শিশুর স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিশুর স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুকের দুধ খাওয়ানোর সুফল অনেক

ডা· আবু সাঈদ শিমুল
চিকিৎসা কর্মকর্তা
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,
চট্টগ্রাম
শিশুদের জন্য বুকের দুধ
যে উপকারী তা আমরা জানি, কিন্তু
বুকের দুধ দিলে শুধু যে শিশুর লাভ হয়
তা নয়, এটা মায়েদের জন্যও ভালো।
জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ
দিলে মায়ের শরীর থেকে অক্সিটোসিন
নিঃসৃত হয়।
এই অক্সিটোসিন জরায়ু এবং এর
রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য
করে। ফলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর
মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়
না। প্রায় সব নারীরই গর্ভধারণের
সময় ওজন বাড়ে।
এতে শরীরে বাড়তি মেদও জমে। যেসব
মা সন্তানকে বুকের দুধ দেন, তাঁদের
দৈনিক অতিরিক্ত ৫০০
ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। বুকের
দুধ খাওয়ালে এই বাড়তি ক্যালরির
প্রয়োজন হয় বলে মায়েরা খুব দ্রুতই
আগের শারীরিক
গঠনে ফিরে যেতে পারেন। যেসব
মা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের
ক্ষেত্রে বুকের দুধ খাওয়ালে আগের
চেয়ে কম পরিমাণে ইনসুলিন দরকার হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এটা প্রমাণিত
যে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন
ক্যান্সারের আশঙ্কা ২৫ শতাংশ কমে,
আর ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের
আশঙ্কাও ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ
কমে। এ ছাড়া জরায়ু ও
অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকিও
কম থাকে। বুকের দুধ
খাওয়ালে তা উৎকৃষ্ট জ্ননিয়ন্ত্রক
হিসেবে কাজ করে। এতে দুটি সন্তানের
মধ্যে বয়সের ব্যবধান থাকে।
ফলে প্রতিটি সন্তানই
সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু
যারা ফর্মুলা বা কৃত্রিম দুধ খাওয়ান,
তাঁদের এ সুবিধা তো থাকেই না,
উপরন্তু শেষ বয়সে অস্টিওপোরেসিস
(হাড়ের ক্ষয়রোগ) হয় এবং অল্প
আঘাতে কোমর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি চার
গুণ বেশি থাকে। বুকের দুধ
খাওয়ালে মায়েদের যে শুধু শরীর
ভালো থাকে তা-ই নয়, তাঁদের মানসিক
স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। গবেষণায়
দেখা গেছে,
স্তন্যদায়ী মায়েরা সহজে উত্তেজিত
হন না, উদ্বেগ ও হতাশায়ও
তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়েন না।
কর্মজীবী মায়েরা যে ক’মাসই
মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না কেন, এ
সময়ের পুরোটাই শিশুকে শুধু বুকের দুধ
দেওয়া উচিত।
এতে পরবর্তী সময়ে শিশুর ডায়রিয়া,
নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগ হওয়ার
ঝুঁকি কম থাকে।
ফলে শিশু যেমন সুস্থ থাকে,
তেমনি শিশুর জন্য কর্মক্ষেত্র
থেকে ছুটি নিতে হয় না বলে মায়েরও
সুবিধা হয়। তবে এসব বিষয়ের
ঊর্ধ্বে মা ও সন্তানের
মধ্যে থাকে এক অকৃত্রিম বন্ধন।
শিশুকে বুকের দুধ দিলে এ বন্ধন আরও
সুদৃঢ় হয়, আর মা তখন উপলব্ধি করেন
এক স্বর্গীয় অনুভূতি।


সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

গর্ভাবস্থায় মায়েদের আলট্রাসনোগ্রাফি


গর্ভাবস্থায় এক বিশেষ প্রক্রিয়ার
মধ্য দিয়ে মায়ের গর্ভে ভ্রূণ
বেড়ে ওঠে। আর গর্ভস্থ শিশুর
বেড়ে ওঠা, তার চারপাশের
অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য
আলট্রাসনোগ্রাফি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা।
পরীক্ষাটি নিরাপদ,
এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই,
সহজলভ্য এবং এটি বর্তমানে বেশ
জনপ্রিয়।
সাধারণত যেসব
কারণে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে হয়
গর্ভধারণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত
করা হয় আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে।
পূর্ববর্তী মাসিকের সাড়ে চার
সপ্তাহের মধ্যে গর্ভাশয়ের
থলে এবং পাঁচ সপ্তাহের
মধ্যে গর্ভাশয়ের থলের
মধ্যে আরেকটি ক্ষুদ্র থলে (ইয়ক
স্যাক) দেখে শনাক্ত করা যায়
গর্ভধারণ হয়েছে কি না। আর
সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ পর ভ্রূণ দেখা যায়।
হৃৎপিণ্ডের চলাচল পর্যবেক্ষণ
গর্ভধারণ করার পর ছয় সপ্তাহের
মধ্যে পালস ডপলার সনোগ্রাফির
মাধ্যমে ভ্রূণের হৃৎপিণ্ডের চলাচল
বোঝা যায় এবং সাত সপ্তাহের
মধ্যে সাধারণ গ্রে-স্কেল
আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রেও (যার
মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন
অঙ্গ ও টিস্যু দেখা হয়) ধরা যায়।
আবার সাত মিলিমিটার উচ্চতার
ভ্রূণের হৃৎপিণ্ডের চলাচল
বুঝতে না পারলে ভ্রূণের মধ্যে প্রাণ
নেই বলে সন্দেহ করতে হবে।
তবে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে এর
সাত থেকে ১০ দিন পর পুনরায়
আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রূণের
হৃৎস্পন্দন আছে কি না তা নিশ্চিত
হওয়া উচিত। এখানে বলে রাখা দরকার,
আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন
আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রের
সাহায্যে অপেক্ষাকৃত কম বয়সের ভ্রূণ
শনাক্ত এবং সঙ্গে হৃৎস্পন্দনও
বোঝা যায়।
ভ্রূণের বয়স নির্ধারণ
ভ্রূণের উচ্চতা, মাথার দুই প্রান্তের
দূরত্ব, পায়ের বড় অস্থি ভ্রূণের
বয়সের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সামঞ্জস্য
রেখে বৃদ্ধি পায়। আর
আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে এই
পরিমাপগুলো নিয়েই ভ্রূণের বয়স
নির্ধারণ করা হয়। পেটের পরিধির মাপ,
পায়ের বড় অস্থি এবং মাথার দুই
প্রান্তের দূরত্ব দিয়ে ভ্রূণের ওজন
সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়।
গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন বিকৃতি
আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে গর্ভস্থ
শিশুর বিকৃতি নির্ণয় করা যায়। যেমন,
মাথায় অতিরিক্ত পানি জমা,
মাথাবিহীন ভ্রূণ, খর্বাকৃতি,
মেরুদণ্ডের বিকৃতি, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা,
প্রস্রাবের থলের বা নালির সমস্যা,
ঠোঁট ও মুখের তালুর সমস্যা ইত্যাদি।
গর্ভফুলের অবস্থান জানা
গর্ভকালীন সময়ে তৈরি হয় গর্ভফুল,
যা জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে লেগে থাকে।
মা ও ভ্রূণের যোগাযোগ এই গর্ভফুলের
মাধ্যমে হয়। গর্ভফুল জরায়ুর কোন
অবস্থানে আছে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভফুল জরায়ুর নিচের দিকে থাকলে এ
অবস্থাকে বলা হয়
প্লাসেন্টা প্রিভিয়া।
এসব ক্ষেত্রে গর্ভকালীন প্রচুর
রক্তপাত হতে পারে। গর্ভফুল নিজেই
স্বাভাবিক প্রসবের রাস্তা বন্ধ
করে দিতে পারে।
আলট্রাসনোগ্রাফি করে গর্ভফুলের
অবস্থান নির্ণয় করা হয়।
ভ্রূণের সংখ্যা নির্ণয়
ভ্রূণের সংখ্যা এক, দুই, তিন বা এর
চেয়ে বেশি হতে পারে।
আলট্রাসনোগ্রাফি করেই ভ্রূণের
সংখ্যা নির্ণয় করা হয়।
গর্ভাশয়ের পানির পরিমাণ বের করা
গর্ভাশয়ের থলে তরল দিয়ে পূর্ণ থাকে।
এই তরলকে বলা হয় অ্যামনিয়টিক
ফ্লুইড। এই তরলের মধ্যেই ভ্রূণ
ডুবে থাকে। গর্ভাশয়ের থলের তরলের
পরিমাণ খুব
কমে গেলে বা বেশি হয়ে গেলে তা
ক্ষতিকর। আলট্রাসনোগ্রাফির
সাহায্যে এই পানির পরিমাণ নির্ধারণ
করা যায়।
এগুলো ছাড়াও গর্ভস্থ শিশুর
প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা,
হৃৎস্পন্দনসহ ভ্রূণের বাহ্যিক অবস্থা,
জরায়ুর ভেতরই ভ্রূণের মৃত্যু
(আইইউএফডি), জরায়ুর বাইরে ভ্রূণের
অবস্থান, ব্লাইটেড ওভাম (গর্ভাশয়ের
থলের ব্যাস ২৫ মিলিমিটার বা এর
বেশি কিন্তু ভ্রূণের অনুপস্থিতি)
ইত্যাদিও
আলট্রাসনোগ্রাফি করলে বোঝা যায়।
ডপলার আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা
এটি হচ্ছে বিশেষ ধরনের
আলট্রাসনোগ্রাফি, যার
মাধ্যমে রক্তনালিতে রক্তের প্রবাহের
দিক এবং রক্তের গতিপ্রকৃতি নির্ণয়
করা যায়। এর মাধ্যমে সাধারণত
ভ্রূণের রক্তনালিগুলো পর্যবেক্ষণ
করা হয়, যেমন হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ট,
হৃৎপিণ্ড থেকে বের হওয়া প্রধান ধমনি,
মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহকারী ধমনি,
জরায়ুর ভেতরের রক্তনালি, বড় শিরা,
যা হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। হৃৎপিণ্ডের
ত্রুটি, রক্তশূন্যতা, অক্সিজেন-
স্বল্পতা ডপলার অতিশব্দ পরীক্ষার
মাধ্যমে বোঝা যায়। ত্রিমাত্রিক ও
চতুর্মাত্রিক সনোগ্রাফির
মাধ্যমে ভ্রূণের ত্রিমাত্রিক
ছবি মনিটরে দেখা যায়।
কখন
আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করতে হবে
গর্ভাবস্থায়
আলট্রাসনোগ্রাফি বা অতিশব্দ
পরীক্ষা করার কোনো নির্ধারিত
সময়সূচি নেই। কোনো সমস্যা বা সন্দেহ
থাকলে পরীক্ষাটা করতে হবে।
গর্ভধারণ করার সাত সপ্তাহ পর
আলট্রাসনোগ্রাফি করলে গর্ভস্থ
শিশুকে দেখা যায় এবং হৃৎপিণ্ডের
চলাচল বোঝা যায়। ১১ থেকে ১৪
সপ্তাহের মধ্যে নাকের হাড়
এবং ঘাড়ের পেছনের দিকের পানিপূর্ণ
থলে দেখা হয়, যার মাধ্যমে মানসিক ও
শারীরিক ত্রুটিযুক্ত শিশু প্রসবের
আশঙ্কা থাকলে তা বোঝা যায়। ১৮
থেকে ২০ সপ্তাহের দিকে ভ্রূণের
গঠনগত ত্রুটিগুলো ভালো বোঝা যায়।
৩২ সপ্তাহের সময় সাধারণত ভ্রূণের
বৃদ্ধি, ওজন, বাহ্যিক অবস্থা দেখা হয়।
আগে করা সনোগ্রাফিগুলোতে কোনো
ত্রুটি সন্দেহ করলে এ
পর্যায়ে তা মিলিয়ে দেখা হয়। ২৪
সপ্তাহের পর গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ
নির্ধারণ করা যায়। তবে চিকিৎসা-
সংক্রান্ত বিশেষ কারণ ছাড়া লিঙ্গ
উল্লেখ না করাই ভালো। বিশ্বের
অনেক দেশেই গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ
উল্লেখ না করার বিষয়ে আইন প্রণয়ন
করা হয়েছে।
আছে কিছু ক্ষতিকর দিক
এক্স-রে, সিটিস্ক্যান
ইত্যাদি পরীক্ষায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন
রশ্মি ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের
জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু
আলট্রাসনোগ্রাফিতে অতিশব্দ তরঙ্গ
ব্যবহার করা হয়। এই তরঙ্গের
উল্লেখ করার মতো ক্ষতিকর দিক
এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এটাও
বলে রাখা ভালো যে সনোগ্রাফির
মাধ্যমে তথ্য পাওয়ায়
ক্ষেত্রে একটা ভালো যন্ত্র
থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ,
তেমনিভাবে যিনি পরীক্ষাটি করছেন
তাঁর দক্ষতাও রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
বলে গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন
আলট্রাসনোগ্রাফি করা ঠিক নয়।
নির্দিষ্ট কারণে বা কোনো তথ্যের
প্রয়োজন হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়ে পরীক্ষাটি করানো উচিত।
মো· তারিকুল ইসলাম
রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল, সিলেট


সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

কর্মজীবী মায়েদের জন্য .

কর্মজীবী মায়েরা কর্মক্ষেত্রে থাকা
অবস্থায়ও শিশুর ছয় মাস বয়স
পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ
খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন
বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বুকের
দুধ চিপে বের করে বাড়িতে সংরক্ষণ
করে তা শিশুকে খাওয়ানো যায়। এ
দায়িত্ব পালন
করতে হবে বাড়িতে শিশুকে যিনি
দেখাশোনা করবেন, তাঁকে। তাঁকে শিশুর
জন্য মায়ের বুকের দুধের
উপকারিতা কতটুকু তাও বোঝাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
কর্মকর্তারা জানান, একজন
কর্মজীবী মা বাড়িতে ১০ আউন্স
(৩০০ মিলিলিটার) পর্যন্ত দুধ বের
করে রেখে যেতে পারেন। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
চেয়ারম্যান এবং আইসিডিডিআরবির
জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস
কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, যেসব
কর্মজীবী মা দিনের সাত থেকে আট
ঘণ্টা কর্মক্ষেত্রে থাকেন, সেই সময়ের
জন্য ৩০০ মিলিলিটার পরিমাণ দুধ
বাচ্চার জন্য যথেষ্ট।
তবে মা কর্মক্ষেত্র
থেকে ফিরে শিশুকে বারবার বুকের দুধ
খাওয়াবেন। রাতের বেলায়ও
শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ
দিতে হবে। এতে করে বুকে দুধের
পরিমাণ বেশি হবে এবং ছয় মাস বয়স
পর্যন্ত শিশুর খাবারের
চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হবে। এর পর
থেকে বুকের দুধের
পাশাপাশি বাড়িতে তৈরি পারিবারিক
খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত
করে তুলতে হবে। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
দেওয়া তথ্যমতে, হাতের
সাহায্যে অথবা ব্রেস্ট পাম্পের
সাহায্যে দুধ বের করে সংরক্ষণ
করা যায়। হাতের সাহায্যে দুধ বের
করার পদ্ধতি সহজ, ঝামেলামুক্ত ও
নিরাপদ। ব্রেস্ট পাম্পের সাহায্যে দুধ
বের করার বিপক্ষে থাকেন
চিকিৎসকেরা। যেভাবেই হোক, চিপে বের
করা দুধ সাধারণ তাপমাত্রায় ছয়
থেকে আট ঘণ্টা রাখা যায়।
অন্যদিকে ফ্রিজ ব্যবহার করলে ২৪
ঘণ্টা পর্যন্ত বুকের দুধ ভালো থাকে।
তবে চিপে রাখা দুধ শিশুকে খাওয়ানোর
আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে।
ফ্রিজ থেকে বের করে একটি গরম
পানির পাত্রের ওপর দুধের
পাত্রটি রেখে একটু গরম
করে নিতে হবে। অক্সিটোসিন নামের
হরমোনটি মায়ের
বুকে তৈরি হওয়া দুধকে বের
করতে সাহায্য করে। তাই এ
হরমোনটি তৈরি হওয়াও জরুরি।
শিশুকে বারবার দুধ
খাওয়ানো হলে মায়ের বুকে দুধ
বেশি তৈরি হয়। তাই কর্মজীবী মায়েদের
কর্মস্থলে থাকা অবস্থায়ও বুকের দুধ
চিপে বের করে সংরক্ষণ করতে হবে।
মায়ের প্রস্তুতিঃ কাজে যোগ দেওয়ার
আগে থেকেই মাকে এ বিষয়ে বিশেষ
প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিশুকে এবং তাকে যিনি দেখবেন
তাঁকে বিষয়টিতে প্রস্তুত করাও
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাবান
দিয়ে হাত ধুয়ে বড় মুখের ঢাকনাসহ
পাত্র নিয়ে মাকে নিশ্চিন্ত মনে আরাম
করে বসতে হবে।
তাড়াহুড়ো করলে ভালোভাবে দুধ বের
হবে না। বাড়িতে থাকা অবস্থায় দুধ
বের করার সময়
সন্তানকে কাছে রাখতে হবে, তার
কথা ভাবতে হবে,
কোলে নিতে হবে অথবা তাকে দুধ
খাওয়াতে হবে। আর
কর্মক্ষেত্রে শিশুর কথা ভাবার
পাশাপাশি শিশুর ছবিও দেখতে পারেন
মায়েরা। তোয়ালে গরম
পানিতে ভিজিয়ে স্তনে পেঁচিয়ে রাখা,
মালিশ করার পাশাপাশি পানি, দুধ
বা শরবত খেতে হবে। বাড়িতে দুধ
সংরক্ষণের জন্য মায়েদের অনেক সময়
ব্যয় করতে হবে দুধ বের করার কাজে।
তাই এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের
সহযোগিতার পাশাপাশি মাকেও অনেক
বেশি ধৈর্য ধরতে হবে সন্তানের
কথা চিন্তা করে।
দুধ বের করার পদ্ধতিঃ বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
হ্যান্ডবুকে দেওয়া তথ্যমতে, মায়ের
বুকে দুধ জমা হওয়ার পর স্তনের
কালো অংশের নিচে এসে জমা হয়।
সে জন্য দুধ বের করার সময় আঙ্গুলের
চাপ যাতে বোঁটার
চারদিকে কালো অংশের ওপর পড়ে,
তা খেয়াল রাখতে হবে। আঙ্গুল
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো কালো অংশ থেকে দুই
স্তনের দুধ বের করতে হবে। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের মতে,
স্তনের পেছন দিকের অংশের
ত্বকে পুরো হাতে চাপ দিয়ে দুধ বের
করা ঠিক নয়। হাতের বুড়ো আঙ্গুল
স্তনের বোঁটার চারপাশের কালো অংশের
ওপর এবং তর্জনী নিচে রাখতে হবে।
অন্য আঙ্গুলগুলো দিয়ে স্তনের নিচের
দিকের ভার নিতে হবে। তর্জনী ও
বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কালো চামড়া একটু
পেছন দিকে টেনে নিয়ে চাপ
দিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে বারবার
করার সময় খেয়াল রাখতে হবে,
যাতে স্তনের বোঁটায় চাপ না লাগে।
দুধ সংরক্ষণঃ বড় মুখের
ঢাকনাওয়ালা কয়েকটি পাত্রে দুধ
সংরক্ষণ করতে হবে।
পাত্রগুলো ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে
নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন
বিশেষজ্ঞরা। মায়েরা যদি সাত
থেকে আট ঘণ্টা বাইরে থাকেন, তখন
তিন থেকে চারবার শিশুকে খাওয়ানোর
জন্য পৃথক পাত্রে দুধ সংরক্ষণ
করতে হবে। বিভিন্ন
সময়ে চিপে রাখা দুধ বিভিন্ন
পাত্রে নম্বর দিয়ে অথবা বিভিন্ন
রং দিয়ে চিহ্নিত করে রাখতে হবে।
আগে চিপে রাখা দুধ
আগে খাওয়াতে হবে।
খাওয়ানোর নিয়মঃ সংরক্ষিত দুধ
কাপে অথবা চামচ দিয়ে খাওয়ানোর
জন্য পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
শিশুর মুখে একবার বোতল দিলে শিশু
আর বুকের দুধ চুষে খেতে চায় না।
সব মায়েরই
জেনে রাখা ভালোঃ কর্মজীবী মা ছাড়াও
এ পদ্ধতি যেকোনো সময়
যেকোনো মায়ের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রত্যাশিত সময়ের আগে সন্তান জন্ম
নিলে, শিশু দুর্বল ও অসুস্থ
থাকলে চুষে দুধ খেতে পারে না।
মা অসুস্থ থাকলেও এ
পদ্ধতিতে সন্তানকে দুধ
খাওয়াতে পারেন মায়েরা। মায়ের
বুকে অতিরিক্ত দুধ
জমে ভারী হয়ে গেলে এ পদ্ধতি ব্যবহার
করে মায়েরা আরাম পেতে পারেন।
মানসুরা হোসাইন
সূত্রঃ প্রথম আলো, জুলাই ২৯,
২০০৯


সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতি

শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ
খাওয়ানোর জন্য দুধ পানের সঠিক
পদ্ধতি অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।
মা শিশুকে নিয়ে কীভাবে বসেছেন,
কী পদ্ধতিতে খাওয়াচ্ছেন তা সঠিক
হওয়া দরকার। মায়ের বুকে শিশুর সঠিক
স্থাপন এবং মা ও শিশুর সঠিক
অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সঠিক অবস্থান
মা ও শিশুর সঠিক অবস্থান
বলতে আমরা বুঝি,
মা শিশুকে কোলে নিয়ে নিশ্চিত
আরামে বসে বা শুয়ে খাওয়াতে পারেন।
শুয়ে খাওয়াতে চাইলে মা শিশুকে নিজের
দিকে যথাসম্ভব বুকের
কাছাকাছি টেনে নেবেন যেন শিশুর পেট,
বুক মায়ের পেট ও বুকের
সঙ্গে লাগানো থাকে এবং শরীরের পেছন
অংশ সরলরেখায় থাকে।
বসে খাওয়ানোর সময়
মা বসে খাওয়ালে সোজা হয়ে পিঠের
পেছনে একটি বালিশ নিয়ে বসবেন,
যাতে কোমর বাঁকা না হয় এবং হাতের
নিচে একটি বালিশ দেবেন, যাতে হাত
ঝুলে না থাকে।
পিঠে বালিশ না দিলে কোমর
বাঁকা করে সামনে বা পেছনে ঝুঁকে বসলে
মা বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারবেন না,
তাতে দুধ আসতে বাধা পাবে। শিশু
পুরোপুরি দুধ শেষ
না করে খেলে পরবর্তী দুধ
তৈরিতে বাধা হবে। তাই এক স্তন
খালি না করে শিশুকে অন্য
স্তনে ছাড়িয়ে নেওয়া উচিত নয়। শিশু
যতক্ষণ না ছেড়ে আসবে, ততক্ষণ
খাওয়াতে হবে।
লক্ষ করুন
মায়ের কোলে শিশুকে পুরোপুরি তাঁর
দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যথাসম্ভব বুকের
কাছাকাছি নেবেন, যেন শিশুর পেট
মায়ের পেটে এবং শিশুর বুক মায়ের
বুকে লেগে থাকে। শিশুর হাড়, পিঠ ও
পেছন যেন একটি সরলরেখায়
থাকে অর্থাৎ শিশুকে যেন ঘাড়
বাঁকা করতে না হয়। ঘাড়
বাঁকানো অবস্থায় শিশু আরাম করে পেট
ভরে খেতে পারে না বলে সে আগেই স্তন
ছেড়ে দেয়। মা ইচ্ছে করলে শিশুর ঘাড়ের
নিচে হাত দিতে পারেন। কিন্তু কখনোই
মাথায় হাত দেওয়া যাবে না।
পরবর্তী পদক্ষেপ
শিশুকে এভাবে সঠিক
অবস্থানে রেখে মা স্তনের বোঁটা শিশুর
ওপরের ঠোঁটে কয়েকবার লাগাবেন,
এতে শিশু বড় করে হাঁ করবে। এ সময়
বোঁটাসহ স্তনের কালো অংশ শিশুর
মুখে দিতে হবে। কেননা পেছনের
কালো অংশের মধ্যে দুধ জমা থাকে।
শুধু বোঁটা মুখে নিয়ে চুষলে শিশু দুধ
পাবে না বরং মা বোঁটায় আঘাত পাবেন।
এ রকম করে দুধ খাওয়ালে শিশু
ঠিকমতো দুধ পাবে। শিশুর জন্মের
পরপর কয়েকবার এ পদ্ধতি অনুসরণ
করলে পরে শিশুকে বুকের
কাছে নেওয়া মাত্রই সে বুকের সঠিক
স্থান চুষে খেতে পারবে।
যত তাড়াতাড়ি শিশুকে সঠিক
পদ্ধতিতে বুকের দুধ পান শেখানো যাবে,
তত তাড়াতাড়ি শিশু সঠিকভাবে বুকের
দুধ খেতে সফল হবে এবং সুস্থ থাকবে।
প্রণব কুমার চৌধুরী
সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

মায়ের দুধই শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার

১-৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ
মায়ের দুধই শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার
আগামী ১-৭ আগস্ট পালিত
হতে যাচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ।
আর ১ আগস্ট হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ দিবস।
এবার মাতৃদুগ্ধ দিবসের প্রতিপাদ্য
বিষয় হলো ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় মায়ের
দুধ সর্বশ্রেষ্ঠ খাদ্য ও পানীয়’।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, মায়ের দুধ
নবজাতক শিশুর জন্য আদর্শ পুষ্টিকর
খাবার। এতে সংক্রামক ব্যাধির
আক্রমণ অনেক কমে যায়। মায়েদের
স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের
ঝুঁকি কমে। পুনর্গর্ভধারণের দূরত্বও
বেড়ে যায়। সামাজিক ও
অর্থনৈতিকভাবেও জাতি উপকৃত হয়।
এসব সুফল পেতে হলে প্রথম ছয়
মাসে নিরবচ্ছিন্ন মায়ের দুধ পান
করাতে হবে। এর মানে হচ্ছে মায়ের দুধ
ছাড়া শিশুকে কোনো খাবার
বা পানি কিছুই দেওয়া যাবে না। ঘন ঘন
বাধাহীনভাবে বাচ্চাকে দুধ
খাওয়াতে হবে।
এ জন্যই সব
মাতৃসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য
সফল মায়ের দুধ খাওয়ানোর
১০টি পদক্ষেপ অবশ্য প্রতিপাল্য
হিসেবে গণ্য হয়।
কেন বাচ্চাকে শুধু মায়ের দুধ জন্মের
পর প্রথম ছয় মাস খাওয়াতে হবে,
এটা বোঝা খুবই জরুরি,
যেভাবে যে অনুপাতে বাচ্চার খাদ্য
উপাদান থাকা দরকার, তা শুধু মায়ের
দুধেই আছে। গরুর দুধ মায়ের দুধের
বিকল্প হতে পারে কি না-এ প্রশ্ন
অনেক মা-ই করে থাকেন। এর
সরাসরি উত্তর হচ্ছে ‘না’। কারণ গরুর
দুধ ও মায়ের দুধে কিছু মৌলিক
পার্থক্য রয়ে গেছে। গরুর
দুধে শর্করার পরিমাণ (৪·৬ গ্রাম/
১০০ মিলিলিটার) মায়ের দুধের (৭·৪
গ্রাম/১০০ মিলিলিটার) প্রায়
অর্ধেক। স্মেহ পদার্থ প্রায়
কাছাকাছি হলেও গরুর দুধে সম্পৃক্ত
স্মেহ পদার্থের পরিমাণ বেশি। আমিষ
গরুর দুধে বেশি। এমন আমিষ গরুর
দুধে থাকে যেগুলো সহজপাচ্য নয়।
মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়
টরিন থাকে মায়ের দুধে। শরীরের
তরলের আণবিক চাপ বজায় রাখার
ক্ষেত্রেও মায়ের দুধ গরুর দুধের
চেয়ে অনেক বেশি উপযোগী।
প্রয়োজনীয় ভিটামিনও মায়ের
দুধে গুরুর দুধের চেয়ে বেশি। কাজেই
কোনো বিবেচনায়ই গরুর দুধ বা কৃত্রিম
দুধ মায়ের দুধের
চেয়ে বেশি উপযোগী হতে পারে না।
মায়ের দুধের উপকারিতা
শিশুর জন্য
সংক্রমণ
প্রতিরোধঃ ইমিউনো গ্লোবিউলিন ও
অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধী পদার্থ
মায়ের দুধে থাকে। এর
সঙ্গে থাকে ল্যাকটোব্যাসিলাস,
যা বাইফি ডাস্ নামের একরকম জীবাণু
জন্মানোর জন্য প্রভাবক। এই জীবাণু
ক্ষতিকর জীবাণুকে বাড়তে দেয় না।
অ্যালার্জি থেকে সুরক্ষাঃ মায়ের দুধের
আমিষ বাচ্চার সুপরিচিত
বলে তা কোনো অ্যালার্জি সৃষ্টি করে
না। মায়ের দুধের দস্তা ও অসম্পৃক্ত
দীর্ঘসূত্র ফ্যাটি এসিড বাচ্চার
প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে।
এ ছাড়া মায়ের দুধে পালিত বাচ্চাদের
নি্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা গেছেঃ —
আক্নিক মৃত্যুর হার কমে যাওয়া —
শিশুর ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও
কর্ণপ্রদাহ কম হওয়া — টিকার দ্রুত
কার্যকারিতা — দুধের বোতলজনিত
দাঁতের সমস্যা থেকে মুক্তি —
মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক
উন্নতি — উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমত্তা।
মায়ের জন্য
জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে মায়ের
দুধ দিলে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত
অক্সিটসিন জরায়ুকে সংকুচিত
করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। ঘন ঘন
মায়ের দুধ খাওয়ালে মাসিক পুনরায় শুরু
হতে দেরি হয় এবং পরবর্তী গর্ভধারণ
বিলম্বিত হয়।
মায়ের আরও যেসব সুবিধা দেখা যায়
সেগুলো হলোঃ — গর্ভ-
পরবর্তী বিষণ্নতা কমে যায়। —
আবেগিক বন্ধনের কারণে শিশু
নির্যাতন কমে যায়। —
রাতে খাওয়ানো, ভ্রমণে খাওয়ানো সহজ
হয়ে যায়। — আর্থিক বা অন্য
কারণে বাচ্চার দুধ থেকে বঞ্চিত
হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
সমাজের জন্য
খরচের দিক থেকে দুধের কৌটার খরচ
অনেক বেশি।
ক্ষেত্রভেদে শিশুকে কৌটার দুধ
খাওয়াতে দুই থেকে তিন হাজার
টাকা মাসে লাগবে,
যা কোনো কোনো পরিবারের সারা মাসের
আয়ের সমান। খরচ
বাঁচাতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা
খাওয়ানো হয় তাকে দুধ না বলে দুধের
পানি বলাই শ্রেয়। কৃত্রিম দুধ
না দেওয়ায় বেঁচে যাওয়া দুধ, তৈজস ও
জ্বালানি খরচ পরিবারের অন্য
সদস্যদের জন্য ব্যয় করা সম্ভব।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকায়
চিকিৎসা পরামর্শ, ওষুধ, ল্যাব
পরীক্ষা ও হাসপাতালে ভর্তির খরচ
বেঁচে যায়।
কখন শুরু করবেন দুধ খাওয়ানো
জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব,
সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ
দিতে হবে। স্বাভাবিক নড়াচড়া, সজাগ
থাকা, দুধ টানা ও কান্না দিয়েই
বোঝা যাবে শিশু দুধ দিলে নিতে পারবে!
কীভাবে খাওয়াবেন?
দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের দেয়ালে ঠেস
দিয়ে বসাই উত্তম। বাচ্চার শরীর
থাকবে মায়ের এক হাতের ওপর, আরেক
হাত থাকবে মাথার নিচে। বাচ্চার শরীর
মিশে থাকবে মায়ের শরীরের সঙ্গে।
কোনোমতেই যাতে ঘাড় বাঁকা না হয়।
বাচ্চার মুখ থাকবে পুরা খোলা। বাচ্চার
থুতনি, মায়ের স্তন স্পর্শ করবে।
নিচের ঠোঁট উল্টো করে খোলা থাকবে।
বাচ্চা যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে কি-না
অনেক মা-ই বলেন তাঁর সন্তান যথেষ্ট
দুধ পাচ্ছে না। আসলে যাচাই
করে দেখতে হবে নিচের বিষয়গুলো।
– ২৪ ঘণ্টায় অন্তত আট বার দুধ
খাবে।
– দুধ টানার গতি একবার খাওয়ার
মধ্যেই কখনো কমবে, কখনো বাড়বে।
– দুবার খাওয়ার মধ্যে সচেতন ও
সন্তুষ্ট থাকবে।
– পেশি দৃঢ় থাকবে এবং ত্বক
থাকবে স্বাভাবিক।
– ছয় থেকে আটবার প্রস্রাব হবে ২৪
ঘণ্টায়।
– নিয়মিত ওজন বৃদ্ধি।
– মায়ের স্তন খালি হওয়ার অনুভূতি।
এগুলো ঠিক থাকলে বুঝতে হবে দুধ
না পাওয়ার ধারণাটি অমূলক।
যে মায়েদের সন্তান জন্মের অব্যবহিত
পরেই কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়,
তাঁরা বুকের দুধ চিপে বের
করে রেখে যেতে পারেন।
প্রথমে স্তনের ওপর বুড়ো আঙ্গুল ও
তর্জনী রেখে পেছনে টানতে হবে।
তারপর আবার সামনের
দিকে আনতে হবে। তারপর চিপে দুধ
বের করতে হবে। এ
ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ
মেনে চলতে হবে।
কিছু সাধারণ সমস্যা
– স্তনের
বোঁটা ফেটে যাওয়াঃ সাময়িকভাবে নিঃসৃত
দুধ দেওয়া লাগতে পারে। দুধের বোঁটায়
ভ্যাসলিন অথবা নিঃসৃত দুধ লাগালেই
যথেষ্ট।
– স্তনে দুধ জমে যাওয়াঃ হাত
দিয়ে অথবা পাম্প দিয়ে ঘন ঘন দুধ বের
করে নেওয়া এবং সাময়িক পানি কম
খাওয়া হচ্ছে এর সমাধান।
– বাচ্চা দুধ
টানতে না পারলেঃ তালুকাটা বাচ্চা দুধ
টানতে না পারলে লম্বা হাতার চামচ
দিয়ে খাওয়াতে হয়।
– স্তনের
বোঁটা ভেতরে ঢুকে থাকলেঃ হাত
দিয়ে স্তনের বোঁটা টানতে হবে।
বাচ্চাকে বারবার দুধ টানতে দিলেই
সে তা পাবে।
বাচ্চার মায়ের দুধ না পাওয়া
মা যদি সত্যি বাচ্চাকে দুধ
দিতে আগ্রহী থাকেন, তাহলে মায়ের দুধ
না পাওয়া প্রায় অসম্ভব ও অবাস্তব
ব্যাপার। গর্ভফুলের অংশবিশেষ
ভেতরে থেকে গেলে তা দুধ নিঃসরক
প্রোল্যাক্টিন হরমোনকে নিবৃত্ত করে।
কোনো কোনো সময় পরিবেশগত
কারণে দুধ নিঃসরণের অবচেতন
ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মায়ের
যথেষ্ট বিশ্রাম, পারিবারিক আবহাওয়া,
দক্ষ যত্নের
মাধ্যমে এটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বাচ্চা যথাযথভাবে দুধ না টানলেও দুধ
কম হতে পারে। এ জন্য সঠিক
অবস্থানে, সঠিকভাবে দুধ
টানতে দিতে হবে। বিশেষ
ক্ষেত্রে কালিজিরা অথবা
ডমপেরিডনজাতীয় ওষুধ দুধ বাড়ার
জন্য কার্যকর হতে পারে। বিভিন্ন
গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের এক
ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ
খাওয়ানো হলে নবজাতক মৃত্যুর হার
২২ শতাংশ কমানো সম্ভব। শুধু মায়ের
দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে বছরে ৩৭
হাজার নবজাতকের জীবন রক্ষা পাবে।
জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৩ শতাংশ
নবজাতক জন্মের এক ঘণ্টার
মধ্যে মায়ের দুধ পায়। অথচ জন্মের
পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০
হাজার নবজাতক বছরে মারা যায়। এ
ছাড়া প্রতিবছর জন্মের পর প্রথম
২৮ দিনে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার
নবজাতক মারা যায়। এই ভয়াবহ চিত্র
দেখলেই বোঝা যায় জন্মের পরপর
শিশুকে মায়ের দুধ দেওয়া কতটা জরুরি।
বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য
দশটি পদক্ষেপ
– বুকের দুধ খাওয়ানোর
ব্যাপারে একটি লিখিত
নীতিমালা থাকবে, যা নিয়মিতভাবে সব
স্বাস্থ্যসেবার কর্মীকে অবহিত
করতে হবে।
– স্বাস্থ্যসেবার কর্মীকে এই
নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয়
দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
– সব গর্ভবতী মাকে বুকের দুধ
খাওয়ানোর সুফল ও
ব্যবস্থাপনা অবহিত করতে হবে।
– জন্মের আধ ঘণ্টার
মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ দেওয়ার জন্য
মায়েদের সহযোগিতা করতে হবে।
– শিশুকে কীভাবে বুকের দুধ
খাওয়াতে হয় এবং মায়েরা শিশুদের
কাছে না থাকাকালীন অবস্থায়
কীভাবে তা চালিয়ে যাওয়া যায়,
তা মায়েদের শেখাতে হবে।
– নিতান্তই চিকিৎসার প্রয়োজন
ব্যতীত শিশুকে বুকের দুধ ছাড়া অন্য
কোনো খাবার বা পানীয় দেবেন না।
– মা ও শিশুকে প্রতিদিন ২৪
ঘণ্টা একই সঙ্গে থাকতে দিন।
– শিশুর চাহিদামতো বুকের দুধ
খাওয়ান।
– বুকের দুধে অভ্যস্ত শিশুদের
কোনো কৃত্রিম টিট, বোসিফাইয়ার,
ডামি দেবেন না।
– শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর
সহযোগী দল গঠনে উৎসাহ দিন।
মা হাসপাতাল বা ক্লিনিক
ছেড়ে যাওয়ার সময় এসব দলের কাছ
থেকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলে দিন।
সূত্রঃ ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থার যৌথ ঘোষণা
সফলভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর কিছু
নির্দেশিকা
– জন্মের পরপরই শিশুকে প্রথম
শালদুধ খাওয়ান। এতে পুষ্টি ছাড়াও
রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা থাকে।
এটি প্রথম টিকার কাজ করে।
বাচ্চাকে মায়ের সঙ্গে এক বিছানায়
রাখতে হবে।
– গর্ভবতী মাকে তাঁর
পুষ্টি এবং শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য
বেশি খাবার দিতে হবে। স্বাভাবিক
খাবারের চেয়ে রোজ এক মুঠো চাল, এক
চামচ ডাল, এক চামচ তেল, এক
মুঠো শাকসবজি ও সম্ভব
হলে পাকা কলা খেতে হবে।
বেশি পানি পান করতে হবে।
– শিশুর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু
মায়ের দুধই যথেষ্টঃ যতক্ষণ চায়,
ততক্ষণ বুকের দুধ দিন। দুই দিকের
বুক থেকে দুধ দিন।
– শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের
পাশাপাশি অন্যান্য খাবার ও এর
সঙ্গে খিচুড়ি দিন।
তবে বোতলে অন্যখাবার দেবেন না।
– যেকোনো অসুখে বুকের দুধ ও
অন্যান্য খাবার বারবার খেতে দিন।
দরকার পরিবারের সহায়ক ভূমিকা
– মায়ের প্রয়োজনীয় পৃষ্টি ও
বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে পরিবারের
রয়েছে বিরাট ভূমিকা।
– বুকের দুধ খাওয়ালে সৌন্দর্যহানি হয়
না। গর্ভকাল থেকে দুধ খাওয়ানোয়
সমর্থন দিন।
– দুধ খাওয়ানোর উপযোগী পরিবেশ
গড়ে তুলুন।
শিশুর খাদ্য বিধান অধ্যাদেশ
শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণের
জন্য বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মায়ের
দুধের বিকল্প অথবা সহায়ক
শিশুখাদ্যের পাত্রের গায়ে পরিষ্কার
বাংলায়
আকর্ষণীয়ভাবে লেখা থাকতে হবে শিশুর
জন্য মায়ের দুধই সর্বোৎকৃষ্ট।
শিশুখাদ্যের কোনো বিজ্ঞাপনে শিশুর
অথবা বোতলের ছবি ব্যবহার
করা যাবে না। বিজ্ঞাপন
উপহারসামগ্রী প্রদান অথবা অন্য
কোনো উপায়ে কোনো ব্যক্তি মায়ের
দুধের বিকল্প খাদ্যের ব্যবহার
সম্প্রসারণের কোনো উদ্যোগ
নিতে পারবে না। মায়ের দুধ
খাওয়ানো অবশ্যই একটি অপরিহার্য
জরুরি উদ্যোগ। এতে অবহেলার
কোনো সুযোগ নেই। ব্যক্তি ও
পরিবারের সঙ্গে রাষ্ট্রকেও এ
ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। মাতৃত্ব
ছুটি বাড়িয়ে অন্তত এক বছর
করা জরুরি। কর্মক্ষেত্রেও
গড়ে তুলতে হবে বুকের দুধ খাওয়ানোর
উপযোগী পরিবেশ।
কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
সব মা কি বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ। প্রত্যেক মা-ই বুকের
দুধ খাওয়াতে পারেন।
সব মায়ের কি পর্যাপ্ত বুকের দুধ হয়?
উত্তরঃ মায়েরা শিশুর
চাহিদা অনুযায়ী দুধ দিলে পর্যাপ্ত
বুকের দুধ তৈরি হবে। মায়ের নিজের
ওপর আস্থাই আসল।
বুকের দুধ কি নষ্ট হতে পারে?
উত্তরঃ না। বুকের দুধ নষ্ট হয় না।
বুকের দুধ সর্বদাই বিশুদ্ধ। শিশুর জন্য
নিরাপদ।
বোতলে দুধ খাওয়ানো কি শিশুর জন্য
বিপজ্জনক?
উত্তরঃ খুবই বিপজ্জনক!
এতে অপুষ্টি ও ডায়রিয়া হতে পারে!
মাহবুব মোতানাব্বি
সহকারী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্রঃ প্রথম আলো, জুলাই ২৯,


সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

এই চৈত্রে শিশুর ডায়রিয়া ও আপনার করণীয়

চৈত্র মাস, প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই,
বাতাসে প্রচুর ধুলোবালি, অনেক
জায়গায় পানি নেই, থাকলেও অপ্রতুল।
ময়লা বা দুর্গন্ধযুক্ত। এই সময় বড়,
ছোট সবাই পেটের সমস্যায় ভুগছে।
বিশেষ করে, শিশুরা মারাত্মক
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত
হচ্ছে এবং পানিশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে
ভর্তি হচ্ছে। গ্রামের শিশুদের তুলনায়
শহরের শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
আমরা সবাই জানি,
ডায়রিয়া একটি খাদ্য ও পানিবাহিত
রোগ। অর্থাৎ, রোগজীবাণু খাদ্য ও
পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এ
ছাড়া দুই বছরের নিচে শিশুদের
ডায়রিয়ার প্রধান কারণ
হলো রোটা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এই
ভাইরাস ডায়রিয়া সাধারণত তিন
থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।
ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড়
জটিলতা হলো পানিশূন্যতা।
পানিশূন্যতা হলে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে।
শিশুর মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়।
শিশুর প্রস্রাব কমে যায় বা বন্ধ
হয়ে যায়, এমনকি শিশু মারাও
যেতে পারে।
কী দেখে বোঝা যাবে শিশুর
পানিশূন্যতা হয়েছে
 অস্থির ভাব। খিটখিটে মেজাজ
বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া
 চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া
 তৃষ্ণার্ত ভাব বা একেবারেই
খেতে না পারা
 চামড়া ঢিলা হয়ে যাওয়া
পানিশূন্যতার মাত্রা ভেদে শিশুর
চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। ওপরের
উল্লিখিত লক্ষণগুলোর
যেকোনো একটা থাকলেও
শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।
পানিশূন্যতা যাতে না হয়, সে জন্য
বাড়িতে কী করবেন
 শিশুকে বেশি করে খাওয়ার স্যালাইন
ও তরল খাবার, যেমন-ভাতের মাড়,
চিড়ার পানি, ডাবের পানি, টকদই, ঘোল,
ফলের রস ও লবণ-গুড়ের শরবত
খেতে দিন। অনেকে মনে করেন,
স্যালাইন খাওয়ালেই ডায়রিয়া বন্ধ
হয়ে যাবে, এমন ধারণা সত্যি নয়।
ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে যে পানি ও
লবণ বের হয়ে যায়, স্যালাইন তা পূরণ
করে মাত্র।
এক প্যাকেট গুলাবেন না—এতে লবণের
মাত্রা কম-
বেশি হতে পারে এবং শিশুদের মারাত্মক
সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতিবার
পায়খানার পর ১০ থেকে ১৫ চামচ
স্যালাইন শিশুকে খেতে দিন।
মনে রাখবেন, স্যালাইন
খাওয়াতে হবে ধীরে ধীরে এক চামচ এক
বা দুই মিনিট পর পর।
একবারে বেশি দিলে শিশুর
বমি হতে পারে বা পায়খানা বেড়ে যাবে।
শিশুকে অন্যান্য খাবার দিতে হবে
শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের কম হয়,
তাহলে তাকে বারবার মায়ের দুধ
খেতে দিন। কখনোই বুকের দুধ বন্ধ
করা যাবে না। শিশুর বয়স ছয় মাসের
বেশি হলে বুকের দুধের
পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য খাবার
অবশ্যই দিতে হবে। অনেক পরিবার
শিশুর ডায়রিয়া হলে শিশুকে মাছ, মাংস,
ডাল, কলা, শাকসবজি খেতে দেন না; শুধু
চালের গুঁড়া, বার্লি বা জাউভাত
খেতে দেন। অসুস্থ অবস্থায়
শিশুকে স্বাভাবিক খাবার
খেতে না দিলে শিশু দুর্বল হয়ে যায়।
ডায়রিয়া তাড়াতাড়ি ভালো হয়
না এবং পরে শিশুর
অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
পরিবারের খাবার, যেমন-খিচুড়ি, ডাল-
ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, পাকা কলা,
তাজা ফলের রস, সবজি—সবকিছুই
শিশু খেতে পারবে। খাবার রান্না করার
সময় সয়াবিন তেল দিতে ভুলবেন না।
কাঁচকলা সিদ্ধ করে নরম ভাতের
সঙ্গে চটকে দিন বা খিচুড়ির
সঙ্গে কাঁচকলা দিন।
কাঁচকলা ডায়রিয়ার
তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন
তৈরি করুন। সারা দিন
কমপক্ষে ছয়বার, অর্থাৎ তিন-চার
ঘণ্টা পর পর শিশুকে খাবার দিন। অল্প
করে দিলে শিশুর পক্ষে খাবার হজম
করা সহজ হবে।
 ১৫ দিনের জন্য জিংক সিরাপ
বা বড়ি খেতে দিন।
 খেয়াল করুন, শিশুর অবস্থা খারাপের
দিকে যাচ্ছে কি না।
তা হলে শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।
কখন শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে
 পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে
 স্যালাইন বা অন্যান্য খাবার
খেতে না পারলে
 অতিরিক্ত তৃষ্ণাভাব থাকলে
 খুব বেশি পরিমাণ পানির
মতো পায়খানা হলে
 বারবার বমি হলে
 তীব্র জ্বর থাকলে
 পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে
 ১৪ দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে।
মনে রাখবেন
 জন্মের পর পরই শিশুকে শালদুধ দিন
এবং ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ
খেতে দিন।
 শিশুকে বোতল দিয়ে, এমনকি মায়ের
দুধও খাওয়াবেন না।
 চালের গুঁড়া খাওয়াবেন না
 শিশুকে নিয়মিত টিকা দিন
 খাবার ও পানি ঢেকে রাখুন
 বাইরের খাবার শিশুকে খাওয়াবেন না।
বাসি খাবারও দেবেন না

পানি কমপক্ষে আধা ঘণ্টা ফুটিয়ে শিশুকে
খাওয়ান।
 ফোটানো পানি দিয়ে শিশুর হাত, মুখ
ধোয়াবেন, গোসল করাবেন, বাটি, চামচ
ধুয়ে নিন। ব্রাশ করার পর
ফোটানো পানি ব্যবহার করুন।
 ফলমূল (কলা, আপেল)
ফোটানো পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
 ডায়রিয়া শুরু হলেই অ্যান্টিবায়োটিক
বা মেট্রোনিভাজল-জাতীয় ওষুধ
খাওয়াবেন না। পায়খানা বন্ধ করার
কোনো ওষুধ নেই। শিশুর যত্ন নিন,
ধৈর্য ধরুন। সম্ভব হলে শিশুর বয়স
ছয় মাসের কম হলে রোটা ভাইসের
টিকা দিন।
 অনেক মা জানতে চান,
‘আমি কী খাব?’ মায়েদের বলছি,
আপনিও পরিবারের সব খাবার
খেতে পারবেন। আপনার শিশু বুকের দুধ
খেলেও কোনো খাবার আপনার জন্য
নিষেধ নেই। কারণ, আপনার খাবারের
সঙ্গে শিশুর ডায়রিয়া বা অন্যান্য
অসুস্থতার কোনো সম্পর্ক নেই।
আপনি ও আপনার শিশু ভালো থাকুক।
তাহমীনা বেগম
অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, বারডেম



সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

শিশুর ক্যানসার ও সচেতনতা

আমাকে যখন প্রশ্ন করা হয়,
আপনি কী করেন? উত্তর দিই,
আমি ডাক্তার। সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই
আরেকটা প্রশ্ন পাই,
আপনি কী বিষয়ের ডাক্তার? জবাব—
শিশু ক্যানসারের ডাক্তার। তখন
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই
একটা বিস্ময়মিশ্রিত প্রশ্ন
কিংবা মন্তব্য আসে—বাচ্চাদের
ক্যানসার হয়?
শুরুতে বিষয়টা উল্লেখ করলাম এ জন্য
যে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের
মধ্যে বাচ্চাদের ক্যানসার
সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। বেশির
ভাগ মানুষের প্রচলিত
ধারণা যে ক্যানসার একটা পরিণত
বয়সের রোগ। তাই শিশুদের এর
দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার তেমন
আশঙ্কা নেই।
তবে যাদের
পরিবারে কিংবা পরিচিতজনদের
মধ্যে ক্যানসার-আক্রান্ত
বাচ্চা আছে, তাদের শিশু ক্যানসার
সম্পর্কে কিছু ধারণা হয়েছে।
তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমাদের
দেশের অনেক অভিভাবক জানেন না,
বাচ্চাদের ক্যানসার হলে এর সঠিক
চিকিৎসা করানোর জন্য কোথায়
যেতে হবে?
ফলে তাঁরা অযথা বিভিন্ন
স্থানে দৌড়াদৌড়ি করে হতাশ
হয়ে পড়েন এবং বাচ্চাটিও
সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। শিশুদের
ক্যানসার চিকিৎসা ও বড়দের
ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যে অনেক
পার্থক্য আছে। পেডিয়াট্রিকে (শিশু)
একটা কথা বলা হয় যে ‘এ চাইল্ড ইজ
নট এ মিনি অ্যাডাল্ট’ অর্থাৎ
একটা শিশু একজন ছোট বয়স্ক মানুষ
নয়, বরং একটা শিশু
একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিপূর্ণ মানুষ।
সুতরাং তার চিকিৎসার প্রয়োজন।
আশার কথা হলো, আমাদের দেশে এখন
বেশ কয়েকজন শিশু ক্যানসার
বিশেষজ্ঞ আছেন এবং বেশ
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ক্যানসার
চিকিৎসার জন্য আলাদা বিভাগ আছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
হলো: ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট
ও হাসপাতাল, যেটা সাধারণ মানুষের
মধ্যে ক্যানসার হাসপাতাল
নামে পরিচিত। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালেও শিশু ক্যানসার চিকিৎসার
জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে।
শিশুদের ক্যানসার যদি সঠিক
নিয়মে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা করানো
যায়, তবে অনেক ক্যানসার নিরাময়
করা সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের অনেক
দেশে বাচ্চাদের ক্যানসারের মধ্যে বেশ
কিছু ক্যানসার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ
পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়
করা হচ্ছে, যেটা আমাদের দেশের
বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও সম্ভব।
তবে এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন
আমাদের চিকিৎসক-সমাজসহ সবার
সচেতনতা।
একটি শিশু ক্যানসার-আক্রান্ত
হলে তাকে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান
কিংবা উপযুক্ত শিশু ক্যানসার
বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর
ক্ষেত্রে সব চিকিৎসক উপযুক্ত
ভূমিকা নিলে তা হবে একটা পরিপূর্ণ
ব্যবস্থা। আর সে জন্য শিশুর
ক্যানসার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন
শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। আর
এভাবেই আমাদের সুন্দর ছোট
শিশুরা পাবে উপযুক্ত
চিকিৎসা এবং এসবের উপস্থিতি মা-
বাবাসহ পরিবারকে দেবে অনেক আনন্দ
আর আশা।
মমতাজ বেগম
সহকারী অধ্যাপক, পেডিয়াট্রিক
অনকোলজি বিভাগ
(শিশু ক্যানসার বিভাগ), জাতীয়
ক্যানসার গবেষণা
ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী,
ঢাকা।



সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More