস
যাঁদের মাসিক অনিয়মিত, তাঁদের তারিখ
নিশ্চিত করার জন্য ১২-১৪
সপ্তাহে এবং যাঁদের কোনো বংশগত
বা জন্মগত সমস্যা আছে,
কিংবা হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য
২০-২২ সপ্তাহে আলট্রাসনোগ্রাম
করতে হবে। যেহেতু গর্ভস্থ শিশুর
শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়
উপাদান মায়ের কাছ থেকেই আসে, তাই
মায়ের প্রতিদিনের খাদ্য
হতে হবে সুষম, যার মধ্যে মাছ, মাংস,
ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও প্রচুর
পানি থাকতে হবে।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দুপুরে অন্তত দুই
ঘণ্টা ও রাতে অন্তত সাত
ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হবে।
আগে টিকা দেওয়া না থাকলে
গর্ভাবস্থায় পাঁচ ও ছয় মাস শেষ
হলে দুটি টিটি টিকা দিতে হবে। গর্ভস্থ
শিশুর বাড়ন্ত গঠনের জন্য আয়রন,
ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট
খেতে দিলে ভালো হয়।
তৃতীয় তিন মাস
এ সময় গর্ভের শিশু খুব দ্রুত
বেড়ে ওঠে। মোট গর্ভকালীন মায়ের
১০-১২ কেজি ওজন বৃদ্ধির বেশির
ভাগ এ সময় হয়। এ সময় অনেক
গর্ভবতী মায়ের পায়ে পানি আসে। পেট
বড় হওয়ার জন্য মৃদু শ্বাসকষ্ট,
এসিডিটি কষ্ট, স্তন থেকে কিছু তরল
পদার্থ নিঃসৃত হতে পারে।
এগুলো গর্ভবতী মায়ের জন্য
স্বাভাবিক ব্যাপার। তাঁকে এসব
বুঝিয়ে বলতে হবে। নিয়মিত ওজন ও
প্রেশার মাপা, জরায়ুর ফান্ডাল
উচ্চতা মেপে দেখা (যত সপ্তাহ তত
সেমি)। কোনো জটিলতা দেখা দিলে,
যেমন অস্বাভাবিক পেট বড় বা ছোট
হওয়া, হঠাত্ রক্তভাঙা, খুব বেশি জ্বর
আসা, বেশি রক্তচাপ দেখা দেওয়া—
এমন
পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি চিকিত্সক
দেখাতে হবে।
অন্তত পাঁচবার
গর্ভবতী মাকে চিকিত্সক
দেখানো দরকার। প্রথম তিন
মাসে একবার, ২৮ সপ্তাহে একবার,
৩৬ সপ্তাহে একবার এবং তারপর
প্রতি সপ্তাহে একবার
করে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত।
প্রসূতিকে অবশ্যই একজন চিকিত্সক
বা নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ দাই
দিয়ে প্রসব করানো উচিত।
মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রথম
দেখা দিলে বা বের হয়ে আসতে চাইলে,
প্রসবের সময় ১২ ঘণ্টার বেশি হলে,
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
হলে তাড়াতাড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিতে
হবে। প্রসবের পরের প্রথম দুই
ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়
রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ
পরীক্ষা এবং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত
মাকে বিশ্রাম দিতে হবে। জন্মের পর
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের
কাছে আনতে হবে এবং মায়ের দুধ
(শালদুধ) খাওয়াতে হবে।
সাত দিন এবং ছয় সপ্তাহ পর
তাঁকে আবার চিকিত্সকের
কাছে আনতে হবে, যিনি তাঁকে বুকের দুধ
খাওয়ানোর এবং অন্যান্য সাধারণ
চেকআপ করা ছাড়াও জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি ব্যবহারে অবহিত করবেন ও
পরামর্শ দেবেন। আমাদের
দেশে প্রতি লাখে ৩২০ জন
নারী সন্তান ধারণজনিত জটিলতায়
মারা যান। উন্নত জীবন যাপন, গর্ভ
ও প্রসবকালীন যথোপযুক্ত যত্নের
জন্য উন্নত বিশ্বে এই মৃত্যুর হার
অনেক কম। তাই আসুন, আমরা সচেতন
হই, মায়ের গর্ভকালীন নিরাপত্তা ও
পুষ্টি নিশ্চিত করি। শিশু জন্মদানের
জন্য তাঁকে সুন্দর নির্ভরশীল
বিশ্বস্ত পরিবেশ দিই। দিই
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, মনোরম
পরিবেশ মা ও সদ্য-প্রসূত সন্তানের
জন্য। কবি সুকান্তের ভাষায়, ‘এ
বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব
আমি, নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ়
অঙ্গীকার।’
হামিদা বেগম
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
এই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর,
সাবলীল স্বাস্থ্যে উন্নত রাখার জন্য
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের যথোপযুক্ত
যত্ন ও পরিচর্যা দরকার। এর জন্য
প্রথমেই প্রয়োজন পরিবারের সবার
মানসিকতার পরিবর্তন।
মনে রাখতে হবে, একজন নারী তাঁর
শরীরের মধ্যে ধারণ করছেন আরেকজন
ক্ষুদ্রাকৃতির মানুষ। এই ক্ষুদ্রাকৃতির
মানুষটি পেটের ভেতর বেড়ে ওঠার জন্য
চাই পরিবেশবান্ধব অবস্থা—
সেটা হবে খাদ্য, আলো, বাতাস, বিশ্রাম
ও সময়মতো চিকিত্সকের পরামর্শ
এবং সে অনুযায়ী পথ্য ও পরীক্ষা।
পুরো গর্ভাবস্থাকে এ জন্য
তিনটি সময়ে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথম তিন মাস
প্রথম গর্ভধারণের লজ্জা,
বমি বমি ভাব, এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য
ইত্যাদি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
অথচ এই সময়ই বাচ্চার অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গগুলো পূর্ণ রূপ লাভ
করে (পিরিয়ড অব অরগানোজেনেসিস)।
তাই মাকে এ সময় সহমর্মিতার
পাশাপাশি বমি বেশি হলে বমিনাশক,
অম্লনাশক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার
জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের
পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ও
অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ
সময় ছোট কয়েকটি পরীক্ষা—যেমন
রক্তের হিমোগ্লোবিন, সুগার ও গ্রুপ
করে রাখা উচিত। খুব বেশি প্রয়োজন
না হলে আলট্রাসনোগ্রাম করার
দরকার নেই।
দ্বিতীয় তিন মাস
যাঁদের মাসিক অনিয়মিত, তাঁদের তারিখ
নিশ্চিত করার জন্য ১২-১৪
সপ্তাহে এবং যাঁদের কোনো বংশগত
বা জন্মগত সমস্যা আছে,
কিংবা হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য
২০-২২ সপ্তাহে আলট্রাসনোগ্রাম
করতে হবে। যেহেতু গর্ভস্থ শিশুর
শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়
উপাদান মায়ের কাছ থেকেই আসে, তাই
মায়ের প্রতিদিনের খাদ্য
হতে হবে সুষম, যার মধ্যে মাছ, মাংস,
ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও প্রচুর
পানি থাকতে হবে।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দুপুরে অন্তত দুই
ঘণ্টা ও রাতে অন্তত সাত
ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হবে।
আগে টিকা দেওয়া না থাকলে
গর্ভাবস্থায় পাঁচ ও ছয় মাস শেষ
হলে দুটি টিটি টিকা দিতে হবে। গর্ভস্থ
শিশুর বাড়ন্ত গঠনের জন্য আয়রন,
ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট
খেতে দিলে ভালো হয়।
তৃতীয় তিন মাস
এ সময় গর্ভের শিশু খুব দ্রুত
বেড়ে ওঠে। মোট গর্ভকালীন মায়ের
১০-১২ কেজি ওজন বৃদ্ধির বেশির
ভাগ এ সময় হয়। এ সময় অনেক
গর্ভবতী মায়ের পায়ে পানি আসে। পেট
বড় হওয়ার জন্য মৃদু শ্বাসকষ্ট,
এসিডিটি কষ্ট, স্তন থেকে কিছু তরল
পদার্থ নিঃসৃত হতে পারে।
এগুলো গর্ভবতী মায়ের জন্য
স্বাভাবিক ব্যাপার। তাঁকে এসব
বুঝিয়ে বলতে হবে। নিয়মিত ওজন ও
প্রেশার মাপা, জরায়ুর ফান্ডাল
উচ্চতা মেপে দেখা (যত সপ্তাহ তত
সেমি)। কোনো জটিলতা দেখা দিলে,
যেমন অস্বাভাবিক পেট বড় বা ছোট
হওয়া, হঠাত্ রক্তভাঙা, খুব বেশি জ্বর
আসা, বেশি রক্তচাপ দেখা দেওয়া—
এমন
পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি চিকিত্সক
দেখাতে হবে।
অন্তত পাঁচবার
গর্ভবতী মাকে চিকিত্সক
দেখানো দরকার। প্রথম তিন
মাসে একবার, ২৮ সপ্তাহে একবার,
৩৬ সপ্তাহে একবার এবং তারপর
প্রতি সপ্তাহে একবার
করে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত।
প্রসূতিকে অবশ্যই একজন চিকিত্সক
বা নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ দাই
দিয়ে প্রসব করানো উচিত।
মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রথম
দেখা দিলে বা বের হয়ে আসতে চাইলে,
প্রসবের সময় ১২ ঘণ্টার বেশি হলে,
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
হলে তাড়াতাড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিতে
হবে। প্রসবের পরের প্রথম দুই
ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়
রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ
পরীক্ষা এবং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত
মাকে বিশ্রাম দিতে হবে। জন্মের পর
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের
কাছে আনতে হবে এবং মায়ের দুধ
(শালদুধ) খাওয়াতে হবে।
সাত দিন এবং ছয় সপ্তাহ পর
তাঁকে আবার চিকিত্সকের
কাছে আনতে হবে, যিনি তাঁকে বুকের দুধ
খাওয়ানোর এবং অন্যান্য সাধারণ
চেকআপ করা ছাড়াও জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি ব্যবহারে অবহিত করবেন ও
পরামর্শ দেবেন। আমাদের
দেশে প্রতি লাখে ৩২০ জন
নারী সন্তান ধারণজনিত জটিলতায়
মারা যান। উন্নত জীবন যাপন, গর্ভ
ও প্রসবকালীন যথোপযুক্ত যত্নের
জন্য উন্নত বিশ্বে এই মৃত্যুর হার
অনেক কম। তাই আসুন, আমরা সচেতন
হই, মায়ের গর্ভকালীন নিরাপত্তা ও
পুষ্টি নিশ্চিত করি। শিশু জন্মদানের
জন্য তাঁকে সুন্দর নির্ভরশীল
বিশ্বস্ত পরিবেশ দিই। দিই
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, মনোরম
পরিবেশ মা ও সদ্য-প্রসূত সন্তানের
জন্য। কবি সুকান্তের ভাষায়, ‘এ
বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব
আমি, নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ়
অঙ্গীকার।’
হামিদা বেগম
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভবতীর পাইলস প্রফেসর ডা. মোঃ সহিদুর রহমান
মলদ্বারের রক্তনালি ফুলেযাওয়ার নাম পাইলস। এটা দুই প্রকার। যথাক্রমে-এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল।
কারণ
১. মলদ্বারে ক্যান্সার হলে এর উৎপত্তি হয় ২. গর্ভকালীন মহিলাদের ক্ষেত্রে এর হার অধিক ৩. বয়স্ক পুরুষের অনেক সময় প্রস্রাবে বাধা সৃষ্টি হয়। প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড কোঁথ দিতে হয়। তার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে ওঠে ৪. ক্রনিক কষা পায়খানা (পায়খানা পরিষকার না হওয়ায় মলত্যাগ করতে বসে প্রচণ্ড বেগে কোঁথ দিতে হয়। যার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে ওঠে) ৫. গার্ডে চাকরিরত যাদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়।
রোগের লক্ষণসমূহ
১. মলত্যাগের সময় একটু চাপ পড়লেই ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে। শক্ত পায়খানা হলে এই রক্তক্ষরণের হার অধিক হয়
২. নরম পায়খানা হলে এটি কম হয়। নরম মাংসপিণ্ড বাইরে বেরিয়ে থাকে। অনেক সময় পায়খানা করার সময় এটিবাইরে থাকে। একটু চাপ দিলে ভেতরে চলে যায়। অনেকক্ষেত্রে এটি চাপ দিলেও আর ভেতরে যেতে চায় না। তাকে তখন তৃতীয় ডিগ্রি ধরে নেয়া হয়।
৩. অনেকের মলদ্বার দিয়ে নিয়মিত রস ঝরতে থাকে। যা পরিধেয় কাপড়-চোপড় নষ্ট করে দেয় ৪. মলদ্বারে অনেকসময় ব্যথা অনুভূত হয় ৫. রক্ত ঝরার ফলে অনেকে রক্তশূন্য হয়ে পড়ে।
পরীক্ষাসমূহ
নানাবিধ পরীক্ষা রয়েছে এই রোগ নির্ণয়ের জন্য। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অভিজ্ঞ সার্জন একমাত্র এই রোগ নির্ণয় করতে সমর্থহন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, অনেকেই এই রোগ নির্ণয়ে ভুল করে থাকেন। যার ফলে চিকিৎসাও ভুল হয়।সংশ্লিষ্ট রোগীকে সারা জীবন ভুগতে হয়।
জটিলতা
১. ইনফেকশন ২. ঘা ৩. গ্যাংগ্রিন ৪. ক্যান্সার ৫. মলদ্বার সংকোচন ৬. লিভার অ্যাবসেস ৭. ফিস্টুলা।
চিকিৎসা
একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বে স্বীকৃত যথা-
১. অপারেশন ছাড়া ঃ যে কারণে পাইলস হয়েছে তার চিকিৎসা দিলেই এই রোগ নিরাময় হয়ে যায়। যদি পাইলস প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ে থাকে আর যদি ক্যান্সারের কারণে পাইলসহয়ে থাকে তাহলে ক্যান্সারসহ পাইলসের চিকিৎসা দিতে হবে।
২. ইনজেকশন পদ্ধতি ঃ প্রথম ডিগ্রির ক্ষেত্রে শুধু প্রযোজ্য। যেক্ষেত্রে সুষ্ঠু অভিজ্ঞতার যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। অন্যথায় এই রোগ আবার হবে।৩. রাবার রিং লাইগেশন ৪. সার্জারি ৫. স্ট্যাপলিং পদ্ধতি। অত্যাধুনিক পদ্ধতি (কাটা-ছেঁড়া লাগে না, হাসপাতালে না থাকলেও চলে, আউটডোর পদ্ধতির চিকিৎসা, রক্তপাত নেই, ব্যথামুক্ত ও খুবই আরামদায়ক। আমরাই এই চিকিৎসার প্রথম প্রবর্তকবাংলাদেশে)।
নারীর অহঙ্কার
নারীর অহঙ্কার গর্ভধারণ।সন্তানসম্ভবা মহিলারা সমাজে খুবই সমমানের অধিকারী। এই সন্তান প্রসব করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব সমস্যার একটি হচ্ছে পাইলস। যা তারা বুঝে উঠতেপারেন না। আজকে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কেন হয় এই রোগ
অনেক কারণের মধ্যে আসল কারণটি হলো সন্তান পেটে আসার পর এর একটা নিম্নমুখী চাপ থাকে। যা মলদ্বারের রক্ত চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলতে থাকে। তা ছাড়া আছে হরমোনের প্রভাব। শরীরের টিস্যুগুলো নরম হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, শিরাগুলো আর চাপ ধরে রাখতে পারে না। তখন অনবরত রক্ত ঝরতে থাকে। কিন্তু কোনো ব্যথা থাকে না। গঠনগতভাবেই রক্ত ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। মল নরম হলে তেমন একটা সমস্যা নেই। মল কঠিন হলে এই সমস্যা প্রকট হয়ে পড়ে।রক্ত ঝরা সামান্য হলে তেমন কোনো ক্ষতি নেই, বেশি হলে রোগী রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। এমনিতেই মহিলাদের বা গর্ভবতী মহিলারা রক্তশূন্যতায় বেশি ভোগেন। এতে মা ও সন্তান উভয়ের ক্ষতি হয়। তাই এই অবস্থায় পাইলসের চিকিৎসা করতে হবে।
এর প্রতিকার
অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি দরকার পড়ে না। যদি রোগী সচেতন থাকেন। বিশেষ করে খাবার তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার অবশ্যই সংযুক্ত থাকবে। মল নরম রাখার জন্যদিনে অন্তত দুবার মলত্যাগের অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি মাংস কম খাবেন। বেশি কষা মনে করলেইসবগুলের ভুসি খাবেন। এতে কাজ না হলে ডাক্তারেরপরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় হিপবাথ নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার। অনেকে এতেই ভালো হয়ে যায়। এতে ভালো না হলেরাবার রিং লাইগেশন কার্যকরী, যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে না। একটি রিং পরিয়ে দিলেই যথেষ্ট। এটি ক্রমান্বয়ে কেটে পড়ে যাবে। এটি বেশ নিরাপদ পদ্ধতি। যথেষ্ট সফল, এতে ঝুঁকি নেই। নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। এটি প্রয়োগের পর খুবই সামান্য সংখ্যক রোগীর সার্জারি লাগে।
সচেতনতা
অভিজ্ঞ সার্জন ছাড়া এটি কখনো করা ঠিক হবে না। সর্বশেষ অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়েছে। যা হলো স্ট্যাপলিং-যা সারা বিশ্বে সমাদৃত, খুবই সফল, কাটা-ছেঁড়া লাগে না, রক্তক্ষরণ নেই, আউটডোরে করা যায়, ব্যথা নেই, দ্রুতআরোগ্য লাভ। আর এ বিষয়ে আমরাই একমাত্র অগ্রগামী ও বাংলাদেশে প্রথম। এই রোগ দীর্ঘদিন লালন করলে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মহিলাদের সেকেলে ধারণা
লজ্জা নারীর ভূষণ। এ লজ্জাকে কেন্দ্র করে অনেক নারীই নিজেকে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে। এসব মারাত্মক রোগকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমান বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, নারী-পুরুষ কেউ বসে নেই তার নিজস্ব ভুবনে। মহিলাদের প্রাচীন ধারণা-মহিলাদের আবার এই রোগ কেনহবে? আর এই রোগের চিকিৎসাই কী বা কারা করবে? তাদের ধারণা, আমাদের দেশে এসব রোগের অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তারের সংখ্যা কম। এসব বিষয়ের ওপর কোনো মহিলা ডাক্তারও নেই। কিন্তু তারা জানে নাবা বোঝে না, রোগ কোনো ছেলেখেলা নয়। সেটা পুরুষ ডাক্তারই হোক বা মেয়ে ডাক্তারই হোক। সুস্থভাবেবাঁচার জন্য ওদের দ্বারাই চিকিৎসা করাতে হবে। এ জন্য দরকার একজন অভিজ্ঞ সার্জন। তবে সান্ত্বনার বিষয়, এই আধুনিক যুগেও ইসলামী চিন্তাধারায় এই রোগের চিকিৎসার জন্য আবিষকৃত হয়েছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও ব্যবস্থা।
রিপোর্ট মনোজগত
Read More
কারণ
১. মলদ্বারে ক্যান্সার হলে এর উৎপত্তি হয় ২. গর্ভকালীন মহিলাদের ক্ষেত্রে এর হার অধিক ৩. বয়স্ক পুরুষের অনেক সময় প্রস্রাবে বাধা সৃষ্টি হয়। প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড কোঁথ দিতে হয়। তার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে ওঠে ৪. ক্রনিক কষা পায়খানা (পায়খানা পরিষকার না হওয়ায় মলত্যাগ করতে বসে প্রচণ্ড বেগে কোঁথ দিতে হয়। যার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে ওঠে) ৫. গার্ডে চাকরিরত যাদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়।
রোগের লক্ষণসমূহ
১. মলত্যাগের সময় একটু চাপ পড়লেই ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে। শক্ত পায়খানা হলে এই রক্তক্ষরণের হার অধিক হয়
২. নরম পায়খানা হলে এটি কম হয়। নরম মাংসপিণ্ড বাইরে বেরিয়ে থাকে। অনেক সময় পায়খানা করার সময় এটিবাইরে থাকে। একটু চাপ দিলে ভেতরে চলে যায়। অনেকক্ষেত্রে এটি চাপ দিলেও আর ভেতরে যেতে চায় না। তাকে তখন তৃতীয় ডিগ্রি ধরে নেয়া হয়।
৩. অনেকের মলদ্বার দিয়ে নিয়মিত রস ঝরতে থাকে। যা পরিধেয় কাপড়-চোপড় নষ্ট করে দেয় ৪. মলদ্বারে অনেকসময় ব্যথা অনুভূত হয় ৫. রক্ত ঝরার ফলে অনেকে রক্তশূন্য হয়ে পড়ে।
পরীক্ষাসমূহ
নানাবিধ পরীক্ষা রয়েছে এই রোগ নির্ণয়ের জন্য। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অভিজ্ঞ সার্জন একমাত্র এই রোগ নির্ণয় করতে সমর্থহন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, অনেকেই এই রোগ নির্ণয়ে ভুল করে থাকেন। যার ফলে চিকিৎসাও ভুল হয়।সংশ্লিষ্ট রোগীকে সারা জীবন ভুগতে হয়।
জটিলতা
১. ইনফেকশন ২. ঘা ৩. গ্যাংগ্রিন ৪. ক্যান্সার ৫. মলদ্বার সংকোচন ৬. লিভার অ্যাবসেস ৭. ফিস্টুলা।
চিকিৎসা
একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বে স্বীকৃত যথা-
১. অপারেশন ছাড়া ঃ যে কারণে পাইলস হয়েছে তার চিকিৎসা দিলেই এই রোগ নিরাময় হয়ে যায়। যদি পাইলস প্রাথমিক পর্যায়ে হয়ে থাকে আর যদি ক্যান্সারের কারণে পাইলসহয়ে থাকে তাহলে ক্যান্সারসহ পাইলসের চিকিৎসা দিতে হবে।
২. ইনজেকশন পদ্ধতি ঃ প্রথম ডিগ্রির ক্ষেত্রে শুধু প্রযোজ্য। যেক্ষেত্রে সুষ্ঠু অভিজ্ঞতার যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। অন্যথায় এই রোগ আবার হবে।৩. রাবার রিং লাইগেশন ৪. সার্জারি ৫. স্ট্যাপলিং পদ্ধতি। অত্যাধুনিক পদ্ধতি (কাটা-ছেঁড়া লাগে না, হাসপাতালে না থাকলেও চলে, আউটডোর পদ্ধতির চিকিৎসা, রক্তপাত নেই, ব্যথামুক্ত ও খুবই আরামদায়ক। আমরাই এই চিকিৎসার প্রথম প্রবর্তকবাংলাদেশে)।
নারীর অহঙ্কার
নারীর অহঙ্কার গর্ভধারণ।সন্তানসম্ভবা মহিলারা সমাজে খুবই সমমানের অধিকারী। এই সন্তান প্রসব করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব সমস্যার একটি হচ্ছে পাইলস। যা তারা বুঝে উঠতেপারেন না। আজকে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কেন হয় এই রোগ
অনেক কারণের মধ্যে আসল কারণটি হলো সন্তান পেটে আসার পর এর একটা নিম্নমুখী চাপ থাকে। যা মলদ্বারের রক্ত চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ফলে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলতে থাকে। তা ছাড়া আছে হরমোনের প্রভাব। শরীরের টিস্যুগুলো নরম হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, শিরাগুলো আর চাপ ধরে রাখতে পারে না। তখন অনবরত রক্ত ঝরতে থাকে। কিন্তু কোনো ব্যথা থাকে না। গঠনগতভাবেই রক্ত ঝরা বন্ধ হয়ে যায়। মল নরম হলে তেমন একটা সমস্যা নেই। মল কঠিন হলে এই সমস্যা প্রকট হয়ে পড়ে।রক্ত ঝরা সামান্য হলে তেমন কোনো ক্ষতি নেই, বেশি হলে রোগী রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। এমনিতেই মহিলাদের বা গর্ভবতী মহিলারা রক্তশূন্যতায় বেশি ভোগেন। এতে মা ও সন্তান উভয়ের ক্ষতি হয়। তাই এই অবস্থায় পাইলসের চিকিৎসা করতে হবে।
এর প্রতিকার
অনেক ক্ষেত্রে সার্জারি দরকার পড়ে না। যদি রোগী সচেতন থাকেন। বিশেষ করে খাবার তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার অবশ্যই সংযুক্ত থাকবে। মল নরম রাখার জন্যদিনে অন্তত দুবার মলত্যাগের অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি মাংস কম খাবেন। বেশি কষা মনে করলেইসবগুলের ভুসি খাবেন। এতে কাজ না হলে ডাক্তারেরপরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় হিপবাথ নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার। অনেকে এতেই ভালো হয়ে যায়। এতে ভালো না হলেরাবার রিং লাইগেশন কার্যকরী, যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে না। একটি রিং পরিয়ে দিলেই যথেষ্ট। এটি ক্রমান্বয়ে কেটে পড়ে যাবে। এটি বেশ নিরাপদ পদ্ধতি। যথেষ্ট সফল, এতে ঝুঁকি নেই। নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। এটি প্রয়োগের পর খুবই সামান্য সংখ্যক রোগীর সার্জারি লাগে।
সচেতনতা
অভিজ্ঞ সার্জন ছাড়া এটি কখনো করা ঠিক হবে না। সর্বশেষ অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়েছে। যা হলো স্ট্যাপলিং-যা সারা বিশ্বে সমাদৃত, খুবই সফল, কাটা-ছেঁড়া লাগে না, রক্তক্ষরণ নেই, আউটডোরে করা যায়, ব্যথা নেই, দ্রুতআরোগ্য লাভ। আর এ বিষয়ে আমরাই একমাত্র অগ্রগামী ও বাংলাদেশে প্রথম। এই রোগ দীর্ঘদিন লালন করলে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মহিলাদের সেকেলে ধারণা
লজ্জা নারীর ভূষণ। এ লজ্জাকে কেন্দ্র করে অনেক নারীই নিজেকে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে। এসব মারাত্মক রোগকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। বর্তমান বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, নারী-পুরুষ কেউ বসে নেই তার নিজস্ব ভুবনে। মহিলাদের প্রাচীন ধারণা-মহিলাদের আবার এই রোগ কেনহবে? আর এই রোগের চিকিৎসাই কী বা কারা করবে? তাদের ধারণা, আমাদের দেশে এসব রোগের অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তারের সংখ্যা কম। এসব বিষয়ের ওপর কোনো মহিলা ডাক্তারও নেই। কিন্তু তারা জানে নাবা বোঝে না, রোগ কোনো ছেলেখেলা নয়। সেটা পুরুষ ডাক্তারই হোক বা মেয়ে ডাক্তারই হোক। সুস্থভাবেবাঁচার জন্য ওদের দ্বারাই চিকিৎসা করাতে হবে। এ জন্য দরকার একজন অভিজ্ঞ সার্জন। তবে সান্ত্বনার বিষয়, এই আধুনিক যুগেও ইসলামী চিন্তাধারায় এই রোগের চিকিৎসার জন্য আবিষকৃত হয়েছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও ব্যবস্থা।
রিপোর্ট মনোজগত
লিঙ্গভেদে জীবন বিকাশ এস. এম. লতিফ তালুকদার part 1
এস. এম. লতিফ তালুকদার
মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ মূলত মাতৃগর্ভেজাইগোট গঠনের সময়ই হয়ে যায়। পুরুষ লিঙ্গ নিঃসৃত বীর্য (শুক্রাণু) Spermatozoa নারীর যৌননালি পথে Womb জরায়ু বা মাতৃজঠরে প্রবেশ করলে জরায়ুর ভেতর Ovum ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর সংমিশ্রণ ঘটে।এই মিশ্রণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিম্বকোষ নিষিক্ত বা উর্বর হয়ে ওঠে। এভাবে দুটি জননকোষের মিশ্রণে সৃষ্টি হয় নতুন একটি জীবকোষ zygote -জীবের দেহ গঠনের মূল উপাদান (যার বস্তুগত অস্তিত্ব ১/১০০ ইঞ্চি-এক ইঞ্চির একশত ভাগের একভাগ)। নর-নারীর মুহূর্তের বিভ্রান্তেই হোক আর সৃষ্টির রহস্যেই হোক সৃষ্টি হয় জীবনের। যাত্রা হয় মানব মানবীয় জীবনচক্রের।
To the layman- সাধারণমানুষ হিসেবে মানুষ বয়স গণনা করা হয় পৃথিবীপৃষ্ঠে ভূমিষ্ঠ হওয়ার ক্ষণ থেকে। কিন্তু বিকাশ মনোবিজ্ঞানীদের গণনায় মানুষের জীবন শুরু হয় তার জন্মেরও পূর্বে। ঠিক যেমনি ঐতিহাসিকদের মতে, তাজমহল সৃষ্টি হয়েছিল সম্রাট শাহজাহানের জন্মেরও পূর্বে। Had there been no Nowroj, therewould be no Noorjahan, no Shahjahan, no যে মুহূর্তে পিতা-মাতা যৌনমিলনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মিলনের ফলে যদি সন্তানের জন্ম হয় তাহলে সেই মিলনের পূর্ব মুহূর্তে পিতামাতা উভয়েরই ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের সংলক্ষণগুলোর প্রতিফলন ঘটে অনাগত সন্তানটির জীবনাবর্তে।
জীবন বিকাশে মানুষের মনের মণিকোঠায় হৃদয়ের তন্ত্রীতে, তন্ত্রীতে, পায়ের নখ থেকে চুলের ডগায়ডগায় স্নায়ুতন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে সদা জাগ্রত প্রহরী সমবংশগতি ও পরিবেশের (পারিপার্শ্বিক, মানসিক) কর্মতৎপরতা। মাতৃজঠরে তথা মাতৃগর্ভে নিষিক্ত ডিম্বাণুর প্রক্রিয়ায়ন হলো গর্ভসঞ্চার। গর্ভসঞ্চারণ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বক্ষণপর্যন্ত গর্ভ্যন্তরে জীবের অবস্থান ও বিকাশের ধারায় সেই জীবকোষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুরমতো পুঞ্জ পুঞ্জ আকার ধারণ করে। গঠিত হয় কোষপ্রাচীর -Cell wall.Cell wall হলো জীবকোষের আবরণ। কোষের ভেতরে আছে একপ্রকার সজীব ঘন তরল পদার্থ -Potoplasm যা জীবনেরমূল সত্তা। প্রোটোপ্লাজমের ভেতরে অবস্থিত অধিকতর ঘনীভূত এবং অস্বচ্ছ গোলাকৃতি পদার্থই জীবের প্রাণকেন্দ্র- Neucleus.
Neucleus. -প্রাণকেন্দ্রে সুতার মতো কতগুলো পদার্থ বিরাজমান। এগুলো হলো chromosome রাসায়নিক বস্তুবিশেষ। প্রত্যেক জীবকোষে এ রকম ২৩ জোড়া ক্রোমোজম রয়েছে। প্রজননবাদের জনক গ্রেগর মেন্ডেলের তত্ত্বানুসারে ভ্রূণে থাকে ডিম্বাণু প্রসূত X,X ক্রোমোজম এবং শুক্রাণু থেকে আগত X,y ক্রোমোজম। অনাগত শিশুটিরলিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাতার X ক্রমোজম + পিতার ক্রোমোজম সঞ্চার করে স্ত্রী লিঙ্গের আর মাতার X ক্রোমোজম + পিতার Y ক্রোমোজম জন্ম দেয় পুংলিঙ্গের। (just on chance factor).
ক্রোমোজমে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দানার মতো অসংখ্য রাসায়নিক পদার্থ সুবিন্যস্তভাবে মালার আকারে গ্রথিত থাকে। এই দানাগুলোর নাম gene (প্রতি ক্রোমোজমে ৪০০০০-৮০০০০ gene আছে)। gene গুলোর বিভিন্নতার কারণেই প্রত্যেকটি মানব-মানবী স্বতন্ত্র। পৃথিবীর কারো সঙ্গে কারো কোনো রকম মিল নেই।
জন্মের পর থেকে মানব সন্তান-সন্ততির বিকাশের ধারা অব্যাহত থাকে। তবে ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানের বিকাশের ধারা একই ধারায় চলে না।
Read More
মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ মূলত মাতৃগর্ভেজাইগোট গঠনের সময়ই হয়ে যায়। পুরুষ লিঙ্গ নিঃসৃত বীর্য (শুক্রাণু) Spermatozoa নারীর যৌননালি পথে Womb জরায়ু বা মাতৃজঠরে প্রবেশ করলে জরায়ুর ভেতর Ovum ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর সংমিশ্রণ ঘটে।এই মিশ্রণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিম্বকোষ নিষিক্ত বা উর্বর হয়ে ওঠে। এভাবে দুটি জননকোষের মিশ্রণে সৃষ্টি হয় নতুন একটি জীবকোষ zygote -জীবের দেহ গঠনের মূল উপাদান (যার বস্তুগত অস্তিত্ব ১/১০০ ইঞ্চি-এক ইঞ্চির একশত ভাগের একভাগ)। নর-নারীর মুহূর্তের বিভ্রান্তেই হোক আর সৃষ্টির রহস্যেই হোক সৃষ্টি হয় জীবনের। যাত্রা হয় মানব মানবীয় জীবনচক্রের।
To the layman- সাধারণমানুষ হিসেবে মানুষ বয়স গণনা করা হয় পৃথিবীপৃষ্ঠে ভূমিষ্ঠ হওয়ার ক্ষণ থেকে। কিন্তু বিকাশ মনোবিজ্ঞানীদের গণনায় মানুষের জীবন শুরু হয় তার জন্মেরও পূর্বে। ঠিক যেমনি ঐতিহাসিকদের মতে, তাজমহল সৃষ্টি হয়েছিল সম্রাট শাহজাহানের জন্মেরও পূর্বে। Had there been no Nowroj, therewould be no Noorjahan, no Shahjahan, no যে মুহূর্তে পিতা-মাতা যৌনমিলনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মিলনের ফলে যদি সন্তানের জন্ম হয় তাহলে সেই মিলনের পূর্ব মুহূর্তে পিতামাতা উভয়েরই ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের সংলক্ষণগুলোর প্রতিফলন ঘটে অনাগত সন্তানটির জীবনাবর্তে।
জীবন বিকাশে মানুষের মনের মণিকোঠায় হৃদয়ের তন্ত্রীতে, তন্ত্রীতে, পায়ের নখ থেকে চুলের ডগায়ডগায় স্নায়ুতন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে সদা জাগ্রত প্রহরী সমবংশগতি ও পরিবেশের (পারিপার্শ্বিক, মানসিক) কর্মতৎপরতা। মাতৃজঠরে তথা মাতৃগর্ভে নিষিক্ত ডিম্বাণুর প্রক্রিয়ায়ন হলো গর্ভসঞ্চার। গর্ভসঞ্চারণ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বক্ষণপর্যন্ত গর্ভ্যন্তরে জীবের অবস্থান ও বিকাশের ধারায় সেই জীবকোষ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুরমতো পুঞ্জ পুঞ্জ আকার ধারণ করে। গঠিত হয় কোষপ্রাচীর -Cell wall.Cell wall হলো জীবকোষের আবরণ। কোষের ভেতরে আছে একপ্রকার সজীব ঘন তরল পদার্থ -Potoplasm যা জীবনেরমূল সত্তা। প্রোটোপ্লাজমের ভেতরে অবস্থিত অধিকতর ঘনীভূত এবং অস্বচ্ছ গোলাকৃতি পদার্থই জীবের প্রাণকেন্দ্র- Neucleus.
Neucleus. -প্রাণকেন্দ্রে সুতার মতো কতগুলো পদার্থ বিরাজমান। এগুলো হলো chromosome রাসায়নিক বস্তুবিশেষ। প্রত্যেক জীবকোষে এ রকম ২৩ জোড়া ক্রোমোজম রয়েছে। প্রজননবাদের জনক গ্রেগর মেন্ডেলের তত্ত্বানুসারে ভ্রূণে থাকে ডিম্বাণু প্রসূত X,X ক্রোমোজম এবং শুক্রাণু থেকে আগত X,y ক্রোমোজম। অনাগত শিশুটিরলিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাতার X ক্রমোজম + পিতার ক্রোমোজম সঞ্চার করে স্ত্রী লিঙ্গের আর মাতার X ক্রোমোজম + পিতার Y ক্রোমোজম জন্ম দেয় পুংলিঙ্গের। (just on chance factor).
ক্রোমোজমে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দানার মতো অসংখ্য রাসায়নিক পদার্থ সুবিন্যস্তভাবে মালার আকারে গ্রথিত থাকে। এই দানাগুলোর নাম gene (প্রতি ক্রোমোজমে ৪০০০০-৮০০০০ gene আছে)। gene গুলোর বিভিন্নতার কারণেই প্রত্যেকটি মানব-মানবী স্বতন্ত্র। পৃথিবীর কারো সঙ্গে কারো কোনো রকম মিল নেই।
জন্মের পর থেকে মানব সন্তান-সন্ততির বিকাশের ধারা অব্যাহত থাকে। তবে ছেলেসন্তান ও মেয়েসন্তানের বিকাশের ধারা একই ধারায় চলে না।
লিঙ্গভেদে জীবন বিকাশ এস. এম. লতিফ তালুকদার part 2
জন্মের পর থেকে শিশু ৫ বছর বয়স পর্যন্ত কতগুলো পর্যায় অতিক্রম করে অগ্রসর হয়। শৈশবে মানবসন্তান অনূন্য দুই বছর বয়সে নিজ নিজ লিঙ্গ সম্পর্কে সজাগ হয় এবং ৪ বছরের মাথায় সক্রিয় হয়ে ধাপে ধাপে পূর্ণতা অর্জন করে। মনোসমীক্ষণবাদের প্রবর্তক Sigmund Freud- এর মতধারায় যৌন কামনা হচ্ছে আদিমতম কামনা, মৌলিক কামনা। এই কামনাকে চরিতার্থ করার জন্যই আমরা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন পরোক্ষ প্রতিক্রিয়ার সাহায্য গ্রহণ করি। নারী-পুরুষ প্রত্যেকেরই পরসপরের চোখে দেহ সৌষ্ঠবকে যথার্থই সুন্দর তরতাজা করে ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবেই সার্বজনীন। শিশুর কামনাওযৌন কামনা। জন্মের সময় থেকেই এই কামনা শিশুর মধ্যে বিদ্যমান থাকে। শিশু প্রথমে স্তন্যপান, পরে দাঁতে কামড়ে আহার্য গ্রহণ করতে শিখে। ফ্রয়েড মনে করেন, এই বয়সে মুখই হলো যৌন পরিতৃপ্তির উৎস। স্তন্য পান এবং চর্বনক্রিয়ায় শিশুরা যে আনন্দ পায় সেটি যৌন তৃপ্তিরই নামান্তর। প্রথম বছরে যদি শিশুর স্তন্য পান সপৃহা চরম পরিতৃপ্তি লাভ করে তাহলে শিশু ভবিষ্যৎ জীবনে আশাবাদী হয়। মনোবিদ ফ্রয়েড বলেন, ৩-৬ বছর বয়সে পুরুষ শিশুর মধ্যে মায়ের প্রতি যৌনাসক্তির আবির্ভাব ঘটে যাকে বলা হয় oedipus complex.. গ্রিক পুরাণের রাজা ইডিপাস নিজের অজান্তেই পিতাকে হত্যা করে মাতাকে বিয়ে করেছিরেন। অপরপক্ষেমেয়েশিশুর মধ্যে পিতার প্রতি যৌনাসক্তির সৃষ্টিহয়, নাম হলো Electra complex.
Oedipus, Eletrapus complex জনিত সম্পর্ক স্থাপনে পিতা-মাতা এবং সমাজের অন্যদের নিকট থেকে বাধা আসে। পরে এহেন complex এর স্বাভাবিক পরিণতি ঘটে ছেলেদের বাবার সঙ্গে আর মেয়েদের মায়ের সঙ্গে একাত্ম অনুভবের মধ্য দিয়ে। এভাবে oedipus, electrapus- এর সফল পরিণতি হয়ে থাকে। কিন্তু শৈশবের এতদৃশ বিশেষ যৌনানুভূতি অবদমিত অবস্থায় লুক্কায়িত থাকে বালক-বালিকার অবচেতন মনে। বয়োসন্ধিকালে সেই অবদমিত সম্পর্ক পিতা-মাতার নিকট থেকে সরে গিয়ে বাইরের পরিবেশের প্রতি সংস্থাপিত হয়। তাতে ছেলেরা স্বাভাবিকভাবে মেয়েদের প্রতি, মেয়েরা ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর তাই ইতিপূর্বেকার complex দুটির সফল পরিণতির ফলশ্রুতিস্বরূপ ছেলেরা মেয়েদের এবং মেয়েরা ছেলেদের ভালোবাসতে শুরু করে। (ফ্রয়েডের ভাষায় সেক্সবিহীন প্রেম কল্পনামাত্র)। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড মানব-মানবীর ব্যক্তিত্ব বিকাশে শৈশব জীবনের অভিজ্ঞতার যে প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন আধুনিক পরীক্ষণে তার সত্যতা জোরালভাবেই প্রমাণিত হয়েছে।বয়োসন্ধিক্ষণে ছেলেমেয়েরা দ্রুত বেড়ে ওঠে। এ সময় তাদের গলার স্বর ভেঙে যায়। ছেলেদের মাংসপেশি শক্ত হয়। মুখে দাড়ি, গোঁফ গজায়। স্থানে স্থানে নিষিদ্ধ লোমের উদ্ভব ঘটে। মেয়েদের বুক প্রশস্ত ও উন্নত হয়ে ওঠে,গ্রীবা দীপ্ত হয়। বগলে ও যৌনাঙ্গে অনভিপ্রেত লোম গজায়। ঋতুস্রাব হয়। লিঙ্গ লিঙ্গ ভূমিকায় যৌবনাগমনে ছেলেরা ছেলেদের সাথে, মেয়েরা মেয়েদের সাথে খেলতে মিশতে বেশি পছন্দ করে। এ জাতীয় দলভুক্তিকে বলা হয় Peer group শারীরবৃত্তীয় বিকাশে ছেলেদের যৌনক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে ১৩-১৬ বছর বয়সে। এই যৌনলিপ্সা সাধারণত ২০-২২ বছর বয়সে চরমে পৌঁছায় পরে ৪০-এর পূর্বেই অবনতি ঘটতে থাকে। মেয়েদের মধ্যে যৌন ক্ষমতার আবির্ভাব ঘটে ১১-১২ বছর বয়সে (ছেলেদের অপেক্ষা অগ্রগামী)। তাদের এই যৌন তাড়না ২০-৩০থেকে মধ্য বয়স অবধি অব্যাহত থাকে। তবে মেয়েদের যৌনক্ষমতার সময়সীমা, যৌন আবেগের স্থায়িত্বকাল বেশি হলেও ছেলেদের মতো তারা সহজেই আবেগপ্রবণ হয় না, হলেও তাপ্রকাশ করে না।
মনোদৈহিক বিকাশের সমস্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথাই ধরা যাক, উদাহরণস্বরূপ, মাধ্যমিক স্কুল শ্রেণীর জনৈক ছাত্রীর (একটি পাশ্চাত্য দেশের প্রেক্ষাপট) শারীরিক পরিবর্ধন ও পরিস্ফুটন সমহারে না হওয়ায় সে তার সাথী-সঙ্গিনীদের মুখাপেক্ষী হীনমমন্যতা, অন্যমনস্কতা এবং শ্রেণীকক্ষে অমনোযোগিতায় ভুগছে। শিক্ষকের স্নেহপ্রবণ দায়িত্বপূর্ণ দৃষ্টি সবার দিকেই সমান। ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসাবাদে বয়োসন্ধিক্ষণের লাজ-ভীরুকোমলমতি ছাত্রীটির নিকট থেকে সরাসরি clear cut জবাব না পেয়ে শিক্ষক সাহেব ছাত্রীর অভিভাবক স্বয়ং মাতাকে ডেকে এনে জানতে পারলেন, পুত্রীর দেহের বিশেষ একটি ত্রুটিপূর্ণ গোপন তথ্য। Treatment চলছে ডাক্তার বলেছেন অপারেশনের কথা। কিছুদিন সময় লাগবে। ইতিবৃত্ত জেনে মাননীয় শিক্ষক মহোদয় মাকে পরামর্শ দিলেন- Dear Mun, for the time being, yourKid needs a paded Bra.
শিক্ষকের উপদেশে মা-মেয়েকে নির্দেশ দিলেন paded dress up করতে।মার আদেশে বলা বাহুল্য স্বীয় উৎসাহেও মেয়ে সেজেগুজে বিদ্যালয়ে যথারীতি হাজিরা দেয়া শুরু করে এবং ধীরে ধীরে কিশোরী মনের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যমে সবার সঙ্গে কাজকর্ম, চলাফেরা করে চলে। To the surprise of all সার্জিক্যাল অপারেশনের পূর্বেই mentally cure পূর্বেকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে লজ্জাশীল ছাত্রী ছন্দময় গতিশীল হয়ে ওঠে। শিক্ষক শুধু শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষা বিজ্ঞানী নয়, মনোজগতের মনোবিজ্ঞানীও
Read More
Oedipus, Eletrapus complex জনিত সম্পর্ক স্থাপনে পিতা-মাতা এবং সমাজের অন্যদের নিকট থেকে বাধা আসে। পরে এহেন complex এর স্বাভাবিক পরিণতি ঘটে ছেলেদের বাবার সঙ্গে আর মেয়েদের মায়ের সঙ্গে একাত্ম অনুভবের মধ্য দিয়ে। এভাবে oedipus, electrapus- এর সফল পরিণতি হয়ে থাকে। কিন্তু শৈশবের এতদৃশ বিশেষ যৌনানুভূতি অবদমিত অবস্থায় লুক্কায়িত থাকে বালক-বালিকার অবচেতন মনে। বয়োসন্ধিকালে সেই অবদমিত সম্পর্ক পিতা-মাতার নিকট থেকে সরে গিয়ে বাইরের পরিবেশের প্রতি সংস্থাপিত হয়। তাতে ছেলেরা স্বাভাবিকভাবে মেয়েদের প্রতি, মেয়েরা ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর তাই ইতিপূর্বেকার complex দুটির সফল পরিণতির ফলশ্রুতিস্বরূপ ছেলেরা মেয়েদের এবং মেয়েরা ছেলেদের ভালোবাসতে শুরু করে। (ফ্রয়েডের ভাষায় সেক্সবিহীন প্রেম কল্পনামাত্র)। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড মানব-মানবীর ব্যক্তিত্ব বিকাশে শৈশব জীবনের অভিজ্ঞতার যে প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন আধুনিক পরীক্ষণে তার সত্যতা জোরালভাবেই প্রমাণিত হয়েছে।বয়োসন্ধিক্ষণে ছেলেমেয়েরা দ্রুত বেড়ে ওঠে। এ সময় তাদের গলার স্বর ভেঙে যায়। ছেলেদের মাংসপেশি শক্ত হয়। মুখে দাড়ি, গোঁফ গজায়। স্থানে স্থানে নিষিদ্ধ লোমের উদ্ভব ঘটে। মেয়েদের বুক প্রশস্ত ও উন্নত হয়ে ওঠে,গ্রীবা দীপ্ত হয়। বগলে ও যৌনাঙ্গে অনভিপ্রেত লোম গজায়। ঋতুস্রাব হয়। লিঙ্গ লিঙ্গ ভূমিকায় যৌবনাগমনে ছেলেরা ছেলেদের সাথে, মেয়েরা মেয়েদের সাথে খেলতে মিশতে বেশি পছন্দ করে। এ জাতীয় দলভুক্তিকে বলা হয় Peer group শারীরবৃত্তীয় বিকাশে ছেলেদের যৌনক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে ১৩-১৬ বছর বয়সে। এই যৌনলিপ্সা সাধারণত ২০-২২ বছর বয়সে চরমে পৌঁছায় পরে ৪০-এর পূর্বেই অবনতি ঘটতে থাকে। মেয়েদের মধ্যে যৌন ক্ষমতার আবির্ভাব ঘটে ১১-১২ বছর বয়সে (ছেলেদের অপেক্ষা অগ্রগামী)। তাদের এই যৌন তাড়না ২০-৩০থেকে মধ্য বয়স অবধি অব্যাহত থাকে। তবে মেয়েদের যৌনক্ষমতার সময়সীমা, যৌন আবেগের স্থায়িত্বকাল বেশি হলেও ছেলেদের মতো তারা সহজেই আবেগপ্রবণ হয় না, হলেও তাপ্রকাশ করে না।
মনোদৈহিক বিকাশের সমস্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথাই ধরা যাক, উদাহরণস্বরূপ, মাধ্যমিক স্কুল শ্রেণীর জনৈক ছাত্রীর (একটি পাশ্চাত্য দেশের প্রেক্ষাপট) শারীরিক পরিবর্ধন ও পরিস্ফুটন সমহারে না হওয়ায় সে তার সাথী-সঙ্গিনীদের মুখাপেক্ষী হীনমমন্যতা, অন্যমনস্কতা এবং শ্রেণীকক্ষে অমনোযোগিতায় ভুগছে। শিক্ষকের স্নেহপ্রবণ দায়িত্বপূর্ণ দৃষ্টি সবার দিকেই সমান। ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসাবাদে বয়োসন্ধিক্ষণের লাজ-ভীরুকোমলমতি ছাত্রীটির নিকট থেকে সরাসরি clear cut জবাব না পেয়ে শিক্ষক সাহেব ছাত্রীর অভিভাবক স্বয়ং মাতাকে ডেকে এনে জানতে পারলেন, পুত্রীর দেহের বিশেষ একটি ত্রুটিপূর্ণ গোপন তথ্য। Treatment চলছে ডাক্তার বলেছেন অপারেশনের কথা। কিছুদিন সময় লাগবে। ইতিবৃত্ত জেনে মাননীয় শিক্ষক মহোদয় মাকে পরামর্শ দিলেন- Dear Mun, for the time being, yourKid needs a paded Bra.
শিক্ষকের উপদেশে মা-মেয়েকে নির্দেশ দিলেন paded dress up করতে।মার আদেশে বলা বাহুল্য স্বীয় উৎসাহেও মেয়ে সেজেগুজে বিদ্যালয়ে যথারীতি হাজিরা দেয়া শুরু করে এবং ধীরে ধীরে কিশোরী মনের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যমে সবার সঙ্গে কাজকর্ম, চলাফেরা করে চলে। To the surprise of all সার্জিক্যাল অপারেশনের পূর্বেই mentally cure পূর্বেকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে লজ্জাশীল ছাত্রী ছন্দময় গতিশীল হয়ে ওঠে। শিক্ষক শুধু শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষা বিজ্ঞানী নয়, মনোজগতের মনোবিজ্ঞানীও
লিঙ্গভেদে জীবন বিকাশ এস. এম. লতিফ তালুকদার part 3
শরীর, শারীরিক অবস্থা, মন-মানসিকতা, বুদ্ধিমত্তার পরিপক্বতা,ব্যক্তির দৈহিক ও মানসিক বিকাশ সাধন এবং ক্ষমতার পরিনমনের অপরিপূর্ণতায় মানব শিশুর, মানব-মানবীর জীবন-প্রবাহ, কার্যকরণ, আচরণ, অস্বভাবী হয়ে ওঠে।
মনোদৈহিক সমস্যা ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন অঙ্গনে বিভিন্ন জন বিভিন্নমুখী সমস্যার সমমুখীন হয়ে থাকে। সমস্যা প্রপীড়িত ব্যতিরেকেও স্বাভাবিক সুস্থ জীবনেও সমাজ জগতের সর্বস্তরে সর্বসাধারণকে মনোজগতের পরিমণ্ডলে বিচরণ করতে হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিবেশে ব্যাপক গবেষণালব্ধ ফলাফলে প্রতীয়মান হয় যে, সমাজজীবনে এবং ব্যক্তিবিশেষ পুরুষ ও মহিলার সামাজিক মূল্যবোধ, সৌন্দর্য, শৃঙ্খলাবোধ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বিভেদ বিদ্যমান। ধর্মপালনে পুত্র অপেক্ষাপুত্রবধূ অধিক সজাগ এবং সক্রিয়। সুচিত্রা সেন চিত্রপুরীতে যাওয়ার পূর্বে প্রতিদিন ভোরে স্নান সেরে উঠে এক ঘণ্টা ধরে ঠাকুর ঘরে পুজা দিতেন। কোনো কোনো দেশে কোনো বিজ্ঞ জন বলে থাকেন, Religion it is woman's affairs.. আবার বাকপটুতায় মেয়েরাই অগ্রবর্তী। Disraeli, the greatest of all English Philosophersand Statsman (1566-1626) বলেছেন-যত পার মেয়েদের সাথে বেশিকরে কথা বল।বক্তৃতা শেখার এটাই শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়। এখানেই অনর্গলতা অর্জন করতে হয়।
মস্তিষেকর উভয় গোলার্ধেরমধ্যকার সংযোগ সাধনকারী সেতুবন্ধন বিশেষ ফরপাস ফেলোসম পুরুষ মস্তিষেক অল্প পরিমাণে বিদ্যমান। কিন্তু মহিলা মস্তিষেক ফেলোসমের অঞ্চল বেশ বিসতৃত। যার ফলে কথা বলারসময় মেয়েদের মস্তিষেকর উভয় গোলার্ধই প্রায় কর্মতৎপর থাকে। ‘Why woman tald too much'’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কানাডার Kathaleen parke বলেন, নিউইয়র্কে অবস্থিত প্রাকৃতিক ইতিহাসের আমেরিকান জাদুঘরের নৃবিজ্ঞানী Dr. Hellen R. Fisher এক গবেষণার মাধ্যমে দেখেছেন মেয়েদেরমস্তিষেকর গঠন প্রণালীতেফরপাস ফেলোসম বেশি পরিমাণে থাকে। যার জন্য মস্তিষেকর দুটি গোলার্ধ মেয়েদের ক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে সুসংঘবদ্ধ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই জৈবিক চেতনাতেই নারী জাতি বেশ বাকপটীয়সী।
মার্কিন ঔপন্যাসিক হেলেনকিলার অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও জনসভায় জনগণ মন আলোড়িত প্রাণবন্ত বক্তৃতা করতেন। অনর্গলবর্ষী, জ্বালাময়ী ভাষায় তার জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দান করতে দেশ-বিদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়েছেন। নিজ দেশ আমেরিকা ছাড়াও রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি বক্তৃতা করেছেন।
এদিকে সব দেশে সবকালে পুরুষশাসিত সমাজ বলে একটা কথা আছে। একজন পুরুষহলো স্বনিয়ন্ত্রিত সম্রাট। নারীরা স্বভাবসুলভ লজ্জাশীলা, পরনির্ভরশীল। মেয়ে কার? এহেন বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর হলো মেয়ে প্রথম জীবনে পিতার, মধ্য জীবনে স্বামীর, শেষ জীবনে পুত্রের। এক সময় মনে করা হতো মহিলাদের সমস্ত আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল যেন ওই গর্বের থলে ভ্যানিটি ব্যাগ। স্মর্তব্য, প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার হ্যান্ড ব্যাগটির নাম ছিল ‘Lady Dear’.
বিলাস, ব্যাসন, প্রভাব প্রতিপত্তির ঊর্ধ্বে বুদ্ধিমত্তা স্মৃতিশক্তি চিন্তনের ক্ষেত্রে মেয়েদের স্মৃতিশক্তি ছেলেদের চেয়ে তিনগুণ বেশি। মহিলাদের অনুমান পুরুষেরসিদ্ধান্তের অপেক্ষা অধিক শ্রেয় বলেছেন মনীষী Kepling. মস্তিষেকর cerebral cortex এর অঞ্চলটা ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে ধারণা, সময় জ্ঞান, শ্রবণশক্তির ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য জোগায়। বোধশক্তিসম্পন্ন একজন স্বাভাবিক পুরুষ মানুষেরচক্ষুর পশ্চাতে মস্তিষেকর এই ক্ষুদ্র অংশে মহিলাদের চেয়ে শতকরা ১০ গুণ কম নিউরন রয়েছে। মহিলাদের মস্তিষেক এটা অধিক হারে থাকে বিধায় মেয়েরা ভাষার ব্যবহার, বাক প্রণালী এবংস্বরধ্বনি সম্পর্কে বেশ সচেতন। অ্যান্টিরিওর কমিস্যুর নামে অসংখ্য স্নায়ুকোষ মস্তিষেকর উভয়গোলার্ধকে সংযুক্ত করে আছে।নভেম্বর, ১৯৯৪ সালে সোসাইটি ফর নিউরিসিজম কর্তৃক গ্রহীত এক গবেষণায় ওন্টারিওর McMaster বিশ্ববিদ্যালয়ের Sander witelson দেখেন যে, পুরুষের মস্তিষেকর তুলনায় ছোট হওয়া সত্ত্বেও মহিলাদের মস্তিষেক এই ধরনের স্নায়ুকোষগুলো অধিক পরিমাণে নিউরন ধারণ করতে পারে (tiny in quantitybut potent in nature). যার ফলে আবেগীয়প্রতিক্রিয়া, ধৈর্য ধারণ ক্ষমতা, সহনশীলতা মেয়েদের মধ্যে যথেষ্টই পরিলক্ষিত হয়।
ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যে ব্যক্তিত্ব হলো একজন মানুষের সামগ্রিক সত্তা। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ ও নারী কেহ কারো নাহি পারে। শিক্ষা সংস্কৃতি ব্যবসা-বাণিজ্যসর্বক্ষেত্রে মেয়েদের অগ্রগতি অভাবনীয়ভাবে লক্ষণীয়। শুধু তাই নয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রপতির মতো সমাজের সর্বোচ্চ আসনে নারীরা আজ বিশ্বের দরবারে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। সুলতানা রাজিয়া, চাঁদ সুলতানা, সম্রাজ্ঞী নুরজাহান থেকে শুরু করে যুগ-যুগের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট প্রেসিডেন্ট তো সব ফার্স্ট লেডিগণ। জনশ্রুতি এই যে, বিদেশ সফরকালে পেন্টাগনের চাবিটাও থাকে প্রেসিডেন্সিয়াল লিমোজিনে ফার্স্ট লেডির ‘লেডি ডিয়ারে’ লক আপ। আর যাই হোক, পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে লিঙ্গভিত্তিক (শারীরিক) বিভেদ সত্ত্বেও ব্যক্তিত্বের সংরক্ষণ ভিত্তিতে মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসকগণ ব্যক্তির চেহারা, বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মনোবিজ্ঞানী বার্ড (১৯৪০) ২৫টি মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা করে নেতৃত্বের তথা ব্যক্তিত্বের ৭৩টি ব্যক্তিত্ব সংলক্ষণের উল্লেখ দেখতে পান। এগুলোর মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, উদ্বেগ, রসবোধ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য বলে পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের অপর একটি জরিপে মনোবিদ স্টাগডিল (১৯৪৮) ব্যক্তিগত উপাদানসম্পর্কিত শতাধিক অনুধ্যান বিশ্লেষণ করে দেখতে পান যে, বেশির ভাগ অনুধ্যানই ব্যক্তিবর্গের বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, নির্ভরযোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ, আর্থ-সামাজিক পদমর্যাদা উচ্চতর বিবেচিত হয়েছে। এসবে লিঙ্গভেদের ভূমিকা নিতান্তই গৌণভাবে ধরা দিয়েছে। পরবর্তীকালে মনোবিজ্ঞানী এল. এম. ম্যান (১৯৫৯) ১২৫টি গবেষণামূলক রচনা পর্যালোচনা করে যে ফলাফল পান তাতেও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা, উপযোজন ক্ষমতা, সংবেদনশীলতা, রক্ষণশীলতা এবং প্রাধান্যের বিষয়ই প্রাধান্য পেয়েছে।
Read More
মনোদৈহিক সমস্যা ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন অঙ্গনে বিভিন্ন জন বিভিন্নমুখী সমস্যার সমমুখীন হয়ে থাকে। সমস্যা প্রপীড়িত ব্যতিরেকেও স্বাভাবিক সুস্থ জীবনেও সমাজ জগতের সর্বস্তরে সর্বসাধারণকে মনোজগতের পরিমণ্ডলে বিচরণ করতে হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিবেশে ব্যাপক গবেষণালব্ধ ফলাফলে প্রতীয়মান হয় যে, সমাজজীবনে এবং ব্যক্তিবিশেষ পুরুষ ও মহিলার সামাজিক মূল্যবোধ, সৌন্দর্য, শৃঙ্খলাবোধ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বিভেদ বিদ্যমান। ধর্মপালনে পুত্র অপেক্ষাপুত্রবধূ অধিক সজাগ এবং সক্রিয়। সুচিত্রা সেন চিত্রপুরীতে যাওয়ার পূর্বে প্রতিদিন ভোরে স্নান সেরে উঠে এক ঘণ্টা ধরে ঠাকুর ঘরে পুজা দিতেন। কোনো কোনো দেশে কোনো বিজ্ঞ জন বলে থাকেন, Religion it is woman's affairs.. আবার বাকপটুতায় মেয়েরাই অগ্রবর্তী। Disraeli, the greatest of all English Philosophersand Statsman (1566-1626) বলেছেন-যত পার মেয়েদের সাথে বেশিকরে কথা বল।বক্তৃতা শেখার এটাই শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়। এখানেই অনর্গলতা অর্জন করতে হয়।
মস্তিষেকর উভয় গোলার্ধেরমধ্যকার সংযোগ সাধনকারী সেতুবন্ধন বিশেষ ফরপাস ফেলোসম পুরুষ মস্তিষেক অল্প পরিমাণে বিদ্যমান। কিন্তু মহিলা মস্তিষেক ফেলোসমের অঞ্চল বেশ বিসতৃত। যার ফলে কথা বলারসময় মেয়েদের মস্তিষেকর উভয় গোলার্ধই প্রায় কর্মতৎপর থাকে। ‘Why woman tald too much'’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কানাডার Kathaleen parke বলেন, নিউইয়র্কে অবস্থিত প্রাকৃতিক ইতিহাসের আমেরিকান জাদুঘরের নৃবিজ্ঞানী Dr. Hellen R. Fisher এক গবেষণার মাধ্যমে দেখেছেন মেয়েদেরমস্তিষেকর গঠন প্রণালীতেফরপাস ফেলোসম বেশি পরিমাণে থাকে। যার জন্য মস্তিষেকর দুটি গোলার্ধ মেয়েদের ক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে সুসংঘবদ্ধ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই জৈবিক চেতনাতেই নারী জাতি বেশ বাকপটীয়সী।
মার্কিন ঔপন্যাসিক হেলেনকিলার অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও জনসভায় জনগণ মন আলোড়িত প্রাণবন্ত বক্তৃতা করতেন। অনর্গলবর্ষী, জ্বালাময়ী ভাষায় তার জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দান করতে দেশ-বিদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়েছেন। নিজ দেশ আমেরিকা ছাড়াও রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি বক্তৃতা করেছেন।
এদিকে সব দেশে সবকালে পুরুষশাসিত সমাজ বলে একটা কথা আছে। একজন পুরুষহলো স্বনিয়ন্ত্রিত সম্রাট। নারীরা স্বভাবসুলভ লজ্জাশীলা, পরনির্ভরশীল। মেয়ে কার? এহেন বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর হলো মেয়ে প্রথম জীবনে পিতার, মধ্য জীবনে স্বামীর, শেষ জীবনে পুত্রের। এক সময় মনে করা হতো মহিলাদের সমস্ত আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল যেন ওই গর্বের থলে ভ্যানিটি ব্যাগ। স্মর্তব্য, প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার হ্যান্ড ব্যাগটির নাম ছিল ‘Lady Dear’.
বিলাস, ব্যাসন, প্রভাব প্রতিপত্তির ঊর্ধ্বে বুদ্ধিমত্তা স্মৃতিশক্তি চিন্তনের ক্ষেত্রে মেয়েদের স্মৃতিশক্তি ছেলেদের চেয়ে তিনগুণ বেশি। মহিলাদের অনুমান পুরুষেরসিদ্ধান্তের অপেক্ষা অধিক শ্রেয় বলেছেন মনীষী Kepling. মস্তিষেকর cerebral cortex এর অঞ্চলটা ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে ধারণা, সময় জ্ঞান, শ্রবণশক্তির ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য জোগায়। বোধশক্তিসম্পন্ন একজন স্বাভাবিক পুরুষ মানুষেরচক্ষুর পশ্চাতে মস্তিষেকর এই ক্ষুদ্র অংশে মহিলাদের চেয়ে শতকরা ১০ গুণ কম নিউরন রয়েছে। মহিলাদের মস্তিষেক এটা অধিক হারে থাকে বিধায় মেয়েরা ভাষার ব্যবহার, বাক প্রণালী এবংস্বরধ্বনি সম্পর্কে বেশ সচেতন। অ্যান্টিরিওর কমিস্যুর নামে অসংখ্য স্নায়ুকোষ মস্তিষেকর উভয়গোলার্ধকে সংযুক্ত করে আছে।নভেম্বর, ১৯৯৪ সালে সোসাইটি ফর নিউরিসিজম কর্তৃক গ্রহীত এক গবেষণায় ওন্টারিওর McMaster বিশ্ববিদ্যালয়ের Sander witelson দেখেন যে, পুরুষের মস্তিষেকর তুলনায় ছোট হওয়া সত্ত্বেও মহিলাদের মস্তিষেক এই ধরনের স্নায়ুকোষগুলো অধিক পরিমাণে নিউরন ধারণ করতে পারে (tiny in quantitybut potent in nature). যার ফলে আবেগীয়প্রতিক্রিয়া, ধৈর্য ধারণ ক্ষমতা, সহনশীলতা মেয়েদের মধ্যে যথেষ্টই পরিলক্ষিত হয়।
ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যে ব্যক্তিত্ব হলো একজন মানুষের সামগ্রিক সত্তা। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ ও নারী কেহ কারো নাহি পারে। শিক্ষা সংস্কৃতি ব্যবসা-বাণিজ্যসর্বক্ষেত্রে মেয়েদের অগ্রগতি অভাবনীয়ভাবে লক্ষণীয়। শুধু তাই নয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রপতির মতো সমাজের সর্বোচ্চ আসনে নারীরা আজ বিশ্বের দরবারে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। সুলতানা রাজিয়া, চাঁদ সুলতানা, সম্রাজ্ঞী নুরজাহান থেকে শুরু করে যুগ-যুগের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট প্রেসিডেন্ট তো সব ফার্স্ট লেডিগণ। জনশ্রুতি এই যে, বিদেশ সফরকালে পেন্টাগনের চাবিটাও থাকে প্রেসিডেন্সিয়াল লিমোজিনে ফার্স্ট লেডির ‘লেডি ডিয়ারে’ লক আপ। আর যাই হোক, পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে লিঙ্গভিত্তিক (শারীরিক) বিভেদ সত্ত্বেও ব্যক্তিত্বের সংরক্ষণ ভিত্তিতে মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসকগণ ব্যক্তির চেহারা, বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মনোবিজ্ঞানী বার্ড (১৯৪০) ২৫টি মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা করে নেতৃত্বের তথা ব্যক্তিত্বের ৭৩টি ব্যক্তিত্ব সংলক্ষণের উল্লেখ দেখতে পান। এগুলোর মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, উদ্বেগ, রসবোধ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য বলে পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের অপর একটি জরিপে মনোবিদ স্টাগডিল (১৯৪৮) ব্যক্তিগত উপাদানসম্পর্কিত শতাধিক অনুধ্যান বিশ্লেষণ করে দেখতে পান যে, বেশির ভাগ অনুধ্যানই ব্যক্তিবর্গের বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, নির্ভরযোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ, আর্থ-সামাজিক পদমর্যাদা উচ্চতর বিবেচিত হয়েছে। এসবে লিঙ্গভেদের ভূমিকা নিতান্তই গৌণভাবে ধরা দিয়েছে। পরবর্তীকালে মনোবিজ্ঞানী এল. এম. ম্যান (১৯৫৯) ১২৫টি গবেষণামূলক রচনা পর্যালোচনা করে যে ফলাফল পান তাতেও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা, উপযোজন ক্ষমতা, সংবেদনশীলতা, রক্ষণশীলতা এবং প্রাধান্যের বিষয়ই প্রাধান্য পেয়েছে।
গর্ভাবস্থায় পুষ্টিরপ্রয়োজনীয়তা অধ্যাপক সামিনা চৌধুরী part 1
অনেক রোগী জানতে চান গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে কী ধরনের খাবার খেতে হয়। এ লেখাটি তাদের উদ্দেশ্যেই লেখা হচ্ছে। গর্ভকালীন একটি শিশু মায়ের শরীরের পুষ্টির নির্যাস নিয়ে বেড়ে ওঠে। শিশুটি গর্ভফুলের মাধ্যমে মায়েররক্ত থেকে নিজের পুষ্টির চাহিদা মেটায়। গর্ভবতী মহিলার নিজের স্বাস্থ্য রক্ষা, গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে যায়। যদি এচাহিদা সঠিকভাবে মেটানো না যায় তাহলে গর্ভস্থ শিশুটি অপুষ্ট এবং মায়ের স্বাস্থ্যও ভেঙে যায়। অপুষ্ট ও কম ওজনের শিশু অনেক সময় গুরুতর অসুস্থতায় ভোগে এবং অনেক সময় মারাও যায়।
মায়ের অপুষ্টির পরিণতি
গর্ভকালীন, ডেলিভারির প্রসবোত্তর জটিলতা বেড়ে যায় এবং অনেক সময় মৃত্যুরশিকারও হতে হয় মাকে।
*. নানা ধরনের প্রদাহে মা ভুগে থাকেন।
*. রক্তস্বল্পতায় ভোগেন।
*. দুর্বল হয়ে যান এবং কাজকরার শক্তি জোগান দিতে পারেন না।
শিশুটির অপুষ্টির পরিণতি
*. গর্ভাবস্থায়, ডেলিভারির সময়ে অথবা নবজাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়,স্বল্প ওজন, অপুষ্ট এবংঅপরিপক্ব অবস্থায় জন্মনেয়। জন্মগত ত্রুটি, হাবাগোবা হতে পারে, নানা প্রকার ইনফেকশন বা প্রদাহ, মস্তিষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু পুষ্টির চাহিদাবেড়ে যায় সেহেতু গর্ভবতী অবস্থায় মায়েরও গর্ভস্থ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের খাদ্য বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের খাবারের তালিকায় প্রতিদিনই তিন ধরনের খাবার খেতে হবে
শক্তিদায়ক খাবারঃ ভাত, রুটি, পরোটা, আলু, চিনি, গুড় এবং সয়াবিন তেল,বাদাম, কলিজা, ঘি, মাখন, ডিমের কুসুম ইত্যাদি।
আরো
পড়তে থাকুন part 2
Read More
মায়ের অপুষ্টির পরিণতি
গর্ভকালীন, ডেলিভারির প্রসবোত্তর জটিলতা বেড়ে যায় এবং অনেক সময় মৃত্যুরশিকারও হতে হয় মাকে।
*. নানা ধরনের প্রদাহে মা ভুগে থাকেন।
*. রক্তস্বল্পতায় ভোগেন।
*. দুর্বল হয়ে যান এবং কাজকরার শক্তি জোগান দিতে পারেন না।
শিশুটির অপুষ্টির পরিণতি
*. গর্ভাবস্থায়, ডেলিভারির সময়ে অথবা নবজাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়,স্বল্প ওজন, অপুষ্ট এবংঅপরিপক্ব অবস্থায় জন্মনেয়। জন্মগত ত্রুটি, হাবাগোবা হতে পারে, নানা প্রকার ইনফেকশন বা প্রদাহ, মস্তিষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু পুষ্টির চাহিদাবেড়ে যায় সেহেতু গর্ভবতী অবস্থায় মায়েরও গর্ভস্থ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের খাদ্য বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের খাবারের তালিকায় প্রতিদিনই তিন ধরনের খাবার খেতে হবে
শক্তিদায়ক খাবারঃ ভাত, রুটি, পরোটা, আলু, চিনি, গুড় এবং সয়াবিন তেল,বাদাম, কলিজা, ঘি, মাখন, ডিমের কুসুম ইত্যাদি।
আরো
পড়তে থাকুন part 2
গর্ভাবস্থায় পুষ্টিরপ্রয়োজনীয়তা অধ্যাপক সামিনা চৌধুরী part 2
ক্ষয়পূরণ এবং নবজাতকের শরীর বৃদ্ধিকারক খাবারঃ মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের সাদা অংশ এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল, মটরশুঁটি, শিমের বিচি ইত্যাদি।
রোগ প্রতিরোধক খাবারঃ সবুজ, হলুদ ও অন্যান্য রঙিন শাকসবজি এবং সব ধরনের মৌসুমি ফলমূল ইত্যাদি।
একজন মাকে প্রতিদিনই তিন ধরনের খাবারের তালিকা থেকে কিছু খেতেই হবে। প্রতি বেলায় স্বাভাবিকেরচেয়ে একটু বেশি খেতে হবে।পানি বেশি বেশি খেতে হবে।লবণ অবশ্যই আয়োডিনযুক্ত থাকতে হবে।
গর্ভকালীন মায়ের ওজন বৃদ্ধি
গর্ভকালীন মায়ের ওজন ১০-১২ কেজি বাড়া উচিত ? যেসব মহিলার ওজন কম তাদেরবেশি ওজন এবং স্থূলকায় ওজনের মহিলাদের কম ওজন বৃদ্ধি হওয়া উচিত (৬-৯ কেজি) ? বাংলাদেশে একজন গর্ভবতী মহিলার গড়ে ৪-৬ কেজি ওজন বৃদ্ধি হয়। যে কারণে কম ওজনের শিশু জন্মের হার অনেক বেশি (প্রায় ৩০ ভাগ)।
গর্ভবতীকে কতটা ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত
একজন সাধারণ মহিলার প্রতিদিন যতটা ক্যালরি (১৮০০-২১০০ কিলোক্যালরি)গ্রহণ করার কথা তার চেয়ে আরো ৩০০ কিলোক্যালরি এবং স্তন্যদায়ী মায়ের জন্য যদি ৫০০ কিলোক্যালরি বাড়ানো না যায় তাহলে মায়ের নিজের শরীর থেকে ক্ষয় হতে থাকবে এবং আস্তেআস্তে সে দুর্বল হয়ে যাবে। গর্ভকালীন শেষার্ধে ক্যালরি গ্রহণের চাহিদা বিশেষ করে বেড়ে যায়। গর্ভবতী মায়ের যদি সঠিকভাবে ওজন না বাড়ে তখন গর্ভস্থ শিশুটি কম ওজনের হতে পারেঅথবা তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ ছাড়াও আমিষ, লৌহ, আয়োডিন এবং অন্যান্য ভিটামিন গ্রহণের চাহিদাও বেড়ে যায়। কোনো কোনো খাদ্যে ঘাটতি শিশুর জন্মগত ত্রুটিসহ মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আমিষজাতীয় খাদ্য গ্রহণ
গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধিরজন্য আমিষজাতীয় খাদ্য গ্রহণ খুবই জরুরি। ? গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয়ার্থে ১ গ্রাম/ কেজি+২০ গ্রাম প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম গ্রহণ করাউচিত। ? আমিষজাতীয় খাদ্য যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, ডালজাতীয় খাদ্য, শিমের বিচি, দুধ ইত্যাদি।
ক্যালসিয়াম
ক্যালসিয়াম শিশুর অস্থি গঠনে সাহায্য করে, কাজেই গর্ভাবস্থার শেষের দিকে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম একজন গর্ভবতীমায়ের খাওযা উচিত। ? শিশুটি মায়ের শরীর থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে, কাজেই এটা পূরণ না হলে মায়ের অস্থি দুর্বল হয়ে পড়ে ? দুগ্ধ ও দুগ্ধজাতীয়খাদ্য, পানি, দধি, ছোট মাছ,সবুজ শাকসবজি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে।
লৌহ
আমাদের দেশের শতকরা ৬০ ভাগ গর্ভবতী মহিলা রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। গর্ভাবস্থায় লৌহজাতীয় খাদ্য গ্রহণ বৃদ্ধি করা একান্তই প্রয়োজন। ? গর্ভাবস্থায় প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম লৌহ দরকার হয় মায়ের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধির জন্য এবং ৩০০ মিলিগ্রাম লৌহ দরকার শিশুর শরীরে রক্ত গঠনের জন্য। ? কাজেই লৌহজাতীয় খাদ্য গ্রহণ অথবা লৌহের পরিপূরক ওষুধ সেবন প্রয়োজন। ? প্রায় ৩০মিলিগ্রাম এলিমেন্টাল লৌহ গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয়ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে প্রয়োজন। ? মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি ও ফলে লৌহজাতীয় খাদ্যের উপাদানবিদ্যমান। চা এবং কফি পানঅথবা বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম লৌহ শোষণেরক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ফলিক এসিড
ফলিক এসিডের ঘাটতি হলে মেগালেব্লাস্টিক রক্তস্বল্পতা হয় ? ফলিক এসিড গর্ভাবস্থার আগে এবং গর্ভাবস্থায় ব্যবহারকরলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি (নিউরাল টিউব ডিফেক্ট) কমে। ? প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলাকে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড গ্রহণ করা খুব দরকার। ডিম, শাকপাতা, কমলালেবু, ডাল বা শিম এবং গমের খোসায় প্রচুর ফলিক এসিড পাওয়া যায়।
জিংক
*. এ অনুখাদ্যটি শিশুর শরীর বৃদ্ধি এবং ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে
*. প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচনে সাহায্য করে
*. গর্ভাবস্থায় জিংকের পরিমাণ একজন সাধারণ মহিলা থেকে ২০-৩০ ভাগ কমে যায়
*. প্রাণিজ খাদ্য কম গ্রহণকারীদের মধ্যে জিংক অনুখাদ্যের ঘাটতিবেশি হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় একবারে বেশিখেতে না পারলে বারবার অল্প অল্প করে খেতে হবে। বিভিন্ন খাবারের পরিমাণ প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়াতে হবে, যাতে চাহিদা পূরণ হয়। আমাদের দেশে অনেক গর্ভবতী মায়ের খাদ্য সম্পর্কে কুসংস্কার আছে। গর্ভবতীতে এসব কুসংস্কারও ভুল ধারণা অবশ্যই পরিত্যাগ করে বেশি পরিমাণে সুষম খাবার খেতে হবে।
মূল বার্তা
*. গর্ভাবস্থায় মা প্রতিদিন যেটুকু খাবারখাচ্ছে তার সঙ্গে আরো ৩০০ কিলোক্যালরি বেশি খাদ্য গ্রহণ করতে হবে
*. প্রতিদিনই তিন ধরনের খাদ্যের তালিকা থেকে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে
*. বাড়তি খাবার হিসেবে প্রতিদিন এক মুঠো চালের ভাত, দুই কাপ ঘন ডাল, দু মুঠো শাকসবজি তেল দিয়ে রান্না করা, দুই টুকরো মাছ বা মাংস, একটি করে মৌসুমি ফল, এক গ্লাস দুধ অথবা দুধজাতীয় খাদ্য, লেবু বা টক ফলজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত
*. প্রচুর পানি পান।
*. আয়োডিনযুক্ত লবণ দিয়ে রান্না খাবার গ্রহণ করা উচিত
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More
রোগ প্রতিরোধক খাবারঃ সবুজ, হলুদ ও অন্যান্য রঙিন শাকসবজি এবং সব ধরনের মৌসুমি ফলমূল ইত্যাদি।
একজন মাকে প্রতিদিনই তিন ধরনের খাবারের তালিকা থেকে কিছু খেতেই হবে। প্রতি বেলায় স্বাভাবিকেরচেয়ে একটু বেশি খেতে হবে।পানি বেশি বেশি খেতে হবে।লবণ অবশ্যই আয়োডিনযুক্ত থাকতে হবে।
গর্ভকালীন মায়ের ওজন বৃদ্ধি
গর্ভকালীন মায়ের ওজন ১০-১২ কেজি বাড়া উচিত ? যেসব মহিলার ওজন কম তাদেরবেশি ওজন এবং স্থূলকায় ওজনের মহিলাদের কম ওজন বৃদ্ধি হওয়া উচিত (৬-৯ কেজি) ? বাংলাদেশে একজন গর্ভবতী মহিলার গড়ে ৪-৬ কেজি ওজন বৃদ্ধি হয়। যে কারণে কম ওজনের শিশু জন্মের হার অনেক বেশি (প্রায় ৩০ ভাগ)।
গর্ভবতীকে কতটা ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত
একজন সাধারণ মহিলার প্রতিদিন যতটা ক্যালরি (১৮০০-২১০০ কিলোক্যালরি)গ্রহণ করার কথা তার চেয়ে আরো ৩০০ কিলোক্যালরি এবং স্তন্যদায়ী মায়ের জন্য যদি ৫০০ কিলোক্যালরি বাড়ানো না যায় তাহলে মায়ের নিজের শরীর থেকে ক্ষয় হতে থাকবে এবং আস্তেআস্তে সে দুর্বল হয়ে যাবে। গর্ভকালীন শেষার্ধে ক্যালরি গ্রহণের চাহিদা বিশেষ করে বেড়ে যায়। গর্ভবতী মায়ের যদি সঠিকভাবে ওজন না বাড়ে তখন গর্ভস্থ শিশুটি কম ওজনের হতে পারেঅথবা তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ ছাড়াও আমিষ, লৌহ, আয়োডিন এবং অন্যান্য ভিটামিন গ্রহণের চাহিদাও বেড়ে যায়। কোনো কোনো খাদ্যে ঘাটতি শিশুর জন্মগত ত্রুটিসহ মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আমিষজাতীয় খাদ্য গ্রহণ
গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধিরজন্য আমিষজাতীয় খাদ্য গ্রহণ খুবই জরুরি। ? গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয়ার্থে ১ গ্রাম/ কেজি+২০ গ্রাম প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম গ্রহণ করাউচিত। ? আমিষজাতীয় খাদ্য যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, ডালজাতীয় খাদ্য, শিমের বিচি, দুধ ইত্যাদি।
ক্যালসিয়াম
ক্যালসিয়াম শিশুর অস্থি গঠনে সাহায্য করে, কাজেই গর্ভাবস্থার শেষের দিকে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম একজন গর্ভবতীমায়ের খাওযা উচিত। ? শিশুটি মায়ের শরীর থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে, কাজেই এটা পূরণ না হলে মায়ের অস্থি দুর্বল হয়ে পড়ে ? দুগ্ধ ও দুগ্ধজাতীয়খাদ্য, পানি, দধি, ছোট মাছ,সবুজ শাকসবজি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে।
লৌহ
আমাদের দেশের শতকরা ৬০ ভাগ গর্ভবতী মহিলা রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। গর্ভাবস্থায় লৌহজাতীয় খাদ্য গ্রহণ বৃদ্ধি করা একান্তই প্রয়োজন। ? গর্ভাবস্থায় প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম লৌহ দরকার হয় মায়ের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধির জন্য এবং ৩০০ মিলিগ্রাম লৌহ দরকার শিশুর শরীরে রক্ত গঠনের জন্য। ? কাজেই লৌহজাতীয় খাদ্য গ্রহণ অথবা লৌহের পরিপূরক ওষুধ সেবন প্রয়োজন। ? প্রায় ৩০মিলিগ্রাম এলিমেন্টাল লৌহ গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয়ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে প্রয়োজন। ? মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি ও ফলে লৌহজাতীয় খাদ্যের উপাদানবিদ্যমান। চা এবং কফি পানঅথবা বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম লৌহ শোষণেরক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ফলিক এসিড
ফলিক এসিডের ঘাটতি হলে মেগালেব্লাস্টিক রক্তস্বল্পতা হয় ? ফলিক এসিড গর্ভাবস্থার আগে এবং গর্ভাবস্থায় ব্যবহারকরলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি (নিউরাল টিউব ডিফেক্ট) কমে। ? প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলাকে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড গ্রহণ করা খুব দরকার। ডিম, শাকপাতা, কমলালেবু, ডাল বা শিম এবং গমের খোসায় প্রচুর ফলিক এসিড পাওয়া যায়।
জিংক
*. এ অনুখাদ্যটি শিশুর শরীর বৃদ্ধি এবং ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে
*. প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচনে সাহায্য করে
*. গর্ভাবস্থায় জিংকের পরিমাণ একজন সাধারণ মহিলা থেকে ২০-৩০ ভাগ কমে যায়
*. প্রাণিজ খাদ্য কম গ্রহণকারীদের মধ্যে জিংক অনুখাদ্যের ঘাটতিবেশি হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় একবারে বেশিখেতে না পারলে বারবার অল্প অল্প করে খেতে হবে। বিভিন্ন খাবারের পরিমাণ প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়াতে হবে, যাতে চাহিদা পূরণ হয়। আমাদের দেশে অনেক গর্ভবতী মায়ের খাদ্য সম্পর্কে কুসংস্কার আছে। গর্ভবতীতে এসব কুসংস্কারও ভুল ধারণা অবশ্যই পরিত্যাগ করে বেশি পরিমাণে সুষম খাবার খেতে হবে।
মূল বার্তা
*. গর্ভাবস্থায় মা প্রতিদিন যেটুকু খাবারখাচ্ছে তার সঙ্গে আরো ৩০০ কিলোক্যালরি বেশি খাদ্য গ্রহণ করতে হবে
*. প্রতিদিনই তিন ধরনের খাদ্যের তালিকা থেকে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে
*. বাড়তি খাবার হিসেবে প্রতিদিন এক মুঠো চালের ভাত, দুই কাপ ঘন ডাল, দু মুঠো শাকসবজি তেল দিয়ে রান্না করা, দুই টুকরো মাছ বা মাংস, একটি করে মৌসুমি ফল, এক গ্লাস দুধ অথবা দুধজাতীয় খাদ্য, লেবু বা টক ফলজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত
*. প্রচুর পানি পান।
*. আয়োডিনযুক্ত লবণ দিয়ে রান্না খাবার গ্রহণ করা উচিত
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
৯ মাসের বিপদ-আপদ ডা. রাতু রুমানা part 1
জরিনা বেগম, বয়স ২৫, গৃহিণী, স্বামী কৃষক। বাড়ি কুড়িগ্রাম। দুই কন্যা সন্তানের জননী, বর্তমানে আবার গর্ভবতী। স্বামী হুমকি দিয়েছে আবার কন্যা সন্তান প্রসব করলে তালাক দেবে। তাই গর্ভকালীন তার প্রতি গুরুত্ব ছিল একেবারেই কম,এমনকি প্রসব বেদনার সময়ও। গ্রামের ধাত্রীকে ডেকে আনা হলো। অবস্থা খুবই জটিল জেনেও স্বামী হাসপাতালে নিতে রাজি হলো না। ২৪ ঘণ্টা কষ্টের পর জরিনা এক মৃত পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েনিজেও মারা গেলেন। পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এলো। শোকটা জরিনার জন্য নয়, মৃত পুত্রসন্তানের জন্য।
রাহেলা খাতুন, বয়স ২২, এক পুত্রসন্তানের জন্মের চার বছর পর পরবর্তী সন্তানের জন্মের তারিখ খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। গভীর রাতে প্রসব বেদনা উঠল। কিন্তু প্রসূ'তি শেষকরে হাসপাতালে তাকে নিতে অনেক দেরি হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে সে জন্ম দিল এক মৃত কন্যাসন্তান।
প্রথম ঘটনায় মৃত্যুর কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, দ্বিতীয়টিতে যথাযথ প্রসূ'তির অভাব। মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার আমাদের দেশে আগের তুলনায় অনেক কমেছে কিন্তু এখনো যে পর্যায়ে আছে তা যথেষ্ট উদ্বেগের। গর্ভকালীন মাকে বাড়তি যত্ন নিতে হবে তার পরিবারথেকে, তাকে ও অনাগত শিশুরপুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার থেকে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ রাখা দরকার।
*. মাকে সব সময় মানসিকভাবে উৎফুল্ল রাখা
*. পুষ্টিকর খাবার দেয়া
*. জন্মদান বিষয়ে সাহস জোগানো
*. ভারী কোনো কাজ করতে না দেয়া
*. সব সময় স্বাস্থ্যগত দিকটি নজরে রাখা
*. ভবিষ্যতে যেকোনো বিপদের জন্য নিজেদের প্রস'ত রাখা
তবে নিচের কয়েকটি বিষয় গর্ভবতীর মধ্যে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেগুলো হলো-
হঠাৎ রক্তপাত শুরু হলে
প্রসবের সময় ছাড়া গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় রক্তক্ষরণ বা প্রসবের সময় বা প্রসবের পর খুব বেশি রক্তক্ষরণ বা গর্ভফুল না পড়া বিপদের লক্ষণ। তাই এ রকম পরিসি'তির সৃষ্টি হলে কোনো রকম চিন্তা না করে পরিবারের সবারই উচিত মাকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। অন্যথায় তা বাচ্চা এবং মা দুজনের জীবনেই হুমকি ডেকে আনতে পারে।
খিঁচুনি হলে
গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর যেকোনোসময় যদি খিঁচুনি দেখা দেয়তবে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালে মাকে ভর্তি করাতে হবে। খিঁচুনি একলামসিয়ার প্রধান লক্ষণ। তাই দ্রুত পদক্ষেপ ও চিকিৎসা বাচ্চা এবং মা দুজনের জীবনকেই রক্ষা করতে পারে। তা না হলে এ রোগে দুজনই মারা যেতে পারে।
চোখে ঝাপসা দেখলে বা তীব্র মাথাব্যথা হলে
গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর শরীরে পানি আসা, খুব বেশি মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা পাঁচটি প্রধান বিপদ চিহ্নের মধ্যে একটি। তাই এ ব্যাপারে মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও গর্ভাবস্থায় মায়ের পায়ে সামান্য পানি আসা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। একটু বেশি হাঁটলে এ পানি চলেও যায়। কিন' যদি পায়ে অতিরিক্ত পানি আসে এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করে ও পা ভারী হয়ে আসে তবে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগকরা উচিত।
ভীষণ জ্বর হলে
গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর তিন দিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব প্রধান বিপদ চিহ্নের একটি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যদি কেঁপে কেঁপে ভীষণ জ্বর আসে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয়, তবে তা অনেক সময় মূত্রনালির সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করে। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা করলে অল্প সময়ে এজটিলতা দূর হয়ে যায়।
বিলম্বিত প্রসব হলে
প্রসবব্যথা যদি ১২ ঘণ্টার বেশি হয় অথবা প্রসবের সময় যদি বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গবের হয়ে আসে, বাসাবাড়িতে প্রসবের চেষ্টা না করে সবারই উচিত মাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।
লক্ষ রাখতে হবে গর্ভবতীকেও
এ ছাড়া গর্ভবতী মায়েদেরও এসব বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে। তা ছাড়া নিচের কয়েকটি বিষয়ে নিজেকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বাচ্চার নড়াচড়া
গর্ভাবস্থায় সাধারণত মা ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করেন। পেটের ভেতর বাচ্চা ঘুমায় ও খেলা করে,যার অনুভূতি মা বাইরে থেকে বুঝতে পারেন। বাচ্চার নড়াচড়ার একটা নির্দিষ্ট সীমা এবং সময় রয়েছে যা শুধু মা-ই অনুভবকরেন। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে মা সেটা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। বাচ্চার অধিক নড়াচড়া বা কম নড়াচড়াদুটিই ক্ষতিকর এবং এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর ডাক্তারকে দেখানো উচিত।
আরো
পড়তে থাকুন ৯ মাসের বিপদ-আপদ
ডা. রাতু রুমানা
part 2
Read More
রাহেলা খাতুন, বয়স ২২, এক পুত্রসন্তানের জন্মের চার বছর পর পরবর্তী সন্তানের জন্মের তারিখ খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। গভীর রাতে প্রসব বেদনা উঠল। কিন্তু প্রসূ'তি শেষকরে হাসপাতালে তাকে নিতে অনেক দেরি হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে সে জন্ম দিল এক মৃত কন্যাসন্তান।
প্রথম ঘটনায় মৃত্যুর কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, দ্বিতীয়টিতে যথাযথ প্রসূ'তির অভাব। মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার আমাদের দেশে আগের তুলনায় অনেক কমেছে কিন্তু এখনো যে পর্যায়ে আছে তা যথেষ্ট উদ্বেগের। গর্ভকালীন মাকে বাড়তি যত্ন নিতে হবে তার পরিবারথেকে, তাকে ও অনাগত শিশুরপুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার থেকে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ রাখা দরকার।
*. মাকে সব সময় মানসিকভাবে উৎফুল্ল রাখা
*. পুষ্টিকর খাবার দেয়া
*. জন্মদান বিষয়ে সাহস জোগানো
*. ভারী কোনো কাজ করতে না দেয়া
*. সব সময় স্বাস্থ্যগত দিকটি নজরে রাখা
*. ভবিষ্যতে যেকোনো বিপদের জন্য নিজেদের প্রস'ত রাখা
তবে নিচের কয়েকটি বিষয় গর্ভবতীর মধ্যে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেগুলো হলো-
হঠাৎ রক্তপাত শুরু হলে
প্রসবের সময় ছাড়া গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় রক্তক্ষরণ বা প্রসবের সময় বা প্রসবের পর খুব বেশি রক্তক্ষরণ বা গর্ভফুল না পড়া বিপদের লক্ষণ। তাই এ রকম পরিসি'তির সৃষ্টি হলে কোনো রকম চিন্তা না করে পরিবারের সবারই উচিত মাকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। অন্যথায় তা বাচ্চা এবং মা দুজনের জীবনেই হুমকি ডেকে আনতে পারে।
খিঁচুনি হলে
গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর যেকোনোসময় যদি খিঁচুনি দেখা দেয়তবে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালে মাকে ভর্তি করাতে হবে। খিঁচুনি একলামসিয়ার প্রধান লক্ষণ। তাই দ্রুত পদক্ষেপ ও চিকিৎসা বাচ্চা এবং মা দুজনের জীবনকেই রক্ষা করতে পারে। তা না হলে এ রোগে দুজনই মারা যেতে পারে।
চোখে ঝাপসা দেখলে বা তীব্র মাথাব্যথা হলে
গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর শরীরে পানি আসা, খুব বেশি মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা পাঁচটি প্রধান বিপদ চিহ্নের মধ্যে একটি। তাই এ ব্যাপারে মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। যদিও গর্ভাবস্থায় মায়ের পায়ে সামান্য পানি আসা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। একটু বেশি হাঁটলে এ পানি চলেও যায়। কিন' যদি পায়ে অতিরিক্ত পানি আসে এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করে ও পা ভারী হয়ে আসে তবে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগকরা উচিত।
ভীষণ জ্বর হলে
গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর তিন দিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব প্রধান বিপদ চিহ্নের একটি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যদি কেঁপে কেঁপে ভীষণ জ্বর আসে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয়, তবে তা অনেক সময় মূত্রনালির সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করে। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা করলে অল্প সময়ে এজটিলতা দূর হয়ে যায়।
বিলম্বিত প্রসব হলে
প্রসবব্যথা যদি ১২ ঘণ্টার বেশি হয় অথবা প্রসবের সময় যদি বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গবের হয়ে আসে, বাসাবাড়িতে প্রসবের চেষ্টা না করে সবারই উচিত মাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।
লক্ষ রাখতে হবে গর্ভবতীকেও
এ ছাড়া গর্ভবতী মায়েদেরও এসব বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে। তা ছাড়া নিচের কয়েকটি বিষয়ে নিজেকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বাচ্চার নড়াচড়া
গর্ভাবস্থায় সাধারণত মা ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার নড়াচড়া অনুভব করেন। পেটের ভেতর বাচ্চা ঘুমায় ও খেলা করে,যার অনুভূতি মা বাইরে থেকে বুঝতে পারেন। বাচ্চার নড়াচড়ার একটা নির্দিষ্ট সীমা এবং সময় রয়েছে যা শুধু মা-ই অনুভবকরেন। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে মা সেটা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। বাচ্চার অধিক নড়াচড়া বা কম নড়াচড়াদুটিই ক্ষতিকর এবং এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর ডাক্তারকে দেখানো উচিত।
আরো
পড়তে থাকুন ৯ মাসের বিপদ-আপদ
ডা. রাতু রুমানা
part 2
৯ মাসের বিপদ-আপদ ডা. রাতু রুমানা part 2
রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর মায়ের রক্তচাপ লক্ষ রাখা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় মায়ের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং এটি একলামসিয়ার একটি লক্ষণও।তাই যারা আগে থেকেই রক্তচাপে আক্রান্ত বা গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাএবং নিজ ও বাচ্চা উভয়ের সুন্থতা নিশ্চিত করা।
তলপেটে তীব্র ব্যথা
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (সাধারণত তিন মাসের মধ্যে) যদি কোনো সময় তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, রক্তক্ষরণ ও পেট রক্ত হয়ে যায় তবে দ্রুত ডাক্তারকে দেখানো উচিত। এ ক্ষেত্রে জরায়ু ছাড়া নালিতে (অন্যান্য সন্তান যেমন- পেটের ভেতর,ডিম্বাশয়ের মধ্যে ইত্যাদি) গর্ভধারণ (যা একটোপিক প্রেগন্যান্সি নামে পরিচিত) হয়ে থাকে এবং অনেক সময় এটি ফেটে গিয়ে মায়ের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এক্ষেত্রে দ্রুত অপারেশন ছাড়া মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩৬ সপ্তাহে ন্যূনতম প্রতি মাসে একবার এবং ৩৬ সপ্তাহের পর প্রতি সপ্তাহে একবার করে মাকে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তার দেখানো উচিত।
গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা
এর বাইরেও গর্ভকালীন সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা যায়। যেমন-
বমি
সকালে ওঠার পর যদি বেশি অসুস্থবোধ হয় তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে হালকা কিছু যেমন- শুষ্ক টোস্ট বা সাধারণ বিস্কুট খেতে পারেন।
*. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
*. দুশ্চিন্তা করবেন না
*. বমি হবে এই ভয়ে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করবেন না
বুকজ্বলা
*. অল্প অল্প করে প্রয়োজনে বারবার খাবারখান
*. বেশি মসলাযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করুন
*. রাতে বুকজ্বলা শুরু হলে এন্টাসিড ট্যাবলেটচুষে খেতে পারেন
*. প্রয়োজনে ডাক্তার দেখান
কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা কষা
*. প্রচুর পানি, আঁশযুক্ত খাবার ও শাকসব্জি বেশি করে খান
*. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করে মাংসপেশিরটান ঠিক রাখুন
গিলা ও পা ফোলা
*. অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না
*. পা যতটা সম্ভব ওপরের দিকে রেখে শুয়ে থাকুন
*. রক্তচাপ পরিমাপ করাবেন
*. লবণ কম খাবেন
যোনির নিঃসরণ
সব মহিলারই গর্ভাবস্থায় যোনির নিঃসরণ বেড়ে যায়। এটা সাধারণত সাদা হয়, তবেগন্ধ থাকে না। যদি যোনির নিঃসরণ গন্ধযুক্ত, রঙিন হয় এবং আপনি অস্বস্তিবোধ করেন তবে বুঝতে হবে আপনারযোনিতে জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। একটু সচেতনতা ও পরিবার এবং চিকিৎসকের সামান্য সহযোগিতাই কমিয়ে আনতে পারে মা ও শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হার।
গর্ভবতী মায়ের জন্য
*. সব সময় ধীরে ধীরে দাঁড়াবেন, কখনোই আচমকা দাঁড়াবেন না
*. এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না
*. প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন
*. বেশি লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
*. প্রচুর আঁশযুক্ত খাবারযেমন- রান্না করা অথবা কাঁচা ফল এবং সবুজ শাকসব্জি, সালাদ খাবেন
*. অল্প চর্বিযুক্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাবেন
*. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন
*. ক্লান্তি-বোধ হলে কিছু সময় বিশ্রাম নিন
*. যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তাপরিহার করুন
*. প্রতি রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টাঘুমাবেন। প্রয়োজনে বিকেলে বিশ্রাম নিন।
*. বাম কাত হয়ে ঘুমাবেন। এর ফলে বাচ্চার জন্য পুষ্টি ও অক্সিজেন বহনকারী রক্তনালির ওপরচাপ পড়বে না।
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More
গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর মায়ের রক্তচাপ লক্ষ রাখা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় মায়ের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং এটি একলামসিয়ার একটি লক্ষণও।তাই যারা আগে থেকেই রক্তচাপে আক্রান্ত বা গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের উচিত ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাএবং নিজ ও বাচ্চা উভয়ের সুন্থতা নিশ্চিত করা।
তলপেটে তীব্র ব্যথা
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (সাধারণত তিন মাসের মধ্যে) যদি কোনো সময় তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, রক্তক্ষরণ ও পেট রক্ত হয়ে যায় তবে দ্রুত ডাক্তারকে দেখানো উচিত। এ ক্ষেত্রে জরায়ু ছাড়া নালিতে (অন্যান্য সন্তান যেমন- পেটের ভেতর,ডিম্বাশয়ের মধ্যে ইত্যাদি) গর্ভধারণ (যা একটোপিক প্রেগন্যান্সি নামে পরিচিত) হয়ে থাকে এবং অনেক সময় এটি ফেটে গিয়ে মায়ের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এক্ষেত্রে দ্রুত অপারেশন ছাড়া মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩৬ সপ্তাহে ন্যূনতম প্রতি মাসে একবার এবং ৩৬ সপ্তাহের পর প্রতি সপ্তাহে একবার করে মাকে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তার দেখানো উচিত।
গর্ভকালীন সাধারণ সমস্যা
এর বাইরেও গর্ভকালীন সাধারণ কিছু সমস্যা দেখা যায়। যেমন-
বমি
সকালে ওঠার পর যদি বেশি অসুস্থবোধ হয় তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে হালকা কিছু যেমন- শুষ্ক টোস্ট বা সাধারণ বিস্কুট খেতে পারেন।
*. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
*. দুশ্চিন্তা করবেন না
*. বমি হবে এই ভয়ে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করবেন না
বুকজ্বলা
*. অল্প অল্প করে প্রয়োজনে বারবার খাবারখান
*. বেশি মসলাযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করুন
*. রাতে বুকজ্বলা শুরু হলে এন্টাসিড ট্যাবলেটচুষে খেতে পারেন
*. প্রয়োজনে ডাক্তার দেখান
কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা কষা
*. প্রচুর পানি, আঁশযুক্ত খাবার ও শাকসব্জি বেশি করে খান
*. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করে মাংসপেশিরটান ঠিক রাখুন
গিলা ও পা ফোলা
*. অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না
*. পা যতটা সম্ভব ওপরের দিকে রেখে শুয়ে থাকুন
*. রক্তচাপ পরিমাপ করাবেন
*. লবণ কম খাবেন
যোনির নিঃসরণ
সব মহিলারই গর্ভাবস্থায় যোনির নিঃসরণ বেড়ে যায়। এটা সাধারণত সাদা হয়, তবেগন্ধ থাকে না। যদি যোনির নিঃসরণ গন্ধযুক্ত, রঙিন হয় এবং আপনি অস্বস্তিবোধ করেন তবে বুঝতে হবে আপনারযোনিতে জীবাণুর সংক্রমণ হয়েছে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। একটু সচেতনতা ও পরিবার এবং চিকিৎসকের সামান্য সহযোগিতাই কমিয়ে আনতে পারে মা ও শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হার।
গর্ভবতী মায়ের জন্য
*. সব সময় ধীরে ধীরে দাঁড়াবেন, কখনোই আচমকা দাঁড়াবেন না
*. এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না
*. প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন
*. বেশি লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
*. প্রচুর আঁশযুক্ত খাবারযেমন- রান্না করা অথবা কাঁচা ফল এবং সবুজ শাকসব্জি, সালাদ খাবেন
*. অল্প চর্বিযুক্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাবেন
*. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন
*. ক্লান্তি-বোধ হলে কিছু সময় বিশ্রাম নিন
*. যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তাপরিহার করুন
*. প্রতি রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টাঘুমাবেন। প্রয়োজনে বিকেলে বিশ্রাম নিন।
*. বাম কাত হয়ে ঘুমাবেন। এর ফলে বাচ্চার জন্য পুষ্টি ও অক্সিজেন বহনকারী রক্তনালির ওপরচাপ পড়বে না।
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
আমি নষ্টা নই, আমি মারহিমা আক্তারpart 2
জোছনার আলোতে যেমন পৃথিবী আলোকিত, তেমনি ওর আলোয় আলোকিত হয়েছে পুরো হাসপাতাল। এখনো ওরা আমায় বলেনি, ও কন্যাসন্তান কিনা। হালকাভাবে জিজ্ঞেস করি, ‘ও কি ছেলে না মেয়ে।’ আপা বলে তোমার কন্যাসন্তান হয়েছে। শরীরের হাজার কষ্টের মাঝে সোনামানিকেরমুখ দেখে সব ভুলে গেছি। আর কন্যাসন্তানের কথা শুনে আনন্দে বুকটা ভরে যায়। আপা বলে, ‘বাবুকে আদরকরো।’ ঘাড় বাঁকা করে ওর কপালে একটু চুমু খাই। সেইথেকে আজ অবধি প্রতি জন্মদিনে ওকে ওভাবে একটা চুমু দিই। আমার কাছ থেকে এটা ওর উপহার। ডাক্তার বাবুকে বের করে আত্মীয়-স্বজনের কাছে দেন।
সবাই বাবুকে নিয়ে কেবিনে যায়। একা আপা কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। ও ভাবে, সবাই বাবু পেয়েছে চলে গেছে। আপার অপেক্ষা আমার সুস্থতা দেখার জন্য। ওটির সব কাজ শেষ করে কেবিনে নিয়ে আসে। আমিদেখছি পুরো কেবিনটা ওর সৌন্দর্যে আলোকিত। আমাকেঘুমের ওষুধ দেয়। সারারাত ঘুমিয়ে সকালে বুঝতে পারি,আমি মা হয়েছি। এত দিন আমিও মেয়ে ছিলাম। আজ আমারমাতৃত্বের সাধ পূর্ণ হলো,সন্তান হলো। এরপর দুবার মা হওয়াটাও ছিল অনেক আনন্দের। এটা আমার সাথে বড় সন্তানেরও চাওয়া যেন একটা মেয়ে বাবু হয় আমার। ৭-৮ মাসে আলট্রাসনোগ্রামকরি, পাশে থাকে বড় কন্যাসন্তান। ডাক্তার বলে, আপনার মেয়ে হবে, সাথে সাথে বড় মেয়েকে আনন্দে জড়িয়ে ধরি। দ্বিতীয় সন্তানের সময় ৫ দিন হাসপাতালে ছিলাম। ওটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় আবারও উঠে আসি, দেখছি বাড়ির সবার সাথে বড় মেয়েটা ঠিক আছে তো। দ্বিতীয় সন্তান নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগে হওয়ায় ওর প্রতি অন্য রকম কেয়ার নিতে হয়েছিল। ৫দিন পর হাসপাতাল থেকে আসার সময় ডাক্তার আপা বলে, ‘মন খারাপ করো না, ৩ বছর পর আরেকটা বাচ্চা নিয়ো, দেখো তোমার ছেলে হবে।’ আপাকে বলেছি, আপা আমার আর সন্তান চাই না। যদি কখনো প্রয়োজন হয় আপনার কাছে আসব, প্রাণভরেদোয়া করবেন যেন যমজ দুটি কন্যাসন্তান হয়। আমার কথা শুনে আপা হাসে। কিন্তু কষ্ট লাগে যখন দেখি এই সমাজে আজও সন্তানজন্মের ক্ষেত্রে মাকে দোষারোপ করা হয়। আর পুত্রসন্তানের জন্য আক্ষেপ করে। আমাদের সমাজ পাল্টে যাচ্ছে। সমাজকে বদলে দেয়ার জন্য কাজও করছে, একদিকে নারীর অধিকার, নারীর প্রতি বৈষম্য ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ও মানবাধিকার কর্মীরা কাজ করছে। অন্যদিকে গর্ভবতী মা সন্তান গর্ভে নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ভয় আতঙ্ক আর হতাশায় পড়ে ভাবছে আমারকী কন্যাসন্তান হবে? একজন নারী হয়ে অপেক্ষা করে পুত্রসন্তানের।
সন্তান কন্যা হয়েছে বলে মাকে তালাক দিচ্ছে, মাকে একঘরে করে রাখছে আবার পুত্রসন্তানের জন্য দ্বিতীয়, তৃতীয় বিয়ে করছেএকজন পুরুষ। সত্যিই পুরুষরা মনে হয় ঢ ও ণ-এর পার্থক্য ভুলেই গেছে। সন্তান গর্বে নিয়ে যেখানে মাকে সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে বিভোর থাকার কথা, সেখানে মা ভাবছে একটি কন্যাসন্তানের জন্যতার সংসার ভেঙে যাবে না তো!
হ্যাঁ, মা, তোমাদের হাজার সালাম। অন্ততপক্ষে তোমরাআমাদের জন্মকে অভিশপ্ত মনে কোরো না। তুমি তো জানএকদিন তোমার মতো আমাকেও কন্যাসন্তানের মা হতে হবে, যেন আমি আদর্শ মা হতে পারি। একজন আদর্শ মা হতে পারি।
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
বাস্তব ঘটনা পাবেন , পাবেন জানারমত অনেক কিছু । পড়ুন , জানুন ।পড়তে থাকুন
http://sayedrubel.blogspot.com
update today
Read More
সবাই বাবুকে নিয়ে কেবিনে যায়। একা আপা কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। ও ভাবে, সবাই বাবু পেয়েছে চলে গেছে। আপার অপেক্ষা আমার সুস্থতা দেখার জন্য। ওটির সব কাজ শেষ করে কেবিনে নিয়ে আসে। আমিদেখছি পুরো কেবিনটা ওর সৌন্দর্যে আলোকিত। আমাকেঘুমের ওষুধ দেয়। সারারাত ঘুমিয়ে সকালে বুঝতে পারি,আমি মা হয়েছি। এত দিন আমিও মেয়ে ছিলাম। আজ আমারমাতৃত্বের সাধ পূর্ণ হলো,সন্তান হলো। এরপর দুবার মা হওয়াটাও ছিল অনেক আনন্দের। এটা আমার সাথে বড় সন্তানেরও চাওয়া যেন একটা মেয়ে বাবু হয় আমার। ৭-৮ মাসে আলট্রাসনোগ্রামকরি, পাশে থাকে বড় কন্যাসন্তান। ডাক্তার বলে, আপনার মেয়ে হবে, সাথে সাথে বড় মেয়েকে আনন্দে জড়িয়ে ধরি। দ্বিতীয় সন্তানের সময় ৫ দিন হাসপাতালে ছিলাম। ওটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় আবারও উঠে আসি, দেখছি বাড়ির সবার সাথে বড় মেয়েটা ঠিক আছে তো। দ্বিতীয় সন্তান নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগে হওয়ায় ওর প্রতি অন্য রকম কেয়ার নিতে হয়েছিল। ৫দিন পর হাসপাতাল থেকে আসার সময় ডাক্তার আপা বলে, ‘মন খারাপ করো না, ৩ বছর পর আরেকটা বাচ্চা নিয়ো, দেখো তোমার ছেলে হবে।’ আপাকে বলেছি, আপা আমার আর সন্তান চাই না। যদি কখনো প্রয়োজন হয় আপনার কাছে আসব, প্রাণভরেদোয়া করবেন যেন যমজ দুটি কন্যাসন্তান হয়। আমার কথা শুনে আপা হাসে। কিন্তু কষ্ট লাগে যখন দেখি এই সমাজে আজও সন্তানজন্মের ক্ষেত্রে মাকে দোষারোপ করা হয়। আর পুত্রসন্তানের জন্য আক্ষেপ করে। আমাদের সমাজ পাল্টে যাচ্ছে। সমাজকে বদলে দেয়ার জন্য কাজও করছে, একদিকে নারীর অধিকার, নারীর প্রতি বৈষম্য ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ও মানবাধিকার কর্মীরা কাজ করছে। অন্যদিকে গর্ভবতী মা সন্তান গর্ভে নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ভয় আতঙ্ক আর হতাশায় পড়ে ভাবছে আমারকী কন্যাসন্তান হবে? একজন নারী হয়ে অপেক্ষা করে পুত্রসন্তানের।
সন্তান কন্যা হয়েছে বলে মাকে তালাক দিচ্ছে, মাকে একঘরে করে রাখছে আবার পুত্রসন্তানের জন্য দ্বিতীয়, তৃতীয় বিয়ে করছেএকজন পুরুষ। সত্যিই পুরুষরা মনে হয় ঢ ও ণ-এর পার্থক্য ভুলেই গেছে। সন্তান গর্বে নিয়ে যেখানে মাকে সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে বিভোর থাকার কথা, সেখানে মা ভাবছে একটি কন্যাসন্তানের জন্যতার সংসার ভেঙে যাবে না তো!
হ্যাঁ, মা, তোমাদের হাজার সালাম। অন্ততপক্ষে তোমরাআমাদের জন্মকে অভিশপ্ত মনে কোরো না। তুমি তো জানএকদিন তোমার মতো আমাকেও কন্যাসন্তানের মা হতে হবে, যেন আমি আদর্শ মা হতে পারি। একজন আদর্শ মা হতে পারি।
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
বাস্তব ঘটনা পাবেন , পাবেন জানারমত অনেক কিছু । পড়ুন , জানুন ।পড়তে থাকুন
http://sayedrubel.blogspot.com
update today
আমি নষ্টা নই, আমি মা রহিমা আক্তার part 1
‘মায়ের মতো আপন কেউ নাই গো’, ‘মা গো মা ও গো মা আমারে বানাইলা তুমি দিওয়ানা’, ‘মায়ের একদার দুধের দাম কাটিয়া গায়েও চাম পাপোস বানাইলে ঋণের শোধ হবে না’-এ রকম শত শত গানের মাঝে লুকিয়ে আছে আমাদের মা, আমাদের গর্ভধারিণী। কবি সাহিত্যিক গীতিকার সুরকার প্রযোজক থেকে শুরু করে সবাই সব মাধ্যমেমাকে নিয়ে গল্প কবিতা গাননাটক চলচ্চিত্র করেছেন। পৃথিবীতে এই একটি শব্দ, মাত্র একটি বর্ণের শব্দ, যার অর্থ কাউকে অভিধানে খুঁজতে হয় না। এটা এমন একশব্দ, এমন এক বন্ধন যার কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। সভ্যতার আধুনিক যুগেও হয়তো প্রশ্ন আসে, এই সন্তানের বাবা কে? কিন্তু মায়ের ক্ষেত্রে এর প্রমাণ নিষ্প্রয়োজন। যার গর্ভে বড় হওয়া সেই মা। যে ৯ মাস ১০ দিন তার উদরে বড় করে সেই মা। মা ছাড়া সন্তানের জীবন মূল্যহীন। সন্তানের মা থাকবে এটাই নিয়ম। হয়তো প্রশ্ন আসবে যে বাবাও তো থাকবে, হ্যাঁ থাকবে। একটাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তার মাকে বেঁচে থাকতে হবেই। মা তুমি আমাদের জীবনের সব। পৃথিবীর সব মাকে সালাম জানাই। ১৯৯০ সালে বিবাহিত জীবনের দুই বছর অতিবাহিত। নিজের জীবনের একাকিত্বকে দূর করতে মা হওয়ার ভাবনায় পড়া। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস আমার সন্তান আমার গর্ভে। ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। সাথে আছে খালা। পরীক্ষার পর খালা ডাক্তারকে বলছে ‘বেবি কী, ছেলে না মেয়ে’। ডাক্তার বলে, ‘এটা কি প্রথম বাচ্চা?’ আমি ‘হ্যাঁ’ বলাতে ডাক্তার বলে ঠিক আছে কোনো অসুবিধা নেই। বাচ্চা ভালো আছে। ছোটবেলা থেকে মেয়ে বাচ্চা খুব পছন্দ। সন্তান পেটে আসার পর থেকেই ভাবনা, আমার যদি কন্যাসন্তান হয় খুব ভালো হবে। অনেক ার চুপে চুপে সৃষ্টিকর্তাকে কন্যাসন্তানের কথাও বলেছি। ডাক্তার মার্চ মাসের প্রথম ১০ দিনের কথাবলে। প্রতিদিন কতবার যে ক্যালেন্ডার দেখেছি, দিন আর শেষ হয় না। সন্তান পেটে নড়ছে, ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে সব অনুভূতির মাঝে টের পাচ্ছি। আমার অস্তিত্বজুড়ে শুধুই সন্তানের ভাবনা। মার্চের৬ তারিখ। আমি থাকতাম ঢাকাথেকে কিছুটা দূরে। ৬ তারিখ চলে আসি ঢাকায়। ক্যান্টনমেন্টে এক মামা ও খালা থাকতেন।
মামা আর্মির ডাক্তার। বাচ্চা হওয়ার পর খালার বাসায় থাকব বলে আগে মামারবাসায় থাকি। নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। শাশুড়ি হেলথে চাকরি করেন। ডেলিভারি নিজেও করাতে পারেন, তার মাঝে ঘরে ডাক্তার আছে। এরই মাঝে আর্মির জেনারেল হাসপাতালে একটা সিটের কথাও বলা আছে। ৮ তারিখ থেকে শরীর একটু একটু অসুস্থ। দেশের রাজনৈতিক অবস্থাও ভালো না।
৯ তারিখথেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক পড়ে। ঢাকা শহরেও গাড়ি চলাচল বন্ধ। ৯তারিখ সন্ধ্যায় হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করি। সম্ভব হলে বাসায়ও বাচ্চা হতে পারে, সেই হিসেবে প্রাথমিকভাবে যা কিছু প্রয়োজন সব রেডি করা। একটু একটু করে ব্যথা বাড়ছে। সবার দৃষ্টি আমার দিকে। আমায় এক গ্লাস গরম দুধ খেতে দেয়। দুইটা ডিম খেতে দেয়। আবার বারান্দায় গ্রিল ধরে হাঁটতে বলে। সবার অপেক্ষা কখন দেখাব সেই মুখখানা, শাশুড়ি নিজেই চেকআপ করবেন, বলেছেন সব ঠিক আছে। ব্যথা ক্রমে বাড়ছে কিন্তু ডেলিভারি হচ্ছে না। মামিকে বলি, আমায় কিছু ওষুধ দিন, তাহলে ব্যথা আরো বাড়বে আরসোনামণিকে দেখতে পাব। বাসার নিচে গাড়ি ঠিক করা।রাত একটা, আর অপেক্ষা না করে সবাই আমায় নিয়ে যায় হাসপাতালে। ডাক্তার দেখছেন, তারা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করছেন।রাত শেষ হয়ে সকাল পার হচ্ছে, ক্রমে বাবুর নড়চড়াবন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঘড়ি ধরেডাক্তার দেখছেন বাচ্চা খুব ধীরগতিতে নড়ছে। চিন্তিত ডাক্তার, আর অপেক্ষা করা যাবে না। সিজারের প্রস্তুতি নিতে হবে। ডাক্তার আপা বলছেন, বাচ্চার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবার মাঝে টেনশন। সিজারের কথা শুনে কোনো ভয় পাচ্ছি না, যা কিছু করার করুক, আমি আমারসন্তানের মুখ দেখতে চাই। এখনকার মতো তখন সব ছিল না। দুপুর থেকে খাওয়া বন্ধ করে দিল, সিজারের জন্য রেডি করা হচ্ছে।
সন্ধ্যায় এক এক করে ডাক্তার দেখছেন বাচ্চা একেবারেই নড়ছে না, আমাকে অন্য রুমে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হলো। আধা ঘণ্টা পর আমি বাচ্চার নড়া অনুভব করলাম। গাড়ি চলছে না, তারপর ইউনিভার্সিটি হল থেকে অনেক কষ্টে আপা আসে (বড় বোন)। আমার চারপাশে অনেক লোকজন, সবার অপেক্ষানতুন অতিথি দেখার। ব্যথার কষ্টে চিৎকার দিতেও লজ্জা পাচ্ছি। ডাক্তার আপার হাজবেন্ডও ডাক্তার। ওটিতে নিয়ে গেল। আমার শরীর অর্ধেক অবশ করা হলো। বোধশক্তি নাথাকলেও জ্ঞান আছে। একজন ডাক্তার মাথার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর আস্তে আস্তে কথা বলছে,ওটিতে ৬-৭ জন ছিল। ঘড়ির সময় দেখছি। হঠাৎ একটু বমিভাব হয়, ডাক্তার একটু চিন্তিত হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর আপা বলছে, তোমারএকটা সুস্থ সন্তান হয়েছে। এই বলে নরম কাপড়ে জড়ানো এক নবজাতকের মুখ আমাকে দেখায়। আমি ওর মুখ দেখে আনন্দে আত্মহারা। ওর মুখ দেখে মনে হলো শীতের শেষ রাতে জোছনার আলো এসে শিশিরভেজা ঘাসের ওপর পড়ছে। জোছনার আলোতে যেমন পৃথিবী আলোকিত, তেমনি ওর আলোয় আলোকিত হয়েছে পুরো হাসপাতাল।
পড়তে থাকুন part 2
Read More
মামা আর্মির ডাক্তার। বাচ্চা হওয়ার পর খালার বাসায় থাকব বলে আগে মামারবাসায় থাকি। নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। শাশুড়ি হেলথে চাকরি করেন। ডেলিভারি নিজেও করাতে পারেন, তার মাঝে ঘরে ডাক্তার আছে। এরই মাঝে আর্মির জেনারেল হাসপাতালে একটা সিটের কথাও বলা আছে। ৮ তারিখ থেকে শরীর একটু একটু অসুস্থ। দেশের রাজনৈতিক অবস্থাও ভালো না।
৯ তারিখথেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক পড়ে। ঢাকা শহরেও গাড়ি চলাচল বন্ধ। ৯তারিখ সন্ধ্যায় হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করি। সম্ভব হলে বাসায়ও বাচ্চা হতে পারে, সেই হিসেবে প্রাথমিকভাবে যা কিছু প্রয়োজন সব রেডি করা। একটু একটু করে ব্যথা বাড়ছে। সবার দৃষ্টি আমার দিকে। আমায় এক গ্লাস গরম দুধ খেতে দেয়। দুইটা ডিম খেতে দেয়। আবার বারান্দায় গ্রিল ধরে হাঁটতে বলে। সবার অপেক্ষা কখন দেখাব সেই মুখখানা, শাশুড়ি নিজেই চেকআপ করবেন, বলেছেন সব ঠিক আছে। ব্যথা ক্রমে বাড়ছে কিন্তু ডেলিভারি হচ্ছে না। মামিকে বলি, আমায় কিছু ওষুধ দিন, তাহলে ব্যথা আরো বাড়বে আরসোনামণিকে দেখতে পাব। বাসার নিচে গাড়ি ঠিক করা।রাত একটা, আর অপেক্ষা না করে সবাই আমায় নিয়ে যায় হাসপাতালে। ডাক্তার দেখছেন, তারা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করছেন।রাত শেষ হয়ে সকাল পার হচ্ছে, ক্রমে বাবুর নড়চড়াবন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঘড়ি ধরেডাক্তার দেখছেন বাচ্চা খুব ধীরগতিতে নড়ছে। চিন্তিত ডাক্তার, আর অপেক্ষা করা যাবে না। সিজারের প্রস্তুতি নিতে হবে। ডাক্তার আপা বলছেন, বাচ্চার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সবার মাঝে টেনশন। সিজারের কথা শুনে কোনো ভয় পাচ্ছি না, যা কিছু করার করুক, আমি আমারসন্তানের মুখ দেখতে চাই। এখনকার মতো তখন সব ছিল না। দুপুর থেকে খাওয়া বন্ধ করে দিল, সিজারের জন্য রেডি করা হচ্ছে।
সন্ধ্যায় এক এক করে ডাক্তার দেখছেন বাচ্চা একেবারেই নড়ছে না, আমাকে অন্য রুমে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হলো। আধা ঘণ্টা পর আমি বাচ্চার নড়া অনুভব করলাম। গাড়ি চলছে না, তারপর ইউনিভার্সিটি হল থেকে অনেক কষ্টে আপা আসে (বড় বোন)। আমার চারপাশে অনেক লোকজন, সবার অপেক্ষানতুন অতিথি দেখার। ব্যথার কষ্টে চিৎকার দিতেও লজ্জা পাচ্ছি। ডাক্তার আপার হাজবেন্ডও ডাক্তার। ওটিতে নিয়ে গেল। আমার শরীর অর্ধেক অবশ করা হলো। বোধশক্তি নাথাকলেও জ্ঞান আছে। একজন ডাক্তার মাথার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর আস্তে আস্তে কথা বলছে,ওটিতে ৬-৭ জন ছিল। ঘড়ির সময় দেখছি। হঠাৎ একটু বমিভাব হয়, ডাক্তার একটু চিন্তিত হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর আপা বলছে, তোমারএকটা সুস্থ সন্তান হয়েছে। এই বলে নরম কাপড়ে জড়ানো এক নবজাতকের মুখ আমাকে দেখায়। আমি ওর মুখ দেখে আনন্দে আত্মহারা। ওর মুখ দেখে মনে হলো শীতের শেষ রাতে জোছনার আলো এসে শিশিরভেজা ঘাসের ওপর পড়ছে। জোছনার আলোতে যেমন পৃথিবী আলোকিত, তেমনি ওর আলোয় আলোকিত হয়েছে পুরো হাসপাতাল।
পড়তে থাকুন part 2
তুমি নারী না মানবী? রহিমা আক্তার part2
লোকটা আমায় এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। টাকার বিনিময়ে ডাক্তার সব কাজ করে। ওই মুহূর্তে আমার মায়ের ছবি ভেসে আসে চোখে। আর বলি মাতুমি কেন এভাবে আমায় মেরেফেলনি। তখনই চিৎকার দিয়ে ডাক্তারকে বলি ‘ডাক্তার সাহেব আমার মা হওয়ার ক্ষমতা বন্ধ করে দিন, নষ্ট করে দিন। আমি এক পতিতার মা হতে চাই না।’ এই ঘটনার কিছুদিনের মাথায় ওই বাসায় আমাকে নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। আমাকেতাড়িয়ে দেয়ার কথা বলছে। ভাবতে থাকি এই পুরুষজাতি আমার মাঝে যে চাহিদার সৃষ্টি করেছে সেটা তো এখনআমায় কুরে কুরে খাচ্ছে। আমি কোথায় যাব। ঘর থেকে বের হয়ে পড়ি অজানার উদ্দেশে। অলিতে গলিতে ঘুরতে ঘুরতে বিধি যেন আমার পেছন ছাড়তে চায় না।
এক মহিলার সাথে পরিচয় হয়,তিনি তার বাড়িতে নিয়ে যাইআমাকে। সেখানে গিয়ে দেখি সেই বাড়িতে তেমন কোনো লোকনেই। আছে কয়েকজন মহিলা। বাড়ির পরিবেশটাও একটু আলাদা। একদিন পার হতেই বুঝতে পারি এটা একটা পতিতালয়। সকাল-বিকাল সন্ধ্যায় বাইর থেকে নানা বয়সী পুরুষ মানুষ এখানে আসে। যাকে যার পছন্দ হয় তাকে নিয়েই চলে যায় আনন্দসাগরে। আস্তে আস্তে আমিও ওদের একজন হয়ে যাই। শরীরের যৌবনের বিনিময়ে ভালো খাবার ভালো কাপড় সুগন্ধি সাবান শ্যাম্পু ছুটতে থাকে আমার দিকে। গায়ের সুগন্ধি আর যৌবনের সুধা পান করতে ছুটে আসে অনেক তরতাজা যুবক। এখানে কিছুদিন থাকার পর এখানকার লিডার আমাকে সরকার অনুমোদিত এক জায়গায় পাঠায়। এখানে আমি ৩-৪ বছর থাকি। ২ বছরের মাথায় এক লোকের নজরে পড়ি আমি। উনি এখানে প্রায়ই আসত। এসে আমায় ডাকত। বুঝতে পারি অন্যদের চেয়ে সে আমার কাছে আসতে বেশি পছন্দ করে। ওই লোকটার সাথে আমি দেড় বছর এখানে এভাবেই থাকি। এই লোকের জন্য অন্য কেউ আমার কাছে আসতে পারত না। যখন আমার বয়স ২৫ বছর সেই সময়ে এই লোক আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সবদিক চিন্তা করে তাকে বলি আমি কখনো মা হতে পারব না। তারপরও সে আমাকে বিয়ে করেনিয়ে আসে। সন্তান না হওয়ার কথা শুনে বলল আমার সন্তানের প্রয়োজন নেই। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫বছর আমি এই ঘরে আমার স্বামীর ঘরে আছি।
তানিয়া আরো বলতে লাগল জানেন অনেকে অনেক কথা বলেছে আমাকে। আমি কোনো কথার উত্তর দিইনি। আমি জানি বোবার কোনো শত্রু হয়না। এখন আমি বোবার মতো থাকি। আমার খবর জানাজানির পর এক মহিলা নেত্রী এসেছে আমার সাথে কথা বলতে। নেত্রী বলেন আচ্ছা কেন আপনার স্বামী আপনাকে বিয়ে করল, অন্য জায়গায় করলে ভালো হতো না?উত্তরে আমি বলেছি আমার মাঝে অনেক রূপ বা কৌশল আছে সেই রূপে মাতাল হয়ে আমার স্বামী। স্বামী সন্তান চায়নি, চেয়েছে নারী। আমিই তো তার জন্য ঠিক তাই না। এখন আমি বেঁচে আছি। এখন বুঝি বিধিকেন আমায় বাঁচিয়ে রাখলেন। আমাকে নিশ্চয়ই কারো প্রয়োজন ছিল। আর সেইকারণেই অনেক ঘাট পেরিয়ে এখনো বেঁচে আছি, ভালো আছি।
শেষ হয়ে গেল তানিয়ার কথা। সব কথা বলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে খোলা আকাশের দিকে। একবার নাম ধরে ডাকতে সাড়া দেয় না। ২য় ও ৩য়বার ডাক দেয়ার পর সাড়া দিয়ে বলে, আচ্ছা বলবেন কিকেন আমি এখানে এলাম? কেন আমি এমন হলাম? কেন? কেন?
আমি নারী বলে নাকি এই সমাজে নারীর পাশাপাশি পুরুষ আছে বলে। আমি এজজন দেহকর্মী হয়েছি। সমাজে আমার একটাই পরিচয় আমি পতিতা। নারী বলে আমার মাতৃত্বটাকে নষ্ট করতে হয়েছে। কই কোনো পুরুষ তো দেখি না অন্যায়ভাবে সন্তানের জন্ম দিয়ে নিজের পিতৃত্বটাকে নষ্ট করেছে। সৃষ্টির কি অপরূপ খেলা, আমরা মা হব তার প্রমাণ নিয়ে ঘুরতে হবে দশমাস আর কোনো বাবার কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না। সমাজে আমার যেমন প্রয়োজন ছিল একজন পুরুষের, তেমনি পুরুষের প্রয়োজন ছিল আমাকে। আমিই পরিচয় পেলাম পতিতার। কিন্তু তারা তো ভদ্রবেশের লোক। ওদের তো কোনো নাম হয় না।
তানিয়ার প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েও খুঁজে পাইনি। বিদায় বেলায় বলেছি, আমরা গেলাম। যদি কখনো তোমার সাথে আবার আমাদের দেখা হয়সেদিনই আমরা তোমাকে স্যালুট করব। সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে বাস করছি আমরা। তবে কার মাথা কোথায় কতটুকু বিক্রি করে দাঁড়িয়ে আছি জানি না। একটা সন্তানের দায়ভার তার বাবা-মায়ের, একজন নারীর দায়ভার কে বহন করবে? সমাজ যদি বদলে যেতেপারে তাহলে নারীই পারবে তার দায়ভার বহন করতে। তবেআমরা আর ভাসব না জানি, আমরা আর নিজেদের ভাসিয়ে দিতে চাই না। চাই পরিচয়, সত্যিকারের পরিচয়। শুধু তানিয়া না আমাদের সমাজের অনেক তানিয়াই আছে যারা সামান্য সামাজিক বা পারিবারিক সমস্যার মোকাবিলা করতে না পেরে হারিয়ে যায় অজানা পরিচয়ে। আমরা তো মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ হয়ে কেন মানুষের জন্য এমনপরিবেশ করব যে সে সঠিক স্থান থেকে সরে যেতে হবে।
একটা নারী না পুরুষ সেভাবে না নিজেকে ভাবতে হবে মানুষ হিসেবে। দিতে হবে মনুষত্বের প্রমাণ। একটা ঘর সংসার সব জায়গায় প্রয়োজন নারী-পুরুষের তবে তাকে তার প্রাপ্য সমমান কি আমরা দিই। সমাজ তুমি নারীকে নারীরূপে না মায়ের মাটির রূপে দেখ, দেখতে শেখ, নারী যেমন পাবে তার সমমান, আর সমাজ তুমি পাবে তোমার আত্মমর্যাদা।
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
বাস্তব ঘটনা পাবেন , পাবেন জানারমত অনেক কিছু । পড়ুন , জানুন ।পড়তে থাকুন
http://sayedrubel.blogspot.com
update today
Read More
এক মহিলার সাথে পরিচয় হয়,তিনি তার বাড়িতে নিয়ে যাইআমাকে। সেখানে গিয়ে দেখি সেই বাড়িতে তেমন কোনো লোকনেই। আছে কয়েকজন মহিলা। বাড়ির পরিবেশটাও একটু আলাদা। একদিন পার হতেই বুঝতে পারি এটা একটা পতিতালয়। সকাল-বিকাল সন্ধ্যায় বাইর থেকে নানা বয়সী পুরুষ মানুষ এখানে আসে। যাকে যার পছন্দ হয় তাকে নিয়েই চলে যায় আনন্দসাগরে। আস্তে আস্তে আমিও ওদের একজন হয়ে যাই। শরীরের যৌবনের বিনিময়ে ভালো খাবার ভালো কাপড় সুগন্ধি সাবান শ্যাম্পু ছুটতে থাকে আমার দিকে। গায়ের সুগন্ধি আর যৌবনের সুধা পান করতে ছুটে আসে অনেক তরতাজা যুবক। এখানে কিছুদিন থাকার পর এখানকার লিডার আমাকে সরকার অনুমোদিত এক জায়গায় পাঠায়। এখানে আমি ৩-৪ বছর থাকি। ২ বছরের মাথায় এক লোকের নজরে পড়ি আমি। উনি এখানে প্রায়ই আসত। এসে আমায় ডাকত। বুঝতে পারি অন্যদের চেয়ে সে আমার কাছে আসতে বেশি পছন্দ করে। ওই লোকটার সাথে আমি দেড় বছর এখানে এভাবেই থাকি। এই লোকের জন্য অন্য কেউ আমার কাছে আসতে পারত না। যখন আমার বয়স ২৫ বছর সেই সময়ে এই লোক আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সবদিক চিন্তা করে তাকে বলি আমি কখনো মা হতে পারব না। তারপরও সে আমাকে বিয়ে করেনিয়ে আসে। সন্তান না হওয়ার কথা শুনে বলল আমার সন্তানের প্রয়োজন নেই। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫বছর আমি এই ঘরে আমার স্বামীর ঘরে আছি।
তানিয়া আরো বলতে লাগল জানেন অনেকে অনেক কথা বলেছে আমাকে। আমি কোনো কথার উত্তর দিইনি। আমি জানি বোবার কোনো শত্রু হয়না। এখন আমি বোবার মতো থাকি। আমার খবর জানাজানির পর এক মহিলা নেত্রী এসেছে আমার সাথে কথা বলতে। নেত্রী বলেন আচ্ছা কেন আপনার স্বামী আপনাকে বিয়ে করল, অন্য জায়গায় করলে ভালো হতো না?উত্তরে আমি বলেছি আমার মাঝে অনেক রূপ বা কৌশল আছে সেই রূপে মাতাল হয়ে আমার স্বামী। স্বামী সন্তান চায়নি, চেয়েছে নারী। আমিই তো তার জন্য ঠিক তাই না। এখন আমি বেঁচে আছি। এখন বুঝি বিধিকেন আমায় বাঁচিয়ে রাখলেন। আমাকে নিশ্চয়ই কারো প্রয়োজন ছিল। আর সেইকারণেই অনেক ঘাট পেরিয়ে এখনো বেঁচে আছি, ভালো আছি।
শেষ হয়ে গেল তানিয়ার কথা। সব কথা বলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে খোলা আকাশের দিকে। একবার নাম ধরে ডাকতে সাড়া দেয় না। ২য় ও ৩য়বার ডাক দেয়ার পর সাড়া দিয়ে বলে, আচ্ছা বলবেন কিকেন আমি এখানে এলাম? কেন আমি এমন হলাম? কেন? কেন?
আমি নারী বলে নাকি এই সমাজে নারীর পাশাপাশি পুরুষ আছে বলে। আমি এজজন দেহকর্মী হয়েছি। সমাজে আমার একটাই পরিচয় আমি পতিতা। নারী বলে আমার মাতৃত্বটাকে নষ্ট করতে হয়েছে। কই কোনো পুরুষ তো দেখি না অন্যায়ভাবে সন্তানের জন্ম দিয়ে নিজের পিতৃত্বটাকে নষ্ট করেছে। সৃষ্টির কি অপরূপ খেলা, আমরা মা হব তার প্রমাণ নিয়ে ঘুরতে হবে দশমাস আর কোনো বাবার কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না। সমাজে আমার যেমন প্রয়োজন ছিল একজন পুরুষের, তেমনি পুরুষের প্রয়োজন ছিল আমাকে। আমিই পরিচয় পেলাম পতিতার। কিন্তু তারা তো ভদ্রবেশের লোক। ওদের তো কোনো নাম হয় না।
তানিয়ার প্রশ্নের জবাব দিতে চেয়েও খুঁজে পাইনি। বিদায় বেলায় বলেছি, আমরা গেলাম। যদি কখনো তোমার সাথে আবার আমাদের দেখা হয়সেদিনই আমরা তোমাকে স্যালুট করব। সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে বাস করছি আমরা। তবে কার মাথা কোথায় কতটুকু বিক্রি করে দাঁড়িয়ে আছি জানি না। একটা সন্তানের দায়ভার তার বাবা-মায়ের, একজন নারীর দায়ভার কে বহন করবে? সমাজ যদি বদলে যেতেপারে তাহলে নারীই পারবে তার দায়ভার বহন করতে। তবেআমরা আর ভাসব না জানি, আমরা আর নিজেদের ভাসিয়ে দিতে চাই না। চাই পরিচয়, সত্যিকারের পরিচয়। শুধু তানিয়া না আমাদের সমাজের অনেক তানিয়াই আছে যারা সামান্য সামাজিক বা পারিবারিক সমস্যার মোকাবিলা করতে না পেরে হারিয়ে যায় অজানা পরিচয়ে। আমরা তো মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ হয়ে কেন মানুষের জন্য এমনপরিবেশ করব যে সে সঠিক স্থান থেকে সরে যেতে হবে।
একটা নারী না পুরুষ সেভাবে না নিজেকে ভাবতে হবে মানুষ হিসেবে। দিতে হবে মনুষত্বের প্রমাণ। একটা ঘর সংসার সব জায়গায় প্রয়োজন নারী-পুরুষের তবে তাকে তার প্রাপ্য সমমান কি আমরা দিই। সমাজ তুমি নারীকে নারীরূপে না মায়ের মাটির রূপে দেখ, দেখতে শেখ, নারী যেমন পাবে তার সমমান, আর সমাজ তুমি পাবে তোমার আত্মমর্যাদা।
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
বাস্তব ঘটনা পাবেন , পাবেন জানারমত অনেক কিছু । পড়ুন , জানুন ।পড়তে থাকুন
http://sayedrubel.blogspot.com
update today
তুমি নারী না মানবী? রহিমা আক্তার part1
মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে তানিয়া। বয়স ৪-৫ বছর। ঘরেমা-বাবা আর তানিয়া। যেখানে নেই কোনো অভাব, নেই কোনো গণ্ডগোল, নেই কোনো ঝগড়াঝাঁটি। সবকিছুইচলছে তার সৃষ্টির নিয়মেই। আমরা বলি ‘বিধির লিখন কখনো খণ্ডানো যায় না।’ আসলে কি তাই। বিধি কি তানিয়ার ভাগ্যে তাই লিখেছিল সে একদিন হবে সমাজের বা স্বাধীন বাংলাদেশের এক দেহকর্মী।৪-৫ বছরের তানিয়া ছিল বাবা-মায়ের স্বপ্ন। ছোট সেই শিশু বয়স, যেন সব সময় ঘুরতে খেলতে আর আনন্দে থাকতে চায়। সে তো জানত নাতার বিধি কী লিখেছিল। যদিজানত তাহলে হয়তো গর্ভধারিণী মাকে বলত মা তুমি সন্তানের জননী হয়ো না। মা তুমি আমার জননী হয়ো না। কিন্তু অবুঝ তানিয়া পারেনি কাউকে কিছু বলতে। তবে মানুষ হয়েনা, একদিন নারী হয়ে তানিয়া বলেছে, ডাক্তার সাহেব আমার মা হওয়ার ক্ষমতা বন্ধ করে দিন। আমিমা হতে চাই না, আরেকটি দেহকর্মীর মা হতে চাই না।নিজের জীবনের কলুষিত দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে একবারও বুক কাঁপেনি বা চোখে লজ্জা আসেনি তানিয়ার। সব শেষে তানিয়া বলেছে জানেন মানুষ বলে আমরা দেহকর্মী। কই কোনো পুরুষকে তো বলা হয় না দেহকর্মী। তখন তানিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছি, না তুমি দেহকর্মী না তুমি হলে আমার দেখা এক রক্তকরবী। আজ আমি দাঁড়িয়ে তোমায় স্যালুট করি। তুমি আছ বলে তোমরা আছ বলে এই সমাজে আমরা ভদ্র নারীরূপে বেঁচে আছি। তোমরা আছ বলে সমাজেরকিছু হাতে গোনা নরপশুর হাত থেকে আমরা বেঁচে আছি।জানি আমাদের এই সমাজ তোমাদের পুরস্কৃত করবে না, তোমাদের আমরা স্যালুটকরি। তোমরা তো একেক বার একেকরূপে আমজনতার সামনে, তবে এইরূপ অন্যকে ধোঁকা দেয়ার জন্য নয়। অন্যের কামনা আর লালসা মেটানোর জন্য। এই বলতে বলতে তানিয়াকে বলি, তুমি কি আজআমায় বলবে তোমার সব কথা। যদি সবটুকু বলতে পার তাহলে বলবে, না হয় না। নিজের ভেতরের রাগ, জেদ, হিংসা, কলুষতাকে ধরে রেখেচুপ থাকতে পারেনি তানিয়া। অনর্গল বলতে শুরু করল। শুরুতে বলে আপাসবটুকু শুনতে পারবেন তো। নাকি ওদের মতো আপনি আমাকেমাঝনদীতে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যাবেন। তখন তানিয়াকে বলি আজই প্রমাণ হবে আমরা কে আর ওরা কারা?
তানিয়ার কথা ঃ ৫ বছর বয়সেআমার মা মারা যায়। মায়ের মৃত্যুর পর প্রায় ২ মাস পর বাবা বিয়ে করে. তখন কিছুই বুঝতাম না। আনন্দেই ছিলাম ঘরে নতুন মা এসেছে। বাবা আমায় ভালোবাসে, আমার জন্য নতুনমাকে ঘরে এনেছে। কিন্তু তখন ভাবনায় একবারও আসেনি আমার বাবা একজন পুরুষ, উনার একটা নারীর প্রয়োজন। বছর ঘুরতে ঘুরতে ২টা বাচ্চা আসে নতুন মায়ের কোলে।। বছর ঘুরতে ঘুরতে ২টা বাচ্চা আসে নতুন মায়ের কোলে। আমাদের পরিবারে খাবার-দাবারের কোনো অভাব ছিল না। তখন বুঝতে পারিনি সংসারে আমার মমতার অভাব হবে। ছোটভাইবোনদের দেখাশোনার জন্য আমার পড়ালেখা হয় না।এভাবে যেতে যেতে এখন আমারবয়স ১০ হলো। বাবা তার বৌ বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমি আছি বেঁচে আছি এরপর আর কিছু জানতে চায় না কখনো আমার জন্মদাতা পিতা। কিছু হলেই নতুন মা আমার গায়ে হাত উঠাত। বাবাকে বলতে গিয়েও বাধা পেয়ে বলার সাহস পাইনি। ২-১ বার বলে কোনো ফায়দা উদ্ধার করতে পারিনি। এবার শুনুন আমার নির্বাসিত সেই দিনটির কথা। সকালবেলায় রান্নাঘরে ঢুকে দেখি বিড়াল পাতিল থেকে দুধ খাচ্ছে। ভাবলাম বিড়াল দুধ খেয়েছে এখানে তো আমারকোনো দোষ নেই। আমি তো আর খাইনি। একটু পরে নতুন মা ছোট ভা বোনদের জন্য দুধ নিতে আসে, আমি বলি মা দুধ নেবেন না, ওটাতে বিড়াল মুখ দিয়েছে। নয় বছরের এক বাচ্চা আমি, ভেতরে ছিল নাকোনো খারাপ। ভাবলাম বেড়ালের মুখের দুধ ওরা খাবে কেন? নতুন মাকে বলারসাথে সাথে হঠাৎ শুরু হলো একটা কালবৈশাখী ঝড়। হাতের কাছে যা পেল তাই দিয়ে আমাকে মারতে লাগল। মার খেতে খেতে নিস্তেজ শরীরটা মাটিতে নুয়ে পড়ল। একটু পর মনে হলো আমার দোষটা কোথায়? হাজার বার নিজেকে প্রশ্ন করে কোনো উত্তর পেলাম না। তখনই সিদ্ধান্ত নিই আমি বেঁচে থাকব না। বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানেন এখন ভাবি আমার বেঁচে থাকার দরকার ছিল। সমাজের কিছু পুরুষের জন্য আমার বেঁচে থাকার দরকার ছিল।’ এই বলতে বলতে তানিয়ার চোখের কোণায় পানি জমে। হাতের রুমাল দিয়ে চোখ মুছে দিয়েবলি, না, তানিয়া তুমি কাঁদবে না। কাঁদলে হয় তুমি না হয় আমি যেকোনো একজন আজ হারিয়ে যাব। আমরাহারব না, হারতে আমরা আসিনি, আমরা এসেছি জিততে।কিছু ছবি তুলে ধরতে, আর আমরা এসেছি সমাজের বুকের কিছু কলঙ্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটাতে। বল তানিয়া তুমি বলতে থাক।
আবার বলতে লাগল তানিয়া-নিস্তেজ শরীরটাকে উঠিয়ে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ডান বাম কোনো দিকে না সামনের দিকে। অন্যদিকে তাকানোর খুব একটা প্রয়োজনও হয়নি, কেউ ডাকেনি আমায়। কেউ বলেনি কোথায় যাস, সামনে ফিরে আয়, সোনা মা ফিরে আয়,আর মারব না তোকে। হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তার মাঝে যাই। দূর থেকে দেখছি একটাট্রাক আসছে ওই ট্রাকটাকে লক্ষ করেই হেঁটে যাচ্ছি। তারপর কী হলো বলতে পারব না। চোখ খুলে দেখি আমি সরকারি একটা হাসপাতালে। হাতে পায়ে হালকা ব্যান্ডেজ করা।
চোখ খুলেবললাম কী হলো? লোকটি বলল তুমি আমার ট্রাকের নিচে পড়েছ অল্পের জন্য বেঁচে গেলে। আরেকটু হলে অনেক বিপদ হতে পারত। এবার বলো কোথায় যাবে? তখনি মনে পড়েবাড়ির অত্যাচারের কথা। নতুন মায়ের আর জন্মদাতার অবহেলার কথা। সেই ভেবেই বলি আমার বাড়ি কোথায় জানিনা। তারপর লোকটি ওই ট্রাকে করে আমায় নিয়ে যায়তার বাড়িতে। লোকটির নাম লিয়াকত। বাড়িতে তার বৌ বাচ্চারা আছে। আমাকে ওদের সাথে থাকতে বলে। মাঝেমধ্যে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে বলে নিয়ে যেতেচাইত। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা আমি না বলাতে নিতেপারত না। এদিকে আমি ওদের পরিবারের একজন হয়ে যাই। ওই বাড়িতে আমি অনেক কাজ করতাম। একদিন আমাকে বলে আমার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। এই বলে আমায় নিয়েযায়। পথে লিয়াকত বেটা আমার গায়ে হাত দেয় এবং আমার সাথে অন্য রকম ব্যবহার করে। এরপর কাউকে বলতে নিষেধ করে। তারপর থেকে মাঝে মাঝে লোকটি আমার সাথে বিভিন্ন কাজ করত। সবগুলো কাজ যে একদম বুঝতে পারিনি তা নয়। এটা বুঝলাম লোকটা আমার থেকে অনেক কিছু চায়। কিন্তু তখন আমার বয়স মাত্র ১০-১১বছর। প্রায়ই ঘরে বলতাম আমার শরীর ব্যথা করে, আমার শরীর খারাপ লাগে তখনলোকটা আমায় ওষুধ এনে দিত।তবে ভয় দেখিয়ে বলত বাসায় যেন কাউকে আমি না বলি।আরো
পড়তে থাকুন
part 2
Read More
তানিয়ার কথা ঃ ৫ বছর বয়সেআমার মা মারা যায়। মায়ের মৃত্যুর পর প্রায় ২ মাস পর বাবা বিয়ে করে. তখন কিছুই বুঝতাম না। আনন্দেই ছিলাম ঘরে নতুন মা এসেছে। বাবা আমায় ভালোবাসে, আমার জন্য নতুনমাকে ঘরে এনেছে। কিন্তু তখন ভাবনায় একবারও আসেনি আমার বাবা একজন পুরুষ, উনার একটা নারীর প্রয়োজন। বছর ঘুরতে ঘুরতে ২টা বাচ্চা আসে নতুন মায়ের কোলে।। বছর ঘুরতে ঘুরতে ২টা বাচ্চা আসে নতুন মায়ের কোলে। আমাদের পরিবারে খাবার-দাবারের কোনো অভাব ছিল না। তখন বুঝতে পারিনি সংসারে আমার মমতার অভাব হবে। ছোটভাইবোনদের দেখাশোনার জন্য আমার পড়ালেখা হয় না।এভাবে যেতে যেতে এখন আমারবয়স ১০ হলো। বাবা তার বৌ বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমি আছি বেঁচে আছি এরপর আর কিছু জানতে চায় না কখনো আমার জন্মদাতা পিতা। কিছু হলেই নতুন মা আমার গায়ে হাত উঠাত। বাবাকে বলতে গিয়েও বাধা পেয়ে বলার সাহস পাইনি। ২-১ বার বলে কোনো ফায়দা উদ্ধার করতে পারিনি। এবার শুনুন আমার নির্বাসিত সেই দিনটির কথা। সকালবেলায় রান্নাঘরে ঢুকে দেখি বিড়াল পাতিল থেকে দুধ খাচ্ছে। ভাবলাম বিড়াল দুধ খেয়েছে এখানে তো আমারকোনো দোষ নেই। আমি তো আর খাইনি। একটু পরে নতুন মা ছোট ভা বোনদের জন্য দুধ নিতে আসে, আমি বলি মা দুধ নেবেন না, ওটাতে বিড়াল মুখ দিয়েছে। নয় বছরের এক বাচ্চা আমি, ভেতরে ছিল নাকোনো খারাপ। ভাবলাম বেড়ালের মুখের দুধ ওরা খাবে কেন? নতুন মাকে বলারসাথে সাথে হঠাৎ শুরু হলো একটা কালবৈশাখী ঝড়। হাতের কাছে যা পেল তাই দিয়ে আমাকে মারতে লাগল। মার খেতে খেতে নিস্তেজ শরীরটা মাটিতে নুয়ে পড়ল। একটু পর মনে হলো আমার দোষটা কোথায়? হাজার বার নিজেকে প্রশ্ন করে কোনো উত্তর পেলাম না। তখনই সিদ্ধান্ত নিই আমি বেঁচে থাকব না। বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু জানেন এখন ভাবি আমার বেঁচে থাকার দরকার ছিল। সমাজের কিছু পুরুষের জন্য আমার বেঁচে থাকার দরকার ছিল।’ এই বলতে বলতে তানিয়ার চোখের কোণায় পানি জমে। হাতের রুমাল দিয়ে চোখ মুছে দিয়েবলি, না, তানিয়া তুমি কাঁদবে না। কাঁদলে হয় তুমি না হয় আমি যেকোনো একজন আজ হারিয়ে যাব। আমরাহারব না, হারতে আমরা আসিনি, আমরা এসেছি জিততে।কিছু ছবি তুলে ধরতে, আর আমরা এসেছি সমাজের বুকের কিছু কলঙ্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটাতে। বল তানিয়া তুমি বলতে থাক।
আবার বলতে লাগল তানিয়া-নিস্তেজ শরীরটাকে উঠিয়ে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ডান বাম কোনো দিকে না সামনের দিকে। অন্যদিকে তাকানোর খুব একটা প্রয়োজনও হয়নি, কেউ ডাকেনি আমায়। কেউ বলেনি কোথায় যাস, সামনে ফিরে আয়, সোনা মা ফিরে আয়,আর মারব না তোকে। হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তার মাঝে যাই। দূর থেকে দেখছি একটাট্রাক আসছে ওই ট্রাকটাকে লক্ষ করেই হেঁটে যাচ্ছি। তারপর কী হলো বলতে পারব না। চোখ খুলে দেখি আমি সরকারি একটা হাসপাতালে। হাতে পায়ে হালকা ব্যান্ডেজ করা।
চোখ খুলেবললাম কী হলো? লোকটি বলল তুমি আমার ট্রাকের নিচে পড়েছ অল্পের জন্য বেঁচে গেলে। আরেকটু হলে অনেক বিপদ হতে পারত। এবার বলো কোথায় যাবে? তখনি মনে পড়েবাড়ির অত্যাচারের কথা। নতুন মায়ের আর জন্মদাতার অবহেলার কথা। সেই ভেবেই বলি আমার বাড়ি কোথায় জানিনা। তারপর লোকটি ওই ট্রাকে করে আমায় নিয়ে যায়তার বাড়িতে। লোকটির নাম লিয়াকত। বাড়িতে তার বৌ বাচ্চারা আছে। আমাকে ওদের সাথে থাকতে বলে। মাঝেমধ্যে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে বলে নিয়ে যেতেচাইত। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা আমি না বলাতে নিতেপারত না। এদিকে আমি ওদের পরিবারের একজন হয়ে যাই। ওই বাড়িতে আমি অনেক কাজ করতাম। একদিন আমাকে বলে আমার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। এই বলে আমায় নিয়েযায়। পথে লিয়াকত বেটা আমার গায়ে হাত দেয় এবং আমার সাথে অন্য রকম ব্যবহার করে। এরপর কাউকে বলতে নিষেধ করে। তারপর থেকে মাঝে মাঝে লোকটি আমার সাথে বিভিন্ন কাজ করত। সবগুলো কাজ যে একদম বুঝতে পারিনি তা নয়। এটা বুঝলাম লোকটা আমার থেকে অনেক কিছু চায়। কিন্তু তখন আমার বয়স মাত্র ১০-১১বছর। প্রায়ই ঘরে বলতাম আমার শরীর ব্যথা করে, আমার শরীর খারাপ লাগে তখনলোকটা আমায় ওষুধ এনে দিত।তবে ভয় দেখিয়ে বলত বাসায় যেন কাউকে আমি না বলি।আরো
পড়তে থাকুন
part 2
বাংলাদেশে নি:সন্তান দম্পতিরা টেস্টটিউবের মাধ্যমে সন্তান লাভ করতে পারবেন page 2
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক রাশিদা বেগম বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চার বছরে ১০০ টেস্টটিউববেবির জন্ম হয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতির মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী প্রায় এক মিলিয়ন শিশুর জন্ম হয়েছে। এটি বেশ ব্যয়বহুল বলে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে কম। তিনি আরও বলেন, সন্তান না থাকায় বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামে প্রথম বছরের মধ্যে যদি একটা সন্তান না হয় তাহলে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে। সন্তান না হওয়ায় তারা বিয়ের একটা ইস্যু পেয়ে যায়। স্কয়ার হাসপাতালের এমব্রায়োলজিস্ট ডা. সায়লা সিরাজবলেন, আইভিএফের সফলতার হার বাংলাদেশে শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ। বিদেশে এই হার শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ। ভ্রূণ স্ত্রীর জরায়ুতে স্খাপন করার আগ পর্যন্ত কৃত্রিমপদ্ধতি। স্খাপন করার পর স্ত্রীরস্বাভাবিক গর্ভধারণের যেমন অনুভব করেন টেস্টটিউব বেবি নিলেও তেমনি অনুভব করেন। এতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। নিপোর্টের বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক হেলথ সার্ভে ২০০৭ রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০ বছরের আগেই শতকরা ২৩ ভাগ নারীসন্তানধারণে সক্ষম থাকেন, ২০ বছরে সন্তানধারণে সক্ষম থাকেন শতকরা ৫৫ ভাগ নারী এবং ৩০ বছর বাতার পরে সন্তানধারণে সক্ষম থাকেন প্রায় এক পঞ্চমাংশ নারী। এমব্রায়োলজিস্ট ডা. সায়লা সিরাজবলেন, বাংলাদেশে নারী-পুরুষ দু’জনের ক্ষেত্রেই বিয়ের আইনগত বয়স বেড়েছে। বিয়ের পরে সংসারে একটু সচ্ছলতা আনতে দেরিতে সন্তান নিচ্ছে। ফলে দম্পত্তিদের ইনফার্টাইল হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখছে। দিন দিন এ অবস্খা বাড়ছে। ফলে এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। ডা. মরিয়ম ফারুকী স্বাতী আরও বলেন, বাংলাদেশে সামাজিদ, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় প্রথা ও নীতিতে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া সন্তানধারণ গ্রহণযোগ্য নয়। সন্তানাকাáক্ষী দম্পতি সব রকম টেস্ট করলেও কখনও তৃতীয় কারও মাধ্যমে সন্তান নেয়ার কথা ভাবতেপারে না। শুক্রাণু সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়ায় ঝুঁকির আশঙ্কা থেকে যায়। আমার স্বাম-স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় একই সময়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে সংরক্ষণ করি। আর খুব অল্প রোগী নিয়ে থাকি। ফলে একজন দম্পতির জন্য আমাদের হাতে অনেক সময় থাকে। আমরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত সাবধান থাকি। ফলে ঝুঁকির সম্ভবনা কম থাকে।
Read More
বাংলাদেশে নি:সন্তান দম্পতিরা টেস্টটিউবের মাধ্যমে সন্তান লাভ করতে পারবেন page 1
কুমিল্লার দম্পতি সোহেল (৩৪) ও তানিয়ার (২৬) বিয়ে হয়েছে প্রায় ছয় বছর। বিয়ের পাঁচ বছরেও কোন সন্তান হয়নি তাদের যার সবটুকু দায়ভার এসে পড়ে তানিয়ার ওপর। দিনরাত শ্বশুরবাড়ির নানা গঞ্জনা পোহাতে হতো তাকে। সোহেলের মাও ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তারা প্রথমে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারলেন সোহেলের কিছু শারীরিক সমস্যার কথা। তখনই জানতে পারলেন‘টেস্টটিউব বেবি’ সম্পর্কে। চিকিৎসক তাকে পাঠালেন স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারে, যেখানে সোহেলের মতো আরও অনেকে তাদের শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা পেয়ে সন্তান লাভ করেছেন। তানিয়া জানালেন, মানুষ কিছুতেই বুঝতে চায় না যে সন্তান হওয়া না হওয়ার ব্যাপারটিতে কোন নারী এককভাবে দায়ী হতে পারেন না। নি:সন্তান হওয়ায় মানুষের কাছে অপয়া অপবাদও শুনতে হয়েছে আমাকে। মিরপুরের মেহেদী (৩৮) ও বন্যার (৩৩) বিয়ে হয়েছে প্রায় আট বছর। মেহেদী একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। বন্যা টিউশনি করে কিছু আয় রোজগার করলেও তার সংসারের খরচেই চলে যায়। তবে নিজেদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ার কারণে দিনগুলো সুখেই কাটছে তাদের। তারপরও আত্মীয়স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীদের একটাই কথা এতগুলো বছর বিয়ে হয়েছে অথচ একটা সন্তান হলো না। চিকিৎসা করতে গিয়ে তারা জেনেছেন, তাদের শারীরিক কিছু সমস্যা আছে। তবে ‘টেস্টটিউব বেবি’র মাধ্যমে তারা তাদের এ আশা পূরণ করতে পারেন। তারা এটাও জেনেছেন, এ ব্যাপারটি খুবই ব্যয়বহুল যা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা চিকিৎসা স্খগিত রেখেছে। ঢাকার বঙ্গবু শেখ মুজিব মেডিকেলকলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুলতানা জাহান জানালেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে হাজারও সামাজিক কুসংস্কার অজ্ঞতার রেড়াজালে সন্তানহীন দম্পত্তি কী যে অসহায়অবস্খায় জীবনযাপন করে তা বলে বোঝানো যাবে না। সামাজিক, পারিবারিক, দাম্পত্য পুরো জীবনটাই থাকে বিপর্যস্ত। আর যা হয়, পুরো দোষটাই পড়ে মেয়েটার ওপর। যদিও ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষদের অক্ষমতাই দায়ী।একটি সন্তানের স্বপ্ন থাকে প্রত্যেক দম্পতিরই। তবু শারীরিক সীমাবদ্ধতা অনেক দম্পতিরই স্বপ্ন ছুঁতে দেয় না। সৃষ্টি করে জটিলতা, প্রতিবকতা। ইে প্রতিবকতা উত্তরণে বু হয়ে এলো বিজ্ঞান। আবিষ্কৃত হলো টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি। আইভিএপ (ইন-ভাইট্রোফার্টিলাইজেশন) পদ্ধতির মাধ্যমে টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয়। আশির দশকের বেশভাবে আবিষ্কৃত হওয়া এই প্রযুক্তির বাংলাদেশে আগমন ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টটিউব বেবি হীরা, মণি ও মুক্তার জন্ম হয়। হোপ ইনফার্টিলিটি সেন্টারের এমব্রায়েলজিস্ট এবং বঙ্গবু শেষ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েরক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের কনসালটেন্ট প্যাথলজিস্ট ডা. কামরুন নেছা বাণী বলেন, সবচেয়ে উন্নতর চিকিৎসা হলো আইভিএফ পদ্ধতি। এই চিকিৎসায় ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু শরীরের বাইরে গবেষণাগারে সংগৃহীত করে তাকে উর্বর করে ভ্রূণ তৈরি করে জরায়ুর মধ্যে স্খানান্তর করা হয়। স্কয়ার হাসপাতালের ফার্টিলিটি সেন্টারের ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞডা. জাকিউর রহমান বলেন, সন্তানহীনতা একটি বড় ধরনের সমস্যা। সন্তানহীনতা বলতে সন্তানধারণ ক্ষমতাকে দুর্বল বা নষ্ট থাকাকে বোঝায়। একজন দম্পত্তির কাছে সন্তানহীনতার মতো কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।একজন দম্পতি সফল গর্ভধারণে সক্ষম হতে পারে কি না তা বহুভাবেনির্ধারণ করা যায়। আনুমানিকভাবে কারণগুলোর মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগ নারী সম্পর্কিত, শতকরা ৪০ ভাগ পুরুষ সম্পর্কিত এবং শতকরা ২০ ভাগ উভয় সঙ্গীর সমস্যা রয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রয়োজন। গত ১০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি ৮ জন দম্পতির মধ্যে একজন দম্পতি নি:সন্তান হয়ে থাকেন। জানালেন হোপ ইনফার্টিলিটি সেন্টারের ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. মরিয়ম ফারুকী স্বাতী। এর কারণ হিসেবে অস্বাভাবিক শুক্রাণু, অনিয়মিত ডিম্বাণু, ইন্ডোমেট্রেসিস, অবর্ণনীয় বাত্বইত্যাদির কথা বললেন তিনি। এমআর (মিনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন) এর ফলেটিউব অনেক সময় ব্লক হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি জানালেন। তিনি আরও বলেন, ইনফার্টিলিটি সেন্টারে সব পদ্ধতি যদি ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে টেস্টটিউব বেবির কথা বলা হয়। প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ দম্পতিই টেস্টটিউব বেবি লাগে না। বাকি শতকরা ২০ ভাগ দম্পতির জন্য টেস্টটিউব বেবির প্রয়োজন হয়।ইউনাইটেড নেশন্স পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ) ২০০৫ সালে একটি পর্যবেক্ষণে দেখিয়েছে, ভারতে ৪-১০ লাখের বেশি ব্যা দম্পতি আছেন। দুর্ভাগ্যবশত সবার মধ্যে সাধারণ বিশ্বাস যে তারা স্ত্রীরকারণে সন্তানহীন। কিন্তু স্বামীর ব্যাত্বের কারণেও এমনটি ঘটে। এর ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটে। ডা. জাকিউর রহমান আরও বলেন, টেস্টটিউব বেবি চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা এতে ব্যয় হয়। তবে সবাইকে সেই পর্যায় পর্যন্ত যেতেহয় না। কারও কারও অল্প চিকিৎসাতেই সন্তান লাভ হয়। চিকিৎসার ব্যাপারটি বিভিন্ন জনে বিভিন্ন রকম হতে পারে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে চিকিৎসার ব্যয়টি বেশি। স্কয়ার হাসপাতালের ইনফার্টিরিটি সেন্টারে রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার ডা. সাহানা সুলতানা বলেন, সিঙ্গাপুরথেকে একটা টিম এসে আইভিএফ করে যায়। এতে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লেগে যায়। এদেশে ফার্টিলিটি বিষয়ে কোন ট্রেনিং চালু হয়নি। এটা চালু হওয়া খুব প্রয়োজন। হাতেগোনা যে ক’জন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ আছেন তারা বিদেশ থেকে এ বিষয়ে ট্রেনিং বা কোর্স করে এসেছেন। যদি আমাদের দেশেও এরকম ট্রেনিং চালু করা যায় তবে আমাদের আর বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হবে না এবং দেশের টাকা দেশেই থাকবে। মিডিয়াও এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। আরো পড়ুন বাংলাদেশে নি:সন্তান দম্পতিরা টেস্টটিউবের মাধ্যমে সন্তান লাভ করতে পারবেন page 2
Read More
সন্তান জন্মদানে অক্ষম নারীদের জন্য এবার কৃত্রিম ডিম্বাশয়
মার্কিন বিজ্ঞানীরা প্রথমবারেরমতো কৃত্রিম ডিম্বাশয় তৈরি করতেসক্ষম হয়েছেন। এর ফলে সন্তান নিতে অক্ষম নারীরা এবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ অভুতপূর্ব আবিষ্কারের ফলে কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার কারণে প্রজনন তন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সন্তান জন্মদানে অক্ষমহয়ে পড়েছেন এমন নারীদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। সন্তান জন্ম দানে উপযুক্ত বয়সেরএকজন নারীর সেল ব্যবহার করে গবেষণাগারেই এ কৃত্রিম ডিম্বাশয় তৈরি করা হয়। এরপর গর্ভাশয়ে মানব ডিম্বাণু প্রবেশ করানোর আগে সেটি ওই কৃত্রিম ডিম্বাশয়ে ঢুকিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, তাতে ডিম্বাণুটি টিকে থাকতে সক্ষম কি না।
কৃত্রিম ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু ঢোকানোর পর বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রাকৃতিক ডিম্বাশয়ের মতোই তাতে ডিম্বাণুটি বেড়ে উঠছে। এ কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মধ্যেই ডিম্বাণুটি গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করার পূর্ব-পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড জেনেটিকস-এ প্রকাশিত গবেষণাতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তাদের এ আবিষ্কারের ফলে ক্যান্সার চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার নারী এবার মা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবেন। কেমোথেরাপি নেয়ার আগে নারীরা তাদের অপরিণত ডিম্বাণু হিমায়িত রেখে পরবর্তীতে কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মাধ্যমে তারা ইচ্ছা করলে মা হতে পারেন। রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কোন কোন নারী সন্তান ধারণ করতে গিয়ে নানা জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার কারণ এবার তারা এ কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মাধ্যমে বের করতে সক্ষম হবেন।
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More
কৃত্রিম ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু ঢোকানোর পর বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রাকৃতিক ডিম্বাশয়ের মতোই তাতে ডিম্বাণুটি বেড়ে উঠছে। এ কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মধ্যেই ডিম্বাণুটি গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করার পূর্ব-পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড জেনেটিকস-এ প্রকাশিত গবেষণাতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তাদের এ আবিষ্কারের ফলে ক্যান্সার চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার নারী এবার মা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবেন। কেমোথেরাপি নেয়ার আগে নারীরা তাদের অপরিণত ডিম্বাণু হিমায়িত রেখে পরবর্তীতে কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মাধ্যমে তারা ইচ্ছা করলে মা হতে পারেন। রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কোন কোন নারী সন্তান ধারণ করতে গিয়ে নানা জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার কারণ এবার তারা এ কৃত্রিম ডিম্বাশয়ের মাধ্যমে বের করতে সক্ষম হবেন।
www.facebook.com/sayed.rubel3
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি
(
Atom
)

