সাধারণ স্বাস্থ্যকথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাধারণ স্বাস্থ্যকথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এক্স-রের জানা-অজানা .

এক্স-রে কী?
সহজভাবে এক্স-রে হচ্ছে একধরনের
কৃত্রিমভাবে তৈরি তেজস্ক্রিয় রশ্মি,
যা দিয়ে মানবদেহের বিভিন্ন পরীক্ষা-
নিরীক্ষা এবং স্থানভেদে চিকিৎসাও
প্রদান করা হয়।
এটি রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত।
১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিদ
ডব্লিউ সি রোয়েন্টজেন
এটি আবিষ্কার করেন।
এক্স-রের মাত্রা
রেগুলেশন ১৯৯৯
অনুযায়ী যেকোনো সাধারণ মানুষের
ক্ষেত্রে এ মাত্রা সারা বছরে এক
মিলি সিভার্টের অনধিক। তবে যত কম
তেজস্ক্রিয় বিকিরণের
কাছে যাওয়া যায় ততই মঙ্গল।
এক্স-রে কি ক্ষতিকর?
অবশ্যই। যদিও শরীর অল্পদিনের
মাঝেই সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। তবে কিছু
কিছু ক্ষেত্রে এটি অপূরণীয়।
এতে শরীরের স্থায়ী কোষ নষ্ট
হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, মাত্র
একটি এক্স-রে কণা একটি মূল্যবান
কোষ ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট।
তবে সবসময় সবারই যে একই রকম
ক্ষতি হবে বা হবেই
বা এটা তর্কসাপেক্ষ।
এর ফলাফল কি?
যদি মানব ভ্রূণ সৃষ্টির শুরুতে কোন
কোষ নষ্ট হয়, এর প্রভাব ওই শিশুটির
ওপর পড়তে পারে। শিশুটি বিকলাঙ্গ
হয়ে জন্ম
নিতে পারে অথবা হতে পারে মানসিক
প্রতিবন্ধি। আবার
কারণে অকারণে বারবার এক্স-
রে করালে শরীরের জনন কোষগুলোর
(শুক্রাশয় বা ডিম্বাশয়) ওপর এর
প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রজনন
ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। দীর্ঘদিন
ধরে যারা এক্স-রের সংস্পর্শে থাকেন
বা থাকবেন তাদের ত্বকের ক্যানসার,
লিউকোমিয়া, চোখে ছানি পড়া, খাদ্য
নালীর ক্যানসার ইত্যাদি হওয়ার
সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।
তাহলে কি এক্স-রে করা যাবে না?
অবশ্যই যাবে। এটি একটি অল্প
খরচে ও স্বল্প সময়ে অতি প্রয়োজনীয়
একটি পরীক্ষা। উন্নত বিশ্বে যে কেউ
ইচ্ছে করলেই এক্স-
রে পরীক্ষা লিখতে বা করাতে পারে না।
এ ক্ষমতা সেখানে নির্দিষ্ট কিছু
ডাক্তারের হাতে থাকে। আমাদের
দেশে যত্রতত্র এর ব্যবহার হয়ে থাকে,
তাই আমরা যদি একটু সচেতন হই
তাহলে অনেকাংশে-এর খারাপ
প্রতিক্রিয়া থেকে নিজেদের
রক্ষা করতে পারব।
মো. ফরহাদ হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, রেডিওলজি ও
ইমেজিং বিভাগ
সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও
হাসপাতাল, সিলেট।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
পরোক্ষ ধূমপানের কুফল
পরোক্ষ ধূমপান কী?
সহজ কথায় ধূমপানরত ব্যক্তির বিড়ি-
সিগারেটের ধোঁয়া দ্বিতীয়
ব্যক্তি গ্রহণ করলে সেটাকে পরোক্ষ
ধূমপান বলা হয়।
এটা দুভাবে আসতে পারে, ধূমপানরত
ব্যক্তির জ্বলন্ত
বিড়ি কিংবা সিগারেটের পাশ
থেকে নির্গত
ধোঁয়া কিংবা ধূমপায়ী ধোঁয়া গ্রহণের পর
নিঃশ্বাসের সঙ্গে পরিত্যক্ত ধোঁয়া।
বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশের পাশ
থেকে নির্গত
ধোঁয়া দিয়ে কোনো একটি কক্ষের মোট
ধোঁয়ার ৮৫ শতাংশ ভরে থাকে।
তামাকের ধোঁয়ায় কী থাকে?
তামাকের ধোঁয়ায় চার হাজারের
বেশি উপাদান থাকে। এগুলোর
মধ্যে যেসব কণা রয়েছে তা হলো—
আলকাতরা, নিকোটিন, বেনজিন ও
বেনজোপাইরিন। আর গ্যাসীয়
উপাদানগুলো রয়েছে কার্বন
মনোক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ডাই-মিথাইল
নাইট্রোস অ্যামাইন, ফরমালডিহাইড,
হাইড্রোজেন সায়ানাইড ও
অ্যাক্রোলিন। এক হিসাবে দেখা যায়,
তামাকের ধোঁয়ায় অন্তত ৬০ রকমের
উপাদান রয়েছে, যেগুলো ক্যানসার
সৃষ্টি করতে পারে। আর শ্বাসনালির
জন্য উত্তেজক যে কত উপাদান
রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ
সুরক্ষা সংস্থা (Enviৎonment
pৎotection agency) তামাকের
ধোঁয়াকে অ্যাসবেস্টস
এবং আর্সেনিকের মতোই প্রথম
শ্রেণীর ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান
হিসেবে গণ্য করে।
পরোক্ষ ধূমপায়ীর কী ক্ষতি হয়?
অন্যের ধোঁয়া পান করলে চোখ
জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, গলাব্যথা,
বমি বমি ভাব ইত্যাদি হয়। ৩০ মিনিট
পরোক্ষ ধূমপান করলে হূৎপিণ্ডের মধ্য
দিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করার জন্য
তা যথেষ্ট। হাঁপানির রোগীর হাঁপানির
প্রকোপ বাড়ানোর জন্য পরোক্ষ
ধূমপান বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘমেয়াদে কী হয়?
বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের ফলে হূদরোগ
এবং ফুসফুসের ক্যানসারের প্রকোপ
২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। আর কর্মস্থল
এবং পথেঘাটে পরোক্ষ ধূমপানের
ফলে হূদরোগের হার বেড়ে যায় ৫০-৬০
শতাংশ। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য
প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধূমপায়ীদের
ফুসফুসের ক্যানসার এবং হূদরোগের
কারণ পরোক্ষ ধূমপান।
পরোক্ষ ধূমপানের ব্যাপকতা?
প্রকৃতপক্ষে এর ব্যাপকতা অনেক
বিস্তৃত। এক হিসাবে দেখা যায়,
ব্রিটেনের অর্ধেক শিশুই
বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার।
ধূমপায়ী মা-বাবার শিশুদের
মধ্যে শ্বাসনালির রোগব্যাধির প্রকোপ
তুলনামূলকভাবে বেশি। উন্মুক্ত
স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ
একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এখন আমাদের পরোক্ষ ধূমপানের
বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে।
ঘরের ভেতর ধূমপান
করলে তা ধূমপায়ীর জন্য তো বটেই,
সঙ্গে সঙ্গে তা তার পরিবারের
অন্যদের, বিশেষত শিশুদের জন্যও
ক্ষতিকর।
ডা. এ আর এম সাইফুদ্দীন একরাম
অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয়
প্রধান
মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল
কলেজ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুলাই ০৬,
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
সহজ কথায় ধূমপানরত ব্যক্তির বিড়ি-
সিগারেটের ধোঁয়া দ্বিতীয়
ব্যক্তি গ্রহণ করলে সেটাকে পরোক্ষ
ধূমপান বলা হয়।
এটা দুভাবে আসতে পারে, ধূমপানরত
ব্যক্তির জ্বলন্ত
বিড়ি কিংবা সিগারেটের পাশ
থেকে নির্গত
ধোঁয়া কিংবা ধূমপায়ী ধোঁয়া গ্রহণের পর
নিঃশ্বাসের সঙ্গে পরিত্যক্ত ধোঁয়া।
বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশের পাশ
থেকে নির্গত
ধোঁয়া দিয়ে কোনো একটি কক্ষের মোট
ধোঁয়ার ৮৫ শতাংশ ভরে থাকে।
তামাকের ধোঁয়ায় কী থাকে?
তামাকের ধোঁয়ায় চার হাজারের
বেশি উপাদান থাকে। এগুলোর
মধ্যে যেসব কণা রয়েছে তা হলো—
আলকাতরা, নিকোটিন, বেনজিন ও
বেনজোপাইরিন। আর গ্যাসীয়
উপাদানগুলো রয়েছে কার্বন
মনোক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ডাই-মিথাইল
নাইট্রোস অ্যামাইন, ফরমালডিহাইড,
হাইড্রোজেন সায়ানাইড ও
অ্যাক্রোলিন। এক হিসাবে দেখা যায়,
তামাকের ধোঁয়ায় অন্তত ৬০ রকমের
উপাদান রয়েছে, যেগুলো ক্যানসার
সৃষ্টি করতে পারে। আর শ্বাসনালির
জন্য উত্তেজক যে কত উপাদান
রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ
সুরক্ষা সংস্থা (Enviৎonment
pৎotection agency) তামাকের
ধোঁয়াকে অ্যাসবেস্টস
এবং আর্সেনিকের মতোই প্রথম
শ্রেণীর ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান
হিসেবে গণ্য করে।
পরোক্ষ ধূমপায়ীর কী ক্ষতি হয়?
অন্যের ধোঁয়া পান করলে চোখ
জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, গলাব্যথা,
বমি বমি ভাব ইত্যাদি হয়। ৩০ মিনিট
পরোক্ষ ধূমপান করলে হূৎপিণ্ডের মধ্য
দিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ করার জন্য
তা যথেষ্ট। হাঁপানির রোগীর হাঁপানির
প্রকোপ বাড়ানোর জন্য পরোক্ষ
ধূমপান বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘমেয়াদে কী হয়?
বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের ফলে হূদরোগ
এবং ফুসফুসের ক্যানসারের প্রকোপ
২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। আর কর্মস্থল
এবং পথেঘাটে পরোক্ষ ধূমপানের
ফলে হূদরোগের হার বেড়ে যায় ৫০-৬০
শতাংশ। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য
প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধূমপায়ীদের
ফুসফুসের ক্যানসার এবং হূদরোগের
কারণ পরোক্ষ ধূমপান।
পরোক্ষ ধূমপানের ব্যাপকতা?
প্রকৃতপক্ষে এর ব্যাপকতা অনেক
বিস্তৃত। এক হিসাবে দেখা যায়,
ব্রিটেনের অর্ধেক শিশুই
বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার।
ধূমপায়ী মা-বাবার শিশুদের
মধ্যে শ্বাসনালির রোগব্যাধির প্রকোপ
তুলনামূলকভাবে বেশি। উন্মুক্ত
স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ
একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এখন আমাদের পরোক্ষ ধূমপানের
বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে।
ঘরের ভেতর ধূমপান
করলে তা ধূমপায়ীর জন্য তো বটেই,
সঙ্গে সঙ্গে তা তার পরিবারের
অন্যদের, বিশেষত শিশুদের জন্যও
ক্ষতিকর।
ডা. এ আর এম সাইফুদ্দীন একরাম
অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয়
প্রধান
মেডিসিন বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল
কলেজ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুলাই ০৬,
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
তেলাপোকা থেকে সাবধান!
আমার নাতনি তেলাপোকা দেখে ভীষণ
ভয় পায়। ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। ভয়
পায়, যদি শরীরে বসে? বিচ্ছিরি!
যদি কামড় দেয়? আমিও
তেলাপোকাকে ভয় পাই।
তবে শরীরে বসা বা কামড়ের ভয় নয়,
ভয় অন্য কারণে। তেলাপোকা যে অনেক
রোগের বাহক! নানা রকমের পেটের
পীড়া, আমাশয়, ডায়রিয়া,
খাদ্যে বিষক্রিয়া, টাইফয়েড, লিভারের
প্রদাহ-জন্ডিস, পোলিও—কত রোগের
জীবাণুরই না বাহক তেলাপোকা!
তেলাপোকা মূলত সর্বভুক।
তবে খাবারের ময়লা-আবর্জনা আর
বাথরুমের ময়লাই এদের প্রিয় খাবার।
এসব ময়লা-আবর্জনা থেকে এদের
গায়ে লেগে যায় নানা জীবাণু। পেটের
ভেতরেও ঢুকে যায় অজস্র। তারপর
রাতের আঁধারে যখন
বসে কোনো খাবারের ওপর, তখন
তেলাপোকার পা-পাখা-শরীর
থেকে খাবারে লেগে যায় অসংখ্য জীবাণু।
তা ছাড়া, খাবারের ওপর
ঘোরাফেরা করার সময় খাবার খাওয়ার
পাশাপাশি খাবারের ওপর মলত্যাগ আর
বমিও করে তেলাপোকা। তেলাপোকার
এসব মল আর বমির মাধ্যমেও
খাবারে মিশে যায় হাজারো জীবাণু।
জীবাণুমিশ্রিত এসব দূষিত খাবার
খেলেই হয় নানা অসুখ। এ
ছাড়া তেলাপোকার শরীর
থেকে খসে যাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ
আর ঘরের
ধুলোবালিতে মিশে থাকা তেলাপোকার
শুকনো মল হতে পারে হাঁপানির কারণ।
আমাদের বাড়িঘরের
রান্নাঘরে লুকোনো স্থানেই এদের
বসবাস বেশি। দিনের বেলায়
লুকিয়ে থাকে রান্নাঘরের বেসিনের নিচে,
ময়লার বালতিতে, খাবার রাখার
আলমারিতে (মিটসেফ) রাখা জিনিসের
ফাঁকে ফাঁকে, আলমারির পেছনে,
ফ্রিজের পেছনে। এ
ছাড়া থাকে বাথরুমের প্যানের গভীরে,
বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া মলের
বা ময়লার পানির পাইপে। থাকে বইয়ের
আলমারিতে বইয়ের ফাঁকে। খাটের
বাক্সে। যেকোনো অন্ধকার
লুকোনো স্থানে। এসব
জায়গা থেকে রাতের আঁধারে বের
হয়ে আসে। রাতে রান্নাঘরের
মেঝে বা খাবার টেবিলে খাবারের
উচ্ছিষ্ট থাকলে,
বেসিনে এঁটো থালাবাসন
রেখে দিলে তাতে রোগজীবাণু
বংশবৃদ্ধি করে। আর এসব খাবার
খেতে থাকে তেলাপোকা। বাহক হয়
নানা জীবাণুর।
রাতে খাবার টেবিলে খাবারের উচ্ছিষ্ট
যেন না থাকে। পরদিন সকালে ধোয়ার
আশায় রাতভর বেসিনে যেন
না থাকে এঁটো থালাবাসন। পরিষ্কার
রাখতে হবে তেলাপোকা লুকিয়ে থাকতে
পারে এমন সব জায়গা। রান্নাঘরের
মেঝে ও বেসিন
রাখতে হবে ঝকঝকে তকতকে।
ঢেকে রাখতে হবে রান্নাঘরের ময়লার
বালতি। পরিষ্কার
করতে হবে প্রতিদিন। রান্নাঘরের দা,
বঁটি, কাটিং বোর্ড ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার
রাখতে হবে। মিটসেফ পরিষ্কার
করতে হবে প্রতি সপ্তাহেই। টেবিলের
ড্রয়ার, খাটের বাক্স, বুকসেলফ—
প্রতি সপ্তাহেই নজরদারি করতে হবে।
খাবার-দাবার রাখতে হবে ফ্রিজে।
বাইরে রাখলে অবশ্যই
ঢেকে রাখতে হবে। বাথরুম
রাখতে হবে পরিষ্কার। বেশি উপদ্রব
হলে তেলাপোকা মারার চক বা অন্য
ওষুধ ব্যবহার করতে হবে মাঝে মধ্যে।
মো. শহীদুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন
বিভাগ,
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ,
ময়মনসিংহ
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ভয় পায়। ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। ভয়
পায়, যদি শরীরে বসে? বিচ্ছিরি!
যদি কামড় দেয়? আমিও
তেলাপোকাকে ভয় পাই।
তবে শরীরে বসা বা কামড়ের ভয় নয়,
ভয় অন্য কারণে। তেলাপোকা যে অনেক
রোগের বাহক! নানা রকমের পেটের
পীড়া, আমাশয়, ডায়রিয়া,
খাদ্যে বিষক্রিয়া, টাইফয়েড, লিভারের
প্রদাহ-জন্ডিস, পোলিও—কত রোগের
জীবাণুরই না বাহক তেলাপোকা!
তেলাপোকা মূলত সর্বভুক।
তবে খাবারের ময়লা-আবর্জনা আর
বাথরুমের ময়লাই এদের প্রিয় খাবার।
এসব ময়লা-আবর্জনা থেকে এদের
গায়ে লেগে যায় নানা জীবাণু। পেটের
ভেতরেও ঢুকে যায় অজস্র। তারপর
রাতের আঁধারে যখন
বসে কোনো খাবারের ওপর, তখন
তেলাপোকার পা-পাখা-শরীর
থেকে খাবারে লেগে যায় অসংখ্য জীবাণু।
তা ছাড়া, খাবারের ওপর
ঘোরাফেরা করার সময় খাবার খাওয়ার
পাশাপাশি খাবারের ওপর মলত্যাগ আর
বমিও করে তেলাপোকা। তেলাপোকার
এসব মল আর বমির মাধ্যমেও
খাবারে মিশে যায় হাজারো জীবাণু।
জীবাণুমিশ্রিত এসব দূষিত খাবার
খেলেই হয় নানা অসুখ। এ
ছাড়া তেলাপোকার শরীর
থেকে খসে যাওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ
আর ঘরের
ধুলোবালিতে মিশে থাকা তেলাপোকার
শুকনো মল হতে পারে হাঁপানির কারণ।
আমাদের বাড়িঘরের
রান্নাঘরে লুকোনো স্থানেই এদের
বসবাস বেশি। দিনের বেলায়
লুকিয়ে থাকে রান্নাঘরের বেসিনের নিচে,
ময়লার বালতিতে, খাবার রাখার
আলমারিতে (মিটসেফ) রাখা জিনিসের
ফাঁকে ফাঁকে, আলমারির পেছনে,
ফ্রিজের পেছনে। এ
ছাড়া থাকে বাথরুমের প্যানের গভীরে,
বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া মলের
বা ময়লার পানির পাইপে। থাকে বইয়ের
আলমারিতে বইয়ের ফাঁকে। খাটের
বাক্সে। যেকোনো অন্ধকার
লুকোনো স্থানে। এসব
জায়গা থেকে রাতের আঁধারে বের
হয়ে আসে। রাতে রান্নাঘরের
মেঝে বা খাবার টেবিলে খাবারের
উচ্ছিষ্ট থাকলে,
বেসিনে এঁটো থালাবাসন
রেখে দিলে তাতে রোগজীবাণু
বংশবৃদ্ধি করে। আর এসব খাবার
খেতে থাকে তেলাপোকা। বাহক হয়
নানা জীবাণুর।
রাতে খাবার টেবিলে খাবারের উচ্ছিষ্ট
যেন না থাকে। পরদিন সকালে ধোয়ার
আশায় রাতভর বেসিনে যেন
না থাকে এঁটো থালাবাসন। পরিষ্কার
রাখতে হবে তেলাপোকা লুকিয়ে থাকতে
পারে এমন সব জায়গা। রান্নাঘরের
মেঝে ও বেসিন
রাখতে হবে ঝকঝকে তকতকে।
ঢেকে রাখতে হবে রান্নাঘরের ময়লার
বালতি। পরিষ্কার
করতে হবে প্রতিদিন। রান্নাঘরের দা,
বঁটি, কাটিং বোর্ড ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার
রাখতে হবে। মিটসেফ পরিষ্কার
করতে হবে প্রতি সপ্তাহেই। টেবিলের
ড্রয়ার, খাটের বাক্স, বুকসেলফ—
প্রতি সপ্তাহেই নজরদারি করতে হবে।
খাবার-দাবার রাখতে হবে ফ্রিজে।
বাইরে রাখলে অবশ্যই
ঢেকে রাখতে হবে। বাথরুম
রাখতে হবে পরিষ্কার। বেশি উপদ্রব
হলে তেলাপোকা মারার চক বা অন্য
ওষুধ ব্যবহার করতে হবে মাঝে মধ্যে।
মো. শহীদুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন
বিভাগ,
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ,
ময়মনসিংহ
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
ঘরে বসেই ক্ষতের চিকিৎসা
আমরা প্রায়ই নানা ধরনের দুর্ঘটনার
শিকার হই। আর তাতে তেমন মারাত্মক
সমস্যা না হলেও ছোটখাটো ক্ষত
সৃষ্টি হতেই পারে। ছিঁড়ে যাওয়া,
ছুলে যাওয়া, কেটে যাওয়া—
এগুলো হরহামেশাই হয়। বাচ্চাদের
ক্ষেত্রে এগুলো হওয়ার আশঙ্কা আরও
বেশি। কখনো কখনো আবার গৃহপালিত
পশু বা বন্য জীব, যেমন—কুকুর,
বিড়াল, বেজি, বাদুড়, শিয়াল
কামড়ে বা আঁচড়ে দিতে পারে।
ক্ষতের প্রাথমিক
চিকিৎসা আমরা বাড়িতে বা ঘটনাস্থলে
কী করে করব, আজ তাই নিয়ে একটু
আলোচনা করা যাক।
হইচই বা হাঙ্গামা না করে আগে নিজের
দুটো হাত ভালো করে সাবান ও
পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ,
ময়লা বা নোংরা হাতে ক্ষত
পরীক্ষা বা পরিষ্কার করা ঠিক না।
তাতে ক্ষতে প্রদাহ হওয়ার
আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এবার ক্ষতস্থান পরীক্ষা করুন।
রক্তপাত হচ্ছে কি না,
ময়লা লেগেছে কি না ক্ষতে, ক্ষতের
পরিমাণটাই বা কেমন—এসব পরখ
করার পর সাবান ও পরিষ্কার
পানি দিয়ে ক্ষত খুব
ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। একটু
বেশি পানি দিয়ে বা রানিং ওয়াটারে ধুলে
ভালো হয়। এবার শুকনো পরিষ্কার
কাপড় না হলে ফেসিয়াল টিস্যু
দিয়ে জায়গাটা হালকাভাবে শুকিয়ে নিন।
যদি পরিলক্ষিত হয়, ক্ষত দিয়ে রক্ত
বের হচ্ছে, তবে তা পরিষ্কার কাপড়
বা গজ দিয়ে চেপে রাখুন ২০ মিনিট।
রক্ত বন্ধ হলে বিটাডিন বা হেক্সিসল
দিয়ে পরিষ্কার করুন ক্ষত। প্রদাহ
অনেক কমে যাবে। এবার একটু
অ্যান্টিবায়োটিক মলম, যেমন—
নিউমাইসিন বেসিট্রাসিন, মিউপেরিসিন,
জেন্টামাইসিন ইত্যাদি লাগলে ভালো হয়
(কখনো ভুলেও কোনো স্টেরয়েড মলম
লাগাবেন না)। ১২ থেকে ২৪
ঘণ্টা হালকা ব্যান্ডেজ
করে রাখতে পারলে আরও ভালো হয়।
ব্যথা প্রশমনের জন্য এরপর একটু
প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
তবে যদি ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ ২০
মিনিটের মধ্যে বন্ধ না হয়,
তবে কাছের হাসপাতাল
বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে পরবর্তী
চিকিৎসার জন্য।
যদি ক্ষতটি তৈরি হয় কুকুর, বিড়াল,
বেজি, শিয়াল, বাদুড়, ইঁদুর বা এ-জাতীয়
প্রাণী কর্তৃক, তবে তা আরও
গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। আগের
মতোই পরিষ্কার পানি ও সাবান
দিয়ে ক্ষত তিন-চারবার
ভালো করে ধুতে হবে। তারপর বিটাডিন
দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এ
ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ দেওয়া যাবে না।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর কাছের
হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিরেবিস ও
অ্যান্টিটিটেনাস ভ্যাকসিন দিতে হবে।
পাশাপাশি প্যারাসিটামল ও
মুখে অ্যান্টিবায়োটিক
খেতে হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী।
যেকোনো ময়লা ক্ষত, বিশেষ
করে সড়ক দুর্ঘটনা বা ময়লা পেরেক,
টিন, পিন ইত্যাদি দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত
হলে প্রদাহের পাশাপাশি টিটেনাস হওয়ার
আশঙ্কা থাকে। তাই চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী টিটেনাস টক্সয়েড ও
টিআইজি দিতে হবে।
হাতে বা পায়ে ক্ষত হলে সেই
অংশকে ঝুলিয়ে না রেখে উঁচু
করে রাখতে পারলে ফোলা বা ইডিমা কম
হবে। পায়ের ক্ষতে পায়ের নিচে বালিশ
দিয়ে শুয়ে থাকলে আরও ভালো হয়।
গরম পানি, গরম তেল, গরম খাবার
বা পানীয়, যেমন—চা, কফি, ভাতের
ফ্যান, গরম ডাল, জ্বলন্ত সিগারেট,
মশার কয়েল, চুলার আগুন থেকেও
অনেক সময় ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
প্রথমে দেখতে হবে কতটুকু ক্ষত
হয়েছে। ক্ষতের ব্যাপ্তি ও গভীরতার
ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। সামান্য
ক্ষত হলে বা একটু
ফোসকামতো পড়লে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা
পরিষ্কার পানি দিয়ে ক্ষতটি কিছুক্ষণ
ধুয়ে ফেলতে হবে। তাতে জ্বালা ও
ব্যথা কমবে। ফোসকা গেলে দেওয়ার
দরকার নেই। ক্ষতটিতে সিলভার
সালফাডায়জিন মলম দিনে তিন-চারবার
লাগাতে হবে।
তবে পোড়া ক্ষতটি যদি আকারে বড় ও
গভীর হয়, চিকিৎসকের
পরামর্শে চিকিৎসা করাতে হবে। এসব
ক্ষেত্রে টিটেনাস প্রফাইলেক্সিস
নেওয়া ভালো।
এ ধরনের সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য
আমাদের সর্বদা সতর্ক ও সাবধান
থাকতে হবে। বাচ্চাদের
বেশি সাবধানে রাখতে হবে।
বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার
জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস
থাকলে ভালো হয়। যেমন,
কয়েকটি স্টেরাইল গজের প্যাকেট
(যা এখন সব ফার্মেসিতে পাওয়া যায়),
কিছু তুলা, ব্যান্ডেজ, বিটাডিন,
হেক্সিসল সলিউশন আর
অ্যান্টিবায়োটিক মলম ও
প্যারাসিটামল। এগুলো আপনার
ঘরে থাকলে প্রতিবেশীকেও
আপনি প্রয়োজনে সাহায্য
করতে পারবেন।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
এম করিম খান
অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ,
ময়মনসিংহ।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
শিকার হই। আর তাতে তেমন মারাত্মক
সমস্যা না হলেও ছোটখাটো ক্ষত
সৃষ্টি হতেই পারে। ছিঁড়ে যাওয়া,
ছুলে যাওয়া, কেটে যাওয়া—
এগুলো হরহামেশাই হয়। বাচ্চাদের
ক্ষেত্রে এগুলো হওয়ার আশঙ্কা আরও
বেশি। কখনো কখনো আবার গৃহপালিত
পশু বা বন্য জীব, যেমন—কুকুর,
বিড়াল, বেজি, বাদুড়, শিয়াল
কামড়ে বা আঁচড়ে দিতে পারে।
ক্ষতের প্রাথমিক
চিকিৎসা আমরা বাড়িতে বা ঘটনাস্থলে
কী করে করব, আজ তাই নিয়ে একটু
আলোচনা করা যাক।
হইচই বা হাঙ্গামা না করে আগে নিজের
দুটো হাত ভালো করে সাবান ও
পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ,
ময়লা বা নোংরা হাতে ক্ষত
পরীক্ষা বা পরিষ্কার করা ঠিক না।
তাতে ক্ষতে প্রদাহ হওয়ার
আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এবার ক্ষতস্থান পরীক্ষা করুন।
রক্তপাত হচ্ছে কি না,
ময়লা লেগেছে কি না ক্ষতে, ক্ষতের
পরিমাণটাই বা কেমন—এসব পরখ
করার পর সাবান ও পরিষ্কার
পানি দিয়ে ক্ষত খুব
ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। একটু
বেশি পানি দিয়ে বা রানিং ওয়াটারে ধুলে
ভালো হয়। এবার শুকনো পরিষ্কার
কাপড় না হলে ফেসিয়াল টিস্যু
দিয়ে জায়গাটা হালকাভাবে শুকিয়ে নিন।
যদি পরিলক্ষিত হয়, ক্ষত দিয়ে রক্ত
বের হচ্ছে, তবে তা পরিষ্কার কাপড়
বা গজ দিয়ে চেপে রাখুন ২০ মিনিট।
রক্ত বন্ধ হলে বিটাডিন বা হেক্সিসল
দিয়ে পরিষ্কার করুন ক্ষত। প্রদাহ
অনেক কমে যাবে। এবার একটু
অ্যান্টিবায়োটিক মলম, যেমন—
নিউমাইসিন বেসিট্রাসিন, মিউপেরিসিন,
জেন্টামাইসিন ইত্যাদি লাগলে ভালো হয়
(কখনো ভুলেও কোনো স্টেরয়েড মলম
লাগাবেন না)। ১২ থেকে ২৪
ঘণ্টা হালকা ব্যান্ডেজ
করে রাখতে পারলে আরও ভালো হয়।
ব্যথা প্রশমনের জন্য এরপর একটু
প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে।
তবে যদি ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ ২০
মিনিটের মধ্যে বন্ধ না হয়,
তবে কাছের হাসপাতাল
বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে পরবর্তী
চিকিৎসার জন্য।
যদি ক্ষতটি তৈরি হয় কুকুর, বিড়াল,
বেজি, শিয়াল, বাদুড়, ইঁদুর বা এ-জাতীয়
প্রাণী কর্তৃক, তবে তা আরও
গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। আগের
মতোই পরিষ্কার পানি ও সাবান
দিয়ে ক্ষত তিন-চারবার
ভালো করে ধুতে হবে। তারপর বিটাডিন
দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এ
ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ দেওয়া যাবে না।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর কাছের
হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিরেবিস ও
অ্যান্টিটিটেনাস ভ্যাকসিন দিতে হবে।
পাশাপাশি প্যারাসিটামল ও
মুখে অ্যান্টিবায়োটিক
খেতে হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী।
যেকোনো ময়লা ক্ষত, বিশেষ
করে সড়ক দুর্ঘটনা বা ময়লা পেরেক,
টিন, পিন ইত্যাদি দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত
হলে প্রদাহের পাশাপাশি টিটেনাস হওয়ার
আশঙ্কা থাকে। তাই চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী টিটেনাস টক্সয়েড ও
টিআইজি দিতে হবে।
হাতে বা পায়ে ক্ষত হলে সেই
অংশকে ঝুলিয়ে না রেখে উঁচু
করে রাখতে পারলে ফোলা বা ইডিমা কম
হবে। পায়ের ক্ষতে পায়ের নিচে বালিশ
দিয়ে শুয়ে থাকলে আরও ভালো হয়।
গরম পানি, গরম তেল, গরম খাবার
বা পানীয়, যেমন—চা, কফি, ভাতের
ফ্যান, গরম ডাল, জ্বলন্ত সিগারেট,
মশার কয়েল, চুলার আগুন থেকেও
অনেক সময় ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
প্রথমে দেখতে হবে কতটুকু ক্ষত
হয়েছে। ক্ষতের ব্যাপ্তি ও গভীরতার
ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। সামান্য
ক্ষত হলে বা একটু
ফোসকামতো পড়লে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা
পরিষ্কার পানি দিয়ে ক্ষতটি কিছুক্ষণ
ধুয়ে ফেলতে হবে। তাতে জ্বালা ও
ব্যথা কমবে। ফোসকা গেলে দেওয়ার
দরকার নেই। ক্ষতটিতে সিলভার
সালফাডায়জিন মলম দিনে তিন-চারবার
লাগাতে হবে।
তবে পোড়া ক্ষতটি যদি আকারে বড় ও
গভীর হয়, চিকিৎসকের
পরামর্শে চিকিৎসা করাতে হবে। এসব
ক্ষেত্রে টিটেনাস প্রফাইলেক্সিস
নেওয়া ভালো।
এ ধরনের সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য
আমাদের সর্বদা সতর্ক ও সাবধান
থাকতে হবে। বাচ্চাদের
বেশি সাবধানে রাখতে হবে।
বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার
জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস
থাকলে ভালো হয়। যেমন,
কয়েকটি স্টেরাইল গজের প্যাকেট
(যা এখন সব ফার্মেসিতে পাওয়া যায়),
কিছু তুলা, ব্যান্ডেজ, বিটাডিন,
হেক্সিসল সলিউশন আর
অ্যান্টিবায়োটিক মলম ও
প্যারাসিটামল। এগুলো আপনার
ঘরে থাকলে প্রতিবেশীকেও
আপনি প্রয়োজনে সাহায্য
করতে পারবেন।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
এম করিম খান
অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ,
ময়মনসিংহ।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
এক সেকেন্ডের নাই ভরসা |
সংগীতশিল্পী ফিরোজ সাঁই তাঁর নিজের
সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটি উৎফুল্ল
জনতার সামনে ভরামঞ্চে গেয়ে মঞ্চ
থেকে নামতেই ঢলে পড়লেন চিরনিদ্রায়।
কাউকে এক সেকেন্ড সময় না দিয়েই
রং-তামাশার এই
পৃথিবী থেকে চলে গেলেন না-ফেরার
দেশে। মুহূর্তের সেই দুর্ঘটনায়
উপস্থিত মানুষ কিছুই
করে উঠতে পারেনি। এই মৃত্যুর কারণ
ছিল, ‘সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’।
হূৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক স্পন্দনের
সমস্যায় হার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার
কারণে এই মৃত্যু হয়।
সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঠিক
কী অসুখ
আমাদের হূৎপিণ্ড
আসলে সারা শরীরে রক্ত
সরবরাহকারী একটি পাম্প।
এটি চলে আমাদের শরীরের
মধ্যে তৈরি এক বিশেষ জৈব-বিদ্যুতের
সাহায্যে। এই বিদ্যুৎ
সরবরাহে গোলযোগ দেখা দিলে অনেক
সময় শুরু হয় ভেন্ট্রিকুলার
ট্যাকিকার্ডিয়া। এর ফলে হার্টের
ভেন্ট্রিকল বা নিলয় প্রকোষ্ঠ দুটির
স্পন্দন প্রচণ্ড
বেড়ে গিয়ে মিনিটে প্রায় চার শ
হয়ে যায়। এরপর হূৎস্পন্দন কমে আসে।
এতটাই কমে যে এই হার হূদ্যন্ত্র আর
রক্ত সরবরাহ করতে পারে না। এ
অবস্থাকে বলে ভেন্ট্রিকুলার
ফিব্রিলেশন ।
সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কাদের
হতে পারে
সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে দেখা যায়,
যাঁরা এসসিএতে একবার আক্রান্ত
হয়েছেন; যাঁদের হার্টের রক্ত পাম্প
করার ক্ষমতা সাধারণত কম; যেসব
হূদেরাগী বিভিন্ন ভালভের রোগ,
ডায়ালেটেড ও হাইপারট্রপিক
কার্ডিওমায়োপ্যাথি-জাতীয় হার্টের
গঠনগত ত্রুটি আছে; যাঁদের একবার
হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাঁদেরও এসসিএ
হতে পারে।
কী চিকিৎসা
এসসিএ প্রতিরোধ বা সতর্কতামূলক
চিকিৎসাকে সাধারণত মেডিকেল
থেরাপি ও আইসিডির
সাহায্যে প্রতিরোধ—এই দুই ভাগে ভাগ
করতে পারি। কোনো হূদেরাগীর এসসিএ
ধরা পড়লে প্রথমে তাঁকে মেডিকেল
থেরাপি দেওয়া হয় বা ওষুধের
সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু
যেকোনো ওষুধই প্রতিরোধে আংশিক
কার্যকর। এসসিএকে সম্পূর্ণ দূর
করতে হলে রোগীর
শরীরে আইসিডি বা ইমপ্ল্যান্টঅ্যাবল
কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর নামের
যন্ত্র বসাতে হয়। অত্যন্ত
শক্তিশালী ও কার্যকর এই
যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব সময়
রোগীর হূৎস্পন্দনকে মনিটরিং করে।
প্রয়োজনে হাসপাতালের মতো শক
দিয়ে বন্ধ হওয়া হূৎপিণ্ড সচল করে।
আইসিডি কতটা প্রয়োজনীয়
আইসিডির সাফল্য প্রায় ৯৯ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রায় সব ক্ষেত্রেই
আইসিডি এসসিএকে সম্পূর্ণ ও
স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করে। সে জন্য
বর্তমানে প্রতিবছর
সারা পৃথিবীতে প্রায় তিন লাখ মানুষের
শরীরে আইসিডি বসানো হয়।
পরিশেষে
আমাদের দেশে অনেক রোগী হার্ট
অ্যাটাকের পর হূৎপিণ্ডে স্টেন্ট
বসানো বা সফল বাইপাস সার্জারির
পরও এসসিএর শিকার হচ্ছেন। হঠাৎ
হূৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু
প্রতিরোধে আইসিডিই একমাত্র
স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান।
আইসিডি প্রতিস্থাপনের পর একজন
লোক তাঁর সাধারণ ও স্বাভাবিক জীবন
কাটাতে পারেন। তবে তাঁকে সব সময়ই
চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়
ও নিয়মিত রুটিন চেকআপ করাতে হয়।
এম আতাহার আলী
হূদেরাগ বিশেষজ্ঞ
এবং ইলেকট্রো ফিজিওলজিস্ট
জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউট।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটি উৎফুল্ল
জনতার সামনে ভরামঞ্চে গেয়ে মঞ্চ
থেকে নামতেই ঢলে পড়লেন চিরনিদ্রায়।
কাউকে এক সেকেন্ড সময় না দিয়েই
রং-তামাশার এই
পৃথিবী থেকে চলে গেলেন না-ফেরার
দেশে। মুহূর্তের সেই দুর্ঘটনায়
উপস্থিত মানুষ কিছুই
করে উঠতে পারেনি। এই মৃত্যুর কারণ
ছিল, ‘সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’।
হূৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক স্পন্দনের
সমস্যায় হার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার
কারণে এই মৃত্যু হয়।
সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঠিক
কী অসুখ
আমাদের হূৎপিণ্ড
আসলে সারা শরীরে রক্ত
সরবরাহকারী একটি পাম্প।
এটি চলে আমাদের শরীরের
মধ্যে তৈরি এক বিশেষ জৈব-বিদ্যুতের
সাহায্যে। এই বিদ্যুৎ
সরবরাহে গোলযোগ দেখা দিলে অনেক
সময় শুরু হয় ভেন্ট্রিকুলার
ট্যাকিকার্ডিয়া। এর ফলে হার্টের
ভেন্ট্রিকল বা নিলয় প্রকোষ্ঠ দুটির
স্পন্দন প্রচণ্ড
বেড়ে গিয়ে মিনিটে প্রায় চার শ
হয়ে যায়। এরপর হূৎস্পন্দন কমে আসে।
এতটাই কমে যে এই হার হূদ্যন্ত্র আর
রক্ত সরবরাহ করতে পারে না। এ
অবস্থাকে বলে ভেন্ট্রিকুলার
ফিব্রিলেশন ।
সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কাদের
হতে পারে
সাধারণত চারটি ক্ষেত্রে দেখা যায়,
যাঁরা এসসিএতে একবার আক্রান্ত
হয়েছেন; যাঁদের হার্টের রক্ত পাম্প
করার ক্ষমতা সাধারণত কম; যেসব
হূদেরাগী বিভিন্ন ভালভের রোগ,
ডায়ালেটেড ও হাইপারট্রপিক
কার্ডিওমায়োপ্যাথি-জাতীয় হার্টের
গঠনগত ত্রুটি আছে; যাঁদের একবার
হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তাঁদেরও এসসিএ
হতে পারে।
কী চিকিৎসা
এসসিএ প্রতিরোধ বা সতর্কতামূলক
চিকিৎসাকে সাধারণত মেডিকেল
থেরাপি ও আইসিডির
সাহায্যে প্রতিরোধ—এই দুই ভাগে ভাগ
করতে পারি। কোনো হূদেরাগীর এসসিএ
ধরা পড়লে প্রথমে তাঁকে মেডিকেল
থেরাপি দেওয়া হয় বা ওষুধের
সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু
যেকোনো ওষুধই প্রতিরোধে আংশিক
কার্যকর। এসসিএকে সম্পূর্ণ দূর
করতে হলে রোগীর
শরীরে আইসিডি বা ইমপ্ল্যান্টঅ্যাবল
কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর নামের
যন্ত্র বসাতে হয়। অত্যন্ত
শক্তিশালী ও কার্যকর এই
যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব সময়
রোগীর হূৎস্পন্দনকে মনিটরিং করে।
প্রয়োজনে হাসপাতালের মতো শক
দিয়ে বন্ধ হওয়া হূৎপিণ্ড সচল করে।
আইসিডি কতটা প্রয়োজনীয়
আইসিডির সাফল্য প্রায় ৯৯ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রায় সব ক্ষেত্রেই
আইসিডি এসসিএকে সম্পূর্ণ ও
স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করে। সে জন্য
বর্তমানে প্রতিবছর
সারা পৃথিবীতে প্রায় তিন লাখ মানুষের
শরীরে আইসিডি বসানো হয়।
পরিশেষে
আমাদের দেশে অনেক রোগী হার্ট
অ্যাটাকের পর হূৎপিণ্ডে স্টেন্ট
বসানো বা সফল বাইপাস সার্জারির
পরও এসসিএর শিকার হচ্ছেন। হঠাৎ
হূৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু
প্রতিরোধে আইসিডিই একমাত্র
স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান।
আইসিডি প্রতিস্থাপনের পর একজন
লোক তাঁর সাধারণ ও স্বাভাবিক জীবন
কাটাতে পারেন। তবে তাঁকে সব সময়ই
চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়
ও নিয়মিত রুটিন চেকআপ করাতে হয়।
এম আতাহার আলী
হূদেরাগ বিশেষজ্ঞ
এবং ইলেকট্রো ফিজিওলজিস্ট
জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউট।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
কী আশ্চর্য! পানির এত গুণ
ক্ষীণতনু হতে চায় এখন সবাই। ওজন
হারাতে চায় সবাই, শরীর
থেকে বাড়তি যেটুকু আছে।
পানি উজ্জীবিত করে দেহ বিপাক,
জলপানে পেট লাগে ভরাট। তাই
ক্যালরিভর্তি কোমলপানীয়ের
বদলে এক গ্লাস পানি হতে পারে শ্রেষ্ঠ
পানীয়। প্রতিবেলার আহারের আগে এক
গ্লাস পানি পান করে নিন।
বেশি বেশি পানি পানে উজ্জীবিত হয়
বিপাক—যদি হিমশীতল হয় গ্লাসটি।
এই পানিকে উষ্ণ করতে কাজ করতে হয়
শরীরকে—তাই সে প্রক্রিয়ায়
পোড়ে কিছু ক্যালরি।
পানি অ্যালার্জি বাড়ায় শরীরে।
নিজেকে যদি ক্লান্ত, নিঃশেষিত
মনে হয়, তাহলে উত্তোলিত হওয়ার
জন্য এক গ্লাস পানি পান করুন। শরীর
পানিশূন্য হলে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়।
রক্তকে শরীরের
কোষে কোষে অক্সিজেন ও
পুষ্টিকণা বয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে
পানি। শরীর যথেষ্ট পানি পেলে,
সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালিত
করতে হূদযন্ত্রকে এত কঠোর শ্রম
করতে হয় না।
কমে মনের চাপ, পানি পানে।
মগজের টিস্যুর ৮৫ শতাংশ হলো পানি।
পানিশূন্য হলে শরীর, শরীর ও মন দুটোই
চাপগ্রস্ত হয়। তৃষ্ণার্ত বোধ
করলে শরীরে পানি কম, বুঝতে হবে।
চাপ কমাতে হলে কাজের ডেস্কে রাখুন
এক গ্লাস পানি, নিয়মিত
চুমুকে চুমুকে পান করুন পানি।
পানি সহায়তা করে পেশির টোন
নির্মাণে।
নিয়মিত পানি পানে পেশির খিঁচুনি রোধ
হয়, দেহের হাড়ের গিঁটগুলো থাকে সজল,
জলসিক্ত।
সজল থাকে যদি কেউ, তাহলে বেশি সময়
ব্যায়াম করা যায়, শরীর কাবু হয় না।
ত্বক হয় পরিপুষ্ট।
শরীরে নিকদন থাকলে দেহরেখা কুঞ্চন
হয় আরও স্পষ্ট, প্রকট।
পানি হলো প্রাকৃতিক ‘বিউটি ক্রিম’।
পানি পানে ত্বককোষ হয় জলসিঞ্চিত,
এরা ফুলে ওঠে, মুখাবয়ব হয় তরুণ।
পানি ধুয়ে নিয়ে যায় মল, ময়লা, বর্জ্য।
উন্নত করে রক্ত চলাচল ও প্রবাহ।
তাই মুখাবয়ব হয় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন
ও উদ্দীপ্ত।
পানির সঙ্গে থাকুন নিয়মিত।
আঁশ যেমন প্রয়োজন,
তেমনি পরিপাকের জন্য পানিও বড়
প্রয়োজন।
শরীরের অন্ত্রে পরিপাকের পর বর্জ্য
ও মলকে লঘু করার জন্য এবং সাবলীল
গমনের জন্য পানি খুব প্রয়োজন।
পানিশূন্য হলে শরীর সব পানি শুষে নেয়,
মলান্ত্র হয়ে পড়ে শুষ্ক এবং মল হয়
কঠিন, কোষ্ঠবদ্ধতা হয় পরিণতি।
পানি পানে কমে কিডনি পাথুরির
ঝুঁকি।
পূর্ণবয়স্ক এমনকি শিশুরা কম
পানি পান
করে বলে বেড়ে যাচ্ছে কিডনি পাথুরির
হার। পানি মূত্রের খনিজ ও লবণকে লঘু
করে, যে খনিজ লবণ ঘন
থাকলে কিডনি পাথুরি হওয়ার
আশঙ্কা বাড়ে।
লঘুমূত্র হলে কিডনিস্টোনের ঝুঁকি কমে,
তাই পানি পান করুন প্রচুর।
যথেষ্ট পানি পান করছেন তো?
সাধারণত পুষ্টিবিদদের সূত্র
হলো ৮×৮। প্রতিদিন ৮ আউন্স
পরিমাণ গ্লাসের ৮ গ্লাস পানি পান
করুন। ব্যায়াম
করলে বা বেশি ঘামলে আরও
বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস,
বারডেম হাসপাতাল
সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম
মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
হারাতে চায় সবাই, শরীর
থেকে বাড়তি যেটুকু আছে।
পানি উজ্জীবিত করে দেহ বিপাক,
জলপানে পেট লাগে ভরাট। তাই
ক্যালরিভর্তি কোমলপানীয়ের
বদলে এক গ্লাস পানি হতে পারে শ্রেষ্ঠ
পানীয়। প্রতিবেলার আহারের আগে এক
গ্লাস পানি পান করে নিন।
বেশি বেশি পানি পানে উজ্জীবিত হয়
বিপাক—যদি হিমশীতল হয় গ্লাসটি।
এই পানিকে উষ্ণ করতে কাজ করতে হয়
শরীরকে—তাই সে প্রক্রিয়ায়
পোড়ে কিছু ক্যালরি।
পানি অ্যালার্জি বাড়ায় শরীরে।
নিজেকে যদি ক্লান্ত, নিঃশেষিত
মনে হয়, তাহলে উত্তোলিত হওয়ার
জন্য এক গ্লাস পানি পান করুন। শরীর
পানিশূন্য হলে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়।
রক্তকে শরীরের
কোষে কোষে অক্সিজেন ও
পুষ্টিকণা বয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে
পানি। শরীর যথেষ্ট পানি পেলে,
সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালিত
করতে হূদযন্ত্রকে এত কঠোর শ্রম
করতে হয় না।
কমে মনের চাপ, পানি পানে।
মগজের টিস্যুর ৮৫ শতাংশ হলো পানি।
পানিশূন্য হলে শরীর, শরীর ও মন দুটোই
চাপগ্রস্ত হয়। তৃষ্ণার্ত বোধ
করলে শরীরে পানি কম, বুঝতে হবে।
চাপ কমাতে হলে কাজের ডেস্কে রাখুন
এক গ্লাস পানি, নিয়মিত
চুমুকে চুমুকে পান করুন পানি।
পানি সহায়তা করে পেশির টোন
নির্মাণে।
নিয়মিত পানি পানে পেশির খিঁচুনি রোধ
হয়, দেহের হাড়ের গিঁটগুলো থাকে সজল,
জলসিক্ত।
সজল থাকে যদি কেউ, তাহলে বেশি সময়
ব্যায়াম করা যায়, শরীর কাবু হয় না।
ত্বক হয় পরিপুষ্ট।
শরীরে নিকদন থাকলে দেহরেখা কুঞ্চন
হয় আরও স্পষ্ট, প্রকট।
পানি হলো প্রাকৃতিক ‘বিউটি ক্রিম’।
পানি পানে ত্বককোষ হয় জলসিঞ্চিত,
এরা ফুলে ওঠে, মুখাবয়ব হয় তরুণ।
পানি ধুয়ে নিয়ে যায় মল, ময়লা, বর্জ্য।
উন্নত করে রক্ত চলাচল ও প্রবাহ।
তাই মুখাবয়ব হয় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন
ও উদ্দীপ্ত।
পানির সঙ্গে থাকুন নিয়মিত।
আঁশ যেমন প্রয়োজন,
তেমনি পরিপাকের জন্য পানিও বড়
প্রয়োজন।
শরীরের অন্ত্রে পরিপাকের পর বর্জ্য
ও মলকে লঘু করার জন্য এবং সাবলীল
গমনের জন্য পানি খুব প্রয়োজন।
পানিশূন্য হলে শরীর সব পানি শুষে নেয়,
মলান্ত্র হয়ে পড়ে শুষ্ক এবং মল হয়
কঠিন, কোষ্ঠবদ্ধতা হয় পরিণতি।
পানি পানে কমে কিডনি পাথুরির
ঝুঁকি।
পূর্ণবয়স্ক এমনকি শিশুরা কম
পানি পান
করে বলে বেড়ে যাচ্ছে কিডনি পাথুরির
হার। পানি মূত্রের খনিজ ও লবণকে লঘু
করে, যে খনিজ লবণ ঘন
থাকলে কিডনি পাথুরি হওয়ার
আশঙ্কা বাড়ে।
লঘুমূত্র হলে কিডনিস্টোনের ঝুঁকি কমে,
তাই পানি পান করুন প্রচুর।
যথেষ্ট পানি পান করছেন তো?
সাধারণত পুষ্টিবিদদের সূত্র
হলো ৮×৮। প্রতিদিন ৮ আউন্স
পরিমাণ গ্লাসের ৮ গ্লাস পানি পান
করুন। ব্যায়াম
করলে বা বেশি ঘামলে আরও
বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস,
বারডেম হাসপাতাল
সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম
মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
মানসিক সমস্যা – অস্থির লাগা
সমস্যা: আমার বয়স ২৩। বিবাহিত।
ঘরের কোনো কিছু
অগোছালো দেখলে আমার খুব রাগ হয়,
অস্থির লাগে।
সেটা না গোছানো পর্যন্ত আমি সুস্থির
হই না। এমনকি অন্য কেউ
গুছিয়ে দিলেও শান্তি পাই না। সবকিছু
আমার নিজের করতে হয়। ১০-১২
বছর বয়স থেকেই আমার এ অভ্যাস।
ক্রমে এটা বেড়ে যাচ্ছে। এখন নিজের
বাসা ছাড়া অন্য জায়গায়
বেড়াতে গেলেও অগোছালো কোনো কিছু
সহ্য করতে পারি না। এই স্বভাবের
কারণে স্বামী ও অন্যদের সঙ্গে আমার
সব সময় ছোটখাটো ঝগড়া লেগে থাকে।
আত্মীয়স্বজনেরা বলেন, এটা মানসিক
সমস্যা। এ জন্য আমি একজন
চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিন
ক্যাপসুল প্রোডেপ, ২০ মিগ্রা.
করে খেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো লাভ
হয়নি।
মুক্তি
ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।
পরামর্শ: আপনার
সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়
বলা হয় অবসেসিভ কমপালসিভ
ডিসঅর্ডার। এটা একধরনের শুচিবাই।
আপনার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে,
জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার
চিন্তা আপনার মধ্যে অতি-
উদ্বিগ্নতা আর অশান্তি তৈরি হয়।
কারও কারও ক্ষেত্রে বারবার হাত
ধোয়া বা একই জিনিস বারবার
গোনা বা কোনো বিশেষ বস্তু বারবার
স্পর্শ করা বা একই চিন্তা বারবার
মনের মধ্যে চলে আসা ইত্যাদি ধরনের
লক্ষণ দেখা যায়।
চিকিৎসা না নিলে এটি বাড়তে পারে।
আপনি যে ওষুধ খাচ্ছিলেন, তা এ
রোগের জন্যই দেওয়া হয়। এ রোগের
চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি বিহেভিয়ার
থেরাপি (এক্সপোজার ও রেসপনস
প্রিভেনশন, থট স্টপিং,
ডিসেনসিটাইজেশন ইত্যাদি) কার্যকর
ভূমিকা রাখতে পারে। আপনি একজন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
নিয়ে বা আপনার নিকটস্থ মেডিকেল
কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগে উপস্থিত
হয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন।
মনে রাখবেন, এ রোগের
চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং সে জন্য
আপনাকে ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের
পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: অধ্যাপক ডা. মো.
গোলাম রব্বানী
পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য
ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ঘরের কোনো কিছু
অগোছালো দেখলে আমার খুব রাগ হয়,
অস্থির লাগে।
সেটা না গোছানো পর্যন্ত আমি সুস্থির
হই না। এমনকি অন্য কেউ
গুছিয়ে দিলেও শান্তি পাই না। সবকিছু
আমার নিজের করতে হয়। ১০-১২
বছর বয়স থেকেই আমার এ অভ্যাস।
ক্রমে এটা বেড়ে যাচ্ছে। এখন নিজের
বাসা ছাড়া অন্য জায়গায়
বেড়াতে গেলেও অগোছালো কোনো কিছু
সহ্য করতে পারি না। এই স্বভাবের
কারণে স্বামী ও অন্যদের সঙ্গে আমার
সব সময় ছোটখাটো ঝগড়া লেগে থাকে।
আত্মীয়স্বজনেরা বলেন, এটা মানসিক
সমস্যা। এ জন্য আমি একজন
চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিন
ক্যাপসুল প্রোডেপ, ২০ মিগ্রা.
করে খেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো লাভ
হয়নি।
মুক্তি
ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।
পরামর্শ: আপনার
সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়
বলা হয় অবসেসিভ কমপালসিভ
ডিসঅর্ডার। এটা একধরনের শুচিবাই।
আপনার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে,
জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার
চিন্তা আপনার মধ্যে অতি-
উদ্বিগ্নতা আর অশান্তি তৈরি হয়।
কারও কারও ক্ষেত্রে বারবার হাত
ধোয়া বা একই জিনিস বারবার
গোনা বা কোনো বিশেষ বস্তু বারবার
স্পর্শ করা বা একই চিন্তা বারবার
মনের মধ্যে চলে আসা ইত্যাদি ধরনের
লক্ষণ দেখা যায়।
চিকিৎসা না নিলে এটি বাড়তে পারে।
আপনি যে ওষুধ খাচ্ছিলেন, তা এ
রোগের জন্যই দেওয়া হয়। এ রোগের
চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি বিহেভিয়ার
থেরাপি (এক্সপোজার ও রেসপনস
প্রিভেনশন, থট স্টপিং,
ডিসেনসিটাইজেশন ইত্যাদি) কার্যকর
ভূমিকা রাখতে পারে। আপনি একজন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
নিয়ে বা আপনার নিকটস্থ মেডিকেল
কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগে উপস্থিত
হয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন।
মনে রাখবেন, এ রোগের
চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং সে জন্য
আপনাকে ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের
পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: অধ্যাপক ডা. মো.
গোলাম রব্বানী
পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য
ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
পানিশূন্যতা দূর করে ডাবের পানি
সূর্যের উত্তাপ বেড়েই চলেছে।
ক্লান্তি আর অতিরিক্ত ঘামের জন্য
মানুষের শরীর থেকে বের হয়ে যায়
প্রয়োজনীয় লবণ। পরিণামে শরীর
হয়ে পড়ছে দুর্বল, দেহে পানি ও ক্ষারের
সাম্যাবস্থা ভেঙে যাচ্ছে।
নিম্নরক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার
তৈরি হচ্ছে। মানুষ হারাচ্ছে কাজ করার
উদ্দীপনা। শরীরের এই পানিশূন্যতা দূর
করার জন্য পান করতে হবে প্রচুর
পরিমাণে পানি, ফলের রস, তরল খাবার
বা ডাবের পানি। এই গরমে ডাবের
পানি আপনাকে দেবে কাজ করার দ্বিগুণ
শক্তি। কারণ, এতে রয়েছে বহুবিধ
ঔষধিগুণ। ডাবের পানি ডায়রিয়ার
রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
একটি পথ্য। অতিরিক্ত গরমে শরীরের
তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ
ফলটি বৃদ্ধি পাওয়া এই
তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
চর্বিহীন এই পানীয় শরীরের ক্ষতিকর
কোলেস্টেরল কমিয়ে খারাপ
কোলস্টেরলের (এইচডিএল, যা শরীরের
জন্য উপকারী) পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
জলবসন্ত, গুটিবসন্ত, হাম হওয়ার
সময় র্যাশগুলো ডাবের
পানিতে পরিষ্কার করলে দ্রুত
রোগজীবাণু মরে। ডাবের পানির আয়রন
রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই
গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু,
অ্যাথলেটদের জন্য এই ফল যথেষ্ট
উপকারী। এই ফলে রয়েছে অ্যান্টি-
এজিং ফ্যাক্টর, যা মানুষের
বার্ধক্যকে ঠেলে দেয় দূরে।
ফারহানা মোবিন
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ক্লান্তি আর অতিরিক্ত ঘামের জন্য
মানুষের শরীর থেকে বের হয়ে যায়
প্রয়োজনীয় লবণ। পরিণামে শরীর
হয়ে পড়ছে দুর্বল, দেহে পানি ও ক্ষারের
সাম্যাবস্থা ভেঙে যাচ্ছে।
নিম্নরক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার
তৈরি হচ্ছে। মানুষ হারাচ্ছে কাজ করার
উদ্দীপনা। শরীরের এই পানিশূন্যতা দূর
করার জন্য পান করতে হবে প্রচুর
পরিমাণে পানি, ফলের রস, তরল খাবার
বা ডাবের পানি। এই গরমে ডাবের
পানি আপনাকে দেবে কাজ করার দ্বিগুণ
শক্তি। কারণ, এতে রয়েছে বহুবিধ
ঔষধিগুণ। ডাবের পানি ডায়রিয়ার
রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
একটি পথ্য। অতিরিক্ত গরমে শরীরের
তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ
ফলটি বৃদ্ধি পাওয়া এই
তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
চর্বিহীন এই পানীয় শরীরের ক্ষতিকর
কোলেস্টেরল কমিয়ে খারাপ
কোলস্টেরলের (এইচডিএল, যা শরীরের
জন্য উপকারী) পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
জলবসন্ত, গুটিবসন্ত, হাম হওয়ার
সময় র্যাশগুলো ডাবের
পানিতে পরিষ্কার করলে দ্রুত
রোগজীবাণু মরে। ডাবের পানির আয়রন
রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই
গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু,
অ্যাথলেটদের জন্য এই ফল যথেষ্ট
উপকারী। এই ফলে রয়েছে অ্যান্টি-
এজিং ফ্যাক্টর, যা মানুষের
বার্ধক্যকে ঠেলে দেয় দূরে।
ফারহানা মোবিন
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মেথি *হেলথ টিপস
মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটাই
বলা চলে। মেথির স্বাদ তিতা ধরনের।
এতে রয়েছে রক্তের চিনির
মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি।
প্রতিদিন
সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা
এক গ্লাস
পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই
পানি খেলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে,
বিশেষত কৃমি মরে, রক্তের চিনির
মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর
কোলেস্টেরল বা চর্বির
মাত্রা কমে যায়। এই
গরমে ত্বকে যে ঘা, ফোড়া, গরমজনিত
ত্বকের অসুখ হয়, এই অসুখগুলো দূর
করে মেথি।
বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে তারুণ্যকে
দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
রাখে মেথি। গবেষণা করে দেখা গেছে,
যে ডায়াবেটিক রোগীরা নিয়মিত
মেথি খান, তাঁদের ডায়াবেটিসজনিত
অসুখগুলো কম হয় এবং স্ট্রোক হওয়ার
প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য
মেথি শ্রেষ্ঠ পথ্য।
যাদের ডায়াবেটিস নেই মেথি তাদের
জন্যও জরুরি। মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য
কালো জিরার
মতো মেথি পিষে খাওয়াটাও যথেষ্ট
উপকার। তবে খেয়াল রাখতে হবে,
মেথি ভেজে পিষলে পুষ্টি সব নষ্ট
হয়ে যাবে।
রৌদ্রে শুকিয়ে নিয়ে ভাজলে খেতে মচমচে
লাগবে। মেথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,
শরীরকে রাখে সতেজ। রক্তের
উপাদানগুলোকে করে কর্মক্ষম।
ফলে মানুষের কর্মোদ্দীপনাও
বৃদ্ধি পায়। মৌসুমি রোগগুলোর
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। নানাবিধ গুণের
জন্যই মেথি হোক আপনার পরিবারের
সদস্য।
ফারহানা মোবিন
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
বলা চলে। মেথির স্বাদ তিতা ধরনের।
এতে রয়েছে রক্তের চিনির
মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি।
প্রতিদিন
সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা
এক গ্লাস
পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই
পানি খেলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে,
বিশেষত কৃমি মরে, রক্তের চিনির
মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর
কোলেস্টেরল বা চর্বির
মাত্রা কমে যায়। এই
গরমে ত্বকে যে ঘা, ফোড়া, গরমজনিত
ত্বকের অসুখ হয়, এই অসুখগুলো দূর
করে মেথি।
বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে তারুণ্যকে
দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
রাখে মেথি। গবেষণা করে দেখা গেছে,
যে ডায়াবেটিক রোগীরা নিয়মিত
মেথি খান, তাঁদের ডায়াবেটিসজনিত
অসুখগুলো কম হয় এবং স্ট্রোক হওয়ার
প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য
মেথি শ্রেষ্ঠ পথ্য।
যাদের ডায়াবেটিস নেই মেথি তাদের
জন্যও জরুরি। মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য
কালো জিরার
মতো মেথি পিষে খাওয়াটাও যথেষ্ট
উপকার। তবে খেয়াল রাখতে হবে,
মেথি ভেজে পিষলে পুষ্টি সব নষ্ট
হয়ে যাবে।
রৌদ্রে শুকিয়ে নিয়ে ভাজলে খেতে মচমচে
লাগবে। মেথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,
শরীরকে রাখে সতেজ। রক্তের
উপাদানগুলোকে করে কর্মক্ষম।
ফলে মানুষের কর্মোদ্দীপনাও
বৃদ্ধি পায়। মৌসুমি রোগগুলোর
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। নানাবিধ গুণের
জন্যই মেথি হোক আপনার পরিবারের
সদস্য।
ফারহানা মোবিন
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
মৌসুমি ফল কীভাবে খাবেন

এখন ফলের মৌসুম। কারণ এ সময় একই
সঙ্গে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু
ইত্যাদি ফলে মানুষের প্রতিদিনের
খাদ্যতালিকা দীর্ঘ হয়ে ওঠে। এই
ফলগুলো যেমন রসালো,
তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এসব
ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম,
পটাশিয়ামসহ অন্যান্য খনিজ লবণ।
তা ছাড়া প্রতিটি ফলের রয়েছে ভিন্ন
ভিন্ন পুষ্টিমূল্য।
আম: স্বাদ ও ঘ্রাণের জন্য এ
মৌসুমে অন্য সব ফলের চেয়ে আম
শীর্ষে অবস্থান করে। কাঁচা ও
পাকা উভয়ভাবেই আম খাওয়া যায়।
গ্যালিক এসিডের জন্য কাঁচা আম টক
হয়। কাঁচা আম দিয়ে চাটনি, মোরব্বা,
আচার, শরবত তৈরি করা হয়। আম
সহজপাচ্য ফল। পাকা আম
ক্যারোটিনসমৃদ্ধ ও স্বাদে মিষ্টি।
ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য
পাকা আম খুবই উপকারী।
কাঁঠাল: কাঁঠাল কাঁচা ও পাকা দুভাবেই
খাওয়া যায়। তবে কাঁচা কাঁঠাল
বা এঁচোড় তরকারি হিসেবেই
বেশি উপাদেয়। এতে থাকে প্রচুর
শর্করা ও ক্যালসিয়াম। এ
ছাড়া কাঁঠালের বিচিও আমাদের
খাবারের অন্তর্ভুক্ত।
পাকা কাঁঠালে ক্যারোটিন রয়েছে প্রায়
চার হাজার ৭০০ মাইক্রোগ্রাম।
কাঁঠাল শক্তিবর্ধক। কারণ
এতে রয়েছে প্রচুর খাদ্যশক্তি।
লিচু: ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ এই ফল খুবই
অল্প সময় থাকে। এটি বেশ রসালো ও
সুস্বাদু। লিচু তৃষ্ণা নিবারক।
তা ছাড়া এই ফল দেহকে শীতল ও সতেজ
রাখে।
জাম: কালো জামে লৌহের পরিমাণ
বেশি বলে রক্তস্বল্পতায় বেশ
উপকারী। পাকা জাম মিষ্টি ও
মুখরোচক। কিছুটা কষভাব রয়েছে।
জামের রসে পাকস্থলী ও যকৃৎ সুস্থ
থাকে। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রে ডায়াবেটিস
প্রতিরোধে জাম ও এর বিচির ব্যবহার
রয়েছে। তবে জামে খুব বেশি জৈব এসিড
থাকার কারণে বেশি খেলে পেটে গ্যাস
হতে পারে।
তরমুজ: গ্রীষ্মকালে ক্রমাগত ঘামের
ফলে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায়
তার অনেকখানি পূরণ
করতে পারে তরমুজ। এর শরবত বেশ
শীতল। এতে লৌহ ও ভিটামিনের পরিমাণ
উচ্চমাত্রায়
রয়েছে বলে রক্তস্বল্পতা ও
রাতকানা রোগে ভালো ফল দেয়।
টাইফয়েডের রোগীকে বারবার তরমুজের
রস দিলে জ্বরের মাত্রা কমে আসে।
আনারস: টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য
আনারস অনেকেরই প্রিয়। এর জুস
আরও উপাদেয়। বাত ও জ্বরের
কারণে শরীরে ব্যথা হলে আনারসের রস
তা দূর করতে সাহায্য করে।
এদিকে রক্তে ইউরিক এসিডের
মাত্রা কমাতেও আনারসের জুড়ি নেই।
আনারসে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক ও
প্রদাহবিরোধী পদার্থ।
তালের শাঁস: তাল পাকে ভাদ্র মাসে।
তবে এই সময়ের ফলের মধ্যে কচি তাল
বা তালের শাঁস বেশ জনপ্রিয়।
এটি রসালো বলে দেহে শীতল আমেজ
আনে। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের
পাশাপাশি এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম
রয়েছে।
জামরুল: হালকা সবুজ রঙের এ
ফলটি নবাব ও জমিদারদের কাছে বেশ
সমাদৃত ছিল। এর আকৃতি ও
রং সবাইকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য ফলের
চেয়ে স্বাদে কম হলেও এতে পানির
পরিমাণ প্রচুর। ডায়াবেটিস থাকলে এই
ফল প্রচুর পরিমাণে খাওয়া যায়।
সব ফলেই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে,
যা ত্বকের নিষ্প্রভ ভাব
কমাতে সাহায্য করে। আমাদের
দেশে আরও অনেক ফল পাওয়া যায়,
যা পুষ্টিমানসমৃদ্ধ। কিন্তু দুঃখের
বিষয় যত দিন যাচ্ছে, ততই
আমরা ফলের প্রকৃত স্বাদ ও
পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। পাকা ফলের
সত্যিকারের স্বাদ কেমন,
তা হয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
জানতেই পারবে না। কিছু অসাধু
ব্যবসায়ীর কারণে এসব ফল আমাদের
জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ।
স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কাঁচা ফল
রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে পাকানোর
একটা প্রতিযোগিতা চলছে, যা আমাদের
স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
ক্রমাগত এই বিষাক্ত ফল খাওয়ার
কারণে কিডনি, লিভার ও ত্বকের ওপর
বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে বমি,
মাথাব্যথা ও ডায়রিয়া হতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বাইড
অথবা ইথোফেন—যে ধরনের
রাসায়নিকই দেওয়া হোক না কেন,
যদি একটু সচেতনভাবে ফল খাওয়া যায়,
তবে কিছুটা ক্ষতির হাত
থেকে বাঁচা সম্ভব। আম খাওয়ার
আগে দুই ঘণ্টা অথবা তার চেয়ে কিছু
বেশি সময় পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
এরপর
উঠিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে কাটতে হবে।
তবে আমের আঁটি না খাওয়াই ভালো। এ
ছাড়া যেকোনো ফল
বা সবজিতে রাসায়নিক দেওয়ার পর
৭২ ঘণ্টার মধ্যে না খাওয়ার
পরামর্শও বিশেষজ্ঞদের রয়েছে।
গ্রাম বাংলায় একটি কথা প্রচলিত
আছে—কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো।
সুতরাং কাঁঠাল পাকানোর জন্য
রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না।
আধা পাকা কাঁঠাল
ফিটকিরি অথবা মাঝামাঝি স্থানে একটি
লম্বা কাঠি ঢুকিয়ে রাখলে দুই-এক
দিনেই পেকে যায়।
এতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। যেমন,
ধোঁয়ার সাহায্যে কলা পাকানো হয়।
ব্যাপারটি সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখবেন?
লিচুর রং কাঁচা অবস্থায় সবুজ। পাকার
পর হয় ইটালাল। এখন
গাছে স্প্রে করার ফলে সব লিচু
একেবারে পরিষ্কার ঝকঝকে গাঢ়
ম্যাজেন্টা রং ধারণ করে,
যা দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর। চকচক
করলেই যে সোনা হয় না, এসব লিচু
দেখলে সে কথা মনে পড়ে যায়। কারণ,
লিচুর প্রকৃত রং এটি নয়। এ ধরনের
লিচু না কেনাই ভালো। আনারস,
তরমুজও বিষের ছোবল থেকে রেহাই
পাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, জাম, জামরুল, সফেদা, তালের
শাঁস, ডেউয়া, অরবরই
ইত্যাদি অনেকটা নিরাপদ। যেসব
ফলে মুনাফা বেশি, সেসব ফলেই
রাসায়নিক বেশি।
দেখা যাচ্ছে কাঁচা আম, কাঁচা কাঁঠাল
এবং শক্ত খোসার ফল—যেমন বেল
খাওয়াই উত্তম।
সবশেষে বলতে চাই, রাসায়নিকযুক্ত
ফল খাওয়া আর ধীরগতিতে বিষ
(স্লো পয়জন) খাওয়া একই কথা।
সুতরাং নিরাপদ ফলই সবার কাম্য।
আখতারুন নাহার
বিভাগীয় প্রধান, পুষ্টি বিভাগ,
বারডেম
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো,
চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা: প্রতারিত জনগণ
অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার
পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা-
পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ মেডিসিন
বিশ্বের সর্বত্র স্বীকৃত। গাছগাছড়ার
ভেষজ চিকিৎসা থেকে শুরু
করে আকুপাংচার, হাইড্রোথেরাপি,
অ্যারোমাথেরাপি ইত্যাদি ব্যতিক্রমী
চিকিৎসা বিভিন্ন দেশে চালু আছে।
হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ
কিংবা ইউনানি পদ্ধতিতে চিকিৎসা তো
অনেক দেশে সরকারিভাবে হাসপাতাল
প্রতিষ্ঠা করেই দেওয়া হয়। চিকিৎসার
মূল লক্ষ্য রোগীকে সুস্থ করা,
তা সম্ভব
না হলে উপসর্গগুলো কমানো এবং
অবশ্যই কোনো ক্ষতি না করা। তাই
যে পদ্ধতিতেই চিকিৎসা দেওয়া হোক
না কেন, তার পেছনে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি।
ভেষজ চিকিৎসা হলেও তা যথাযথ
হতে হবে, এর পেছনে পর্যাপ্ত
বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও
অভিজ্ঞতা থাকতে হবে,
মনগড়া যা খুশি তা করার সুযোগ
কারোর নেই।
আমাদের দেশেও অ্যালোপ্যাথিক
চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য
চিকিৎসা-পদ্ধতি চালু আছে। কিন্তু
দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই সঙ্গে চালু
আছে অপচিকিৎসা। বিশেষ করে, ভেষজ
বা হারবাল চিকিৎসার নামেই এসব
অপচিকিৎসা করা হয় বেশি। রাস্তার
ফুটপাত থেকে শুরু
করে অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা এক-দুই
রুমের ‘চেম্বার’ থেকে এসব
চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা প্রদানকারী ‘চিকিৎসক’
নিজেকে নানা রকম
আজগুবি উপাধিতে ভূষিত করেন।
নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও এঁদের
সিংহ ভাগেরই ন্যূনতম প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের জ্ঞানটুকুও নেই।
তবে মানুষকে ঠকানোর জন্য যথেষ্ট
ফন্দিফিকির তাঁদের জানা থাকে। তাই
কেউ কাল্পনিক স্থান
থেকে চিকিৎসা শিখে আসার দাবি করেন,
কেউ বা বংশপরম্পরায়
চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে পরিচয়
দেন, কেউ ধর্মগ্রন্থকে জ্ঞানের উৎস
হিসেবে দাবি করেন, কেউ বা স্রেফ
স্বপ্নেই ওষুধের সন্ধান পেয়ে যান।
এমনও দেখা যায়, বড় কোনো ওলি-
আল্লাহর নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছ
থেকে পাওয়া ওষুধ হিসেবে চালিয়ে দেন।
চটকদারি কাজ-কারবার
দেখা যায় ফুটপাত বা রাস্তার
ধারে বৃত্তাকার লোকের জটলা, মাঝ
থেকে মাইকে কারও গলা ভেসে আসছে।
নানা অঙ্গভঙ্গিতে আকর্ষণীয়ভাবে
বিভিন্ন রোগের লক্ষণ এবং সর্বরোগ
নিরাময়কারী ওষুধের
কথা বলে যাচ্ছেন। তাঁর সামনে হরেক
রকমের গাছের বাকল, শিকড়, ফল
বা কোনো প্রাণীর অঙ্গবিশেষ।
লোকজনও মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর
কথা শুনছে। এ ধরনের দৃশ্য ফুটপাত
থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার,
লঞ্চ-বাস-রেলস্টেশন—সর্বত্রই
একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
অনেকে এভাবে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন,
‘নির্দিষ্ট সময়ে আপনার রোগ
ভালো করতে না পারলে পুরো ওষুধের
টাকা ফেরত দিয়ে দেব, এ
গ্যারান্টি দিচ্ছি।’ এ ধরনের চটকদার
কথাবার্তায় বা বিজ্ঞাপন দিয়ে সরল
মানুষকে বিভ্রান্ত করে ওষুধ
কিনতে বাধ্য করায় এসব
অপচিকিৎসাকারীর কোনো জুড়ি নেই।
নিত্যনতুন পন্থায় তাঁরা তাঁদের পণ্যের
প্রচার চালিয়ে যান। ফুটপাতে মাইক
দিয়ে নানা কথার তুবড়ি ছুটিয়ে এসব
ব্যবসা চলে। পণ্য বিক্রি করা হয়
বাসে, রেলস্টেশনে, মার্কেটে, মেলায়।
প্রচারণা চালানো হয় লিফলেট দিয়ে।
এসব লিফলেট আবার চলতি গাড়ির
ভেতর ছুড়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া পোস্টার,
সাইনবোর্ড তো আছেই। এসব
প্রচারণায় তাঁরা যে শুধু সুচিকিৎসার
দাবি করেন তা-ই নয়, বেশির ভাগ
ক্ষেত্রেই ১০০ ভাগ সাফল্যের
নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এভাবে সমাজের
নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের
তাঁরা প্রলোভন দেখান। কেব্ল টিভি,
ডিভিডি বা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বড়
বড় বিজ্ঞাপন ছাড়াও আকর্ষণীয়
ছবির
মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সুশিক্ষিত
মধ্যবিত্তদের, এমনকি কিছু কিছু
ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদেরও
ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহককে বিভিন্ন
পন্থায় আকর্ষণ করা হচ্ছে। কাল্পনিক
রোগ আবিষ্কার করে, মানবদেহের
স্বাভাবিকতাকে অসুখ হিসেবে প্রচার
করে সেসবের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে।
মূলত স্বল্প শিক্ষিত যুবক-যুবতী,
যাঁরা নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায়
ভোগেন, তাঁদের এভাবে আকর্ষণ
করা হচ্ছে। আবার যাঁরা ধর্মভীরু,
তাঁদের
ফাঁদে ফেলতে প্রচারণা চালানো হয় টুপি-
দাড়ি পরা কাউকে দিয়ে, মহিলাদের জন্য
বোরকা পরা নারীদের দিয়ে।
অন্যদিকে যাঁরা আধুনিক
হিসেবে নিজেকে দেখতে পছন্দ করেন,
তাঁদের জন্য একই পণ্য প্রচার হয়
ভিন্ন আঙ্গিকে। দেখা যায় স্যুট-টাই
পরা কেউ তথাকথিত বৈজ্ঞানিক
যুক্তি দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ
বর্ণনা করছেন। মানুষের মানসিক
দুর্বলতা বা অনুভূতিকেও তাঁরা চতুর
পন্থায় ব্যবহার করে থাকেন।
ক্যানসারে বা অন্য কোনো জটিল
অসুখে আক্রান্ত মৃতপ্রায় রোগীর
স্বজনের অসহায়ত্বকে ব্যবহার
করতে ‘জীবনের শেষ চিকিৎসা’-জাতীয়
স্লোগান ব্যবহার করে থাকেন।
নিঃসন্তান দম্পতিদের মানসিক
যাতনাকে পুঁজি করে তাঁদের সহজেই
প্রতারিত করতে সক্ষম হন।
এমনকি অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিও
এভাবে প্রতারিত হন। তবে এসব
অপচিকিৎসাকেন্দ্রের প্রতারণার মূল
লক্ষ্য থাকে দরিদ্র শ্রেণীর শিক্ষার
আলোবিহীন মানুষজন, যাদের খুব
সহজেই যেকোনো অলীক বস্তু বিশ্বাস
করানো যায়। এদের স্বল্প
মূল্যে সুচিকিৎসার আশ্বাস
দিয়ে নিয়ে আসা হয়, এরপর
নানা বাহানায় টাকা নিয়ে কাল্পনিক
ওষুধ দিয়ে সর্বস্বান্ত
করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সর্বরোগের মহৌষধ
ভেষজ বা হারবালের নামে যেসব অসুখের
চিকিৎসা করা হয়, তার
মধ্যে আছে মূলত স্বাস্থ্য
ভালো করা তথা ওজন বাড়ানো, যৌন
সমস্যা, হাঁপানি, বাত-ব্যথা, দাঁতের
চিকিৎসা, অর্শ, গেজ, ভগন্দর,
হেপাটাইটিস, এইডস, ক্যানসার,
স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। মূলত
দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক অসুখ,
যা ভালো হতে অনেক সময়
লাগে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে
সম্পূর্ণ আরোগ্য হয় না, সেসব রোগই
এঁদের লক্ষ্য। কেউ কেউ আবার এমন
ওষুধও বিক্রি করেন, যা কি না সব
রোগ ভালো করে থাকে।
এসব কাল্পনিক ওষুধে যে কোনো রোগ
ভালো হয় না, তা বলাই বাহুল্য। এসবের
কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বরং এতে শারীরিক ও মানসিক
ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। বেশির
ভাগ ক্ষেত্রে এসব ওষুধ নানা রকমের
শিকড়-বাকড় ও
লতাপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়,
হয়তো প্রস্তুতকারী নিজেও সেসবের
নাম জানেন না। এসব খেয়ে অনেকেই
পেটের পীড়া থেকে শুরু করে যকৃৎ ও
কিডনির গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত
হন। অনেক সময় এসব ওষুধের উপাদান
মানুষের শরীরে বিষক্রিয়া ঘটায়,
কখনো বা মারাত্মক অ্যালার্জির
মতো হয়, অনেক সময় পুরো শরীরের
চামড়াই উঠে যেতে থাকে। এ ছাড়া কিছু
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব
অপচিকিৎসা করতে করতে অনেক সময়
ও অর্থ ব্যয় হয়ে যায়।
বাছবিচারহীনভাবে ওষুধ সেবনের
ফলে সৃষ্ট গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতার
সৃষ্টি হয়। যে অসুখ একসময়
নিরাময়যোগ্য ছিল, তা এতটাই খারাপ
হয়ে যায় যে প্রচলিত চিকিৎসায়ও
তা আর ভালো করা যায় না,
চিকিৎসকদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
বিশেষ করে, ক্যানসারের চিকিৎসায়
এটা প্রায়ই দেখা যায়। আমাদের
অনেকের ধারণা, ক্যানসার মানেই এর
কোনো চিকিৎসা নেই। তাই কেউ কেউ
ক্যানসার হলে চিকিৎসকের
কাছে না গিয়ে এসব অপচিকিৎসাকারীর
শরণাপন্ন হন। এতে মূল্যবান সময়
অপচয় হয়। অথচ আধুনিক চিকিৎসায়
অনেক ক্যানসার এখন
পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। শুধু
সময়মতো না আসায় এঁদের অনেককেই
আর ভালো করা যায় না। এ ছাড়া এসব
চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়ে যখন
রোগী হাসপাতালে আসেন, তখন
দেখা যায় ন্যূনতম ওষুধ কেনারও
সামর্থ্য নেই। এভাবে এসব
হাতুড়ে চিকিৎসায় লাভ তো হয়ই না,
বরং আরোগ্য লাভের পথও বন্ধ
হয়ে যায়।
যেমন ইচ্ছা স্টেরয়েড
আরেকটি সমস্যা হলো চতুর প্রতারক
অনেক সময় ভেষজ ওষুধের
সঙ্গে প্রচলিত ওষুধও মিশিয়ে দেন।
যেমন হাঁপানির ওষুধে উচ্চমাত্রার
স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ
মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এসব ওষুধ
খেলে রোগীর সাময়িক ভালো লাগে।
কিন্তু তাঁরা জানেন না কোন
রোগীকে কোন স্টেরয়েড কী মাত্রায়,
কত দিন দিতে হয়, এর
কী কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
ফলে দীর্ঘদিন এসব ওষুধ উচ্চমাত্রায়
খেয়ে অনেকে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যায়
পড়েন। মোটা হওয়ার জন্যও
অনেকে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড দিনের
পর দিন খাওয়ান। এতে ওজন
বাড়ে বৈকি, এর সঙ্গে সঙ্গে কুশিংস
সিনড্রোম নামে মারাত্মক
প্রাণঘাতী রোগ দেহে বাসা বাঁধে, জীবন
দুর্বিষহ
হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে রোগী মানতে
বাধ্য হন যে তিনি আগেই ভালো ছিলেন।
একইভাবে এঁরা যৌন সমস্যায়
ভায়াগ্রা-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন,
রুচি বৃদ্ধির জন্য দেন পেরি-অ্যাকটিন,
দাঁত পরিষ্কারের জন্য দেন
হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এসব ওষুধের
বৈজ্ঞানিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁদের
কোনো ধারণাই নেই। ফলে অপ্রয়োজনে,
ভুল ওষুধ ব্যবহারে রোগীর গুরুতর
সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি মৃত্যুও
হতে পারে। এ কথা সত্য যে বিজ্ঞানের
চরম উন্নতি ও অত্যাধুনিক পরীক্ষা-
নিরীক্ষা এবং অনেক আবিষ্কারের
যুগেও অনেক রোগের কার্যকর ওষুধ
আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। অনেক
রোগই এখনো ভালো করা যায় না।
সেখানে এ ধরনের অপচিকিৎসক
কীভাবে ১০০ ভাগ সুস্থ করার
গ্যারান্টিসহ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন?
বিভ্রান্ত হবেন না
হারবাল চিকিৎসা আমাদের
দেশে স্বীকৃত। এ ক্ষেত্রে অনেক
অভিজ্ঞ জ্ঞানী চিকিৎসকও আছেন,
যাঁরা স্বীকৃত পদ্ধতিতে কার্যকর ওষুধ
দিয়ে থাকেন। সঠিক পন্থায় ব্যবহূত
আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি-জাতীয় ভেষজ
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভেষজ
ওষুধ সংক্রামক ও
দীর্ঘমেয়াদি রোগে কার্যকর। কিন্তু
তার মানে এই নয়, কোনো পড়াশোনা ও
অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাল্পনিক
স্বউদ্ভাবিত ওষুধকে নানা রকম
চটকদার নাম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের
অসুখের মহৌষধ বলে দাবি করবেন আর
মানুষের চিকিৎসা করবেন। বৈজ্ঞানিক
ভিত্তি নেই—এমন
কোনো চিকিৎসা কেউ করার
দাবি করতে পারেন না।
এতে মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত
করা হয়। অথচ অনেকেরই
হয়তো জানা নেই যে ওষুধের
প্রচারণা মেডিকেল
নীতিমালা পরিপন্থী, প্রচলিত আইনও
যা সমর্থন করে না।
জনগণকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন
হতে হবে। তাঁরা যেন এসব চটকদার
বিজ্ঞাপনে ভুলে গিয়ে এ ধরনের
অপচিকিৎসাকারীদের
কাছে ছুটে না যান। বিশেষ করে,
যৌনরোগ, হাঁপানি, বাত,
ব্যথা ইত্যাদি ক্ষেত্রেই প্রতারিত
হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এসব
রোগীকে বিশেষভাবে সাবধান
থাকতে হবে। গণমাধ্যমগুলোকে শুধু
বাণিজ্যিকভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার
করার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক
হতে হবে এবং এসব চটকদার
বিজ্ঞাপনের সত্য-মিথ্যা যাচাই
করে নিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট
প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও
মিডিয়া মানুষকে সচেতন করতে পারে।
এভাবে চিকিৎসার
নামে অপচিকিৎসা করে মানুষকে যাঁরা
মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছেন, তাঁদের
বিরুদ্ধে যথাযথ
ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বি এম আবদুল্লাহ
অলংকরণ: তুলি ডিন, মেডিসিন অনুষদ,
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
Read More
পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা-
পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ মেডিসিন
বিশ্বের সর্বত্র স্বীকৃত। গাছগাছড়ার
ভেষজ চিকিৎসা থেকে শুরু
করে আকুপাংচার, হাইড্রোথেরাপি,
অ্যারোমাথেরাপি ইত্যাদি ব্যতিক্রমী
চিকিৎসা বিভিন্ন দেশে চালু আছে।
হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ
কিংবা ইউনানি পদ্ধতিতে চিকিৎসা তো
অনেক দেশে সরকারিভাবে হাসপাতাল
প্রতিষ্ঠা করেই দেওয়া হয়। চিকিৎসার
মূল লক্ষ্য রোগীকে সুস্থ করা,
তা সম্ভব
না হলে উপসর্গগুলো কমানো এবং
অবশ্যই কোনো ক্ষতি না করা। তাই
যে পদ্ধতিতেই চিকিৎসা দেওয়া হোক
না কেন, তার পেছনে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি।
ভেষজ চিকিৎসা হলেও তা যথাযথ
হতে হবে, এর পেছনে পর্যাপ্ত
বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও
অভিজ্ঞতা থাকতে হবে,
মনগড়া যা খুশি তা করার সুযোগ
কারোর নেই।
আমাদের দেশেও অ্যালোপ্যাথিক
চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য
চিকিৎসা-পদ্ধতি চালু আছে। কিন্তু
দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই সঙ্গে চালু
আছে অপচিকিৎসা। বিশেষ করে, ভেষজ
বা হারবাল চিকিৎসার নামেই এসব
অপচিকিৎসা করা হয় বেশি। রাস্তার
ফুটপাত থেকে শুরু
করে অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা এক-দুই
রুমের ‘চেম্বার’ থেকে এসব
চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা প্রদানকারী ‘চিকিৎসক’
নিজেকে নানা রকম
আজগুবি উপাধিতে ভূষিত করেন।
নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও এঁদের
সিংহ ভাগেরই ন্যূনতম প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের জ্ঞানটুকুও নেই।
তবে মানুষকে ঠকানোর জন্য যথেষ্ট
ফন্দিফিকির তাঁদের জানা থাকে। তাই
কেউ কাল্পনিক স্থান
থেকে চিকিৎসা শিখে আসার দাবি করেন,
কেউ বা বংশপরম্পরায়
চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে পরিচয়
দেন, কেউ ধর্মগ্রন্থকে জ্ঞানের উৎস
হিসেবে দাবি করেন, কেউ বা স্রেফ
স্বপ্নেই ওষুধের সন্ধান পেয়ে যান।
এমনও দেখা যায়, বড় কোনো ওলি-
আল্লাহর নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছ
থেকে পাওয়া ওষুধ হিসেবে চালিয়ে দেন।
চটকদারি কাজ-কারবার
দেখা যায় ফুটপাত বা রাস্তার
ধারে বৃত্তাকার লোকের জটলা, মাঝ
থেকে মাইকে কারও গলা ভেসে আসছে।
নানা অঙ্গভঙ্গিতে আকর্ষণীয়ভাবে
বিভিন্ন রোগের লক্ষণ এবং সর্বরোগ
নিরাময়কারী ওষুধের
কথা বলে যাচ্ছেন। তাঁর সামনে হরেক
রকমের গাছের বাকল, শিকড়, ফল
বা কোনো প্রাণীর অঙ্গবিশেষ।
লোকজনও মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর
কথা শুনছে। এ ধরনের দৃশ্য ফুটপাত
থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার,
লঞ্চ-বাস-রেলস্টেশন—সর্বত্রই
একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
অনেকে এভাবে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন,
‘নির্দিষ্ট সময়ে আপনার রোগ
ভালো করতে না পারলে পুরো ওষুধের
টাকা ফেরত দিয়ে দেব, এ
গ্যারান্টি দিচ্ছি।’ এ ধরনের চটকদার
কথাবার্তায় বা বিজ্ঞাপন দিয়ে সরল
মানুষকে বিভ্রান্ত করে ওষুধ
কিনতে বাধ্য করায় এসব
অপচিকিৎসাকারীর কোনো জুড়ি নেই।
নিত্যনতুন পন্থায় তাঁরা তাঁদের পণ্যের
প্রচার চালিয়ে যান। ফুটপাতে মাইক
দিয়ে নানা কথার তুবড়ি ছুটিয়ে এসব
ব্যবসা চলে। পণ্য বিক্রি করা হয়
বাসে, রেলস্টেশনে, মার্কেটে, মেলায়।
প্রচারণা চালানো হয় লিফলেট দিয়ে।
এসব লিফলেট আবার চলতি গাড়ির
ভেতর ছুড়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া পোস্টার,
সাইনবোর্ড তো আছেই। এসব
প্রচারণায় তাঁরা যে শুধু সুচিকিৎসার
দাবি করেন তা-ই নয়, বেশির ভাগ
ক্ষেত্রেই ১০০ ভাগ সাফল্যের
নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এভাবে সমাজের
নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের
তাঁরা প্রলোভন দেখান। কেব্ল টিভি,
ডিভিডি বা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বড়
বড় বিজ্ঞাপন ছাড়াও আকর্ষণীয়
ছবির
মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সুশিক্ষিত
মধ্যবিত্তদের, এমনকি কিছু কিছু
ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদেরও
ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহককে বিভিন্ন
পন্থায় আকর্ষণ করা হচ্ছে। কাল্পনিক
রোগ আবিষ্কার করে, মানবদেহের
স্বাভাবিকতাকে অসুখ হিসেবে প্রচার
করে সেসবের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে।
মূলত স্বল্প শিক্ষিত যুবক-যুবতী,
যাঁরা নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায়
ভোগেন, তাঁদের এভাবে আকর্ষণ
করা হচ্ছে। আবার যাঁরা ধর্মভীরু,
তাঁদের
ফাঁদে ফেলতে প্রচারণা চালানো হয় টুপি-
দাড়ি পরা কাউকে দিয়ে, মহিলাদের জন্য
বোরকা পরা নারীদের দিয়ে।
অন্যদিকে যাঁরা আধুনিক
হিসেবে নিজেকে দেখতে পছন্দ করেন,
তাঁদের জন্য একই পণ্য প্রচার হয়
ভিন্ন আঙ্গিকে। দেখা যায় স্যুট-টাই
পরা কেউ তথাকথিত বৈজ্ঞানিক
যুক্তি দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ
বর্ণনা করছেন। মানুষের মানসিক
দুর্বলতা বা অনুভূতিকেও তাঁরা চতুর
পন্থায় ব্যবহার করে থাকেন।
ক্যানসারে বা অন্য কোনো জটিল
অসুখে আক্রান্ত মৃতপ্রায় রোগীর
স্বজনের অসহায়ত্বকে ব্যবহার
করতে ‘জীবনের শেষ চিকিৎসা’-জাতীয়
স্লোগান ব্যবহার করে থাকেন।
নিঃসন্তান দম্পতিদের মানসিক
যাতনাকে পুঁজি করে তাঁদের সহজেই
প্রতারিত করতে সক্ষম হন।
এমনকি অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিও
এভাবে প্রতারিত হন। তবে এসব
অপচিকিৎসাকেন্দ্রের প্রতারণার মূল
লক্ষ্য থাকে দরিদ্র শ্রেণীর শিক্ষার
আলোবিহীন মানুষজন, যাদের খুব
সহজেই যেকোনো অলীক বস্তু বিশ্বাস
করানো যায়। এদের স্বল্প
মূল্যে সুচিকিৎসার আশ্বাস
দিয়ে নিয়ে আসা হয়, এরপর
নানা বাহানায় টাকা নিয়ে কাল্পনিক
ওষুধ দিয়ে সর্বস্বান্ত
করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সর্বরোগের মহৌষধ
ভেষজ বা হারবালের নামে যেসব অসুখের
চিকিৎসা করা হয়, তার
মধ্যে আছে মূলত স্বাস্থ্য
ভালো করা তথা ওজন বাড়ানো, যৌন
সমস্যা, হাঁপানি, বাত-ব্যথা, দাঁতের
চিকিৎসা, অর্শ, গেজ, ভগন্দর,
হেপাটাইটিস, এইডস, ক্যানসার,
স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। মূলত
দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক অসুখ,
যা ভালো হতে অনেক সময়
লাগে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে
সম্পূর্ণ আরোগ্য হয় না, সেসব রোগই
এঁদের লক্ষ্য। কেউ কেউ আবার এমন
ওষুধও বিক্রি করেন, যা কি না সব
রোগ ভালো করে থাকে।
এসব কাল্পনিক ওষুধে যে কোনো রোগ
ভালো হয় না, তা বলাই বাহুল্য। এসবের
কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বরং এতে শারীরিক ও মানসিক
ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। বেশির
ভাগ ক্ষেত্রে এসব ওষুধ নানা রকমের
শিকড়-বাকড় ও
লতাপাতা দিয়ে তৈরি করা হয়,
হয়তো প্রস্তুতকারী নিজেও সেসবের
নাম জানেন না। এসব খেয়ে অনেকেই
পেটের পীড়া থেকে শুরু করে যকৃৎ ও
কিডনির গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত
হন। অনেক সময় এসব ওষুধের উপাদান
মানুষের শরীরে বিষক্রিয়া ঘটায়,
কখনো বা মারাত্মক অ্যালার্জির
মতো হয়, অনেক সময় পুরো শরীরের
চামড়াই উঠে যেতে থাকে। এ ছাড়া কিছু
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব
অপচিকিৎসা করতে করতে অনেক সময়
ও অর্থ ব্যয় হয়ে যায়।
বাছবিচারহীনভাবে ওষুধ সেবনের
ফলে সৃষ্ট গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতার
সৃষ্টি হয়। যে অসুখ একসময়
নিরাময়যোগ্য ছিল, তা এতটাই খারাপ
হয়ে যায় যে প্রচলিত চিকিৎসায়ও
তা আর ভালো করা যায় না,
চিকিৎসকদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
বিশেষ করে, ক্যানসারের চিকিৎসায়
এটা প্রায়ই দেখা যায়। আমাদের
অনেকের ধারণা, ক্যানসার মানেই এর
কোনো চিকিৎসা নেই। তাই কেউ কেউ
ক্যানসার হলে চিকিৎসকের
কাছে না গিয়ে এসব অপচিকিৎসাকারীর
শরণাপন্ন হন। এতে মূল্যবান সময়
অপচয় হয়। অথচ আধুনিক চিকিৎসায়
অনেক ক্যানসার এখন
পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। শুধু
সময়মতো না আসায় এঁদের অনেককেই
আর ভালো করা যায় না। এ ছাড়া এসব
চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়ে যখন
রোগী হাসপাতালে আসেন, তখন
দেখা যায় ন্যূনতম ওষুধ কেনারও
সামর্থ্য নেই। এভাবে এসব
হাতুড়ে চিকিৎসায় লাভ তো হয়ই না,
বরং আরোগ্য লাভের পথও বন্ধ
হয়ে যায়।
যেমন ইচ্ছা স্টেরয়েড
আরেকটি সমস্যা হলো চতুর প্রতারক
অনেক সময় ভেষজ ওষুধের
সঙ্গে প্রচলিত ওষুধও মিশিয়ে দেন।
যেমন হাঁপানির ওষুধে উচ্চমাত্রার
স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ
মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এসব ওষুধ
খেলে রোগীর সাময়িক ভালো লাগে।
কিন্তু তাঁরা জানেন না কোন
রোগীকে কোন স্টেরয়েড কী মাত্রায়,
কত দিন দিতে হয়, এর
কী কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
ফলে দীর্ঘদিন এসব ওষুধ উচ্চমাত্রায়
খেয়ে অনেকে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যায়
পড়েন। মোটা হওয়ার জন্যও
অনেকে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড দিনের
পর দিন খাওয়ান। এতে ওজন
বাড়ে বৈকি, এর সঙ্গে সঙ্গে কুশিংস
সিনড্রোম নামে মারাত্মক
প্রাণঘাতী রোগ দেহে বাসা বাঁধে, জীবন
দুর্বিষহ
হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে রোগী মানতে
বাধ্য হন যে তিনি আগেই ভালো ছিলেন।
একইভাবে এঁরা যৌন সমস্যায়
ভায়াগ্রা-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন,
রুচি বৃদ্ধির জন্য দেন পেরি-অ্যাকটিন,
দাঁত পরিষ্কারের জন্য দেন
হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এসব ওষুধের
বৈজ্ঞানিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁদের
কোনো ধারণাই নেই। ফলে অপ্রয়োজনে,
ভুল ওষুধ ব্যবহারে রোগীর গুরুতর
সমস্যা দেখা দেয়, এমনকি মৃত্যুও
হতে পারে। এ কথা সত্য যে বিজ্ঞানের
চরম উন্নতি ও অত্যাধুনিক পরীক্ষা-
নিরীক্ষা এবং অনেক আবিষ্কারের
যুগেও অনেক রোগের কার্যকর ওষুধ
আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। অনেক
রোগই এখনো ভালো করা যায় না।
সেখানে এ ধরনের অপচিকিৎসক
কীভাবে ১০০ ভাগ সুস্থ করার
গ্যারান্টিসহ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন?
বিভ্রান্ত হবেন না
হারবাল চিকিৎসা আমাদের
দেশে স্বীকৃত। এ ক্ষেত্রে অনেক
অভিজ্ঞ জ্ঞানী চিকিৎসকও আছেন,
যাঁরা স্বীকৃত পদ্ধতিতে কার্যকর ওষুধ
দিয়ে থাকেন। সঠিক পন্থায় ব্যবহূত
আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি-জাতীয় ভেষজ
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভেষজ
ওষুধ সংক্রামক ও
দীর্ঘমেয়াদি রোগে কার্যকর। কিন্তু
তার মানে এই নয়, কোনো পড়াশোনা ও
অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাল্পনিক
স্বউদ্ভাবিত ওষুধকে নানা রকম
চটকদার নাম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের
অসুখের মহৌষধ বলে দাবি করবেন আর
মানুষের চিকিৎসা করবেন। বৈজ্ঞানিক
ভিত্তি নেই—এমন
কোনো চিকিৎসা কেউ করার
দাবি করতে পারেন না।
এতে মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত
করা হয়। অথচ অনেকেরই
হয়তো জানা নেই যে ওষুধের
প্রচারণা মেডিকেল
নীতিমালা পরিপন্থী, প্রচলিত আইনও
যা সমর্থন করে না।
জনগণকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন
হতে হবে। তাঁরা যেন এসব চটকদার
বিজ্ঞাপনে ভুলে গিয়ে এ ধরনের
অপচিকিৎসাকারীদের
কাছে ছুটে না যান। বিশেষ করে,
যৌনরোগ, হাঁপানি, বাত,
ব্যথা ইত্যাদি ক্ষেত্রেই প্রতারিত
হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এসব
রোগীকে বিশেষভাবে সাবধান
থাকতে হবে। গণমাধ্যমগুলোকে শুধু
বাণিজ্যিকভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার
করার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক
হতে হবে এবং এসব চটকদার
বিজ্ঞাপনের সত্য-মিথ্যা যাচাই
করে নিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট
প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও
মিডিয়া মানুষকে সচেতন করতে পারে।
এভাবে চিকিৎসার
নামে অপচিকিৎসা করে মানুষকে যাঁরা
মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছেন, তাঁদের
বিরুদ্ধে যথাযথ
ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বি এম আবদুল্লাহ
অলংকরণ: তুলি ডিন, মেডিসিন অনুষদ,
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
অতিরিক্ত গরম ও স্বাস্থ্যসমস্যা
গ্রীষ্মকাল সমাগত। চলছে চৈত্র,
আসছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ, প্রচণ্ড
গরমে চারদিক অস্থির। সেই
সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। ফলে জনজীবন
বিপর্যস্ত। বাড়ছে গরমের
স্বাস্থ্যসমস্যা, রোগব্যাধি।
ঘামাচি কিংবা পানিস্বল্পতার
মতো সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই হচ্ছে।
আবার কেউ কেউ হিটস্ট্রোকের
মতো মারাত্মক সমস্যায় আক্রান্ত
হচ্ছে। এর সঙ্গে হতে পারে অবসাদ,
অ্যালার্জি,
সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ে যাওয়া,
হজমের অভাবে বমি বা ডায়রিয়াজনিত
রোগ ইত্যাদি।
গরমের
কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয়,
তা হলো পানিস্বল্পতা। প্রচুর ঘামের
কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর
থেকে প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়।
ফলে শরীরের রক্তচাপ কমে যায়,
দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে।
পানিস্বল্পতা গরমের খুব সাধারণ
সমস্যা হলেও
অবহেলা করলে তা মারাত্মক
হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে, শিশু, বৃদ্ধ
ও অসুস্থ
ব্যক্তি এবং যাঁরা বাইরে কাজ করেন ও
প্রয়োজনমতো পানি পান করার সুযোগ
পান না, তাঁরাই মারাত্মক
পানিস্বল্পতায় আক্রান্ত হন বেশি। এ
ক্ষেত্রে অজ্ঞান
হয়ে যাওয়া এবং কিডনির
সমস্যা হওয়াও বিচিত্র নয়।
পানিস্বল্পতা ছাড়াও গরমের
কারণে ত্বকে ঘামাচি ও
অ্যালার্জি হতে পারে।
গরমে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়, যার
চাপে ঘর্মগ্রন্থি ও নালি ফেটে যায়।
ফলে ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে।
এটাই ঘামাচি। অনেক সময় ঘাম ও
ময়লা জমে ঘর্মনালির মুখ বন্ধ
হয়ে যায় এবং সেখানে ইনফেকশন
হয়ে যেতে পারে। এতে ঘামাচি ও
অ্যালার্জি বেড়ে যায় এবং ঘামে প্রচুর
গন্ধ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও
ঘাম ও ময়লার কারণে ছত্রাকজনিত
রোগও এ সময় বেশি হয়।
গরমে যাঁরা সরাসরি সূর্যের আলোর
নিচে বেশিক্ষণ থাকেন, তাঁদের ত্বক
পুড়ে যেতে পারে। এতে ত্বক লাল
হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে, চুলকায় ও
ফোসকা পড়ে। মূলত সূর্যের
অতিবেগুনি রশ্মিই এর জন্য দায়ী।
যারা একটু ফরসা বা যাদের ত্বক
নাজুক, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।
গরমে সবচেয়ে মারাত্মক
সমস্যা হলো হিটস্ট্রোক।
শুরুতে হিটস্ট্রোকের আগে হিট
ক্র্যাম্পে দেখা দেয়, যাতে শরীর
ব্যথা করে, দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড
পিপাসা লাগে। পরবর্তী সময়ে হিট
ইগজোসশন দেখা দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাস
দ্রুত হয়,
মাথাব্যথা করে এবং রোগী অসংলগ্ন
আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত
ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শরীরের
তাপনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়
এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৫
ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়।
একে হিটস্ট্রোক বলে। এর
লক্ষণগুলো হলো তাপমাত্রা দ্রুত
১০৫ ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়, ঘাম
বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও লাল
হয়ে যায়, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, নাড়ির
স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়, রক্তচাপ
কমে যায়, খিঁচুনি হয়, মাথা ঝিমঝিম
করে এবং রোগী অসংলগ্ন ব্যবহার
করতে থাকে। রোগীর প্রস্রাবের
পরিমাণ কমে যায়, অজ্ঞান হয়ে যায়,
এমনকি শকেও চলে যেতে পারে।
গরমে সরাসরি প্রভাব ছাড়াও অন্য
আনুষঙ্গিক সমস্যা হতে পারে।
অনেকেই
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে বাইরে পানি বা
শরবত খায়, যা অনেক সময় বিশুদ্ধ হয়
না। ফলে ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত
হতে পারে। একই কারণে এ সময়
পানিবাহিত অন্যান্য রোগ, যেমন-
টাইফয়েড, হেপাটাইটিস
ইত্যাদি বেশি হয়। গরমে অনেকে প্রচুর
পানি পান করে, কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত
লবণ থাকে না। ফলে লবণের অভাব
দেখা দেয়। গরমে অনেক সময় খাবার
নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ওই খাবার
খেলে বদহজমসহ অনেক পেটের
পীড়া দেখা দিতে পারে।
গরমের এসব সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য
যা করতে হবে—
যথাসম্ভব ঘরের
ভেতরে বা ছায়াযুক্ত
স্থানে থাকতে হবে।
বাইরে বের হলে সরাসরি রোদ
এড়িয়ে চলতে হবে।
প্রয়োজনে টুপি বা ছাতা ব্যবহার
করতে হবে। পরনের কাপড়
হতে হবে হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতি।
শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে।
শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সম্ভব
হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে,
যা রোদে পোড়া থেকে সুরক্ষা দেবে।
প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান
করতে হবে। যেহেতু ঘামের
সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়,
সেহেতু লবণযুক্ত পানীয়, যেমন-
খাওয়ার স্যালাইন, ফলের রস
ইত্যাদি বেশি করে পান করতে হবে।
অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার
করতে হবে। চা ও কফি যথাসম্ভব কম
পান করা উচিত।
প্রয়োজনমতো গোসল
করতে হবে এবং শরীর ঘাম ও
ময়লামুক্ত রাখতে হবে।
শ্রমসাধ্য কাজ যথাসম্ভব কম
করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ
পরপর বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর
পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।
গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
সাধারণ খাবার, যেমন-ভাত, ডাল,
সবজি, মাছ ইত্যাদি খাওয়া ভালো।
খাবার যেন টাটকা হয়, সেদিকে খেয়াল
রাখতে হবে। নানা রকম ফল, যেমন-
আম, তরমুজ ইত্যাদি এবং লেবুর
শরবত শরীরের প্রয়োজনীয় পানি ও
লবণের ঘাটতি মেটাবে।
শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের বেলায়
আরও বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।
বাচ্চারা স্কুলে গেলে অথবা মাঠে
খেলাধুলা করতে গেলে যেখানে-
সেখানে পানি বা শরবত না খায়,
আজেবাজে খাবার না খায় বরং বিশুদ্ধ
পানি ও পানীয় গ্রহণ করে, তা নিশ্চিত
করতে হবে। বয়স্ক
ব্যক্তিরা অনেকক্ষণ যেন
রোদে চলাফেরা বা কাজকর্ম না করে,
সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
প্রচণ্ড গরমে কেউ যদি অসুস্থ
হয়ে যায়, তবে দ্রুত
ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীকে দ্রুত
শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে।
ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিতে হবে, সম্ভব
না হলে পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে।
রোগীর গরম কাপড়
খুলে দিতে হবে এবং ভেজা কাপড়
দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। সম্ভব
হলে গোসল করাতে হবে। রোগীকে প্রচুর
পানি ও খাওয়ার স্যালাইন
খাওয়াতে হবে। যদি কেউ
হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়
এবং অজ্ঞান হয়ে যায়, তবে দ্রুত
শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। এ
ক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত
হাসপাতালে নিতে হবে,
ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই।
গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা
অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, বৃদ্ধ ও
শিশুদের বেলায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ নিলে দহনজনিত
স্বাস্থ্যসমস্যা থেকে পরিত্রাণ
পাওয়া সম্ভব।
এ বি এম আবদুল্লাহ
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
Read More
আসছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ, প্রচণ্ড
গরমে চারদিক অস্থির। সেই
সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। ফলে জনজীবন
বিপর্যস্ত। বাড়ছে গরমের
স্বাস্থ্যসমস্যা, রোগব্যাধি।
ঘামাচি কিংবা পানিস্বল্পতার
মতো সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই হচ্ছে।
আবার কেউ কেউ হিটস্ট্রোকের
মতো মারাত্মক সমস্যায় আক্রান্ত
হচ্ছে। এর সঙ্গে হতে পারে অবসাদ,
অ্যালার্জি,
সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ে যাওয়া,
হজমের অভাবে বমি বা ডায়রিয়াজনিত
রোগ ইত্যাদি।
গরমের
কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয়,
তা হলো পানিস্বল্পতা। প্রচুর ঘামের
কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর
থেকে প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়।
ফলে শরীরের রক্তচাপ কমে যায়,
দুর্বল লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে।
পানিস্বল্পতা গরমের খুব সাধারণ
সমস্যা হলেও
অবহেলা করলে তা মারাত্মক
হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে, শিশু, বৃদ্ধ
ও অসুস্থ
ব্যক্তি এবং যাঁরা বাইরে কাজ করেন ও
প্রয়োজনমতো পানি পান করার সুযোগ
পান না, তাঁরাই মারাত্মক
পানিস্বল্পতায় আক্রান্ত হন বেশি। এ
ক্ষেত্রে অজ্ঞান
হয়ে যাওয়া এবং কিডনির
সমস্যা হওয়াও বিচিত্র নয়।
পানিস্বল্পতা ছাড়াও গরমের
কারণে ত্বকে ঘামাচি ও
অ্যালার্জি হতে পারে।
গরমে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়, যার
চাপে ঘর্মগ্রন্থি ও নালি ফেটে যায়।
ফলে ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে।
এটাই ঘামাচি। অনেক সময় ঘাম ও
ময়লা জমে ঘর্মনালির মুখ বন্ধ
হয়ে যায় এবং সেখানে ইনফেকশন
হয়ে যেতে পারে। এতে ঘামাচি ও
অ্যালার্জি বেড়ে যায় এবং ঘামে প্রচুর
গন্ধ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও
ঘাম ও ময়লার কারণে ছত্রাকজনিত
রোগও এ সময় বেশি হয়।
গরমে যাঁরা সরাসরি সূর্যের আলোর
নিচে বেশিক্ষণ থাকেন, তাঁদের ত্বক
পুড়ে যেতে পারে। এতে ত্বক লাল
হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে, চুলকায় ও
ফোসকা পড়ে। মূলত সূর্যের
অতিবেগুনি রশ্মিই এর জন্য দায়ী।
যারা একটু ফরসা বা যাদের ত্বক
নাজুক, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।
গরমে সবচেয়ে মারাত্মক
সমস্যা হলো হিটস্ট্রোক।
শুরুতে হিটস্ট্রোকের আগে হিট
ক্র্যাম্পে দেখা দেয়, যাতে শরীর
ব্যথা করে, দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড
পিপাসা লাগে। পরবর্তী সময়ে হিট
ইগজোসশন দেখা দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাস
দ্রুত হয়,
মাথাব্যথা করে এবং রোগী অসংলগ্ন
আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত
ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শরীরের
তাপনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়
এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৫
ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়।
একে হিটস্ট্রোক বলে। এর
লক্ষণগুলো হলো তাপমাত্রা দ্রুত
১০৫ ডিগ্রি ফা. ছাড়িয়ে যায়, ঘাম
বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও লাল
হয়ে যায়, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, নাড়ির
স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়, রক্তচাপ
কমে যায়, খিঁচুনি হয়, মাথা ঝিমঝিম
করে এবং রোগী অসংলগ্ন ব্যবহার
করতে থাকে। রোগীর প্রস্রাবের
পরিমাণ কমে যায়, অজ্ঞান হয়ে যায়,
এমনকি শকেও চলে যেতে পারে।
গরমে সরাসরি প্রভাব ছাড়াও অন্য
আনুষঙ্গিক সমস্যা হতে পারে।
অনেকেই
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে বাইরে পানি বা
শরবত খায়, যা অনেক সময় বিশুদ্ধ হয়
না। ফলে ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত
হতে পারে। একই কারণে এ সময়
পানিবাহিত অন্যান্য রোগ, যেমন-
টাইফয়েড, হেপাটাইটিস
ইত্যাদি বেশি হয়। গরমে অনেকে প্রচুর
পানি পান করে, কিন্তু তাতে পর্যাপ্ত
লবণ থাকে না। ফলে লবণের অভাব
দেখা দেয়। গরমে অনেক সময় খাবার
নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ওই খাবার
খেলে বদহজমসহ অনেক পেটের
পীড়া দেখা দিতে পারে।
গরমের এসব সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য
যা করতে হবে—
যথাসম্ভব ঘরের
ভেতরে বা ছায়াযুক্ত
স্থানে থাকতে হবে।
বাইরে বের হলে সরাসরি রোদ
এড়িয়ে চলতে হবে।
প্রয়োজনে টুপি বা ছাতা ব্যবহার
করতে হবে। পরনের কাপড়
হতে হবে হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতি।
শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখতে হবে।
শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সম্ভব
হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে,
যা রোদে পোড়া থেকে সুরক্ষা দেবে।
প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান
করতে হবে। যেহেতু ঘামের
সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়,
সেহেতু লবণযুক্ত পানীয়, যেমন-
খাওয়ার স্যালাইন, ফলের রস
ইত্যাদি বেশি করে পান করতে হবে।
অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার
করতে হবে। চা ও কফি যথাসম্ভব কম
পান করা উচিত।
প্রয়োজনমতো গোসল
করতে হবে এবং শরীর ঘাম ও
ময়লামুক্ত রাখতে হবে।
শ্রমসাধ্য কাজ যথাসম্ভব কম
করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ
পরপর বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর
পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।
গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
সাধারণ খাবার, যেমন-ভাত, ডাল,
সবজি, মাছ ইত্যাদি খাওয়া ভালো।
খাবার যেন টাটকা হয়, সেদিকে খেয়াল
রাখতে হবে। নানা রকম ফল, যেমন-
আম, তরমুজ ইত্যাদি এবং লেবুর
শরবত শরীরের প্রয়োজনীয় পানি ও
লবণের ঘাটতি মেটাবে।
শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের বেলায়
আরও বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।
বাচ্চারা স্কুলে গেলে অথবা মাঠে
খেলাধুলা করতে গেলে যেখানে-
সেখানে পানি বা শরবত না খায়,
আজেবাজে খাবার না খায় বরং বিশুদ্ধ
পানি ও পানীয় গ্রহণ করে, তা নিশ্চিত
করতে হবে। বয়স্ক
ব্যক্তিরা অনেকক্ষণ যেন
রোদে চলাফেরা বা কাজকর্ম না করে,
সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
প্রচণ্ড গরমে কেউ যদি অসুস্থ
হয়ে যায়, তবে দ্রুত
ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীকে দ্রুত
শীতল কোনো স্থানে নিয়ে যেতে হবে।
ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিতে হবে, সম্ভব
না হলে পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে।
রোগীর গরম কাপড়
খুলে দিতে হবে এবং ভেজা কাপড়
দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। সম্ভব
হলে গোসল করাতে হবে। রোগীকে প্রচুর
পানি ও খাওয়ার স্যালাইন
খাওয়াতে হবে। যদি কেউ
হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়
এবং অজ্ঞান হয়ে যায়, তবে দ্রুত
শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। এ
ক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত
হাসপাতালে নিতে হবে,
ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই।
গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা
অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, বৃদ্ধ ও
শিশুদের বেলায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ নিলে দহনজনিত
স্বাস্থ্যসমস্যা থেকে পরিত্রাণ
পাওয়া সম্ভব।
এ বি এম আবদুল্লাহ
অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
বুক ব্যথা হয় না অনেক হার্ট অ্যাটাকে
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যসূচক
লক্ষণ হলো হঠাৎ বুক ব্যথা।
জানা কথা। তবে অনেকগুলো নতুন
গবেষণাকর্ম থেকে দেখা যায়, অনেক
লোক যাদের
হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে হার্ট অ্যাটাক
সন্দেহ করে, এদের বুক
ব্যথা হয়নি এবং সে জন্য
হালকাভাবে চিকিৎসা হয়েছে তাদের।
তরুণ ও মধ্যবয়সী নারীদের জন্য
পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। ১১ লাখ
লোকের ওপর একটি গবেষণা রিপোর্ট
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হার্ট
অ্যাটাকের জন্য ভর্তি নারীদের ৪২
শতাংশের
আশ্চর্যভাবে কোনো বুকব্যথার
ইতিহাস ছিল না।
তুলনামূলকভাবে ৩০.৭ শতাংশ পুরুষের
মাত্র ছিল না বুক ব্যথার ইতিহাস।
হার্ট অ্যাটাকের পর মহিলাদের মৃত্যুর
সম্ভাবনাও বেশি। গবেষণায় দেখা গেল,
নারীদের মৃত্যুহার ছিল ১৫ শতাংশ,
পুরুষের ছিল তুলনামূলকভাবে ১০
শতাংশ।
এই গবেষণার একজন প্রধান গবেষক
এবং ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড
রিজিওন্যাল মেডিকেল সেন্টারের চেস্ট
পেইন সেন্টারের পরিচালক ডা. জন
জি ক্যান্টো বলেন,
‘আমরা মনে করি এর আংশিক কারণ
হলো যেসব নারীর হার্ট অ্যাটাকের
উপস্থাপনা নিয়ে আসেন তাঁদের
বৈশিষ্ট্যসূচক উপসর্গ নাও
থাকতে পারে।
তাই হার্ট অ্যাটাক
হয়েছে বলে তাঁরা চিহ্নিত হন না:
সম্ভবত, এদের মধ্যে কিছু রোগীর এত
দেরিতে এসব উপসর্গ হয় যে জীবন
রক্ষাকারী পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ হতেও
দেরি হয়ে যায়।’ গবেষণার ফল
প্রকাশিত হয়েছে প্রখ্যাত জার্নাল অব
দি আমেরিকান মেডিকেল
অ্যাসোসিয়েশনের
সম্প্রতি প্রকাশনায়।
স্ত্রী ও পুরুষের মৃত্যুর একটি প্রধান
কারণ হলো হূদরোগ। কেবল আমেরিকায়
নয়, সারা পৃথিবীতে: প্রতিবছর
এতে প্রাণ হারান ৭০ লাখ লোক।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত
হূদেরাগকে পুরুষের রোগ
বলে মনে করা হতো এবং পুরুষকে লক্ষ
করে বা কেন্দ্র
করে অনেকগুলো গবেষণা হয়েছিল
এবং এগুলো থেকে হার্ট অ্যাটাকের
বৈশিষ্ট্যপূর্ণ
লক্ষণগুলো সম্বন্ধে একটি সংকীর্ণ
ছবি আঁকা হয়েছিল মাত্র: বুকব্যথা,
শ্বাসকষ্ট, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ ও বাহু
দিয়ে বয়ে আসা ব্যথা। তবে আরও
অন্তর্গত গবেষণায় দেখা গেল,
স্ত্রী রোগীদের এসব উপসর্গ হলেও,
কখনো কখনো এমন সব উপসর্গ তাদের
হয় যা হার্ট অ্যাটাকের বৈশিষ্ট্যসূচক
নয়, যেমন ঘুমের সমস্যা এবং হার্ট
অ্যাটাকের কয়েক দিন বা কয়েক
সপ্তাহ আগে থেকে গুরুতর ক্লান্তি, এ
ছাড়া শীতলঘাম, দুর্বলতা ও
মাথা ঝিমাঝিম ভাব হার্ট অ্যাটাকের
সময়। নতুন এই গবেষণায় ডা.
ক্যান্টো ও তাঁর
সহকর্মীরা ১৯৯৪-২০০০ সাল
পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের জন্য
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের
জাতীয় নিবন্ধীকৃত
নথি পর্যালোচনা করে পুরুষদের ও
মহিলাদের উপসর্গসমূহ ও মৃত্যুহার
তুলনা করে দেখেছেন।
বুকব্যথা মহিলা ও পুরুষের
মধ্যে সবচেয়ে সচরাচর উপসর্গ হলেও
সর্বমোট ৩৫ শতাংশ রোগীর কখনোই
বুকব্যথা ছিল না।
৫৫-অনূর্ধ্ব নারী যাদের হার্ট
অ্যাটাক হয়েছিল
তবে বুকে অস্বস্তি ছিল না তাদের
হাসপাতালে মৃত্যুঝুঁকি, একই বয়সের
পুরুষ যাদের বৈশিষ্ট্যসূচক হার্ট
অ্যাটাক উপসর্গ ছিল, তাদের তুলনায়
দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি ছিল।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই
পার্থক্য কমে এল এবং পরে মিলিয়েও
গেল। পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে হার্ট
অ্যাটাকের উপসর্গগুলোর তারতম্য
কেন হয়, তা সঠিকভাবে জানা নেই।
তবে ডা. ক্যান্টোর ধারণা, অনেক
উপাদান জড়িত থাকতে পারে।
এমনকি হরমোনও। অনেক
নারী যাঁরা গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন
করেন, তাঁদের রক্তনালি ও ধমনীসমূহ
পুরুষের চেয়ে অনেক আঠালো।
ডা. ক্যান্টো বলেন, নারীদের
মধ্যে বিশেষ করে তরুণ নারী যাদের
মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়, এদের
করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার
প্রক্রিয়া তরুণ পুরুষের তুলনায়
আলাদা। এদের ধমনীগাত্রে চর্বিপুঞ্জ
দীর্ণ হওয়ার চেয়ে বরং চর্বিপুঞ্জ
ক্ষয় ও ক্ষত খসে পড়ার
ঘটনা ঘটে বেশি।
যাদের হার্ট অ্যাটাক হলো অথচ
বুকে চাপ চাপ ব্যথা, আঁটোসাঁটো ভাব
হলো না, এঁরা বুঝতে পারেন
না কী ঘটল। ডা. ক্যান্টো বলেন,
তাঁরা যখন চিকিৎসার জন্য আসেন
তখন ডাক্তাররা হার্ট অ্যাটাকের
সম্ভাবনা অবিলম্বে বিবেচনা করতে
পারেন না বিশেষ করে মহিলাদের
ক্ষেত্রে। ফলে, তাই অবিলম্বে বাইপাস
সার্জারি, হার্ট ক্যাথেটেরাইজ
করা এবং অন্যান্য জীবন
রক্ষাকারী পদ্ধতি প্রয়োগ অনেক
কমে যায়। বাস্তবতা হলো, অনেক
ডাক্তারই ভাবেন
না যে কমবয়সী নারীদের হার্ট অ্যাটাক
হতে পারে, বলেন আমেরিকান হার্ট
অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য
এবং নিউইয়র্কে মন্টে ফিওবে
আইনস্টাইন সেন্টার ফর হার্ট অ্যান্ড
ভাসকুলার
কেয়ারে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান
ডা. ম্যারিও গার্সিয়া। আবার অনেক
গবেষণা থেকে এও দেখা গেছে,
এমনকি যেসব নারীর বুক ব্যথাসহ হার্ট
অ্যাটাকের বৈশিষ্ট্যসূচক উপসর্গ
হয়েছিল তাঁরাও পুরুষদের তুলনায়
চিকিৎসা-সহায়তার জন্য অনেক কম
গেছেন ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে।
ডা. মারিয়া গার্সিয়ার বক্তব্য:
পুরুষেরা এ রকম সমস্যা হলে দ্রুত
পরামর্শ নেন ডাক্তারের।
নারীরা নিজেদের চেয়ে তাঁদের স্বামীদের
ব্যাপারে ভাবেন বেশি। উদ্বিগ্ন হন
বেশি।
কেবল এ দেশে কেন, পৃথিবীজুড়েই
নারীরা নিজেদের নিয়ে ভাবেন কম,
নিজেদের যত্ন নেন কম।
বিবাহিতা নারীরা স্বামীদের
ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হন বেশি।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস,
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক
অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ,
ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
Read More
লক্ষণ হলো হঠাৎ বুক ব্যথা।
জানা কথা। তবে অনেকগুলো নতুন
গবেষণাকর্ম থেকে দেখা যায়, অনেক
লোক যাদের
হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে হার্ট অ্যাটাক
সন্দেহ করে, এদের বুক
ব্যথা হয়নি এবং সে জন্য
হালকাভাবে চিকিৎসা হয়েছে তাদের।
তরুণ ও মধ্যবয়সী নারীদের জন্য
পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। ১১ লাখ
লোকের ওপর একটি গবেষণা রিপোর্ট
পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হার্ট
অ্যাটাকের জন্য ভর্তি নারীদের ৪২
শতাংশের
আশ্চর্যভাবে কোনো বুকব্যথার
ইতিহাস ছিল না।
তুলনামূলকভাবে ৩০.৭ শতাংশ পুরুষের
মাত্র ছিল না বুক ব্যথার ইতিহাস।
হার্ট অ্যাটাকের পর মহিলাদের মৃত্যুর
সম্ভাবনাও বেশি। গবেষণায় দেখা গেল,
নারীদের মৃত্যুহার ছিল ১৫ শতাংশ,
পুরুষের ছিল তুলনামূলকভাবে ১০
শতাংশ।
এই গবেষণার একজন প্রধান গবেষক
এবং ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড
রিজিওন্যাল মেডিকেল সেন্টারের চেস্ট
পেইন সেন্টারের পরিচালক ডা. জন
জি ক্যান্টো বলেন,
‘আমরা মনে করি এর আংশিক কারণ
হলো যেসব নারীর হার্ট অ্যাটাকের
উপস্থাপনা নিয়ে আসেন তাঁদের
বৈশিষ্ট্যসূচক উপসর্গ নাও
থাকতে পারে।
তাই হার্ট অ্যাটাক
হয়েছে বলে তাঁরা চিহ্নিত হন না:
সম্ভবত, এদের মধ্যে কিছু রোগীর এত
দেরিতে এসব উপসর্গ হয় যে জীবন
রক্ষাকারী পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ হতেও
দেরি হয়ে যায়।’ গবেষণার ফল
প্রকাশিত হয়েছে প্রখ্যাত জার্নাল অব
দি আমেরিকান মেডিকেল
অ্যাসোসিয়েশনের
সম্প্রতি প্রকাশনায়।
স্ত্রী ও পুরুষের মৃত্যুর একটি প্রধান
কারণ হলো হূদরোগ। কেবল আমেরিকায়
নয়, সারা পৃথিবীতে: প্রতিবছর
এতে প্রাণ হারান ৭০ লাখ লোক।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত
হূদেরাগকে পুরুষের রোগ
বলে মনে করা হতো এবং পুরুষকে লক্ষ
করে বা কেন্দ্র
করে অনেকগুলো গবেষণা হয়েছিল
এবং এগুলো থেকে হার্ট অ্যাটাকের
বৈশিষ্ট্যপূর্ণ
লক্ষণগুলো সম্বন্ধে একটি সংকীর্ণ
ছবি আঁকা হয়েছিল মাত্র: বুকব্যথা,
শ্বাসকষ্ট, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ ও বাহু
দিয়ে বয়ে আসা ব্যথা। তবে আরও
অন্তর্গত গবেষণায় দেখা গেল,
স্ত্রী রোগীদের এসব উপসর্গ হলেও,
কখনো কখনো এমন সব উপসর্গ তাদের
হয় যা হার্ট অ্যাটাকের বৈশিষ্ট্যসূচক
নয়, যেমন ঘুমের সমস্যা এবং হার্ট
অ্যাটাকের কয়েক দিন বা কয়েক
সপ্তাহ আগে থেকে গুরুতর ক্লান্তি, এ
ছাড়া শীতলঘাম, দুর্বলতা ও
মাথা ঝিমাঝিম ভাব হার্ট অ্যাটাকের
সময়। নতুন এই গবেষণায় ডা.
ক্যান্টো ও তাঁর
সহকর্মীরা ১৯৯৪-২০০০ সাল
পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের জন্য
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের
জাতীয় নিবন্ধীকৃত
নথি পর্যালোচনা করে পুরুষদের ও
মহিলাদের উপসর্গসমূহ ও মৃত্যুহার
তুলনা করে দেখেছেন।
বুকব্যথা মহিলা ও পুরুষের
মধ্যে সবচেয়ে সচরাচর উপসর্গ হলেও
সর্বমোট ৩৫ শতাংশ রোগীর কখনোই
বুকব্যথা ছিল না।
৫৫-অনূর্ধ্ব নারী যাদের হার্ট
অ্যাটাক হয়েছিল
তবে বুকে অস্বস্তি ছিল না তাদের
হাসপাতালে মৃত্যুঝুঁকি, একই বয়সের
পুরুষ যাদের বৈশিষ্ট্যসূচক হার্ট
অ্যাটাক উপসর্গ ছিল, তাদের তুলনায়
দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি ছিল।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই
পার্থক্য কমে এল এবং পরে মিলিয়েও
গেল। পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে হার্ট
অ্যাটাকের উপসর্গগুলোর তারতম্য
কেন হয়, তা সঠিকভাবে জানা নেই।
তবে ডা. ক্যান্টোর ধারণা, অনেক
উপাদান জড়িত থাকতে পারে।
এমনকি হরমোনও। অনেক
নারী যাঁরা গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন
করেন, তাঁদের রক্তনালি ও ধমনীসমূহ
পুরুষের চেয়ে অনেক আঠালো।
ডা. ক্যান্টো বলেন, নারীদের
মধ্যে বিশেষ করে তরুণ নারী যাদের
মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়, এদের
করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার
প্রক্রিয়া তরুণ পুরুষের তুলনায়
আলাদা। এদের ধমনীগাত্রে চর্বিপুঞ্জ
দীর্ণ হওয়ার চেয়ে বরং চর্বিপুঞ্জ
ক্ষয় ও ক্ষত খসে পড়ার
ঘটনা ঘটে বেশি।
যাদের হার্ট অ্যাটাক হলো অথচ
বুকে চাপ চাপ ব্যথা, আঁটোসাঁটো ভাব
হলো না, এঁরা বুঝতে পারেন
না কী ঘটল। ডা. ক্যান্টো বলেন,
তাঁরা যখন চিকিৎসার জন্য আসেন
তখন ডাক্তাররা হার্ট অ্যাটাকের
সম্ভাবনা অবিলম্বে বিবেচনা করতে
পারেন না বিশেষ করে মহিলাদের
ক্ষেত্রে। ফলে, তাই অবিলম্বে বাইপাস
সার্জারি, হার্ট ক্যাথেটেরাইজ
করা এবং অন্যান্য জীবন
রক্ষাকারী পদ্ধতি প্রয়োগ অনেক
কমে যায়। বাস্তবতা হলো, অনেক
ডাক্তারই ভাবেন
না যে কমবয়সী নারীদের হার্ট অ্যাটাক
হতে পারে, বলেন আমেরিকান হার্ট
অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য
এবং নিউইয়র্কে মন্টে ফিওবে
আইনস্টাইন সেন্টার ফর হার্ট অ্যান্ড
ভাসকুলার
কেয়ারে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান
ডা. ম্যারিও গার্সিয়া। আবার অনেক
গবেষণা থেকে এও দেখা গেছে,
এমনকি যেসব নারীর বুক ব্যথাসহ হার্ট
অ্যাটাকের বৈশিষ্ট্যসূচক উপসর্গ
হয়েছিল তাঁরাও পুরুষদের তুলনায়
চিকিৎসা-সহায়তার জন্য অনেক কম
গেছেন ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে।
ডা. মারিয়া গার্সিয়ার বক্তব্য:
পুরুষেরা এ রকম সমস্যা হলে দ্রুত
পরামর্শ নেন ডাক্তারের।
নারীরা নিজেদের চেয়ে তাঁদের স্বামীদের
ব্যাপারে ভাবেন বেশি। উদ্বিগ্ন হন
বেশি।
কেবল এ দেশে কেন, পৃথিবীজুড়েই
নারীরা নিজেদের নিয়ে ভাবেন কম,
নিজেদের যত্ন নেন কম।
বিবাহিতা নারীরা স্বামীদের
ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হন বেশি।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকে
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস,
বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক
অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ,
ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
ফলমূল ও খাদ্যে ভেজাল – সচেতনতা জরুরি

কিছুদিন আগে এক জাতীয়
দৈনিকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়,
একজন
ব্যক্তি গাছে ঝুলে থাকা আমে রাসায়নিক
পদার্থ স্প্রে করছেন। এই স্প্রে করায়
আমের রং হলুদ হয়, উদ্দেশ্য কাঁচা আম
পাকা বানিয়ে বিক্রি করা।
অবস্থা এখন এতই ভয়াবহ যে খাবার
তৈরির পরে তো বটেই, আগেও
তাতে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হচ্ছে।
ভেজাল মেশানো হচ্ছে কয়েক পর্যায়ে।
খাদ্যশস্য, ফলমূল,
সবজি ইত্যাদি উৎপাদনের সময়
রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার
করা হচ্ছে। মাঠ থেকে উত্তোলন ও
প্রক্রিয়াজাত করার সময় ভেজাল
দেওয়া হচ্ছে, আবার খাবার তৈরির
সময়ও তাতে থাকছে ভেজালের স্পর্শ।
এভাবে পুরো খাবারে ভেজালের ভাগটাই
হয়ে যাচ্ছে বেশি।
ভেজাল ছাড়া খাবার যেন
হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ। চাল-ডাল-
তেল-লবণ থেকে শুরু করে শাকসবজি,
ফলমূল, শিশুখাদ্য সবকিছুতেই ভেজাল।
মাছে ও দুধে ফরমালিন,
সবজিতে কীটনাশক ও ফরমালিন,
মচমচে করার জন্য জিলাপি ও
চানাচুরে মবিল, লবণে সাদা বালু,
চায়ে করাতকলের গুঁড়ো, মসলায় ভুসি,
কাঠ, বালি, ইটের গুঁড়ো ও বিষাক্ত
গুঁড়ো রং, এমনকি ইসবগুলের
ভুসিতে ভুট্টার
গুঁড়ো মিশানো হচ্ছে বলে শোনা যায়।
টেক্সটাইল ও লেদারের
রং মেশানো হচ্ছে সস্তা মানের বিস্কুট,
আইসক্রিম, জুস, সেমাই, নুডলস ও
মিষ্টিতে।
মুড়িতে মেশানো হচ্ছে হাইড্রোজ,
ফলে মুড়ি দেখতে চকচকে ও সাদা হয়,
ফুলে-ফেঁপে বড় আকৃতি ধারণ করে।
হাইড্রোজ একটি ক্ষারীয় পদার্থ,
যা পেটে গিয়ে পড়ে রক্তের
সঙ্গে মিশে শ্বেত কণিকা ও
হিমোগ্লোবিনের কার্যকারিতা নষ্ট
করে দেয়।
ভেজাল খাবারের উদাহরণ যেন
অন্তহীন। মৌসুমি ফলও
পাকানো হচ্ছে রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে।
দ্রুত ফল পাকাতে ও আকর্ষণীয়
বর্ণের করতে ব্যবহার
করা হচ্ছে কার্বাইড আর পচন
ঠেকাতে ফরমালিন। এভাবে আম, কমলা,
আপেলের মতো ফলগুলো মাসের পর মাস
রেখে বাজারজাত করা হচ্ছে অতিরিক্ত
মুনাফা লাভের আশায়। ফলের
মতো টমেটোও কেমিক্যাল
দিয়ে পাকানো হচ্ছে আর পচন ধরা রোধ
করার জন্য ওই টমেটো ফরমালিন
মেশানো পানিতে চুবিয়ে দীর্ঘদিন
ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণত ছোট
আকারের এক বোতল ফরমালিন এক
ড্রাম পানিতে মেশানো হয়। এই
পানিতে পোকামাকড়, মশা-মাছি পড়লেও
সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। এতে একবার
খাবার ডোবানো হলে তা আর পচে না।
এই ড্রামের পানিতে চুবিয়ে রাখা ফল,
সবজি আর মাছ মানুষ তার গাঁটের
পয়সা খরচ
করে কিনছে এবং খাচ্ছে নিয়মিত, যেন
জেনেশুনেই বিষপান করছে সবাই।
মানুষের খাবার তো বটেই, পশুপাখির
খাবারও আজকাল ভেজালমুক্ত নয়।
ভেজাল খাবার এখন সর্বত্র।
শোনা যায়, খাবার
তাজা রাখতে যে বরফ বা আইস
ব্যবহার করা হয়, তাতেও
থাকে ভেজাল। অনেকে এর নাম দিয়েছেন
‘আইসক্রাইম’। লোকমুখে গল্প শুনেছি,
এক লোক মনের দুঃখে বিষ
খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন,
কিন্তু পুরো এক বোতল বিষ খেয়েও
তিনি মারা গেলেন না। পরে জানা গেল
ওই বিষের মধ্যেও ভেজাল।
ভেজালের এই মহোৎসবের
পেছনে রয়েছে একশ্রেণীর অসাধু
মুনাফালোভী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। নকল
খাবার, নিম্নমানের খাবার আর
ভেজালমিশ্রিত খাবার বাজারজাত
করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি
টাকা। তাদের এই সীমাহীন লোভের জন্য
বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বলা যায়, এ
একরকম নীরব মানবহত্যা।
অতিরিক্ত কেমিক্যাল পদার্থ
ব্যবহারে খাদ্যের ঘ্রাণ ও স্বাদ
পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পুষ্টির
বদলে খাদ্যগুলো পরিণত হচ্ছে বিষে।
পুষ্টির জোগান আর সুস্থতার
পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত
হচ্ছেন ভোক্তারা, নিজের অজান্তেই
অনেকের
দেহে বাসা বাঁধছে নানা মরণব্যাধি।
বেড়ে যাচ্ছে নতুন নতুন রোগ ও
আক্রান্তের সংখ্যা। জনস্বাস্থ্যের
জন্য এ অবস্থা এক মারাত্মক হুমকি।
ভেজাল খাবার
খেয়ে ভোক্তারা আক্রান্ত হন লিভার,
কিডনি, হূদরোগ, ক্যানসারসহ
নানা রকম জটিল রোগে।
মানবদেহে গ্যাস্ট্রিক আলসার,
পাকস্থলী আর অন্ত্রনালির প্রদাহ,
অরুচি, ক্ষুধামান্দ্য, লিভার সিরোসিস,
কিডনি ফেইলুর ইত্যাদি দেখা দেয়।
এমনকি লিভার ক্যানসারও হতে পারে।
এ ছাড়া এর ক্ষতিকর প্রভাব
পড়তে পারে অস্থিমজ্জা বা
বোনম্যারোর ওপর। এতে রক্তকণিকার
অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা হতে পারে,
আবার লিউকেমিয়া বা ব্লাড
ক্যানসারের মতো মারাত্মক
ব্যাধি দেখা দিতে পারে।
গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য
বিষয়টি আরও ভয়ংকর। ভেজাল
মেশানো ফলমূল, সবজি, টমেটো, মাছ,
মাংস ইত্যাদি খেলে গর্ভবতী মা ও
সন্তান উভয়েই মারাত্মক
রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সন্তান
জন্মানোর সময়
হাবাগোবা কিংবা বিকলাঙ্গ হওয়ার
আশঙ্কা থাকে, মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ নষ্ট
হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সন্তানের
বৃদ্ধি থেমে যায়, মস্তিষ্কের বিকাশও
থেমে যায়। বস্তুত খাদ্যে ভেজালের
কারণে দেশে এ ধরনের শিশুর
সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
মুশকিল হলো ভেজাল খাবারের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় খুব
ধীরে ধীরে। তাই অনেকেই জানতে পারেন
না যে কী বিষ তিনি প্রতিদিন গ্রহণ
করছেন, এর গুরুত্বও
তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেন না।
এমনকি যখন চূড়ান্তভাবে অসুস্থ
হয়ে পড়েন, তখনো বুঝতে পারেন
না যে তাঁর প্রাত্যহিক ভেজালযুক্ত
খাবারই এই পরিণতির জন্য দায়ী।
ভেজাল খাবার যে শুধু স্বাস্থ্য খাতই
ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা নয়, এতে চাপ
পড়ছে অর্থনীতির ওপরও। যেসব
মারাত্মক অসুখে মানুষ আক্রান্ত
হচ্ছে তার চিকিৎসা ব্যয় অত্যধিক,
বেশির ভাগ
ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা লাগে,
কখনো বা আজীবন
চিকিৎসা করতে হয়। এতে মানুষের
কষ্টার্জিত টাকার বড় অংশ
চলে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত
চিকিৎসা খাতে। অথচ ভেজাল
নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই
বাড়তি অসুখ তথা বাড়তি খরচ
প্রতিরোধ করা যেত। আবার
রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে অসাধু
ব্যবসায়ীরা একচেটিয়া মুনাফা করে
যাচ্ছেন, যার ক্ষতিকর প্রভাব
পড়ছে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ওপর,
যাঁরা সৎ উপায়ে ব্যবসার
চেষ্টা করছেন। দ্রুত পাকানো আর
পচন রোধের ওষুধ দেওয়া খাবারের
সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায়
টিকতে না পেরে তাঁরা হয় বিরাট
লোকসানের
বোঝা কাঁধে নিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছেন
অথবা সময়ের স্রোতে ভেসে নিজেরাও
ভেজালের কারবারে যুক্ত হচ্ছেন।
মনে রাখা দরকার, ভেজাল মেশানো এসব
খাবার যাঁরা খাচ্ছেন, শুধু
তাঁরা কিংবা তাঁদের পরিবারই নয়,
ভেজাল মেশানোর এই প্রক্রিয়ার
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, যেমন
উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পাইকার,
ব্যবসায়ী কেউই ঝুঁকিমুক্ত নন। লাভ ও
লোভের বলি শুধু ভোক্তারাই হবেন,
তা নয়, অসাধু ব্যবসায়ীরাও এর
থেকে পরিত্রাণ পাবেন না।
ভেজালের এই কালো থাবা থেকে নিস্তার
পেতে হলে আমাদের সবাইকে সচেষ্ট
হতে হবে। মূলত সরকারের দায়িত্বই
এখানে প্রধান। ভেজালবিরোধী আইন
কঠোর করতে হবে, এর প্রয়োগও
হতে হবে দ্রুত, যথাযথ। ভ্রাম্যমাণ
আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং এর
কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করতে হবে।
তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে, শুধু
বাজারে গিয়ে রাস্তার পাশের দরিদ্র
ফল বিক্রেতার আমগুলো ধ্বংস
করে এবং সামান্য জেল জরিমানা করেই
এই সমস্যার সমাধান হবে না। শুধু এই
চুনোপুঁটিদের শাস্তি দিলেই চলবে না,
বরং যাঁরা এই অনৈতিক কাজের মূল
কারবারি, সেই রাঘববোয়ালদের আইনের
আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
ব্যবস্থা করতে হবে। ভোক্তা অধিকার
আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।
খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ
করার জন্য আলাদা প্রশাসন
গড়ে তোলা যেতে পারে। শোনা যায়
অসাধু সিন্ডিকেটও নানা কায়দায়
ভেজালবিরোধী কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে।
এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার
যোগসাজশ রয়েছে বলেও শোনা যায়।
কাজেই ভেজাল দূর করতে হলে এ
ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মও দূর
করতে হবে কঠোর হস্তে।
ভেজাল খাবার রোধের জন্য মানুষের
সচেতনতা খুবই জরুরি। এ
ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক ও
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন
মহলকেই এগিয়ে আসতে হবে।
মানুষকে বোঝাতে হবে, ভেজালের
ব্যাপ্তি ও
পরিণতি ব্যাখ্যা করতে হবে,
এগুলো থেকে বেঁচে থাকার পথও
দেখাতে হবে। আমাদের
দেশে যে হারে দুরারোগ্য ব্যাধি বাড়ছে,
তাতে ভেজাল খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করার
ব্যাপারে সচেতনতার কোনো বিকল্প
নেই। একই
সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধ
করার যত ব্যবস্থা তা নিতে সরকারসহ
সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তা না হলে রোগব্যাধির
সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং তার চিকিৎসার
জন্য অর্থনৈতিক দৈন্যসহ
নানামুখী চাপে মানুষ হিমশিম খাবে।
রোগব্যাধি যেমন বাড়বে,
তেমনি সঙ্গে তৈরি হবে মেধাশূন্য
জাতি, যা দেশের জন্য এক ভয়ানক
পরিণতি ডেকে আনবে।
এ বি এম আবদুল্লাহ
ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক,
মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুন ০৬,
২০১২
প্লাস্টিক বোতলের পানি কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
প্লাস্টিক পরিবেশের ক্ষতি করে, কারণ
এটা মাটির সঙ্গে মেশে না।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে প্লাস্টিকের
বোতলে রাখা পানি পান
করলে বা প্লাস্টিকের কৌটায়
রাখা খাবার খেলে স্বাস্থ্যের
ক্ষতি হতে পারে কি? এটা তো ঠিক
যে ওই সব বোতলের পানি বা কৌটার
খাবারে অনেক সময় প্লাস্টিক-
প্লাস্টিক গন্ধ পাওয়া যায়, অর্থাৎ
অল্পস্বল্প প্লাস্টিক অণু
হয়তো খাদ্যে মিশে যায়। তা যায়,
তবে এতে কোনো ক্ষতি হয়
না বলে খাদ্যবিশেষজ্ঞদের অভিমত।
কারণ খাদ্যদ্রব্য বা পানীয় রাখার
জন্য প্লাস্টিকের পাত্র
বিশেষভাবে তৈরি।
ওগুলো কিছুটা নমনীয়
করতে যে প্লাস্টিসাইজার ব্যবহার
করা হয় তা পানিতে সামান্য দ্রবণীয়
এবং তৈলাক্ত দ্রব্যে সামান্য
বেশি দ্রবণীয় হলেও পাকস্থলীতে ওদের
কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীদেহে ওদের
কোনো সক্রিয়তা থাকে না। তবে যেসব
পাত্র সুনির্দিষ্টভাবে খাদ্যদ্রব্য
রাখার জন্য নির্ধারিত নয়
বা কোনো পাত্রে যদি খাদ্যে বিষক্রিয়া
ঘটাতে পারে এমন পদার্থ রাখা হয়,
তাহলে সেসব পাত্রে খাবার না রাখার
জন্য বিজ্ঞানীরা সতর্ক
থাকতে বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুন ০৮,
২০১২
Read More
এটা মাটির সঙ্গে মেশে না।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে প্লাস্টিকের
বোতলে রাখা পানি পান
করলে বা প্লাস্টিকের কৌটায়
রাখা খাবার খেলে স্বাস্থ্যের
ক্ষতি হতে পারে কি? এটা তো ঠিক
যে ওই সব বোতলের পানি বা কৌটার
খাবারে অনেক সময় প্লাস্টিক-
প্লাস্টিক গন্ধ পাওয়া যায়, অর্থাৎ
অল্পস্বল্প প্লাস্টিক অণু
হয়তো খাদ্যে মিশে যায়। তা যায়,
তবে এতে কোনো ক্ষতি হয়
না বলে খাদ্যবিশেষজ্ঞদের অভিমত।
কারণ খাদ্যদ্রব্য বা পানীয় রাখার
জন্য প্লাস্টিকের পাত্র
বিশেষভাবে তৈরি।
ওগুলো কিছুটা নমনীয়
করতে যে প্লাস্টিসাইজার ব্যবহার
করা হয় তা পানিতে সামান্য দ্রবণীয়
এবং তৈলাক্ত দ্রব্যে সামান্য
বেশি দ্রবণীয় হলেও পাকস্থলীতে ওদের
কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীদেহে ওদের
কোনো সক্রিয়তা থাকে না। তবে যেসব
পাত্র সুনির্দিষ্টভাবে খাদ্যদ্রব্য
রাখার জন্য নির্ধারিত নয়
বা কোনো পাত্রে যদি খাদ্যে বিষক্রিয়া
ঘটাতে পারে এমন পদার্থ রাখা হয়,
তাহলে সেসব পাত্রে খাবার না রাখার
জন্য বিজ্ঞানীরা সতর্ক
থাকতে বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুন ০৮,
২০১২
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি
(
Atom
)