মনোজগত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মনোজগত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কিছু নাস্তিক ব্লগারদের কারনে আমাদের ও কলঙ্ক হয়েছে।ব্লগার-সৈয়দ রুবেল

কিছু নাস্তিক ব্লগার দের কারনে আমাদের ও কলঙ্ক হয়েছে।
যারা ব্লগ সম্পর্কে কিছু জানেনা তাদের বেলাতে তো কথা নেই।
বর্তমানে আপনি যদি গ্রামে গিয়ে বলেন আমি এক জন ব্লগার তা হলে জনতার হাতের
কিল ঘুষি একটা ও মাটিতে না পড়ে সব আপনার উপরে পড়বে।
কারন আপনি ব্লগার।
আপনি কেমন ব্লগার সেটা তারা জানতে চাইবেনা।
তারা জানতে পেরেছে ব্লগারেরা ইসলাম কে বয়াবহ অবমাননা করেছে?
কিন্তু কারা করেছে  কেমন ব্লগারেরা করেছে সেটা তারা বুঝতে চাইবেনা।
কারন তারা জানে মাইরের উপর কোনো ওষুধ নেই।
  
এই নাস্তিক কুলাঙ্গারদের জন্য আমাদের ও অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো।
তাদের ধর্মের প্রতি অবমাননা কারনে সমাজের কাছে আমরা সাধারন ব্লগারেরা ও
খারাপ হয়ে গেলাম।
অথচ দিনে রাতে কষ্ট করে নিজের  কষ্টের অর্জিত টাকা দিয়ে কম্পিউটার কিনে,
মাসে ৫০০ টাকা ইন্টারনেটের বিল দিয়ে মানুষ কে অজানা কিছু জানাতে ব্লগে লেখা লিখি করি।
এতে আমার ২ আনাও লাভ নেই।
কষ্ট এবং ঘুমের কথা বাদ দিয়ে দিলাম।

দিন নেই রাত নেই এই ব্লগের পিছনে লেগে থাকি।

মানুষদের কে অজানা কিছু জানাতে এবং সচেতন করতেই তো ব্লগে লেখা লিখি করি।
নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্ধেষীদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে তো এই কাটা ছড়ানো পথে চলতেছি।
এর বিনিময়ে তো এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে এক টাকা ও সাহায্য চায়নি?
দয়াময় মহান আল্লাহ তো সব রকমের সাহায্য করতেছেন।
এই পথ ধরে তো লক্ষ লক্ষ মানুষদের কাছে যেতে পেরেছি।
প্রতি দিন হাজার হাজার পাঠক পাচ্ছি ব্লগে।

কিন্তু  এই সামান্য কয়েক জন নাস্তিক ব্লগাদের কারনে তো বাকি ব্লগারেরা খারাপ হয়ে যেতে পারেনা।
ইসলামের বিরোদ্ধে মাত্র ঘটি কয়েক ব্লগার লেখা লিখি করে?
কিন্তু ইসলামের পক্ষে তো  হাজার হাজার ব্লগার লেখা লিখি করে।
তারা ও তো সংগ্রাম করে নাস্তিক বাদীদের বিরোদ্ধে।
নাস্তিক বাদীদের বিরোদ্ধে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তো আমরা তাদের মুখ থেকে আমরা নানান ধরনের অশালীন
ভাষায় গালি গালাজ শুনি।

যেমন গত কয়েক মাস আগে fb ফ্রেন্ড সুত্র ধরে এক নাস্তিক মেয়ের সন্ধান পায়।
নাস্তিক মেয়েটির সাদিয়া সুমি।

নাস্তিক মেয়েটি তার fb পোস্ট করেছে>>স্বপ্ন দেখি এক দিন ধর্ম নামের অপশক্তি এই পৃথিবী থেকে বিতারিত হয়ে যাবে
এবং জাদু ঘরে ঠায় নিবে।


এর নিচে তার এক হিন্দু বন্ধু লিখেছেঃ সাদিয়া আমি সেই স্বপ্নই দেখি।

তার পর আমি নিচে লিখে দিয়েছিঃ আজকের দিনে যারা ধর্ম বিতারিত হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেছে?
একদিন তারাই বিতারিত হয়ে যাবে।তাহার বাবার বাবা ও ঠেকাতে পারিবেনা।
এমন কি মহান আল্লাহ তাদের কে ফেরাউনের মতো জাদু ঘরে রেখে দিতে পারেন যাতে সারা দুনিয়ার
তাদের অপকর্মের কথা জানতে পারে।


কিছু ক্ষণ পরে দেখি আমার উপর বস্থা ভর্তি গালা গালি শুরু হয়ে গেছে।

আমি ও নিচে লিখে দিয়েছি তোদের মুখ থেকে বস্থা ভর্তি গালা গালি আসবে আর চলে যাবে।
কিন্তু ধর্ম তার জায়গাতে ঠিকি থাকবে।

তার পর ফেসবুকের নিকট অভিযোগ করে চলে এসেছি।

তারা ভেবে ছিলো আমি ও তাদের মতো গালা গালি করবো।
কিন্তু আমার জানা আছে কোনো পাগলা কুকুর যদি দৌড়ে এসে আমার পায়ে কামড় দিয়ে দেয় তবু আমার
দিতে নেই।

তা ছাড়া এটা  আমাদের ইসলাম এটা সমর্থন করে না।
আমাদের প্রিয় নবীজীও ৬৩ বসর জীবনীতে কাউকে গালি দেন নি।
তাই আপনারা ও কাউকে গালা গালি করবেন না।

কিন্তু ইদারিং আমি নিজেও বিপাকে আছি।
গত ১৩/০৩/২০১৩ তারিখে আমার বড় খালাতো,হাসান ভাই আমাকে কল দিয়ে  কড়া ভাষায় বলে
অবসর থেকে বুঝি কাজ নেই?
তুমি ব্লগার হয়েছো?
তুমি এই সব কি লিখো।
প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি তিনি হাসান ভাই।
তার সাথে আমার দেখা হয়েছিলো ২০০৪ সালে রত্না আপার বিয়েতে।
আর শেষ দেখা হয়েছিলো সম্ভবত ২০০৯ অথবা ২০১০ সালে।
এ ছাড়া আর কোনো দেখা বা কথা নেই।
তার পর ভাই কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এখন কোথায়?
ভাই বললেন আমি বাড়িতে।
আমি বললাম কোন বাড়িতে?
ভাই বললেন ভাদুঘর।
আমি বললাম খালাম্মা কেমন আছে?
ভাই বললেন এখানেই আছে কথা বল।
খালাম্মা ফোন হাতেই নিয়েই বলে কি রে আমি এই সব কি শুন্তেছি?
তুমি না কি ব্লগার হয়েছো?
এই সব কি ভালা?
আমার কিছু বলা হলনা।
জানিনা তারা আমাকে কি ভাবতেছে?
ভাইটির কাছ থেকে জানা হয়নি ভাবি কেমন আছে?

আরো দুঃখের বিষয় fb এক ফ্রেন্ড আমাকে বলেছে আমি  নাকি নাস্তিক,আমাকে নাকি আগে ভালো জানতো।
এই কথা বলেই এই বিড়ালের ছানা আমাকে ব্লক মেরে দিলো।
যার কারনে আমি পাল্টা জবাব দিতে পারিনি?
কিন্তু আজকেও মাহবুব সুবাহান নামক এক ছেলে আমার কাছে জানতে চায় ,ব্লগার ভাই মাইন্ড করবেন না?আপনি আবার নাস্তিক না তো?
i am not sure.
যদি নাস্তিক না হন?তা হলে আপনাকে অসংখ্যা ধন্যবাদ।
আর যদি হন প্লিজ পায়ে ধরি আমাকে unfrind করে দিন।

আমার কথা হলো এই আবাল গুলো কি আমার ব্লগে পড়ে নাই?
তাদের চোখ দিয়ে কি দেখে নাই যে আমার ব্লগে ইসলামিক ১০০ এর চেয়ে বেশি পোস্ট আছে?
এবং নাস্তিক দের বিরোদ্ধে ও কয়েক টি পোস্ট  আছে ?

তাদের কাছে আমার প্রশ্ন,আমি কি এই পথে এসে ভুল করেছি?
ভুল করে থাকলে বলেন আপনাদের হালুয়া রুটির উপর থেকে পিঁপড়া ওঠা থেকে বিরত থাকবো।
আমি আপনাদের কে অজানা কিছু জানাতে এসেছি।
কোনো বিনিময় পেতে আসেনি।
আপনারা আমাকে অনেক বিনিময় দিয়েছেন।
যা কখনো ভুলার নয়।
কেউ ভালো দিয়েছেন?
আবার কেউ খারাপ দিয়েছেন?
যে যেরকম সে তেমনেই দিয়েছেন।

তার পর আমি আপনাদের কে বলি,
আপনার হাতের পাঁচটা আঙ্গুল যেমন সমান না?
ঠিক তেমনি ভাবে এই দেশের সব ব্লগারেরা ও সমান না।
আপনি হয়তো জানেনা এক জন ব্লগার তার ব্লগে লিখতে গিয়ে কত কষ্ট করে।

আমরা আপনাদের পাশে দাড়িয়ে ছিলাম?
কিছু হলেও আপনাদের কে জানাতে পেরেছি।
আজ এই বিপদের দিনে আপনারা ও ইসলাম প্রচারক ব্লগাদের পাশে দাঁড়ান।
এবং আসুন আমরা সবাই মিলে নাস্তিকদের কে প্রতিহত করি।
কারন এরা মানবধীকারের কথা বলে এরাই মানবধিকার সব চেয়ে বেশি লঙ্গন করে।
এরা স্বাধীনতার কথা বলে এরাই সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা হরন করে।

এদের সাথে আমাদের কোনো আপোষ নেই।
এরা ডাস্টবিনের আবর্জনা,ডাস্টবিনেই মানায় ভালো।

সবাই ভালো থাকুন।
আল্লাহ হাফেজ।
     

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ। এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?
Read More

বৃদ্ধ বাবা মায়ের সমস্যা



সংকলিত প্রতিবেদন
রিটায়ার্ড বাবা-মা, যাদের অনেকেই আজ নিঃসঙ্গ একা, যাদের সন্তানরা আজ স্বেচ্ছায় বা বাধ্যবাধকতায় বিচ্ছিন্ন, দূরবাসী-তাদের জন্যই এই নিবন্ধ। ব্যাংকে সুদের হার কমছে, দেশ জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা-এরই মধ্যে কি করে ভাসাবেন দিন যাপনের সচ্ছল তরীখানি? যাদের বয়স অল্প, কিন্তু মাথার উপরে আছে অভিভাবকের গুরু দায়িত্ব-তারাই বা কেমন করে পালন করবেন সন্তানের কর্তব্য? আর যে জন আছে মাঝখানে...অর্থাৎ আজ যিনি মধ্যবয়স্ক, কাল যিনি হয়তো হয়ে পড়তে পারেন বিজনবাসী, একা, তিনি? কি করে প্ল্যান করবেন সুখী ভবিষ্যৎ?-সকলের কথা, সব প্রজন্মের কথা ভেবেই এই লেখাটি।
আমাদের সময়, ওদের সময়
বড্ডই বদলে যাচ্ছে সময়টা। পৃথিবীটা বড্ড দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
বড্ড ইনসিকিওরড সবকিছু। যুদ্ধের সম্ভাবনা, দাঙ্গার সম্ভাবনা, জাতপাত রাজনীতির অশান্তি...সব মিলিয়ে গোটা দেশ ভালো নেই।
আজ রিটায়ার করলে কবে থেকে যে হাতে পাবো পেনশনের টাকা...ভাবতে ভাবতে মাথার শেষ কালো চুলগুলো সাদা হয়ে গেল। মেয়ের বিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছি গত বছর। জামাই বড় ভালো, কিন্তু নাসিকে পোস্টেড, মোটে ছুটি পায় না। ফলে দায় দায়িত্ব, ভালো থাকা মন্দ থাকা সবই নিজের ওপর। মেয়ে মাঝে মধ্যেই চিঠিতে বা ফোনে কান্নাকাটি করে, কিন্তু নিরুপায়। সব মিলিয়ে আমরা খুব অশান্তিতেই ছিলাম। সেটা আরও বেড়ে অথৈ জলে পড়ে গেলাম ওর হঠাৎ হার্টএ্যাটাকের পর। হঠাৎই ঘটল ঘটনাটি, ভোর বেলা পার্কে। এখন ওর মাসে দু হাজার টাকার ওষুধ লাগছে। রাতদিনে আয়া লাগছে। ...কি যে করি!
মাকে আজও যে কতটা ভালোবাসি যা বলে বোঝাতে পারব না। বাবা আর মা আজ ১৭ বছর হল সেপারেট, বাবা আবার বিয়েও করেছেন, মা আমার জন্যই একা রয়ে গেছে আজীবন। এখন যা হয়! আমার স্ত্রী আর মা পরসপরকে মোটেই পছন্দ করে না। আমরা আলাদা ফ্ল্যাটে এসেছি সাত মাস। তারপর থেকেই মায়ের শরীর খারাপ, টাকা পয়সাও কমে আসছে দ্রুত। ব্যাংক তো সুদ দেয়াই ছেড়ে দিয়েছে। মা খালি চিন্তা করে, কাঁদে; আমার ভয় করে ভেতরে ভেতরে হার্ট খারাপ হয়ে যাচ্ছে না তো? মায়ের বড় কোনো অসুখ করলে কোথায় নিয়ে যাবো, কোত্থেকে টাকা পাবো?...কি যে করি!
রিটায়ার্ড মা-বাবা, যাদের অনেকেই আজ নিঃসঙ্গ একা, যাদের অনেকেরই সন্তানই প্রবাসী বা অনাবাসী বা স্বেচ্ছায় প্রায় ত্যাগ করেন বাবা-মাকে; অনেকেই চিন্তা করেন-সঞ্চিত টাকা কোথায় রাখবেন, কিভাবে রাখবেন, মেডিকেল ইন্সিওরেন্স নিলে লাভ হয় কি না, হেল্‌থ চেকআপ প্যাকেজ কতটা ইফেক্টিভ-এসব তো আছেই। অনেক দায়িত্ববান সহৃদয় তরুণ-তরুণীরাও ভাবেন। কিন্তু তাদের সমস্যা ঠিক বিপরীত। তারা বাবা-মায়ের বার্ধক্যের বারাণসী হতে চান, পাশে থাকতে চান বড় ছাতা হয়ে, কিন্তু নিজের সন্তান সংসার সামলে কিছুতেই বাবা-মায়ের জন্য, তাদের চিকিৎসা বা সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থানটুকু করে উঠতে পারছেন না কিছুতেই। কেউ কেউ আবার আর্থিক ভার বহন করেই কর্তব্য সারতে চান, কিন্তু তার ঠিক রাস্তাটা জানেন না। দোষ দেয়া যায় না কাউকেই। আমরা সবাই আপনজনকে ভালোবাসি, আমরাই পরিস্থিতির চাপে নিজেদের দায়-দায়িত্ব, স্নেহ-ভালোবাসাকে অস্বীকার করি বা এড়িয়ে যাই।
কেন এমন হয় বলুন তো? খুব ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলেই বুঝবেন, এর মধ্যে ব্যক্তিত্বের সংঘাত বা জেনারেশন গ্যাপ বা বউমা-শাশুড়ির চিরন্তন দ্বন্দ্ব বিরাট বিরাট ফ্যাক্টর নিশ্চয়ই, কিন্তু সমস্যার শিকড়টা অন্যত্র। রিটায়ার্ড জীবনের অর্থাভাব, স্বাস্থ্যভাব, বিষয়াভাব-অনেকটাই আপনার নিজের দূরদৃষ্টির অভাবে তৈরি হয়েছে। ৫০ বছর হয়ে যাওয়ার পরে যখন হাতে আর মোটে ৮ বছর চাকরি আছে, আপনি অবসর জীবনটা প্ল্যান করতে বসেছেন। বা, আপনি? বাবা-মা বুকের রক্ত তুলে আপনাকে মানুষ করেছেন, ২৪ বছর বয়স থেকে মোটা মাইনের চাকরি করছেন আপনি। ২৬-এ বিয়ে, ২৭-এ বুবুন জন্মাল, কিন্তু কখনও বাবা-মায়ের জন্য একটা ফান্ড তৈরি করার কথা ভাবেননি আপনি। কেন?
আপনাদের সমস্যাগুলোর একটা গড়পড়তা সমাধান দিতেই আমাদের এই প্রকল্পনা। কেবল মনে রাখবেন, শরীর-স্বাস্থ্য বা ফিন্যান্স-বিষয় যাই হোক না কেন, এগুলো পরামর্শ মাত্র। সিদ্ধান্ত যা কিছু আপনাকেই নিতে হবে। আমাদের পরামর্শ একেকটা মডেল, তাকে ব্যবহার করে ঠিক কিভাবে বার্ধক্যের সময়কে সুখে ভরিয়ে তুলবেন, এ প্ল্যানিং প্রতিটি পরিবারের ক্ষেত্রে আলাদা।
আপনার, আমার ও পার্থিবের গল্প
কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না পার্থিব। মাথায় আসছিল না এখন ঠিক কি করা উচিত। অথচ কিছু না করতে পারলে শান্তি পাবে না সে।
পার্থিবের সমস্যা অবশ্য আর পাঁচটা বছর পঁচিশের বাঙালি ছেলের থেকে খুব একটা আলাদা কিছু নয়। একই গতে বাঁধা।
পার্থিবের বাবা সরকারি চাকরিজীবি। বয়স ৫৫ বছর। দেশ ভাগের সময় একবস্ত্রে চলে এসেছিলেন এদেশে মায়ের হাত ধরে। সঙ্গে ভাই। সে সব দিন চলে গেছে। পার্থিব মায়ের মুখে শুনেছে, বাবার বড় হয়ে ওঠার কাহিনী। দিনের বেলা টিউশনির পর টিউশনি, রাতে নাইট কলেজ। এরই মধ্যে মায়ের দেখভাল, ভাইকে পড়াশোনা করানো। সব অন্ধকারের শেষেই জ্বলে আলো। পার্থিবের বাবার বেলাতেও তাইই হয়েছে। ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়ে হঠাৎই হাজির এক সরকারি চাকরি।
সেই শুরু। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি পার্থিবের বাবাকে। ছোট ভাইকে পার করিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি। মায়ের কষ্ট লাঘবের জন্য তিন কামরার ফ্ল্যাটও কিনেছেন। শুভ লক্ষ্মীকে ঘরে এনেছেন। বছর দুয়েকের মধ্যে পুঁচকে পার্থিবের আগমন। তারপর সেই পুণরাবৃত্তি। সেই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। এসব করতে করতেই যে ত্রিশটি বসন্ত ঝরে গেছে তা বুঝতেই পারেনি পার্থিবের বাবা। হুঁশ হলে দেখেন চুলে পড়েছে রূপালি রেখা। প্রতিবিম্ব জানান দেয় তার বয়স ৫৫। অবসর কড়া নাড়ছে দরজায়। পার্থিবের চিন্তাটা ঠিক এখানেই।
বাবার কোনো সঞ্চয়ই নেই। সারা জীবন সংসারের জোয়াল টেনে আজ তিনি খাদের কিনারে। যত্ত আয় তত্ত ব্যয়, সঙ্গে পরহিতার্থ-নেট ফল, ব্যাংক ব্যালান্স শূন্য। পার্থিব যদি ভবিষ্যতে দূরে চলে যায়, এমনকি পেশাগত টানেও, অকূল পাথারে পড়ে যাবেন বাবা-মা। ৬০ বছর বয়ম হতে না হতেই।
এই ব্যাপারটাই মেনে নিতে পারছে না পার্থিব। যে মানুষটা সর্বস্ব দিয়ে সংারটাকে ধরে রাখল আর তিন বছর পরে পেনশনের সামান্য টাকা ছাড়া রইবে না কিছুই। কিভাবে চলবে তার? পার্থিব ভালোভাবেই জানে, বাবা মরে গেলেও কারও কাছে জানাবেন না তার দুঃখের কাহিনী। তাই বাবার জন্য কিছু করতে হলে তাকেই করতে হবে।
কিন্তু সে কি করবে?
শেয়ারবাজার, বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ডা, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট, পোস্ট অফিসের মাসিক আয় প্রকল্প-কোনো বিষয়েই কোনো জ্ঞান নেই পার্থিবের। পার্থিব জানুক বা না জানুক, লগ্নি বিশেষজ্ঞরা কিন্তু পার্থিবের ব্যাপারে খুব আশাবাদী।
একটি ইনভেস্টটর সার্ভিসেস লিমিটেডে-এর রিজিওনাল ম্যানেজার তথা ভাইস প্রেসিডেন্ট জানাচ্ছেন, ‘ একটা বছর পঁচিশেকের ছেলের সামনে তো গোটা জীবনটা পড়ে রয়েছে। তার চাকরি সবে শুরু হয়েছে। অথচ দায়দায়িত্বও কিছুই নেই প্রায়। বাবা একটা চাকরি করছেন। সুতরাং সংসারও তাকে টানতে হচ্ছে না। সে এখনও বিয়েও করেনি। ফলে সাংসারিক অন্য দায়িত্বও তার কাঁধে চাপেনি। ফলে আর্থিক দিক থেকে সুরক্ষা পাওয়ার এটা হল ‘ড্রিম এজ’।
একটি সিকিউরিটিস কোম্পানির ডিরেক্টরের ভাষায়-‘জানি কষ্ট হবে। কারণ এই বয়সটা ওসব সঞ্চয়-টঞ্চয়ের ভাবে না। জীবনে তখন ভোগের জন্য থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা সামগ্রী। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভাবলে, একটু কষ্ট হলেও এটা করতে হবে এই ২৫ বছরের ছেলেটিকে। দরকার হলে একবার রেস্তরাঁয় যাওয়া কমাতে হবে, কমানো যেতে পারে এন্টারটেনমেন্টও’।
ডিরেক্টর সাহেবের ভাষায় ‘এই বয়সে সঞ্চয় শুরু করলে তার লাভ অনেকগুলো। প্রথমত সঞ্চয় একটা অভ্যাস। একদিনে সেটা গড়ে ওঠে না। এটা অনেক দিনের অভ্যাসের ফল। আর এটা তো সবারই জানা, সঞ্চয় হিসেবে আজ যেটা দেখাচ্ছে, কয়েক বছরের দিকে তাকালে সেটাই হয়ে দাঁড়াবে ভবিষ্যতের পুঁজি।
দ্বিতীয় এই বয়সে যাই লগ্নি করা হোক না কেন, বয়স কম বলে কম অর্থতেও তা করা সম্ভব। বয়স বেশি হয়ে গেলে জীবন বিমার প্রিমিয়াম থেকে শুরু করে সব কিছুরই প্রিমিয়াম বেশি হয়ে যাবে।
তৃতীয়ত ঝুঁকি যদি নিতেই হয়, তবে এটাই তো বয়স। কোনো ঝুটঝামেলা নেই, একবারে যাকে বলে ঝাড়া হাত পা। ফলে এই বয়সে যদি কেউ নিজের জন্য, নিজের প্রিয়জনের কথা ভাবে তবে তো তার কোনো তুলনাই নেই’।
এ তো গেল পার্থিব কাহিনী। তার বাবার কি হবে? ৫৫ বছর বয়সে এসে ব্যাংক ব্যালান্স শূন্য, এ অবস্থায় তিনি কি করবেন? সরকারি চাকরি, অবসরকালে মাসে ক‘টাকাই বা তিনি পাবেন পেনশন হিসেবে। ভরসার কথা একটাই গ্রাচুইটি-সব মিলিয়ে লাখ দশেক মতো টাকা তিনি পাবেন অফিস থেকে। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে এই টাকা দিয়ে সংসার চালাবেন তিনি, কিভাবেই বা প্রৌঢ়ত্ব পেরিয়ে নিজেকে, স্ত্রীকে রক্ষা করবেন?
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই অবস্থায় একদম হতাশ নন। তবে একযোগে তাদের বক্তব্য, আর দেরি করবেন না। এখনও অবসর নেয়ার আগে তিন বছর বাকি। এই তিন বছরটাকে ভালো মত ব্যবহার করে নিন। আর খুব সাবধানে বিচক্ষণতার সঙ্গে অবসরের পর যে অর্থ হাতে পাবেন তা লগ্নি করুন।
বার্ধক্য কাকে বলে?
‘এজিং’ বা বৃদ্ধ হওয়া একটি সারা পৃথিবীব্যাপী ব্যতিক্রমহীন পদ্ধতি। কিছুদিন আগে অবধিও মনে করা হত, ‘বার্ধক্য একটি চিকিৎসার অসাধ্য অসুখ’, কিন্তু এখনকার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, যেখানে মেডিসিন এত উন্নত, সেখানে You dont heal old age, you protect it, you promote it, you extend it. বাধ্যক্য এক স্বাভাবিক, অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়া। বৃদ্ধ বয়সজনিত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কিত পড়াশোনা ও জ্ঞানকে বলে জেরনটোলজি। বৃদ্ধ বয়সে যে অতিরিক্ত সাবধানতা ও যত্ন দরকার তাকে বলে জিরিয়াট্রিক। ক্রমশ পৃথিবীতে বৃদ্ধ নরনারীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে বুড়ো বয়সেও যাতে সুস্থ সুন্দর জীবন-যাপন করা যায় সে সম্পর্কে সচেতনতাও। জিরিয়াট্রিক গায়ানোকোলজি সম্পর্কেও প্রচুর গবেষণা চলছে। এখন অনেক বেশি সংখ্যায় পরিণত বয়সের মহিলারা ডাক্তারের কাছে আসেন- মেনোপজের পর কি করা উচিত, প্রোল্যাপ্স বা জরায়ু নিচের দিকে নেমে এলে কি চিকিৎসা করা যায়, বৃদ্ধ বয়সের স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক সম্পর্ক কেমন হবে এইসব তথ্য জানতে ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। আগের দিনের বয়স্করা এইসব সমস্যা চেপে রেখেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতেন।
সমস্যার গুরুত্ব
গত কয়েক দশকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং অপেক্ষাকৃত উন্নত সামাজিক পরিবেশ মানুষের গড় আয়ু কিছু বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে আজকাল বেশিরভাগ মানুষই ৭০ বছর বা তার বেশি বাঁচে। ইংল্যান্ডে ১২ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের ওপর, আমাদের দেশে সেই তুলনায় অনেক কম। উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসা ও সমাজব্যবস্থা এখন এত আধুনিক যে মানুষের বেশি বয়স অবধি বাঁচার হার সেখানে ক্রমবর্ধমান।
বয়স্কদের স্বাস্থ্য সমস্যা
কেবলমাত্র বয়সের ভারে যেসব সমস্যা হয়
ঠিক কখন বার্ধক্যের শুরু তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না। কোনো মানুষের বায়োলজিক্যাল এজ বা জীব বিজ্ঞান অনুযায়ী বয়স এবং ক্রনোলজিক্যাল এজ বা পঞ্জিকা অনুযায়ী হিসাব করা বয়স অভিন্ন নাও হতে পারে। একটা বেশি বয়স অবধি বাঁচলেই কেউ বুড়ো হয়ে যায় না। অতিবাহিত সময় ত্বকে বলিরেখা ফেলে, কিন্তু সংশয়, সন্দেহ, দুশ্চিন্তা, ভয়, টেনশন, অবিশ্বাস মনকে কলুষিত করে।
শুধুমাত্র বয়স বাড়লেই বার্ধক্য আসবে এ কথা ঠিক নয়, আধুনিক যুগের জীবনের অস্বাভাবিক চাপ মানুষকে প্রায় বার্ধক্য বা সিনেসনস-এর দিকে ঠেলে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভেতরের কলকব্জাগুলোতে কিছু পরিবর্তন হবেই। সেই কারণে বৃদ্ধ বয়সে ছানি, গ্লুকোমা, কানে কম শোনা, বাত, মানসিক পরিবর্তন, সূক্ষবোধের অভাব ইত্যাদি অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী অসুখ সংক্রান্ত সমস্যা
কিছু কিছু ক্রনিক অসুখ থাকে যেগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায় যেমন-
হার্ট ও শিরার অসুখঃ চল্লিশ বছর বয়সের পর থেকে রক্তবাহী নালীর ভেতরের দিকের অংশ নষ্ট হতে শুরু করে এবং সেখানে লাইপয়েড জাতীয় এক রকম পদার্থ জমা হতে থাকে। পরে এগুলো ক্যালসিয়ামের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় এবং তার ফলে রক্তবাহী নালীগুলো সরু হয়ে পড়ে। এই কারণে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে শিরা ছিড়ে যেতে পারে, রক্তচাপও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর বিশেষ কোনো একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না, খাদ্যাভ্যাস, বংশগত কারণ, বেশি ওজন, অত্যধিক স্নায়বিক ও মানসিক চাপ সবই একসঙ্গে কারণ হিসেবে জড়িয়ে থাকতে পারে।
ক্যান্সারঃ মধ্যবয়সের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেশি। উন্নত দেশগুলোতে ক্যান্সার বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ।
পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে যে, চল্লিশ বছর বয়সের পর ক্যান্সারের আক্রমণ অল্প বয়সের থেকে অনেক বেশি।
পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সার হয় সাধারণত পঁয়ষট্টি বছরের পর
দুর্ঘটনা
এ্যাক্সিডেন্ট অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের একটি বড় স্বাস্থ্যসমস্যা। বয়স্কদের শরীরের হাড়ে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়ার কারণে সহজেই ভঙ্গুর হয়ে যায়, অল্প আঘাতে তা ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাব থাকে। পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঘটনা বাড়িতেই বেশি ঘটে, রাস্তাঘাটে কম। কোমরের হাড়ভাঙ্গা বা ফ্র্যাকচার নেক ফিমার বৃদ্ধ বয়সের একটি খুব সাধারণ ঘটনা।
ডায়াবেটিস মেলাইটাস
বৃদ্ধবয়সে ডায়াবেটিস বেশি হতে দেখা যায় তার কারণ এই বয়সের ত্রুটিপূর্ণ বিপাকীয় ক্রিয়া ডায়াবেটিসে অনেক বৃদ্ধবৃদ্ধা মারা যায়। আমাদের দেশের অন্তত ৭৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর বয়স ৫০ বছরের ওপর।
বাত
বিভিন্ন ধরনের বাত যেমন ফাইব্রোসাইটিস, মাইওসাইটিস, নিউরাইটিস, গাউট, রিউম্যাটয়েড আথ্রাইটিস, অস্টিও আরথ্রাইটিস, সপনডাইলোসিস সাধারণত একটু বেশি বয়সেরই রোগ। এই ধরনের অসুখ বার্ধক্যের সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে একেবারে ব্যাহত করে দেয়।
শ্বাসতন্ত্রের ও ইউরিনারি সিসটেমের অসুখ
বেশি বয়সে এ্যাজমা, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসিমা ইত্যাদি অসুখ বেশি হয় এবং যাদের আগে থেকেই এই ধরনের কোনো একটি রোগ আছে, বয়স হলে সেই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া প্রস্টেট এনলার্জমেন্ট, ইউরিনের নানা অসুখ; যেমন ইউরিন চেপে রাখতে না পারা, বারে বারে বাথরুমে যাওয়া, রাতে বেশিবার প্রস্রাব পাওয়া, ইউরিন কমে যাওয়া এগুলোও বার্ধক্যে বেশি দেখা যায়।
মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা
মানসিক পরিবর্তন-যেমন দুর্বল স্মৃতিশক্তি, অনমনীয় ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, কোনো ধরনের কোনো পরিবর্তনে অনীহা-এই জাতীয় ধ্যানধারণা দেখা দেয় বার্ধক্যে। অবসর গ্রহণের পর আয়ও কমে যায়, তাতে প্রাত্যহিক জীবন যাত্রার মান খানিকটা পড়ে যেতে বাধ্য, সেই কারণে মানসিক ও সামাজিক বদল ও তার নির্দিষ্ট পরিণতি অবশ্যম্ভাবী।
সেক্সুয়াল এ্যাডজাস্টমেন্ট
৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে মহিলাদের প্রজননক্ষমতা একেবারেই কমে যায় এবং পুরুষদের মিলনের ইচ্ছাও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় হ্রাস পাচ্ছে। এই সময়ে আবেগ সংক্রান্ত মানসিক চাঞ্চল্য ঘটা সম্ভব। তার সঙ্গে শারীরিক অসুবিধাও থাকতে পারে। এর সঙ্গেই দেখা দিতে পারে বিরক্তিবোধ বা ইরিটেবিলিটি, ঈর্ষাপরায়ণতা, অত্যন্ত বেশি নির্ভরশীলতা বা অসহায়তা। এই ধরনের মনোভাব দমন করা শক্ত হয়ে পড়ে।
আবেগজনিত অসুবিধা
সহজেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া এই বয়সে এক বিশেষ সমস্যা। এর কারণ আর কিছুই না, সমাজের সঙ্গে সমন্বয়তার অভাব। বয়স হয়ে যাচ্ছে এটা মন থেকে মেনে নেয়া খুবই শক্ত ব্যাপার। সর্বদা মনে এই পাষাণভার থাকলে জীবনে আর কোনো আনন্দ থাকে না, সাধ আহ্লাদও চলে যায়। ক্রমশ তিক্ততা ও অবসাদ এসে গ্রাস করে,  আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
কি কি পরিষেবার ওপর জোর দেয়া যেতে পারে
নিরাপদ বাসস্থান
ক্লাব হোস্টেল বা হোমের ব্যবস্থা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাবধানে চলাফেরা করা, ওজন কমানো, কোনো অসুখ থাকলে তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা। পেনশন নেয়ার সুবিধা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছান, সামান্য কিছু অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা করা, অবসর যাপনের জন্য লেখা, ছোট ছেলেমেয়েদের পড়ানো বা সই করতে শেখানো, বাড়ির কাছাকাছি একটু হেঁটে বেড়ানো, টিভি দেখা, মাঝে মাঝে তাস বা দাবা খেলা, বই পড়া, নিজের জিনিসপত্র সাধ্যমত গুছিয়ে রাখা, কাগজ পড়া, ক্রসওয়ার্ড সলভ করা, যারা গান করতেন বা বাজনা বাজাতেন তার অল্পস্বল্প চর্চা রাখা-এইগুলোর ওপর জোর দেয়া দরকার। এ জন্য ছেলেমেয়ে বা পরিবারের কমবয়সীরা যা যা করতে পারেন-
  • বাবা-মাকে যতদূর সম্ভব সময় দিন। তাদের পারিবারিক কাঠামো যতদূর সম্ভব বজায় রাখুন।
  • নাতি-নাতনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দিন।
  • ছোটখাটো বাড়ির কাজ, যেমন হাল্কা বাজার করা, ব্যাংক থেকে টাকা তোলা, হাল্কা বাগান করা, শরীরে কষ্ট না হলে অবশ্যই করতে দিন।
  • মাঝে মাঝে হাওয়া বদলের সুযোগ করে দিন। স্থান পরিবর্তনে মন-মেজাজ সুস্থির হয়।
  • নিয়মিত চেকআপ করানোটা খুবই জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই বড় অসুস্থতার মূল কারণ দুটি। এক, চেক আপের অভাবে ছোটখাটো অসুস্থতা বড় আকার নেয়, ভোগান্তি বাড়ে, খরচও বাড়ে। দ্বিতীয়ত, বয়স হলে খাওয়ার লোভ বাড়ে। কোনো মতেই নোলাকে প্রশ্রয় দেবেন না।
 বিষয়ঃ মনোজগত

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ। এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?
Read More

স্ত্রীরোগে বেলুন থেরাপি


বিদেশি পত্রিকা অবলম্বনে
আপনার বয়স পঁয়ত্রিশ বা তারও বেশি? মাত্রাছাড়ানো ব্লিডিং-এর সমস্যায় আপনি বিধ্বস্ত? আলট্রাসাউন্ড বা অন্য পরীক্ষা করে জরায়ুতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি আপনার? ব্লিডিংকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনার গায়নোকোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোন ট্যাবলেট খেতে খেতে আপনি ক্লান্ত? প্রায়ই মনে হয় এই আপদ চুকে গেলে বেঁচে যান? জরায়ুর বেলুন থেরাপি হতে পারে আপনার মুশকিল আসান।
নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে আবিষ্কৃত ইউটেরাইন বেলুন থেরাপি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, কানাডা, হংকং, সিঙ্গাপুর, চিন, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড ও আরও কিছু দেশে গত এক দশকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর গবেষণা হয়েছে অনেক। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কিছু রোগিনীর ওপর বেলুন থেরাপির ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানসমমত কাজকর্ম হয়েছে চেন্নাইয়ের সুরিয়া হাসপাতাল আর গুজরাটের নাদকার্নি হাসপাতালে। এই মুহূর্তে ‘থার্মাল বেলুন থেরাপি’ দিয়ে সারা বিশ্বে চিকিৎসা করানো মহিলার সংখ্য এক লক্ষেরও বেশি। চেন্নাই আর গুজরাটের পর ২০০১ সালে জরায়ুর বেলুন চিকিৎসা চালু হয়েছে ডিব্রুগড়, গৌহাটির পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও।
বেলুন থেরাপির সাহায্যে জরায়ুর ভেতরকার এন্ডোমেট্রিয়ামের আবরণীকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়, নির্দিষ্ট সময় জুড়ে উত্তপ্ত করার ব্যবস্থা থাকে। খুব বেশি তাপ প্রয়োগ করায় জরায়ুর ভেতর দিকের ‘এন্ডোমেট্রিয়াল লাইনিং’ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে নষ্ট হয়ে যায়। জরায়ুর যে কোনো ব্লিডিং-এর জন্য দায়ী এন্ডোমেট্রিয়াম আংশিক বা সামগ্রিকভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্লিডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। একটা বয়সে জরায়ুঘটিত অতিরিক্ত ব্লিডিংয়ে একটানা ভুগতে থাকা রোগিনীদের জন্য জরায়ুর বেলুন থেরাপি শতকরা তিরানব্বই শতাংশের বেলায় মূল সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে বলে জানা গেছে। জরায়ু কেটে বাদ দেয়ার অস্ত্রোপচারের তুলনায় বেলুন থেরাপি অনেক সহজ ব্যবস্থা, এর ঝাক্কিও অনেক কম।
বেলুন থেরাপি যাদের জন্য
  • যারা পঁয়ত্রিশ বছর পার করে মেনোপজের আগে নিয়মিত বা অনিয়মিত মাত্রাছাড়ানো ব্লিডিং-এর সমস্যায় ভুগছেন।
  • যারা আর বাচ্চা চাইছেন না।
  • যাদের জরায়ুতে কোনো টিউমার (ফাইব্রয়েড) বা পলিপ নেই।
  • যারা জরায়ু বা জরায়ু মুখের ক্যান্সার (কারসিনোমা এন্ডোমেট্রিয়াম ও কারসিনোমা সারভিক্স) আক্রান্ত নন।
  • যাদের জরায়ুর ভেতরকার গহ্বর বা ক্যাভিটির স্বাভাবিক আকৃতি অটুট রয়েছে।
  • আগে ট্রান্সম্যুরাল মায়োমেকটমি বা ক্লাসিক্যাল সিজারিয়ান সেকশন (এ রকম সিজার বহুকাল আগে করা হত)-এর মতো জরায়ুর অস্ত্রোপচার হয়নি যাদের।
  • যাদের ল্যাটেক্স এলার্জি নেই।
বেলুন থেরাপির ব্যবস্থা থার্মাচয়েস
এরকম চিকিৎসা ব্যবস্থা বা থেরাপি সিস্টেমে থাকে দুটো অংশ। এক, কন্ট্রোলার-এ হল কম্পিউটার সমন্বিত অত্যাধুনিক এক যন্ত্র; দুই, বেলুন ক্যাথেটার-সরু লম্বা প্লাস্টিকের ক্যাথেটারের মাথায় লাগানো বিশেষ ধরনের তাপসহ ল্যাটেক্স দিয়ে তৈরি ছোট একটা বেলুন।
কন্ট্রোলার যন্ত্রের সঙ্গে বেলুন ক্যাথেটার জুড়ে দেয়া থাকে একটা সরু আর একটা মোটা নল দিয়ে। সরু নল বেলুনের ভেতরকার চাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। মোটা নল বা আমবিলিকাল কেবল দিয়ে বেলুনের ভেতরে থাকা বিশেষ এক হিটিং সিস্টেম বা উত্তাপ তৈরির ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলা যায়। এরকম হিটিং সিস্টেম হল জরায়ুর বেলুন থেরাপির মূল ব্যবস্থা যা উত্তপ্ত বেলুনকে দিয়ে চিকিৎসার মূল কাজটুকু করিয়ে নেয়। কন্ট্রোলার যন্ত্রের গায়ে থাকা পরপর তিনটি ‘মনিটর’ প্রত্যেক পর্যায়ের চিকিৎসার সময়, বেলুনের ভেতরকার চাপ আর বেলুনের ভেতরকার তাপমাত্রা জানিয়ে দিতে থাকে সেকেন্ডে সেকেন্ডে। একেবারে ডান দিকের বড় মনিটর চিকিৎসা চলার সময় স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞকে নানা প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশ দিয়ে সাহায্য করে।
যা করা হয়
প্রথমে খানিকটা জীবাণুমুক্ত তরল (৫ শতাংশ ডেক্সট্রোজ দ্রবণ) সিরিঞ্জের ভেতর দিয়ে বিশেষ এক পদ্ধতিতে বেলুনের মধ্যে ভরে আবার বের করে আনা হয়। এভাবে বেলুনের ভেতরকার চাপকে কমিয়ে আনা হয় একটা মাত্রা পর্যন্ত (-১৬০ মিমি পারদস্তম্ভের সমান)। এবার নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বেলুন ক্যাথেটারকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় জরায়ুর মধ্যে।
সিরিঞ্জের তরল আবার বেলুনে ঢুকিয়ে বেলুনের মধ্যের চাপকে বাড়ানো হতে থাকে ধীরগতিতে, বিশেষ পদ্ধতি মেনে। চাপ বাড়তে থাকায় ফুলতে থাকা বেলুন আস্তে আস্তে জরায়ুর গহ্বরের আকৃতি পেতে শুরু করে। বেলুন গহ্বরে চেপে বসার সঙ্গে সঙ্গে চাপ দিতে শুরু করে এন্ডোমেট্রিয়ামের প্রতিটি বিন্দুতে।
এভাবে বাড়তে বাড়তে বেলুনের ভেতরকার চাপ নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছে গেলে কন্ট্রোলারের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় গরম হতে শুরু করে বেলুনের মধ্যকার হিটিং সিস্টেম। এভাবে বেলুনের ভেতরকার তরলের তাপমাত্রা ১৮১ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌঁছে গেলে চালু হয়ে যায় চিকিৎসা শুরু হওয়ার স্বয়ংক্রিয় ‘টাইমার’। ওই তাপমাত্রায় বেলুনকে এন্ডোমেট্রিয়ামের সংসপর্শে রাখা হয় আট মিনিট সময় ধরে। ওই সময়টুকু পেরিয়ে যাওয়া মাত্রা শেষ হয়ে যায় চিকিৎসার মূল কাজ। এবার বেলুনের ভেতরকার চাপকে আগের মতো কমিয়ে এনে তরলের তাপমাত্রাকে কিছুটা কমতে দিয়ে (৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) চুপসে যাওয়া বেলুনসহ বেলুন ক্যাথেটারকে বের করে আনা হয় জরায়ুর ভেতর থেকে।
বেলুন থেরাপির পরে
বেলুনের ভেতর উচ্চতাপে ফুটতে থাকা তরল এন্ডোমেট্রিয়ামকে আংশিক বা পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। তাপে পুড়ে যাওয়া এন্ডোমেট্রিয়াম প্রথম সাত থেকে দশদিন সাদাস্রাব হয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে। থেরাপির পর প্রথম সাতদিন রোগিনীকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শমত নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক খেয়ে যেতে হয়। প্রথম ঋতুস্রাব শুরু হয় কমবেশি একমাসের মাথায়। এই পিরিয়ডের ব্লিডিং পরিমাণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হবে। পরের মাসে দ্বিতীয় পিরিয়ডের ব্লিডিং বেশি হলে বুঝতে হবে ঋতুস্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে কয়েক মাসের ভেতর।
দ্বিতীয় পিরিয়ডের ব্লিডিং বেশি না হলে বেশিরভাগ সময় পরে প্রত্যেক সাইকেলে আগের চেয়ে অনেক কম বা খুব সামান্য ব্লিডিং হতে পারে।
বেলুন থেরাপির আগে
থেরাপির আগে দেখে নিতে হবে-
  • অতিরিক্ত ব্লিডিং জরায়ুর কোনো টিউমার বা পলিপের জন্য হচ্ছে না।
  • জরায়ুর মধ্যে বা জরায়ুর মুখে কোনো ক্যান্সার বা ক্যান্সার পূর্ববর্তী অবস্থা তৈরি হয়নি। রোগিনী এইচআইভি সংক্রমণে আক্রান্ত নন।
  • জরায়ুতে জন্মগত কোনো ত্রুটি নেই, নেই জরায়ুর পেশির কোনো ধরনের দুর্বলতা।
এসব তথ্য জানার পর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে জরায়ুর আলট্রাসনোগ্রাফি, হিস্টেরোগ্রাম, ডি সি, এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপ্সি, ট্রান্সভ্যাজাইনাল সোনোগ্রাফি ও অন্য কিছু পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
বেলুন থেরাপি যাদের জন্য নয়
  • যিনি গর্ভবতী, ভবিষ্যতে আবার মা হতে চান
  • যাদের জরায়ুর পেশিতে কোনো দুর্বল জায়গা রয়েছে।
  • যারা জরায়ু বা জরায়ু মুখের ক্যান্সার বা ক্যান্সার-পূর্ববর্তী অবস্থায় আক্রান্ত।
  • থেরাপির ঠিক আগে যারা মূত্রথলি, জরায়ুর মুখ, যোনি, ডিম্বনালী বা এন্ডোমেট্রিয়ামের ইনফেকশনে ভুগছেন।
  • ল্যাটেক্স (কনডম ও ল্যাটেক্স দিয়ে তৈরি) এতে এলার্জি রয়েছে যাদের।
অ্যানেসথেসিয়া
লোকাল বা জেনারেল দু রকম অ্যানেসথেসিয়া দিয়েই বেলুন থেরাপি করা যায়। থেরাপির আগে ও পরে নির্দিষ্ট ইনজেকশন দিতে হয়। লোকাল বা জেনারেল যে আবেদনেই থেরাপি হোক, রোগী ৪-৬ ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে বা একটা দিন ক্লিনিকে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।
বেলুন থেরাপির প্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে নির্বাচিত মহিলাদের জন্য ইউবিটি যথেষ্ট কার্যকরী ও নিরাপদ পদ্ধতি। থেরাপি চলাকালীন জটিলতা হয় না বললেই চলে। থেরাপির পরবর্তী পর্যায়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে শতকরা মাত্র তিনজনের বেলায়। ৯২ শতাংশ ক্ষেত্রে থেরাপির পর প্রথম এক থেকে দু দিন কোমর ও তলপেটে ব্যথা হতে পারে। নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারে ব্যথা কমে যায়। ২৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গা গোলানো ও বমির সমস্যা ওষুধে কমে যায়। ২ শতাংশ ক্ষেত্রে এন্ডোমেট্রিয়ামে সংক্রমণ (এন্ডোমেট্রাইটিস) হতে পারে। এই থেরাপির পর নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে সমস্যা মিটে যায়।
জ্বর, তলপেটে তীব্র ব্যথা, মলমূত্র ত্যাগের সময় তীব্র যন্ত্রণা, রক্তমূত্র (হিমাচুরিয়া) বা জরায়ুর মধ্যে রক্ত জমে যাওয়া (হিমাটোমেট্রা)-র মতো জটিলতা আসতে পারে খুব সামান্য কয়েকজনের বেলায়। বেশিরভাগ সময় সাধারণ চিকিৎসায় এরকম জটিলতা কমে যায়।
বেশি কার্যকারিতা, বেশি নিরাপত্তা
এর জন্য দরকার বেলুন থেরাপির আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঠিকমতো করিয়ে থেরাপির পক্ষে উপযুক্ত কি না তা জেনে বুঝে তারপর বেলুন থেরাপি করানো। বেলুন থেরাপির ব্যাপারে দক্ষ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের হাতে এরকম সহজসরল চিকিৎসা নিরাপদ।
বিশেষ কিছু তথ্য
  • বিশেষ পদ্ধতিতে বেছে নেয়া রোগিনীদের জন্য ইউবিটি শতকরা ৯৩ জনের ব্লিডিং বন্ধ করে দিতে বা কমিয়ে আনতে পারে। তিন বছর ধরে চালানো বিদেশের এক সমীক্ষায় থেরাপি করানো মহিলাদের ২৩ শতাংশের ব্লিডিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ১৬ শতাংশ ফিরে এসেছেন স্বাভাবিক ব্লিডিং-এ, ৩৫ শতাংশ স্বাভাবিকের চেয়ে কম ব্লিডিং-এ। ১৭ শতাংশ মাসে মাসে খুব সামান্য ব্লিডিং অনুভব করছেন।
  • অতিরিক্ত ব্লিডিংয়ের সমস্যায় বেলুন থেরাপি করানো মহিলাদের বেশিরভাগের শুধু ব্লিডিং-এর সমস্যা কমে না, জীবনের মানও স্বাভাবিক হয়ে আসে। কমে আসে এই সংক্রান্ত মানসিক চাপ, টেনশন।
  • থেরাপি করানোর পর যৌনজীবন স্বাভাবিক থাকে। বেলুন থেরাপি কোনোভাবেই মেনোপজ ডেকে আনে না। দেখা দেয় না হট ফ্লাশ বা মেনোপজের অন্য কোনো উপসর্গ।
  • থেরাপির পর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কন্ট্রাসেপশনের ব্যবস্থা নিতে হয়। থেরাপির পরে গর্ভবতী হয়ে পড়লে গর্ভপাত করানো আবশ্যিক, জরুরি।
  • বেলুন-থেরাপি সবচেয়ে ভাল কাজ দেয় জরায়ুতে কোনো টিউমার, পলিপ বা অন্য কোনো সমস্যা নেই অথচ মাত্রা ছাড়ানো ব্লিডিং হচ্ছে, এমন ‘ডিফাংশনাল ইউটেরাইন ব্লিডিং’-এ ভুগতে থাকা মহিলাদের সমস্যায়। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় সঠিকভাবে নির্বাচিত মহিলাদের ব্লিডিং সংক্রান্ত সমস্যায় ইউটেরাইন বেলুন থেরাপি অদূর ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে চলেছে সহজসরল, নিরাপদ ও কার্যকর এক জনপ্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা।


বিষয়ঃ  সেক্স গাইড  


আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ। এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?
Read More

দি আর্ট অব সেক্সুয়াল এক্সটাসি-যৌন আনন্দ বৃদ্ধি করার উপায়!

katrina sax video, india sex video

 

অধ্যাপক ডাঃ এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
আনন্দ বৃদ্ধি ও আন্তরিকতা গভীরতর করার পদ্ধতি
মূল রচনাঃ মার্গো আনন্দ
যৌন পুলকের কলাকৌশল
পাশ্চাত্যের প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য পবিত্র যৌন মার্গো
* প্রশ্নঃ স্বামী স্ত্রীর বাম পাশে শুইলে আয়ু কমে যায় কথাটা কি ঠিক?
* সোমাজেক্ট কি? 
* পুরুষের বীর্য মেয়েদের যৌনিতে ঢোকার কতদিন পর একটি মহিলা গর্ভবতী হয়?
 

পূর্ব প্রকাশের  পর..
নির্দেশনী
এই গ্রনেহর অন্য অভ্যাস সমূহের সাথে যেমন আছে, তেমনি এই অভ্যাসটিকেও সম্পূর্ণ ভাবে আয়ত্তে আনার জন্য কয়েকবার রিপিট করার প্রয়োজন আছে। কিছু সময়ের জন্য চিন্তা করুন, কেমন করে এই পরিচ্ছেদে বর্ণিত সাধারণ অভ্যাসসমূহ আপনাকে প্রভাবিত করেছে। আপনি সেটাকে উপভোগ করতে পেরেছেন না এর প্রয়োগে কিছুটা পরিবর্তন আপনার ভাল লাগতো। ধরুন, আপনার অন্তরের অভিবাদনটি একটি চেয়ারে বসে করতে  পারতেন অথবা অন্য একটি বাক্‌ধারা প্রয়োগ করে সম্ভাষণ দিতে পারতেন। খেলা করুন, প্রয়োগ করুন এবং সৃষ্টি করুন। কিন্তু নিশ্চিত হোন যে, আপনি প্রশিক্ষণের পর্যায়ক্রম সঠিক মেনে চলেছেন।
সচেতন শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে আপনি শিখলেন, কি করে নিজের মধ্যে ডুব দিতে হয়। আপনার ভেতরের প্রেমিক/ প্রেমিকাকে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে আপনি নিজেকে পৃষ্ঠপোষকতা করার প্রতিশ্‌্রুতি দিয়েছেন এবং অন্তরকে অভিবাদন প্রদানের মাধ্যমে আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনীর ভেতরের প্রেমিক/প্রেমিকার উপস্থিতিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই মৌলিক ও প্রাথমিক অনুশীলনীতে আপনি উন্নত যৌনতার কিছু অত্যাবশ্যকীয় নিয়ম-নীতি শিখতে শুরু করেছেন। প্রথমে আপনি জানলেন যে, যৌন আনন্দের উৎস আপনার ভেতরেই রয়েছে এবং তা একজন কল্পিত যৌন সঙ্গী/সঙ্গিনীর উপর নির্ভর করে না। আপনি আরও শিখেছেন যে, পূর্ণ শ্বাস প্রশ্বাস আপনার উদ্যমশীলতাকে শরীরের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থির করে শারীরিক অনুভূতিগুলোকে বিস্তৃত করে দেয়। চূড়ান্তভাবে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে, নিজেকে ভালবাসার উপযুক্ত শিথিল, বন্ধনহীন, আমোদপ্রিয় মানুষ হিসেবে দেখতে শিখিয়ে, আপনাকে যৌনতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে রাখা  সেই নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত করে দেয়। পরবর্তী পরিচ্ছেদে আপনি শিখতে পারবেন কিভাবে একটা পবিত্র স্থান, একটি মন্দির তৈরি করতে হয়, যা আপনার উন্নত যৌনতায় সঠিক শর্তগুলোর বিকাশ ঘটাতে সহযোগিতা করে। আপনি আরও আবিষকার করবেন যে, কি করে আপনার ভয়ভীতি, প্রতিবন্ধকতা, আজগবি কল্পনা এবং আপনার ভালবাসার জীবনে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতাসহ নিয়ে  খোলাখুলি আলাপ করতে পারেন, যাতে করে আপনাদের একে অন্যের উপর বিশ্বাস বাড়াতে সক্ষম হন।
তৃতীয় অধ্যায়
বিশ্বাসের আরম্ভ
উন্নত যৌনতায় আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে একটা গভীর যোগাযোগ রক্ষার প্রয়োজন আছে। আপনারা যখন একে অন্যের সাথে একটা গভীর অন্তরের টান অনুভব করেন, তখন যোগাযোগটা কথোপকথনে পর্যবসিত হয় এবং প্রেম আপনাদের আনন্দের অভিজ্ঞতার দ্বারে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়। তথাপি এই বন্ধুত্যের গভীরতায় পৌঁছার প্রচেষ্টায় সংপ্রশ্ন হলো, এটা প্রায়ই ভয়ের উদ্রেক করে। অনেকেই এই ভয়কে তুচ্ছজ্ঞান করে এর উল্লেখ করেন না কখনো। অন্যেরা এই বিষয়ে কথা বলে অনেক সময় নষ্ট করে, ভাষায় কথার আদান প্রদান করে, চিন্তা ও চেতনায় ব্যক্ত করে, কারণ তারা খোলা হওয়ার এবং আবেগ দ্বারা অরক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। তথাপি ভালবাসা এমন একটা প্রারম্ভিক অভিজ্ঞতা, যাতে এই রূপ ভয় সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়, আমরা যতই বুদ্ধি দ্বারা সেটাকে দূর করতে  চাই না কেন।  উদাহরণস্বরূপঃ আমরা যখন, যখন-তখন ভালবাসতে  ইচ্ছে করি তখন সেই প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে আমাদের  অনুভূতি ব্যক্ত করতে ভীত হয়ে পড়ি। মনে ভাবি, ‘যদি আমি আমার সম্পর্ণ মনের কথা বলেই ফেলি আর সে তা প্রত্যাখ্যান করে দেয়?’
আমরা বিশ্বাস করি, ভয় প্রকাশ অথবা সঙ্গী বা সঙ্গিনী সম্বন্ধে নেতিবাচক চিন্তা আমাদের মধ্যের দূরত্ব বাড়িয়ে তুলবে। প্রকৃতপক্ষে সত্য বলাটাই হচ্ছে আরোগ্য। আমরা যদি তা সঠিকভাবে লাভ করতে পারি তবে তা  দূরত্ব বাড়ানোর পরিবর্তে বরং আন্তরিকতাকেই  বাড়িয়ে তুলবে।
আপনি যতই গভীরভাবে উন্নত যৌনতার কর্ষণ করবেন, ততই সেখানে ব্যথা বেদনা, আঘাত ও অরক্ষিততার সম্ভাবনা দেখা দেবে। এক দিক দিয়ে এই অভ্যসসমূহের ফলেই হচ্ছে ভালবাসা। সেগুলো আপনার সুমমুখে সুন্দর সুন্দর অনুভূতি তুলে ধরবে, কিন্তু্তু তা করতে গিয়ে তারা অপ্রচারিত, পুরাতন, বিগত দিনের কষ্টকর যৌন অভিজ্ঞতার বিরক্তি প্রকাশ করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি  প্রথমেই তৈরি হয়ে অভ্যাস শুরু করেছেন, কিন্তু্তু একটু পরেই মনে হচ্ছে, আপনি ভীত হয়ে পড়েছেন এবং আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছেন। এই  অনুভূতিগুলো স্বাভাবিক। প্রকৃতপক্ষে এটা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ, কারণ এই ভয়ভীতির জাগরণ দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, আপনি এই সিস্টেমের মধ্যে অত্যধিক শক্তির যোগান দিচ্ছেন। আপনি সীমাবদ্ধ ব্যবহারের গন্ডি পেরিয়ে উন্নতি লাভ করছেন।
প্রাচীন গ্রীকবাসীরা এই ভয় ও প্রতিবন্ধকতাকে বলতো,‘আমাদের ডেমনস’ আর তিব্বতবাসীরা এটাকে নাম দিয়েছে, ‘মনস্টারস’। অন্তর-এর ভেতরগত জাগরণ পদ্ধতির ব্যাপারে প্রত্যেকটি আধ্যাত্মিক নিয়ম পদ্ধতির এক একটি আলাদা নাম এবং পৌরানিকী রয়েছে এবং তাদের সাথে কিভাবে  ব্যবহার করতে হবে তারও বিভিন্ন পথ বাৎলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু্তু সব নিয়ম নীতিই এক বিন্দুতে এসে এক মত হয়েছে। আপনি যদি জানেন যে, সেই ‘ডেমনম’ উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে কি করে সজাগ থাকতে  হবে, অবিচলিত থাকতে হবে; তাহলে আপনি তাদের সাথে সাহসের সহিত মোকাবেলা, তাদের গ্রহণ ও তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবেন। যাতে করে তারা আপনার শত্রু না হয়ে সহযোগী হবে এবং অবশেষে তাদেরকে অতিক্রম করতে পারবেন।
এই অধ্যায়ে আপনি সেই সব অনুশীলনগুলো শিখতে পারবেন যা আপনাকে আস্তে আস্তে শেখাবে কিভাবে এই সব ‘ডেমনস’ গুলোকে একত্রিত করে আয়ত্তে আনতে হয় এবং তা আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কাছে প্রকাশ করতে হয়, যাতে করে তা আপনাদের দু’জনার জন্যই উপশমজনক হয়। যখন তারপর আপনারা উভয়ে নিজেদের ভয়ের কথা খোলাখুলিভাবে বলবেন আপনারা দেখতে পাবেন যে একটা বিশ্বাসের বাঁধন আপনাদের মধ্যে দানা বেঁধে উঠতে শুরু করেছে। আপনারা ভাবতে শুরু করতে পারছেন যে আপনারা আরও বেশি  স্বতঃস্ফূর্ত, খোলামেলা এবং ঢিলেঢালা  হয়ে একে অন্যকে ভালবাসতে পারছেন। এই যে ক্রমান্ব্বয়ের ডাক, যা আপনাকে নিজস্ব সাবধানতা থেকে ক্রমান্ব্বয়ে দরে নিয়ে যাচ্ছে, এটাই হলো উন্নত যৌনতার ক্ষেত্রে একটা চ্যালেজ্ঞ কারণ আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে অরক্ষিত ভাবে মেলামেশা যৌনানন্দের দ্বার উন্মোচন করে দেয়।
তবে এটা একটা রিস্ক্‌, আপনি তা কেবল তখনই নিতে পারেন, যখন মনে করেন যে অন্য ব্যক্তিটি আপনাকে গ্রহণ করেছে। নিজেকে বিশ্বাস করাবার জন্যও একটা ক্রমগতি আছে যা হয়ে যাবার পর সেটা এভাবে অগ্রসর হয়ঃ ‘আপনি যতো বেশি আমাকে বিশ্বাস করবেন আমি ততো বেশি মনে করবো যে আপনি আমাকে গ্রহণ করেছেন। আমি যতো বেশি গৃহীত হয়েছি বলে ভাববো, আমি ততো বেশি আপনার সাথে খোলামেলা এবং অরক্ষিত হয়ে উঠতে পারবো। আমরা একে অন্যের কাছে যতো বেশি অরক্ষিত খোলামেলা হতে পারবো, ততো বেশি আন্তরিকতা ভাগ করে নিতে পারবো। আর যতো বেশি আন্তরিকতা আমরা ভাগ করে নিতে শিখবো ততো বেশি ভালবাসা আমাদের মধ্যে গড়ে উঠবে বিশ্বাসকেও বন্ধুত্বের পথ হিসেবে বর্ণনা করা যায়, যা দুইজন সঙ্গীর মধ্যে প্রথম রোমান্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর গড়ে উঠতে পারে। যখন তারা তাদের মধ্যে মতানৈক্যগুলো দেখতে শুরু করে, যখন একজন সঙ্গী ভালবাসায় মিলিত হতে চায় আর একজন চায়না। যখন ধরুন, একজন সঙ্গী চাচ্ছে তাকে অন্যভাবে সপর্শ করা হোক, আর সেখানে অন্য সঙ্গীর কাছে তা মোটেই সুখপ্রদভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, এই ক্ষেত্রে বিশ্বাসের অর্থ হচ্ছে যে, এই অসংগতি পেরিয়ে একটা বড় প্রতিচ্ছবি আছে একটা বৃহত্তর অঙ্গীকারের অনুভূতি আছে। আপনারা অনুভব করেন যে দু’জনেই একপথে আছেন এবং আপনাদের মধ্যস্থ মিথস্তিক্রয়া আপনাদের শিক্ষা দিচ্ছে, কি করে আরও পরিপক্ক এবং বোদ্ধা হতে হয়। বিশ্বাস স্থাপন অবস্থায় আপনার ইচ্ছাকে পূর্ণভাবে পূর্ণ করছে না বলে আপনার সঙ্গিনী বা সঙ্গীকে দোষারোপ করবেন না। আপনাকে এই সত্য মেনে নিতে হবে যে কোনো না কোনো দিক দিয়ে আপনি অন্যরূপ। তথাপি স্বীকার করুন যে, উভয়ে মিলে একটা মূল্যবান আত্মীয়তা গড়ে তুলেছেন, যা আপনাদের জন্য সেবামূলক এবং পুরস্কার স্বরূপ হতে পারে।
আত্মীয়তায় বিশ্বাস খোলাখুলিভাবে, সাধারণত হৃদয়ের ঘর্ষণেই হয়ে যায় না। প্রতিবন্ধকতাকে ঝেড়ে ফেলতে হলে, প্রেমিক প্রেমিকাদের ভাবতে হবে যে তারা নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। এই অধ্যায়ে আপনি শিখবেন কি করে আপনার পবিত্র স্থানটিকে তৈরি করবেন, একটি পবিত্র স্থান যা আপনাদের উভয়ের মধ্যের বিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। এখানে আপনি খোলাখুলিভাবে আপনার ভয় ভীতিকে দূর করে একটা সমর্থনযোগ্য পরিবেশে তাদেরকে অক্ষতিকরজনক করে ফেলতে পারেন। এই পবিত্র স্থানটি এমন হবে যে সেখানে আপনাকে এবং আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে একদম স্বচ্ছ খোলামেলা হওয়ার সুযোগ এনে দেবে, আপনার নিজেকে, নিজের চিন্তা চেতনাকে, অনুভবকে বুঝবার সুযোগ দেবে।
আর সম্ভবতঃ সবচেয়ে জরুরী, কি উপায়ে গভীরভাবে আপনারা একে অন্যের নিকট উপস্থাপিত হবেন তার স্বীকৃতি দেবে। সম্ভবতঃ আপনি যে রুমে বসবাস করেন সে স্থানটির পরিবেশ এখন যে অবস্থায় আছে, তা পবিত্র স্থান তৈরির ক্ষেত্রে উপযুক্ত স্থান বলে মনে হয় না। সম্ভবতঃ সে স্থানটি অনেকগুলো অপ্রীতিকর দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য ও শব্দ দ্বারা আচ্ছন্ন, যেখানে অন্য ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ কম। কিন্তু দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবার কোনো কারণ নেই। অত্যন্ত অপছন্দনীয় কক্ষটিকেও তাৎক্ষণিকভাবে একটা ঐন্দ্রজালিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যেতে পারে।
অনেক সময় এটা অত্যন্ত সহজে এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে হয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ আমার দুই বন্ধু, সুজেন এবং ইডি একত্রে ক্যালিফোনির্য়ার একটি সমুদ্র সৈকতে স্বল্পকালীন ছুটি কাটানোর জন্য যাচ্ছিল। স্থানটি স্যান্‌ফ্রান্সসিসকো থেকে একটু দক্ষিণে অবস্থিত। যদিও তারা বহুবছর থেকেই অন্তরঙ্গ বন্ধু-বান্ধবী। তারা প্রথম রাত্রিটিকে বিশেষভাবে ভালবাসাপূর্ণ করে তোলার জন্য কিছু সময় একে অন্যের প্রতি না তাকিয়েই মিলিত হবে। বিশেষ করে ইডি, বৃহৎ সমুদ্র সৈকতের উপর একটা কাঠের কেবিনের মধ্যে থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল তরঙ্গের শব্দ শুনতে শুনতে ভালবাসা করতে পছন্দ করতো। যার জানলার বাইরে থাকবে পাইন গাছ এবং সেই গাছের এবং জানলার মধ্য দিয়ে চাঁদের  আলো বিকার এসে কেবিনের মধ্যে প্রবেশ করবে। রাস্তায় নানা প্রতিবন্ধকতার জন্য একের পর এক অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। যাই হোক, তারা তাদের প্রথম সন্ধ্যাটা স্যান্‌ফ্রান্সসিস্‌কোর সন্নিকটে একজন বন্ধুর সাধারণ গোছের একটি বাড়িতে কাটিয়ে দিতে বাধ্য হলো । তাদের স্বাগতিকের বাড়িতে কোনো আলাদা বিছানা ছিল না। সুতরাং তাদের জন্য একটা খোলা কক্ষের মেঝেতে একটা ম্যাট্‌রেস বিছিয়ে দেয়া হলো। সে কক্ষটিতে হোস্ট নিজে যোগতন্ত্র এবং ধ্যান করতো। শীত ছিল প্রচন্ড, টাইলসের মেঝেটা দেখে প্রথমে কক্ষটি তাদের মোটেই ভাল লাগল না । ইডি এবং সুজেন সিদ্ধান্ত নিলো যে, সেদিনকার রাত্রিটা তারা অফ দেবে এবং যৌনতা পরিহার করবে। তাদের বিশেষ যৌনমিলনের আনন্দঘন মুহর্তটি পরবর্তী রাত্রির জন্য রিজার্ভ রাখবে।
যেভাবে সুজেন বর্ণনা দিচ্ছে, ‘আমরা দু’জনেই ক্লান্ত  এবং ভগ্নমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম এবং একটু আগে ভাগেই আমাদের কক্ষে প্রবেশ করলাম। ইডি কিছু কাঠের টুকরো এনে ফায়ার প্লেস-এ রাখলো এবং আগুন ধরিয়ে দিলো। কক্ষটির মধ্যস্থ বৈদ্যুতিক বাতিটি ছিল অত্যধিক উজ্জ্বল। সুতরাং আমি সেটাকে বন্ধ করে দিয়ে মোমবাতি ধরালাম। মোমবাতিগুলো রুমের মধ্যেই ছিল। আধা জ্বলে যাওয়া কয়েকটা ধপধুনোর কাঠিও সেখানে ছিল। আমি তারও একটা জ্বালিয়ে দিলাম।’ ‘আমি দেয়ালের সাথে একটা স্টেরিওসিস্টেম দেখতে পেলাম, তার মধ্যে ক্যাসেট  ভরা ছিল। এটা এমন একটা সুর ছিল যা আমি পূর্বে কখনো শুনিনি। ভ্যাঞ্জেলিস-এর গাওয়া এন্ট্রাক্‌টিকা। আমি গানের দিকে ততোটা মনোযোগ দিতে পারলাম না কারণ তখনই আমি একটা সাওয়ার নেবার জন্যে বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলাম। আমরা দু’জনেই ওয়াশ করার পর বিছানায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।‘যখন আমি কক্ষের মধ্যে হেঁটে গেলাম দেখি কি পরিবেশটা যেনো সম্পর্ণ পাল্টে গিয়েছে। কক্ষটি উষ্ণ হয়ে উঠেছে এবং চুলোর ও মোমবাতির প্রজ্জলিত আগুনের আলোর প্রকম্পন শরীরের মধ্যে একটা শিহরণ জাগিয়ে তুলেছে। গানের সুরটি এতো অপরিচিত এবং স্বর্গীয় মনে হলো যে, আমি স্থান কাল এর জ্ঞানহারা হয়ে গেলাম। ধপধুনোর গন্ধটা ছিল একটা বিদেশীয় গুণসম্পন্ন। কক্ষটি ছিল নীরব নিথর, শান্তি এবং পবিত্রতায় ভরপুর। আমি একটা ঐন্দ্রজালিক শিহরণ অনুভব করলাম।’ আমরা উভয়েই আনন্দাপস্নুত হলাম। সম্ভবতঃ এই রাত্রিটা সবশেষে আমাদের নিরাশ করবেনা। উত্তেজিত ভাবে আমরা দুজনে মিলে ম্যস্তেস্‌টাকে টেনে ঘরের মাঝ বরাবর নিলাম, যাতে এটা একটা মিয়মিত বিছানার মতো  মনে না হয়। নতুন চাদর বিছিয়ে আমরা শুয়ে পড়লাম। ভালবাসার মধ্য দিয়ে আমরা একটা বিশেষ রাত্রি যাপন করলাম যার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। আপনি হয়তো এরই মধ্যে কোনো বিশেষ স্থানের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।
অথবা কোনো মন্দিরের বা কোনো হাল্কা আলোর রোমান্টিক রেস্তোরাঁর, অথবা নিভৃত নির্জন কোনো সমুদ্র সৈকতের অথবা কোনো হানিমুন হোস্টেল কক্ষের অথবা অন্য কোনো ধর্মীয় কায়দায় যাপন করেছেন। একটা ধর্মীয় মন্দির আপনাকে সাধারণ পৃথিবীর গোলমাল থেকে রক্ষা করে। এটা আপনাকে একটা সাধারণ বাস্তবতা থেকে অনেক উপরে তুলে নেয়। এটা আপনার জন্য বিশেষ গুণাবলী অর্জনের পদ্ধতি দেখিয়ে দেয়, যা আলাদা ভাবে গ্রথিত হলে হয়ঃ নীরবতা, সৌন্দর্য, শালীনতা, ইন্দ্রিয় প্রফুলস্নতা। এটা আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সমতার উৎপাদন করে এবং একটা বিশেষ আশীষ প্রাপ্তির বেদী তৈরি করে, যার দ্বারা আপনি আপনার সর্বোৎকৃষ্ট গুণাবলীর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে উন্নত যৌনতায় মিলিত হওয়ার জন্য একটা বিশেষ পোতাশ্রয়ের প্রয়োজন, যা ভালবাসায় মিলিত হওয়ার কলাকৌশল শিক্ষা দেবার জন্য নিবেদিত। আপনার যদি এরূপ কোনো স্থান থাকে যাকে এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়, তা হবে চমৎকার। যদি তা আপনার না থাকে, তবে দৈনন্দিন জীবনের স্থানটিকেও সেভাবে তৈরি করে নেয়া যেতে পারে। এই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আপনার পায়ের দিকে বিছানার পাশে টিভি থাকবে না, টেলিফোন বাজবে না, কোনো কলিং বেল থাকলে তা বন্ধ করে নিন, ছেলে মেয়েরা যাতে দরোজায় ধাক্কা না দেয় অথবা জোরে শব্দ করে খেলায় মেতে না উঠে, অতি সন্নিকটে যেনো কর্কশ শব্দের খেলাধুলা না হয় তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে এবং আপনি এই অনুভূতি থেকে বিরত থাকুন যে আপনি যেনো না অতি তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে শেষ টিভি শো দেখতে দেখতে ঘুমের  হাই তোলার মতো কাজ শেষ করেন।
এই ধর্মীয় মন্দির আপনাকে শুধু পৃথিবী থেকেই রক্ষা করবেনা, বরং অসাধারণ ভাবে ভালবাসায় মিলিত হবার জন্যে সত্য সত্যই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। এটা হবে আপনার জন্য পারস্যের আনন্দ উদ্যান, যৌন উপভোগ পূর্ণতার তান্তিক মন্দির এবং সর্বশেষ আনন্দের জাপানিজ টিহাউস। এটা হলো আপনার পবিত্র স্থান, একটি স্থান যা শুধু মাত্র উৎফুল্ল ভালবাসার জন্য তৈরী। এটি একটি পরম সুখের পরিবেশ। যখন দু’জন প্রেমিক প্রেমিকা একটা বিশেষ দৈহিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরিমন্ডল সৃষ্টি না করে যৌনমিলনে প্রবৃত্ত হয়, তারা প্রায়ই নিজেদেরকে দৈহিকভাবে নিকটের ও মানসিকভাবে দরের মনে করে। উদাহরণস্বরূপ, এ্যান নামের আমার এক মক্কেল আমাকে বললো, সে কোনো এক সন্ধ্যায় তার সঙ্গী জন নামের  একজনের সাথে ভালবাসায় মিলিত হতে যাচ্ছিল। ‘যদিও আমি ভেবেছিলাম যে ভালবাসায় মিলিত হবো, আমি তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারলাম যে আমাদের যৌন শক্তি যেনো আমাদের পূর্ণভাবে মিলিত হতে দিচ্ছে না।’ সে ব্যাখ্যা করে বললো ‘মনে হলো এটা একটা যান্ত্রিক প্রক্রিয়া, আমাদের শরীরের উত্থানপতন ঠিকই চলছিল, কিন্তু্তু অন্যান্য অঙ্গগুলো ছিল নিস্কর্মা।
জনও এটা লক্ষ্য করে তাকে বলেছিল, ‘আমরা একটু মাত্রও এর মধ্যে প্রবেশ করতে পারিনি। চলো এখনই এটা বন্ধ করে দেই।’ আমি এ্যান এবং জনকে ইতিপূর্বেই একটা পবিত্র স্থান তৈরির ধারণাটা দিয়েছিলাম। সুতরাং তারা সেই রূপ স্থানে পুনর্বার মিলিত হবার চেষ্টা করলো। তারা গুনগুনিয়ে গান গাইতে গাইতে তাদের ঘরোয়া পরিবেশটি সাজিয়ে গুছিয়ে যতোটা সম্ভব বিদেশী কায়দায় দাঁড় করালো এবং তাদের আনুষ্ঠানিক উপহার সামগ্রী এনে একে অন্যকে দিলো। জন এ্যানকে একটি ক্রিস্টাল ডিস হস্তান্তর করতে করতে বললো, ‘আমি তোমার সর্ব সুন্দর উৎসাহকে উপভোগ করছি।’ এ্যান তার বাঁশিটি তার হাতে তুলে দিয়ে মনোমুগ্ধতার হাসি দিয়ে বললো, ‘আমি এমন আনন্দ পাচ্ছি যেমন রাতে তুমি বাঁশি বাজালে আমি আনন্দিত হই।’
এ্যান আমাকে বললো, ‘আমরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান এতটাই পছন্দ করতাম যে আমরা অন্য সব কিছুই ভুলে গিয়েছিলাম। আমরা  এভাবে চালিয়ে যেতে লাগলাম এবং এক সময়ে আমাদের চারপাশে উপহার সামগ্রীর স্তূপ জমা হয়ে গেল -ক্রিস্টাস্‌ট্রি-র সাজসজ্জা থেকে শুরু করে পুরাতন পোস্ট কার্ড পর্যন্ত। তার অল্প সময় পর পরই আমরা ভালবাসায় মিলিত হতে শুরু করলাম। এবার আমাদরে উৎসাহ আমোদ-প্রমোদের সাথে মিলিত হলো এবং যতো বেশি সময় ধরে চালিয়ে যেতে লাগলাম ততো উপরে আমরা উঠতে লাগলাম। এখন আমি আপনাদেরকে নিজস্ব বিশেষ পবিত্র মন্দির তৈরি করার আনন্দে যোগ দেবার জন্য আহ্বান করছি।
আপনার পবিত্র স্থান সৃষ্টি করা
আপনি আপনার পবিত্র স্থান ধর্মীয় অনুষ্ঠান সৃষ্টি করতে পারেন। যেটা আপনাকে একটা উন্নততর অনুভূতির সহযোগিতা এবং এক সাথে উদ্দেশ্য প্রদান করবে। অনেকেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদিকে কদর্য জ্ঞান  করে থাকে কারণ তারা সেটাকে সেকেলে ধর্মীয় অভ্যাস-এর সাথে মিশিয়ে ফেলে। তথাপি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আছে এটাকে একটা উৎসব উদ্‌যাপন হিসেবেই ধরা হয়। তারা সাধারণ সৌজন্যমূলক করমর্দন থেকে শুরু করে বিবাহ-অনুষ্ঠানে নত হওয়া পর্যন্ত গড়িয়ে ক্রিস্টমাসের সময় শান্তাক্লজ-এর সাক্ষাৎ পর্যন্ত চলে আসে। একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে আপনার স্বকীয় প্রতীক- চাহনির মধ্য দিয়ে আপনি একটা উপলক্ষকে চিহ্নিত করেন, একটা সাধারণ গুরুত্বের মধ্য থেকে উঠে এসে বিশেষ অংশীদার হয়ে যান। একই ভাবে আপনার বিশেষ পবিত্র স্থানটি এক সাথে মিলে তৈরি করাতেও আপনার ভালবাসায় মিলিত হওয়াটায় বিশেষভাবে পবিত্র হতে সাহায্য করবে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ।

 বিষয়ঃ  সেক্স গাইড 

 এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?
Read More

সেক্স এনাটমি-- আরিফ মাহমুদ সাহাবুল

সেক্স সাইন্স (যৌনবিজ্ঞান): সেক্স অর্থ যৌনতা বা যৌন উত্তেজনা। এই সেক্স শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘সেক্সাস’ থেকে। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যার কোনো সেক্সুয়াল অনুভূতি নেই। প্রায় প্রতিটি মানুষই যৌন উত্তেজনা, যৌন মনোভাব, যৌন চিন্তা ও কামনা-কল্পনা করতে পছন্দ করে। মানুষের জীবনের সাথে সেক্স ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, মিশে আছে রক্তের প্রতিটি বিন্দুর সাথে ‘জেনেটিক কোডের ধারাবাহিকতায়’। জেনেটিক হল প্রজনন বা জন্ম সৃষ্টি সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপার।
সেক্স থেকেই উদ্ভব হয়েছে মডার্ন সেক্সোলোজি বা যৌন বিজ্ঞান। মনে হতে পারে সেক্স এতো শিক্ষিত, অশিক্ষিত সব মানুষই জানে। হ্যাঁ, জানে ঠিকই কিন্তু্তু পুরোপুরি জানে না। জানে না এর সুশৃখলিত কারুকার্যময় বিজ্ঞান ভিত্তিক নিয়ম কানুন। তাইতো তৈরি হয়েছে যৌন বিজ্ঞানের। আর যে জিনিসটায় বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগে সে জিনিস হয়ে ওঠে আরো সুচারু আরো রুচিসম্পন্ন এবং আরো সহজসাধ্য গ্রহণীয়। সেক্সকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে বিশেস্নষণ করতে সবসময়ই মানুষ এক প্রকার অহেতুক লজ্জাবোধ করে এসেছে। সমাজ, রাষ্টনীতি সবাই কোমর বেঁধে এক সঙ্গে যৌনবোধের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। সেন্ট ভিক্টরের ধর্ম মন্দিরে ধর্ম যাজকগণের যৌনবোধ সংযত করার জন্য বছরে প্রায় পাঁচবার তাদের দেহের রক্ত বের করে নেয়া হত। দুনিয়া জুড়ে কোনো যুগে কোনো দেশেই এরকম ব্যবস্থার কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু যৌন জোয়ারকে কে আটকাতে পারে। কোনো মানুষেরই যৌনবোধের তীব্রতা তাতে কিছুমাত্র কমেনি। বরং দিনের পর দিনই এই যৌন অনুভূতি মানুষের মাঝে বাড়তেই থেকেছে। যা এখনও পর্যন্ত চলছে, চলবে পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত বা কেয়ামত হওয়ার আগ মুহর্ত পর্যন্ত।
সেক্সুয়াল অনুভূতি বা যৌনতা কি? সহজ কথায় বলা যায় যে, এক লিঙ্গের প্রাণী বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীর দিকে যে দৈহিক এবং মানসিক আকর্ষণবোধ করে তাই হল সেক্সুয়াল অনুভূতি বা যৌনতা। যৌনবোধ আছে বলেই মানুষ এত সুন্দর। সুন্দর তার বাহ্যিক প্রকাশময়তা। যৌনতা বা সেক্সকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা ভারতীয় পন্ডিতগণও উপলব্ধি করেছিলেন। গ্রীক ও মিশরীয় পন্ডিতগণ ও প্রসঙ্গক্রমে যৌনাঙ্গের পরিচয় ও সন্তান জন্মের বিষয় উলেস্নখ করেছেন। তবে সুশৃখল পদ্ধিতিতে যৌন তত্ত্বের বিশেস্নষণের অনুপ্রেরণা সম্ভবত ভারতীয় পন্ডিতগণই দিয়েছিলেন। খ্রীষ্টীয় প্রথম দিক দ্বিতীয় শতাব্দীতে বাৎসায়ন নামক এক পন্ডিত ‘কামসত্র’ নামক একখানি সুন্দর পুস্তক রচনা করেছিলেন। ব্যাৎসায়নের পূর্বেও প্রায় দশজন পন্ডিত নারী-পুরুষের সেক্স বৃত্তিকে অধ্যয়নের বিষয়ীভূত করার উপকরণ রেখে গিয়েছিলেন, ব্যাৎস্যায়নের কামসূত্র সেই প্রাচীন হলেও তাতে বিষয়টি এমন ধারাবাহিক প্রণালীতে আলোচিত হয়েছে যে, তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। সেসব আলোচনার মাঝেও যে অন্তর্দৃষ্টি দেখতে পাওয়া যায় তা কিছুটা হলেও আধুনিক বৈজ্ঞানিকের মত। তবে পুরাতন পুঁথি হিসেবে এটি যৌনতত্ত্ববিদদের কাছে আদরণীয় হলেও সাধারণ পাঠক পাঠিকা এগুলো হতে তেমন কোনো বিশেষ উপকার লাভ করতে পারবেন না। কারণ এসব পুস্তক প্রণয়নের সময়ে শরীর বিদ্যা বা এনাটমি অপূর্ণাঙ্গ ছিল এবং সেসব কারণে এসব পুস্তকগুলোতে অন্ধবিশ্বাস ও কল্পনার প্রভাবই বেশি রয়ে গেছে। ব্যাৎসায়নের কামসূত্র ছাড়াও সংস্কৃত সাহিত্যে আরও কিছু যৌনশাস্ত্রের পুস্তক পাওয়া যায় এদের মধ্যে কোক্কক পন্ডিতের কামশাস্ত্রই প্রধান।
কোক্কক পন্ডিত বেনুদত্ত নামক এক রাজার মন সন্তুষ্টির জন্য ‘কোক শাস্ত্র’ বা রতি রহস্য নামক প্রস্তক প্রণয়ন করেছিলেন। এই কোক্কক পন্ডিতের উক্ত পুস্তক তদানীন্তন ও পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে রতি শাস্ত্র বা সেক্সোলোজি অবশেষে শুধু মাত্র কোক শাস্ত্র নামেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। সংস্কৃত ভাষায় রতি শাস্ত্র বা সেক্স বিষয়ক শেষ পুস্তক কল্যাণ মলল নামক এক পন্ডিতের রচিত আনন্দ রঙ্গ। এই পুস্তকটি খ্রীষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দিতে লোদী পরিবারের কোনো এক রাজার অনুরোধে পন্ডিত কল্যাণ মলল কর্তৃক রচিত হয়েছিল। এছাড়াও ঋষি নাগার্জুন তার প্রিয় শিষ্যকে উপদেশ দেয়ার ছলে সিদ্ধ বিনোদন নামক এক প্রকার যৌন শাস্ত্র প্রণয়ন করে গেছেন বলে বর্ণিত আছে।
রোমীয় সম্রাটগণও সেক্স বা যৌনতা বিষয়ে যথেষ্ট মনোনিবেশ করেছিলেন। সেজন্য ক্যাটুলাস, টিবুলাস, পেট্রোনিয়াস, মার্শাল, জুভেনাল প্রভৃতি বহু কবি ও পন্ডিতরা তাদের লেখায়, কবিতায় রস বচনীয় এবং প্রবন্ধে সেক্স বা যৌনতা বিষয়ে আলোচনা করে গেছেন। ইউরোপের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড প্রথম এবং পরে হ্যাভলক এলিস প্রভৃতি বিজ্ঞানীরা সেক্সোলোজিস্ট বা যৌন বিজ্ঞান সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক যুক্তিপূর্ণ গবেষণাসহ বিশ্লেষণ করেছেন।
যৌন পথ প্রদর্শক ফ্রয়েডঃ ইউরোপের ভিয়েনা শহরের বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসক ফ্রয়েডই প্রথম আবিষকার করেন যে, মানুষের শরীরের মত মনেরও রোগ হয়। সম্ভবত তিনিই সর্ব প্রথম গবেষণার দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের মনে প্রতিনিয়ত যে সব চিন্তা-ভাবনা, ইচ্ছা-কামনা ও অনিচ্ছার সৃষ্টি হচ্ছে তারও একটা কারণ রয়েছে। আর যা কিনা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দ্বারাই প্রমাণ করা সম্ভব। আর এই মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা-ভাবনার পেছনে রয়েছে নারী-পুরুষের যৌন জীবনের প্রেরণা। ফ্রয়েডই প্রথম যিনি মানুষের বিচিত্র সব মানসিকতার পূর্ণ বিশ্লেষণ করে সেই প্রাচীন চিরাচরিত ধারণাটা বদলে দিয়েছেন। বিংশ শতাব্দির চিন্তার জগতে তার এই অবদান মানব সমাজে যেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। যৌন মনস্তত্ত্ব (সেক্সুয়াল সাইকোলজি) এবং মনোসমীক্ষণ বা সাইকো এনালাইসিসের শুরু বিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড থেকেই। আর সেই কারণে সারা বিশ্বের বিদগ্ধ মানুষ জনের বিচারে যৌন মনো বিজ্ঞানে ফ্রয়েডের স্থান সবার আগে। ফ্রয়েডের মতে কামভাবটা নারী-পুরুষের একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি (ন্যাচারাল টেনডেন্সি) এবং এর অনুপস্থিতি ঘটলে কোনো নারী কিংবা পুরুষ স্বয়ংসম্পর্ণ হতে পারে না। সিগমন্ড ফ্রয়েড একাধারে যৌন মনোবিজ্ঞানের প্রথম বৈজ্ঞানিক, তারপর প্রথম চিকিৎসক এবং প্রথম যৌন পথ প্রদর্শক। তার অবদান চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভুলবার নয়। তার রচিত ‘Three contributions to the theory of sex’ নামক গবেষণা ধর্মী বইটি মেডিকেল বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
যৌন বিজ্ঞান ও হ্যাভলক এলিসঃ শরীর বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের দিক থেকে যৌন শাস্ত্রের সক্ষ্ম গবেষণার জন্য বর্তমান জগতে হ্যাভলক এলিসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বিশ্ববিশ্রুত মনীষীর একনিষ্ঠ বিশ্লেষণ হিসেবে তার ‘Studies in the psychology of sex’ নামক সুবৃহৎ ও তথ্যপূর্ণ গ্রন্থ্থটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেক্স লাইফ সম্পর্কে তিনি বিজ্ঞানসমমতভাবে রীতিমতো খোলামেলা আলোচনা করেছেন বলেই তিনি পথিকৃৎ হয়ে আছেন আজও। যৌন মনোদর্শনের উপর তার লেখার সম্ভার প্রচুর সমৃদ্ধ। সারা বিশ্বে যেসব বইগুলো আজও সবার কাছে সমাদৃত। জীবনের প্রায় প্রতিটি গ্রন্থ্থই তার অনন্য হয়ে আছে। একথা অনস্বীকার্য যে, সত্যিই এলিস তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছিলেন। সেকালের অন্ধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বিষয়গুলোর ওপর বর্তমান বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তিনি এমন স্বচ্ছভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যা সবার কাছে গ্রহণীয় হয়ে আছে।
বিজ্ঞানী এলিসের কাছে কোনো সেক্সুয়াল আচরণই বিকৃত নয় কিংবা নয় অস্বাভাবিক। তিনিই প্রথম মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন যৌনতা স্বাভাবিক কিংবা কোনটি অস্বাভাবিক বা বিকৃতির পর্যায়ে পড়ে তা বিচার করেছেন। মোট কথা হল, কোনো যৌন আচরণকেই তিনি বিকৃতি বা আনন্যাচারাল বলে মনে নিতে চাননি তার যৌনগ্রন্থ্থে। আর এ থেকেই বোঝা যায় যে সেক্স বিষয়ে বিজ্ঞানী এলিসের দৃষ্টিভঙ্গি কতই না খোলামেলা ছিল।
সেক্স বিজ্ঞান ও ডাঃ কিনসেঃ ডাঃ কিনসে ও তার সহকর্মীদের গবেষণার ফল যৌন সাহিত্যে এক উল্লেখযোগ্য অবদান। তার ‘Sexual behaviour in the human male’ এবং ‘Sexual behaviour in the human female’ প্রায় পনেরো বছরের তথ্যানুসন্ধানের ফলে রচিত হয়। আমেরিকায় পুরুষদের যৌনতা সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করবার প্রয়াসে ডাঃ কিনসে এবং তার সহকর্মীরা প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মার্কিনীর কাছ হতে প্রশ্নচ্ছলে তাদের বিভিন্নমুখী যৌন অভিজ্ঞতা ও অভিমতগুলো তালিকাভুক্ত করেছেন। এসব প্রশ্নগুলোকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়; বিবাহপূর্ব এবং বিবাহোত্তর যৌন অভিজ্ঞতা বিষয়ে। একথা বলা যেতে পারে যে, ডাঃ কিনসের বই দুটি যৌন ব্যবহারের তথ্য সমাবেশের দিক হতে যৌন সমস্যার নতুন আলোকপাত করেছেন। তার সমস্ত মতামত অবশ্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু্তু তথ্যানুসন্ধানে অক্লান্ত কর্মী হিসেবে এবং সেক্স সাইন্সে অমূল্য তথ্য পরিবেশক হিসেবে ডাঃ কিনসে অমর হয়ে থাকবেন।
আধুনিক সেক্স বিজ্ঞানে মাস্টার এন্ড জনসনের অবদানঃ কিনসের অনুসন্ধান ও তথ্য প্রকাশের প্রায় দশ বছর পর আরও দু’জন চিকিৎসা বিজ্ঞানী এক নতুন পদ্ধতিতে নারী-পুরুষের সেক্স লাইফ সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করেন। এরা হলেন ডাঃ মাস্টার এবং মিসেস ভার্জিনিয়া জনসন। এরা দীর্ঘদিন গবেষণা করে পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ‘হিউম্যান সেক্সুয়াল রিসপন্স’ নামক গ্রন্থ্থ প্রকাশ করেছেন। এরা যে পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেছেন সে পদ্ধতি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষকরা প্রত্যক্ষভাবে নারী-পুরুষের যৌনমিলনকে যন্ত্রাদির সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের গবেষণালব্ধ বইটি আমেরিকায় দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বই হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই দুই গবেষক আমেরিকার সেন্টলুয়িস-এ রিপ্রোডাক্টিভ বায়োলজি রিসার্স ফাউন্ডেশন সংস্থায় সপ্তাহে গড়ে ৮৫ ঘন্টা করে নিয়মিতভাবে দীর্ঘ এগারো বছর যৌনতা সেক্সের ওপর গবেষণা করেন। এই দীর্ঘ গবেষণাকালে তারা নারী-পুরুষের দেহের অভ্যন্তরে যৌনমিলনকালে কি ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয় তা নথিভুক্ত করেছেন। এই বিজ্ঞানীদ্বয় নর-নারীর যৌনানুভূতি বা সেক্সুয়াল রেসপন্সকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন। এগুলো হলো-
  • উত্তেজনা স্তর (একসাইটমেন্ট ফেস)
  • চরম উত্তেজনা স্তর (প্লাটু ফেস)
  • চরম তৃপ্তি বা সুখ লাভের স্তর (অর্গাজম) এবং
  • বিরতির স্তর (রিসলোশন ফেস)।
এই গবেষকরা গভীর মনোনিবেশ সহকারে যৌন বা সেক্স উত্তেজনাকালে দৈহিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে পুখানুপুখরূপে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং করেছেন চমৎকার বিশেস্নষণ-বর্ণনা। এদের গবেষণা আধুনিক সেক্স সাইন্সকে দারুণ উন্নতি করেছে যা কি না যৌন বিজ্ঞানের ইতিহাসে আন্তরিকভাবে অভিনন্দিত ও গৃহীত হয়েছে।
সেক্স ও শরীর
শরীরকে বাদ দিয়ে সেক্সকে কখনো কল্পনা করা যায় না। নারীর সাধারণত দুই ধরনের। যেমন- নারীর শরীর এবং পুরুষের শরীর। তাই সেক্সকে জানতে হলে প্রথমে শরীরকে জানতে হবে, জানতে হবে যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বৈচিত্র্যতা।
পুরুষের যৌন অঙ্গ প্রত্যঙ্গসমূহ
পুরুষের সাধারণ যৌন অঙ্গ বা মেল সেক্সুয়াল অর্গাজম হল অন্ডকোষ যা কি না এক প্রকার অন্ডথলির ভেতরে অবস্থান করে। আর এই অন্ডকোষে শুক্র তৈরি হয়। আর এ শুক্র থেকেই মানব শিশু জন্ম লাভ করে। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ বা পেনিসের ছিদ্র পথ দিয়ে শুক্র নির্গত হয়। পুরুষের জননযন্ত্রের প্রধান অংশটি হচ্ছে দুটি যথা টেস্টিস বা অন্ডকোষ এবং পুরুষাঙ্গ বা পেনিস। এছাড়া এগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য যৌন অংশগুলো হচ্ছে- এপিডিডিমিস, প্রস্টেটগস্ন্যান্ড, শুক্রবাহী নালী, শুক্রথলি (সেমিনাল ভেসিকল), ভাসডিফারেন্স, বস্নাডার, কপারগস্ন্যান্ড, পায়ুপথ বা মলদ্বার।
পুরুষাঙ্গের গঠন ও কর্মকান্ড (পেনিস ফাংশন)
এটি পুরুষের যৌনতার প্রধান অঙ্গ। এই অঙ্গের সাহায্যেই পুরুষরা অবর্ণনীয় তীব্র যৌনসুখ লাভ করে থাকেন। এটি নারীদের যোনিতে প্রবেশ করে প্রচুর সেক্স পেস্নজার সৃষ্টি করে। সেই সাথে আরেকটি নতুন জীবন তৈরির উপাদান বীর্য ছড়িয়ে দেয়।
এই পুরুষাঙ্গটি অন্ডকোষের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। এটি দেখতে প্রায় একটা বুড়ো আঙ্গুলের মত। এই পেনিসটি হচ্ছে পুরুষের প্রস্রাব (ইউরিনেশন) করার এবং নারী সহবাস করার একমাত্র এবং অভিন্ন চমৎকার যন্ত্র। লিঙ্গের যে অংশটি দেহের সাথে অর্থাৎ বস্তিদেশে বা পেলভিসে যুক্ত থাকে তাকে বলে লিঙ্গ মল বা গোড়া। এর পর থেকে লিঙ্গ গ্রীবার কাছে গোড়া খাঁজরে মত অংশ পর্যন্তকে বলে লিঙ্গ দেহ। বাকি অংশটুকু অর্থাৎ সেই দেহের ডগায় বা লিঙ্গের অগ্রভাগে টুপির মত দেখতে যে লালচে বর্ণের কোমল মাংসপিন্ডের অংশটি দেখা যায় তাকে বলে লিঙ্গমণি বা লিঙ্গমন্ডু বা গস্ন্যান্স। এই লিঙ্গ মুন্ডের সামনের দিকটা ঈষৎ সরু হয়ে এসেছে এবং এর মুখের কাছেই থাকে মত্রনালীর মুখ। পুরুষাঙ্গের এই অগ্রভাগ বা অংশটি খুবই স্পর্শকাতর’ তথা অত্যন্ত যৌন অনুভূতিশীল অংশ।
আমাদের পুরুষাঙ্গটি ‘স্পঞ্জের মত’ এক প্রকার নরম সংকোচনশীল ও সম্প্রসারণশীল পেশিতন্তু বা উত্থানশীল তন্ত বা ইরেক্টাল টিস্যু দিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অসংখ্য রক্তবাহী নালী ও নার্ভের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। স্বাভাবিক অবস্থায় লিঙ্গ বা পুরুষাঙ্গটি নরম ও ছোট থাকে কিন্তু সেক্স উত্তেজনার সময় এইসব রক্তনালীতে প্রচুর রক্ত এসে পূর্ণ হয়ে যায় ফলে এটি আকারে বৃদ্ধি পেয়ে লম্বা, মোটা-তাজা ও দৃঢ় হয় আর একেই বলে ইরেকশন অফ পেনিস বা পুরুষাঙ্গের উত্থান। কারো কারো লিঙ্গ উত্তেজিত হলে শক্ত হয়ে ডানে বা বামে বেঁকে যায়- এটা স্বাভাবিক এটা কোনো রোগ নয়। একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের পুরুষাঙ্গের আকার স্বাভাবিক ও সুপ্ত অবস্থায় ৩-৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা থাকে এবং এর পরিধি বা ঘের প্রায় ২-৩ ইঞ্চির মত চওড়া থাকে। কিন্তু্তু সেক্স উত্তেজনার সময় এবং যৌনমিলনের মজাদার সময় এটি উত্থিত উত্তেজিত হয় এবং শক্ত ও মোটা হয় এবং আকারে বৃদ্ধি পেয়ে লম্বা প্রায় ৫-৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হয় এবং এর পরিধিটিও  বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ অনেকটা মোটা হয় প্রায় ৩-৫ ইঞ্চির মত। তবে পুরুষদের লিঙ্গের স্বাভাবিক আকার সবার বেলায় সমান নয়। ক্ষেত্র বিশেষে এটি কম বেশি ছোট বড়, মোটা, চিকন হয়। তবে সুখের কথা লিঙ্গের এই ছোট বড় মাপের জন্য যৌনক্ষমতা বা ভিরিলিটি যৌন সুখ, যৌন আরাম এবং সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বা ফার্টিলিটির সাথে তেমন কোনো আহামরি সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই। অনেকের মাঝে এরকম ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, পুরুষাঙ্গের আকৃতির কিছুটা ছোট হলে তারা হয়ত সেক্সুয়াল লাইফে সেটিসফাইড হতে পারবেন না। তাই অনেক সময় এরকম ভাবনার বশবর্তী হয়ে তারা নানা রকম মানসিক চাপ, মানসিক অশান্তি, ভয় ও অহেতুক দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। তবে এই মেন্টাল কমপেস্নক্সের সাথে যদি শারীরিক কোনো অক্ষমতা বিদ্যমান থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করার প্রশ্ন আসে।
অন্ডকোষ বীর্যের ভান্ডার
পুরুষের যৌন ইন্দ্রিয় বা পুরুষাঙ্গের পেছনে যে দুটি গ্লান্ড বা বিচি একত্র ঝুলতে দেখা যায় তাকেই বলে অন্ড। এই দুটি অন্ড যে থলি বা আবরণের মধ্যে থাকে তাকে বলে অন্ডকোষ বা স্ক্রুরোটাম। এই অন্ড দুটিকে পুরুষের যৌনগ্রন্থ্থি বা ম্যাল সেক্স গ্র্যান্ডস বলে। মেয়েদের যৌনগ্রন্থ্থি যেমন তাদের দুটি ডিম্বাশয় বা ওভারি তেমনি পুরুষদের সেক্সগ্রন্থ্থি হচ্ছে এই অন্ডকোষ। মেয়েদের ডিম্বাশয়ের প্রধান কাজ হল যেমন ডিম্বাণু তৈরি করা ও স্ত্রী হরমোন ক্ষরণ করা তেমনি পুরুষদের অন্ড দুটির কাজ হচ্ছে শুক্রকীট প্রস্তুত করা এবং পুরুষ হরমোন ক্ষরণ করা। এই হরমোন নিঃসৃত হয়ে সরাসরি রক্তের সাথে মিশে যায়। এই হরমোন পুরুষের সেকেন্ডারি সেক্স কেরেক্টার গঠনে যথা যৌনাঙ্গের স্বাভাবিক গঠন, যৌনক্ষমতা ও প্রজনন সংক্রান্ত কাজে প্রভাব বিস্তার করে।
বীর্যতে কি থাকে
বীর্যের মাথায় ক্রোমোজম থাকে এটি পুরুষের উর্বরতার উদ্ভব ঘটায়। এক ফোঁটা বীর্যের মাথা হল একটি ক্ষুদ্র পিনের মাথার আকারের সমান। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এটি দেখা যায়। একজন মানুষের দিনে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০,০০০০০০০ কোটি (পঞ্চাশ কোটি) বীর্য কণা তৈরি হয়। বীর্য একা একা নিজে থেকেই লিঙ্গ থেকে পতন হতে পারে না। যৌনমিলনকালে বা অন্যকোনো উপায়ে যেমন হস্তমৈথুনের সময় বীর্য স্খলন ঘটে। প্রতিবার যে পরিমাণ বীর্য স্খলন হয় তাতে ৪০-৫০ কোটির মত শুক্রকীট থাকে। কিন্তু মজার কথা হল নারীকে গর্ভবতী হওয়ার জন্য কেবলমাত্র একটি শুক্রকীটই যথেষ্ট। পুরুষের লিঙ্গের মাধ্যমে নারীর যোনি বা জরায়ু মুখে বীর্যরস নিক্ষিপ্ত হবার পর শুক্রকীটগুলো এক প্রকার লেজের দ্বারা সাঁতার কেটে জরায়ুর ভেতরে প্রবেশ করে এগিয়ে যায়। পুরুষের মধ্যে যখন যৌবনের আগমন ঘটে তখন তার টেস্টিসে বা অন্ডকোষে শুক্রকীট অনবরত তৈরি হতে আরম্ভ করে দেয়। আর এ সময় থেকেই পুরুষরা সন্তান জন্মদানে সক্ষম হয়ে ওঠে।
গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে টেস্টটিউবে কাচের মধ্যে গবেষণা করে দেখেছেন যে, শুক্র ব্যতীত অন্যান্য যেসব উপাদান বীর্যে পাওয়া যায় তার ৯০ শতাংশই তরল পানি জাতীয় উপাদান। এছাড়াও বীর্যে থাকে সুগার বা গ্লুকোজ যা কি না শুক্রাণুর কার্যকারিতা ও বলিষ্ঠতার জ্বালানিস্বরূপ। বীর্যে আরো থাকে ক্ষারীয় উপাদান। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের কিছু পরিমাণ এনজাইম ও কিছুমাত্রায় ভিটামিন সি, কিঙ্ক এবং থাকে কোলেস্টেরল। দেহের বীর্য সংশেস্নষণ প্রক্রিয়াটি অন্যান্য দশ বারোটা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মতোই সাধারণ। এটি তৈরিতে বিশেষ রকমের খাদ্য উপাদানের সরবরাহের প্রয়োজন হয় না। আসল কথা হল বীর্যের সাথে খাবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা ডাইরেক্ট সম্পর্ক নেই। যদি এ জাতীয় কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকতো, তবে মাননীয় ডাক্তার মহাশয়বৃন্দরা প্রজনন বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম পুরুষদেরকে বেশি বেশি খাদ্য খেতে উপদেশ দিতেন।
আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা বীর্য তৈরি হচ্ছে আর তা সাময়িকভাবে সেমিনাল ভেসিক্যালে জমা থাকছে। ধারণক্ষমতা পূর্ণ হবার পরে এর বাড়তি অংশ যৌন সঙ্গম বা মাস্টারবেশন প্রক্রিয়া ও স্বপ্নদোষের মাধ্যমে তা বেরিয়ে যায়। একটা কথা সবারই মনে রাখা দরকার যে, দেহের মাঝে বিরতিহীনভাবে বীর্য সংশেস্নষণ ঘটছে স্খলনের উদ্দেশ্যে, জমা বা সঞ্চিত থাকার জন্য বয়। বীর্য নির্গমন যে প্রক্রিয়াই ঘটুক না কেন, তা মানব দেহের উৎপাদন কর্মকান্ডকে সচল, সবল আর গতিশীল রাখে। কাজেই স্বাভাবিক সেক্স সঙ্গম বা নিদ্রার মধ্যবর্তী স্বপ্নদোষ বা যে কোনোভাবেই হোক না কেন, বীর্যস্খলন বা বীর্যপাত ক্ষতিকারক নয় বরঞ্চ স্বাস্থ্যসমমত।
এতক্ষণ আমরা পুরুষের সেক্স অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে যৎসামান্য জানতে পারলাম। জানতে পারলাম পুরুষাঙ্গের মত প্রধান কয়েকটি যৌন অর্গাজমের কার্যকলাপ। এখন আমরা অনুরূপভাবে নারী দেহ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করবো। বুঝতে চেষ্টা করবো ফুলের মত কোমল চাঁদের মত সুন্দর নারীদের সেক্স অঙ্গগুলোর কার্যকলাপ। পুরুষ আর নারী একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনের সেক্স কোনোভাবেই ভাবা যায় না। নারী আর পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণ ও মিলনেই পরিপূর্ণতা লাভ যৌনজীবনে। আর তার ফলেই রচিত হয় একটি সুখময়-তৃপ্তিময়-ভালোবাসাময় সুখী দাম্পত্য জীবন।


 বিষয়ঃ  সেক্স গাইড 


আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ। এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?
Read More

জন্মনিরোধ নিয়ে সবকিছু

সংকলিত প্রতিবেদন
গোপনে ফিসফিস করার দিন আর নেই। আজ সবাই জানেন, উপযুক্ত নিরোধকের অভাবে বিপর্যয় ঘটতেই পারে। জীবনের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে ক্ষুন্ন করবেন না। জেনে নিন, কোন নিরোধক কেমন, এর মধ্যে কোনটি আপনার উপযোগী। জেনে নিন সংশ্লিষ্ট অন্য অন্য বিষয়ও। সব বয়সের সব মেয়েদের জন্য অতি যুগোপযোগী এই প্রবন্ধটি মনোজগত পাঠকদের জানা-অজানা নানা চাহিদা পুরণ করতে সম হবে আশা করি।
একটি ডায়রির পাতা
২০ জুন-সকাল সাড়ে দশটা আউটডোরে পেসেন্ট দেখা শুরু করেছি। এক মহিলা, নাম রেণু, বয়স ৪৭-তাঁকে দেখা আরম্ভ করব। বললেন, ওর পিরিয়ড ৬ মাস বন্ধ। বুঝলাম মেনোপজের দিকে যাচ্ছেন। স্টাফ নার্সকে বললাম ব্লাডপেশারটা দেখতে। ভদ্র মহিলাকে বললাম, আপনার কি আজকাল বেশি রাগ হয়? কান্না পায়? কান থেকে আগুন বেরোচ্ছে এমন মনে হয়? উনি হ্যাঁ-না গোছের একটা খাপছাড়া উত্তর দিলেন। মেনোপজের অস্বস্তি কমানোর কিছু ওষুধ লিখতে যাচ্ছি, হঠাৎ মনে হল পারঅ্যাবডোমেন একবার দেখে নেই। গম্ভীরমুখে পেটে হাত দিয়েই আমি হেসে ফেলেছি। আমার স্টাফও হাসছেন। ভদ্রমহিলা ২৪ সপ্তাহ অর্থাৎ ৬ মাস গ্রেগন্যান্ট। বুঝতেও পারেননি। একটি মাত্র মেয়ের বয়স সাতাশ, তার বড় বড় ছেলে মেয়ে আছে। মহিলার দিশাহারা অবস’। বললাম, সাবধান হননি কেন? উত্তর এল ‘আমি তো জানি না। চিরকাল উনিই ব্যবস্থা নেন, আর এই বয়সে এসব হবে ভাবিইনি’। ভদ্র মহিলা নিতান্ত অশিতি নন, মধ্যবিত্ত গৃহবধু, তবু নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেনও না, সচেতনও নন।
অদ্ভুত অনুভূতি হল। সত্যিই তো, আমাদের দেশের মহিলারা অনেকেই এসব ব্যাপারে সচেতন নন, স্বামীর কথাই শেষ কথা। আবার রোগী দেখতে আরম্ভ করেছি। আট দশজনের পরে এবার একটি ছোট মেয়ে, বয়স ১৮, অবিবাহিতা। সে বলছে, চার-পাঁচ মাস আগে তার ডায়রিয়া হয়েছিল, তারপর থেকে পিরিয়ড বন্ধ। মেয়েটিকে দেখেই সন্দেহ হল। এমন অন্তত ভাষণ শোনা আমাদের অভ্যাস আছে। পরীক্ষা করে দেখলাম সে পূর্ণ পাঁচ মাসের গর্ভবতী। শুনেই সে আতঙ্কিত হয়ে বলল, ‘ না, না, না’ এবং বলল শুনে তার ‘ভয় পাচ্ছে’। এরকম ঘটনা হামেশাই ঘটে। সামান্য সাবধানতা অবলম্বন করলেই এমন বিপদ এড়ানো যায়। আমরা কি এইটুকু সাহায্য মেয়েদের করতে পারি না?
কন্ট্রাসেপশনঃ কি এর সংজ্ঞা
নিজেদের জ্ঞান, বুদ্ধি ও দায়িত্ব নিয়ে স্বেচ্ছায় কোনো দম্পতি যখন পরিবারের স্বাস্থ্যের কল্যাণে, সামাজিক উন্নতির স্বার্থে পরিবারকে সীমিত রাখার পন্থা অবলম্বন করে, তখন তাকেই বলে ফ্যামিলি প্ল্যানিং তথা কন্ট্রাসেপশন। এর কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে-
১। অবাঞ্ছিত সন্তানের জন্ম এড়ানো
২। কাঙ্খিত সন্তানের জন্ম
৩। দুটি সন্তানের জন্মের অন্তবর্তী ব্যবধান নিয়ন্তিত করা
৪। মা-বাবার বয়স এবং সন্তানের জন্মের মধ্যে সমতা নির্ণয় করা
৫। একটি পরিবারের সন্তান সংখ্যা নির্ণয় করা।
বেসিক হিউম্যান রাইট বা মৌলিক মানবাধিকার
১৯৬৮ সালে তেহরানে ‘ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন হিউম্যান রাইটস’-এ স্থির করা হয় যে কন্ট্রাসেপশন একটি বেসিক হিউম্যান রাইট। এরপর ১৯৭৪ সালে বুখারেস্টে ‘পৃথিবীর জনসংখ্যা’ সংক্রান্ত সমেমলনের কার্যপদ্ধতিতে বলা হয়, প্রতিটি দম্পতি বা প্রতিটি মানুষের ন্যায্য মানবাধিকার আছে তার কটি সন্তান হবে এবং দুটি সন্তানের মধ্যবর্তী ব্যবধানই বা কত হবে তা স্থি’র করার। এই সিদ্ধান্ত নিতে যে বিদ্যা, প্রযুক্তি ও তথ্যের প্রয়োজন তা অর্জন করাও একটি বেসিক হিউম্যান রাইট।
আন্তর্জাতিক নারী বর্ষে ১৯৭৫ সালে ওয়ার্ল্ড কনফারেন্সে স্বীকৃত হয় যে, প্রত্যেক নারীর ন্যায্য অধিকার আছে সে কিভাবে তার পরিবারকে সীমিত রাখবে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের। এইভাবে পরিবার পরিকল্পনা আর শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর শোরওয়ার ঘরের ফিসফাসে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক আন্তর্জাতিক প্ল্যান, যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে পরিবারের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ।
ফ্যামিলি প্ল্যানিং ও কন্ট্রাসেপশন বা বার্থ কন্ট্রোল
সত্যি বলতে কি ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং’ কথাটি ‘বার্থ কন্ট্রোল’ কথাটির চেয়ে অনেক বৃহত্তর অর্থে ব্যবহৃত হয়। সন্তানের জন্ম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনায় জড়িয়ে থাকে বন্ধ্যাত্ব সম্পর্কে উপদেশ, মা-বাবার শিা, সেক্স এডুকেশন, স্বামী-স্ত্রীর প্রজননতন্তের কোনো রোগ থাকলে তার নির্ণয় ও চিকিৎসা, জেনেটিক কাউন্সিলিং, বিবাহতপূর্ব পরামর্শ ও তৎকালীন স্বাস্থ্যপরীক্ষা, প্রেগনেন্সি টেস্ট, বিবাহ সম্পর্কিত উপদেশ, একটি দম্পতিকে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম সম্পর্কে অবহিত করা, অবিবাহিতা মায়েদের রাবেণ, পুষ্টি ও পারিবারিক অর্থনীতির শিক্ষা, দত্তক সন্তান গ্রহণের পরামর্শ ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশে পরিবার পরিকল্পনার কার্যনীতি বিভিন্ন রকম-তবে এইগুলোই আধুনিক ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং’-এর মূল ভিত্তি।
মায়ের স্বাস্থ্য
প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থা কোনো কোনো মায়ের ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে, এমনকি মায়ের স্বাস্থ্যহানি এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। উন্নতিশীল দেশগুলোতে গর্ভাবস্থার কারণে মায়েদের মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি। এই আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় যখন মায়ের বয়স ৩০ এর বেশি হয়ে যায় বা সেই মায়ের যদি চারটির বেশি বাচ্চা থাকে। পরিবার পরিকল্পনা করলে এই ভয়গুলো চলে যায়, তখন মায়েরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন বয়সে ক’টি বাচ্চা কত বছর ব্যবধানে জন্ম নেবে। এইভাবে মায়ের মৃত্যুহার কমে। সঠিক উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে কমে যায় অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের সংখ্যা। এর ফলে একটি অপরিণত অল্পবয়সী বালিকা বা কিশোরীকে কোয়াক ডাক্তারের কাছে গিয়ে গর্ভপাত করাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয় না। অবিবাহিত মায়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এরকমও দেখা গেছে যে তারা এই ধরনের পাশবিক সামাজিক পীড়নের শিকার হয়ে শেষ পযন্ত মানসিক অবসাদের রোগীতে পরিণত হয়েছে।
মায়ের স্বাস্থ্যহানি ও মৃত্যুর আশঙ্কা তিনটি সন্তানের পর বেড়ে যায়। পাঁচটি সন্তানের পর তো বিশেষ বিপদের ভয় থাকে। আশঙ্কাগুলোর মধ্যে প্রধান হল প্রি-এক্যাম্পটিক টক্সিমিয়া (গর্ভাবস্থায় শরীরে পানি ও বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়ে যাওয়া), এক্লাম্পসিয়া (হাত-পায়ে খিঁচুনি হয়ে মা মারা যেতে পারে), প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (জরায়ুতে বাচ্চার আগে প্লাসেন্টা বা ফুলের অবস্থান)। এছাড়াও বেশি সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের দেখা দেবে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া, মৃত সন্তানের জন্ম দেয়ার আশঙ্কাও যাবে বেড়ে। পরিবার পরিকল্পনাই এইসব ধরনের শারীরিক অসুবিধা থেকে মেয়েদের বাঁচাতে পারেশ
যোগ্য দম্পতি কাকে বলে
যে সমস্ত স্ত্রীর বয়স ১৫ থেকে ৪৪ বছর (চাইল্ড রেয়ারিং এজ) সেইসব দম্পতির কন্ট্রাসেপশন সম্পর্কিত উপদেশ দরকার। এদেরই বলে এলিজিবল কাপল বা যোগ্য দম্পতি। প্রতি ১০০০ জনসংখ্যায় এমন দম্পতির সংখ্যা কমপক্ষে ১৫০ থেকে ১৮০।
বিভিন্ন গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা
(ফর্টিলিটি রেগুলেটিং মেথড)
প্রতিরোধক ব্যবস্থায় মহিলারা অবাঞ্ছিত গর্ভসঞ্চার এড়াতে পারেন তাকেই বলে কন্ট্রাসেপটিভ মেথডস।
আদর্শ কন্ট্রাসেপটিভ বলতে বোঝাবে এমন কোনো উপায় যা নিরাপদ, কার্যকরী, সহজে গ্রহণযোগ্য, স্বল্পমূল্যের।
বন্ধ করলেই আবার বাচ্চা হতে অসুবিধা নেই, অনায়াসেই দেয়া যায়। দৈহিক মিলনে যা বাধা হয় না। দীর্ঘস্থায়ী এবং যে ব্যবস্থায় ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার পড়ে না।
যে পদ্ধতি এক দম্পতির জন্য আদর্শ, সকলের জন্য যে তা আদর্শ নয় এ কথা বলাই বাহুল্য। বিভিন্ন মানুষের আচার-আচরণ, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গর্ভনিরোধক ব্যবস্থাও ভিন্নতর হয়। সেই অনুযায়ী এখন যে কথাটি প্রচলিত তা হল ‘কাফেটেরিয়া চয়েস’-অর্থাৎ দম্পতির সামনে সব কটি ব্যবস্থা মেলে ধরা হয়, যার পক্ষে যেটি উপযুক্ত সে সেটি বেছে নেয়।
কনভেনশনাল কন্ট্রাসেপটিভবলা হয় সেইগুলোকে যেগুলো কেবলমাত্র শারীরিক মিলনের সময়েই ব্যবহারযোগ্য যেমন কনডম, জেলি ইত্যাদি। প্রত্যেক গর্ভরোধক ব্যবস্থারই কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা আছে।
আর একভাবে ভাগ করা যায়-
সাময়িক পদ্ধতি
স্বামী যা ব্যবহার করতে পারেন
(১) কনডম
(২)  নির্গমন বা বীর্য স্ত্রীর শরীরে না প্রবেশ করানো
স্ত্রী যা ব্যবহার করতে পারেন
(১) ওরাল পিল
(২) কপারটি বা ইউটেরাসের ভেতরে পরা যায় এমন উপকরণ
(৩) ডায়াফ্রাম ও জেলি
(৪) গর্ভনিরোধক জেলি বা ক্রিম
(৫) অভন্তরে ব্যবহার্য কোনো ট্যাবলেট
স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যে ব্যবস্থা নিতে পারেন
(১) নিরাপদ সময়ে মিলন
(২) চিরস্থায়ী পদ্ধতি
(১) স্বামীর ভ্যাসেকটমি
(২) স্ত্রীর বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি বা লাইগেশন
(৩) আইনসম্মত গর্ভপাত
প্রতিবন্ধক পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে জীবিত শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে দেয়া হয় না। ওরাল পিল এবং কপারটি এই জাতীয় পন্থায় কাজ করে। এগুলো খুবই জনপ্রিয়। শুধুমাত্র কন্ট্রাসেপশন ছাড়াও এই পদ্ধতিগুলো সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজের থেকে খানিকটা রা করে। মেয়েদের তলপেটের নানা রকম অসুখ কিছু কিছু কন্ট্রাসেপটিভের ব্যবহারে খানিকটা কমতে পারে। এছাড়া মেয়েদের সারভাইক্যাল (জরায়ুর মুখ) ক্যান্সার থেকেও সম্ভবত কিছুটা নিরাপত্তা দেয়।
কনডম
প্রতিবন্ধক পদ্ধতির মধ্যে সারা পৃথিবীতে কনডম সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ভারতে কনডম ‘নিরোধ’ নামেই বেশি পরিচিত যা একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ প্রতিরোধ করা। এটি খুবই নিরাপদ, ঝামেলাবিহীন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। কন্ট্রাসেপশন ছাড়াও কনডম নারী ও পুরুষ উভয়কেই সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ থেকে সুরতি রাখে। কনডম মূলত দু ধরনের-ল্যাটেক্স ও স্কিন। ল্যাটেক্স কনডমের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। একটি মাত্র কনডম মাত্র একবারই ব্যবহার করা চলে। কনডমে পুরুষের বীর্য স্ত্রীজননতন্ত্রে আসতে পারে না। অধিক সাবধানতা অবলম্বনের জন্য কনডমের সঙ্গে মহিলারা স্পারমিসাইডাল (শুক্রাণু বিনাশকারী) জেলি ব্যবহার করতে পারেন। আমেরিকায় কনডমের মধ্যে স্পারমিসাইডাল জেলিও লাগানো থাকে। কনডম সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এটি খুবই নিরাপদ ও কার্যকরী পদ্ধতি। কনডমের অসাফল্যের হার খুব কম। অতি সামান্য কয়েকটি অসাফল্য দেখা যায় ঠিকমত ব্যবহার করা হয় না বলে।
ফিমেল কনডম
মেয়েদের ব্যবহারের জন্য কনডম হয় নরম অথচ শক্ত, স্বচ্ছ আচ্ছাদন। যোনিদ্বারের ভেতরে এটি রাখতে হয়। ফলে শুক্রাণু ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না, বাধার সৃষ্টি করে। অবশ্যই আরও একটা উপকার হবে যৌন সংক্রমণগুলোও একই সঙ্গে ঠেকানো যাবে। এই আচ্ছাদনটি সিলিকন দিয়ে আগেই পিচ্ছিল করে রাখা হয়। একটি মাত্র কনডম একবারই ব্যবহারযোগ্য। সব বয়সেই এই কনডম ব্যবহার করা যায়। পুরুষরা যেখানে কনডম ব্যবহার করতে চান না (বেশিরভাগই অপছন্দ করেন) অথবা গর্ভনিরোধক বড়ি যেখানে সহ্য হচ্ছে না, সেখানে এই মহিলাদের কনডম ব্যবহার করা যায়। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। পলিইউরেথেন দিয়ে তৈরি, সেইভাবে কোনো এ্যালার্জির খবর পাওয়া যায়নি।
পৃথিবীর ৩০টিরও বেশি দেশে এই ফিমেল কনডম দিয়ে পড়াশোনা হয়েছে। ভারতেও এইচআইভি, এইডস যে সব প্রোগ্রাম হয়েছে তাতে এই কনডমের কথা বারবার আলোচিত হয়েছে। সমস্যা একটাই। আমাদের দেশে মেয়েদের ওপর আর কত বোঝা চাপানো হবে? আর নিজেদের জন্য নিত্যনতুন ব্যবস্থার কথা ভাবার সময় আজকের মেয়েদের কি আছে? তবে পশ্চিমবঙ্গে ফিমেল কনডম নিয়ে খুব একটা হইচই হয়নি। তার তুলনায় অন্য ব্যবস্থাগুলো আলোচিত হয়েছে অনেক বেশি। যেহেতু জরায়ুর মুখ (সারভিক্স) আর প্রসবদ্বারের সংক্রমণ মেয়েদের জননস্বাস্থ্যের ওপর যথেষ্ট পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করে, সেহেতু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে এই পদ্ধতি নেয়া দরকার।
কনডমের সুবিধা
১) সহজে পাওয়া যায়
২) নিরাপদ ও মূল্যের
৩) সহজে ব্যবহার করা যায়
৪) ডাক্তারি উপদেশ ও তত্ত্বাবধান লাগে না
৫) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
৬) হাল্কা, ছোট ও সহজে ফেলে দেয়া যায়
৭) এসটিডি থেকেও নিরাপত্তা দেয়।
কনডমের অসুবিধা
১) ঠিকমত ব্যবহার না হলে ছিড়ে গিয়ে বিপদ ঘটাতে পারে।
২) শারীরিক মিলনে কারও কারও অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ হতে পারে। কনডম ভারতে তৈরি হয় তিরুঅনন্তপুরম এবং চেন্নাইতে। ভারতীয় কনডমের দৈর্ঘ্য ১৭.৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্ত ৪.৪ থেকে ৫.৪ সেন্টিমিটার।
ডায়াফ্রাম
ডায়াফ্রাম মহিলাদের প্রসবদ্বারে বাধা হিসেবে কাজ করে, যার ফলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটতে পারে না। ১৮৮২ সালে এক জার্মান চিকিৎসক এটি আবিষকার করেন। ডায়াফ্রাম একটি অগভীর পেয়ালার মতো দেখতে, তৈরি হয় কৃত্রিম রবার বা প্লাস্টিক দিয়ে। এর ব্যাস হয় ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। এর নিচের দিকে একটি নমনীয় স্প্রিং জাতীয় জিনিস লাগানো থাকে। বিভিন্ন মহিলার ডায়াফ্রাম হবে বিভিন্ন সাইজের, সাইজটি মহিলাকে পরীক্ষা করে নির্ণয় করে নেয়া হয়। শারীরিক মিলনের ঠিক আগে মহিলাকে ডায়াফ্রাম পরে নিতে হবে এবং তারপর আরও অন্তত ৬ ঘন্টা পরে থাকতে হবে।
ডায়াফ্রামের সঙ্গে সবসময় ব্যবহার করতে হয় স্পারমিসাইডাল জেলি। এর মুশকিল হল এটি কেমন করে পরতে হবে তা দেখিয়ে দেয়ার জন্য প্রথমে একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ দরকার। তা ছাড়া পরা, খোলা, রাখা ইত্যাদির ঝামেরার জন্য আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা একেবারেই নেই।
স্পঞ্জ
কয়েকশ বছর আগে যোনিপথে ভিনিগার বা অলিভ অয়েলে ভেজানো সপঞ্জ রেখে সন্তান সম্ভাবনা আটকাবার চেষ্টা করা হত। কিন্ত অনেক ক্ষেত্রেই তা সফলতা লাভ করত না। পরে এই পদ্ধতিকে ভিত্তি করে আমেরিকায় ‘টু ডে’ নাম দিয়ে এক ধরনের গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা চালু হয়। একটি ৫ সেন্টিমিটার বাই ২.৫ সেন্টিমিটার পলিইউরেথেন ফোম ভেজানো থাকে নোনোজাইনাল-নাইন নামক সপারমিসাইডাল দিয়ে। এই পদ্ধতি যে শতকরা ১০০ ভাগ কার্যকরী, তা মোটেই বলা যায় না। তবে এ কথা অনস্বীকার্য, যে কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই না নেয়ার থেকে যা হোক কিছু ব্যবহারেরও কিছু ফল আছে।
কেমিক্যাল মেথড
১৯৬০ সালের আগে যখন ওরাল পিল ও লুপ বা কপার টি’র এত বহুল ব্যবহার প্রচলিত হয়নি, তখন ভ্যাজাইনাল কেমিক্যাল কন্ট্রাসেপটিভের খুব চল ছিল। এগুলোও সপারমিসাইডাল, অর্থাৎ শুক্রাণুকে মেরে ফেলাই এদের কাজ। এগুলো নানাভাবে ব্যবহৃত হয় যেমন- ফোম, ক্রিম, জেলি, পেস্ট, সাপোজিটরি, সলিউবল ফিল্ম ইত্যাদি। এই পদ্ধতির কয়েকটি অসুবিধা আছে যেমন- অসাফল্যের হার খুব বেশি। শারীরিক সম্পর্কের অব্যবহিত আগে ব্যবহার করতে হবে।
ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা দরকার। কারও কারও একটু জ্বালা বা অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ হতে পারে। এইসব কারণে বিশেষজ্ঞরা সপারমিসাইডাল ব্যবহারের পরামর্শ আজকাল আর দেন না।
লুপ, কপার’টি
(ইউটেরাসের আভ্যন্তর গর্ভনিরোধক) ১৯২৮ সালে জার্মানিতে ভন গ্রাফেনবার্গ জরায়ুর মধ্যে রুপোর রিং লাগিয়ে গর্ভনিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ইউটেরাসে প্রদাহ ও অন্য নানা রকম উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। পরে প্লাস্টিক শিল্পের খুবই অগ্রগতি হওয়ায় উন্নত মানের পলিথিন রিং ব্যবহার করা যায় কিনা এই নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়। ১৯৫৯ সালে ডা. মারগুইলি একটি খুব সরু পলিথিনের সাহায্যে একটি ছোট প্লাস্টিকের রিং জরায়ুতে ঢুকিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেন। ১৯৬২ সালে আমেরিকা থেকে ডা. লিপ্পি একটি পলিথিনের লুপ জাতীয় জিনিস আবিষকার করেন যার নিচে খুব সরু চুলের মতো দুটো লেজ জরায়ুর মুখ থেকে বেরিয়ে থাকে। এই উপকরণ যতদিন জরায়ুর মধ্যে দেয়া থাকবে ততদিন গর্ভসঞ্চার হবে না। তবে এ কথা মানতেই হবে, এই পলিথিনের লুপ কিভাবে গর্ভনিরোধ করে তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। বলা যেতে পারে, এটি জরায়ুর ঝিল্লিতে বা মাংসপেশিতে এমন কিছু বদল আনে যে উর্বর ডিম্বাণু (ফারটিলাইজড ওভাম) জরায়ুতে এলেও স্থাপিত হয়ে বাসা বাঁধতে পারে না। লুপের চেয়ে আরও উন্নততর ব্যবস্থা হল কপার’টি। কাপার’টি এখন নানা ধরনের পাওয়া যায়। রাখা যায় ৩ থেকে ৫ বছর। পরাতে কোনো ব্যথা লাগে না। অজ্ঞান বা অসাড় করারও দরকার পড়ে না। কপার’টির নিচের দিকে চুলের মত সরু নাইলনের দুটি সুতো থাকে। গ্রহীতা এই সুতো দুটি আঙ্গুল দিয়ে মাঝে মাঝে অনুভব করলে বুঝতে পারেন যে কপার’টি যথাস্থানে আছে কি না। কপার’টি দেয়ার আগে মহিলাকে ভালো করে পরীক্ষা করে নিতে হবে। মহিলার সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বয়স, কটি বাচ্চা আছে এগুলো জানা বিশেষ জরুরি। এখনকার উন্নত ধরনের কপার’টিতে বিশেষ কোনো উপসর্গ হওয়ার কথা নয়। খুব অল্প ক্ষেত্রে যদি হেভি পিরিয়ড বা তলপেটে ব্যথাবোধ হয় তা হলে ডাক্তারকে তৎক্ষণাৎ দেখিয়ে নিতে হবে।
সুবিধা
সহজে পরানো যায়, পরতে ৪/৫ মিনিট লাগে। হাসপাতালে থাকতে হয় না। দীর্ঘদিন রাখা যায়, খরচ খুব বেশি নয়, খুলে দিলে আবার গর্ভসঞ্চারে অসুবিধা নেই। তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না পিল যেমন রোজ খেতে হয়, ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এতে তা নেই-একবার পরে নিলেই হল।
অসুবিধা
নব বিবাহিতাকে দেয়া হয় না যাদের হেভি পিরিয়ডের ধাত তাদের না দেয়াই ভালো। ইউটেরাসে টিউমার বা অন্য কোনো অসুখ থাকলেও দেয়া যাবে না।
কপার’টির জন্য আদর্শ কারা
যেসব মায়ের অন্তত একটি বাচ্চা আছে
তলপেটে কোনো প্রদাহ জাতীয় অসুখ নেই
যাদের প্রতিমাসে স্বাভাবিক পিরিয়ড হয়
যেসব মহিলার শারীরিক সম্পর্ক শুধু একটি মাত্র পুরুষের সঙ্গে।
ওরাল পিল
অনেকেরই জানার ইচ্ছা হয় যে পিল খেলে কেমনভাবে গর্ভসঞ্চার আটকে যায়। জরায়ু থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন নামে দুটি হরমোন বের হয়। বাইরে থেকে ট্যাবলেটের সাহায্যে এই দুটি হরমোন একত্রে পরিমিত মাত্রায় নারী শরীরের ওপর প্রয়োগ করতে পারলে ডিম্বাণু নির্গমন (ওভিউলেশন) রোধ করা সম্ভব।
ঋতুচক্রের মাঝামাঝি সময়ে স্বাভাবিক ডিম্বাণু নির্গম ব্যাহত হলে গর্ভসঞ্চার হয় না। সাধারণ পিলের নিয়ম হল পিরিয়ডের পঞ্চম দিন থেকে আরম্ভ করে ২১ দিনে ২১টি বড়ি খেতে হয়। তারপর ২৫ দিনে ট্যাবলেট শেষ হলে তার ৩-৪ দিন পর পিরিয়ড শুরু হয়। আজকাল অত্যাধুনিক পিলগুলো অবশ্য পিরিয়ডের প্রথম দিন থেকেই খাওয়ার নির্দেশ থাকে এবং বন্ধ করতে হয় না। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
পিল খাওয়ার সময়
ওভিউলেশনের দিন হিসাব করে জন্মনিরোধক পিল খাওয়ার সাধারণ নিয়ম।
কি থাকে ওরাল পিলে
বেশিরভাগ ওরাল পিলই ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন হরমোনের সমন্বয় তৈরি। আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেক্রেই এই হরমোন কৃত্রিম নানা রাসায়নিক উপাদানে তৈরি। বিভিন্ন পিলে হরমোনের মাত্রা আলাদা হয়।
ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন কি করে
এই দুটি হরমোন শরীরকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ইস্ট্রোজেনের জন্য সামান্য গা বমি ভাব, মাথা ধরা, স্তন একটু ভারী হওয়া, ওজন বাড়া, ত্বকে কালচে ভাব ইত্যাদি অসুবিধা হতে পারে। পিল খেতে ভুলে গেলে পিরিয়ডের অন্তর্বর্তী সময়ে সামান্য ব্লিডিং হওয়া সম্ভব। প্রজেস্টেরোন অংশের জন্য স্রাব কমে যেতে পারে, মুখে ব্রণ হতে পারে, ওজন বাড়তে পারে। সেইজন্য মেয়েদের শারীরিক গঠন ও অবয়ব অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ও মাত্রার ওষুধ দেয়া উচিত। মোটা মেয়েদের এক রকম পিল। আবার রোগা মেয়েদের অন্যরকম পিল। যাদের হেভি পিরিয়ড হয় তাদের পিলের রকম হবে আলাদা, তেমনি যাদের মুখে একটু সূক্ষ্ম গোঁফের রেখা আছে তাদের পিলও অন্য। যাদের একটু ভারী স্তন তাদের সেই গঠনের কথা ভেবে হবে পিল নির্বাচন। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিনিয়ত উন্নততর গবেষণায় আজ যে সমস্ত আধুনিক কম হরমোনের পিল তৈরি করা গেছে সেগুলো খুবই নিরাপদ এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভীষণ রকম কম।
পিল কি ভালো?
পিলের সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে ডিম্বাণু নির্গমনে বাধা সৃষ্টি করে গর্ভনিরোধ করা সম্পর্কে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বছরের পর বছর নারীদেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে এইভাবে অবদমিত করে রাখা কি শরীরের পক্ষে ভালো? এই ওষুধ ব্যবহারের কি অসুবিধা? দীর্ঘদিন এই ওষুধ ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা লিভারের অসুখ হতে পারে কি?
পরীক্ষা, সমীক্ষা ও অভিজ্ঞতার দ্বারা এ কথা প্রমাণিত যে, হরমোনের মিশ্র বড়ি কপার’টি, কনডম, ক্রিম বা জেলির থেকে উৎকৃষ্ট। তবে ওষুধ খেতে এক আধদিন ভুল হয়ে যেতে পারে, তাতে এর কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটে ও অসময়ে স্রাব দেখা দিতে পারে। কাজেই মনে করে প্রতিদিন ওষুধ খেতে হবে। নিয়মিত খেতে খেতে অভ্যাস হয়ে যায়। পিল একটানা কিছুদিন খেয়ে মাঝে মাঝে বা কতদিন বাদ দিতে হবে অথবা আদৌ বাদ দিতে হবে কি না সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের মতই শেষ কথা। পিল খাওয়া উচিত প্রতিদিন রাতে শোওয়ার সময় একই নিয়মে, কোনোদিন ভুলে গেলে যখন মনে পড়বে তৎক্ষণাৎ খেয়ে নেয়া উচিত, আবার পরের দিনের পিলটিই যথা সময়ে খেয়ে নিতে হবে।
ওরাল পিলঃ কয়েকটি বিশেষ তথ্য
পিল সাধারণত অল্পবয়সী মেয়েদেরই দেয়া হয়। ৩৫-এর ওপরে বয়স হলে অন্য কন্ট্রাসেপটিভ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয় আর ৪০ পার হওয়া মহিলাদের কখনই পিল দেয়া হয় না কারণ তাতে দেখা গেছে সেই সব মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। যে সমস্ত পিলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি সেইগুলো সদ্য মা হওয়া মহিলাদের বুকের দুধ কমিয়ে দেয়। কাজেই সেই সময়টা অন্য উপায় অবলম্বন করতে না পারলে এমন পিল দিতে হবে যাতে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম।
পিল সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। সেগুলো সঠিকভাবে বুঝিয়ে বলার জন্য মাস মিডিয়াগুলোতে এই ধরনের অনুষ্ঠান আরও বেশি করে হওয়া উচিত। চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণা ও অগ্রগতি নিরন্তর। প্রায়শই নতুন নতুন তথ্য আবিষকৃত হচ্ছে। আজ যা গ্রহণযোগ্য, কাল তার আ্মূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। একথা শুধু পিল নয়, সব রকম গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা যা সমগ্র চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কেই খাটে। ডাক্তারি শাস্ত্রে মতদ্বৈধ থাকবেই। তবে আমাদের এই আখ্যানের উদ্দেশ্য জনসাধারণের উপকারে লাগা-তর্কবিতর্কের জন্য মেডিকেল জার্নাল আছে।
মেল পিল
পুরুষদের জন্য কন্ট্রাসেপটিভ পিল তৈরির চেষ্টা চলছে ১৯৫০ সাল থেকে। আদর্শ মেল পিল হবে সেইটিই যা শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দেবে কিন্ত পুরুষ শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা থাকবে অক্ষুণ্ন। কিন্তু কার্য ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এই প্রতিরোধক ব্যবস্থায় সপার্ম কাউন্ট যেমন কমছে তার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ হরমোনের মাত্রাও কমে যাচ্ছে। তার ফলে পুরুষের দৈহিক সংসর্গ করার ইচ্ছা যাচ্ছে কম হয়ে। তার ওপর দীর্ঘদিন এই ওষুধ ব্যবহারের পর দেখা যাচ্ছে পুরুষ হয়তো পাকাপাকিভাবে শুক্রাণুবিহীন হয়ে পড়ছে। সুতরাং এর ব্যবহার শুরু করে লাভ কিছু হচ্ছে না।
কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন
ডিএমপি বা ডিপো মেড্রক্সিপ্রজেস্টেরোন অ্যাসিটেট ব্যবহৃত হচ্ছে ১৯৬০ সাল থেকে। প্রতি তিন মাস অন্তর ১৫০ মিলিগ্রাম ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন দেয়া হয়। এটি ৯৯ শতাংশ সার্থক। এটিও ওরাল পিলের মতো মেয়েদের ডিম্বাণু নির্গমন বা ওভিউলেশন বন্ধ করে দেয়, ফলে সন্তান সম্ভবনাও হয় না। এই ইনজেকশন খুবই নিরাপদ ও কার্যকরী। আর একটি সুবিধা হল এটি ব্রেস্ট মিল্ক কমিয়ে দেয় না। কাজেই সন্তানের জন্মের পরে পরেই এটি দেয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবশ্য একটু অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে, তাতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। বিশেষত ৩৫ বছরের বেশি বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রেই (যাদের পরিবার সম্পূর্ণ) এই ইনজেকশন খুবই গ্রহণযোগ্য। পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে এই পদ্ধতি গৃহীত হয়নি তার কারণ ইনজেকশন বন্ধ করার অনেক দিন পর পযন্ত সন্তান সম্ভাবনা ঘটে না। এই ইনজেকশন ব্যবহারে হৃদরোগ বাড়ে বা ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংখ্যা বাড়ে এমন কোনো পরিসংখ্যান আজ অবধি পাওয়া যায়নি।
গ্রামে গঞ্জেও এই ইনজেকশন যথেষ্ট জনপ্রিয়। গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ফ্যামিলি হেল্‌থ প্ল্যান স্কিমে এগুলো দেয়া হয়ে থাকে।
নেট এন (এনইটিইএন)
নর এথিস্টেরন ইন্যানটেট-এটিও একটি কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন, প্রতি দু’মাস পরপর ২০০ মিলিগ্রাম ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন নিতে হয়। এর থেকে ডিএমপি-র কার্যকারিতা আরও বেশি বলে প্রথমটির বলই বেশি। উপরোক্ত দুটি ইনজেকশনেরই প্রথম ডোজ দিতে হবে পিরিয়ড শুরু হওয়ার প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে।
সাবডারমাল ইমপ্ল্যান্ট (প্যাচ)
নিউইয়র্কের পপুলেশন কাউন্সিল এনেছে এক নতুন ধরনের কন্ট্রাসেপটিভ, যার নাম নরপ্ল্যান্ট। এটি একটি লং টার্ম গর্ভনিরোধক পদ্ধতি। এতে ৬টি সাইলাস্টিক (সিলিকন রাবার) ক্যাপসুল থাকে এবং প্রতি ক্যাপসুলে দেয়া থাকে ৩৫ মিলিগ্রাম লিভোনরজেসট্রেল। আরও আধুনিক পনহায় এই লিভোনরজেসট্রেল থাকে দুটি ছোট রডে। তাকে বলা হচ্ছে নরপ্ল্যান্ট (আর টু)। সেগুলো ব্যবহার করা অপোকৃত সহজ। এই সাইলাস্টিক ক্যাপসুল বা রড বাহুর ভেতরের দিকের চামড়ার নিচে বসিয়ে দেয়া হয়। এতে ৫ বছরের জন্য সন্তান সম্ভাবনা ঘটবে না। প্যাচ খুলে নিলে আবার বাচ্ছা হবে। কিন্তু আমাদের দেশে এই পদ্ধতি তেমন গ্রহণযোগ্য হয়নি কারণ খরচ প্রচুর (৮ থেকে ১০ হাজার টাকা), তা ছাড়া লাগানো ও খোলা প্রায় অপারেশনের মতো। সর্বোপরি এত কান্ড করেও এতে পিরিয়ডের নানা গন্ডগোল হয়, তাতে মহিলারা ভয় পেয়ে যান। আর ওষুধটি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমাদের দেশে অবশ্য এখন তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
পোস্ট কনসেপশনাল কন্ট্রাসেপটিভ
১) মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন- মাসিক বন্ধের ৬ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে যদি জরায়ুর মধ্যকার জিনিসগুলো বের করে দেয়া হয় তাহলে গর্ভাবস্থা আর থাকবে না, একে বলা যেতে পারে মিনি অ্যাবরশন। তবে এটি গর্ভপাত নয় কারণ অত অল্পদিনে গর্ভসঞ্চার একেবারে নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল হতে পারে। এই সময়ে ‘ডি’ অ্যান্ড ‘ই’ (ডায়ালেটেশন অ্যান্ড ইভ্যাকুয়েশন) অর্থাৎ এই নগণ্য গর্ভপাতকে গর্ভপাত আইনের আওতায় ফেলা অসুবিধাজনক। ১২-১৪ সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের প্রেগন্যান্সির থেকে মাত্র ৭-১০ দিনের গর্ভের পাত অনেক সহজ ও বহুলাংশে নিরাপদ।
নানাবিধ
১) কয়টাস ইন্টারাপটাস
এটি খুবই পুরনো পনহা। এর মূল কথা হল, বীর্য নারীর শরীরে প্রবেশ না করা। এটি অনেক ক্ষেত্রেই অসাফল্য লাভ করে। তার কারণ পুরুষের প্রিকয়টাল সিক্রিশন অর্থাৎ সঙ্গমপূর্ব ক্ষরণেও শুক্রাণু থাকতে পারে এবং সামান্যতম বীর্যেও সন্তান সম্ভাবনা ঘটতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও বলা যায়, কোনো উপায় অবলম্বন না করার চেয়ে সামান্য কিছু সতর্কতাও বহু গর্ভাবস্থা আটকাতে পারে।
২) সেফ পিরিয়ড
একে বলে ‘ক্যালেন্ডার মেথড’। ১৯৩০ সালে এই পদ্ধতি প্রথম আলোচিত হয়। ডিম্বাণু নির্গমন হয় পিরিয়ডের ১২তম দিন থেকে ১৬তম (পিরিয়ড শুরুর দিন ধরা হয় প্রথম বা ১ম দিন) দিনের মধ্যে যে কোনো দিন। তারও এধার ওধার আরও কদিন ছাড় দিলে (অর্থাৎ ১০তম দিন থেকে ১৮তম দিন) সেই কদিনই হল ফার্টাইল পিরিয়ড বা গর্ভধারণের সময়। সেই কয়েকটা দিন বাদ দিয়ে মিলিত হলে আর সন্তান সম্ভাবনার ভয় নেই। ওই কটা দিন পুরুষ কনডম ব্যবহার করতে পারেন। সোজা কথায় বলতে গেলে যে সব মহিলার ঋতুচক্র নিয়মিত (অর্থাৎ প্রতি মাসে মোটামুটি আগের মাসের তারিখের দু-একদিন আগে পিরিয়ড শুরু হয়) তারা প্রথম দিন থেকে নবম দিন পর্যন্ত কোনো সাবধানতা ছাড়াই মিলিত হতে পারেন। আবার ও দিকে ১৯তম দিন থেকে ২৮তম দিন পর্যন্তও কোনো সাবধানতার দরকার নেই।
নিয়মিত ২৮ দিনের ঋতুচক্রে সেফ পিরিয়ড
যদি ঋতুচক্র খুবই অনিয়মিত হয়, তা হলে এই পদ্ধতি চলবে না। আর এই পদ্ধতি শিতি, সচেতন ও দায়িত্বশীল দম্পতি ছাড়া মানা সম্ভব নয়। নিরাপদ সময় ছাড়া মাসের অন্যান্য দিনগুলোতে মিলিত না হওয়া বা ঠিক ওই সময়টিতে হিসেব-নিকেশ করে অন্য পদ্ধতি নেয়া, যাকে বলে ‘প্রোপ্র্যামড সেক্স’ তা অনেক সময় সম্ভব নাও হতে পারে। বাচ্চা হওয়ার ঠিক পরে পরেও এই পদ্ধতি চলবে না।
ব্রেস্ট ফিডিং
অনেকে মনে করেন বাচ্চার জন্মের পর বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মাসগুলোতে যখন কিছুদিন পিরিয়ড বন্ধ থাকে, তখন মিলিত হলে সন্তান সম্ভাবনা ঘটবে না। এই সময়টিকে বলে ল্যাক্টেশনাল অ্যামেনোরিয়া। এই সময়ে ওভিউলেশন হয় না। স্বাভাবিকভাবে হরমোনগুলো নিঃসৃত হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হল, সত্যিই কি এই সময়টি নিরাপদ? বলা যেতে পারে ১০০টি মহিলার প্রসবোত্তর ৬ মাসের মধ্যে ২ জনের গর্ভাবস্থা হতে পারে। তার বেশি সংখ্যক মহিলার গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কাও কম নয়। আমরা আমাদের দৈনন্দিন প্র্যাক্টিসে অনেক সময়েই দেখি, কোলে ৭ মাসের বাচ্চা নিয়ে যে মা চেক-আপে এসেছে সেই মা আবার ৫ মাসের গর্ভবতী। সে বুঝতেই পারেনি ব্যাপারটা, ভাবছে বাচ্চা হওয়ার পর দুধ খাওয়ানোর সময় কারও কারও যেমন পিরিয়ড বন্ধ থাকে তেমনই বন্ধ আছে। কাজেই এই ধরনের অবস্থার ওপর ভরসা না করে এই সময়ে অন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া যেসব মা চাকরি করেন (এখন বেশিরভাগই তাই) তারা তো আর বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না? মায়ের যদি কোনোক্রমে এইচআইভি, এইডস থাকে তা হলে তো বুকের দুধই বাচ্চাকে দেয়া চলবে না। তখন?
বার্থ কন্ট্রোল ভ্যাকসিন
এই ভ্যাকসিন তৈরির অনেক চেষ্টা ও গবেষণা চলছে কিন্তু এখনও আশানুরূপ ফলাফল হয়নি।
এমারজেন্সি কন্ট্রাসেপশন
হঠাৎই অসাবধানে মিলিত হওয়ার পর যদি গর্ভসঞ্চারের ভয় থাকে তা হলে এই ব্যবস্থার কথা ভাবা যেতে পারে। অবৈধভাবে গর্ভসঞ্চারের আশঙ্কা থাকলেও এই পদ্ধতি নেয়া যায়। মিলনের ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই বড়ি খেতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন মতো এই ওষুধ খেতে হবে। এই ওষুধ কৃত্রিম উপায়ে তৈরি, দামও অনেক। তৃতীয় বিশ্বে, বিশেষত ভারতে এই বড়ি দেয়ার আগে মহিলাদের শরীর পঙ্খনুপুঙ্খুভাবে পরীক্ষার দরকার।
স্টেরিলাইজেশন অপারেশন লাইগেশন
স্থয়ী গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা বন্ধ্যাত্ব এনে দেয় মহিলাদের শরীরে। জরায়ুর সংলগ্ন দুধারে দুটি ফ্যালোপিয়ান টিউব থাকে। এই নল দুটির যে দিকটায় শেষ দিক, সেই দিকের একটু আগে অর্থাৎ সমগ্র নলটিকে চার ভাগ করলে তৃতীয় ভাগের জায়গায় কেটে সুতো দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়। এই অপারেশন খুবই নিরাপদ ও সহজ। আগে পেট কেটে এই অপারেশন করা হত, সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে। আজকাল অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করা হয় ল্যাপারোস্কোপের সাহায্যে, পেট সামান্য ফুটো করে। অজ্ঞান করতে লাগে না লোকাল অ্যানেস্থেসিয়াতেই করা যায়। রোগী সেই দিনই বাড়ি ফিরতে পারে সেলাই কাটার ব্যাপার নেই। ৩/৪ দিনেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসা যায়। প্রসবের অব্যবহিত পর বাচ্চা নষ্ট করিয়ে সঙ্গে সঙ্গে লাইগেশন করানো অনেক নিরাপদ। সবার জানা উচিত, যখন পেটে সন্তান নেই, তখন প্রতিষেধক ব্যবস্থা নিলে অনেক উপসর্গ এড়ানো যায়।
অপরিণত মন নিয়ে অনুরোধ বা টাকার লোভে অল্পবয়সী (২০ থেকে ২৫ বছর) মেয়েদের ১টি বাচ্চার পরেই এই অপারেশন করানো ঠিক নয়। এত কম বয়সে সন্তান ধারণের মতা ব্যাহত হলে মানসিক অবসাদ, জরায়ু ও ওভারির কাজে বাধা ইত্যাদি অসুবিধা দেখা দিতে পারে। সাধারণত লাইগেশন অপারেশনে রোগীর বয়স ৩০-এর এধার ওধার হওয়া উচিত। যে মেয়ের দুটি বাচ্চা আছে এবং দ্বিতীয় বাচ্চাটিকে সব কটি সংক্রামক অসুখের টিকা দেয়া হয়ে গেছে (অর্থাৎ তার বয়স বছর দেড়েক) সেই মাকে অপারেশনের উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। কোনো ক্ষেত্রে এমনও দেখা হয়েছে, লাইগেশনের পর মায়ের দুটি বাচ্চাই মারা গেছে। সে ক্ষেত্রে রিক্যানালাইজেশন অপারেশন করে টিউব আবার জুড়ে দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। স্বামীর অজ্ঞাতসারে বা অবিবাহিতা মহিলার কখনওই লাইগেশন করা উচিত নয়। আবার দ্বিতীয় বা তৃতীয় সিজারিয়ানের ক্ষেত্রে যেখানে পেট খুলতেই হচ্ছে, সেখানে দম্পতির অনুমতি নিয়ে লাইগেশন করে দেয়াই ভালো। অনেক সময় দেখা যায় স্বামীর রোজগার নেই, চাকরি চলে গেছে, স্বামীকে না জানিয়ে মহিলা লাইগেশন করে নিলেন। সে ক্ষেত্রে আইনের দিকটিও ভাবতে হবে। তবে আশার কথা, মেয়েদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আইন এখন অনেকটাই মেয়েদের দিকে। লাইগেশন কররে শরীর কমজোরি হয়ে যায়, কর্ম ক্ষমতা কমে যায়, যৌনমতা লোপ পায়-এমন অনেক ভিত্তিহীন ধারণা আমাদের সমাজে আছে যার কোনোটিই ঠিক নয়। বরং নিশ্চিন্ত নিরাপদ জীবন মেয়েদের শরীর-মনে আলাদা আনন্দের স্বাদ এনে দেয়, নতুন করে বাঁচার রসদ জোগায়।
গর্ভনিরোধের ইতিহাস
সম্ভবত উত্তর আমেরিকায় গর্ভনিরোধের ভাবনার সূত্রপাত। যদি মেয়েরা ভাবে আমি মা হব কখন এবং কবে, এটা তাদেরই চিন্তাভাবনার বিষয় হওয়া উচিত-এইভাবে চিন্তা শরু হয়েছিল। আরও পরে ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডে ও নাইট সোস্যালিস্টদের মধ্যে গর্ভনিরোধের ভাবনার উদয় হয়েছিল আর সেটা সারা পৃথিবীতে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছিল।
১৮৫০ সালে মধু, গঁদের আঠা, কুমিরের বিষ্ঠা মেয়েদের শরীরে ঢুকিয়ে রাখা হত গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে। তখনকার দিনে মায়েরা দুধ অনেক দিন ধরে খাইয়ে যেতেন পুনরায় গর্ভসঞ্চার বন্ধ করার জন্য। ২০ শতকের প্রথম দিকে মারি স্টোপস গর্ভনিরোধক ব্যবস্থার কথা বিশেষভাবে ভাবেন। ১৬০০ সালে ডা. কনডম -এর কথা ভেবেছিলেন।
শোনা যায় বহু আগে শুকনো গোবর আর মধু যোনিদ্বারে রাখা হত গর্ভসঞ্চার বন্ধ করার জন্য। এও শোনা যায় ভারতে নাকি গাজরের বীজ খেতে দেয়া হত গর্ভনিরোধক বড়ি হিসেবে।
১৪০০ শতাব্দীতে লেখা হয়েছে-কোনো মহিলা যদি মৌমাছি খেয়ে নেয় তা হলে সে গর্ভবতী হবে না।
৪০০০ বছর আগে পুরনো কাহুন প্যাপিরাস (গাছের পাতা) হল সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত নিদর্শন। এতে লেখা আছে জন্মসংকোচন ব্যবস্থার ওপর। এখানেও কুমিরের বিষ্ঠার উল্লেখ আছে।
আরবেরা প্রথম আইইউডি (ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস) প্রবর্তন করেছে মেয়ে উটদের জরায়ুতে ছোট পাথর ঢুকিয়ে দিয়ে-যাতে মরুভূমিতে উট হঠাৎ গর্ভবতী না হয়।
কনডম পুরাকালে ছিল ভেড়া, ছাগল এমনকি সাপের চামড়া দিয়ে তৈরি। পাতলা কাপড়ের কথাও শোনা যায়।
পাতি লেবুর রসে কাপড় ভিজিয়ে যোনিদ্বারে রাখার কথাও পাওয়া গেছে। এখনও কোনো কোনো প্রত্যন গ্রামে শোনা যায় এই প্রক্রিয়া। শুঁটকি মাছের লেজও ব্যবহৃত হত।
সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন যাত্রার যেমন পরিবর্তন হয়েছে, আয়ুও তেমন বাড়ছে। জনবিস্ফোরণের সমুদ্রের ঢেউ কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। সর্বণেই মেয়েদের ওপর বলির খাঁড়া-গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা তাকেই নিতে হবে। এত যে আনর্জাতিক মানের সমীক্ষা হচ্ছে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে পরিবারগতভাবে প্রতিটি মহিলা জন্মসূত্রে তার জননস্বাস্থ্যের জন্য এই কন্ট্রাসেপটিভ ব্যবস্থার মধ্যে থাকছে। জন্মের হার, পরিবারের মাপ, জনবিস্ফোরণ নির্ভর করে জলবায়ু, পুষ্টির মান, জনস্বাস্থ্য, বিয়ের বয়স, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি, পুত্র সন্তানের চিন্তা, সম্পত্তির আইনগত দিক, ধর্ম, রাজনীতি, যুদ্ধের সমস্যা, শিক্ষার মান, সর্বশেষে শিশু মৃত্যুর হারের ওপর।
যেখানে স্বামী বা স্ত্রীর কোনো অসুখ আছে সেখানে তখন সেই সময় গর্ভসঞ্চার না হওয়াই ভালো।
মেয়েটির যদি টিউবারকিউলোসিস, নেফ্রাইটিস, রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদযন্তের অসুখ, মানসিক বৈকল্য, থ্যালাসিমিয়া ইত্যাদি থাকে, তা হলে গর্ভাবস্থা ও প্রসব মেয়েটির জীবনের আশঙ্কা এনে দেয়। বার বার গর্ভপাত, সিজারিয়ান সেকশন, জরায়ুতে টিউমার, এপিলেপসি- মেয়েটি যদি এই সবের শিকার হয় তবে পুনরায় গর্ভবতী হওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই দরকার। ছোট বয়সে বিয়ে হলে তাড়াতাড়ি সন্তান কিছুতেই নয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় সন্তান ধারণ সম্পর্কে মেয়েটির কোনো ধারণাই নেই। সেই জন্য তরুণ-তরুণীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে আজকাল এত জোর দেয়া হচ্ছে। মেয়েদের অ্যাসিমিয়ার চিকিৎসাও আজ জনস্বাস্থ্যের মধ্যে পড়ে।
অনেক সময় ছোট মেয়েরা অনৈতিকভাবে গর্ভপাত করানোর জন্য ডাক্তারের কাছে আসে-তাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সব বুঝিয়ে বলা দরকার।
যে কোনো মেয়ে বা মহিলার ঋতুস্রাব শুরু হওয়া (মেনার্ক) থেকে বন্ধ হওয়া (মেনোপজ) পর্যন্ত গর্ভসঞ্চারের ভয় থেকেই যায়। অবাঞ্ছিত গর্ভসঞ্চারের হাত থেকে বাঁচতে হলে চাই পরিবার, স্বামী, সমাজ ও চিকিৎসকের সাহায্য, ওষুধের অপব্যবহার সেখানে সাহায্যের মাপকাঠি নয়।
প্রশ্ন  উত্তর
পিল খেলে শোনা যায় ক্যান্সার হয়? সত্যি?
পিল খাওয়ার সঙ্গে জরায়ু বা স্তনের ক্যান্সারের প্রত্য কোনো সম্বন্ধ নেই। প্রজেস্টেরোন হরমোন আসলে ক্যান্সার রোধ করতেই সাহায্য করে। এ পর্যন্ত গর্ভনিরোধক পিলের হরমোন মানুষ বা জন্তুজানোয়ারের ক্যান্সার সৃষ্টি করে এমন প্রমাণ মেলেনি।
পিল খেলে লিভারের নাকি দফারফা?
হাজারে একটি বা দুটি ক্ষেত্রে লিভারের বিভিন্ন এনজাইমের পরিবর্তন হয়ে পিত্ত নিঃসরণ ব্যাহত হলেও হতে পারে। প্রায় ক্ষেত্রেই এ ঝুঁকি নেই-আর ডাক্তারকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিলে আর কোনো অসুবিধা নেই।
ডায়াবেটিস থাকলে পিল খাওয়া যায়?
সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীকে পিল না দিয়ে অন্য উপায় অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়।
পিল খেলে কি সন্তান সম্ভাবনা হ্রাস পায়?
না। পিল বন্ধ করার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার গর্ভসঞ্চার হয়।
পিল খেলে কি পিরিয়ডের গন্ডগোল হতে পারে?
পিল খেতে ভুল হলে ঋতুচক্রের মাঝখানে আবার ব্লিডিং শুরু হতে পারে। সেরকম হলে পিলের ডোজ বাড়িয়ে একটির বদলে দুটি খেয়ে নেয়া উচিত এবং সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানিয়ে রাখা উচিত।
কপার-টি পরলে কি ব্লিডিং বেশি হয়?
খুব কম ক্ষেত্রে হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখিয়ে নিলেই সমাধান হয়ে যাবে।
লাইগেশন করানোর পর নাকি অনেক মহিলা মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েন? সত্যি?
দম্পতির মানসিক ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করে তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তবেই অপারেশন করা হয়-কাজেই অপারেশনের পর মনের রোগের প্রশ্নই ওঠে না। তবে হ্যাঁ, দুটি সন্তানই যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাংঘাতিক অশান্তি, বিধবা বা ডিভোর্সি মহিলার পুনর্বার বিবাহের সম্ভাবনা হলে তবেই মনের ওপর চাপ পড়তে পারে।
বিয়ের পরে পরেই যদি প্রেগন্যান্সি হয়ে যায়, প্রথম বাচ্চা কি নষ্ট করা উচিত?
সাধারণভাবে প্রথম বাচ্চা নষ্ট না করার পরামর্শ ডাক্তার মাত্রেই দিয়ে থাকেন। প্রথম গর্ভাবস্থায় ইউটেরাসের মুখ এত নরম ও সরু থাকে যে, যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রসারিত করার সময় জরায়ুমুখ বা জরায়ুর পেশি ছিড়ে গিয়ে রক্তস্রাব, প্রদাহ হতে পারে। স্বামী বললেও মেয়েদের বাবা-মাকে না জানিয়ে কখনই এই সময়ে গর্ভমোচনে রাজি হওয়া উচিত নয়। এছাড়া কোনোভাবে ফ্যালোপিয়ান টিউবে সংক্রমণ হলে পরে টিউব ব্লক হয়ে ভবিষ্যতে সন্তান নাও হতে পারে।
তবে অবিবাহিত মেয়ের ক্ষেত্রে সবদিক ভেবে দেখে উপায় না থাকলে অ্যাবরশন করতেই হবে। অবশ্যই উপযুক্ত শিতি ডাক্তারের কাছে করাতে হবে। হাতুড়ে বা অশিক্ষিত ডাক্তারের কাছে গেলে ফুল বা ভ্রূণের অংশ জরায়ুর মধ্যে থেকে যেতে পারে, জরায়ুর মুখ ছিড়ে যেতে পারে, জীবাণু আক্রান্ত হয়ে পেরিটোনাইটিস হতে পারে, আভ্যন্তর রক্তস্রাবের কারণে মায়ের কোলাপস ও শক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হওয়া সম্ভব। দেশ পাড়া গাঁয়ে আজ এই অত্যাধুনিক যুগেও অনেক মেয়ে গুণিন বা ওই জাতীয় চিকিৎসায় (জরায়ুতে শিকড় বা কাঠি ঢুকিয়ে গর্ভমোচনের চেষ্টা) মারা যায়।
পিল দেয়ার আগেকার চেকলিস্ট
নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দেখতে হবে
  • বয়স চল্লিশের বেশি কি না
  • বয়স ৩৫ এবং মহিলা সিগারেট খান কি না
  • এপিলেপসি আছে কি না
  • পায়ের পেশিতে কোনো ব্যথা আছে কি না
  • বুকে কোনো ব্যথা আছে কি না
  • হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হয় কি?
  • মাথাব্যথা হয় কি?
  • ব্রেস্টফিডিং করায় কি?
  • পিরিয়ড বন্ধ আছে কি?
  • জন্ডিস কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল কি?
  • রক্তচাপ কত?
  • পায়ে ফোলা আছে?
  • সব রকম পরীক্ষা করে দেখে তবেই ডাক্তার পিল দেবেন। কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শে পিল খেলে ভয়ের কিছু নেই।


  মনোজগত  : সেপ্টেম্বর, ২০০৪ 

 আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ।
 বিষয়ঃ  সেক্স গাইড

 এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?
Read More