যৌনতা ও যৌন শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
যৌনতা ও যৌন শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

যারা পায়ু পথে সেক্স করেন,যৌনাঙ্গতে মুখ লাগান? তাদের কে বলছি।

আমার কাছে সবচেয়ে অবাক লাগার মধ্যে দুইটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতেছি।

১) যে সব ছেলে মেয়েরা একে অপরের যৌনাঙ্গ চুষেন তাদের কে বলছি?
>>এটা নির্কৃষ্ট বিকৃর্তি পুশু ভিক্তিক যৌন আচারন।
পুশুদের হাত নেই বলে পুরুষ পুশু তার নারী পুশুর যৌনাঙ্গতে
মুখ লাগিয়ে উত্তেজিত করে।

কিন্তু মানুষদের হাত আছে, যৌনাঙ্গতে মূখ লাগি
উত্তেজিত করার প্রয়োজন নেই?
এ ক্ষেত্রে হাত যথেষ্ট।

তাছাড়া যৌনাঙ্গতে মুখ লাগালে যৌনাঙ্গতে লেগে থাকা জীবানু
খুব সহজেই আপনার দেহের ভিতরে প্রবেশ করে।

ইসলামের কঠোর নিষেধ আছে যৌনাঙ্গতে মুখ না লাগানোর,[ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ]
কারণ এই জায়গাটি অপবিত্র, নাপাক।
নাপাক জায়গাতে মুখ লাগালে আপনার
মুখেও অপবিত্র, নাপাক হয়ে যাবে।

আপনার মূখ যাতে নাপাক না হয়?
সে জন্য মহান আল্লাহ বিকল্প ভাবে
মায়ের গর্ভে খাবারের ব্যবস্তা করে
আপনাকে লালন করেছেন।

যাতে পবিত্র মুখে আপনি আল্লাহর
নাম জপতে পারেন, তার কালাম পড়তে পারেন।

২) পায়ু পথে সেক্স করা।
এই কাজ টি ইসলামের দিক থেকে জগন্য অপরাধ,
নবীজি বলেছেন যারা এই কাজটি করবে?
তারা ধংস হয়ে যাবে।
পায়ু পথে যারা সেক্স করে তারা জাহান্নামে যাবে।
এই বিষয়ে অনেক হাদিস ও আছে।
আমিও পড়েছি অনেক আগে।


আপনি পিছন দিক থেকে করেন?
অথবা সামনে দিক থেকে করেন?
আপনাকে সেক্স করতে হবে যৌনি
পথ দিয়ে।  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

পায়ু পথ দিয়ে সেক্স করলে নারীর
যৌন অধিকার নারীর যৌন অধিকারলঙ্গণ হয়।

তাই বিবাহিত ভাই বোন দের প্রতি অনুরোধ
রইলো আপনারা সেক্স করার সময় এই বিষয়
গুলি মাথায় রেখে সেক্স করবেন।

নাস্তিকবাদীরা আল্লাহ এবং জাহান্নাম বিশ্বাস করে না?
নাস্তিকবাদীদের কে বলছি............
আপনি আল্লাহ এবং জাহান্নাম বিশ্বাস করেন অথবা
নাই করেন?
কিন্তু আল্লাহ আছেন, তাহার তৈরী জাহান্নামও আছে।
যদি বিশ্বাস না করেন?
তা হলে মরে দেখেন।
সব কিছুর প্রমাণ পেয়ে যাবেন।
My facebook
ব্লগার_ সৈয়দ রুবেল।
এই বিষয় টি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানান ।
তাদের কে জানতে দিন।

প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Read More

কয়েকটি ভুল যা ছেলেরা সেক্সের সময় করে থাকে


বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়
আমাদের দেশের ছেলেরা সেক্সের সময়
মেয়েদের আনন্দ দেওয়ার
চেয়ে তাদেরকে লোভনীয় খাদ্যের মত
গপাগপ গিলতেই বেশি পছন্দ করে। তাই
এদেশের বহু মেয়ের কাছে (সবাইনয়) চরম
যৌন সুখ পাওয়া যেন এক বহু আরাধ্য
বস্তু।
ছেলেদের এই রাক্ষুসে মনোভাবের
কারনেই অনেক সময় দেখা যায়
যে তারা তাদের Relationship
টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়। এমনকি এর
ফলে বিয়ের মত অনেক বন্ধনও ধ্বংসের
মুখে পড়ে যাচ্ছে, পরকীয়া প্রেমের
সূত্রপাত ঘটছে। এর মূল কারনই হল
সেক্স ও মেয়েদের যৌন ইচ্ছা-
আকাঙ্খা সম্পর্কে ছেলেদের স্বচ্ছ
ধারনার অভাব।
বিদেশি ভাষায় এসব বিষয়ে অনেক বই
পত্র থাকলেও বাংলায় তেমন নেই বললেই
চলে। তাই কিছু বিদেশি বইয়ের সাহায্য
নিয়ে ও নিজের
অভিজ্ঞতা থেকে সেক্সের সময় ছেলেদের
যে সকল ভুলের কারনে তাদের সঙ্গিনীর
বিরাগভাজন হতে হয় তার
কয়েকটি সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরলাম।
সময়ের অভাবে আপাতত এসকল ভুলের
প্রতিকার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জানার
বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত
লিখতে পারলাম না। তবে লেখা সবার
ভালো লাগলে ভবিষ্যতে সম্পুর্ন বাংলায়
একটা সারগর্ভ সেক্স গাইড লেখার
কথা চিন্তা করব।
১. প্রথমে চুমু না খাওয়াঃ সেক্সের
শুরুতেই সঙ্গিনীকে আদরের সাথে চুমু
না খেয়ে তার যৌনকাতর
স্থানগুলোতে (স্তন, যোনি, নিতম্ব,
নাভী ইত্যাদি) চলে গেলে তার
ধারনা হতে পারে যে আপনি তাকে টাকা দিয়ে ভাড়া করে দ্রুত
সেই টাকা উসুল করার চেষ্টা করছেন।
গভীরভাবে ভালোবাসার
সাথে সঙ্গিনীকে চুমু খাওয়া দুজনের
জন্যই প্রকৃতপক্ষে এক অসাধরন
যৌনানন্দময় সেক্সের সূচনা করে।
২. দাড়ি না কামানোঃ অনেকেই
দাড়ি না কামিয়ে সেক্স করেন, এই
মনে করেযে আসল কাজ তো আমার হাত
আর লিঙ্গের! কিন্ত যখন আপনার
সঙ্গিনীকে চুমু খাবেন, তার স্তন
চুষবেন, তার সারা দেহে জিহবা বুলাবেন
এবং বিশেষ করে যখন তার যোনি চুষবেন
তখন আপনার
ধারালো খোচা খোচা দাড়ি বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই আপনার সঙ্গিনীকে আনন্দ
নয় বরং অসস্তি ও ব্যথা দেবে। তাই
সেক্সের আগে ভালোমত
দাড়ি কামিয়ে নেয়া উচিত।
৩. প্রথম থেকেই জোরে জোরে স্তন
টিপাঃ বেশীরভাগ সময়ই দেখা যায়
ছেলেরা মেয়েটির স্তন হাতের
কাছে পাওয়া মাত্রই এমনভাবে টিপা শুরু
করে যেন ময়দা মাখাচ্ছে। কিছু
Extreme মেয়ে এরকমটা পছন্দ
করলেও বেশীরভাগ মেয়েই চূড়ান্ত
উত্তেজিত হওয়ার আগে এরকম
করাতে বেশ ব্যথা পায়। তাই
প্রথমে নিজের উত্তেজনাকে একটু
দাবিয়ে রেখে হলেও ধীরে ধীরে আদরের
সাথে ওর স্তনে হাত
বুলিয়ে বুলিয়ে টিপা শুরু করতে হবে।
তবে মেয়েই
যদি জোরে টিপতে বলে তবে সেক্ষেত্রে কোন
সমস্যা নেই।
৪. স্তনের বোটায় কামড় দেয়াঃ কিছু
ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় কোন মেয়েই
সরাসরি তাদের স্তনের বোটায় কামড়
খেতে পছন্দ করে না।
ছেলেরা মনে করে এখানে কামড়
দিলে তাকে বেশি বেশি উত্তেজিত
করে তোলা যায়। হ্যা কথাটা আংশিক
সত্যি। তবে এর সবচেয়ে ভালো উপায়
হল। প্রথমে মুখের ভিতরে যতটুক
পারা যায় স্তনটা পুরো বা আংশিক
ভরে নিতে হবে তারপর হাল্কা করে দাত
বুলানোর মত করে মুখ থেকে স্তনটা বের
করতে করতে নিপলে আলতো ভাবে দুই
দাঁতের ছোয়া লাগাতে হবে।
৫. আঙ্গুল দিয়ে স্তনের
বোটা মোড়ানোঃ অনেক
ছেলে এমনভাবে সঙ্গিনীর বোটা আঙ্গুল
দিয়ে মোড়ায় যেন তারা রেডিও টিউন
করছে।এটা ঠিক নয়।
হতে পারে বোটা মেয়েদের স্তনের
সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্থান, কিন্ত শুধুই
বোটায় এরকম করলে সেটা আনন্দদায়ক
নয়, বরং কিছুটা যন্ত্রনাদায়ক
(Teasing) । তাই একহাতের
আঙ্গুলে বোটা নিয়ে খেলার সময় অন্য
হাত দিয়ে সম্পুর্ন স্তনের উপরও নজর
রাখতে হবে।
৬. সঙ্গিনীর দেহের অন্যান্য অঙ্গের
দিকে মনোযোগ না দেয়াঃ সেক্সের সময়
ছেলেদের একটা কথা সবসময়
মনে রাখতে হবে যে মেয়েদের স্তন,
যোনি আর নিতম্ব এই তিনটিই তাদের
একমাত্র যৌনকাতর স্থান নয়।
ছেলেদের মূল যৌন কাতর অঙ্গ তাদের
দেহের মাত্র কয়েকটি স্থানের
মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও মেয়েদের প্রায়
পুরো দেহই স্পর্শকাতর (মেয়েদের দেহের
কোন কোন অংশ গুলো বেশি যৌনকাতর
তা আপাতত এই সংক্ষিপ্ত রচনায় আর
ব্যাখ্যা করছি না।)।তাই তার দেহের
এমন একটি স্থানও যেন
না থাকে যেখানে ছেলেটির ঠোটের
বা হাতের স্পর্শ যায়নি।
৭. ছেলের হাত
আটকে যাওয়াঃ সঙ্গিনী যদি আক্রমনাত্নক
(Aggressive) সেক্স পছন্দ
করে অথবা ছেলে নিজেই চরম উত্তেজিত
হয়ে মেয়ের যোনি, স্তন ইত্যাদি স্পর্শ
করার জন্য পাগলের মত
হাতরাতে থাকে তবে মেয়েটির
প্যান্টি বা ব্রা তে তার হাত
আটকে যেতে পারে। ফলে বাধ্য
হয়ে থেমে সেটা ছাড়ানোর
চেষ্টা করতে গিয়ে যে রোমান্টিক
যৌনতার একটা আবেশ (Mood)
তৈরী হয়েছিল তা নস্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই বেশি Aggressive সেক্স শুরুর
আগেই ব্রা-প্যন্টি খুলে নেওয়া ভালো।
৮. ভগাঙ্কুরে আক্রমনঃ অনেক
ছেলেইমেয়ের যোনি চুষতে গিয়ে তার
ভগাঙ্কুরে (clitoris)
জোরে জোরে আঙ্গুল
ঘষে বলতে গেলে আক্রমনই করে বসে।
যারা জানেন না তাদের জন্য
বলছি ভগাঙ্কুর হলো মেয়েদের
সবচেয়ে যৌনকাতর স্থানগুলোর একটি।
এর অবস্থান হল যোনির ফুটোর
আশেপাশে যে পাতলা চামড়ার মত অংশ
(labia) আছে তার উপরের দিকে,
মেয়েদের প্রস্রাবের রাস্তার নিচে।
মেয়েরা যৌনত্তেজিত হলে এই
স্থানটি শক্ত হয়ে একটু ফুলে যায়
ফলে তা সহজেই দেখা যায়। এই
স্থানটি চরম স্পর্শকাতর হলেও
এতে জোরে জোরে আঙ্গুল ঘষা মেয়েদের
জন্য পীড়াদায়ক। তাই প্রথম
দিকে এতে একটু ধীরে ধীরে আঙ্গুল
ঘষতে হবে।
৯. একটু থেমে বিশ্রাম
নেওয়াঃ ছেলেরা যেমন চরম উত্তেজনার
পথে সামান্য সময়ের জন্য থেমে গেলেও
আবার সেই স্থান থেকেই শুরু
করতে পারে, মেয়েদের পক্ষে এটা সম্ভব
হয়না। তাদের উত্তেজিত হতে যথেষ্ট
সময়ের প্রয়োজন। চরম উত্তেজিত
হবার পথে হঠাৎ থেমে গেলে তারা আবার
আগের অবস্থায় ফিরে যায়, ফলে আবার
নতুন করে তাদের উত্তেজিত
করে তুলতে হয়। তাই যত কষ্টই হোক
মেয়েটির চরম
উত্তেজনা না আসা পর্যন্ত
তাকে আদর করা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্ট
করতে হবে।

Next post 
http://sayedrubel.blogspot.com/2012/12/blog- post_3.html




শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে জানান ।এটা আপনার আমার সকলের দ্বায়িত্ব । প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Read More

ঘরের কাজে সময় ব্যয় করলে যৌন জীবন মধুর হবে


 

দাম্পত্য’র মধুরতা যৌন মিলনে৷
পার্টনারের সঙ্গে যৌন মিলনের আনন্দ
পেতে তাঁকে ঘরের
কাজে আপনাকে সাহায্য করার
কথা বলুন৷ কারণ
সম্প্রতি একটা সমীক্ষাতে প্রমানিত
হয়েছে যে সব দম্পতিরা ঘরের
কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন
তারা সহবাসের সময়ে অধিক
পরিমাণে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন৷
আমেরিকার মন্টক্লেয়ার
ইউনিভার্সিটিতে এই
নিয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল৷ ঐ
সমীক্ষাতে ৬৮৭৭ জন দম্পতি অংশ
নিয়েছিলেন৷ তারা সকলেই
রান্না থেকে শুরু করে কাপড় কাচা, ঘর
পরিষ্কার করা, ঘরের যাবতীয় কাজ
করেন৷
তারা সকলেই দৈহিক মিলনের
ক্ষেত্রে অধিক সক্ষম বলে প্রমানিত
হয়েছে৷ বয়সের ভার তাদের যৌন
সম্পর্কে কোন প্রভাবে ফেলে নি৷




শেয়ার করে আপনার প্রিয় বন্ধু-বান্ধবীদের পড়ার সুযোগ দিন।
আপনি জেনেছেন....হয়তো সে জানেনা ।আল্লাহ আপনাকে ভাল রাখুক --আমিন ।
Read More

যৌনতা ও যৌন শিক্ষা যৌনতা ২

তবে রতি বিহারের সময় স্ত্রীলোকের কামরস নির্গত হয়না।
সুতরাং স্ত্রীলোকের দ্বারা পুরুষের বীর্যপাতের অনুরূপ কোনো তরল পদার্থ বা বীর্য ক্ষরিত হয়না।
যৌন উত্তেজনার সময়ে যে আর্দ্রতা অনুভূত হয় তা ভালভার গ্রন্থি নিঃসৃত ক্ষরণ।
রাগ মোচনের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
তা যদি সত্যিও হয়, পুরুষের শুক্রপাতের সঙ্গে তার তুলনা করা চলেনা।
জনন-অঙ্গের সংকোচন তারা সব সময়ে অনুভব করতে পারেনা, বিশেষ করে উভয়ের রাগ মোচন যদি যুগপৎ ঘটে।
স্ত্রীলোকের সংকোচন সম্বন্ধে একথা বিশেষভাবেপ্রযোজ্য।
কারণ পুরুষ অনেক সময়ে তা একেবারে টের পায়না।
তবে পরিণতি প্রাপ্তির অন্যান্য আনুষঙ্গিক লক্ষণ।
যেমন- বর্ধমান টানের আকস্মিক মুক্তি, শৈথল্য ওপূর্ণতাবোধ, পুরুষ ও নারীর আচরণে সুসপষ্টভাবেপ্রকাশ পায় এবং তা উভয়ের কাছেই সপষ্টবোধ্য।
স্ত্রীলোকের রতিবিহারকালীন যৌন প্রতিক্রিয়ার মাত্রার বিশেষ করে সন্তোষজনক পরিণতি প্রাপ্তির ক্ষমতার বহু পর্যায়ে আছে।
বিবাহের গোড়ার দিকে স্ত্রীলোকের যৌন কামনা সুপ্ত অবস্থায় থাকা এবং তার দরুণ রতি বিহারকালে সামান্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া আশ্চর্য নয়।
এ সময়ে পারসপরিক পরিণতি প্রাপ্তির সমস্যা দেখা দিলে চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই।
স্বামী সহানুভূতি ও ধৈর্য্যের সঙ্গে অগ্রসর হলে কিছুকাল বাদে সু-সামঞ্জস্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
স্ত্রীলোকের পক্ষে যদি পরিণতিতে পৌঁছানো আদৌ সম্ভব না হয়, তার প্রতিক্রিয়া মন্থর গতি হলেও দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
সূক্ষ্ম যৌন উদ্যোগ ও উদ্দীপনা, রতি বিহারের ভঙ্গি বদল ও যৌন কলা- কৌশলে অধিকতর ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও বিচক্ষণতার পরিচয় কিছুকাল বাদে স্ত্রীলোককে সেই পরিমাণ উদ্দীপিত হতে সাহায্য করবে যাতে সে স্বামীর সঙ্গে যুগপৎ অর্গাজম-এ পৌঁছতে পারে।
অবশ্য কিছু স্ত্রীলোক আছে যারা দীর্ঘ উদ্দীপনার পরও সম্পূর্ণ পরিণতিতে পৌঁছতে পারেনা।
পুরুষের রাগ মোচন
কামোদ্দীপনা প্রায় শরীরের সর্বত্র ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটায়।
পুরুষ বা নারীর মধ্যে যৌনউদ্দীপনা জাগলে প্যালপিটেশন দেখা দেয়।
রক্তের চাপ সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে লিঙ্গে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
সে সঙ্গে অনুরূপভাবে স্নায়বিক টান বৃদ্ধি পায় এবং তা সমস্ত দেহকে প্রভাবিত করে।
কামোদ্দীপনা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবর্তনগুলো ক্রমেই প্রকট হতে থাকে।
পুরুষের ক্ষেত্রে, অর্গাজমের সময়ে শুক্রপাতহয়। ভাস, সেমিন্যাল ভ্যাসিকল ও প্রস্টেট গ্রন্থি সজোরে সঙ্কুচিত হয়ে তাদের আধেয় বস্তুকে মূত্রনালীর মধ্যে বের করে দেয়।
সেখানে সবগুলো ক্ষরণ একত্রে মিশে বীর্যে পরিণত হয়।
অর্গাজমের সময়ে চারপাশেরপেশীতন্ত্রের প্রবাহ যুক্ত সংকোচনের ফলে শৌক্র পদার্থ লিঙ্গ থেকে ফিলকি দিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
সংকোচনের হার ও প্রগাঢ়তা একেক লোকের একেক রকম।
এমনকি একই লোকের একেক সময়ে একেক রকম হয় তবে সাধারণত গড়ে ১০-২০ বার সংকোচন হয়।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail : professorfiroz@yahoo.com
Read More

যৌনতা ও যৌন শিক্ষা যৌনতা ১

অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়েও সম্প্রতি সারা বিশ্বে অনেক বেশি আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেক্স বা যৌনতা। যৌনতাকে মানুষের মৌলিক চাহিদাও বলা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির সেক্স বা যৌনতা যদি বাধাপ্রাপ্ত হয় তাহলে সেটা ব্যক্তির সৃজনশীলতা, সাবলীলতা এমনকি স্বাস্থ্যবস্থায়ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
সেক্স বা যৌনতার মানে সঙ্গম এমন ধারণাই পোষণ করেন বেশিরভাগ লোক। এটি অবশ্যই যৌনতা তবে এর সাথেআরো অনেক কিছুর সংমিশ্রণ থাকা প্রয়োজন। সেক্স বা যৌনতাকে অত্যন্ত সংকীর্ণআঙ্গিকে মূল্যায়ন করা হবে যখন যৌনতা বা যৌন সঙ্গমকে পরিপূরক ভাবা হবে। সেক্স বা যৌনতাকে অনেক বেশি বিস্তৃত আঙ্গিকে মূল্যায়ন করেছেনআধুনিক যৌন গবেষক ও সেক্সথেরাপিস্টরা। যৌন বিশেষজ্ঞগণ সেক্স বা যৌনতার ৪টি দিকের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো -
সম্পর্ক স্থাপনঃ একক কোনো বিষয় নয় যৌনতা। যুগলনির্ভর এটি। সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রসঙ্গ স্বভাবতই এতে চলে আসে। আপনার সেক্স বা যৌনতাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে আপনি আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে কতটা গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছেন সেটিও।
দেহ ধারণাঃ দেহ ধারণা বলতে বোঝায় ব্যক্তি তার নিজের দেহ সম্পর্কে কেমন ধারণা রাখে আর ব্যবহার করে থাকে। কখনই আপনার সেক্স বা যৌনতা যথার্থ হতে পারবে না, আপনার দেহের ব্যাপারে সাবলীল ও সাচ্ছন্দ হতে না পারলে। আপনার মনের মাঝে প্রচলিত নানান ধারণা, সংস্কার, নানান নেতিবাচকতা ঢুকিয়েদিতে পারে।
আত্মসমমান বোধঃ নিজ সম্পর্কে আপনি কেমনটি ভাবেন ? নিজেকে একজন নারীবা পুরুষ হিসাবে কেমন মূল্যায়ন করেন ? যথার্থ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য চাই সাবলীল আত্মমর্যাদা বোধ।ব্যক্তির মাঝে এর বিকাশ ওপ্রকাশ ঘটে শৈশবকাল হতে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পরিবার, সমাজ, অঙ্গন, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার মিথস্ক্রিয়ায়।
সামাজিক ভূমিকা পালনঃ যৌনতার প্রকাশ ঘটা চাই সামাজিক অঙ্গনে, কারণ যৌনতা বা সেক্স শুধুমাত্র ব্যক্তি নির্ভর নয়। আপনার সমাজ, পরিবার আপনার কাছে যে ব্যক্তি-আচরণ প্রত্যাশা করে তা কতটা সুষ্ঠভাবে পালন করছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু সেক্স বা যৌনতার ব্যাখ্যা দেন ঠিক এমনিভাবে।
কিশোর-কিশোরীদের যৌন শিক্ষা
প্র্যাকটিনেজ হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এসময় দেহে বিকাশ ঘটে সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্যের। বিকাশের এ সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় কিশোর-কিশোরীরা তাদের বন্ধু-বান্ধবদের দ্বারা প্রচন্ড মাত্রায় প্রভাবিত হয় এবং পাশাপাশি বিপরীত সেক্সেরবা লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ জাগে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশে এ দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবা ওঅন্যান্য অভিভাবকদের এ ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীর সাহায্যে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ঋতুস্রাবের সম্পর্কে কিশোরীদের আগামধারণা দিতে হবে। আর স্বপ্নদোষ ও বীর্যপাত সম্পর্কে কিশোরদের জানাতে হবে সঠিক তথ্য। এ সময় কিশোর-কিশোরীরা অনেককিছুই জানতে চান। এ সময়ে তারা শুধুমাত্র নিজ দেহের পরিবর্তন নিয়ে উৎসাহিত হয় না, বিপরীত লিঙ্গের মাঝে যে পরিবর্তন হচ্ছে সে সম্পর্কেও কৌতূহলী হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন যে, যখন কিশোর-কিশোরীরা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আলাপ-আলোচনায় নিমগ্ন থাকে, তখন তারা শুধুমাত্রসেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে আলাপ-আলোচনাই করে না, পাশাপাশি নিজের, নিজের মা-বাবা তাদের সন্তানের যৌনতার বিকাশ সংশ্লিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, আশা-প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। এর দ্বারা সব কিশোর-কিশোরীরা কমবেশি প্রভাবিত হয়। কাজেই, মা-বাবার মনে থাকা প্রয়োজন কোনো কিশোর-কিশোরীর কোনো প্রশ্নের জবার দানকালে তা কোনো অতিসাধারণ প্রশ্নই হোক না কেনো, সংযত আর সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, এ প্রশ্নের সাধারণ জবাবই কোনো কিশোর-কিশোরীর দৃষ্টিভঙ্গি বা মূল্যবোধে পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে, মা-বাবার যৌন শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে তাদের পুত্র সন্তান অপেক্ষা কন্যা সন্তানদের ক্ষেত্রে অধিকতর সময় ব্যয় করেন, বা দ্বৈত আদর্শ বা দ্বৈত নীতি ইঙ্গিত দেয়।
সেক্স এডুকেশন কৈশোরে স্কুলে ভর্তি হবার আগে শুরু করতে হবে। যদি শুরুটা তখন সম্ভব না হয়, পরেও শুরু করা যায়। আজকেরপ্রজন্ম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অনেকটা পরিবর্তিত। আজকের মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে অনেক বেশি সময় দেন - ভাবেন। প্রতিটি মা-বাবাকেই এমন আদর্শ হবার জন্য সচেষ্ট হওয়া উচিত।
নারী-পুরুষের রাগ মোচন
মেয়েদের রাগ মোচন
মেয়েদের ক্ষেত্রে অর্গাজম বলতে সেই মুহূর্তটিকে বোঝায় যখন সঞ্চিত টান বা মুক্তি লাভকরে। মেয়েদের কাছ থেকে অর্গাজমকালে তাদের অনুভূতির যে বিবরণ পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রচুর রকম-ফের লক্ষ্য করা যায়। মেয়েরা তাদের রাগ মোচনের বর্ণনা প্রসঙ্গে যে বিশেষ ভাষা ব্যবহার করেছে তা হলো -
একটা পূর্ণতার অনুভূতি।
দেহের সর্বত্র একটা কাঁপুনি।
ক্রমবর্ধমান চক্রে একটারপর একটা প্রবাহের সঞ্চালন। যোনি অভ্যন্তরে শিরশির অনুভূতি।
হৃদ সপন্দন ও নাড়ির দ্রুতগামিতা।
জনন প্রদেশ ও তল পেটের সংকোচন।
ভালভা, যোনি ও ক্লাইটোরিসপ্রদেশের সংকোচন ও প্রবাহযুক্ত।
মাঝে মাঝে এই প্রবাহ দেহের অন্যান্য পেশীতে প্রসারিত হয় এবং
রাগ মোচনের সময়ে এমনকি সাধারণভাবে কয়েকবার আপেক্ষত্বক আন্দোলন।
সাধারণত যোনি স্থানীয় সপন্দনের গতি এত জোরালো ওসুসপষ্ট হয় যে মেয়েরা তা নিঃসন্দেহে টের পায়।
আবার সংকোচনের পরিমাণ কখনো কখনো এত ক্ষীণ ও ক্ষণস্থায়ী হয় যে, মেয়েরাতা জানতেই পারেনা।
পুরুষদের তুলনায় তাদের রাগ মোচন ধীরে ধীরে ও ক্রমে ক্রমে শান্ত হয়।
সে কারণে তার স্থিতি কিছুটা দীর্ঘও হয়।
পুরুষ ও নারীর ব্যক্তিগত ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও হৃদয়াবেগজনিত প্রগাঢ়তার ওপর নির্ভর করে রাগ মোচনকালে তাদের আবেগজনিতএবং যৌনি অনুভূতি ও আচরনেও নানা রকম তারতম্য ঘটে।
কারো কারো ক্ষেত্রে, ইন্দ্রিয় সুখ অপেক্ষাকৃতস্বল্প।
আবার কারো কারো ক্ষেত্রে তা মানসিক ও শারীরিক উল্লাসের চরম শিখরে ওঠে।
এই দু’টি প্রান্ত সীমার মাঝখানে ইন্দ্রিয়জ প্রতিক্রিয়ার এই তারতম্যের জন্যে মৌলিক গঠনগত প্রভেদ এবং যৌবনে লব্ধ আংশিক দৃষ্টিভঙ্গি উভয়েই দায়ী।
পুরুষের ক্ষেত্রে ক্ষরণ বলতে বোঝায় নারীর জনন পথে।
বীর্যের স্খলন, যা শারীরবৃত্তীয় জনন প্রক্রিয়ার অত্যন্ত জরুরী অঙ্গ বলে অভিহিত।
Read More

যৌনতা ও শৃঙ্গার


 সুপারিশকৃত পোস্ট....
০১ যৌনতার অজানা কথা
০২. সেক্স বিজ্ঞান
০৩. কি পদ্ধতিতে সহবাস করলে বাচ্চা হয়
০৪. বাংলা সেক্স হেল্পলাইন
০৫. মেয়েদের হস্তমৈথুন ও ফিঙ্গারিং
যৌনমিলনে পুরুষের সঙ্গে যাতে নারীও পূর্ণ সঙ্গম তৃপ্তি ও সুখ উপভোগ করতে পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখা পুরুষের কর্তব্য। তাছাড়া, নারীর সহজে যৌন উত্তেজনা আসেনা। এর কারণ,নারীর যৌন অঙ্গ ছাড়াও কামকেন্দ্র শরীরের নানা অঞ্চলে বিসতৃত। যেমন -
ঠোঁট
গাল
মুখ
স্তন
স্তনের বোঁটা
নিতম্ব
যোনি ও ভগাঙ্কুর
নারীর ভগাঙ্কুর নারীর শ্রেষ্ঠতম যৌন কেন্দ্র এবং এর ক্রিয়া ব্যতিত কোনো শৃঙ্গারই সম্পূর্ণ হতে পারেনা- এমন মত প্রকাশ করেছেন যৌন বিজ্ঞানীরা। ডাঃ ব্রায়ানরবিনসন নামে যৌন শাস্ত্রবিদ বলেন, ‘নারীর ভগাঙ্কুর নারী দেহরূপী প্রাসাদের সদর দরোজার কলিং বেল’। বৈদ্যুতিক কলিং বেলে আঘাত করলে যেমনসমস্ত প্রাসাদে তার শব্দ ধ্বনিত হয় এবং প্রাসাদবাসী সংকুচিত হয়।তেমনি নারীর ভগাঙ্কুরে হালকা আঘাত করলে বা সপর্শকরলে নারী দেহের সমস্ত কাম-চৈতন্য মাথা চাড়া দিয়ে জেগে ওঠে। সহবাসকালে নারীর এসব জায়গায় পুরুষের হাত বা মুখের সপর্শ না লাগলে নারীর কামেচ্ছা যেন তৎক্ষণাৎ জেগে ওঠেনা। তাই নারী চায় পুরুষ তাকে কাছে টেনে নিয়ে চুম্বন, আলিঙ্গন, স্তন মর্দন, দংশন ও গাত্র লেহনে ভরিয়েতুলুক। যৌন মিলনকালে পুরুষ লিঙ্গ স্ত্রীর যৌন অঙ্গসমূহ দখল করলেও পুরুষের হাত চায় স্তন মর্দন করতে, আর মুখ চায় ঠোঁট চুম্বন করতে। কাজেই,যৌনাঙ্গের মতই স্ত্রীর স্তন, বুক, মুখ, গাল, ঠোঁট যৌনমিলনকালে পুরুষের প্রিয় অঞ্চল। স্বামীর শৃঙ্গারে উত্তেজিত ও উৎক্ষিপ্ত হয়ে রতিক্রিয়ায় স্ত্রী যেমন অধিক আনন্দ পায়, ঠিক সেরূপভাবে স্ত্রীর শৃঙ্গারে উত্তেজিত উৎক্ষিপ্ত হয়ে মিলনকাজে পুরুষও আনন্দ ও তৃপ্তি লাভ করে। স্ত্রীলোকের ন্যায় পুরুষেরও কতকগুলো যৌন প্রদেশ আছে। পুরুষ কর্তৃক স্ত্রীলোক তার যৌন প্রদেশসমূহে যেমন শৃঙ্গারের আবশ্যক বোধ করে, স্বামীও অনুরূপভাবে স্ত্রীর দ্বারা তার যৌন প্রদেশসমূহে শৃঙ্গার প্রত্যাশা করে, একথা যে স্ত্রীলোক ভুলে যায়, সেখানে দাম্পত্য জীবন হয় অসুখী। যৌনক্রিয়ায় যদিও পুরুষ কর্তা এবং নারী কর্ম, তবুও যৌনক্রিয়ায় অচল হয়ে পড়ে থাকা ছাড়া নারীর আর কোনো কর্তব্য নেই, একথা কখনো মনে করা উচিত নয়। আমাদের দেশের অনেক মেয়ের এরূপ ধারনা আছে যে, রতিক্রিয়ায় তারা যতই অনিচ্ছা প্রকাশ করবে,স্বামীর কাছে ততই মূল্য পাবে। কিন্তু এ ধারণা ঠিকনয়। যৌনক্রিয়ায় আগ্রহী হওয়ার দায়িত্ব শুধু স্বামীর একথা কখনোই মনে করা উচিত নয়। স্বামীকে যৌন আনন্দ দান করার জন্য স্ত্রীকে স্বামীর নিকট লজ্জা করলে চলবেনা। লজ্জা করলে চলবেনা। স্বামীর সঙ্গে নানা প্রকার খোশ গল্প করে, ঠাট্টা করে, মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তাকে যৌন কার্যে উৎসাহিত করতে হবে উত্তেজিত করতে হবে।
স্ত্রীর এটা মনে রাখতে হবে যে, স্বামীর শৃঙ্গারেতার যেমন আনন্দ, তৃপ্তি লাগে, তেমনি স্ত্রীর শৃঙ্গারেও স্বামীর সেরূপআনন্দ ও তৃপ্তি লাগে। ডাঃনিস বলেন, স্বামী তোমাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করলে তুমি যেমন তৃপ্তিবোধ কর, তুমিও স্বামীকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন কর সেও তেমন সুখ লাভ করবে। দাম্পত্য জীবন সুখের ও আনন্দ দায়ক করতে হলে স্ত্রীকে আর একটি কথা মনে রাখতে হবে, সেটি হলো পুরুষ স্বভাবতই বহুকামী। বিবাহিত জীবনেরএক ঘেয়েমী সে সহ্য করতে পারেনা। বিবাহিত জীবনের এক ঘেয়েমী দূর করার জন্য নারীকে চেষ্টা করা প্রয়োজন। ডাঃ মেরী স্টোপস বলেন, নারীর রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রক্রিয়া দ্বারা পুরুষকে এক পত্নীক জীবনে বিচিত্র স্বাদের আস্বাদ দিতে পারে।
নারী-পুরুষের বিবাহিত জীবনের কর্তব্য হলো, যৌনক্রিয়া বা সহবাস বিষয়ক বিভিন্ন ক্রিয়া-কলাপগুলো জেনে নেয়া। পুরুষের চেয়ে নারীর যৌন প্রবণতা বা যৌনতা বেশি। কিন্তু নারীর মধ্যে কামপ্রবণতা বেশি থাকা সত্ত্বেও সেই কামনার আগুনে জ্বলে ধীরে ধীরে চুপে চুপে। পুরুষের মত অমন দাউ দাউ করে খড়ের আগুনের ন্যায় স্ত্রীলোকের কামেচ্ছা জাগ্রত হয়না। আবার অত সহজে তা নিবৃত্তও হয়না। সুতরাং পুরুষ যদি তার লিঙ্গোদ্রেক হওয়া মাত্রইহিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে সঙ্গমে রত হয়, তবে সে নিজে চরমপুলক লাভ করলেও স্ত্রী থেকে যাবে অতৃপ্তা। আর এই অনিচ্ছাকৃত যৌন সংযোগের ফলে স্ত্রীর যোনি ব্যথিত হবে, উপরন্তু তার মনও হবেবিরক্ত। তাই এসব ক্ষেত্রে পুরুষকে বিবেচনা সহকারে এগুতে হবে। তবে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, এটা শুধু যান্ত্রিক সুখ-ভোগ নয়, প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন।স্বামী যেমন স্ত্রীকে ভালোবাসেন, তেমনি স্ত্রীও স্বামীকে ভালোবাসেন। কিন্তু পুরুষসঙ্কোচহীন তাই তার ভালোবাসা, উগ্র-উলঙ্গ। আর নারী লজ্জাশীলা, তাই তার ভালোবাসা থাকে অন্তরের অন্তঃস্থলে লুকিয়ে। এক্ষেত্রে পুরুষের কর্তব্য হবে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকেও অনুরূপ ভালোবাসা জ্ঞাপনের সুযোগ দেয়া। আদর- সোহাগ প্রভৃতির দ্বারা মেয়েদের বিশ্বাস ও অনুরাগ উৎপাদন করতে হয়।স্ত্রীকে যৌন কলা বা আর্টশেখাতে হয়। প্রথমে স্ত্রীকে প্রেম-সোহাগ রসে নিষিক্ত করে তার অন্তরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে হবে। যখন বোঝা যাবে যে, স্ত্রী তারব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন, তখন স্ত্রীও তার প্রতি নিজের অনুরাগ প্রকাশ করবে। মাত্র তখনই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে। কিন্তু সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, স্ত্রী যেন যৌন ক্রিয়ার সময় কোনোক্রমেই ভীত বা উদ্বিগ্ন হয়ে না পড়ে। যৌন সংযোগ স্থাপনের প্রথম পদক্ষেপই হলো শৃঙ্গার। ইংরেজীতে একে বলা হয় Love Play । শৃঙ্গার দ্বারা স্ত্রীর সুপ্ত, ঘুমন্ত যৌনতাকে জাগ্রত করতে হয়। অতএব সঙ্গমের পূর্বে নারীকে শৃঙ্গার করা প্রত্যেক পুরুষেরই কর্তব্য। যৌনমিলন যেমন প্রত্যেক জীবের শারীরিক ও মানসিক তাগিদ, ঐরূপ শৃঙ্গারও জীবের একটা স্বাভাবিক তাগিদ। যৌনতাকে উৎকর্ষতায় ও সুখে-তৃপ্তিতে ভরিয়ে তুলতে হলে শৃঙ্গার করুন, শৃঙ্গারে শৃঙ্গারে চূড়ান্ত যৌনমিলনের দিকে এগিয়ে যান। দেখবেন আপনি সুখী হবেন, আপনার স্ত্রীওসুখী হবেন।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail : professorfiroz@yahoo.com
সেক্স বিষয়ক আরো ২০০ পোস্ট এর লিস্ট
বাসর রাতের ভিডিও
যৌন মিলনের ছবি
শালি দুলাভাইয়ের দুষ্টামী
সেলুন ও পার্লারের আড়ালে দেহ ব্যবসা
Read More

যৌনতার অজানা কথা,জি স্পট ও আরো কিছু কথা!

জি স্পট’ নারী দেহের মানচিত্রে এর অবস্থান। ডাঃ পেরি, ডাঃ ইতপলি ও ডাঃ লাডাস নামের তিনজন বিজ্ঞানী নারী দেহের ‘জি সপট’-কে সবার কাছে পরিচিতকরে দিয়েছেন। নারী দেহের গোপনাঙ্গে এ সপটের অবস্থান। নারী যৌনাঙ্গেরযোনি গোত্রে লুকানো এ জায়গাটি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল। নারীর মাঝে চরম পুলকের অনুভূতি আর শিহরণ জাগায় যৌনাঙ্গের এ অংশটি।
এর অবস্থানের একদম সূক্ষ্ম হিসাব জানিয়ে দিয়েছেন গবেষকবৃন্দরা।
এর অবস্থান হলো যোনির অগ্রবর্তী গাত্রে যা যোনি মুখ হতে পাঁচ সে.মি. পরিমাণ গভীরে থাকে।
এর আকার শিমের বিচির মত কিন্তু যৌন উত্তেজনায় এর সাইজ বৃদ্ধি পায়।
এত দিনকার প্রচলিত নানা তত্ত্বকে পাল্টে দিয়েছে এর আবিষ্কার।
অর্গাজমকে ঘিরে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের দেয়া যে তত্ত্ব আলফ্রেড কিংসে পঞ্চাশের দশকে বাতিল করে দেন আশির দশকে এ ‘জি স্পট’ আবিষ্কার ফ্রয়েড তত্ত্বকে নতুন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছে।
এ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্কযৌন সমীক্ষকদের মাঝে।
এক দল এস্পটের উপস্থিতি মানতে রাজী নন।
কারো কারো অভিমত নারী যৌনাঙ্গে এ স্পট থাকতে পারে কিন্তু সবার মাঝে নেই।
এর উপস্থিতির কথা মাত্র দশ শতাংশ মহিলাদের বেলায়,এক গবেষক এ কথা বলেছেন।
প্রতি তিনজনে দু’জন নারীরবেলাতে এর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায় - এটি হলো অপর আরেক দল বিজ্ঞানীদের কথা।
গবেষকবৃন্দ এ নানান বিতর্ক সম্পর্কে অভিমত দেন ঠিক এভাবে যে, কোনো নারীর যৌনাঙ্গে এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গেলে প্রথমেই দেখতে হবে তার যৌন দৃষ্টিভঙ্গী আর যৌন সচেতনতা কেমন ?
এ কারণেই যতই দিন যাচ্ছে এ বিশেষ জি স্পটটির অধিকারিণী নারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এ স্পটের জি নাম দেয়ার কারণ আছে।
গ্রাফেন রাজ নামের একজন ফরাসী গাইনোকলজিস্ট সর্বপ্রথম এর ধারণা দিয়েছিলেন। তার নাম অনুসারে প্রথম অক্ষর দিয়ে এর নামকরণ করা হয়।
আমাদের মনের যে যৌন শিহরণবোধ তার মূল উৎস হলো সেক্স হরমোন আমরা এমন কথাই এতদিন শুনেছি।
মহিলাদের বেলাতে এস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরন আর পুরুষদের বেলাতে টেস্টোস্টেরন।
নারী আর পুরুষের বেলাতে যথাক্রমে ডিম্বাশয় আর শুক্রাশয় এ সেক্স হরমোনের ক্ষরণের দায়িত্বপালন করে থাকে।
বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীর দেহে সেকেন্ডারিসেক্স বৈশিষ্ট্যের বিকাশঘটে এ সেক্স হরমোনের প্রভাবে।
এটি একবারে স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।
এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষকরা এক অভিনব নতুন তথ্য দিয়েছেন। মানুষের মনের যৌন তাড়নাবোধ বা লিকেজ এর মূলনিয়ামক হলো এটেস্টোস্টেরন বা টেস্টোস্টেরণজাত ক্ষরণগুলো -
এন্ডোজেনও বলা হয় শেষোক্তগুলোকে।
পুরুষ আর নারী দু’জনার বেলাতেই এটি প্রযোজ্য।
লিবিজে শব্দের পারিভাষিকঅর্থ হলো যৌন কামনা।
লিবিজেকে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড মানবের মূল চালিকা শক্তি বলেও অভিমত করেছিলেন।
পুরুষ দেহ থেকে না হয়ে শুক্রাশয় হতে ক্ষরিত হয়ে সহজাতভাবে বর্তমান থাকে এটেস্টোস্টেরন।
মহিলা দেহে টেস্টোস্টেরনবা এন্ড্রোজেন আসবে কোথা থেকে ?
তাহলে নারীদের লিবিজে নিয়ন্ত্রিত হয় কিভাবে ?
নারীদের রক্ত স্রোতে গবেষকরা দেখেছেন সূক্ষ্মমাত্রার এন্ড্রোজের উপস্থিতি।
এর মাত্রা পুরুষদের তুলনায় হাজার ভাগেরও কম।
শারীরবৃত্তীয় প্রভাব এত কমমাত্রার এন্ড্রোজেন কিরাখতে পারে ?
অথচ পুরুষ আর নারীর লিবিজের মাঝেতো বিস্তর ফারক নেই।
এতটা সূক্ষ্মমাত্রার এন্ড্রোজেন নিয়ে নারীরা পুরুষদের সমপর্যায়ের লিবিজের অধিকারী হলো কিভাবে ?
এ প্রশ্নের জবাব গবেষকরা দেন ভিন্ন আঙ্গিকে।
গবেষকদের ব্যাখ্যা নারী দেহে ক্ষরিত টেস্টোস্টেরন আর এন্ড্রোজেন মাত্রা কম হতে পারে।
কিন্তু নারী দেহ এর প্রতিঅতিমাত্রায় সংবেদনশীল।
একারণে সূক্ষ্মমাত্রায় ওঅনেক বেশি শারীরবৃত্তীয় প্রভাব তৈরি করে থাকে।
নারী দেহের এড্রিনাল কর্টেক্স নার্সের হরমোন গ্রন্থি হতে এ এন্ড্রোজেন ক্ষরিত হয়।
পাশাপাশি ডিম্বাশয় নিজেওসামান্য মাত্রার টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ করে থাকে।
সাম্প্রতিক উদ্ভাবিত তথ্যের ব্যবহারিক প্রয়োগহচ্ছে রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী হরমোন থেরাপিতে।
অনেক নারী তাদের যৌন ইচ্ছা কমে যাবার কথা বলেনরজঃনিবৃত্তিকালে।
সাম্প্রতিককালে নারীদের রজঃনিবৃত্তিকালীন হরমোন থেরাপিতে ইস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টরন হরমোন পাশাপাশি পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এতে নাকি হরমোন থেরাপির উপযোগিতা অনেক বেশি বেড়ে যেতে দেখা যায়।

লেখকঃ অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজএমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি

আরো জানতে পড়ুনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড  বইটি। এখানে ক্লিক করুন।
Read More

যৌন মিলনের রকমারি কথা



যৌন বিজ্ঞানী ডাঃ কিনসে ওহ্যাভলক এলিসের মতে, সব নারী যৌন আবেদনে সমানভাবে সাড়া দিতে পারেনা। এমন হাজার হাজার নারী আছে, যারা স্বামীকে কাছে পাওয়া মাত্র বা যৌন আবেদন মাত্র উত্তেজনা অনুভব করে। আবার এমন অনেকনারী আছে, যারা দীর্ঘ সময়যৌন ক্রিয়ায়ও খুব বেশি উত্তেজনা অনুভব করেনা। কোনো কোনো নারী কামাবেগে হয়তো মৃদুভাবে উত্তেজিত হয়। কিন্তু চরম তৃপ্তির মুহূর্তে পৌঁছতে পারেনা।আবার এমন অনেক নারী আছে, যারা যৌন ক্রিয়ায় প্রচন্ডভাবে উত্তেজনা অনুভব করে এবং দ্রুত চরম তৃপ্তি লাভ করে। এমন নারীও আছেন যারা সারা জীবনে একবারও চরমতৃপ্তি লাভ করেনি। আসল কথা হলো যৌন উত্তেজনা ও চরম তৃপ্তি লাভের ব্যাপারে মানসিক অবস্থাই বেশি দায়ী। সাধারণভাবে যৌনমিলনে কিছুটা আনন্দ প্রায় সবাই পায়, কিন্তু চরম তৃপ্তিজনিত আনন্দের সঙ্গে কখনোই তার তুলনা হয়না। মিলনের পর পুরুষের যে স্খলন হয়, ঐ স্খলিত বীর্য নারীর যোনি অভ্যন্তরস্থ দেওয়ালে যেসব উত্তেজিত স্নায়ু থাকে, তাদের কিছুটা শান্তকরে। কিন্তু যেসব নারী নিয়মিত চরম তৃপ্তি লাভ করতে অভ্যস্ত, তারা শান্তির বদলে অশান্তি লাভ করে বেশি।
যারা কখনোই চরম তৃপ্তির আনন্দময় পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনা তারাও এক প্রকার আনন্দ বোধ করে। এই আনন্দবা তৃপ্তিবোধ আসে মানসিক আবেগের জন্য। এইসব স্ত্রীরা স্বামীর সুখের জন্য নিজেকে সমর্পণ করে অথবা দাম্পত্য জীবনের কর্তব্য ভেবে এ জাতীয় তৃপ্তিবোধ করেন। বিভিন্নগবেষণায় দেখা গেছে যে, শিক্ষিত এবং আধুনিক স্ত্রীদের অনেকেই সহজেই তৃপ্তি লাভ করে। ম্যারি ওকলডেরন এর মতে, প্রায়শই কোনো নারীই প্রকৃত পক্ষে যৌন জড়তা নয়। যেসব পুরুষ স্ত্রীকে মিলনের যথাযথভাবে উত্তেজিত করতেপারে, সেসব স্ত্রীরা যৌন মিলনে যথেষ্ট আনন্দ পান, চরম তৃপ্তি না পেলেও।
যৌনমিলনের অব্যবহিত পরেইনারী-পুরুষ কিছুটা ক্লান্তিবোধ করলেও যৌনমিলনে অংশগ্রহণ করায় মানসিক বা দৈহিক স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয়না। দেহ যখন সত্যিই ক্লান্ত বা অসুস্থ থাকে তখন নিজ থেকেই নারী-পুরুষ যৌনমিলনে অংশগ্রহণ করার তাগিত বোধ করেনা। স্বাভাবিক ও সুস্থ নারী-পুরুষ যৌন সঙ্গমে এক প্রকার মানসিক সুখ বা তৃপ্তি লাভ করে। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিলনে অংশ গ্রহণ বা রুটিন মাফিকমিলনে মানসিক শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। আবার কারও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার ফলে যৌনমিলনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায় বা হ্রাস পায়, এ অবস্থার দ্রুত চিকিৎসা না করা হলেমানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক নারী-পুরুষের ঘন ঘন যৌনমিলনে দৈহিক বা মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
যৌন বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যৌনমিলনে পুরুষের দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার এমন কোনো সহজ পদ্ধতি নেই। যাতে স্ত্রীর চরম তৃপ্তি লাভের সঙ্গে পুরুষের চরম ক্ষণ আসে। এ সমস্যা সর্বজনীন, যুগ-প্রাচীন, পৃথিবীর হাজার হাজার পুরুষ এ প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেছেন। যৌন বিজ্ঞানীরা দম্পতিদের এ সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন।এগুলো হলো -
স্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা এবং যৌন জীবনে উৎসাহ।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক প্রেম-প্রীতি ও ঐক্য।
নিয়মিত অভ্যাস, যৌন জীবনেযেসব দম্পতি নিয়মিত, অনেকসময় ধরে চেষ্টা দ্বারা তারা নিজেদের যৌন মিলনকাল দীর্ঘ করতে পারেন।
আমার ধারণা এই যে, যেসব স্ত্রীরা মিলনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং যাদের স্বামীরা স্ত্রীর তৃপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তারা মিলনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মিলন ভঙ্গীও অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্যকরে। স্ত্রী উপরে, এ ভঙ্গি স্ত্রীকে বেশি স্বাধীনতা দেয় এবং পুরুষের উত্তেজনাকে তীব্র হতে সময় দেয়। মিলনকালে মাঝে মাঝে ভঙ্গী অদল বদল করে এবং স্বল্প বিরতি দিয়ে পুরুষ দীর্ঘক্ষণ মিলনে স্থায়ী হয়ে স্ত্রীর তৃপ্তি সাধনে সক্ষম হতে পারে। পুরুষের যৌন ক্ষমতা কতদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এ সম্পর্কে এক কথায় উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। স্ত্রীর দৈহিক স্বাস্থ্য, চারিত্রিক ব্যবহার, পুরুষের মানসিক অবস্থা এসব কিছু অনুকুলে হলে সাধারণত ৭০ বছর পর্যন্ত পুরুষ যৌন জীবনে মোটামুটি সক্ষম থাকতে পারে। ইআর, ম্যারি ও কলজরন কিছুকাল আগে তার গ্রন্থ Release from sexual tensions এ এক ৮০ বছর বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কে বলেছেন যে, সে ৮০ বছর বয়সেও পরিপূর্ণ যৌন জীবন-যাপন করতে পারে। ডাঃ স্টোন এর মতে শতকরা ৭০জন পুরুষ ৭০-৭২ বছর বয়স পর্যন্ত যৌন জীবনে অংশ গ্রহণ করতে সমর্থ থাকে। অবশ্য পুরুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, ততই যৌনমিলনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং বিরতির সময় বড় হতে থাকে। ডাঃ কিনসের গবেষণা অনুসারে জানা যায় যে, যেসব পুরুষের বয়স ২০-২৯ বছরের মধ্যে তারা সপ্তাহে গড়ে ৩ বার মিলিত হয়। এর পরের বয়সে যৌনমিলনের হার কমতে থাকে,সপ্তাহে ২ বার বা তারও কম, ৫০-৬০ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তারা দু’সপ্তাহে ১ বার মিলিত হয়। আবার কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, শেষ বয়সের দিকে পুরুষের যৌনমিলনের ক্ষমতা বৃদ্ধিপায়। এদেশে ২০-৩৫ বছর বয়সের পুরুষ সপ্তাহে গড়ে ৪ বার, ৩৫-৫০ বছর বয়সের পুরুষেরা সপ্তাহে গড়ে ২ বার পর্যন্ত মিলিত হয়। আমাদের দেশের পুরুষরা সাধারণত গড়ে ৬০-৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত যৌন জীবনে সক্রিয় থাকে।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail : professorfiroz@yahoo.com
আরো পড়ুন...
আগুন জ্বালানোর হাসির জোকস
কামসূত্র বই
Read More

যৌনতার অজানা কথা ২| অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি

যৌনমিলনের রকমারি কথা
যৌন বিজ্ঞানী ডাঃ কিনসে ওহ্যাভলক এলিসের মতে, সব নারী যৌন আবেদনে সমানভাবে সাড়া দিতে পারেনা। এমন হাজার হাজার নারী আছে, যারা স্বামীকে কাছে পাওয়া মাত্র বা যৌন আবেদন মাত্র উত্তেজনা অনুভব করে। আবার এমন অনেকনারী আছে, যারা দীর্ঘ সময়যৌন ক্রিয়ায়ও খুব বেশি উত্তেজনা অনুভব করেনা। কোনো কোনো নারী কামাবেগে হয়তো মৃদুভাবে উত্তেজিত হয়। কিন্তু চরম তৃপ্তির মুহূর্তে পৌঁছতে পারেনা।আবার এমন অনেক নারী আছে, যারা যৌন ক্রিয়ায় প্রচন্ডভাবে উত্তেজনা অনুভব করে এবং দ্রুত চরম তৃপ্তি লাভ করে। এমন নারীও আছেন যারা সারা জীবনে একবারও চরমতৃপ্তি লাভ করেনি। আসল কথা হলো যৌন উত্তেজনা ও চরম তৃপ্তি লাভের ব্যাপারে মানসিক অবস্থাই বেশি দায়ী। সাধারণভাবে যৌনমিলনে কিছুটা আনন্দ প্রায় সবাই পায়, কিন্তু চরম তৃপ্তিজনিত আনন্দের সঙ্গে কখনোই তার তুলনা হয়না। মিলনের পর পুরুষের যে স্খলন হয়, ঐ স্খলিত বীর্য নারীর যোনি অভ্যন্তরস্থ দেওয়ালে যেসব উত্তেজিত স্নায়ু থাকে, তাদের কিছুটা শান্তকরে। কিন্তু যেসব নারী নিয়মিত চরম তৃপ্তি লাভ করতে অভ্যস্ত, তারা শান্তির বদলে অশান্তি লাভ করে বেশি।
যারা কখনোই চরম তৃপ্তির আনন্দময় পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনা তারাও এক প্রকার আনন্দ বোধ করে। এই আনন্দবা তৃপ্তিবোধ আসে মানসিক আবেগের জন্য। এইসব স্ত্রীরা স্বামীর সুখের জন্য নিজেকে সমর্পণ করে অথবা দাম্পত্য জীবনের কর্তব্য ভেবে এ জাতীয় তৃপ্তিবোধ করেন। বিভিন্নগবেষণায় দেখা গেছে যে, শিক্ষিত এবং আধুনিক স্ত্রীদের অনেকেই সহজেই তৃপ্তি লাভ করে। ম্যারি ওকলডেরন এর মতে, প্রায়শই কোনো নারীই প্রকৃত পক্ষে যৌন জড়তা নয়। যেসব পুরুষ স্ত্রীকে মিলনের যথাযথভাবে উত্তেজিত করতেপারে, সেসব স্ত্রীরা যৌন মিলনে যথেষ্ট আনন্দ পান, চরম তৃপ্তি না পেলেও।
যৌনমিলনের অব্যবহিত পরেইনারী-পুরুষ কিছুটা ক্লান্তিবোধ করলেও যৌনমিলনে অংশগ্রহণ করায় মানসিক বা দৈহিক স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয়না। দেহ যখন সত্যিই ক্লান্ত বা অসুস্থ থাকে তখন নিজ থেকেই নারী-পুরুষ যৌনমিলনে অংশগ্রহণ করার তাগিত বোধ করেনা। স্বাভাবিক ও সুস্থ নারী-পুরুষ যৌন সঙ্গমে এক প্রকার মানসিক সুখ বা তৃপ্তি লাভ করে। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিলনে অংশ গ্রহণ বা রুটিন মাফিকমিলনে মানসিক শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। আবার কারও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার ফলে যৌনমিলনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায় বা হ্রাস পায়, এ অবস্থার দ্রুত চিকিৎসা না করা হলেমানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিক নারী-পুরুষের ঘন ঘন যৌনমিলনে দৈহিক বা মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
যৌন বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যৌনমিলনে পুরুষের দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার এমন কোনো সহজ পদ্ধতি নেই। যাতে স্ত্রীর চরম তৃপ্তি লাভের সঙ্গে পুরুষের চরম ক্ষণ আসে। এ সমস্যা সর্বজনীন, যুগ-প্রাচীন, পৃথিবীর হাজার হাজার পুরুষ এ প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেছেন। যৌন বিজ্ঞানীরা দম্পতিদের এ সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন।এগুলো হলো -
স্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা এবং যৌন জীবনে উৎসাহ।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক প্রেম-প্রীতি ও ঐক্য।
নিয়মিত অভ্যাস, যৌন জীবনেযেসব দম্পতি নিয়মিত, অনেকসময় ধরে চেষ্টা দ্বারা তারা নিজেদের যৌন মিলনকাল দীর্ঘ করতে পারেন।
আমার ধারণা এই যে, যেসব স্ত্রীরা মিলনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং যাদের স্বামীরা স্ত্রীর তৃপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তারা মিলনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মিলন ভঙ্গীও অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্যকরে। স্ত্রী উপরে, এ ভঙ্গি স্ত্রীকে বেশি স্বাধীনতা দেয় এবং পুরুষের উত্তেজনাকে তীব্র হতে সময় দেয়। মিলনকালে মাঝে মাঝে ভঙ্গী অদল বদল করে এবং স্বল্প বিরতি দিয়ে পুরুষ দীর্ঘক্ষণ মিলনে স্থায়ী হয়ে স্ত্রীর তৃপ্তি সাধনে সক্ষম হতে পারে। পুরুষের যৌন ক্ষমতা কতদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এ সম্পর্কে এক কথায় উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। স্ত্রীর দৈহিক স্বাস্থ্য, চারিত্রিক ব্যবহার, পুরুষের মানসিক অবস্থা এসব কিছু অনুকুলে হলে সাধারণত ৭০ বছর পর্যন্ত পুরুষ যৌন জীবনে মোটামুটি সক্ষম থাকতে পারে। ইআর, ম্যারি ও কলজরন কিছুকাল আগে তার গ্রন্থ Release from sexual tensions এ এক ৮০ বছর বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কে বলেছেন যে, সে ৮০ বছর বয়সেও পরিপূর্ণ যৌন জীবন-যাপন করতে পারে। ডাঃ স্টোন এর মতে শতকরা ৭০জন পুরুষ ৭০-৭২ বছর বয়স পর্যন্ত যৌন জীবনে অংশ গ্রহণ করতে সমর্থ থাকে। অবশ্য পুরুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, ততই যৌনমিলনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং বিরতির সময় বড় হতে থাকে। ডাঃ কিনসের গবেষণা অনুসারে জানা যায় যে, যেসব পুরুষের বয়স ২০-২৯ বছরের মধ্যে তারা সপ্তাহে গড়ে ৩ বার মিলিত হয়। এর পরের বয়সে যৌনমিলনের হার কমতে থাকে,সপ্তাহে ২ বার বা তারও কম, ৫০-৬০ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তারা দু’সপ্তাহে ১ বার মিলিত হয়। আবার কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, শেষ বয়সের দিকে পুরুষের যৌনমিলনের ক্ষমতা বৃদ্ধিপায়। এদেশে ২০-৩৫ বছর বয়সের পুরুষ সপ্তাহে গড়ে ৪ বার, ৩৫-৫০ বছর বয়সের পুরুষেরা সপ্তাহে গড়ে ২ বার পর্যন্ত মিলিত হয়। আমাদের দেশের পুরুষরা সাধারণত গড়ে ৬০-৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত যৌন জীবনে সক্রিয় থাকে।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail : professorfiroz@yahoo.com
Read More

যৌনতার অজানা কথা ১| অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি

যৌন অনীহা
আন-অরগ্যাজমিয়া এমনই এক সমস্যা যাতে নারী ও পুরুষউভয়ই পরিপূর্ণ যৌন সুখ উপভোগ করতে পারেনা। এ সমস্যাটি দু’রকমের। যথা -
প্রাইমারি আন-অরগ্যাজমিয়া এবং
সেকেন্ডারি আন-অরগ্যাজমিয়া
প্রাইমারি আন-অরগ্যাজমিয়া
এতে আক্রান্ত ব্যক্তিটি পূর্বে কখনই চরম সুখ উপভোগ করতে পারেনি।
সেকেন্ডারি আন-অরগ্যাজমিয়া
এতে আক্রান্ত ব্যক্তি বেশ কিছুদিন সবকিছু ভালোভাবে চলার পর ক্রমশঃ যৌন সুখের অনুভূতির হ্রাস হতে শুরু করে এবং পরে তা থেকে এক প্রকার হতাশার সৃষ্টি হয়।
কৈশোর ও প্রথম যৌবনের ভুলশিক্ষা ও নারী-পুরুষের সম্পর্কে সামাজিক বা পারিবারিক ভয়ভীতি থেকে অনেক সময় এ জাতীয় সমস্যারসৃষ্টি ঘটতে পারে। ফলে নারী-পুরুষ নিজের দেহ ও দেহের অনুভূতিগুলোকে অপছন্দ করতে শুরু করে এবংতাদের মাঝে সৃষ্টি হয় আত্মবঞ্চনা।
সেকেন্ডারি সমস্যার সৃষ্টির ক্ষেত্রে সাধারণত নারী-পুরুষের পারসপরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্কের অবনিবনা দায়ী।আবার মাত্রাতিরিক্ত আত্মনিয়ন্ত্রণ বা অতিরিক্ত সংযমী মনোভাবও এ সমস্যাটি সৃষ্টি ঘটাতে পারে। আবার অনেক সময় মিলনবিমুখীতা বা অত্যধিক কর্মব্যস্ততাও এ সমস্যাটি ডেকে আনতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৪৬% নারীদের অরগ্যাজম স্তরে পৌঁছতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় এবং ১৫% নারী এ পর্যায়ে বা স্তরে পৌঁছতে ব্যর্থ হন। বিবাহিত জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যৌনতা এক প্রকারনিত্য-নৈমিত্তিক যান্ত্রিক অভ্যাসে পরিণতহয়, ফলে সেক্স সম্পর্কে তখন দেখা দেয় আগ্রহহীনতা। অনেক সময় উদরের নীচের অংশের যন্ত্রণা, কষ্ট, অস্বস্তিও বিভিন্ন রকমের গাইনি সমস্যা দেখা দেয় এতে করে অতিরিক্ত মানসিক টেনশন দেখা দেয়। আবার নারী অনেকসময়ই তার স্বামীর অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হন আবার ভালোবাসার মুহূর্তে স্বামীর স্বার্থপরতা বা ভালোবাসার ঘাটতি ইত্যাদিঅনুভব করেন। ফলে বঞ্চিতা স্ত্রীর স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা কমতে থাকে। এর থেকে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দেয় আর তাতে করে স্বামী ওস্ত্রীর মাঝে সৃষ্টি হয় দূরত্বের। ধীরে ধীরে এ দূরত্ব ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায় এবং তা অনেক সময় দাম্পত্য সম্পর্কের ফাটলধরায়। উপরোক্ত কারণসমূহ নারীর মাঝে সেক্স অনীহা সৃষ্টি করে- দেখা দেয় সেকেন্ডারি আন-অরগ্যাজমিয়া।
সমস্যা সমাধানে করণীয়
সমস্যাটির শারীরবৃত্তীয় কোনো কারণ আছে কিনা তা প্রথমে খতিয়ে দেখতে হবে।
এছাড়া প্রাইমারি আন-অরগ্যাজমিয়ার ক্ষেত্রে নারীর মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেহবে এবং সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে কোনো বদ্ধমূল ভ্রান্তি থাকলে তার পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং ধীরে ধীরে আক্রান্ত নারীর মধ্যে নারীত্ব ও তার চাওয়া-পাওয়ার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটানোর মধ্যে দিয়ে সমস্যাটিকে দূর করতে হবে। আর সেকেন্ডারি সমস্যার ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীকে একসঙ্গে রেখে তাদের সমস্যার খোলাখুলি আলোচনা করা প্রয়োজন। স্বামীর মনে তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এবং সহানুভূতি জাগানো প্রয়োজন এবং স্ত্রীর মন-মানসিকতার আত্মবিশ্লেষণ করার মধ্য দিয়ে সমস্যাটির বিদায় ঘটানো সম্ভব। প্রয়োজনে সেক্স-স্পেসিয়ালিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। সাইকোথেরাপি, ফ্যামিলি থেরাপি দিয়ে তিনি উভয়ের মাঝে ভালোবাসা ও যৌন আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা, কামনা ফিরিয়ে আনবেন। দূর করবেন যৌনমিলনে অনীহা। তাই দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যৌনমিলন অনীহা দেখা দিলে বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
পুরুষের যৌন অনীহা
পুরুষাঙ্গের বিভিন্ন উত্থানজনিত সমস্যা বাড়তেথাকে পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে। এ সময় পুরুষদের মাঝে সেক্স বা যৌনতা নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। মায়োক্লিনিকের গবেষকবৃন্দরা বলেন যে যেসব বয়স্ক ব্যক্তিরা বয়সজনিত কারণে সেক্স বা যৌন অনীহায় ভোগেন তাদের যৌনতার উৎকর্ষতার ব্যাপারে পুনঃবিবেচনার প্রয়োজন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত জার্নাল অব আমেরিকান জেরিয়াট্রিক সোসাইটির মায়ো গবেষকবৃন্দ ৪০-৭৯ বছরের কিছু পুরুষের সেক্স বা যৌনতা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। সে গবেষণারমূল কথাগুলো হলো -
যৌনমিলন বা যৌন সঙ্গম নিয়ে তৃপ্তি।
যৌন ফাংশন সম্পর্কে দুর্ভাবনা টেনশন।
যৌন ইচ্ছা বিশেষ করে মাস্টাবেশন করার ইচ্ছা।
যৌনভাবে উদ্দীপিত হলে লিঙ্গ উত্থানের ক্ষমতা।
পরবর্তী বছরের তুলনায় যৌন কর্মের ক্রিয়ার পরিবর্তন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, বয়সের পার্থক্যের কারণে যৌন আকাঙ্খা, ইচ্ছা, সামর্থ্য প্রভৃতি পরিবর্তিত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, শতকরা প্রায় ২৫ভাগ পুরুষ তাদের যৌনতা সম্পর্কে দুশ্চিন্তায় ছিলেন দারুণভাবে। বয়স যাদের ৭০ এর উপরে ছিল তাদের শতকরা ৪৭ভাগ পুরুষ এ রকম মেন্টাল প্রবলেমে আক্রান্ত ছিল। মায়ো গবেষকরা জানান যে, সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে স্বচ্ছ বা স্পষ্ট ধারণা থাকলে যৌনতার অনীহাজনিত সমস্যা খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায়। প্রবীণদের মাঝে যৌন অনীহা দেখা দিলে প্রয়োজন মনোচিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।
Read More

Boroder Faltu Golpo: Avilash

Boroder Faltu Golpo: Avilash: Employment visa in Dubai, Employment visa in UAE, Work in Australia, Job in Australia, Migration to Australia, Immigration to Australia, Wor...
Read More

যৌন রোগ বনাম যৌন সমস্যা ডা. এ এইচ মুস্তাফিজুর রহমান ২

। শুরু হয় আরও উদ্বিগ্নতা ও হতাশার। এরি মধ্যে হযত অবিভাবকরা বিবাহের জন্য পীড়াপিড়ি করে। কিন্তু সুকৌশলে সে বিবাহ এড়িয়ে চলে। শুরু করে বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা। ফলাফলও হয় অনেকটাই ব্যর্থতার। ফলে সে এক কঠিন বৃত্তাকারে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। যতই চেষ্টা করে এর থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। আসলে এটা সুস্থ যৌনতার লক্ষণ নয়।
আর একটি ব্যাপার লক্ষণীয় তা হলো ছেলেদের বিয়ের আগেমনের মধ্যে যেটি বেশি কাজকরে তা হলো স্ত্রীর সাথে তার যৌন সম্পর্ক নিয়ে। অথচ যৌন সম্পর্ক ছাড়াও স্ত্রীর সাথে তার আরও অনেক কিছু থাকতে পারে তা মনে করতে পারে না। ফলে এক্ষেত্রে যৌনতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। যার প্রতিফলন গিয়ে পড়ে বিবাহোত্তর যৌন সম্পর্কের ওপর। যৌন সম্পর্ক থেকে স্ত্রীর সাথে ভালোবাসার সম্পর্কওআরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমনি বিবাহের পর একটি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পরিপূর্ণ ভালোবাসাই পরবর্তীতে ভালো যৌনসম্পর্ক গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আসলে ভালোবাসা এবং যৌনতা একটি আরেকটির পরিপূরক। একটি বাদ দিয়ে আরেকটি কখনোই ভালোভাবে হবে না। সুস্থ যৌন জীবনের জন্য ভালোবাসার সুসম্পর্ক অপরিহার্য। সুস্থ যৌনতারজন্য স্ত্রী এবং পুরুষের উভয়ের সমান সমান ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সংস্কৃতিগত কারণে নারী-পুরুষ তাদের যৌন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা হতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরাই লাজুক হয়ে থাকে। অবশ্য সঠিক যৌনশিক্ষার অভাবে এমনটি হয়ে থাকে। তবে আশার কথা শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের মধ্যে অবস্থার কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।পর্যাপ্ত যৌন শিক্ষা থাকলে এক্ষেত্রে স্ত্রীরসহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
ছেলেদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ নিয়ে কিছু অবাস্তব চিন্তা-ভাবনা, প্রস্রাবের আগে পরে ধাতু যাওয়া, স্বপ্নদোষ, হস্তমৈথুনসহ বিভিন্ন ভিত্তিহীন কারণে অসুস্থ যৌন চিন্তা বাসা বাঁধে যার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। ফলশ্রুতিতে তারা বিভিন্নসমস্যায় ভোগে।
মেয়েদের ক্ষেত্রে যৌন সমস্যার অনেক কারণ থাকতে পারে। যৌন শিক্ষার অভাব, ছোট বেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার, যৌন বিষয়ে স্বামীর সাথে খোলামেলা আলাপে লাজুকতা, বিভিন্ন মানসিক অশান্তি, পছন্দের পাত্র না পাওয়াসহ নানাবিধ কারণে যৌন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ যৌন সমস্যা প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর সময়মত এবং সঠিকভাবে বলতে না পারার মত বিরাট সমস্যা। একবার ৪৫ বছরের তিন সন্তানের জননী বিভিন্ন কথায় যাকে আক্ষেপ করে আমাকে বলেছিলেন দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে যৌন সুখ বলতে কি বোঝায় তা আমি কিছুই বুঝতেপারলাম না। বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলাম তার স্বামীর যৌন সমস্যা ছিল। লজ্জার কারণে কোনো চিকিৎসকের নিকট যাননি এবং কোনো চিকিৎসাও করাননি। আসলে সব চিকিৎসকেরই রোগী বা রোগীনীর যৌন সমস্যা আছে কি না প্রশ্ন করে জানা উচিত। রোগীরাও লজ্জা পায় কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে অনেক চিকিৎসকও এ ধরনের প্রশ্ন করতে সংকোচবোধ করেন।
পাঠকবৃন্দ আশা করি যৌন রোগ এবং যৌন সমস্যা এক নয়, আলাদা দুটো সমস্যা তাএতক্ষণে আপনারা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছেন। এখন ভেবে দেখুন আপনি কি যৌন রোগে ভুগছেন না যৌন সমস্যায় ভুগছেন? যদি মনে করেন যৌন সমস্যায় ভুগছেন তবে বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নিয়ে অর্থের অপচয় করবেন না। কারণ যৌন সমস্যার সমাধানের জন্য ওষুধের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। সময়মত সাইকোথেরাপি বা সেক্স থেরাপির মাধ্যমে যৌন সমস্যা সমাধান সম্ভব। অহেতুক দুশ্চিন্তা পরিহার করে সুস্থ চিন্তা ভাবনা করুন। প্রয়োজন হলে যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মনোজগত
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More

যৌন রোগ বনাম যৌন সমস্যা ডা. এ এইচ মুস্তাফিজুর রহমান

প্রথমেই আমাদের জানা উচিত যে যৌনরোগ এবং যৌন সমস্যা বলতে আমরা কি বুঝি? কারণ এ দুটি সমস্যাযে এক নয় তা আমাদের অনেকের নিকট পরিষকার নয়। যে জন্য আমরা অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। ফলশ্রুতিতে আমাদের অনেক কষ্ট ও হয়রানির শিকার হতেহয়। অনেকে পথে ঘাটে বিভিন্ন চটকদারি কথায় বিশ্বাস করে অবৈজ্ঞানিক ও ভুল চিকিৎসা করে প্রচুরটাকা নষ্ট করেন। অথচ এসব সমস্যা সম্বন্ধে আমাদের জানা থাকলে আমরা অপচিকিৎসা থেকে পরিত্রাণপেতে পারি
যৌন রোগ
যৌন রোগ নারী-পুরুষের যৌনমিলনের মাধ্যমেই ছড়ায়। অর্থাৎ কোনো নারী পুরুষের যৌনমিলনের সময় যদি তাদের একজনের মধ্যে যৌন রোগ থাকে তবে তা অন্যজনের মধ্যে সংক্রমিতহতে পারে। আর এভাবে নারী-পুরুষের মধ্যে যৌনমিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগের নাম যৌন রোগ। তবে উক্ত নারী এবং পুরুষের মধ্যে যদি কারো যৌন রোগ না থাকে তবে তাদের যৌনমিলনে যৌনরোগ হবে না। সুতরাং যৌনমিলনের মাধ্যমে পাওয়ারোগের নাম যৌনরোগ। যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া এবং এইডস। এর মধ্যে সবেচেয়ে মারাত্মক হলো এইডস। সিফিলিস এবং গনোরিয়া হলো ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগ। সিফিলিসেরজীবাণুর নাম ট্রিপেনোমা প্যালিডাম এবং গনোরিয়ার জীবাণুর নাম নাইসেরিয়া গনোরি। এইডস এর জীবাণুর নাম হলো হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। কেউ সিফিলিস বা গনোরিয়া নামক যৌনরোগে আক্রান্ত হলে সময়মত এন্টিবায়োটিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভালো হয়ে যাবেন। আর ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকরী ওষুধ আবিষকার হয়নি বিধায় এইডস এ আক্রান্ত হলে তেমন কোনোচিকিৎসা নেই।
পুরুষের সিফিলিস হলে লিঙ্গের মাথায় গোটা বা ক্ষত হবে যা চিকিৎসা না করালেও কিছুদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে তবে পরবর্তীতে এ রোগ অন্যভাবে দেখা দিতে পারে। গনোরিয়া হলে মূত্রনালীতে ক্ষত হবে এবং পুঁজ বের হবে। যদি কোনো নারী-পুরুষের যৌনমিলনের সপ্তাহ খানেকের মধ্যে যৌন অঙ্গে উল্লেখিত ক্ষত বা পুঁজের সৃষ্টি হয় তবে হয়তবা তিনিসিফিলিস অথবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এইডস রোগ হলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যে সমস্ত জীবাণু মানুষের কোনো ক্ষতি করে না তখন তারাও বিভিন্নভাবে মানুষকে আক্রমণ করে। এ অবস্থায় কোনো রোগ দেখা দিলে সেটা থেকে তাকে সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। সাধারণভাবে এ তিনটি যৌনরোগেই মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়।
যৌন সমস্যা
যৌন সমস্যাকে অনেক সময় যৌন মানসিক সমস্যা বলা হয়ে থাকে। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে যৌনসমস্যার ৯০ ভাগ কারণ হলো মানসিক। অর্থাৎ মানুষ যে কারণে যৌন সমস্যায় ভোগে তা সুস্থ মন মানসিকতার অভাবেই হয়ে থাকে। মানুষের যৌন জীবন একটি নির্দিষ্ট বয়সে শুরু হয়ে তা অনেকদিন একইরকম চলতে থাকে যদিও বয়সের সাথে সাথে কিছুটা কমতে থাকে। শেষ বয়সে শুরু হয়ে তা অনেকদিন একইরকম চলতে থাকে যদিও বয়সের সাথে সাথে কিছুটা কমতে থাকে। শেষ বয়সে হরমোনের অপর্যাপ্ততা এবং মন-মানসিকতার পরিবর্তনেরকারণে এমন হয়। মানুষভেদে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও সব মানুষই একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সক্রিয় যৌনজীবন যাপন করে। তবে বিভিন্ন কারণে মানুষের এই স্বাভাবিক যৌনজীবন বাধাগ্রস্ত হয়ে কিছু সমস্যার সৃষ্টি করে। একজন মানুষের সুস্থ যৌন জীবনে যখন কোনো অস্বাভাবিকতা আসে এবং স্বাভাবিক যৌন প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দেয়, সেই সমস্যাকে যৌন সমস্যা বলা হয়। অতএব,পাঠকবৃন্দ যৌন রোগ যা যৌনমিলনের মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যজনের হয় সেটা স্বাভাবিক যৌনজীবনের সমস্যা অর্থাৎযৌনসমস্যা এক জিনিস নয়। সুতরাং যৌনরোগ এবং যৌন সমস্যা যখন দুটো আলাদা সমস্যা এদের চিকিৎসাও ভিন্ন। এখন দেখা যাক যৌন সমস্যা কি কি হতে পারে? এখানে একটি কথা জেনে রাখাদরকার তা হলো স্বাভাবিক যৌনজীবন সব মানুষের ক্ষেত্রে এরকম হবে না। মানুষের ব্যক্তিত্বে, স্বাদে, গন্ধে বর্ণে, রুচিতে যেমন ভিন্নতা আছে তেমনি যৌনজীবনেও ভিন্নতাথাকতে পারে। একজনের যৌন অভিজ্ঞতা বা সমস্যা অন্য জনের থেকে ভিন্ন হতে পারে।
যৌন সমস্যাঃ পুরুষের ক্ষেত্রে
১. যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
২. যৌন অতৃপ্তি
৩. দ্রুত বীর্যপাত
৪. লিঙ্গের দৃড়তাজনিত সমস্যা
মেয়েদের ক্ষেত্রে
১. যৌন ইচ্ছা না হওয়া বা কমে যাওয়া
২. যৌন অতৃপ্তি
৩. কষ্টদায়ক যৌনমিলন
যৌন সমস্যা কেন হয়
আমরা আগেই বলেছি যেন সমস্যার মূল কারণই হলো মানসিক অর্থাৎ মনের ব্যাপার। মানসিক কারণ ছাড়া আর অন্য যে কারণগুলোরয়েছে ওইগুলো হলো ওষুধের প্রভাব। কিছু কিছু শারীরিক রোগ যেমন বহুমূত্র, কিছু কিছু স্নায়বিক সমস্যা, কিছু কিছু মূত্রনালী সংক্রান্ত রোগ ইত্যাদি। তবে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মনের ব্যাপার নিয়ে। একজন সুস্থ মানুষ তাকেই বলা যায় যিনি শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে সুস্থ। তেমনি একজন মানুষের সুস্থ যৌন জীবনের জন্য প্রয়োজন পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। যে কোনো ধরনের আবেগ বা উদ্বেগ মানুষের বিষয় হলো মনের ব্যাপার নিয়ে। একজন সুস্থ মানুষ তাকেই বলা যায় যিনি শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে সুস্থ। তেমনি একজন মানুষের সুস্থ যৌন জীবনের জন্য প্রয়োজন পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। যে কোনো ধরনের আবেগ বা উদ্বেগ মানুষের সুস্থ যৌনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। উদ্বেগহলো মনের কারণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যৌন সমস্যা বিয়ের আগে বা পরেও দেখা দিতে পারে। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে সুস্থ যৌনজীবনেরও মাঝে মাঝে পারিপার্শ্বিকতার কারণে যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে তবে তা ক্ষণস্থায়ী এবং অনেকটা স্বাভাবিক বলা যেতে পারে। মানুষের সবকিছুতেই একটা কৌতূহল থাকে। সেটা যৌন ক্ষমতার বেলায়ও বাদ যায় না। বিবাহের পূর্বে প্রায় সব ছেলেদের মাঝে একটা ব্যাপার পরিলক্ষিত হয় তা হলো সে যৌনভাবে কতখানি যোগ্য। এ নিয়ে তার চিন্তার শেষ থাকে না। সমস্ত কাজকর্ম পড়াশোনা সবকিছুর মধ্যে তার মনের মধ্যে এ চিন্তাটি বিরাজ করে। ব্যাপারটি নিয়ে সে এতই উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে যে বিবাহের পূর্বে সে একটা পরীক্ষা দিতে চায়। আর এজন্য নিষিদ্ধ স্থানে গমন করে। স্বাভাবিকভাবে নিষিদ্ধ স্থানে সে ব্যর্থ হয়। আর এ ব্যর্থতাতার মনের মধ্যে এ ধারণাই জন্ম দেয় যে সে যৌনভাবে সক্ষম নয়।
Read More

নর-নারীর যৌনানুভূতি আরিফ মাহমুদ সাহাবুল

নারীদেহের যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ (ফিমেল সেক্স অর্গান)
নারী দেহের যৌন বা সেক্স অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর সংখ্যা অনেক। এগুলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কমবেশি যৌন অনুভূতি ও যৌনময়তা সৃষ্টি করে থাকে সুচারুভাবে। নারীর এই সব যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বা যৌনাঞ্চলগুলো হল-
*. নারীর যৌন কেশ
*. নারীর সুডোল আকর্ষণীয় স্তন
*. মূত্রধার
*. মূত্রনালী
*. ফ্যালোপিয়ান টিউব বা ডিম্বকোষবাহী নালী
*. গর্ভাশয়
*. ডিম্বাশয়
*. ফিমব্রিয়া
*. জরায়ু
*. জরায়ুর মুখ
*. জরায়ুর নল
*. ব্লাডা
*. পিউবিক বোন
*. সারভিক্স
*. বার্থোলিন গ্রন্থি
*. যোনি
*. যোনি গহ্বর
*. যোনি পথ
*. ভগাঙ্কুর বা ক্লাইটোরিস
*. ক্ষুদ্র ভগৌষ্ঠ বা লেবিয়া মেনোরা
*. বৃহৎ ভৌগষ্ঠ বা লেবিয়া মেজোরা
*. ভালভা
*. সতীচ্ছেদ বা হাইমেন
*. এনডোমেট্রিয়াম
*. মন্স পিউবিক
*. পায়ু বা এনাল
*. কোমল আকর্ষণীয় নিতম্ব
*. কোমল বাহু
*. পেলব সমৃণ শিহরণ সৃষ্টিকারী উরু
*. সমৃণ কমনীয় কাঁধ-স্ক ইত্যাদি।
নারীর স্তন সৌন্দর্যের পিরামিড
নারীর স্তন দুটির সাথে তাদের যৌন ইন্দ্রিয়ের সুন্দর সম্পর্ক আছে। যৌবন আরম্ভের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নারী ও পুরুষের স্তনের কোনোরূপ পার্থক্যদেখা যায় না। তাদের গঠন একই রকম থাকে। অর্থাৎ কি না নারী ও পুরুষের স্তনেরকোনো বিকাশ কৈশরে দেখা যায় না। কিন্তু যৌবন আগমনের সাথে সাথে যৌন হরমোনের জাদুকরী প্রভাবেজনন ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীর স্তনযুগল পরিপুষ্ট ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত, সুডোল এবং কমনীয় হতে থাকে। নারীর স্তনের বিকাশ ঘটে বয়ঃপ্রাপ্তির পরে থেকে। তবে কোনো কোনো মেয়ের বুক খুব ছোট বেলা থেকেই স্ফীতহতে দেখা যায়। আবার অনেক মেয়ের ব্রেস্টের স্ফীতি খুব একটা হয় না। নারীর স্তনের আকৃতি মোটামুটি বিকশিত ও বর্ধিত হয় সাধারণত ১০-১২ বছর বয়সে। এই সময়ে স্তনবৃন্তের আকৃতির পরিবর্তন হতে দেখা যায়। স্তনবৃন্তকে ইংরেজিতে এরিওলা বলে। এটি খুবই সপর্শকাতর। স্তনের স্বাভাবিক বিকাশ প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে থাকে। নারীর স্তন বৃদ্ধির স্বাভাবিক বয়সসীমা ১১-২০ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময়ে স্তনের গঠন পরিপূর্ণতা লাভ করে। আকার অনুযায়ী স্তনকে বিভিন্নভাগে
ভাগ করা যায় যেমন-
*. বৃত্তাকার বা গোলাকার
*. উন্নত-সুঠাম সুডোল
*. মোচাকৃতি
*. ঈষৎ অবনত এবং
*. লম্বিত
স্তনের গঠন
তলের বা নিচের অংশে থাকে প্যাকটোলরিস মেজর পেশি। তার উপরের দিকে থাকে ফাইব্রাস আবরণ। তার পরে থাকে কতগুলো ঢিলা এরিওলা পেশি এবং ফ্যাটি পেশি। তার সঙ্গে থাকে স্থিতিস্থাপক বা ইলাস্টিক কোষ। এর মধ্যে অনেকগুলো ম্যামারি গ্ল্যান্ড থাকে যা দুধ নিঃসরণ করে। ম্যামারি গ্ল্যান্ড থেকে আসে কতগুলো অংশ। এদেরকে বলে লবিউলস। লবিউলস থেকে দুধ ল্যাকটিফরাস নালী দিয়ে বের হয়ে আসে স্তনের বোঁটায়। স্তনে থাকে অসংখ্য ধমনি, শিরা, উপশিরা ইত্যাদি। স্তনের গঠন এবং বৃদ্ধি ও সতেজতায়সাহায্য করে
থাকে কতগুলো হরমোন। এগুলো হল-
*. পিটুইটারি হরমোন
*. ডিম্বাশয় নিঃসৃত হরমোন
*. এড্রেনাল গ্রন্থির একটি গোনার্ড হরমোন।
নারীর স্তনে থাকে মেদের সঞ্চার এবং এর মধ্যকার গ্রন্থিগুলো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে স্তন দুটি উন্নত, ভরাট এবং নরমতুলতুলে ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মাসিক পিরিয়ডের সময় নারীর স্তন আকারে কিছুটা বড় হয়। এছাড়া গর্ভকালে ও সন্তান জন্মাবার পরে, দুগ্ধ ক্ষরণকালেও স্তন দুটি আকারে অনেক বড় হয়। সন্তান হবার পর নারীর স্তন অধিক ভারী হয়ে যায়। এটাও স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণেই হয়েথাকে। এটি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা যে বহু নারী তার স্তনের আকার নিয়ে সন্তুষ্ট নয় এবং এমনকি কেউ কেউ তো এ ব্যাপারে হতাশায় ভুগতে ভুগতে শেষে ডাক্তারের পরামর্শও গ্রহণ করে থাকেন।
বিভিন্ন বয়সে যৌন স্বাস্থ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে নারীর স্তনের আকারে পরিবর্তন আসে। তবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসে সাধারণত সন্তান জন্মের পরেই। এছাড়াও সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের পরেনারীর স্তন এমনিতেই একটু বড় হয়ে যায়। পাশ্চাত্য অনেক টিনেজ মেয়ের বুক উন্নত ও বড় আকারের হয়ে থাকে। এর কারণ হল জেনেটিকবা বংশগত। তবে আবহাওয়াগত একটি কারণ এক্ষেত্রে রয়েছে। বড় স্তন অনেক নারীর জন্য আকাঙ্ক্ষিত। আবার অনেক নারী তা খুব পছন্দও করে না। অনেক নারীর মতে শরীরের গঠনের সাথে মানানসই স্তনই সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং একই সাথে সবচেয়ে বেশি যৌন আবেদনময়ী বা সেক্সি। মেনোপোজের পর নারীদের স্তন ক্রমশ শুকিয়ে আসে এবং বয়স একটু বাড়লে স্তন দুটি তখন ঝুলে পড়ে।
স্তনের অগ্রভাগে মাঝখানেগোলাকার ছোট, উঁচু মাংসমতপিন্ড দেখা যায় তাকে বলে স্তনের বোঁটা বা ব্রেস্ট নিপল। এটির সাথে সেক্সের দারুণ যোগাযোগ রয়েছে। যৌন উত্তেজনা বা সেক্সের সময় এই বোঁটাটি স্ফীত ও দৃঢ় শক্ত হয়ে আসে। বোঁটারচারপাশে ঘেরা কিছুটা পোড়া লালচে রং-এর প্রায় ১ইঞ্চির মত ব্যাসার্ধের যে গোলাকার ক্ষেত্রটি আছে তা হল এরিওলা। কারো কারো আবার ঘন কালচে রং এর হয়, কারো কারো হাল্কা বাদামী রং-এর আবার কোনো কোনো মেয়ের এটি নীলাভ রং-এরও হয়ে থাকে। এই অংশ জুড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সেক্সুয়াল সেনসরি। স্তনের বাকি অংশ দেহের চামড়ার রং এর মতোই হয়ে থাকে। একটি কথা এখানে উল্লেখযোগ্য, নিঃসন্তান মেয়েদের এই গাঢ় এরিওলার চর্ম রং প্রায় ফিকে বর্ণের থাকে। গর্ভের প্রথম থেকেই স্তন বোঁটার চারপাশের চর্মের ঘের বাড়ে এবং রংটাও গভীর হয় আর এই গাঢ় রংটাই সারা জীবনের জন্য থেকে যায় স্থায়ী হয়ে যায়। নারীর স্তন এমন একটি অঙ্গ যাকে সপর্শ করে, চুমো দিয়ে, মৃদু দংশন করে সহজেই সেক্স উত্তেজনার স্তরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। স্তন মর্দনে অনেক নারী চমৎকার যৌন সুখ লাভ করে থাকেন। উপভোগ করেন শিহরিত অনাবিল স্পর্শকাতর তৃপ্তি।
Read More

নর-নারীর যৌনানুভূতি, বীর্যতে কি থাকে " আরিফ মাহমুদ সাহাবুল

বীর্যের মাথায় ক্রোমোজম থাকে এটি পুরুষের উর্বরতার উদ্ভব ঘটায়। এক ফোঁটা বীর্যের মাথা হল একটি ক্ষুদ্র
পিনের মাথার আকারের সমান। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এটি দেখা যায়। একজন মানুষের দিনে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বা৫০,০০০০০০০ কোটি (পঞ্চাশ কোটি) বীর্য কণা তৈরি হয়।বীর্য একা একা নিজে থেকেইলিঙ্গ থেকে পতন হতে পারে না। যৌনমিলনকালে বা অন্যকোনো উপায়ে যেমন হস্তমৈথুনের সময় বীর্যস্খলন ঘটে। প্রতিবার যে পরিমাণ বীর্যস্খলন হয় তাতে ৪০-৫০ কোটির মত শুক্রকীট থাকে। কিন্তু মজার কথা হলনারীকে গর্ভবতী হওয়ার জন্য কেবলমাত্র একটি শুক্রকীটই যথেষ্ট। পুরুষের লিঙ্গের মাধ্যমেনারীর যোনি বা জরায়ু মুখেবীর্যরস নিক্ষিপ্ত হবার পর শুক্রকীটগুলো এক প্রকার লেজের দ্বারা সাঁতার কেটে জরায়ুর ভেতরে প্রবেশ করে এগিয়ে যায়। পুরুষের মধ্যে যখন যৌবনের আগমন ঘটে তখন তার টেস্টিসে বা অন্ডকোষে শুক্রকীট অনবরত তৈরি হতে আরম্ভ করে দেয়। আর এ সময় থেকেই পুরুষরা সন্তান জন্মদানে সক্ষম হয়ে ওঠে।
গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে টেস্টটিউবে কাচের মধ্যে গবেষণা করে দেখেছেন যে, শুক্র ব্যতীত অন্যান্য যেসব উপাদান বীর্যে পাওয়া যায় তার ৯০ শতাংশই তরল পানি জাতীয় উপাদান। এছাড়াও বীর্যে থাকে সুগার বা গ্লুকোজ যা কি না শুক্রাণুর কার্যকারিতা ও বলিষ্ঠতারজ্বালানিস্বরূপ। বীর্যে আরো থাকে ক্ষারীয় উপাদান। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের কিছু পরিমাণএনজাইম ও কিছুমাত্রায় ভিটামিন সি, কিঙ্ক এবং থাকে কোলেস্টেরল। দেহের বীর্য সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি অন্যান্য দশবারোটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মতোই সাধারণ।এটি তৈরিতে বিশেষ রকমের খাদ্য উপাদানের সরবরাহেরপ্রয়োজন হয় না। আসল কথা হল বীর্যের সাথে খাবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা ডাইরেক্ট সম্পর্ক নেই। যদি এ জাতীয় কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকতো, তবে মাননীয় ডাক্তার মহাশয়বৃন্দরা প্রজনন বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম পুরুষদেরকে বেশি বেশি খাদ্য খেতে উপদেশ দিতেন।আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত দিনরাত চব্বিশঘন্টা বীর্য তৈরি হচ্ছে আর তা সাময়িকভাবে সেমিনাল ভেসিক্যালে জমা থাকছে। ধারণক্ষমতা পূর্ণহবার পরে এর বাড়তি অংশ যৌন সঙ্গম বা মাস্টারবেশন প্রক্রিয়া ওস্বপ্নদোষের মাধ্যমে তা বেরিয়ে যায়। একটা কথা সবারই মনে রাখা দরকার যে,দেহের মাঝে বিরতিহীনভাবেবীর্য সংশ্লেষণ ঘটছে স্খলনের উদ্দেশ্যে, জমা বা সঞ্চিত থাকার জন্য নয়।বীর্য নির্গমন যে প্রক্রিয়াই ঘটুক না কেন, তা মানব দেহের উৎপাদন কর্মকান্ডকে সচল, সবল আর গতিশীল রাখে।কাজেই স্বাভাবিক সেক্স সঙ্গম বা নিদ্রার মধ্যবর্তী স্বপ্নদোষ বা যে কোনোভাবেই হোক না কেন, বীর্যস্খলন বা বীর্যপাত ক্ষতিকারক নয় বরঞ্চ স্বাস্থ্যসম্মত।
এতক্ষণ আমরা পুরুষের সেক্স অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে যৎসামান্য জানতে পারলাম। জানতে পারলাম পুরুষাঙ্গের মত প্রধান কয়েকটি যৌন অর্গাজমের কার্যকলাপ। এখন আমরা অনুরূপভাবে নারী দেহ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করবো। বুঝতে চেষ্টা করবো ফুলের মত কোমল চাঁদের মত সুন্দর নারীদের সেক্স অঙ্গগুলোরকার্যকলাপ। পুরুষ আর নারী একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনের সেক্স কোনোভাবেই ভাবা যায় না। নারী আর পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণ ও মিলনেই পরিপূর্ণতা লাভ যৌনজীবনে। আর তার ফলেই রচিত হয় একটি সুখময়-তৃপ্তিময়-ভালোবাসাময় সুখী দাম্পত্য জীবন।
নারীর যৌনতা বা সেক্স
নারী সে তো সারা দেহে যৌনচেতনায় পরিপূর্ণ। যে কোনো ভালো সেক্স বিজ্ঞান বই ঘাঁটলেই বোঝা যাবে যে,
নারী দেহের মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত লুকিয়ে রয়েছে সেক্স। লুকিয়ে রয়েছে যৌন উন্মাদনা। এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য কথা যে, প্রায় প্রতিটি নারী তার নিজের সুন্দর আকর্ষণীয় দেহ সম্পর্কে খুব সামান্যই জানে। তবে সময়ের পরিবর্তন জীবন ধারার পরিবর্তনে নারীদেরমন-মানসিকতায় যে পরিবর্তন হচ্ছে তাতে করে ইদানীংকালে অনেক নারী তাদের যৌনতায় ভরপুর, নাজুক শরীর, বিচিত্র যৌন জীবন ও সেক্স স্বাস্থ্য সম্পর্কে দারুণ আগ্রহ পোষণ করছে এবং তারা নিজেরদেহ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছে হচ্ছে সচেতন। একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে যে নারীর সেক্সের ব্যাপারে আলোচনা বিংশ শতাব্দির শুরুতেও তেমন একটা সাপোর্ট পায়নি। বরঞ্চ একে তখন দেখা হত অশ্লীলতার দৃষ্টিভঙ্গিতে। নারী যৌনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে আলোচনা ছিল অনেকের কাছে যৌন সুড়সুড়ি পাবার উপায় হিসেবে। তবে দিন পাল্টেছে, হয়েছে সবাই সচেতন। এখন কিন্তু কি পুরুষ কি নারী কমবেশি সবাই সেক্স স্বাস্থ্য, সেক্স বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। তাই এটি একটি আশাপ্রদ ও সুখের বিষয়। নারীর যৌন হেল্‌থ সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই নারীর সেক্স অঙ্গের নানাদিক সম্ব েজানতে হবে কিন্তিু এটি হওয়া উচিত অবশ্যই বিজ্ঞান সমমত-পরিশিলিত এবং যুক্তি নির্ভর। নারীর দেহের বাইরে এবং ভেতরে দুদিকেই যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো অবস্থিত। যখন একজন পুরুষের যৌন উত্তেজনা বা সেক্স বাইরে থেকে সহজেই টের পাওয়া যায়ঠিক তখন একজন নারীর যৌন অনভূতি এবং যৌন উত্তেজনা বা সেক্সের কোনো । আর এটাবোঝা ততটা সহজসাধ্যও হয় না।
বিজ্ঞান সম্পর্কিত তিনটিবিষয় একজন নারীকে পুরুষের চেয়ে আলাদা করেছে যা তিনটি উদাহরণ দিয়েই বোঝা সম্ভব হবে। এইতিনটি বিষয় হল-
*. নারীর শরীরে ঢ যৌন ক্রোমোজম থাকে। যা তার জেনেটিক পার্থক্য নির্ধারণ করে।
*. নারীর বহিঃযৌনাঙ্গ যারদ্বারা বোঝা যায় যে সে একজন নারী।
*. নারীর আভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ বা ইন্টারনাল সেক্স অর্গান-যা পুরোপুরি পুরুষের চেয়েভিন্ন। এভাবেও পুরুষ থেকে নারী সম্পূর্ণরূপে আলাদা।
নারীর যৌনাঙ্গ দু’প্রকার। একটি হল বহিঃযৌনাঙ্গ বা এক্সটারনাল সেক্স অর্গানএবং অপরটি হল আভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ বা ইন্টারনাল সেক্স অর্গান। পুরুষের যৌনাঙ্গের সমস্ত অংশটাই বাইরে প্রকাশ পায়। আর নারীর কিন্তু সবটা না হলেও কিছু অংশের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তবে নারীর যৌনাঙ্গের বাইরের চেয়ে ভেতরের অংশটাই প্রধান এবং জটিল। আর সেক্সের প্রায় সব ব্যাপারেই ভেতরের যৌনাঙ্গগুলো রতিক্রিয়া, গর্ভধারণ এবং নারীর নারীত্ব রক্ষার বেশিরভাগকাজগুলো সম্পন্ন করে থাকে। নারীর যখন যৌন উত্তেজনা বা সেক্স জাগে তখন শুরুতেই বহিঃযৌনাঙ্গথেকে তা আভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ পর্যন্ত এক অভাবনীয় বিস্ময়কর মনোমুগ্ধকর আলোড়ন তোলে।
Read More

সেক্স বিজ্ঞান ও ডাঃ কিনসে ২

কিন্তু সেক্স উত্তেজনার সময় এবং যৌনমিলনের মজাদার সময় এটি উত্থিত উত্তেজিত হয় এবং শক্ত ও মোটা হয় এবং আকারে বৃদ্ধিপেয়ে লম্বা প্রায় ৫-৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হয় এবং এর পরিধিটিও বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ অনেকটা মোটা হয় প্রায় ৩-৫ ইঞ্চির মত। তবেপুরুষদের লিঙ্গের স্বাভাবিক আকার সবার বেলায় সমান নয়। ক্ষেত্র বিশেষে এটি কম বেশি ছোট বড়, মোটা, চিকন হয়। তবে সুখের কথা লিঙ্গের এই ছোটবড় মাপের জন্য যৌনক্ষমতা বা ভিরিলিটি যৌন সুখ, যৌনআরাম এবং সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বা ফার্টিলিটির সাথে তেমন কোনো আহামরি সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই। অনেকের মাঝে এরকম ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, পুরুষাঙ্গের আকৃতির কিছুটা ছোট হলে তারা হয়ত সেক্সুয়াল লাইফে সেটিসফাইড হতে পারবেন না। তাই অনেক সময় এরকম ভাবনার বশবর্তী হয়ে তারা নানা রকম মানসিক চাপ, মানসিক অশান্তি, ভয় ওঅহেতুক দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। তবে এই মেন্টাল কমপ্লেক্সের সাথে যদি শারীরিক কোনো অক্ষমতা বিদ্যমান থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করার প্রশ্ন আসে।
অন্ডকোষ বীর্যের ভান্ডার
পুরুষের যৌন ইন্দ্রিয় বা পুরুষাঙ্গের পেছনে যে দুটি গ্ল্যান্ড বা বিচি একত্র ঝুলতে দেখা যায় তাকেই বলে অন্ড। এই দুটি অন্ড যে থলি বা আবরণের মধ্যে থাকে তাকে বলে অন্ডকোষ বা স্ক্রুরোটাম।এই অন্ড দুটিকে পুরুষের
যৌনগ্রন্থি বা ম্যাল সেক্স গ্র্যান্ডস বলে। মেয়েদের যৌনগ্রন্থি যেমনতাদের দুটি ডিম্বাশয় বা ওভারি তেমনি পুরুষদের সেক্সগ্রন্থি হচ্ছে এই অন্ডকোষ। মেয়েদের ডিম্বাশয়ের প্রধান কাজ হল যেমন ডিম্বাণু তৈরি করা ও স্ত্রী হরমোন ক্ষরণকরা তেমনি পুরুষদের অন্ড দুটির কাজ হচ্ছে শুক্রকীট প্রস্তুত করা এবং পুরুষ হরমোন ক্ষরণ করা। এই হরমোন নিঃসৃত হয়েসরাসরি রক্তের সাথে মিশে যায়। এই হরমোন পুরুষের সেকেন্ডারি সেক্স কেরেক্টার গঠনে যথা যৌনাঙ্গের স্বাভাবিক গঠন, যৌনক্ষমতা ও প্রজনন সংক্রান্ত কাজে প্রভাব বিস্তার করে।
Read More

সেক্স বিজ্ঞান ও ডাঃ কিনসে

ডাঃ কিনসে ও তার সহকর্মীদের গবেষণার ফল যৌন সাহিত্যে এক উল্লেখযোগ্য অবদান। তার 'Sexual behavior in the human male' এবং 'Sexual behavior in the human female' প্রায় পনেরো বছরের তথ্যানুসানের ফলে রচিত হয়। আমেরিকায় পুরুষদের যৌনতা সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করবার প্রয়াসে ডাঃ কিনসে এবং তার সহকর্মীরা প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মার্কিনীর কাছ হতে প্রশ্নচ্ছলে তাদের বিভিন্নমুখী যৌন অভিজ্ঞতা ও অভিমতগুলো তালিকাভুক্ত করেছেন। এসবপ্রশ্নগুলোকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়; বিবাহপূর্ব এবং বিবাহোত্তর যৌন অভিজ্ঞতাবিষয়ে। একথা বলা যেতে পারে যে, ডাঃ কিনসের বই দুটি যৌন ব্যবহারের তথ্য সমাবেশের দিক হতে যৌন সমস্যার নতুন আলোকপাত করেছেন। তার সমস্ত মতামত অবশ্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তথ্যানুসানে অক্লান্ত কর্মী হিসেবে এবং সেক্স সাইন্সে অমূল্য তথ্য পরিবেশক হিসেবে ডাঃ কিনসে অমর হয়ে থাকবেন।
আধুনিক সেক্স বিজ্ঞানে মাস্টার এন্ড জনসনের অবদান
কিনসের অনুসান ও তথ্য প্রকাশের প্রায় দশ বছর পরআরও দু’জন চিকিৎসা বিজ্ঞানী এক নতুন পদ্ধতিতে নারী-পুরুষের সেক্স লাইফ সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করেন। এরা হলেন ডাঃ মাস্টার এবং মিসেস ভার্জিনিয়া জনসন। এরা দীর্ঘদিন গবেষণা করে পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ‘হিউম্যান সেক্সুয়াল রিসপন্স’ নামক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এরা যে পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেছেন সে পদ্ধতি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষকরা প্রত্যক্ষভাবে নারী-পুরুষের যৌনমিলনকে যন্ত্রাদির সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের গবেষণালব্ধ বইটি আমেরিকায় দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বই হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।এই দুই গবেষক আমেরিকার সেন্টলুয়িস-এ রিপ্রোডাক্টিভ বায়োলজি রিসার্স ফাউন্ডেশন সংস্থায় সপ্তাহে গড়ে ৮৫ ঘন্টা করে নিয়মিতভাবে দীর্ঘ এগারো বছর যৌনতা সেক্সের ওপর গবেষণা করেন। এই দীর্ঘ গবেষণাকালে তারা নারী-পুরুষের দেহের অভ্যন্তরে যৌনমিলনকালে কি ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয় তা নথিভুক্ত করেছেন। এই বিজ্ঞানীদ্বয় নর-নারীর যৌনানুভূতি বা সেক্সুয়ালরেসপন্সকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন। এগুলো হলো-
*. উত্তেজনা স্তর (একসাইটমেন্ট ফেস)
*. চরম উত্তেজনা স্তর (প্লাটু ফেস)
*. চরম তৃপ্তি বা সুখ লাভের স্তর (অর্গাজম) এবং
*. বিরতির স্তর (রিসলোশন ফেস)।
এই গবেষকরা গভীর মনোনিবেশ সহকারে যৌন বা সেক্স উত্তেজনাকালে দৈহিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং করেছেন চমৎকার বিশ্লেষণ-বর্ণনা। । এদের গবেষণা আধুনিক সেক্স সাইন্সকে দারুণ উন্নতি করেছে যা কিনা যৌন বিজ্ঞানের ইতিহাসে আন্তরিকভাবে অভিনন্দিত ও গৃহীত হয়েছে।
সেক্স ও শরীর
শরীরকে বাদ দিয়ে সেক্সকে কখনো কল্পনা করা যায় না। নারীর সাধারণত দুই ধরনের। যেমন- নারীর শরীর এবং পুরুষের শরীর। তাই সেক্সকে জানতে হলে প্রথমে শরীরকে জানতে হবে,জানতে হবে যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বৈচিত্র্যতা।
পুরুষের যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গসমূহ
পুরুষের সাধারণ যৌন অঙ্গ বা মেল সেক্সুয়াল অর্গাজম হল অন্ডকোষ যা কিনা এক প্রকার অন্ডথলির ভেতরে অবস্থান করে। আর এইঅন্ডকোষে শুক্র তৈরি হয়। আর এ শুক্র থেকেই মানব শিশু জন্ম লাভ করে। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গবা পেনিসের ছিদ্র পথ দিয়েশুক্র নির্গত হয়। পুরুষের জননযন্ত্রের প্রধান অংশটি হচ্ছে দুটি যথা টেস্টিস বা অন্ডকোষ এবং পুরুষাঙ্গ বা পেনিস। এছাড়া এগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য যৌন অংশগুলো হচ্ছে- এপিডিডিমিস, প্রস্টেটগ্ল্যান্ড, শুক্রবাহী নালী, শুক্রথলি (সেমিনাল ভেসিকল), ভাসডিফারেন্স, ব্লাডার, কপারগ্ল্যান্ড, পায়ুপথ বা মলদ্বার।
পুরুষাঙ্গের গঠন ও কর্মকান্ড (পেনিস ফাংশন)
এটি পুরুষের যৌনতার প্রধান অঙ্গ। এই অঙ্গের সাহায্যেই পুরুষরা অবর্ণনীয় তীব্র যৌনসুখ লাভ করে থাকেন। এটি নারীদের যোনিতে প্রবেশ করে প্রচুর সেক্স প্লেজার সৃষ্টি করে। সেই সাথে আরেকটি নতুন জীবন তৈরির উপাদান বীর্য ছড়িয়ে দেয়।
এই পুরুষাঙ্গটি অন্ডকোষের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। এটি দেখতে প্রায় একটা বুড়ো আঙ্গুলের মত। এই পেনিসটি হচ্ছে পুরুষের প্রস্রাব (ইউরিনেশন) করার এবং নারীসহবাস করার একমাত্র এবং অভিন্ন চমৎকার যন্ত্র। লিঙ্গের যে অংশটি দেহের সাথে অর্থাৎ বস্তিদেশে বা পেলভিসে যুক্ত থাকে তাকে বলে লিঙ্গ মূল বা গোড়া। এর পর থেকে লিঙ্গ গ্রীবার কাছে গোড়া খাঁজের মত অংশ পর্যন্তকে বলে লিঙ্গ দেহ। বাকি অংশটুকু অর্থাৎ সেই দেহের ডগায় বা লিঙ্গের অগ্রভাগে টুপির মত দেখতে যে লালচে বর্ণের কোমল মাংসপিন্ডের অংশটি দেখা যায় তাকে বলে লিঙ্গমণি বালিঙ্গমন্ডু বা গ্ল্যান্স। এই লিঙ্গ মুন্ডের সামনের দিকটা ঈষৎ সরু হয়ে এসেছে এবং এরমুখের কাছেই থাকে মূত্রনালীর মুখ। পুরুষাঙ্গের এই অগ্রভাগ বা অংশটি খুবই ‘সপর্শকাতর’ তথা অত্যন্ত যৌন অনুভূতিশীল অংশ।
আমাদের পুরুষাঙ্গটি ‘স্পঞ্জের মত’ এক প্রকার নরম সংকোচনশীল ও সম্প্রসারণশীল পেশিতন্তু বা উত্থানশীল তন্ত বা ইরেক্টাল টিস্যু দিয়ে গঠিত।এর মধ্যে অসংখ্য রক্তবাহী নালী ও নার্ভের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। স্বাভাবিক অবস্থায় লিঙ্গবা পুরুষাঙ্গটি নরম ও ছোটথাকে কিন্তু সেক্স উত্তেজনার সময় এইসব রক্তনালীতে প্রচুর রক্ত এসে পূর্ণ হয়ে যায় ফলে এটি আকারে বৃদ্ধি পেয়ে লম্বা, মোটা-তাজা ও দৃঢ় হয় আর একেই বলে ইরেকশন অফপেনিস বা পুরুষাঙ্গের উত্থান। কারো কারো লিঙ্গ উত্তেজিত হলে শক্ত হয়ে ডানে বা বামে বেঁকে যায়- এটা স্বাভাবিক এটা কোনো রোগ নয়। একজন পূর্ণ বয়স্কলোকের পুরুষাঙ্গের আকার স্বাভাবিক ও সুপ্ত অবস্থায় ৩-৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা থাকে এবং এর পরিধি বা ঘের প্রায় ২-৩ ইঞ্চির মত চওড়া থাকে।

আরো
পড়তে থাকুন সেক্স বিজ্ঞান ও ডাঃ কিনসে ২
Read More

যৌন বিজ্ঞান ও হ্যাভলক এলিস

শরীর বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের দিক থেকে যৌন শাস্ত্রের সূক্ষ্ম গবেষণার জন্য বর্তমান জগতে হ্যাভলক এলিসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বিশ্ববিখ্যাত মনীষীর একনিষ্ঠ বিশ্লেষণ হিসেবেতার 'Studies in the psychology of sex' নামক সুবৃহৎ ও তথ্যপূর্ণ গ্রন্থটি চিরস্মরণীয় হয়েথাকবে। সেক্স লাইফ সম্পর্কে তিনি বিজ্ঞানসমমতভাবে রীতিমতো খোলামেলা আলোচনাকরেছেন বলেই তিনি পথিকৃৎ হয়ে আছেন আজও। যৌন মনোদর্শনের উপর তার লেখার সম্ভার প্রচুর সমৃদ্ধ। সারা বিশ্বে যেসব বইগুলো আজও সবার কাছে সমাদৃত। জীবনের প্রায় প্রতিটি গ্রন্থই তার অনন্য হয়ে আছে। একথা অনস্বীকার্য যে, সত্যিই এলিস তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছিলেন। সেকালের অ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বিষয়গুলোর ওপর বর্তমান বিজ্ঞানসস্মত উপায়ে তিনিএমন স্বচ্ছভাবে বিশ্লেষণকরেছেন যা সবার কাছে গ্রহণীয় হয়ে আছে।
বিজ্ঞানী এলিসের কাছে কোনো সেক্সুয়াল আচরণই বিকৃত নয় কিংবা নয় অস্বাভাবিক। তিনিই প্রথমমানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন যৌনতা স্বাভাবিক কিংবা কোনটি অস্বাভাবিক বা বিকৃতির পর্যায়ে পড়ে তা বিচার করেছেন। মোট কথাহল, কোনো যৌন আচরণকেই তিনি বিকৃতি বা আনন্যাচারাল বলে মনে নিতে চাননি তার যৌনগ্রন্থে। আর এ থেকেই বোঝা যায় যে সেক্স বিষয়ে বিজ্ঞানী এলিসের দৃষ্টিভঙ্গি কতই না খোলামেলা ছিল।
Read More

নর-নারীর যৌনানুভূতি, যৌনবিজ্ঞান আরিফ মাহমুদ সাহাবুল

সেক্স অর্থ যৌনতা বা যৌন উত্তেজনা। এই সেক্স শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘সেক্সাস’ থেকে। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যার কোনো সেক্সুয়াল অনুভূতি নেই। প্রায় প্রতিটি মানুষই যৌন উত্তেজনা, যৌন মনোভাব, যৌন চিন্তা ও কামনা-কল্পনা করতে পছন্দ করে। মানুষের জীবনের সাথে সেক্স ওতপ্রোতভাবে জড়িয়েআছে, মিশে আছে রক্তের প্রতিটি বিন্দুর সাথে ‘জেনেটিক কোডের ধারাবাহিকতায়’।
সেক্স থেকেই উদ্ভব হয়েছে মডার্ন সেক্সোলোজি বা যৌনবিজ্ঞান। মনে হতে পারে সেক্স এতো শিক্ষিত, অশিক্ষিত সব মানুষই জানে। হ্যাঁ, জানে ঠিকই কিন্তু পুরোপুরি জানে না। জানে না এর সুশৃঙ্ক্ষলিত কারুকার্যময় বিজ্ঞান ভিত্তিক নিয়ম কানুন। তাইতো তৈরি হয়েছে যৌনবিজ্ঞানের। আর যে জিনিসটায় বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে সে জিনিস হয়ে ওঠে আরো সুচারু আরো রুচিসম্পন্ন এবং আরো সহজসাধ্য গ্রহণীয়। সেক্সকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করতে সবসময়ই মানুষ এক প্রকার অহেতুক লজ্জাবোধ করে এসেছে। সমাজ, রাষ্টনীতি সবাই কোমর বেঁধে এক সঙ্গেযৌনবোধের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। সেন্ট ভিক্টরের ধর্ম মন্দিরে ধর্ম যাজকগণের যৌনবোধ সংযত করার জন্য বছরে প্রায় পাঁচবার তাদের দহের রক্ত বের করে নেয়া হত। দুনিয়া জুড়ে কোনো যুগে কোনো দেশেই এরকম ব্যবস্থার কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু যৌন জোয়ারকে কে আটকাতে পারে। কোনো মানুষেরই যৌনবোধের তীব্রতা তাতে কিছুমাত্র কমেনি। বরং দিনের পর দিনইএই যৌন অনুভূতি মানুষের মাঝে বাড়তেই থেকেছে। যা এখনও পর্যন্ত চলছে, চলবে পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত বা কেয়ামত হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।
সেক্সুয়াল অনুভূতি বা যৌনতা কি? সহজ কথায় বলা যায় যে, এক লিঙ্গের প্রাণী বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীর দিকে যে দৈহিক এবং মানসিক আকর্ষণবোধ করে তাই হল সেক্সুয়াল অনুভূতি বা যৌনতা। যৌনবোধ আছে বলেই মানুষ এতসুন্দর। সুন্দর তার বাহ্যিক প্রকাশময়তা। যৌনতা বা সেক্সকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তাভারতীয় পন্ডিতগণও উপলব্ধি করেছিলেন। গ্রীকও মিশরীয় পন্ডিতগণ ও প্রসঙ্গক্রমে যৌনাঙ্গের পরিচয় ও সান জন্মের বিষয় উল্লেখ করেছেন। তবে সুশৃঙ্ক্ষল পদ্ধিতিতে যৌন তত্ত্বের বিশ্লেষণেরঅনুপ্রেরণা সম্ভবত ভারতীয় পন্ডিতগণই দিয়েছিলেন। খ্রীষ্টীয় প্রথম দিক দ্বিতীয় শতাব্দীতে বাৎসায়ন নামক এক পন্ডিত ‘কামসূত্র’ নামক একখানি সুন্দর পুস্তক রচনা করেছিলেন। ব্যাৎসায়নের পূর্বেও প্রায় দশজন পন্ডিত নারী-পুরুষের সেক্স বৃত্তিকে অধ্যয়নের বিষয়ীভূত করার উপকরণ নারী-পুরুষের সেক্স বৃত্তিকে অধ্যয়নের বিষয়ীভূত করার উপকরণ রেখে গিয়েছিলেন, ব্যাৎস্যায়নের কামসূত্র সেই প্রাচীন হলেও তাতে বিষয়টি এমন ধারাবাহিক প্রণালীতে আলোচিত হয়েছে যে, তা ভাবলে বিস্মিত হতেহয়। সেসব আলোচনার মাঝেও যে অন্তর্দৃষ্টি দেখতে পাওয়া যায় তা কিছুটা হলেওআধুনিক বৈজ্ঞানিকের মত। তবে পুরাতন পুঁথি হিসেবে এটি যৌনতত্ত্ববিদদের কাছে আদরণীয় হলেও সাধারণ পাঠক পাঠিকা এগুলো হতে তেমন কোনো বিশেষ উপকার লাভ করতে পারবেন না। কারণএসব পুস্তক প্রণয়নের সময়ে শরীর বিদ্যা বা এনাটমি অপূর্ণাঙ্গ ছিল এবং সেসব কারণে এসব পুস্তকগুলোতে অবিশ্বাস ওকল্পনার প্রভাবই বেশি রয়ে গেছে। ব্যাৎসায়নের কামসূত্র ছাড়াও সংস্কৃত সাহিত্যে আরও কিছু যৌনশাস্ত্রের পুস্তক পাওয়া যায় এদের মধ্যে কোক্কক পন্ডিতের কামশাস্ত্রই প্রধান।
কোক্কক পন্ডিত বেনুদত্ত নামক এক রাজার মন সন্তুষ্টির জন্য ‘কোক শাস্ত্র’ বা রতি রহস্য নামক পুস্তক প্রণয়ন করেছিলেন। এই কোক্কক পন্ডিতের উক্ত পুস্তক তদানীন্তন ও পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে রতিশাস্ত্র বা সেক্সোলোজি অবশেষে শুধু মাত্র কোক শাস্ত্র নামেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। সংস্কৃত ভাষায় রতি শাস্ত্র বা সেক্স বিষয়ক শেষ পুস্তক কল্যাণ মলল নামক এক পন্ডিতের রচিত আনন্দ রঙ্গ। এই পুস্তকটি খ্রীষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দিতে লোদী পরিবারেরকোনো এক রাজার অনুরোধে পন্ডিত কল্যাণ মলল কর্তৃক রচিত হয়েছিল। এছাড়াও ঋষি নাগার্জুন তার প্রিয় শিষ্যকে উপদেশ দেয়ার ছলে সিদ্ধ বিনোদন নামক এক প্রকার যৌন শাস্ত্র প্রণয়ন করে গেছেন বলে বর্ণিত আছে।
রোমীয় সম্রাটগণও সেক্স বা যৌনতা বিষয়ে যথেষ্ট মনোনিবেশ করেছিলেন। সেজন্য ক্যাটুলাস, টিবুলাস, পেট্রোনিয়াস, মার্শাল, জুভেনাল প্রভৃতি বহু কবি ও পন্ডিতরা তাদের লেখায়, কবিতায় রস বচনীয় এবং প্রবেসেক্স বা যৌনতা বিষয়ে আলোচনা করে গেছেন। ইউরোপের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড প্রথম এবং পরে হ্যাভলক এলিস প্রভৃতি বিজ্ঞানীরা সেক্সোলোজিস্ট বা যৌনবিজ্ঞান সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক যুক্তিপূর্ণ গবেষণাসহ বিশ্লেষণ করেছেন।
যৌন পথ প্রদর্শক ফ্রয়েডঃ ইউরোপের ভিয়েনা শহরের বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসক ফ্রয়েডই প্রথম আবিষ্কার
করেন যে, মানুষের শরীরের মত মনেরও রোগ হয়। সম্ভবত তিনিই সর্ব প্রথম গবেষণার দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের মনে প্রতিনিয়ত যে সব চিন্তা-ভাবনা, ইচ্ছা-কামনা ও অনিচ্ছার সৃষ্টি হচ্ছে তারও একটা কারণ রয়েছে।আরযা কিনা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দ্বারাই প্রমাণকরা সম্ভব। আর এই মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা-ভাবনার পেছনে রয়েছে নারী-পুরুষের যৌন জীবনেরপ্রেরণা। ফ্রয়েডই প্রথম যিনি মানুষের বিচিত্র সব মানসিকতার পূর্ণ বিশ্লেষণ করে সেই প্রাচীন চিরাচরিত ধারণাটা বদলে দিয়েছেন। বিংশ শতাব্দির চিন্তার জগতে তার এই অবদান মানব সমাজে যেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। যৌন মনস্তত্ত্ব (সেক্সুয়াল সাইকোলজি) এবং মনোসমীক্ষণ বা সাইকো এনালাইসিসের শুরু বিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েডথেকেই। আর সেই কারণে সারাবিশ্বের বিদগ্ধ মানুষ জনের বিচারে যৌন মনো বিজ্ঞানে ফ্রয়েডের স্থানসবার আগে। ফ্রয়েডের মতে কামভাবটা নারী-পুরুষের একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি (ন্যাচারাল টেনডেন্সি) এবং এর অনুপস্থিতি ঘটলে কোনো নারী কিংবা পুরুষ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না। সিগমন্ড ফ্রয়েড একাধারে যৌন মনোবিজ্ঞানের প্রথম বৈজ্ঞানিক, তারপর প্রথম চিকিৎসক এবং প্রথম যৌন পথপ্রদর্শক। তার অবদান চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভুলবারনয়। তার রচিত 'Three contributions to the theory of sex' নামক গবেষণা ধর্মী বইটি মেডিকেল বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Read More