সন্তান ধারন ও প্রসব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সন্তান ধারন ও প্রসব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাচ্চা নেয়ার উপযুক্ত সময়
গর্ভকালীন যত্ন
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কিছু অতিপ্রয়োজনীয় টিপস !
স্বাস্থ্যকর সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য
মায়েদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন
করা প্রয়োজন। সেদিকেই লক্ষ্য
রেখে কিছু টিপস দেয়া হলো :
— আপনি প্রেগন্যান্সি প্রাপ্তির
জন্য চিন্তা-
ভাবনা করলে গর্ভধারণের
আগে পরিকল্পনা করে নিজেকে সম্পূর্ণ
তৈরি করে নিন। কখনও কখনও
আপনার এমন যেন মনে না হয়,
আপনি প্রেগন্যান্ট।
আপনার চিন্তা-ভাবনার প্রভাব
গর্ভজাত শিশুর ওপর ভীষণভাবে পড়ে।
শেষ কবে ঋতুচক্র হয়েছিল তার ওপরও
লক্ষ্য রাখুন। নয়তো সন্তানের
জন্মের তারিখও সঠিকভাবে নির্ধারণ
করা সম্ভব হয় না।
— শিশুর স্বাস্থ্য পূর্ণরূপে মা-বাবার
স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।
প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডে মা যা আহার
গ্রহণ করবে, তা শিশুর বিকাশে সহায়ক
হয়। তাই ভোজনে ভিটামিন ‘সি’,
ফাইবার্স, আয়রন, ফলিক
অ্যাসিডযুক্ত খাদ্য অবশ্যই
নেয়া উচিত। বেশি তেল
বা ঘি দিয়ে রান্না খাবার খেলে শিশু
স্বাস্থ্যবান হয়, একথা সম্পূর্ণ ভুল।
সুতরাং এমন ভোজন নেয়া উচিত
যা পুষ্টিকর, যেমন—তাজা ফল, সবুজ
সবজি, দুধ, দই
ইত্যাদি উপযোগী খাবার। আর
অকারণে ওষুধ সেবনের
কোনো প্রয়োজন নেই।
— যদি আপনি অন্য কোনো রকমের
ওষুধ সেবন করেন
তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে গর্ভধারণের
আগেই ওষুধ সেবন বন্ধ করা।
এতে আপনার বডি স্ট্যাটাস নরমাল
থাকবে। আর শিশুর কোনো রকমের
সমস্যা হবে না।
— ধূমপান ও ড্রিঙ্ক করলে গর্ভজাত
শিশুর পক্ষে হানিকারক হয়।
যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী ধূমপান
করেন তাহলে গর্ভধারণ করার আগেই
আপনাদের ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
যেসব মহিলা ধূমপান করেন
তারা সময়ের আগেই সামান্য থেকে কম
ওজনের শিশুর জন্ম দেন। ধূমপানের
জন্য কম ওজনেরও সন্তানের জন্ম হয়
বা মৃত শিশুরও জন্ম হতে পারে।
— যদি আপনি কোনো রাসায়নিক
সংস্থা বা এক্সরেসংক্রান্ত
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন তাহলে এর
বিষজাতীয় ধোঁয়া আপনার সন্তানের
জন্য ক্ষতিকারক। এসব স্থান
থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি।
— মানুষের মধ্যে একটি ভুল
ধারণা রয়েছে যে কম্পিউটারের
কুপ্রভাব গর্ভজাত শিশুর ওপরে খুব
বেশিভাবে পড়ে। বর্তমান ব্যস্ত
যুগে মহিলারা আইটি সেক্টরে কর্মরত।
এতে কোনো সমস্যা হয় না।
— শিশুর জন্মের আগে তার সুরক্ষার
জন্য ব্লাড টেস্ট অবশ্যই করাবেন।
এইচআইভি টেস্ট করানোও জরুরি। আরো টিপস দেখুন
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভবতী মেয়েদেরকে নরমাল ডেলিভারী করানো হয় যেভাবে,ছবিসহ ।
ব্লগে প্রকাশিত ছবি গুলি দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবে কিভাবে নরমাল ডেলিভারী করানো হয় ।
ছবি ১

ছবি ২

ছবি ৩

ছবি ৪ ।

উপরে প্রকাশিত ছবি গুলি দেখে
আপনারা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয় ।
বিঃদ্রঃ এই ছবি গুলি ভিভিন্ন মেডিকেল থেকে সংগ্রহ করা ।
এবিষয়ে আপনার মতামত ব্লগারকে জানান ।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ছবি ১
ছবি ২

ছবি ৩

ছবি ৪ ।

উপরে প্রকাশিত ছবি গুলি দেখে
আপনারা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয় ।
বিঃদ্রঃ এই ছবি গুলি ভিভিন্ন মেডিকেল থেকে সংগ্রহ করা ।
এবিষয়ে আপনার মতামত ব্লগারকে জানান ।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভবতী মায়ের পাইলস চিকিৎসা
গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য
পরিচর্যা একটি গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়।
এ অবস্থায় কিছু বিশেষ বিশেষ
সমস্যা দেখা দেয়। যেগুলো অত্যন্ত
সতর্কতার সাথে বিশেষ অবস্থার
কথা বিবেচনায়
রেখে চিকিৎসা করা উচিত। অন্যথায়
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন
হতে পারে। এরূপ
একটি সমস্যা হচ্ছে গর্ভাবস্থায় মায়ের
পাইলসে আক্রান্ত হওয়া।
গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে মায়েদের
পাইলসে আক্রান্ত হওয়া একটি সাধারণ
ঘটনা, অনেকের হয়। এ
সমস্যা আগে থেকে ছিল, কিন্তু এখন
এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার
গর্ভাবস্থার কারণে অনেকের এ
সমস্যা নতুন করে শুরম্ন হতে পারে। এ
অবস্থায় পাইলস হওয়ার উল্লেখযোগ্য
কারণগুলোর
মধ্যে রয়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য, হরমোনের
পরিবর্তন, জরায়ুর স্ফীতির জন্য
পেটের ভিতরের চাপ বৃদ্ধি পাওয়া, যার
কারণে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়।
এমতাবস্থায় বেশিরভাগ
ক্ষেত্রে পাইলস
বিনা অপারেশনে রক্ষণশীল চিকিৎসায়
ভালো করা সম্ভব। প্রথমত
আমরা আসছি কোষ্ঠ ব্যবস্থাপনায়।
মল যাতে শক্ত না হয়
এবং মলত্যাগে কষ্ট না হয় তার
ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য
বেছে খাবার খেতে হবে,
যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়। আঁশ
বা fiber জাতীয় খাবার
খেতে হবে যেমন শাকসবজি, ফলমুল,
ইসুপগুলের ভুসি। গরম্ন ও খাসির
গোশত কম খাওয়া ভালো।
এ ছাড়া প্রয়োজনে জুলাফ বা মল নরম
করার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এর যথেচ্ছ ব্যবহার ক্ষতিকর। এ
ওষুধগুলো সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক
মেয়াদে ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায়
অভ্যাসে পরিণত হবে। সিজ বাথ
অর্থাৎ গরম পানির ছ্যাঁক দেয়ায়
উপকার পাওয়া যায়। এটির নিয়ম
হচ্ছে আধগামলা গরম পানিতে লবণ
দিয়ে নিতম্ব ডুবিয়ে ১০ মিনিট,
দিনে ২-৩ বার বসে থাকতে হবে।
এতে যদি রোগীর উন্নতি না হয়
তাহলে আমরা ইনজেকশন
অথবা আধুনিক যন্ত্রের
সাহায্যে বিনা অপারেশনে এবং বিনা
ব্যথায় এর চিকিৎসা করতে পারি।
যেহেতু ইনজেকশনের
সফলতা আশাব্যঞ্জক ও
দীর্ঘস্থায়ী হয় না তাই পাইলসের
চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন
করে এমন ব্যবস্থা যেমন, রিংলাইগেশন
পদ্ধতি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
রিংলাইগেশন পদ্ধতি
এ পদ্ধতিতে একটি ছোট্ট যন্ত্রের
সাহায্যে পাইলসের চিকিৎসা করা হয়।
এটি ডাক্তারের চেম্বারেই সম্ভব।
কোনোরূপ অবশ বা অজ্ঞান করার
প্রয়োজন নেই। চিকিৎসা-পরবর্তী কিছু
দিনের ভেতর
পাইলসটি আপনাআপনি কেটে পড়ে যায়।
পদ্ধতিটি প্রয়োগের সময়
রোগী কোনোরূপ ব্যথা অনুভব করেন
না। আমাদের শরীরে যেহেতু
তিনটি পাইলস রয়েছে অতএব কিছু দিন
পরপর এটি ২-৩ বার করা প্রয়োজন
হতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত
আমেরিকান পাইলস বিশেষজ্ঞ ডা.
মারভিন এল করম্যান বলেন যে, এ
পদ্ধতিতে চিকিৎসার সাফল্য এত
চমৎকার যে ৮০ শতাংশ পাইলস
রোগী এ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময়
হয়েছেন।
পদ্ধতিটি প্রয়োগের পর কিছু বিশেষ
বিশেষ ওষুধ ও উপদেশ দেয়া হয়। এ
জন্য কোনোরূপ
কর্মবিরতি বা ছুটি নেয়ার প্রয়োজন
নেই। চিকিৎসার পর
রোগী রিকশা বা গাড়িতে অনায়াসে
কিছুক্ষণ পরই বাসায়
ফিরে যেতে পারেন।
এটি অত্যন্ত লাভজনক; কারণ
এটি সময়, ঝুঁকি ও অর্থের সাশ্রয়
করে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত
যে এটি অপারেশনের
একটি যুক্তিসঙ্গত সফল বিকল্প
পদ্ধতি। এতে অপারেশনের
ঝুঁকিগুলো একেবারেই নেই।
অপারেশন
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়
আমরা সাধারণত পাইলসের অপারেশন
এড়িয়ে থাকি। তবে পাইলসের
জটিলতা যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে,
অপারেশন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই
তখন অপারেশন করাই শ্রেয়। বিশিষ্ট
পাইলস বিশেষজ্ঞ ডা. সালিবী ২৫ জন
অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পাইলস অপারেশন
করে এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, ওই
গর্ভবতী মায়েদের বা তাদের
সন্তানদের কোনোরূপ অসুবিধা হয়নি।
তিনজন বাদে এ ২৫ জনের সবাই
গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে ছিলেন।
এদের একজনের শুধু অপারেশন-
পরবর্তী রক্তপাত হয়েছিল। এ
থেকে আমরা এ সিদ্ধান্তেô
আসতে পারি যে, গর্ভাবস্থায়
প্রয়োজনীয় ড়্গেত্রে পাইলস
অপারেশনের কোনো অতিরিক্ত
ঝুঁকি নেই।
———————————
———————
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
পরিচর্যা একটি গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়।
এ অবস্থায় কিছু বিশেষ বিশেষ
সমস্যা দেখা দেয়। যেগুলো অত্যন্ত
সতর্কতার সাথে বিশেষ অবস্থার
কথা বিবেচনায়
রেখে চিকিৎসা করা উচিত। অন্যথায়
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন
হতে পারে। এরূপ
একটি সমস্যা হচ্ছে গর্ভাবস্থায় মায়ের
পাইলসে আক্রান্ত হওয়া।
গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে মায়েদের
পাইলসে আক্রান্ত হওয়া একটি সাধারণ
ঘটনা, অনেকের হয়। এ
সমস্যা আগে থেকে ছিল, কিন্তু এখন
এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার
গর্ভাবস্থার কারণে অনেকের এ
সমস্যা নতুন করে শুরম্ন হতে পারে। এ
অবস্থায় পাইলস হওয়ার উল্লেখযোগ্য
কারণগুলোর
মধ্যে রয়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য, হরমোনের
পরিবর্তন, জরায়ুর স্ফীতির জন্য
পেটের ভিতরের চাপ বৃদ্ধি পাওয়া, যার
কারণে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়।
এমতাবস্থায় বেশিরভাগ
ক্ষেত্রে পাইলস
বিনা অপারেশনে রক্ষণশীল চিকিৎসায়
ভালো করা সম্ভব। প্রথমত
আমরা আসছি কোষ্ঠ ব্যবস্থাপনায়।
মল যাতে শক্ত না হয়
এবং মলত্যাগে কষ্ট না হয় তার
ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য
বেছে খাবার খেতে হবে,
যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়। আঁশ
বা fiber জাতীয় খাবার
খেতে হবে যেমন শাকসবজি, ফলমুল,
ইসুপগুলের ভুসি। গরম্ন ও খাসির
গোশত কম খাওয়া ভালো।
এ ছাড়া প্রয়োজনে জুলাফ বা মল নরম
করার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এর যথেচ্ছ ব্যবহার ক্ষতিকর। এ
ওষুধগুলো সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক
মেয়াদে ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায়
অভ্যাসে পরিণত হবে। সিজ বাথ
অর্থাৎ গরম পানির ছ্যাঁক দেয়ায়
উপকার পাওয়া যায়। এটির নিয়ম
হচ্ছে আধগামলা গরম পানিতে লবণ
দিয়ে নিতম্ব ডুবিয়ে ১০ মিনিট,
দিনে ২-৩ বার বসে থাকতে হবে।
এতে যদি রোগীর উন্নতি না হয়
তাহলে আমরা ইনজেকশন
অথবা আধুনিক যন্ত্রের
সাহায্যে বিনা অপারেশনে এবং বিনা
ব্যথায় এর চিকিৎসা করতে পারি।
যেহেতু ইনজেকশনের
সফলতা আশাব্যঞ্জক ও
দীর্ঘস্থায়ী হয় না তাই পাইলসের
চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন
করে এমন ব্যবস্থা যেমন, রিংলাইগেশন
পদ্ধতি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
রিংলাইগেশন পদ্ধতি
এ পদ্ধতিতে একটি ছোট্ট যন্ত্রের
সাহায্যে পাইলসের চিকিৎসা করা হয়।
এটি ডাক্তারের চেম্বারেই সম্ভব।
কোনোরূপ অবশ বা অজ্ঞান করার
প্রয়োজন নেই। চিকিৎসা-পরবর্তী কিছু
দিনের ভেতর
পাইলসটি আপনাআপনি কেটে পড়ে যায়।
পদ্ধতিটি প্রয়োগের সময়
রোগী কোনোরূপ ব্যথা অনুভব করেন
না। আমাদের শরীরে যেহেতু
তিনটি পাইলস রয়েছে অতএব কিছু দিন
পরপর এটি ২-৩ বার করা প্রয়োজন
হতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত
আমেরিকান পাইলস বিশেষজ্ঞ ডা.
মারভিন এল করম্যান বলেন যে, এ
পদ্ধতিতে চিকিৎসার সাফল্য এত
চমৎকার যে ৮০ শতাংশ পাইলস
রোগী এ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময়
হয়েছেন।
পদ্ধতিটি প্রয়োগের পর কিছু বিশেষ
বিশেষ ওষুধ ও উপদেশ দেয়া হয়। এ
জন্য কোনোরূপ
কর্মবিরতি বা ছুটি নেয়ার প্রয়োজন
নেই। চিকিৎসার পর
রোগী রিকশা বা গাড়িতে অনায়াসে
কিছুক্ষণ পরই বাসায়
ফিরে যেতে পারেন।
এটি অত্যন্ত লাভজনক; কারণ
এটি সময়, ঝুঁকি ও অর্থের সাশ্রয়
করে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত
যে এটি অপারেশনের
একটি যুক্তিসঙ্গত সফল বিকল্প
পদ্ধতি। এতে অপারেশনের
ঝুঁকিগুলো একেবারেই নেই।
অপারেশন
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়
আমরা সাধারণত পাইলসের অপারেশন
এড়িয়ে থাকি। তবে পাইলসের
জটিলতা যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে,
অপারেশন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই
তখন অপারেশন করাই শ্রেয়। বিশিষ্ট
পাইলস বিশেষজ্ঞ ডা. সালিবী ২৫ জন
অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পাইলস অপারেশন
করে এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, ওই
গর্ভবতী মায়েদের বা তাদের
সন্তানদের কোনোরূপ অসুবিধা হয়নি।
তিনজন বাদে এ ২৫ জনের সবাই
গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে ছিলেন।
এদের একজনের শুধু অপারেশন-
পরবর্তী রক্তপাত হয়েছিল। এ
থেকে আমরা এ সিদ্ধান্তেô
আসতে পারি যে, গর্ভাবস্থায়
প্রয়োজনীয় ড়্গেত্রে পাইলস
অপারেশনের কোনো অতিরিক্ত
ঝুঁকি নেই।
———————————
———————
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
শিশু ও মাতৃস্বাস্হ্য রক্ষায় জন্মনিয়ন্ত্রণ |
অনিয়ন্ত্রিত বা ঘন ঘন সন্তান
জন্মদান মা এবং শিশু উভয়ের জন্য
ঝুঁকিপুর্ণ। এমনিতেই গর্ভধারণ
কোনো কোনো মহিলার জন্য মারাত্মক
সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গর্ভধারণ মায়ের
স্বাস্হ্যহানি ঘটাতে পারে,
এমনকি মায়ের জীবনের জন্য
ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। উন্নত
দেশগুলোর চেয়ে আমাদের
দেশে গর্ভজনিত কারণে মাতৃমৃত্যুর
সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি।
সন্তান যত বেশি হয় এ সম্ভাবনাও
তত বেশি বাড়াতে থাকে। ঘন ঘন
সন্তান জন্মদানের ফলে মায়ের
মারাত্মক রক্তস্বল্পতা, গর্ভপাত,
গর্ভকালীন রক্তপাত, এমনকি মৃত্যু
পর্যন্ত হতে পারে। মায়ের স্বাস্হ্য ও
পুষ্টির সঙ্গে নবজাতকের স্বাস্হ্য
সম্পর্কিত। ঘন ঘন সন্তান
জন্মদানের ফলে মায়ের
স্বাস্হ্যহানি ঘটে। এ কারণে গর্ভস্হ
শিশু যথাযথভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়
না এবং স্বাভাবিকের চেয়ে (২.৫
কেজি) কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ
করে। এ ধরনের শিশু
মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হতে পারে,
কানে কম শুনতে পারে, অপুষ্টি,
পরিপাকতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের
ইনফেকশনে আক্রান্ত
হতে পারে এবং চোখের
দৃষ্টিতে ত্রুটি থাকতে পারে। কম ওজন
নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু
পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক বৃদ্ধি,
পরিপুর্ণ বিকাশ এবং দক্ষতা অর্জন
করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত এদের
স্কুল পারফরমেসও খারাপ হয়ে থাকে।
গর্ভকাল মহিলাদের জন্য
একটি ঝুঁকিপুর্ণ সময়। এ সময়ে একজন
মহিলার শারীরিক এবং মানসিক ব্যাপক
পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। একবার
সন্তান জন্মদানের ফলে মহিলাদের
শরীরের যে ক্ষতি বা ঘাটতি হয়
তা পুরণ হতে বেশ সময়ের প্রয়োজন
হয়। শরীর পরবর্তী গর্ভের জন্য
উপযুক্ত হওয়ার আগেই পুনরায়
গর্ভধারণ করলে মারাত্মক
জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে যার
অতি দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
দেখা গেছে ঘন ঘন সন্তান
জন্মদানকারী মায়ের সব গর্ভ ৯ মাস
ধরে চলে না।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৮ সপ্তাহের
আগেই সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
মানবদেহের রক্তের একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপুর্ণ উপাদান
হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। রক্তে এ
হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের
চেয়ে কমে গেলে তাকে রক্তস্বল্পতা বা
এনিমিয়া বলে। আয়রন বা লৌহ
রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক
মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আমাদের দেশের অনেক মহিলাই
শরীরে আয়রনের অভাবজনিত
কারণে রক্তস্বল্পতায় ভুগে থাকেন।
এর কারণ হিসেবে ঘন ঘন সন্তান
জন্মদান, মহিলাদের প্রতি সামাজিক
বৈষম্যমুলক আচরণ, খাবারের পুষ্টিগুণ
সম্পর্কে অজ্ঞতা, বয়ঃসন্ধিকাল
থেকে শুরু করে সমগ্র
প্রজননকালে প্রতি মাসে একবার
করে ঋতুবতী হওয়ার ফলে শরীর
থেকে রক্তক্ষরণ, কৃমির সংক্রমণ
প্রভৃতিকে দায়ী করা যেতে পারে।
গর্ভকালীন সময়ে মহিলাদের
শরীরে আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়।
গর্ভকালে মা এবং গর্ভস্হ শিশুর
চাহিদা পুরণের জন্য স্বাভাবিক
অবস্হার চেয়ে দুই বা তিনগুণ আয়রন
বা লৌহের প্রয়োজন হয়। ঘন ঘন
সন্তান জন্মদানকারী মহিলার
আগে থেকেই রক্তস্বল্পতা বিদ্যমান
থাকে। গর্ভকালে পুর্ব থেকে বিদ্যমান
রক্তস্বল্পতা মারাত্মক আকার ধারণ
করে। রক্তস্বল্পতাজনিত
কারণে গর্ভবর্তী মহিলা প্রায় সব
সময়ই ক্লান্ত এবং দুর্বল বোধ করেন।
অবসন্নতা, মাথা ঝিমঝিম করা, বুক
ধড়ফড় করা, অল্প
পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, শ্বাসকষ্ট
হওয়া কিংবা হাত-
পায়ে পানি আসা মারাত্মক
রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। এ সময়
চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যায়। হাত-পায়ের
তালু, জিহ্বা, দাঁতের মাঢ়ি এবং চোখের
নিচের পাতার ভেতরের দিকে এ
ফ্যাকাশে ভাব পরিলক্ষিত হয়।
গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতার
চিকিৎসা না করালে গর্ভবতী মহিলার
হার্ট ফেইলুর বা গর্ভপাত
হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া রক্তস্বল্পতা গর্ভবতী মহিলার
ইনফেকশন এবং গর্ভকালীন ও
গর্ভপরবর্তী অতিরিক্ত
রক্তক্ষরণের জন্যও দায়ী। এ
কারণে গর্ভকালীন
রক্তস্বল্পতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
উপরোক্ত জটিলতার কথা মাথায়
রেখে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত
একজন মহিলার সুস্হ না হওয়া পর্যন্ত
গর্ভধারণ করা উচিত নয়। গর্ভকালীন
সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার
এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
প্রচুর পরিমাণে রঙিন শাক-
সবজি (যেমন-কচুশাক, ডাঁটাশাক,
লালশাক) ও ফলমুল, দুধ, মাছ, মাংস,
কলিজা, ডিম প্রভৃতি লৌহসমৃদ্ধ খাবার
খেলে রক্তস্বল্পতা দুর হয়।
এছাড়া ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার
যেমন-আমলকি, লেবু, জামবুরা, আমড়া,
আনারস, পেয়ারা ইত্যাদিও খেতে হবে।
এতে শরীরে আয়রন বা লৌহের শোষণ
ভালোমত হয়। দুই গর্ভধারনের
মাঝে কয়েক বছর (দুই থেকে তিন বছর)
সময় নিলেও রক্তস্বল্পতার
ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং সুস্বাস্হ্য পরস্পর
সম্পর্কিত। জন্মনিয়ন্ত্রণ মায়ের
অসুস্হতা, অপুষ্টি, গর্ভজনিত
জটিলতা তথা মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ।
সর্বোপরি মায়ের স্বাস্হ্য সুরক্ষিত
রাখে। নিয়ন্ত্রিত গর্বধারণ গর্ভস্হ
শিশুর অস্বাভাবিকতা বা মৃত্যুর
ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনে এবং
নবজাতকের স্বাস্হ্য রক্ষা করে।
বস্তুত জন্মনিয়ন্ত্রণ
মানে হচ্ছে অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ
পরিহার করা, মায়ের বয়স
অনুসারে প্রথম ও শেষ সন্তান
উপযুক্ত সময়ে (বিশ থেকে পঁয়ত্রিশ
বছর বয়সের মধ্যে) গ্রহণ করা,
সন্তান সংখ্যা সীমিত
রাখা এবং একটি সন্তান জন্মদানের দুই
থেকে তিন বছর পর পরবর্তী সন্তান
গ্রহণ করা। এসব বিষয় বিবেচনায়
নিয়ে একজন
মহিলা গর্ভবর্তী হলে তার স্বাস্হ্য
ঝুঁকির মধ্যে পড়ে না এবং এর
ফলস্বরুপ মাতৃমৃত্যুর হার কমে যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ঘন ঘন
সন্তান জন্মদানের ফলে শিশু
মৃত্যুরহার বেড়ে যায়। দুটি গর্ভধারণের
মধ্যবর্তী দুই থেকে তিন বছর সময়
নিলে শিশু মৃত্যুরহার কমে আসে। এজন্য
বলা হয়ে থাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ
হচ্ছে একটি পরিবারের শিশুকে রক্ষার
অন্যতম উপায়। জন্মনিয়ন্ত্রণের
ফলে শিশু সঠিক ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ
করে। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ,
পুষ্টি এবং দক্ষতাও বেড়ে যায়। সমান
সংখ্যা কম হলে পরিবারের
জীবনযাত্রার মানেরও উন্নতি ঘটে।
পরিবার
পরিকল্পনা বা জন্মনিয়ন্ত্রণের
বিভিন্ন পদ্ধতি আছে।
গ্রহণকারী কোন পদ্ধতি নেবেন
তা বস্তুত একটি ব্যক্তিগত পছন্দের
ব্যাপার। একজন
গ্রহীতা সেবাদানকারীর কাছ থেকে তার
জন্য উপযোগী সব পদ্ধতির
বিস্তারিত, এমনকি পার্শ্ব-
প্রতিক্রিয়াসহ সব তথ্য
সঠিকভাবে জেনে নেবেন।
সেবাদানকারীর কাছ
থেকে পদ্ধতি গ্রহণের
ব্যাপারে সহায়তা নেবেন।
ইদানীং লক্ষ্য করা গেছে শিক্ষিত
বা সচ্ছল শ্রেণীর লোকদের সন্তান
সংখ্যা একটি বা দুটি।
অন্যদিকে অশিক্ষিত,
বস্তিবাসী কিংবা শ্রমিক শ্রেণীর
লোকদের
গড়ে পাঁচটি বা ছয়টি করে সন্তান।
ফলে দেশে এ শ্রেণীর
লোকসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে যা একটি
জাতির জন্য সুখকর নয়। তাই শিক্ষিত
বা সচ্ছল জনগোষ্ঠীর
পাশাপাশি অশিক্ষিত বা দরিদ্র
জনগোষ্ঠীকে পরিবার পরিকল্পনার
আওতায় আনতে হবে। পরিবার
পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সার্থক
করতে এবং সর্বস্তরে এর
গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও
বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য সেবার মান
উন্নয়ন অপরিহার্য।
দ্রুত বর্ধনশীল সংখ্যার চাপে আমাদের
দেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
ব্যাহত হচ্ছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্হান,
শিক্ষা এবং স্বাস্হ্যের মতো মৌলিক
চাহিদাগুলো মেটাতেই হিমশিম
খেতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে। এমতাবস্হায়
মানুষকে ছোট পরিবারের সুফল
সম্পর্কে বোঝাতে হবে।
জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামাজিক
পরিবর্তন আনতে হবে। উপযুক্ত
বয়সে বিয়ে করা, সমাজে পুরুষের
পাশাপাশি মহিলাদের অবস্হান উন্নত
করা, শিক্ষা, স্বাস্হ্য, কর্মসংস্হান,
বৃদ্ধ বয়সের নিরাপত্তা, সন্তানের
বাধ্যতামুলক শিক্ষা তথা অর্থনৈতিক
পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মাথাপিছু
আয় বাড়াতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক
উন্নয়নই হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের
সর্বোত্তম পন্থা।
———————————
—
ডা. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান খান
২০০৮-০৫-১৩
জনস্বাস্হ্য ও প্রিভেনন্টিভ মেডিসিন
বিশেষজ্ঞ
কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল
কলেজ
সূত্রঃ বাংলা হেলথ । শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন । আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা । আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
জন্মদান মা এবং শিশু উভয়ের জন্য
ঝুঁকিপুর্ণ। এমনিতেই গর্ভধারণ
কোনো কোনো মহিলার জন্য মারাত্মক
সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গর্ভধারণ মায়ের
স্বাস্হ্যহানি ঘটাতে পারে,
এমনকি মায়ের জীবনের জন্য
ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। উন্নত
দেশগুলোর চেয়ে আমাদের
দেশে গর্ভজনিত কারণে মাতৃমৃত্যুর
সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি।
সন্তান যত বেশি হয় এ সম্ভাবনাও
তত বেশি বাড়াতে থাকে। ঘন ঘন
সন্তান জন্মদানের ফলে মায়ের
মারাত্মক রক্তস্বল্পতা, গর্ভপাত,
গর্ভকালীন রক্তপাত, এমনকি মৃত্যু
পর্যন্ত হতে পারে। মায়ের স্বাস্হ্য ও
পুষ্টির সঙ্গে নবজাতকের স্বাস্হ্য
সম্পর্কিত। ঘন ঘন সন্তান
জন্মদানের ফলে মায়ের
স্বাস্হ্যহানি ঘটে। এ কারণে গর্ভস্হ
শিশু যথাযথভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়
না এবং স্বাভাবিকের চেয়ে (২.৫
কেজি) কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ
করে। এ ধরনের শিশু
মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হতে পারে,
কানে কম শুনতে পারে, অপুষ্টি,
পরিপাকতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের
ইনফেকশনে আক্রান্ত
হতে পারে এবং চোখের
দৃষ্টিতে ত্রুটি থাকতে পারে। কম ওজন
নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু
পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক বৃদ্ধি,
পরিপুর্ণ বিকাশ এবং দক্ষতা অর্জন
করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত এদের
স্কুল পারফরমেসও খারাপ হয়ে থাকে।
গর্ভকাল মহিলাদের জন্য
একটি ঝুঁকিপুর্ণ সময়। এ সময়ে একজন
মহিলার শারীরিক এবং মানসিক ব্যাপক
পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। একবার
সন্তান জন্মদানের ফলে মহিলাদের
শরীরের যে ক্ষতি বা ঘাটতি হয়
তা পুরণ হতে বেশ সময়ের প্রয়োজন
হয়। শরীর পরবর্তী গর্ভের জন্য
উপযুক্ত হওয়ার আগেই পুনরায়
গর্ভধারণ করলে মারাত্মক
জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে যার
অতি দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
দেখা গেছে ঘন ঘন সন্তান
জন্মদানকারী মায়ের সব গর্ভ ৯ মাস
ধরে চলে না।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৮ সপ্তাহের
আগেই সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
মানবদেহের রক্তের একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপুর্ণ উপাদান
হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। রক্তে এ
হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের
চেয়ে কমে গেলে তাকে রক্তস্বল্পতা বা
এনিমিয়া বলে। আয়রন বা লৌহ
রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক
মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আমাদের দেশের অনেক মহিলাই
শরীরে আয়রনের অভাবজনিত
কারণে রক্তস্বল্পতায় ভুগে থাকেন।
এর কারণ হিসেবে ঘন ঘন সন্তান
জন্মদান, মহিলাদের প্রতি সামাজিক
বৈষম্যমুলক আচরণ, খাবারের পুষ্টিগুণ
সম্পর্কে অজ্ঞতা, বয়ঃসন্ধিকাল
থেকে শুরু করে সমগ্র
প্রজননকালে প্রতি মাসে একবার
করে ঋতুবতী হওয়ার ফলে শরীর
থেকে রক্তক্ষরণ, কৃমির সংক্রমণ
প্রভৃতিকে দায়ী করা যেতে পারে।
গর্ভকালীন সময়ে মহিলাদের
শরীরে আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়।
গর্ভকালে মা এবং গর্ভস্হ শিশুর
চাহিদা পুরণের জন্য স্বাভাবিক
অবস্হার চেয়ে দুই বা তিনগুণ আয়রন
বা লৌহের প্রয়োজন হয়। ঘন ঘন
সন্তান জন্মদানকারী মহিলার
আগে থেকেই রক্তস্বল্পতা বিদ্যমান
থাকে। গর্ভকালে পুর্ব থেকে বিদ্যমান
রক্তস্বল্পতা মারাত্মক আকার ধারণ
করে। রক্তস্বল্পতাজনিত
কারণে গর্ভবর্তী মহিলা প্রায় সব
সময়ই ক্লান্ত এবং দুর্বল বোধ করেন।
অবসন্নতা, মাথা ঝিমঝিম করা, বুক
ধড়ফড় করা, অল্প
পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, শ্বাসকষ্ট
হওয়া কিংবা হাত-
পায়ে পানি আসা মারাত্মক
রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। এ সময়
চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যায়। হাত-পায়ের
তালু, জিহ্বা, দাঁতের মাঢ়ি এবং চোখের
নিচের পাতার ভেতরের দিকে এ
ফ্যাকাশে ভাব পরিলক্ষিত হয়।
গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতার
চিকিৎসা না করালে গর্ভবতী মহিলার
হার্ট ফেইলুর বা গর্ভপাত
হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া রক্তস্বল্পতা গর্ভবতী মহিলার
ইনফেকশন এবং গর্ভকালীন ও
গর্ভপরবর্তী অতিরিক্ত
রক্তক্ষরণের জন্যও দায়ী। এ
কারণে গর্ভকালীন
রক্তস্বল্পতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
উপরোক্ত জটিলতার কথা মাথায়
রেখে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত
একজন মহিলার সুস্হ না হওয়া পর্যন্ত
গর্ভধারণ করা উচিত নয়। গর্ভকালীন
সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার
এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
প্রচুর পরিমাণে রঙিন শাক-
সবজি (যেমন-কচুশাক, ডাঁটাশাক,
লালশাক) ও ফলমুল, দুধ, মাছ, মাংস,
কলিজা, ডিম প্রভৃতি লৌহসমৃদ্ধ খাবার
খেলে রক্তস্বল্পতা দুর হয়।
এছাড়া ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার
যেমন-আমলকি, লেবু, জামবুরা, আমড়া,
আনারস, পেয়ারা ইত্যাদিও খেতে হবে।
এতে শরীরে আয়রন বা লৌহের শোষণ
ভালোমত হয়। দুই গর্ভধারনের
মাঝে কয়েক বছর (দুই থেকে তিন বছর)
সময় নিলেও রক্তস্বল্পতার
ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং সুস্বাস্হ্য পরস্পর
সম্পর্কিত। জন্মনিয়ন্ত্রণ মায়ের
অসুস্হতা, অপুষ্টি, গর্ভজনিত
জটিলতা তথা মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ।
সর্বোপরি মায়ের স্বাস্হ্য সুরক্ষিত
রাখে। নিয়ন্ত্রিত গর্বধারণ গর্ভস্হ
শিশুর অস্বাভাবিকতা বা মৃত্যুর
ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনে এবং
নবজাতকের স্বাস্হ্য রক্ষা করে।
বস্তুত জন্মনিয়ন্ত্রণ
মানে হচ্ছে অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ
পরিহার করা, মায়ের বয়স
অনুসারে প্রথম ও শেষ সন্তান
উপযুক্ত সময়ে (বিশ থেকে পঁয়ত্রিশ
বছর বয়সের মধ্যে) গ্রহণ করা,
সন্তান সংখ্যা সীমিত
রাখা এবং একটি সন্তান জন্মদানের দুই
থেকে তিন বছর পর পরবর্তী সন্তান
গ্রহণ করা। এসব বিষয় বিবেচনায়
নিয়ে একজন
মহিলা গর্ভবর্তী হলে তার স্বাস্হ্য
ঝুঁকির মধ্যে পড়ে না এবং এর
ফলস্বরুপ মাতৃমৃত্যুর হার কমে যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ঘন ঘন
সন্তান জন্মদানের ফলে শিশু
মৃত্যুরহার বেড়ে যায়। দুটি গর্ভধারণের
মধ্যবর্তী দুই থেকে তিন বছর সময়
নিলে শিশু মৃত্যুরহার কমে আসে। এজন্য
বলা হয়ে থাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ
হচ্ছে একটি পরিবারের শিশুকে রক্ষার
অন্যতম উপায়। জন্মনিয়ন্ত্রণের
ফলে শিশু সঠিক ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ
করে। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ,
পুষ্টি এবং দক্ষতাও বেড়ে যায়। সমান
সংখ্যা কম হলে পরিবারের
জীবনযাত্রার মানেরও উন্নতি ঘটে।
পরিবার
পরিকল্পনা বা জন্মনিয়ন্ত্রণের
বিভিন্ন পদ্ধতি আছে।
গ্রহণকারী কোন পদ্ধতি নেবেন
তা বস্তুত একটি ব্যক্তিগত পছন্দের
ব্যাপার। একজন
গ্রহীতা সেবাদানকারীর কাছ থেকে তার
জন্য উপযোগী সব পদ্ধতির
বিস্তারিত, এমনকি পার্শ্ব-
প্রতিক্রিয়াসহ সব তথ্য
সঠিকভাবে জেনে নেবেন।
সেবাদানকারীর কাছ
থেকে পদ্ধতি গ্রহণের
ব্যাপারে সহায়তা নেবেন।
ইদানীং লক্ষ্য করা গেছে শিক্ষিত
বা সচ্ছল শ্রেণীর লোকদের সন্তান
সংখ্যা একটি বা দুটি।
অন্যদিকে অশিক্ষিত,
বস্তিবাসী কিংবা শ্রমিক শ্রেণীর
লোকদের
গড়ে পাঁচটি বা ছয়টি করে সন্তান।
ফলে দেশে এ শ্রেণীর
লোকসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে যা একটি
জাতির জন্য সুখকর নয়। তাই শিক্ষিত
বা সচ্ছল জনগোষ্ঠীর
পাশাপাশি অশিক্ষিত বা দরিদ্র
জনগোষ্ঠীকে পরিবার পরিকল্পনার
আওতায় আনতে হবে। পরিবার
পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সার্থক
করতে এবং সর্বস্তরে এর
গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও
বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য সেবার মান
উন্নয়ন অপরিহার্য।
দ্রুত বর্ধনশীল সংখ্যার চাপে আমাদের
দেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
ব্যাহত হচ্ছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্হান,
শিক্ষা এবং স্বাস্হ্যের মতো মৌলিক
চাহিদাগুলো মেটাতেই হিমশিম
খেতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে। এমতাবস্হায়
মানুষকে ছোট পরিবারের সুফল
সম্পর্কে বোঝাতে হবে।
জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামাজিক
পরিবর্তন আনতে হবে। উপযুক্ত
বয়সে বিয়ে করা, সমাজে পুরুষের
পাশাপাশি মহিলাদের অবস্হান উন্নত
করা, শিক্ষা, স্বাস্হ্য, কর্মসংস্হান,
বৃদ্ধ বয়সের নিরাপত্তা, সন্তানের
বাধ্যতামুলক শিক্ষা তথা অর্থনৈতিক
পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মাথাপিছু
আয় বাড়াতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক
উন্নয়নই হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের
সর্বোত্তম পন্থা।
———————————
—
ডা. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান খান
২০০৮-০৫-১৩
জনস্বাস্হ্য ও প্রিভেনন্টিভ মেডিসিন
বিশেষজ্ঞ
কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল
কলেজ
সূত্রঃ বাংলা হেলথ । শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন । আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা । আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
প্রসবোত্তর মায়ের মানসিক সমস্যা
সন্তান প্রসব একজন নারীর
জীবনে অতি কাঙ্ক্ষিত ব্যাপার।
প্রসবের সাথে সাথে নারী দীর্ঘদিনের
গর্ভধারণে পরিবারের সাথে গর্ভকালীন
নানা দৈহিক হরমোনাল পরিবর্তনের
পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রসব করার
কাজটিও বেশ পরিশ্রমের। সন্তান
প্রসবের পর পর মায়ের দেহে দ্রুত
পরিবর্তন ঘটায় তার মধ্যে কিছু
শারীরিক ও মানসিক
অসুস্থতা দেখা দেয়।
এ সময়ের মানসিক
অসুস্থতাগুলোকে তিনটি ভাগে বর্ণনা
করা যায়।
১. মেটারনিটি ব্লু
২. পারপিউরাল সাইকোসিস
৩. পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন
১. মেটারনিটি ব্লুঃ শতকরা ৫০-৭০
ভাগ মা এ সমস্যায় ভোগেন। প্রসবের
তিন-চার দিন পর অসুস্থতা দেখা দেয়।
এ সময় মায়ের মেজাজ
খিটখিটে হয়ে যায়। তার মুডে ত্বরিত
পরিবর্তন হয় এই খুশি, এই দুঃখ;
মাঝে মধ্যে অকারণেই কেঁদে ফেলে, সব
কিছুতে কেমন ঘোলা ঘোলা ভাব।
এ অবস্থার জন্য তেমন
কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না।
কয়েক দিনের মধ্যেই
প্রসূতি স্বাভাবিক অবস্থায়
ফিরে আসে। এ অসুস্থতার
একটা সামাজিক গুরুত্ব আছে। বিশেষত
পুত্রসন্তান চাচ্ছেন এমন
মা কন্যাসন্তান প্রসব করলে তার
আশপাশের লোকজন এ
অসুস্থতাকে ‘পুত্র’সন্তানের জন্য মন
খারাপ বলে মনে করেন। এ রকম
ভাবনা প্রসূতির পরিচর্যায় ব্যাঘাত
ঘটাতে পারে।
২.
পারপিউরাল সাইকোসিসঃ প্রসবোত্তর
মানসিক সমস্যার মধ্যে এ রোগটিই
মানুষের কাছে বেশি পরিচিত।
প্রতি হাজার প্রসূতির মধ্যে এক
থেকে দু’জন এ রোগে আক্রান্ত হন।
সাধারণত প্রসবোত্তর প্রথম
বা দ্বিতীয় সপ্তায় এ
রোগটি দেখা দেয়। এ রোগের প্রধান
উপসর্গগুলো ঘুম না হওয়া, বিরক্তি,
খিটখিটে মেজাজ, খাওয়া-দাওয়া ও
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার
প্রতি উদাসীন, আবোল-তাবোল বলা,
বাড়ির বাইরে এদিক-ওদিক
চলে যেতে চাওয়া, অযথা ভয় পাওয়া,
সন্তানটির যত্ন না নেয়া, যেমন-
নবজাতক সম্পর্কে ভ্রান্ত বিশ্বাস এ
সন্তান আসলে একটা শয়তান বা খারাপ
কিছু, একে মেরে ফেলাই ভালো।
চিকিৎসাঃ বৈদ্যুতিক চিকিৎসা (ইসিটি)
এ রোগের অতি কার্যকর চিকিৎসা।
এন্টিসাইকোটিক ওষুধের
দ্বারা রোগটির চিকিৎসা করা হয়।
কয়েক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ
রোগী সুস্থ হয়ে যায়। কিছু কিছু রোগীর
অসুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।
৩. পোস্ট পার্টাম
ডিপ্রেশনঃ প্রসবোত্তর বিষণ্নতার
প্রকোপ কম নয়, প্রায়
শতকরা ১০-১৫ জন
প্রসূতি প্রসবোত্তর বিষণ্নতায়
ভোগেন। সাধারণত প্রসবের দুই সপ্তাহ
পর এ সমস্যা শুরু হয়।
রোগিণী অত্যন্ত ক্লান্তবোধ করেন,
অহেতুক দুশ্চিন্তা করেন
এবং অযথা ভয়ভীতি পান, মেজাজ
খিটখিটে হয়ে যায়, মন বিষণ্ন থাকে। এ
সময় প্রসূতির মনে এমন ভ্রান্ত
বিশ্বাস জন্ম নিতে পারে যে সদ্যজাত
সন্তানের কোনো শারীরিক বা মানসিক
খুঁত আছে, সন্তানটি তিনি মানুষ
করতে পারবেন না, অতএব
একে মেরে ফেলাই ভালো।
প্রসূতি নিজেও আত্মহত্যার
চেষ্টা করতে পারেন।
চিকিৎসাঃ সাইকোথেরাপি, সামাজিক
সচেতনতার উন্নয়ন ও
বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ দ্বারা এ রোগের
চিকিৎসা করা হয়।
প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক চিকিৎসা (ইসিটি)
ব্যবহার করা যেতে পারে।
কাদের প্রসবোত্তর মানসিক
সমস্যা বেশি হয়ঃ
যেকোনো প্রসূতির প্রসবোত্তর
মানসিক সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু
কিছু বিষয় এ ধরনের মানসিক
সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
যেমন কম বয়সী মা, আগে যার মানসিক
অসুস্থতা হয়েছিল, যার পরিবারের
মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস আছে,
তা সদ্যজাত সন্তানের যত্নের জন্য
মায়ের ওপর যে চাপ থাকে তা লাঘবের
পারিবারিক বা সামাজিক
ব্যবস্থা না থাকা, মানসিক চাপ,
দাম্পত্য অশান্তি ইত্যাদি।
প্রতিরোধঃ
যেসব কারণে সদ্যপ্রসূতির মানসিক
সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেসবের
প্রতিবিধান করতে পারলে এসব
মানসিক রোগ প্রতিরোধ
করা অনেকাংশে সম্ভব। এ জন্য
দরকার বিশ বছর বয়সের
আগে মা না হওয়া, সদ্যপ্রসূতির
শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের
ব্যবস্থা করা, সদ্যজাত শিশুর যত্নের
জন্য পারিবারিক ও সামাজিক
ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দাম্পত্য কলহ
মিটিয়ে ফেলা। তার পরও মানসিক
সমস্যা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব
তার চিকিৎসা নিতে হবে। এতে রোগীর
সুস্থতা নিশ্চিত হবে আর মানসিক
অসুস্থতার জটিলতাও কম থাকবে।
————————-
ডা. জিল্লুর কামাল
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, জাতীয়
মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট,
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
জীবনে অতি কাঙ্ক্ষিত ব্যাপার।
প্রসবের সাথে সাথে নারী দীর্ঘদিনের
গর্ভধারণে পরিবারের সাথে গর্ভকালীন
নানা দৈহিক হরমোনাল পরিবর্তনের
পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রসব করার
কাজটিও বেশ পরিশ্রমের। সন্তান
প্রসবের পর পর মায়ের দেহে দ্রুত
পরিবর্তন ঘটায় তার মধ্যে কিছু
শারীরিক ও মানসিক
অসুস্থতা দেখা দেয়।
এ সময়ের মানসিক
অসুস্থতাগুলোকে তিনটি ভাগে বর্ণনা
করা যায়।
১. মেটারনিটি ব্লু
২. পারপিউরাল সাইকোসিস
৩. পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন
১. মেটারনিটি ব্লুঃ শতকরা ৫০-৭০
ভাগ মা এ সমস্যায় ভোগেন। প্রসবের
তিন-চার দিন পর অসুস্থতা দেখা দেয়।
এ সময় মায়ের মেজাজ
খিটখিটে হয়ে যায়। তার মুডে ত্বরিত
পরিবর্তন হয় এই খুশি, এই দুঃখ;
মাঝে মধ্যে অকারণেই কেঁদে ফেলে, সব
কিছুতে কেমন ঘোলা ঘোলা ভাব।
এ অবস্থার জন্য তেমন
কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না।
কয়েক দিনের মধ্যেই
প্রসূতি স্বাভাবিক অবস্থায়
ফিরে আসে। এ অসুস্থতার
একটা সামাজিক গুরুত্ব আছে। বিশেষত
পুত্রসন্তান চাচ্ছেন এমন
মা কন্যাসন্তান প্রসব করলে তার
আশপাশের লোকজন এ
অসুস্থতাকে ‘পুত্র’সন্তানের জন্য মন
খারাপ বলে মনে করেন। এ রকম
ভাবনা প্রসূতির পরিচর্যায় ব্যাঘাত
ঘটাতে পারে।
২.
পারপিউরাল সাইকোসিসঃ প্রসবোত্তর
মানসিক সমস্যার মধ্যে এ রোগটিই
মানুষের কাছে বেশি পরিচিত।
প্রতি হাজার প্রসূতির মধ্যে এক
থেকে দু’জন এ রোগে আক্রান্ত হন।
সাধারণত প্রসবোত্তর প্রথম
বা দ্বিতীয় সপ্তায় এ
রোগটি দেখা দেয়। এ রোগের প্রধান
উপসর্গগুলো ঘুম না হওয়া, বিরক্তি,
খিটখিটে মেজাজ, খাওয়া-দাওয়া ও
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার
প্রতি উদাসীন, আবোল-তাবোল বলা,
বাড়ির বাইরে এদিক-ওদিক
চলে যেতে চাওয়া, অযথা ভয় পাওয়া,
সন্তানটির যত্ন না নেয়া, যেমন-
নবজাতক সম্পর্কে ভ্রান্ত বিশ্বাস এ
সন্তান আসলে একটা শয়তান বা খারাপ
কিছু, একে মেরে ফেলাই ভালো।
চিকিৎসাঃ বৈদ্যুতিক চিকিৎসা (ইসিটি)
এ রোগের অতি কার্যকর চিকিৎসা।
এন্টিসাইকোটিক ওষুধের
দ্বারা রোগটির চিকিৎসা করা হয়।
কয়েক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ
রোগী সুস্থ হয়ে যায়। কিছু কিছু রোগীর
অসুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।
৩. পোস্ট পার্টাম
ডিপ্রেশনঃ প্রসবোত্তর বিষণ্নতার
প্রকোপ কম নয়, প্রায়
শতকরা ১০-১৫ জন
প্রসূতি প্রসবোত্তর বিষণ্নতায়
ভোগেন। সাধারণত প্রসবের দুই সপ্তাহ
পর এ সমস্যা শুরু হয়।
রোগিণী অত্যন্ত ক্লান্তবোধ করেন,
অহেতুক দুশ্চিন্তা করেন
এবং অযথা ভয়ভীতি পান, মেজাজ
খিটখিটে হয়ে যায়, মন বিষণ্ন থাকে। এ
সময় প্রসূতির মনে এমন ভ্রান্ত
বিশ্বাস জন্ম নিতে পারে যে সদ্যজাত
সন্তানের কোনো শারীরিক বা মানসিক
খুঁত আছে, সন্তানটি তিনি মানুষ
করতে পারবেন না, অতএব
একে মেরে ফেলাই ভালো।
প্রসূতি নিজেও আত্মহত্যার
চেষ্টা করতে পারেন।
চিকিৎসাঃ সাইকোথেরাপি, সামাজিক
সচেতনতার উন্নয়ন ও
বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ দ্বারা এ রোগের
চিকিৎসা করা হয়।
প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক চিকিৎসা (ইসিটি)
ব্যবহার করা যেতে পারে।
কাদের প্রসবোত্তর মানসিক
সমস্যা বেশি হয়ঃ
যেকোনো প্রসূতির প্রসবোত্তর
মানসিক সমস্যা হতে পারে। তবে কিছু
কিছু বিষয় এ ধরনের মানসিক
সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
যেমন কম বয়সী মা, আগে যার মানসিক
অসুস্থতা হয়েছিল, যার পরিবারের
মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস আছে,
তা সদ্যজাত সন্তানের যত্নের জন্য
মায়ের ওপর যে চাপ থাকে তা লাঘবের
পারিবারিক বা সামাজিক
ব্যবস্থা না থাকা, মানসিক চাপ,
দাম্পত্য অশান্তি ইত্যাদি।
প্রতিরোধঃ
যেসব কারণে সদ্যপ্রসূতির মানসিক
সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেসবের
প্রতিবিধান করতে পারলে এসব
মানসিক রোগ প্রতিরোধ
করা অনেকাংশে সম্ভব। এ জন্য
দরকার বিশ বছর বয়সের
আগে মা না হওয়া, সদ্যপ্রসূতির
শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের
ব্যবস্থা করা, সদ্যজাত শিশুর যত্নের
জন্য পারিবারিক ও সামাজিক
ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দাম্পত্য কলহ
মিটিয়ে ফেলা। তার পরও মানসিক
সমস্যা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব
তার চিকিৎসা নিতে হবে। এতে রোগীর
সুস্থতা নিশ্চিত হবে আর মানসিক
অসুস্থতার জটিলতাও কম থাকবে।
————————-
ডা. জিল্লুর কামাল
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, জাতীয়
মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট,
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভাবস্হায় খাওয়া-দাওয়া
গর্ভাবস্হা কোনো অসুখ নয়। তাই এই
অবস্হার কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন
নেই। তবে গর্ভাবস্হায় যে ওষুধটির
প্রয়োজন, তাহলো খাওয়া-দাওয়া।
মনে রাখবেন গর্ভাবস্হায় প্রতি বেলায়
বিরানি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমরা জানি, আমাদের
খাদ্যগুলোকে মোটামুটিভাবে নিম্নের
বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-১। শর্করা ২। তৈল জাতীয়
পদার্থ ৩। আমিষ ৪। ভিটামিন ও
খনিজ পদার্থ।
ভিটামিন ও খনিজ পদার্থগুলো আমাদের
বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যেই রয়েছে।
বাকি খাদ্যদ্রব্যগুলোর মধ্যে আমাদের
দেহ শর্করা ও তৈল জাতীয় পদার্থ
তৈরি করতে পারে। আমাদের দেহ আমিষ
তৈরি করতে পারে না। অথচ আমিষই
আমাদের দেহের
কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপুর্ণ
ভুমিকা রাখে। তাই একজন
গর্ভবর্তী মহিলার খাবারে অবশ্যই
আমিষ থাকতে হবে। ডিম, দুধ ও মাছ-
মাংসই আমিষের প্রধান উৎস। শাক-
সবজি প্রচুর পরিমাণে খেলে নিয়মিত
পায়খানা হয়। আর এতে ক্ষুধা ও
খাওয়ার রুচি ভালো থাকে।
নিম্নে একজন গর্ভবর্তী মায়ের দৈনিক
খাদ্যের একটি তালিকা দিলাম।
ডিম ১টি, দুধ আধা কেজি, মাছ-মাংস
প্রতিদিন, পাঁচ মিশালি সবজি।
যাদের অর্থনৈতিক অবস্হা ভালো নয়
তারা কী করবেন। আপনারা ডিম,
গুঁড়োমাছ, ডাল, সিমের বিচি,
শাকসবজি ইত্যাদি খেতে পারেন।
আজকাল বাজারে ছোট ছোট প্যাকেট
গুঁড়ো দুধ পাওয়া যায়। সব সময়
না পারলেও মাঝে মাঝে এসব প্যাকেটের
দুধ খেতে পারেন। এভাবে চললে আপনার
বাচ্চা ধনীদের বাচ্চার মতোই সুস্হ
হয়ে জন্মাতে পারে।
মনে রাখবেন
আমরা যদি একটি ভালো গাড়ি চাই,
তবে সবাই বলবেন
ফ্যাক্টরিতে ভালো কাঁচামাল দিতে হবে।
কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে, উত্তম
খাবার না খেলে উত্তম
বাচ্চা আশা করাটা বোকামি ছাড়া আর
কিছু নয়। এটা সত্য, গর্ভাবস্হায়
বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে খাওয়ার
রুচি কমে যায়। তবে আপনি যদি বোঝেন
গর্ভাবস্হার প্রধান
চিকিৎসা ঠিকমতো খাওয়া-
দাওয়া করা এই লক্ষ্য
অর্জনে আপনি যদি চেষ্টা করেন,
তবে অবশ্যই আপনি প্রয়োজনীয়
খাবার খেতে পারবেন। প্রত্যেক মা-ই
চাইবেন যে তার সন্তান পৃথিবীর
সেরাটা হোক। আর তা যদি চান,
তবে অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয়
খাবার খেতে হবে।
এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার,
আর তা হলো গর্ভের সন্তানের জন্য
খাবারের পরিমাণ খুব একটা বাড়ানোর
প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু
খাবারে উন্নত খাদ্যদ্রব্যের
ব্যবস্হা রাখা।
ডাক্তাররা গর্ভবর্তী মায়েদের কিছু
ওষুধ দিয়ে থাকেন। এগুলো দেয়া হয়
একটা লক্ষ্যে আর
তা হলো যদি কোথাও কোনো কিছুর
অভাব থাকে, তা যেন পুরণ হয়।
আপনি যদি খাবার না খেয়ে বড়
ডাক্তারের ওষুধই শুধু খান তবে বড়
ভুল করবেন।
গর্ভাবস্হায় খাবার সম্বন্ধে আমাদের
দেশে একটি কুসংস্কার প্রচলিত আছে,
আর তা হলো বেশি বেশি ফল
খেলে সন্তান ফর্সা হয়।
এটা সম্পুর্ণরুপে ভুল ধারণা। কোন
সন্তানের রং কেমন হবে, তা বাবা ও
মায়ের জেনেটিক মিশ্রণের
ফলে নির্ধারিত হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্হায় ফল খাওয়া যায়, কিন্তু
কেউ যদি সন্তানকে ফর্সা করার
ইচ্ছায় সারাক্ষণ ফলই খেতে থাকেন
এবং প্রয়োজনীয় অন্য খাদ্যদ্রব্য
বিশেষ করে আমিষ না খেয়ে থাকেন,
তবে সন্তান তো ফর্সা হবেই না বরঞ্চ
সন্তানের সঠিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে।
এই অবস্হাকে ডাক্তারি ভাষায়
‘গর্ভাবস্হায় সন্তানের বৃদ্ধি রোধ’
বলা হয়ে থাকে।
এতে ভবিষ্যতে আপনার সন্তানের
মানসিক বৃদ্ধির সমস্যাসহ
আরো মানবিক সমস্যার
সৃষ্টি হতে পারে।
উপসংহারে আমি বলতে চাই,
যদি আপনি একটি সুস্হ সন্তান
আশা করেন, তবে আপনার প্রথম কাজ
হবে এ সময় সুষম খাবার খাওয়া।
——————
অধ্যাপক এম আনোয়ার হোসেন
প্রসুতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
অবস্হার কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন
নেই। তবে গর্ভাবস্হায় যে ওষুধটির
প্রয়োজন, তাহলো খাওয়া-দাওয়া।
মনে রাখবেন গর্ভাবস্হায় প্রতি বেলায়
বিরানি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমরা জানি, আমাদের
খাদ্যগুলোকে মোটামুটিভাবে নিম্নের
বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-১। শর্করা ২। তৈল জাতীয়
পদার্থ ৩। আমিষ ৪। ভিটামিন ও
খনিজ পদার্থ।
ভিটামিন ও খনিজ পদার্থগুলো আমাদের
বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যেই রয়েছে।
বাকি খাদ্যদ্রব্যগুলোর মধ্যে আমাদের
দেহ শর্করা ও তৈল জাতীয় পদার্থ
তৈরি করতে পারে। আমাদের দেহ আমিষ
তৈরি করতে পারে না। অথচ আমিষই
আমাদের দেহের
কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপুর্ণ
ভুমিকা রাখে। তাই একজন
গর্ভবর্তী মহিলার খাবারে অবশ্যই
আমিষ থাকতে হবে। ডিম, দুধ ও মাছ-
মাংসই আমিষের প্রধান উৎস। শাক-
সবজি প্রচুর পরিমাণে খেলে নিয়মিত
পায়খানা হয়। আর এতে ক্ষুধা ও
খাওয়ার রুচি ভালো থাকে।
নিম্নে একজন গর্ভবর্তী মায়ের দৈনিক
খাদ্যের একটি তালিকা দিলাম।
ডিম ১টি, দুধ আধা কেজি, মাছ-মাংস
প্রতিদিন, পাঁচ মিশালি সবজি।
যাদের অর্থনৈতিক অবস্হা ভালো নয়
তারা কী করবেন। আপনারা ডিম,
গুঁড়োমাছ, ডাল, সিমের বিচি,
শাকসবজি ইত্যাদি খেতে পারেন।
আজকাল বাজারে ছোট ছোট প্যাকেট
গুঁড়ো দুধ পাওয়া যায়। সব সময়
না পারলেও মাঝে মাঝে এসব প্যাকেটের
দুধ খেতে পারেন। এভাবে চললে আপনার
বাচ্চা ধনীদের বাচ্চার মতোই সুস্হ
হয়ে জন্মাতে পারে।
মনে রাখবেন
আমরা যদি একটি ভালো গাড়ি চাই,
তবে সবাই বলবেন
ফ্যাক্টরিতে ভালো কাঁচামাল দিতে হবে।
কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে, উত্তম
খাবার না খেলে উত্তম
বাচ্চা আশা করাটা বোকামি ছাড়া আর
কিছু নয়। এটা সত্য, গর্ভাবস্হায়
বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে খাওয়ার
রুচি কমে যায়। তবে আপনি যদি বোঝেন
গর্ভাবস্হার প্রধান
চিকিৎসা ঠিকমতো খাওয়া-
দাওয়া করা এই লক্ষ্য
অর্জনে আপনি যদি চেষ্টা করেন,
তবে অবশ্যই আপনি প্রয়োজনীয়
খাবার খেতে পারবেন। প্রত্যেক মা-ই
চাইবেন যে তার সন্তান পৃথিবীর
সেরাটা হোক। আর তা যদি চান,
তবে অবশ্যই আপনাকে প্রয়োজনীয়
খাবার খেতে হবে।
এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার,
আর তা হলো গর্ভের সন্তানের জন্য
খাবারের পরিমাণ খুব একটা বাড়ানোর
প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু
খাবারে উন্নত খাদ্যদ্রব্যের
ব্যবস্হা রাখা।
ডাক্তাররা গর্ভবর্তী মায়েদের কিছু
ওষুধ দিয়ে থাকেন। এগুলো দেয়া হয়
একটা লক্ষ্যে আর
তা হলো যদি কোথাও কোনো কিছুর
অভাব থাকে, তা যেন পুরণ হয়।
আপনি যদি খাবার না খেয়ে বড়
ডাক্তারের ওষুধই শুধু খান তবে বড়
ভুল করবেন।
গর্ভাবস্হায় খাবার সম্বন্ধে আমাদের
দেশে একটি কুসংস্কার প্রচলিত আছে,
আর তা হলো বেশি বেশি ফল
খেলে সন্তান ফর্সা হয়।
এটা সম্পুর্ণরুপে ভুল ধারণা। কোন
সন্তানের রং কেমন হবে, তা বাবা ও
মায়ের জেনেটিক মিশ্রণের
ফলে নির্ধারিত হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্হায় ফল খাওয়া যায়, কিন্তু
কেউ যদি সন্তানকে ফর্সা করার
ইচ্ছায় সারাক্ষণ ফলই খেতে থাকেন
এবং প্রয়োজনীয় অন্য খাদ্যদ্রব্য
বিশেষ করে আমিষ না খেয়ে থাকেন,
তবে সন্তান তো ফর্সা হবেই না বরঞ্চ
সন্তানের সঠিক বৃদ্ধি নাও হতে পারে।
এই অবস্হাকে ডাক্তারি ভাষায়
‘গর্ভাবস্হায় সন্তানের বৃদ্ধি রোধ’
বলা হয়ে থাকে।
এতে ভবিষ্যতে আপনার সন্তানের
মানসিক বৃদ্ধির সমস্যাসহ
আরো মানবিক সমস্যার
সৃষ্টি হতে পারে।
উপসংহারে আমি বলতে চাই,
যদি আপনি একটি সুস্হ সন্তান
আশা করেন, তবে আপনার প্রথম কাজ
হবে এ সময় সুষম খাবার খাওয়া।
——————
অধ্যাপক এম আনোয়ার হোসেন
প্রসুতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
মেয়েদের স্তনে ব্যথা !
অনেক মহিলারই
কোনো না কোনো সময়ে স্তনের
ব্যথা অনুভূত হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই
অবস্থাকে ম্যাস্টালজিয়া বলে। হরমোন
বা হরমোন নির্ভরশীল পরিবর্তন এ
সমস্যার কারণ। স্তনে ব্যথার
সাথে সাথে চাকা বা গুটি অনুভূত হয়।
অনেকে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন।
আসলে এটা খুব মারাত্মক কিছু নয়।
তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হতে পারে।
হরমোন নির্ভরশীল পরিবর্তন
সাধারণত ৫৫ বছর বয়সের
নিচে এবং যেসব মহিলার মাসিক
এখনো চলছে তাদের হয়।
কোনো কোনো মহিলার মাসিকের
আগে ব্যথা ও গুটির সমস্যা বাড়ে।
মাসিকের পর কমে যায়। রক্তে নানান
হরমোন লেভেল স্তনের
টিস্যুকে প্রভাবিত করে।
কোনো কোনো সময় ব্যথা খুব তীব্র
এবং সব সময় থাকে, এই ব্যথা হাতেও
ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকে ভাবেন
ক্যান্সার হয়েছে। আসলে এটা ক্যান্সার
নয়। জেনে রাখুন,ক্যান্সারের
কারণে স্তনে ব্যথা হয় না।
স্তনে গুটি কিংবা ম্যাস্টালজিয়া হলে
অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের
পরামর্শ নেয়া উচিত।
তিনি পরীক্ষা করে কী কারণে অসুবিধা
হচ্ছে তা বলতে পারবেন। অন্য
কোনো কারণে গুটি কিংবা ব্যথা হয়েছে
কি না তা বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রোগিণীকে আশ্বস্ত করার জন্য এ
ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পরীক্ষার
প্রয়োজন হতে পারে।
মেমোগ্রাম
মেমোগ্রাম স্তনের এক্স-রে। ৩০
বছর বয়সের
ওপরে এটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
কারণ তখন স্তনের টিস্যু কম
গ্লান্ডুলার থাকে এবং এক্স-
রে ছবি ভালো আসে।
আল্ট্রাসাউন্ড
শব্দতরঙ্গ দিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়।
ছোট একটা মাইক্রোফোন জাতীয়
যন্ত্র স্তনের ওপর ধরা হয়
এবং স্তনের গুটি, সিস্ট
অথবা স্বাভাবিক স্তন এই পরীক্ষায়
ধরা পড়ে। সব বয়সের মহিলাদের জন্য
এটা একটা অত্যন্ত কার্যকর
পরীক্ষা।
ফাইন নিডেল এসপিরেশন সাইটোলজি
একটি সূক্ষ্ম সুঁই দ্বারা স্তনের
গুটি থেকে কিছু কোষ
সরিয়ে তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র
দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত এই
পরীক্ষা করতে খুব একটা কষ্ট হয় না।
চিকিৎসা
একবার যখন এইচডিসি রোগ
ধরা পড়ে তখন রোগিণীকে আশ্বস্ত
করা যায়। রোগীর যদি উপসর্গ খুব
বেশি না থাকে, কোনো ওষুধপত্রের
প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ মহিলার
জন্য এটাই প্রযোজ্য।
এইচডিসি নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়,
তবে কয়েক মাস লাগতে পারে।
উপসর্গ যদি থেকে যায়
অথবা রোগী যদি উপসর্গের জন্য
বেশি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে বিভিন্ন
রকমের চিকিৎসা করে দেখা যেতে পারে।
যেমনঃ
ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল ক্যাপসুল
অনেক সময় দেখা গেছে,
ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল ক্যাপসুল
খেলে স্তনের ব্যথা এবং চাকা ও
শক্তভাব কমে যায়। বিশেষ
করে মাসিকের আগে যখন এসব উপসর্গ
বাড়ে। সব মহিলার ক্ষেত্রে এটা কাজ
না-ও করতে পারে এবং এটা কাজ
করতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। ওষুধের
দামও বেশি।
কেফিন
চা অথবা কফি বেশি খেলে এইচডিসি
বাড়তে পারে।
চা বা কফি (যেগুলোতে কেফিন থাকে)
খাওয়া কমিয়ে দিলে অনেক সময়
এইচডিসি ভালোর দিকে যায়।
দুশ্চিন্তা
দুশ্চিন্তায় মাথাব্যথা, ঘুম কম হওয়া,
বিরক্ত হওয়া এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ার
সাথে সাথে ম্যাস্টালজিয়া বাড়তে পারে।
এই কারণে দুশ্চিন্ত কমানো প্রয়োজন।
রিলাক্সেশন করায় উপকৃত হতে পারেন।
ব্রা
সঠিক ফিটিং ব্রা অনেক সময় সাহায্য
করে, বিশেষ করে আপনি যদি খেলোয়াড়
হন।
হরমোন থেরাপি
যদি উপসর্গ খুব বেশি হয়
তাহলে হরমোন থেরাপি দেয়া যেতে পারে।
মনে রাখবেন, হরমোন খাবার সময়
গর্ভধারণ করা যাবে না। এই ওষুধের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তাই
রোগীর খুব কষ্ট না থাকলে দেয়া হয়
না।
———————
ডা. ওয়ানাইজা
চেম্বারঃ যুবক মেডিক্যাল সার্ভিসেস ,
বাড়িঃ ১৬, রোডঃ ২৮ (পুরাতন), ১৫
(নতুন), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা,
ঢাকা (শনি, রবি ও বৃহস্পতিবার)।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
কোনো না কোনো সময়ে স্তনের
ব্যথা অনুভূত হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই
অবস্থাকে ম্যাস্টালজিয়া বলে। হরমোন
বা হরমোন নির্ভরশীল পরিবর্তন এ
সমস্যার কারণ। স্তনে ব্যথার
সাথে সাথে চাকা বা গুটি অনুভূত হয়।
অনেকে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন।
আসলে এটা খুব মারাত্মক কিছু নয়।
তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হতে পারে।
হরমোন নির্ভরশীল পরিবর্তন
সাধারণত ৫৫ বছর বয়সের
নিচে এবং যেসব মহিলার মাসিক
এখনো চলছে তাদের হয়।
কোনো কোনো মহিলার মাসিকের
আগে ব্যথা ও গুটির সমস্যা বাড়ে।
মাসিকের পর কমে যায়। রক্তে নানান
হরমোন লেভেল স্তনের
টিস্যুকে প্রভাবিত করে।
কোনো কোনো সময় ব্যথা খুব তীব্র
এবং সব সময় থাকে, এই ব্যথা হাতেও
ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকে ভাবেন
ক্যান্সার হয়েছে। আসলে এটা ক্যান্সার
নয়। জেনে রাখুন,ক্যান্সারের
কারণে স্তনে ব্যথা হয় না।
স্তনে গুটি কিংবা ম্যাস্টালজিয়া হলে
অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের
পরামর্শ নেয়া উচিত।
তিনি পরীক্ষা করে কী কারণে অসুবিধা
হচ্ছে তা বলতে পারবেন। অন্য
কোনো কারণে গুটি কিংবা ব্যথা হয়েছে
কি না তা বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রোগিণীকে আশ্বস্ত করার জন্য এ
ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পরীক্ষার
প্রয়োজন হতে পারে।
মেমোগ্রাম
মেমোগ্রাম স্তনের এক্স-রে। ৩০
বছর বয়সের
ওপরে এটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
কারণ তখন স্তনের টিস্যু কম
গ্লান্ডুলার থাকে এবং এক্স-
রে ছবি ভালো আসে।
আল্ট্রাসাউন্ড
শব্দতরঙ্গ দিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়।
ছোট একটা মাইক্রোফোন জাতীয়
যন্ত্র স্তনের ওপর ধরা হয়
এবং স্তনের গুটি, সিস্ট
অথবা স্বাভাবিক স্তন এই পরীক্ষায়
ধরা পড়ে। সব বয়সের মহিলাদের জন্য
এটা একটা অত্যন্ত কার্যকর
পরীক্ষা।
ফাইন নিডেল এসপিরেশন সাইটোলজি
একটি সূক্ষ্ম সুঁই দ্বারা স্তনের
গুটি থেকে কিছু কোষ
সরিয়ে তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র
দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত এই
পরীক্ষা করতে খুব একটা কষ্ট হয় না।
চিকিৎসা
একবার যখন এইচডিসি রোগ
ধরা পড়ে তখন রোগিণীকে আশ্বস্ত
করা যায়। রোগীর যদি উপসর্গ খুব
বেশি না থাকে, কোনো ওষুধপত্রের
প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ মহিলার
জন্য এটাই প্রযোজ্য।
এইচডিসি নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়,
তবে কয়েক মাস লাগতে পারে।
উপসর্গ যদি থেকে যায়
অথবা রোগী যদি উপসর্গের জন্য
বেশি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে বিভিন্ন
রকমের চিকিৎসা করে দেখা যেতে পারে।
যেমনঃ
ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল ক্যাপসুল
অনেক সময় দেখা গেছে,
ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল ক্যাপসুল
খেলে স্তনের ব্যথা এবং চাকা ও
শক্তভাব কমে যায়। বিশেষ
করে মাসিকের আগে যখন এসব উপসর্গ
বাড়ে। সব মহিলার ক্ষেত্রে এটা কাজ
না-ও করতে পারে এবং এটা কাজ
করতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। ওষুধের
দামও বেশি।
কেফিন
চা অথবা কফি বেশি খেলে এইচডিসি
বাড়তে পারে।
চা বা কফি (যেগুলোতে কেফিন থাকে)
খাওয়া কমিয়ে দিলে অনেক সময়
এইচডিসি ভালোর দিকে যায়।
দুশ্চিন্তা
দুশ্চিন্তায় মাথাব্যথা, ঘুম কম হওয়া,
বিরক্ত হওয়া এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ার
সাথে সাথে ম্যাস্টালজিয়া বাড়তে পারে।
এই কারণে দুশ্চিন্ত কমানো প্রয়োজন।
রিলাক্সেশন করায় উপকৃত হতে পারেন।
ব্রা
সঠিক ফিটিং ব্রা অনেক সময় সাহায্য
করে, বিশেষ করে আপনি যদি খেলোয়াড়
হন।
হরমোন থেরাপি
যদি উপসর্গ খুব বেশি হয়
তাহলে হরমোন থেরাপি দেয়া যেতে পারে।
মনে রাখবেন, হরমোন খাবার সময়
গর্ভধারণ করা যাবে না। এই ওষুধের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। তাই
রোগীর খুব কষ্ট না থাকলে দেয়া হয়
না।
———————
ডা. ওয়ানাইজা
চেম্বারঃ যুবক মেডিক্যাল সার্ভিসেস ,
বাড়িঃ ১৬, রোডঃ ২৮ (পুরাতন), ১৫
(নতুন), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা,
ঢাকা (শনি, রবি ও বৃহস্পতিবার)।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
সিজারিয়ান অপারেশন যা জানা প্রয়োজন |

‘সিজারিয়ান’ শব্দটার সঙ্গে এখন
মোটামুটি সবাই পরিচিত। ‘স্বাভাবিক
প্রসব’ সৃষ্টিকর্তার নিয়মে হয়; আর
সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে প্রসব
আল্লাহর
মানুষকে দেয়া বুদ্ধি দিয়ে সৃষ্টি নিয়মে
হয়।
কখন সিজারিয়ান অপারেশন প্রয়োজন
হয়?
আজকাল প্রয়োজন ছাড়াও এ অপারেশন
হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও
রোগিনী এবং রোগিনীর আত্মীয়-
স্বজনরাও সহজবোধ করে।
তাহলে কি সিজারিয়ানের
মাধ্যমে ডেলিভারি পদ্ধতিটাই উত্তম?
তাকি হতে পারে? প্রকৃতির নিয়মের
চেয়ে কি মানুষের তৈরি নিয়ম
বেশি ভালো হতে পারে? কখন-ই না।
যখন প্রাকৃতিক নিয়মে প্রসব
বাচ্চা অথবা মা অথবা উভয়ের জন্যই
ঝুঁকিপুর্ণ হয় সেসব
ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের
বিকল্প নেই। নয় মাস সাতদিন
গর্ভে ধারণ করে একজন মা,
সঙ্গে বাচ্চার বাবা এবং আত্মীয়-
স্বজনরা সবাই একটা সুন্দর, সুস্হ
শিশুর অপেক্ষায় থাকে। কেউ কেউ
আবার যে কোনো মুল্যেই হোক
স্বাভাবিক প্রসবের অপেক্ষায়
থেকে মা/বাবা বা উভয়কেই হারায়
বা একটা ক্ষতির স্বীকার হয়। কাজেই
অকারণেই অপারেশন
করা বা প্রয়োজনে না করা দুটোই
ক্ষতিকর।
সিজারিয়ান অপারেশনের
আগে কী করণীয়
অপারেশনের আগে আপনার
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ,
রক্তের গ্রুপ, ডায়াবেটিস ও জন্ডিসের
পরীক্ষা করে নিতে হবে। অপারেশনের
আগেই যদি আপনার
রক্তস্বল্পতা থাকে অথবা অপারেশনের
সময় এবং পরে বেশি রক্তপাত হয়
তবে আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালনের
প্রয়োজন হতে পারে। যাদের গর্ভফুল
নিচে তাদের অবশ্যই রক্ত সংগ্রহ
করে অপারেশনে যেতে হবে।
অপারেশনের আগে সময় এবং সুযোগ
থাকলে পরিষ্কার করে গোসল
করে পরিষ্কার কাপড় পরবেন।
মনে সাহস রাখবেন। সৃষ্টিকর্তার ওপর
আস্হা রাখবেন। আর আপনার
ডাক্তারকেও বিশ্বাস করবেন
এবং আস্হা রাখবেন।
অপারেশনের ছয় ঘণ্টা আগে শক্ত
খাবার খাওয়া বন্ধ রাখবেন। চার
ঘণ্টা আগ পর্যন্ত পানি ও তরল
খাবার খেতে পারবেন। বাচ্চার
এবং আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
আগেই গুছিয়ে নেবেন।
যাদের পর্যাপ্ত টাকা নেই তারা গর্ভের
শুরু থেকেই অতিপ্রয়োজনীয় খরচ
ছাড়া অন্যান্য খরচ
কমিয়ে প্রতিমাসে সঞ্চয় করুন, যেন
বিপদে কারোর কাছে হাত পাততে না হয়
এবং ডেলিভারি কোথায় করাবেন,
সিজারিয়ান প্রয়োজন হলে কোথায়
যাবেন, কীভাবে যাবেন আগে থেকেই
ঠিক করে রাখবেন।
অপারেশনের সময় আপনার কী করণীয়?
আপনি ঘাবড়াবেন না, সাহস রাখবেন।
যে কোনো অসুবিধা ডাক্তারকে
জানাবেন। আংশিক অবশের জন্য
পিঠে একটা ইনজেকশন দিতে হয়।
সে সময়
ডাক্তারকে সহযোগিতা করবেন।
ঘণ্টা দুই-তিন আপনার নিচের অংশ
অবশ থাকবে সেটা নিয়ে অস্হির হবেন
না। তবে কষ্টের কথা অবশ্যই
জানাবেন।
অপারেশনের পর কী করবেন/
কী করবেন না
– বাচ্চাকে দুধ দেবেন যত
তাড়াতাড়ি সম্ভব শুয়েই।
– শাপদুধ ফেলে দেবেন না। শুধু দুধের
বোটা পরিষ্কার করে বাচ্চাকে দুধ
দেবেন।
– পা ভাঁজ করবেন, এপাশ ওপাশ
ঘুরবেন। তবে ১২ ঘণ্টা উঠবস
বা হাঁটাচলা না করাই ভালো।
– পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।
প্রতিদিন দুবার
এবং প্রয়োজনে আরো তাড়াতাড়ি
পোশাক পরিবর্তন করুন।
– কোনো ধরনের খাবার বেছে খাবেন
না। সবধরনের খাবার
খেলে আপনি এবং আপনার বাচ্চার
পুষ্টি ঠিকমতো হবে। *
আপনি সেরে উঠবেন
তাড়াতাড়ি এবং আপনার বাচ্চাও বড়
হবে স্বাভাবিক নিয়মে।
– অপারেশনের পাঁচ-ছয়দিন পরই
ব্যান্ডেজ খুলে গোসল করা যায়।
– গোসলের সময়
ক্ষতস্হানে হাল্কা করে সাবান
দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।
অনেকে ভয়ে সে জায়গাটা পরিষ্কার
রাখেন না,
ফলে পরে ইনফেকশনে ভোগেন।
– অপারেশনের পরের দিন থেকেই
হাল্কা হাঁটাচলা করুন।
– বাচ্চাকে আপনার কাছে রাখুন। শুধু
বুকের দুধই খাওয়াবেন।
– দেড়মাস মোটামুটি বিশ্রামেই কাটান।
তারপর
যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন
এবং তিন মাস পর থেকে আর দশজনের
মতোই চলাফেরা কাজকর্ম করবেন।
– দেড়মাস পর থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি গ্রহণ করুন আপনার পছন্দ
মতো।
– তিন বছর পর
প্রয়োজনে আরেকটি সন্তানের
কথা ভাবুন। তবে যারা সিজারিয়ানের
পর সন্তান-হারিয়েছেন তারা ছয়মাস
পরই আবার গর্ভবতী হতে পারেন।
– পেটে বেল্ট বা বাইন্ডার প্রয়োজন
নেই।
– কোনো সমস্যা হলে আপনার
ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
– দেড়মাস পর থেকে ব্যায়াম করুন
শরীরকে আগের অবস্হায়
ফিরিয়ে নেয়ার জন্য।
– গর্ভবর্তী অবস্হার চেয়েও
দুগ্ধদানকারী মায়ের
পুষ্টি বেশি প্রয়োজন। তাই পর্যাপ্ত
এবং পুষ্টিকর খাবার খান।
– আয়রন ট্যাবলেট ও ক্যালসিয়াম
ট্যাবলেট বাচ্চা হওয়ার পর আরো ৩
মাস খাবেন।
আরো কিছু জানতে হলে জেনে নিন
আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে।
প্রতিবেশী বা মা-খালাদের ভ্রান্ত
ধারণার শিকার হয়ে ভুল করবেন না।
আপনি সচেতন হন এবং সচেতন
করে তুলুন আপনার আশপাশের মা-
বোনদের।
———————–
ডা. লায়লা আফরোজ
নীলা ২০০৮-০৫-২৭
লেখকঃ এফসিপিএস (গাইনি এন্ড অবস)
কনসালটেন্ট, সিটি হাসপাতাল লিমিটেড
১/৮, ব্লক-লালমাটিয়া, সাতমসজিদ
রোড
ঢাকা-১২০৭
আমার দেশ, ২৭ মে ২০০৮
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভকালীন ত্বকের সমস্যা
গর্ভাবস্হায় নারীর দেহে কিছু গুরুতর
ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তন সাধিত
হয়। এই সময় পিটুইটারি, থাইরয়েড ও
অ্যাডরিনাল গ্রন্হির কর্মকান্ড
বৃদ্ধি পায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের
প্রোটিন ও ষ্টেরয়েড হরমোন
তৈরি হয়ে থাকে। এরই প্রভাবে যেসব
রোগ বা উপসর্গ তৈরি হয়
তা নিম্নরুপঃ
পিগমেন্টেশনঃ গর্ভবতী মায়ের স্তনের
বোঁটা ও তার আশপাশের ত্বক,
কালচে রংয়ের হয়।
– কিছু সংখ্যক ক্ষেত্রে বগল ও
উরুতেও এ ধরনের পরিবর্তন
দেখা যায়।
–সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
হচ্ছে মুখে মেছতা হওয়া যা কি না
অন্তত ৫০ ভাগ ক্ষেত্রেই
গর্ভাবস্হায় হতে দেখা যায়।
–প্রসব করার পর কিছুদিনের মধ্যেই
এই পরিবর্তিত রং আবার আগের
অবস্হায় ফিরে আসতে থাকে।
চুলঃ অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভবতীর
মুখে সামান্য পরিমাণ বা তার চেয়ে কিছু
বেশি পরিমাণে অবাঞ্ছিত লোম
গজাতে দেখা যায়, যা সাধারণত
প্রসবের পর কমে যায়। তবে জটিল
গর্ভাবস্হার
সৃষ্টি হলে কিংবা অপারেশনের
মাধ্যমে প্রসব
করিয়ে থাকলে যদি অস্বাভাবিক
রকমের শারীরিক বা মানসিক চাপ
হতে দেখা যায়
তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রসবের
১ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সাংঘাতিক
রকমের চুল পড়ে গেলেও প্রায় সব
ক্ষেত্রেই পুনরায় স্বাভাবিক অবস্হায়
তা ফিরে আসে।
ত্বক ফাটাঃ গর্ভাবস্হায় ত্বকের ওপর
চাপ পড়ে। পেট বড় হওয়ার
কারণে ত্বক প্রসারিত হতে থাকে।
একপর্যায়ে যখন আর প্রসারণ ঘটার
ক্ষমতা থাকে না, তখন ত্বকে ফাটল
ধরে। এই অবস্হাকে বলা হয়
ঝঞজওঅঊ উওঝঞঊঘঝঅঊ। ৯০
ভাগ গর্ভবতীর ক্ষেত্রে এ অবস্হার
সৃষ্টি হয়ে থাকে। পেট ছাড়াও ঐরঢ়,
ইঁঃঃড়পশ এ এই পরিবর্তন হয়ে থাকে।
চবসঢ়যরমড়রফ
এবংঃধঃরড়হরংঃ গর্ভাবস্হায় এই রোগ
কখনো কখনো হতে দেখা যায়।
এক্ষেত্রে ফোস্কা থাকবে আর
সঙ্গে থাকবে চুলকানি। যদিও
রোগটি কম হতে দেখা যায় কিন্তু
যদি হয়ে বসে তাহলে কিন্তু কষ্ট আর
যন্ত্রণা দেয়।
চৎঁৎরমড় ড়ভ
চৎবমহধহপুঃ এক্ষেত্রে গর্ভবতীর
পেটে লালচে দানা হতে দেখা যায়। বেশির
ভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভবতীর শেষের ৩
মাসে হয়ে থাকে। এই দানা এক
হয়ে মিশে গিয়ে পুরো স্হানেই
একটা লালচে ভাব সৃষ্টি করে।
এতে থাকে অস্বাভাবিক রকমের
চুলকানি। এ অবস্হায়
রাত্রে গর্ভবতী ঘুমাতে পারে না
চুলকানির কারণে।
কখনো কখনো চুলকানির ফলে কষ
ঝরতে থাকে। এগুলো ছড়াতে ইঁঃঃড়পশ ও
ঞযরমযতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কখনো কখনো বাহুতে এবং পায়েও
ছড়িয়ে পড়তে পারে, তবে কখনই
মুখে হতে দেখা যায় না।
সাধারণভাবে এটি প্রসবের পরপরই
ভালো হয়ে যায়।
চৎঁৎরমড় এৎধারফধৎঁসঃ এটি লিভার
সিষ্টেমের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে গর্ভাবস্হার শেষের
দিকে সারা শরীরে চুলকানি শুরু হয়
এবং সেই সঙ্গে জন্ডিস দেখা দেয়।
প্রথম দিকে যে চুলকানি হয় তা শুধু
রাত্রিকালীন সময়ে হয়ে থাকে।
প্রথমে শরীরের অংশবিশেষ ধরে শুরু
হলেও পরে সারা শরীরে বিস্তার ঘটে।
এর সঙ্গে বমি বমি ভাব ও শারীরিক
দুর্বলতা বিদ্যমান থাকে। সাধারণত
সন্তান প্রসবের কিছুদিন পর পরই
এটা ভালো হয়ে যায়।
তবে ভবিষ্যতে পুনরায়
সন্তানসম্ভবা হলে তখন
একইভাবে একই উপসর্গ
নিয়ে রোগটি আবার দেখা দিতে পারে।
ওসঢ়বঃরমড়
ঐবৎঢ়বঃরভড়ৎসরংঃ এটি সেরিয়াসিসের
রোগের একটি বিশেষ গ্রুপ বা ধরন।
যদিও এর সংখ্যা কম কিন্তু এটির
গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি কারণ
এটি কখনো কখনো মৃত্যুর কারণ
হয়ে দাঁড়ায় গর্ভবতী মহিলাদের জন্য।
এটিও প্রসুতির শেষের ৩ মাসের
মধ্যে কোনো এক সময় দেখা দেয়।
একবার যিনি আক্রান্ত হলেন
পরবর্তী ক্ষেত্রে সে গর্ভবতী হলে এটি
পুনরায় দেখা দিতে পারে।
এক্ষেত্রে চুলকানি না থাকলেও শরীরের
একটি বিরাট অংশ আক্রান্ত
হতে পারে।
এছাড়া আরো ২/১টি রোগ আছে,
যা গর্ভাবস্হায় হতে দেখা যায়।
তবে এই রোগগুলো খুব কম অবস্হায়ই
হতে দেখা যায়।
—————–
ডা. দিদারুল আহসান
২০০৮-০৫-২৭
লেখকঃ চর্ম, ও অ্যালার্জি রোগ
বিশেষজ্ঞ ব্যবস্হাপনা পরিচালক, আল
রাজি হাসপাতাল লি. ১২, ফার্মগেট,
ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তন সাধিত
হয়। এই সময় পিটুইটারি, থাইরয়েড ও
অ্যাডরিনাল গ্রন্হির কর্মকান্ড
বৃদ্ধি পায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের
প্রোটিন ও ষ্টেরয়েড হরমোন
তৈরি হয়ে থাকে। এরই প্রভাবে যেসব
রোগ বা উপসর্গ তৈরি হয়
তা নিম্নরুপঃ
পিগমেন্টেশনঃ গর্ভবতী মায়ের স্তনের
বোঁটা ও তার আশপাশের ত্বক,
কালচে রংয়ের হয়।
– কিছু সংখ্যক ক্ষেত্রে বগল ও
উরুতেও এ ধরনের পরিবর্তন
দেখা যায়।
–সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
হচ্ছে মুখে মেছতা হওয়া যা কি না
অন্তত ৫০ ভাগ ক্ষেত্রেই
গর্ভাবস্হায় হতে দেখা যায়।
–প্রসব করার পর কিছুদিনের মধ্যেই
এই পরিবর্তিত রং আবার আগের
অবস্হায় ফিরে আসতে থাকে।
চুলঃ অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভবতীর
মুখে সামান্য পরিমাণ বা তার চেয়ে কিছু
বেশি পরিমাণে অবাঞ্ছিত লোম
গজাতে দেখা যায়, যা সাধারণত
প্রসবের পর কমে যায়। তবে জটিল
গর্ভাবস্হার
সৃষ্টি হলে কিংবা অপারেশনের
মাধ্যমে প্রসব
করিয়ে থাকলে যদি অস্বাভাবিক
রকমের শারীরিক বা মানসিক চাপ
হতে দেখা যায়
তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রসবের
১ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সাংঘাতিক
রকমের চুল পড়ে গেলেও প্রায় সব
ক্ষেত্রেই পুনরায় স্বাভাবিক অবস্হায়
তা ফিরে আসে।
ত্বক ফাটাঃ গর্ভাবস্হায় ত্বকের ওপর
চাপ পড়ে। পেট বড় হওয়ার
কারণে ত্বক প্রসারিত হতে থাকে।
একপর্যায়ে যখন আর প্রসারণ ঘটার
ক্ষমতা থাকে না, তখন ত্বকে ফাটল
ধরে। এই অবস্হাকে বলা হয়
ঝঞজওঅঊ উওঝঞঊঘঝঅঊ। ৯০
ভাগ গর্ভবতীর ক্ষেত্রে এ অবস্হার
সৃষ্টি হয়ে থাকে। পেট ছাড়াও ঐরঢ়,
ইঁঃঃড়পশ এ এই পরিবর্তন হয়ে থাকে।
চবসঢ়যরমড়রফ
এবংঃধঃরড়হরংঃ গর্ভাবস্হায় এই রোগ
কখনো কখনো হতে দেখা যায়।
এক্ষেত্রে ফোস্কা থাকবে আর
সঙ্গে থাকবে চুলকানি। যদিও
রোগটি কম হতে দেখা যায় কিন্তু
যদি হয়ে বসে তাহলে কিন্তু কষ্ট আর
যন্ত্রণা দেয়।
চৎঁৎরমড় ড়ভ
চৎবমহধহপুঃ এক্ষেত্রে গর্ভবতীর
পেটে লালচে দানা হতে দেখা যায়। বেশির
ভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভবতীর শেষের ৩
মাসে হয়ে থাকে। এই দানা এক
হয়ে মিশে গিয়ে পুরো স্হানেই
একটা লালচে ভাব সৃষ্টি করে।
এতে থাকে অস্বাভাবিক রকমের
চুলকানি। এ অবস্হায়
রাত্রে গর্ভবতী ঘুমাতে পারে না
চুলকানির কারণে।
কখনো কখনো চুলকানির ফলে কষ
ঝরতে থাকে। এগুলো ছড়াতে ইঁঃঃড়পশ ও
ঞযরমযতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কখনো কখনো বাহুতে এবং পায়েও
ছড়িয়ে পড়তে পারে, তবে কখনই
মুখে হতে দেখা যায় না।
সাধারণভাবে এটি প্রসবের পরপরই
ভালো হয়ে যায়।
চৎঁৎরমড় এৎধারফধৎঁসঃ এটি লিভার
সিষ্টেমের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে গর্ভাবস্হার শেষের
দিকে সারা শরীরে চুলকানি শুরু হয়
এবং সেই সঙ্গে জন্ডিস দেখা দেয়।
প্রথম দিকে যে চুলকানি হয় তা শুধু
রাত্রিকালীন সময়ে হয়ে থাকে।
প্রথমে শরীরের অংশবিশেষ ধরে শুরু
হলেও পরে সারা শরীরে বিস্তার ঘটে।
এর সঙ্গে বমি বমি ভাব ও শারীরিক
দুর্বলতা বিদ্যমান থাকে। সাধারণত
সন্তান প্রসবের কিছুদিন পর পরই
এটা ভালো হয়ে যায়।
তবে ভবিষ্যতে পুনরায়
সন্তানসম্ভবা হলে তখন
একইভাবে একই উপসর্গ
নিয়ে রোগটি আবার দেখা দিতে পারে।
ওসঢ়বঃরমড়
ঐবৎঢ়বঃরভড়ৎসরংঃ এটি সেরিয়াসিসের
রোগের একটি বিশেষ গ্রুপ বা ধরন।
যদিও এর সংখ্যা কম কিন্তু এটির
গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি কারণ
এটি কখনো কখনো মৃত্যুর কারণ
হয়ে দাঁড়ায় গর্ভবতী মহিলাদের জন্য।
এটিও প্রসুতির শেষের ৩ মাসের
মধ্যে কোনো এক সময় দেখা দেয়।
একবার যিনি আক্রান্ত হলেন
পরবর্তী ক্ষেত্রে সে গর্ভবতী হলে এটি
পুনরায় দেখা দিতে পারে।
এক্ষেত্রে চুলকানি না থাকলেও শরীরের
একটি বিরাট অংশ আক্রান্ত
হতে পারে।
এছাড়া আরো ২/১টি রোগ আছে,
যা গর্ভাবস্হায় হতে দেখা যায়।
তবে এই রোগগুলো খুব কম অবস্হায়ই
হতে দেখা যায়।
—————–
ডা. দিদারুল আহসান
২০০৮-০৫-২৭
লেখকঃ চর্ম, ও অ্যালার্জি রোগ
বিশেষজ্ঞ ব্যবস্হাপনা পরিচালক, আল
রাজি হাসপাতাল লি. ১২, ফার্মগেট,
ঢাকা
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
ডিম্বাশয় – খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
ফারহানা মোবিন
প্রতিটি মানুষের জ্ন ছোট্ট একটা ভ্রূণ
থেকে। আর ভ্রূণ তৈরি হয় নারী-
পুরুষের মিলনের মাধ্যমে। মিলনের সময়
পুরুষের শুক্রাণু আর নারীর ডিম্বাণু
মিলিত হয়। মিলিত হওয়ার কিছুদিন পর
ভ্রূণ তৈরি হয়। ডিম্বাণু
আসে ডিম্বাশয় থেকে। ডিম্বাশয় নারীর
জননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুরুষের শরীরে কোনো ডিম্বাশয়
থাকে না। ডিম্বাশয় মেয়েদের তলপেটের
নিচের দিকে এবং জরায়ুর দুই
পাশে (তলপেটের ভেতরের দিকে) থাকে।
ডিম্বাশয় দেখা যায় না। এটি ছোট
একটি মাংসল অঙ্গ। সংখ্যায় এক
জোড়া। দেহের বাঁ ও ডান দিকে এদের
অবস্থান।
ডিম্বাশয়ের দীর্ঘ্য তিন সে·মি· ও
প্রস্থ দুই সে·মি· এবং পুরুত্ব এক
সে·মি·। মাংসল থলেটা ধূসর গোলাপি ও
ডিম্বাকৃতির।
ডিম্বাশয়কে ইংরেজিতে বলে ওভারি।
গর্ভাবস্থার আগে ডিম্বাশয়ের ওপরের
ত্বক মসৃণ থাকে। কিন্তু গর্ভাবস্থায়
ডিম্বাশয়ে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন
দেখা যায়। বয়ঃসন্ধিকাল
থেকে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ
হওয়া পর্যন্ত ডিম্বাশয়ে পরিবর্তন
চলতেই থাকে (ওপরের ত্বকে)।
দুটো ডিম্বাশয়ের
সঙ্গে লাগানো থাকে ওভারিয়ান টিউব
বা ইউটেরাইন টিউব। মিলনের সময় এই
নালির মাধ্যমে ডিম্ব ডিম্বাশয়
থেকে জরায়ুতে আসে। জরায়ুকে বলা হয়
ভ্রূণ সৃষ্টির কারখানা। ডিম্ব
হচ্ছে সেই কারখানার কাঁচামাল।
বয়ঃসন্ধিকালের
আগে ওভারি লালচে থাকে। কিন্তু
বয়ঃসন্ধিকালের পরে তা ধূসর
হয়ে যায়। প্রথম সন্তান জ্নদানের পর
ডিম্বাশয় আর কখনো আগের অবস্থায়
ফিরে যায় না। জন্মগত
ত্রুটি হিসেবে ডিম্বাশয়
না থাকলে ঋতুস্রাব হবে না,
গর্ভধারণও হবে না কিন্তু একজন
নারী বেঁচে থাকবে। ডিম্বাশয়
থেকে ডিম্বস্থলন হওয়ার
প্রক্রিয়াকে বলে ওভুলেশন।
ডিম্বাশয় থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ
হরমোন নিঃসৃত হয়।
এগুলো হলো ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন,
এন্ড্রোজেন, রিলাক্সিন।
ইস্ট্রোজেনের কাজ
– ডিম্বাশয়ে ফলিকিউলার
গ্রোথে (গর্ভাবস্থায় যা ভীষণ জরুরি)
সাহায্য করে এবং গর্ভস্থ শিশুর
ডিম্বাশয় গঠনে ভূমিকা রাখে।
– গর্ভস্থ শিশুর জননতন্ত্রের সঠিক
বিকাশে সাহায্য করে।
– ইউটেরাইন টিউবের
তৎপরতা বাড়ায়।
– গর্ভাবস্থা ও সন্তান জ্নের সময়
জরায়ুকে আকারে বড় করে এবং বুকের
অভ্যন্তরীণ গঠনে সাহায্য
করে।
– ঋতুস্রাব তৈরি করে এবং রক্ত
জমাট বাঁধায়।
– মেয়েদের থাই, বুক,
নিতম্বে চর্বি জমায়
এবং সারা শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ
বাড়ায়।
– ত্বক নরম ও মসৃণ করে।
প্রজেস্টেরনের কাজ
– শিশুর জন্য বুকের দুধ তৈরি করে।
– দেহের সব জননতন্ত্রের ওপর
ভূমিকা রাখে এবং গর্ভনিরোধক
হিসেবে কাজ করে।
– ভ্রূণের পুষ্টি জোগায় এবং শরীরের
কোষে সামান্য পরিমাণ লবণ ও
পানি জমায়।
– যোনিতে নিঃসরণে ভূমিকা রাখে।
ডিম্বাশয়ের যত্নে যা করবেন
– গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ
ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।
– ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার
প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ
ছাড়া জন্মনিরোধক ওষুধ দীর্ঘদিন
ধরে খাবেন না। দীর্ঘদিন
ধরে গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন
ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
– ঋতুস্রাবের সময় যথেষ্ট সতর্ক
থাকুন। ঋতুস্রাব হতে বিলম্ব
হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
– প্রসবের পর দীর্ঘ সময়
ধরে নিচে বসে থাকবেন না।
– মোটা হওয়ার আশায় স্বেচ্ছায়
স্টেরয়েড বা হরমোন-জাতীয় ওষুধ
খাবেন না।
– অপরিণত বয়সে বিয়ে ও সন্তান
জ্নদান থেকে বিরত থাকুন।
– জ্ননিরোধক বড়ির
প্যাকেটে ব্যবহারের নিয়মকানুন
দেওয়া থাকে।
তা সঠিকভাবে মেনে চলুন।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
প্রতিটি মানুষের জ্ন ছোট্ট একটা ভ্রূণ
থেকে। আর ভ্রূণ তৈরি হয় নারী-
পুরুষের মিলনের মাধ্যমে। মিলনের সময়
পুরুষের শুক্রাণু আর নারীর ডিম্বাণু
মিলিত হয়। মিলিত হওয়ার কিছুদিন পর
ভ্রূণ তৈরি হয়। ডিম্বাণু
আসে ডিম্বাশয় থেকে। ডিম্বাশয় নারীর
জননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুরুষের শরীরে কোনো ডিম্বাশয়
থাকে না। ডিম্বাশয় মেয়েদের তলপেটের
নিচের দিকে এবং জরায়ুর দুই
পাশে (তলপেটের ভেতরের দিকে) থাকে।
ডিম্বাশয় দেখা যায় না। এটি ছোট
একটি মাংসল অঙ্গ। সংখ্যায় এক
জোড়া। দেহের বাঁ ও ডান দিকে এদের
অবস্থান।
ডিম্বাশয়ের দীর্ঘ্য তিন সে·মি· ও
প্রস্থ দুই সে·মি· এবং পুরুত্ব এক
সে·মি·। মাংসল থলেটা ধূসর গোলাপি ও
ডিম্বাকৃতির।
ডিম্বাশয়কে ইংরেজিতে বলে ওভারি।
গর্ভাবস্থার আগে ডিম্বাশয়ের ওপরের
ত্বক মসৃণ থাকে। কিন্তু গর্ভাবস্থায়
ডিম্বাশয়ে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন
দেখা যায়। বয়ঃসন্ধিকাল
থেকে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ
হওয়া পর্যন্ত ডিম্বাশয়ে পরিবর্তন
চলতেই থাকে (ওপরের ত্বকে)।
দুটো ডিম্বাশয়ের
সঙ্গে লাগানো থাকে ওভারিয়ান টিউব
বা ইউটেরাইন টিউব। মিলনের সময় এই
নালির মাধ্যমে ডিম্ব ডিম্বাশয়
থেকে জরায়ুতে আসে। জরায়ুকে বলা হয়
ভ্রূণ সৃষ্টির কারখানা। ডিম্ব
হচ্ছে সেই কারখানার কাঁচামাল।
বয়ঃসন্ধিকালের
আগে ওভারি লালচে থাকে। কিন্তু
বয়ঃসন্ধিকালের পরে তা ধূসর
হয়ে যায়। প্রথম সন্তান জ্নদানের পর
ডিম্বাশয় আর কখনো আগের অবস্থায়
ফিরে যায় না। জন্মগত
ত্রুটি হিসেবে ডিম্বাশয়
না থাকলে ঋতুস্রাব হবে না,
গর্ভধারণও হবে না কিন্তু একজন
নারী বেঁচে থাকবে। ডিম্বাশয়
থেকে ডিম্বস্থলন হওয়ার
প্রক্রিয়াকে বলে ওভুলেশন।
ডিম্বাশয় থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ
হরমোন নিঃসৃত হয়।
এগুলো হলো ইস্ট্রোজেন, প্রজেস্টেরন,
এন্ড্রোজেন, রিলাক্সিন।
ইস্ট্রোজেনের কাজ
– ডিম্বাশয়ে ফলিকিউলার
গ্রোথে (গর্ভাবস্থায় যা ভীষণ জরুরি)
সাহায্য করে এবং গর্ভস্থ শিশুর
ডিম্বাশয় গঠনে ভূমিকা রাখে।
– গর্ভস্থ শিশুর জননতন্ত্রের সঠিক
বিকাশে সাহায্য করে।
– ইউটেরাইন টিউবের
তৎপরতা বাড়ায়।
– গর্ভাবস্থা ও সন্তান জ্নের সময়
জরায়ুকে আকারে বড় করে এবং বুকের
অভ্যন্তরীণ গঠনে সাহায্য
করে।
– ঋতুস্রাব তৈরি করে এবং রক্ত
জমাট বাঁধায়।
– মেয়েদের থাই, বুক,
নিতম্বে চর্বি জমায়
এবং সারা শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ
বাড়ায়।
– ত্বক নরম ও মসৃণ করে।
প্রজেস্টেরনের কাজ
– শিশুর জন্য বুকের দুধ তৈরি করে।
– দেহের সব জননতন্ত্রের ওপর
ভূমিকা রাখে এবং গর্ভনিরোধক
হিসেবে কাজ করে।
– ভ্রূণের পুষ্টি জোগায় এবং শরীরের
কোষে সামান্য পরিমাণ লবণ ও
পানি জমায়।
– যোনিতে নিঃসরণে ভূমিকা রাখে।
ডিম্বাশয়ের যত্নে যা করবেন
– গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ
ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।
– ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার
প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ
ছাড়া জন্মনিরোধক ওষুধ দীর্ঘদিন
ধরে খাবেন না। দীর্ঘদিন
ধরে গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন
ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
– ঋতুস্রাবের সময় যথেষ্ট সতর্ক
থাকুন। ঋতুস্রাব হতে বিলম্ব
হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
– প্রসবের পর দীর্ঘ সময়
ধরে নিচে বসে থাকবেন না।
– মোটা হওয়ার আশায় স্বেচ্ছায়
স্টেরয়েড বা হরমোন-জাতীয় ওষুধ
খাবেন না।
– অপরিণত বয়সে বিয়ে ও সন্তান
জ্নদান থেকে বিরত থাকুন।
– জ্ননিরোধক বড়ির
প্যাকেটে ব্যবহারের নিয়মকানুন
দেওয়া থাকে।
তা সঠিকভাবে মেনে চলুন।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সুফল অনেক
ডা· আবু সাঈদ শিমুল
চিকিৎসা কর্মকর্তা
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,
চট্টগ্রাম
শিশুদের জন্য বুকের দুধ
যে উপকারী তা আমরা জানি, কিন্তু
বুকের দুধ দিলে শুধু যে শিশুর লাভ হয়
তা নয়, এটা মায়েদের জন্যও ভালো।
জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ
দিলে মায়ের শরীর থেকে অক্সিটোসিন
নিঃসৃত হয়।
এই অক্সিটোসিন জরায়ু এবং এর
রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য
করে। ফলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর
মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়
না। প্রায় সব নারীরই গর্ভধারণের
সময় ওজন বাড়ে।
এতে শরীরে বাড়তি মেদও জমে। যেসব
মা সন্তানকে বুকের দুধ দেন, তাঁদের
দৈনিক অতিরিক্ত ৫০০
ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। বুকের
দুধ খাওয়ালে এই বাড়তি ক্যালরির
প্রয়োজন হয় বলে মায়েরা খুব দ্রুতই
আগের শারীরিক
গঠনে ফিরে যেতে পারেন। যেসব
মা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের
ক্ষেত্রে বুকের দুধ খাওয়ালে আগের
চেয়ে কম পরিমাণে ইনসুলিন দরকার হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এটা প্রমাণিত
যে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন
ক্যান্সারের আশঙ্কা ২৫ শতাংশ কমে,
আর ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের
আশঙ্কাও ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ
কমে। এ ছাড়া জরায়ু ও
অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকিও
কম থাকে। বুকের দুধ
খাওয়ালে তা উৎকৃষ্ট জ্ননিয়ন্ত্রক
হিসেবে কাজ করে। এতে দুটি সন্তানের
মধ্যে বয়সের ব্যবধান থাকে।
ফলে প্রতিটি সন্তানই
সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু
যারা ফর্মুলা বা কৃত্রিম দুধ খাওয়ান,
তাঁদের এ সুবিধা তো থাকেই না,
উপরন্তু শেষ বয়সে অস্টিওপোরেসিস
(হাড়ের ক্ষয়রোগ) হয় এবং অল্প
আঘাতে কোমর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি চার
গুণ বেশি থাকে। বুকের দুধ
খাওয়ালে মায়েদের যে শুধু শরীর
ভালো থাকে তা-ই নয়, তাঁদের মানসিক
স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। গবেষণায়
দেখা গেছে,
স্তন্যদায়ী মায়েরা সহজে উত্তেজিত
হন না, উদ্বেগ ও হতাশায়ও
তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়েন না।
কর্মজীবী মায়েরা যে ক’মাসই
মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না কেন, এ
সময়ের পুরোটাই শিশুকে শুধু বুকের দুধ
দেওয়া উচিত।
এতে পরবর্তী সময়ে শিশুর ডায়রিয়া,
নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগ হওয়ার
ঝুঁকি কম থাকে।
ফলে শিশু যেমন সুস্থ থাকে,
তেমনি শিশুর জন্য কর্মক্ষেত্র
থেকে ছুটি নিতে হয় না বলে মায়েরও
সুবিধা হয়। তবে এসব বিষয়ের
ঊর্ধ্বে মা ও সন্তানের
মধ্যে থাকে এক অকৃত্রিম বন্ধন।
শিশুকে বুকের দুধ দিলে এ বন্ধন আরও
সুদৃঢ় হয়, আর মা তখন উপলব্ধি করেন
এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
চিকিৎসা কর্মকর্তা
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,
চট্টগ্রাম
শিশুদের জন্য বুকের দুধ
যে উপকারী তা আমরা জানি, কিন্তু
বুকের দুধ দিলে শুধু যে শিশুর লাভ হয়
তা নয়, এটা মায়েদের জন্যও ভালো।
জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ
দিলে মায়ের শরীর থেকে অক্সিটোসিন
নিঃসৃত হয়।
এই অক্সিটোসিন জরায়ু এবং এর
রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য
করে। ফলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর
মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়
না। প্রায় সব নারীরই গর্ভধারণের
সময় ওজন বাড়ে।
এতে শরীরে বাড়তি মেদও জমে। যেসব
মা সন্তানকে বুকের দুধ দেন, তাঁদের
দৈনিক অতিরিক্ত ৫০০
ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। বুকের
দুধ খাওয়ালে এই বাড়তি ক্যালরির
প্রয়োজন হয় বলে মায়েরা খুব দ্রুতই
আগের শারীরিক
গঠনে ফিরে যেতে পারেন। যেসব
মা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের
ক্ষেত্রে বুকের দুধ খাওয়ালে আগের
চেয়ে কম পরিমাণে ইনসুলিন দরকার হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এটা প্রমাণিত
যে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন
ক্যান্সারের আশঙ্কা ২৫ শতাংশ কমে,
আর ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের
আশঙ্কাও ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ
কমে। এ ছাড়া জরায়ু ও
অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকিও
কম থাকে। বুকের দুধ
খাওয়ালে তা উৎকৃষ্ট জ্ননিয়ন্ত্রক
হিসেবে কাজ করে। এতে দুটি সন্তানের
মধ্যে বয়সের ব্যবধান থাকে।
ফলে প্রতিটি সন্তানই
সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু
যারা ফর্মুলা বা কৃত্রিম দুধ খাওয়ান,
তাঁদের এ সুবিধা তো থাকেই না,
উপরন্তু শেষ বয়সে অস্টিওপোরেসিস
(হাড়ের ক্ষয়রোগ) হয় এবং অল্প
আঘাতে কোমর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি চার
গুণ বেশি থাকে। বুকের দুধ
খাওয়ালে মায়েদের যে শুধু শরীর
ভালো থাকে তা-ই নয়, তাঁদের মানসিক
স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। গবেষণায়
দেখা গেছে,
স্তন্যদায়ী মায়েরা সহজে উত্তেজিত
হন না, উদ্বেগ ও হতাশায়ও
তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়েন না।
কর্মজীবী মায়েরা যে ক’মাসই
মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না কেন, এ
সময়ের পুরোটাই শিশুকে শুধু বুকের দুধ
দেওয়া উচিত।
এতে পরবর্তী সময়ে শিশুর ডায়রিয়া,
নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগ হওয়ার
ঝুঁকি কম থাকে।
ফলে শিশু যেমন সুস্থ থাকে,
তেমনি শিশুর জন্য কর্মক্ষেত্র
থেকে ছুটি নিতে হয় না বলে মায়েরও
সুবিধা হয়। তবে এসব বিষয়ের
ঊর্ধ্বে মা ও সন্তানের
মধ্যে থাকে এক অকৃত্রিম বন্ধন।
শিশুকে বুকের দুধ দিলে এ বন্ধন আরও
সুদৃঢ় হয়, আর মা তখন উপলব্ধি করেন
এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
প্রসূতির রোজা ও শিশুর যত্ন
ডা· ইমনুল ইসলাম
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
শিশুর পুষ্টি, জীবনধারণ ও বৃদ্ধির
জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মায়ের দুধ শিশু জন্মের ছয় মাসে শুধু
প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান
করে না,বরং বিভিন্ন রোগ-
প্রতিরোধক টিকা হিসেবে কাজ করে।
মায়ের দুধ শিশুর রোগ-
প্রতিরোধক্ষমতা জ্নায়, ফলে শিশুর
ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কানপাকা,
মেনিনজাইটিস, একজিমা, এলার্জি,
দাঁতের অসুখ ইত্যাদি কম হয়। এ
ছাড়া রোগ হলেও এদের
প্রতিরোধক্ষমতা বেশি বলে এরা দ্রুত
আরোগ্য লাভ করে।
রমজান মাসে প্রসূতি মায়েরা শিশুদের
বুকের দুধ খাওয়ানোর
পাশাপাশি রোজা রাখার জন্য অনেক
সময়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।
প্রসূতি মায়েদের বেলায় রোজা রাখার
জন্য চিকিৎসকের মতামত প্রয়োজন।
তাঁদের এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত,
যাতে পুষ্টির ঘাটতি দেখা না দেয়।
খাবারের তালিকায় দৈনিক আমিষ
অথবা প্রোটিনজাতীয় খাবার
বেশি থাকতে হবে। ডিম, দুধ, মাছ মাংস,
ডাল থেকে আমিষজাতীয় খাদ্যের
উপাদান পাওয়া যাবে। বুকের
দুধে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের
উপস্থিতির জন্য খেতে হবে সবুজ
শাবসবজি, দই, পনির, বাদাম, কমলা,
কলা, আঙ্গুর, আপেল ইত্যাদি।
ইফতারের আয়োজনে কলিজা-শিঙাড়া,
কাবাব, ডিম, লাচ্ছি রাখা যেতে পারে।
খেজুর থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয়
লৌহের চাহিদা মেটে। ইফতারের শুরুতেই
পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়া দরকার।
প্রসূতি মায়ের বেলায় বুকের দুধ
বাড়াতে তরল খাবারের গুরুত্ব অনেক।
এ জন্য পানি ছাড়াও সুপ, ঝোল, ডাল,
শরবত, সাগু ইত্যাদি ব্যবহার
করা যেতে পারে। রোজা রাখার জন্য
প্রসূতি মায়েদের সেহরি, ইফতার,
সন্ধ্যারাত-তিন বেলায়ই পর্যাপ্ত
সুষম খাবারের সন্নিবেশ ঘটাতে হবে।
পাশাপাশি খেয়াল
রাখতে হবে নবজাতকের কিছু
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশুটি প্রতিদিন
ছয়বারের বেশি প্রস্রাব করছে কি না,
চারবার আঠালো মল ত্যাগ
করছে কি না, তার ওজন বাড়ার
গতি ঠিক থাকছে কি না।
শিশুটি রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় ৮
থেকে ১২ বার বুকের দুধ পান
করছে কি না। উপরিউক্ত বিষয়গুলোর
আলোকে যদি শিশুটির প্রস্রাব,
পায়খানা বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে,
তাহলে বলা যেতে পারে শিশুটি মায়ের
পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে। পর্যাপ্ত
বুকের দুধ পাওয়া গেলে প্রসূতি মায়ের
রোজা রাখতে কোনো অসুবিধে নেই।
বুকের দুধের অভাবে শিশু যদি দুর্বল,
ক্লান্ত কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়ে,
সে ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়ের
রোজা ছেড়ে দিয়ে পরে কাজা আদায়
করে নেওয়ার কথা ইসলামে বলা হয়েছে।
প্রসূতি মা রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সুষম
খাদ্য, যেমন-শর্করা-চর্বি, মিষ-
ভিটামিন, খনিজ লবণ ও
পানি আনুপাতিক হারে গ্রহণ
করতে হবে। কারণ, প্রয়োজনীয় সুষম
খাদ্য গ্রহণের ফলেই মায়ের সুস্বাস্থ্য
রক্ষা পায় এবং নবজাতকের
বৃদ্ধিতে পায় পূর্ণ গতি।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
শিশুর পুষ্টি, জীবনধারণ ও বৃদ্ধির
জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মায়ের দুধ শিশু জন্মের ছয় মাসে শুধু
প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান
করে না,বরং বিভিন্ন রোগ-
প্রতিরোধক টিকা হিসেবে কাজ করে।
মায়ের দুধ শিশুর রোগ-
প্রতিরোধক্ষমতা জ্নায়, ফলে শিশুর
ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কানপাকা,
মেনিনজাইটিস, একজিমা, এলার্জি,
দাঁতের অসুখ ইত্যাদি কম হয়। এ
ছাড়া রোগ হলেও এদের
প্রতিরোধক্ষমতা বেশি বলে এরা দ্রুত
আরোগ্য লাভ করে।
রমজান মাসে প্রসূতি মায়েরা শিশুদের
বুকের দুধ খাওয়ানোর
পাশাপাশি রোজা রাখার জন্য অনেক
সময়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।
প্রসূতি মায়েদের বেলায় রোজা রাখার
জন্য চিকিৎসকের মতামত প্রয়োজন।
তাঁদের এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত,
যাতে পুষ্টির ঘাটতি দেখা না দেয়।
খাবারের তালিকায় দৈনিক আমিষ
অথবা প্রোটিনজাতীয় খাবার
বেশি থাকতে হবে। ডিম, দুধ, মাছ মাংস,
ডাল থেকে আমিষজাতীয় খাদ্যের
উপাদান পাওয়া যাবে। বুকের
দুধে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের
উপস্থিতির জন্য খেতে হবে সবুজ
শাবসবজি, দই, পনির, বাদাম, কমলা,
কলা, আঙ্গুর, আপেল ইত্যাদি।
ইফতারের আয়োজনে কলিজা-শিঙাড়া,
কাবাব, ডিম, লাচ্ছি রাখা যেতে পারে।
খেজুর থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয়
লৌহের চাহিদা মেটে। ইফতারের শুরুতেই
পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়া দরকার।
প্রসূতি মায়ের বেলায় বুকের দুধ
বাড়াতে তরল খাবারের গুরুত্ব অনেক।
এ জন্য পানি ছাড়াও সুপ, ঝোল, ডাল,
শরবত, সাগু ইত্যাদি ব্যবহার
করা যেতে পারে। রোজা রাখার জন্য
প্রসূতি মায়েদের সেহরি, ইফতার,
সন্ধ্যারাত-তিন বেলায়ই পর্যাপ্ত
সুষম খাবারের সন্নিবেশ ঘটাতে হবে।
পাশাপাশি খেয়াল
রাখতে হবে নবজাতকের কিছু
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশুটি প্রতিদিন
ছয়বারের বেশি প্রস্রাব করছে কি না,
চারবার আঠালো মল ত্যাগ
করছে কি না, তার ওজন বাড়ার
গতি ঠিক থাকছে কি না।
শিশুটি রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় ৮
থেকে ১২ বার বুকের দুধ পান
করছে কি না। উপরিউক্ত বিষয়গুলোর
আলোকে যদি শিশুটির প্রস্রাব,
পায়খানা বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে,
তাহলে বলা যেতে পারে শিশুটি মায়ের
পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে। পর্যাপ্ত
বুকের দুধ পাওয়া গেলে প্রসূতি মায়ের
রোজা রাখতে কোনো অসুবিধে নেই।
বুকের দুধের অভাবে শিশু যদি দুর্বল,
ক্লান্ত কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়ে,
সে ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়ের
রোজা ছেড়ে দিয়ে পরে কাজা আদায়
করে নেওয়ার কথা ইসলামে বলা হয়েছে।
প্রসূতি মা রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সুষম
খাদ্য, যেমন-শর্করা-চর্বি, মিষ-
ভিটামিন, খনিজ লবণ ও
পানি আনুপাতিক হারে গ্রহণ
করতে হবে। কারণ, প্রয়োজনীয় সুষম
খাদ্য গ্রহণের ফলেই মায়ের সুস্বাস্থ্য
রক্ষা পায় এবং নবজাতকের
বৃদ্ধিতে পায় পূর্ণ গতি।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Gum disease risky for pregnant women

Pregnant women with
gum disease and high
levels of C-reactive protein
(CRP) — a marker of
inflammation in the body
— are at increased risk of
developing preeclampsia,
a potentially serious
complication involving
high blood pressure that
often leads to premature
delivery.
“Maternal periodontal
(gum) disease clearly
contributes to an
increased risk of
preeclampsia,” lead
investigator Dr Michael
Ruma said, “and our
results demonstrate that
this risk is further
increased in the presence
of elevated systemic
inflammation.”
Ruma, of the University of
North Carolina, Chapel Hill
and colleagues conducted
a secondary analysis of
data on 775 women who
had taken part in a study
of oral health and
pregnancy.
In all, 31 women, or 4
percent, developed
preeclampsia. Women
with the highest levels of
CRP were significantly
more likely to develop
preeclampsia than those
with lower levels.
When compared to those
without gum disease and
CRP at any level, the risk
was further elevated in
women with both gum
disease and elevated CRP
levels.
“What remains to be
seen,” concluded Ruma, “is
whether treatment of
maternal periodontal
disease can reduce the
rate of preeclampsia.”
Source: American Journal
of Obstetrics and
Gynecology
Source: The Daily Star
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভাবস্থায় মায়েদের আলট্রাসনোগ্রাফি

গর্ভাবস্থায় এক বিশেষ প্রক্রিয়ার
মধ্য দিয়ে মায়ের গর্ভে ভ্রূণ
বেড়ে ওঠে। আর গর্ভস্থ শিশুর
বেড়ে ওঠা, তার চারপাশের
অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য
আলট্রাসনোগ্রাফি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা।
পরীক্ষাটি নিরাপদ,
এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই,
সহজলভ্য এবং এটি বর্তমানে বেশ
জনপ্রিয়।
সাধারণত যেসব
কারণে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে হয়
গর্ভধারণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত
করা হয় আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে।
পূর্ববর্তী মাসিকের সাড়ে চার
সপ্তাহের মধ্যে গর্ভাশয়ের
থলে এবং পাঁচ সপ্তাহের
মধ্যে গর্ভাশয়ের থলের
মধ্যে আরেকটি ক্ষুদ্র থলে (ইয়ক
স্যাক) দেখে শনাক্ত করা যায়
গর্ভধারণ হয়েছে কি না। আর
সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ পর ভ্রূণ দেখা যায়।
হৃৎপিণ্ডের চলাচল পর্যবেক্ষণ
গর্ভধারণ করার পর ছয় সপ্তাহের
মধ্যে পালস ডপলার সনোগ্রাফির
মাধ্যমে ভ্রূণের হৃৎপিণ্ডের চলাচল
বোঝা যায় এবং সাত সপ্তাহের
মধ্যে সাধারণ গ্রে-স্কেল
আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রেও (যার
মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন
অঙ্গ ও টিস্যু দেখা হয়) ধরা যায়।
আবার সাত মিলিমিটার উচ্চতার
ভ্রূণের হৃৎপিণ্ডের চলাচল
বুঝতে না পারলে ভ্রূণের মধ্যে প্রাণ
নেই বলে সন্দেহ করতে হবে।
তবে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে এর
সাত থেকে ১০ দিন পর পুনরায়
আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ভ্রূণের
হৃৎস্পন্দন আছে কি না তা নিশ্চিত
হওয়া উচিত। এখানে বলে রাখা দরকার,
আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন
আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রের
সাহায্যে অপেক্ষাকৃত কম বয়সের ভ্রূণ
শনাক্ত এবং সঙ্গে হৃৎস্পন্দনও
বোঝা যায়।
ভ্রূণের বয়স নির্ধারণ
ভ্রূণের উচ্চতা, মাথার দুই প্রান্তের
দূরত্ব, পায়ের বড় অস্থি ভ্রূণের
বয়সের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সামঞ্জস্য
রেখে বৃদ্ধি পায়। আর
আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে এই
পরিমাপগুলো নিয়েই ভ্রূণের বয়স
নির্ধারণ করা হয়। পেটের পরিধির মাপ,
পায়ের বড় অস্থি এবং মাথার দুই
প্রান্তের দূরত্ব দিয়ে ভ্রূণের ওজন
সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়।
গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন বিকৃতি
আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে গর্ভস্থ
শিশুর বিকৃতি নির্ণয় করা যায়। যেমন,
মাথায় অতিরিক্ত পানি জমা,
মাথাবিহীন ভ্রূণ, খর্বাকৃতি,
মেরুদণ্ডের বিকৃতি, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা,
প্রস্রাবের থলের বা নালির সমস্যা,
ঠোঁট ও মুখের তালুর সমস্যা ইত্যাদি।
গর্ভফুলের অবস্থান জানা
গর্ভকালীন সময়ে তৈরি হয় গর্ভফুল,
যা জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে লেগে থাকে।
মা ও ভ্রূণের যোগাযোগ এই গর্ভফুলের
মাধ্যমে হয়। গর্ভফুল জরায়ুর কোন
অবস্থানে আছে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভফুল জরায়ুর নিচের দিকে থাকলে এ
অবস্থাকে বলা হয়
প্লাসেন্টা প্রিভিয়া।
এসব ক্ষেত্রে গর্ভকালীন প্রচুর
রক্তপাত হতে পারে। গর্ভফুল নিজেই
স্বাভাবিক প্রসবের রাস্তা বন্ধ
করে দিতে পারে।
আলট্রাসনোগ্রাফি করে গর্ভফুলের
অবস্থান নির্ণয় করা হয়।
ভ্রূণের সংখ্যা নির্ণয়
ভ্রূণের সংখ্যা এক, দুই, তিন বা এর
চেয়ে বেশি হতে পারে।
আলট্রাসনোগ্রাফি করেই ভ্রূণের
সংখ্যা নির্ণয় করা হয়।
গর্ভাশয়ের পানির পরিমাণ বের করা
গর্ভাশয়ের থলে তরল দিয়ে পূর্ণ থাকে।
এই তরলকে বলা হয় অ্যামনিয়টিক
ফ্লুইড। এই তরলের মধ্যেই ভ্রূণ
ডুবে থাকে। গর্ভাশয়ের থলের তরলের
পরিমাণ খুব
কমে গেলে বা বেশি হয়ে গেলে তা
ক্ষতিকর। আলট্রাসনোগ্রাফির
সাহায্যে এই পানির পরিমাণ নির্ধারণ
করা যায়।
এগুলো ছাড়াও গর্ভস্থ শিশুর
প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা,
হৃৎস্পন্দনসহ ভ্রূণের বাহ্যিক অবস্থা,
জরায়ুর ভেতরই ভ্রূণের মৃত্যু
(আইইউএফডি), জরায়ুর বাইরে ভ্রূণের
অবস্থান, ব্লাইটেড ওভাম (গর্ভাশয়ের
থলের ব্যাস ২৫ মিলিমিটার বা এর
বেশি কিন্তু ভ্রূণের অনুপস্থিতি)
ইত্যাদিও
আলট্রাসনোগ্রাফি করলে বোঝা যায়।
ডপলার আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা
এটি হচ্ছে বিশেষ ধরনের
আলট্রাসনোগ্রাফি, যার
মাধ্যমে রক্তনালিতে রক্তের প্রবাহের
দিক এবং রক্তের গতিপ্রকৃতি নির্ণয়
করা যায়। এর মাধ্যমে সাধারণত
ভ্রূণের রক্তনালিগুলো পর্যবেক্ষণ
করা হয়, যেমন হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ট,
হৃৎপিণ্ড থেকে বের হওয়া প্রধান ধমনি,
মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহকারী ধমনি,
জরায়ুর ভেতরের রক্তনালি, বড় শিরা,
যা হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। হৃৎপিণ্ডের
ত্রুটি, রক্তশূন্যতা, অক্সিজেন-
স্বল্পতা ডপলার অতিশব্দ পরীক্ষার
মাধ্যমে বোঝা যায়। ত্রিমাত্রিক ও
চতুর্মাত্রিক সনোগ্রাফির
মাধ্যমে ভ্রূণের ত্রিমাত্রিক
ছবি মনিটরে দেখা যায়।
কখন
আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করতে হবে
গর্ভাবস্থায়
আলট্রাসনোগ্রাফি বা অতিশব্দ
পরীক্ষা করার কোনো নির্ধারিত
সময়সূচি নেই। কোনো সমস্যা বা সন্দেহ
থাকলে পরীক্ষাটা করতে হবে।
গর্ভধারণ করার সাত সপ্তাহ পর
আলট্রাসনোগ্রাফি করলে গর্ভস্থ
শিশুকে দেখা যায় এবং হৃৎপিণ্ডের
চলাচল বোঝা যায়। ১১ থেকে ১৪
সপ্তাহের মধ্যে নাকের হাড়
এবং ঘাড়ের পেছনের দিকের পানিপূর্ণ
থলে দেখা হয়, যার মাধ্যমে মানসিক ও
শারীরিক ত্রুটিযুক্ত শিশু প্রসবের
আশঙ্কা থাকলে তা বোঝা যায়। ১৮
থেকে ২০ সপ্তাহের দিকে ভ্রূণের
গঠনগত ত্রুটিগুলো ভালো বোঝা যায়।
৩২ সপ্তাহের সময় সাধারণত ভ্রূণের
বৃদ্ধি, ওজন, বাহ্যিক অবস্থা দেখা হয়।
আগে করা সনোগ্রাফিগুলোতে কোনো
ত্রুটি সন্দেহ করলে এ
পর্যায়ে তা মিলিয়ে দেখা হয়। ২৪
সপ্তাহের পর গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ
নির্ধারণ করা যায়। তবে চিকিৎসা-
সংক্রান্ত বিশেষ কারণ ছাড়া লিঙ্গ
উল্লেখ না করাই ভালো। বিশ্বের
অনেক দেশেই গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ
উল্লেখ না করার বিষয়ে আইন প্রণয়ন
করা হয়েছে।
আছে কিছু ক্ষতিকর দিক
এক্স-রে, সিটিস্ক্যান
ইত্যাদি পরীক্ষায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন
রশ্মি ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের
জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু
আলট্রাসনোগ্রাফিতে অতিশব্দ তরঙ্গ
ব্যবহার করা হয়। এই তরঙ্গের
উল্লেখ করার মতো ক্ষতিকর দিক
এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এটাও
বলে রাখা ভালো যে সনোগ্রাফির
মাধ্যমে তথ্য পাওয়ায়
ক্ষেত্রে একটা ভালো যন্ত্র
থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ,
তেমনিভাবে যিনি পরীক্ষাটি করছেন
তাঁর দক্ষতাও রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
বলে গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন
আলট্রাসনোগ্রাফি করা ঠিক নয়।
নির্দিষ্ট কারণে বা কোনো তথ্যের
প্রয়োজন হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়ে পরীক্ষাটি করানো উচিত।
মো· তারিকুল ইসলাম
রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল, সিলেট
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
কর্মজীবী মায়েদের জন্য .
কর্মজীবী মায়েরা কর্মক্ষেত্রে থাকা
অবস্থায়ও শিশুর ছয় মাস বয়স
পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ
খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন
বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বুকের
দুধ চিপে বের করে বাড়িতে সংরক্ষণ
করে তা শিশুকে খাওয়ানো যায়। এ
দায়িত্ব পালন
করতে হবে বাড়িতে শিশুকে যিনি
দেখাশোনা করবেন, তাঁকে। তাঁকে শিশুর
জন্য মায়ের বুকের দুধের
উপকারিতা কতটুকু তাও বোঝাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
কর্মকর্তারা জানান, একজন
কর্মজীবী মা বাড়িতে ১০ আউন্স
(৩০০ মিলিলিটার) পর্যন্ত দুধ বের
করে রেখে যেতে পারেন। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
চেয়ারম্যান এবং আইসিডিডিআরবির
জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস
কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, যেসব
কর্মজীবী মা দিনের সাত থেকে আট
ঘণ্টা কর্মক্ষেত্রে থাকেন, সেই সময়ের
জন্য ৩০০ মিলিলিটার পরিমাণ দুধ
বাচ্চার জন্য যথেষ্ট।
তবে মা কর্মক্ষেত্র
থেকে ফিরে শিশুকে বারবার বুকের দুধ
খাওয়াবেন। রাতের বেলায়ও
শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ
দিতে হবে। এতে করে বুকে দুধের
পরিমাণ বেশি হবে এবং ছয় মাস বয়স
পর্যন্ত শিশুর খাবারের
চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হবে। এর পর
থেকে বুকের দুধের
পাশাপাশি বাড়িতে তৈরি পারিবারিক
খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত
করে তুলতে হবে। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
দেওয়া তথ্যমতে, হাতের
সাহায্যে অথবা ব্রেস্ট পাম্পের
সাহায্যে দুধ বের করে সংরক্ষণ
করা যায়। হাতের সাহায্যে দুধ বের
করার পদ্ধতি সহজ, ঝামেলামুক্ত ও
নিরাপদ। ব্রেস্ট পাম্পের সাহায্যে দুধ
বের করার বিপক্ষে থাকেন
চিকিৎসকেরা। যেভাবেই হোক, চিপে বের
করা দুধ সাধারণ তাপমাত্রায় ছয়
থেকে আট ঘণ্টা রাখা যায়।
অন্যদিকে ফ্রিজ ব্যবহার করলে ২৪
ঘণ্টা পর্যন্ত বুকের দুধ ভালো থাকে।
তবে চিপে রাখা দুধ শিশুকে খাওয়ানোর
আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে।
ফ্রিজ থেকে বের করে একটি গরম
পানির পাত্রের ওপর দুধের
পাত্রটি রেখে একটু গরম
করে নিতে হবে। অক্সিটোসিন নামের
হরমোনটি মায়ের
বুকে তৈরি হওয়া দুধকে বের
করতে সাহায্য করে। তাই এ
হরমোনটি তৈরি হওয়াও জরুরি।
শিশুকে বারবার দুধ
খাওয়ানো হলে মায়ের বুকে দুধ
বেশি তৈরি হয়। তাই কর্মজীবী মায়েদের
কর্মস্থলে থাকা অবস্থায়ও বুকের দুধ
চিপে বের করে সংরক্ষণ করতে হবে।
মায়ের প্রস্তুতিঃ কাজে যোগ দেওয়ার
আগে থেকেই মাকে এ বিষয়ে বিশেষ
প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিশুকে এবং তাকে যিনি দেখবেন
তাঁকে বিষয়টিতে প্রস্তুত করাও
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাবান
দিয়ে হাত ধুয়ে বড় মুখের ঢাকনাসহ
পাত্র নিয়ে মাকে নিশ্চিন্ত মনে আরাম
করে বসতে হবে।
তাড়াহুড়ো করলে ভালোভাবে দুধ বের
হবে না। বাড়িতে থাকা অবস্থায় দুধ
বের করার সময়
সন্তানকে কাছে রাখতে হবে, তার
কথা ভাবতে হবে,
কোলে নিতে হবে অথবা তাকে দুধ
খাওয়াতে হবে। আর
কর্মক্ষেত্রে শিশুর কথা ভাবার
পাশাপাশি শিশুর ছবিও দেখতে পারেন
মায়েরা। তোয়ালে গরম
পানিতে ভিজিয়ে স্তনে পেঁচিয়ে রাখা,
মালিশ করার পাশাপাশি পানি, দুধ
বা শরবত খেতে হবে। বাড়িতে দুধ
সংরক্ষণের জন্য মায়েদের অনেক সময়
ব্যয় করতে হবে দুধ বের করার কাজে।
তাই এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের
সহযোগিতার পাশাপাশি মাকেও অনেক
বেশি ধৈর্য ধরতে হবে সন্তানের
কথা চিন্তা করে।
দুধ বের করার পদ্ধতিঃ বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
হ্যান্ডবুকে দেওয়া তথ্যমতে, মায়ের
বুকে দুধ জমা হওয়ার পর স্তনের
কালো অংশের নিচে এসে জমা হয়।
সে জন্য দুধ বের করার সময় আঙ্গুলের
চাপ যাতে বোঁটার
চারদিকে কালো অংশের ওপর পড়ে,
তা খেয়াল রাখতে হবে। আঙ্গুল
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো কালো অংশ থেকে দুই
স্তনের দুধ বের করতে হবে। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের মতে,
স্তনের পেছন দিকের অংশের
ত্বকে পুরো হাতে চাপ দিয়ে দুধ বের
করা ঠিক নয়। হাতের বুড়ো আঙ্গুল
স্তনের বোঁটার চারপাশের কালো অংশের
ওপর এবং তর্জনী নিচে রাখতে হবে।
অন্য আঙ্গুলগুলো দিয়ে স্তনের নিচের
দিকের ভার নিতে হবে। তর্জনী ও
বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কালো চামড়া একটু
পেছন দিকে টেনে নিয়ে চাপ
দিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে বারবার
করার সময় খেয়াল রাখতে হবে,
যাতে স্তনের বোঁটায় চাপ না লাগে।
দুধ সংরক্ষণঃ বড় মুখের
ঢাকনাওয়ালা কয়েকটি পাত্রে দুধ
সংরক্ষণ করতে হবে।
পাত্রগুলো ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে
নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন
বিশেষজ্ঞরা। মায়েরা যদি সাত
থেকে আট ঘণ্টা বাইরে থাকেন, তখন
তিন থেকে চারবার শিশুকে খাওয়ানোর
জন্য পৃথক পাত্রে দুধ সংরক্ষণ
করতে হবে। বিভিন্ন
সময়ে চিপে রাখা দুধ বিভিন্ন
পাত্রে নম্বর দিয়ে অথবা বিভিন্ন
রং দিয়ে চিহ্নিত করে রাখতে হবে।
আগে চিপে রাখা দুধ
আগে খাওয়াতে হবে।
খাওয়ানোর নিয়মঃ সংরক্ষিত দুধ
কাপে অথবা চামচ দিয়ে খাওয়ানোর
জন্য পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
শিশুর মুখে একবার বোতল দিলে শিশু
আর বুকের দুধ চুষে খেতে চায় না।
সব মায়েরই
জেনে রাখা ভালোঃ কর্মজীবী মা ছাড়াও
এ পদ্ধতি যেকোনো সময়
যেকোনো মায়ের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রত্যাশিত সময়ের আগে সন্তান জন্ম
নিলে, শিশু দুর্বল ও অসুস্থ
থাকলে চুষে দুধ খেতে পারে না।
মা অসুস্থ থাকলেও এ
পদ্ধতিতে সন্তানকে দুধ
খাওয়াতে পারেন মায়েরা। মায়ের
বুকে অতিরিক্ত দুধ
জমে ভারী হয়ে গেলে এ পদ্ধতি ব্যবহার
করে মায়েরা আরাম পেতে পারেন।
মানসুরা হোসাইন
সূত্রঃ প্রথম আলো, জুলাই ২৯,
২০০৯
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
অবস্থায়ও শিশুর ছয় মাস বয়স
পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ
খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন
বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বুকের
দুধ চিপে বের করে বাড়িতে সংরক্ষণ
করে তা শিশুকে খাওয়ানো যায়। এ
দায়িত্ব পালন
করতে হবে বাড়িতে শিশুকে যিনি
দেখাশোনা করবেন, তাঁকে। তাঁকে শিশুর
জন্য মায়ের বুকের দুধের
উপকারিতা কতটুকু তাও বোঝাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
কর্মকর্তারা জানান, একজন
কর্মজীবী মা বাড়িতে ১০ আউন্স
(৩০০ মিলিলিটার) পর্যন্ত দুধ বের
করে রেখে যেতে পারেন। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
চেয়ারম্যান এবং আইসিডিডিআরবির
জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস
কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, যেসব
কর্মজীবী মা দিনের সাত থেকে আট
ঘণ্টা কর্মক্ষেত্রে থাকেন, সেই সময়ের
জন্য ৩০০ মিলিলিটার পরিমাণ দুধ
বাচ্চার জন্য যথেষ্ট।
তবে মা কর্মক্ষেত্র
থেকে ফিরে শিশুকে বারবার বুকের দুধ
খাওয়াবেন। রাতের বেলায়ও
শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ
দিতে হবে। এতে করে বুকে দুধের
পরিমাণ বেশি হবে এবং ছয় মাস বয়স
পর্যন্ত শিশুর খাবারের
চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হবে। এর পর
থেকে বুকের দুধের
পাশাপাশি বাড়িতে তৈরি পারিবারিক
খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত
করে তুলতে হবে। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
দেওয়া তথ্যমতে, হাতের
সাহায্যে অথবা ব্রেস্ট পাম্পের
সাহায্যে দুধ বের করে সংরক্ষণ
করা যায়। হাতের সাহায্যে দুধ বের
করার পদ্ধতি সহজ, ঝামেলামুক্ত ও
নিরাপদ। ব্রেস্ট পাম্পের সাহায্যে দুধ
বের করার বিপক্ষে থাকেন
চিকিৎসকেরা। যেভাবেই হোক, চিপে বের
করা দুধ সাধারণ তাপমাত্রায় ছয়
থেকে আট ঘণ্টা রাখা যায়।
অন্যদিকে ফ্রিজ ব্যবহার করলে ২৪
ঘণ্টা পর্যন্ত বুকের দুধ ভালো থাকে।
তবে চিপে রাখা দুধ শিশুকে খাওয়ানোর
আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে।
ফ্রিজ থেকে বের করে একটি গরম
পানির পাত্রের ওপর দুধের
পাত্রটি রেখে একটু গরম
করে নিতে হবে। অক্সিটোসিন নামের
হরমোনটি মায়ের
বুকে তৈরি হওয়া দুধকে বের
করতে সাহায্য করে। তাই এ
হরমোনটি তৈরি হওয়াও জরুরি।
শিশুকে বারবার দুধ
খাওয়ানো হলে মায়ের বুকে দুধ
বেশি তৈরি হয়। তাই কর্মজীবী মায়েদের
কর্মস্থলে থাকা অবস্থায়ও বুকের দুধ
চিপে বের করে সংরক্ষণ করতে হবে।
মায়ের প্রস্তুতিঃ কাজে যোগ দেওয়ার
আগে থেকেই মাকে এ বিষয়ে বিশেষ
প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিশুকে এবং তাকে যিনি দেখবেন
তাঁকে বিষয়টিতে প্রস্তুত করাও
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাবান
দিয়ে হাত ধুয়ে বড় মুখের ঢাকনাসহ
পাত্র নিয়ে মাকে নিশ্চিন্ত মনে আরাম
করে বসতে হবে।
তাড়াহুড়ো করলে ভালোভাবে দুধ বের
হবে না। বাড়িতে থাকা অবস্থায় দুধ
বের করার সময়
সন্তানকে কাছে রাখতে হবে, তার
কথা ভাবতে হবে,
কোলে নিতে হবে অথবা তাকে দুধ
খাওয়াতে হবে। আর
কর্মক্ষেত্রে শিশুর কথা ভাবার
পাশাপাশি শিশুর ছবিও দেখতে পারেন
মায়েরা। তোয়ালে গরম
পানিতে ভিজিয়ে স্তনে পেঁচিয়ে রাখা,
মালিশ করার পাশাপাশি পানি, দুধ
বা শরবত খেতে হবে। বাড়িতে দুধ
সংরক্ষণের জন্য মায়েদের অনেক সময়
ব্যয় করতে হবে দুধ বের করার কাজে।
তাই এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের
সহযোগিতার পাশাপাশি মাকেও অনেক
বেশি ধৈর্য ধরতে হবে সন্তানের
কথা চিন্তা করে।
দুধ বের করার পদ্ধতিঃ বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের
হ্যান্ডবুকে দেওয়া তথ্যমতে, মায়ের
বুকে দুধ জমা হওয়ার পর স্তনের
কালো অংশের নিচে এসে জমা হয়।
সে জন্য দুধ বের করার সময় আঙ্গুলের
চাপ যাতে বোঁটার
চারদিকে কালো অংশের ওপর পড়ে,
তা খেয়াল রাখতে হবে। আঙ্গুল
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো কালো অংশ থেকে দুই
স্তনের দুধ বের করতে হবে। বাংলাদেশ
ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের মতে,
স্তনের পেছন দিকের অংশের
ত্বকে পুরো হাতে চাপ দিয়ে দুধ বের
করা ঠিক নয়। হাতের বুড়ো আঙ্গুল
স্তনের বোঁটার চারপাশের কালো অংশের
ওপর এবং তর্জনী নিচে রাখতে হবে।
অন্য আঙ্গুলগুলো দিয়ে স্তনের নিচের
দিকের ভার নিতে হবে। তর্জনী ও
বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কালো চামড়া একটু
পেছন দিকে টেনে নিয়ে চাপ
দিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে বারবার
করার সময় খেয়াল রাখতে হবে,
যাতে স্তনের বোঁটায় চাপ না লাগে।
দুধ সংরক্ষণঃ বড় মুখের
ঢাকনাওয়ালা কয়েকটি পাত্রে দুধ
সংরক্ষণ করতে হবে।
পাত্রগুলো ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে
নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন
বিশেষজ্ঞরা। মায়েরা যদি সাত
থেকে আট ঘণ্টা বাইরে থাকেন, তখন
তিন থেকে চারবার শিশুকে খাওয়ানোর
জন্য পৃথক পাত্রে দুধ সংরক্ষণ
করতে হবে। বিভিন্ন
সময়ে চিপে রাখা দুধ বিভিন্ন
পাত্রে নম্বর দিয়ে অথবা বিভিন্ন
রং দিয়ে চিহ্নিত করে রাখতে হবে।
আগে চিপে রাখা দুধ
আগে খাওয়াতে হবে।
খাওয়ানোর নিয়মঃ সংরক্ষিত দুধ
কাপে অথবা চামচ দিয়ে খাওয়ানোর
জন্য পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
শিশুর মুখে একবার বোতল দিলে শিশু
আর বুকের দুধ চুষে খেতে চায় না।
সব মায়েরই
জেনে রাখা ভালোঃ কর্মজীবী মা ছাড়াও
এ পদ্ধতি যেকোনো সময়
যেকোনো মায়ের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রত্যাশিত সময়ের আগে সন্তান জন্ম
নিলে, শিশু দুর্বল ও অসুস্থ
থাকলে চুষে দুধ খেতে পারে না।
মা অসুস্থ থাকলেও এ
পদ্ধতিতে সন্তানকে দুধ
খাওয়াতে পারেন মায়েরা। মায়ের
বুকে অতিরিক্ত দুধ
জমে ভারী হয়ে গেলে এ পদ্ধতি ব্যবহার
করে মায়েরা আরাম পেতে পারেন।
মানসুরা হোসাইন
সূত্রঃ প্রথম আলো, জুলাই ২৯,
২০০৯
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের বিশেষ যত্ন
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্।
এই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর,
সাবলীল স্বাস্থ্যে উন্নত রাখার জন্য
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের যথোপযুক্ত
যত্ন ও পরিচর্যা দরকার। এর জন্য
প্রথমেই প্রয়োজন পরিবারের সবার
মানসিকতার পরিবর্তন।
মনে রাখতে হবে, একজন নারী তাঁর
শরীরের মধ্যে ধারণ করছেন আরেকজন
ক্ষুদ্রাকৃতির মানুষ। এই ক্ষুদ্রাকৃতির
মানুষটি পেটের ভেতর বেড়ে ওঠার জন্য
চাই পরিবেশবান্ধব অবস্থা—
সেটা হবে খাদ্য, আলো, বাতাস, বিশ্রাম
ও সময়মতো চিকিত্সকের পরামর্শ
এবং সে অনুযায়ী পথ্য ও পরীক্ষা।
পুরো গর্ভাবস্থাকে এ জন্য
তিনটি সময়ে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথম তিন মাস
প্রথম গর্ভধারণের লজ্জা,
বমি বমি ভাব, এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য
ইত্যাদি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
অথচ এই সময়ই বাচ্চার অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গগুলো পূর্ণ রূপ লাভ
করে (পিরিয়ড অব অরগানোজেনেসিস)।
তাই মাকে এ সময় সহমর্মিতার
পাশাপাশি বমি বেশি হলে বমিনাশক,
অম্লনাশক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার
জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের
পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ও
অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ
সময় ছোট কয়েকটি পরীক্ষা—যেমন
রক্তের হিমোগ্লোবিন, সুগার ও গ্রুপ
করে রাখা উচিত। খুব বেশি প্রয়োজন
না হলে আলট্রাসনোগ্রাম করার
দরকার নেই।
দ্বিতীয় তিন মাস
যাঁদের মাসিক অনিয়মিত, তাঁদের তারিখ
নিশ্চিত করার জন্য ১২-১৪
সপ্তাহে এবং যাঁদের কোনো বংশগত
বা জন্মগত সমস্যা আছে,
কিংবা হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য
২০-২২ সপ্তাহে আলট্রাসনোগ্রাম
করতে হবে। যেহেতু গর্ভস্থ শিশুর
শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়
উপাদান মায়ের কাছ থেকেই আসে, তাই
মায়ের প্রতিদিনের খাদ্য
হতে হবে সুষম, যার মধ্যে মাছ, মাংস,
ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও প্রচুর
পানি থাকতে হবে।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দুপুরে অন্তত দুই
ঘণ্টা ও রাতে অন্তত সাত
ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হবে।
আগে টিকা দেওয়া না থাকলে
গর্ভাবস্থায় পাঁচ ও ছয় মাস শেষ
হলে দুটি টিটি টিকা দিতে হবে। গর্ভস্থ
শিশুর বাড়ন্ত গঠনের জন্য আয়রন,
ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট
খেতে দিলে ভালো হয়।
তৃতীয় তিন মাস
এ সময় গর্ভের শিশু খুব দ্রুত
বেড়ে ওঠে। মোট গর্ভকালীন মায়ের
১০-১২ কেজি ওজন বৃদ্ধির বেশির
ভাগ এ সময় হয়। এ সময় অনেক
গর্ভবতী মায়ের পায়ে পানি আসে। পেট
বড় হওয়ার জন্য মৃদু শ্বাসকষ্ট,
এসিডিটি কষ্ট, স্তন থেকে কিছু তরল
পদার্থ নিঃসৃত হতে পারে।
এগুলো গর্ভবতী মায়ের জন্য
স্বাভাবিক ব্যাপার। তাঁকে এসব
বুঝিয়ে বলতে হবে। নিয়মিত ওজন ও
প্রেশার মাপা, জরায়ুর ফান্ডাল
উচ্চতা মেপে দেখা (যত সপ্তাহ তত
সেমি)। কোনো জটিলতা দেখা দিলে,
যেমন অস্বাভাবিক পেট বড় বা ছোট
হওয়া, হঠাত্ রক্তভাঙা, খুব বেশি জ্বর
আসা, বেশি রক্তচাপ দেখা দেওয়া—
এমন
পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি চিকিত্সক
দেখাতে হবে।
অন্তত পাঁচবার
গর্ভবতী মাকে চিকিত্সক
দেখানো দরকার। প্রথম তিন
মাসে একবার, ২৮ সপ্তাহে একবার,
৩৬ সপ্তাহে একবার এবং তারপর
প্রতি সপ্তাহে একবার
করে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত।
প্রসূতিকে অবশ্যই একজন চিকিত্সক
বা নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ দাই
দিয়ে প্রসব করানো উচিত।
মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রথম
দেখা দিলে বা বের হয়ে আসতে চাইলে,
প্রসবের সময় ১২ ঘণ্টার বেশি হলে,
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
হলে তাড়াতাড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিতে
হবে। প্রসবের পরের প্রথম দুই
ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়
রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ
পরীক্ষা এবং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত
মাকে বিশ্রাম দিতে হবে। জন্মের পর
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের
কাছে আনতে হবে এবং মায়ের দুধ
(শালদুধ) খাওয়াতে হবে।
সাত দিন এবং ছয় সপ্তাহ পর
তাঁকে আবার চিকিত্সকের
কাছে আনতে হবে, যিনি তাঁকে বুকের দুধ
খাওয়ানোর এবং অন্যান্য সাধারণ
চেকআপ করা ছাড়াও জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি ব্যবহারে অবহিত করবেন ও
পরামর্শ দেবেন। আমাদের
দেশে প্রতি লাখে ৩২০ জন
নারী সন্তান ধারণজনিত জটিলতায়
মারা যান। উন্নত জীবন যাপন, গর্ভ
ও প্রসবকালীন যথোপযুক্ত যত্নের
জন্য উন্নত বিশ্বে এই মৃত্যুর হার
অনেক কম। তাই আসুন, আমরা সচেতন
হই, মায়ের গর্ভকালীন নিরাপত্তা ও
পুষ্টি নিশ্চিত করি। শিশু জন্মদানের
জন্য তাঁকে সুন্দর নির্ভরশীল
বিশ্বস্ত পরিবেশ দিই। দিই
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, মনোরম
পরিবেশ মা ও সদ্য-প্রসূত সন্তানের
জন্য। কবি সুকান্তের ভাষায়, ‘এ
বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব
আমি, নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ়
অঙ্গীকার।’
হামিদা বেগম
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
এই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর,
সাবলীল স্বাস্থ্যে উন্নত রাখার জন্য
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের যথোপযুক্ত
যত্ন ও পরিচর্যা দরকার। এর জন্য
প্রথমেই প্রয়োজন পরিবারের সবার
মানসিকতার পরিবর্তন।
মনে রাখতে হবে, একজন নারী তাঁর
শরীরের মধ্যে ধারণ করছেন আরেকজন
ক্ষুদ্রাকৃতির মানুষ। এই ক্ষুদ্রাকৃতির
মানুষটি পেটের ভেতর বেড়ে ওঠার জন্য
চাই পরিবেশবান্ধব অবস্থা—
সেটা হবে খাদ্য, আলো, বাতাস, বিশ্রাম
ও সময়মতো চিকিত্সকের পরামর্শ
এবং সে অনুযায়ী পথ্য ও পরীক্ষা।
পুরো গর্ভাবস্থাকে এ জন্য
তিনটি সময়ে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথম তিন মাস
প্রথম গর্ভধারণের লজ্জা,
বমি বমি ভাব, এসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য
ইত্যাদি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
অথচ এই সময়ই বাচ্চার অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গগুলো পূর্ণ রূপ লাভ
করে (পিরিয়ড অব অরগানোজেনেসিস)।
তাই মাকে এ সময় সহমর্মিতার
পাশাপাশি বমি বেশি হলে বমিনাশক,
অম্লনাশক, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার
জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের
পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ও
অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। এ
সময় ছোট কয়েকটি পরীক্ষা—যেমন
রক্তের হিমোগ্লোবিন, সুগার ও গ্রুপ
করে রাখা উচিত। খুব বেশি প্রয়োজন
না হলে আলট্রাসনোগ্রাম করার
দরকার নেই।
দ্বিতীয় তিন মাস
যাঁদের মাসিক অনিয়মিত, তাঁদের তারিখ
নিশ্চিত করার জন্য ১২-১৪
সপ্তাহে এবং যাঁদের কোনো বংশগত
বা জন্মগত সমস্যা আছে,
কিংবা হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য
২০-২২ সপ্তাহে আলট্রাসনোগ্রাম
করতে হবে। যেহেতু গর্ভস্থ শিশুর
শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়
উপাদান মায়ের কাছ থেকেই আসে, তাই
মায়ের প্রতিদিনের খাদ্য
হতে হবে সুষম, যার মধ্যে মাছ, মাংস,
ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল ও প্রচুর
পানি থাকতে হবে।
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দুপুরে অন্তত দুই
ঘণ্টা ও রাতে অন্তত সাত
ঘণ্টা বিশ্রাম দিতে হবে।
আগে টিকা দেওয়া না থাকলে
গর্ভাবস্থায় পাঁচ ও ছয় মাস শেষ
হলে দুটি টিটি টিকা দিতে হবে। গর্ভস্থ
শিশুর বাড়ন্ত গঠনের জন্য আয়রন,
ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট
খেতে দিলে ভালো হয়।
তৃতীয় তিন মাস
এ সময় গর্ভের শিশু খুব দ্রুত
বেড়ে ওঠে। মোট গর্ভকালীন মায়ের
১০-১২ কেজি ওজন বৃদ্ধির বেশির
ভাগ এ সময় হয়। এ সময় অনেক
গর্ভবতী মায়ের পায়ে পানি আসে। পেট
বড় হওয়ার জন্য মৃদু শ্বাসকষ্ট,
এসিডিটি কষ্ট, স্তন থেকে কিছু তরল
পদার্থ নিঃসৃত হতে পারে।
এগুলো গর্ভবতী মায়ের জন্য
স্বাভাবিক ব্যাপার। তাঁকে এসব
বুঝিয়ে বলতে হবে। নিয়মিত ওজন ও
প্রেশার মাপা, জরায়ুর ফান্ডাল
উচ্চতা মেপে দেখা (যত সপ্তাহ তত
সেমি)। কোনো জটিলতা দেখা দিলে,
যেমন অস্বাভাবিক পেট বড় বা ছোট
হওয়া, হঠাত্ রক্তভাঙা, খুব বেশি জ্বর
আসা, বেশি রক্তচাপ দেখা দেওয়া—
এমন
পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি চিকিত্সক
দেখাতে হবে।
অন্তত পাঁচবার
গর্ভবতী মাকে চিকিত্সক
দেখানো দরকার। প্রথম তিন
মাসে একবার, ২৮ সপ্তাহে একবার,
৩৬ সপ্তাহে একবার এবং তারপর
প্রতি সপ্তাহে একবার
করে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত।
প্রসূতিকে অবশ্যই একজন চিকিত্সক
বা নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ দাই
দিয়ে প্রসব করানো উচিত।
মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রথম
দেখা দিলে বা বের হয়ে আসতে চাইলে,
প্রসবের সময় ১২ ঘণ্টার বেশি হলে,
অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
হলে তাড়াতাড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিতে
হবে। প্রসবের পরের প্রথম দুই
ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়
রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ
পরীক্ষা এবং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত
মাকে বিশ্রাম দিতে হবে। জন্মের পর
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের
কাছে আনতে হবে এবং মায়ের দুধ
(শালদুধ) খাওয়াতে হবে।
সাত দিন এবং ছয় সপ্তাহ পর
তাঁকে আবার চিকিত্সকের
কাছে আনতে হবে, যিনি তাঁকে বুকের দুধ
খাওয়ানোর এবং অন্যান্য সাধারণ
চেকআপ করা ছাড়াও জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি ব্যবহারে অবহিত করবেন ও
পরামর্শ দেবেন। আমাদের
দেশে প্রতি লাখে ৩২০ জন
নারী সন্তান ধারণজনিত জটিলতায়
মারা যান। উন্নত জীবন যাপন, গর্ভ
ও প্রসবকালীন যথোপযুক্ত যত্নের
জন্য উন্নত বিশ্বে এই মৃত্যুর হার
অনেক কম। তাই আসুন, আমরা সচেতন
হই, মায়ের গর্ভকালীন নিরাপত্তা ও
পুষ্টি নিশ্চিত করি। শিশু জন্মদানের
জন্য তাঁকে সুন্দর নির্ভরশীল
বিশ্বস্ত পরিবেশ দিই। দিই
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, মনোরম
পরিবেশ মা ও সদ্য-প্রসূত সন্তানের
জন্য। কবি সুকান্তের ভাষায়, ‘এ
বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব
আমি, নবজাতকের কাছে এই আমার দৃঢ়
অঙ্গীকার।’
হামিদা বেগম
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
তেজস্ক্রিয়তা থেকে গর্ভের শিশুকে বাঁচান
গর্ভস্থ শিশু বিভিন্নভাবে তেজস্ক্রিয়
রশ্মির সংস্পর্শে আসতে পারে। এ
ক্ষেত্রে সাধারণত গর্ভস্থ শিশুর
মা তেজস্ক্রিয় রশ্মির
সংস্পর্শে আসেন এবং এরই একাংশ
গর্ভস্থ শিশুর কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
আবার গর্ভবতী মা অনেক সময়
চিকিৎসাগত কারণে তেজস্ক্রিয়
পদার্থযুক্ত ওষুধ খেয়ে থাকেন,
যা মায়ের মূত্রাশয়ের দেয়ালে অনেক
দিন জমা থাকে এবং মূত্রাশয়ের
পেছনে অবস্থিত জরায়ু ও ভ্রূণের ওপর
তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছড়িয়ে দিতে পারে।
সারা বিশ্বেই মানুষ প্রতিনিয়ত
অল্পমাত্রায় তেজস্ক্রিয় রশ্মির
সম্মুখীন হচ্ছে। একে বলা হয়
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা। এর উৎস
হচ্ছে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ,
বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি,
যা বায়ুমণ্ডল ভেদ
করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসে। প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তা অল্প মাত্রায় বিরাজ
করে, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের
উচ্চতা যত বেশি হয়, এর মাত্রা ততই
বাড়তে থাকে।
তেজস্ক্রিয় রশ্মির কার্যকর মাত্রার
একককে বলা হয় মিলি সিভার্ট।
সাধারণভাবে একজন মানুষ বছরে তিন
মিলি সিভার্ট প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হয়। তিন
মিলি সিভার্ট তেজস্ক্রিয়তা মা ও
গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর মাত্রার
চেয়ে অনেক কম। প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তা ছাড়াও একজন
গর্ভবতী মা তেজস্ক্রিয়
রশ্মি বা পদার্থের সম্মুখীন হতে পারে-
এক্স-রে, সিটিস্ক্যান,
ফ্লুরোস্কোপি (বিশেষ ধরনের এক্স-
রে) পরীক্ষা করালে, ক্যানসার
চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি গ্রহণ
করলে কিংবা তেজস্ক্রিয় পদার্থযুক্ত
ওষুধ গ্রহণ করলে।
একজন গর্ভবতী মা বেশি মাত্রায়
তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হলে তাঁর
গর্ভস্থ ভ্রূণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সে জন্য গর্ভবতী মায়েদের এ ধরনের
পরীক্ষা করাতে বা চিকিৎসা গ্রহণের
ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক
হওয়া প্রয়োজন।
সাধারণভাবে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার
যে মাত্রা ব্যবহার করা হয়,
তা প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার তুলনায়
অনেক বেশি। একবার বুকের এক্স-
রে করালে একটা মানুষ যে পরিমাণ
তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসে,
তা প্রায় ১০ দিনের প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার সমান, যার কার্যকর
মাত্রা প্রায় ০·১ মিলি সিভার্ট।
কিডনি ও মূত্রাশয় পরীক্ষার জন্য
আইভিপি বা ইন্ট্র্রাভেনাস
পাইলোগ্রাম পরীক্ষায় ব্যবহৃত
তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ এক বছরের
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার সমান।
পেটের সিটিস্ক্যান, খাদ্যনালির
সিটিস্ক্যান (সিটি কোলোনোগ্রাফি) ও
খাদ্যনালির এক্স-রেতে যে পরিমাণ
তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয়,
তা প্রায় তিন বছরের প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার সমমাত্রার। একজন
মানুষ মাথার সিটিস্ক্যান
করালে যে মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার
সম্মুখীন হন, তা প্রায় আট মাসের
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার সমান।
আবার বুকের সিটিস্ক্যান
কিংবা মেরুদণ্ডের সিটিস্ক্যানে ব্যবহৃত
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা প্রায় দুই
বছরের প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার
সমমাত্রার।
আশার কথা হলো, রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রার চেয়ে অনেক
গুণ বেশি এটা ঠিক, কিন্তু ভ্রূণের
বা গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হওয়ার জন্য
যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তার প্রয়োজন,
তার তুলনায় অনেক কম। গর্ভস্থ
ভ্রূণের ক্ষতি হওয়ার জন্য
সাধারণভাবে ২০০ মিলি সিভার্ট
তেজস্ক্রিয়তার প্রয়োজন।
তবে ভ্রূণের বয়স দুই সপ্তাহের কম
হলে ৫০ মিলি সিভার্ট তেজস্ক্রিয়তায়
গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। এ
ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মা বুঝতেই পারেন
না যে তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন। রোগ
নির্ণয়ের জন্য
যে পরীক্ষাগুলো করা হয়, এর
মাত্রা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ১০
মিলি সিভার্টের চেয়ে কম হয়।
সে ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় রশ্মি দিয়ে এই
পরীক্ষাগুলো সাধারণভাবে নিরাপদ।
আবার একজন
গর্ভবতী মা তেজস্ক্রিয়
রশ্মি দিয়ে পরীক্ষা করালেই
যে তা ভ্রূণের কাছে পৌঁছে যাবে,
তা নয়। তেজস্ক্রিয় রশ্মি সরল
পথে চলাচল করে, কাজেই জরায়ু ও এর
আশপাশের অঙ্গের পরীক্ষা করালেই
কেবল ভ্রূণ প্রত্যক্ষ তেজস্ক্রিয়তার
সম্মুখীন হয়। দূরবর্তী অঙ্গের
পরীক্ষা করালে কিছু বিক্ষিপ্ত
রশ্মি ভ্রূণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে,
তবে এর মাত্রা অনেক কম।
যেসব অঙ্গের পরীক্ষায়
সরাসরি ভ্রূণে তেজস্ক্রিয়তা পৌঁছার
সম্ভাবনা রয়েছে, এর
মধ্যে আছে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের
এক্স-রে বা সিটিস্ক্যান, কিডনি ও
মূত্রাশয় দেখার জন্য আইভিপি,
জরায়ুর গঠন দেখার জন্য এক্স-
রে হিস্টেরোসালফিঙ্গোগ্রাম, তলপেট
বা হিপ-জয়েন্টের পরীক্ষা, ক্ষুদ্রান্ত
ও বৃহদন্ত্রের পরীক্ষা ইত্যাদি।
তবে রোগ নির্ণয় ছাড়াও চিকিৎসার
জন্য তেজস্ক্রিয়
রশ্মি বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত
হতে পারে। সাধারণত ক্যান্সার
চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি ব্যবহার
করা হয়। এ ছাড়া থাইরয়েডের
ক্যান্সার বা হাইপার থাইরোয়েডিজমের
জন্য তেজস্ক্রিয় পদার্থযুক্ত ওষুধ
গ্রহণ করতে হয়। তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা এ
ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে কিংবা
দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, যা ভ্রূণের জন্য
ক্ষতিকর।
গর্ভস্থ শিশুর ওপর তেজস্ক্রিয়তার
প্রভাব তার বয়স, তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা ও তেজস্ক্রিয়তার সময়ের ওপর
নির্ভর করে। গর্ভস্থ শিশু যত কম
বয়সে তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হয়,
তেজস্ক্রিয়তার সংবেদনশীলতা তত
বেশি থাকে; অর্থাৎ ক্ষতির আশঙ্কা,
ব্যাপকতা বেশি থাকে; আবার
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এবং বেশি সময়
ধরে এর
কার্যকারিতা থাকলে স্বভাবতই
ক্ষতির আশঙ্কা বেশি।
গর্ভস্থ শিশু তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন
হলে তার জন্ম-
পরবর্তী ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার
আশঙ্কা থাকে এবং এ
ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ও
সময় যত বাড়বে, ক্যানসারে আক্রান্ত
হওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে।
গর্ভধারণে সক্ষম যেকোনো নারীর
চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁর
চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন
যে তিনি গর্ভবতী কি না অথবা
গর্ভবতী হওয়ার
সম্ভাবনা আছে কি না। এ
ক্ষেত্রে চিকিৎসক
প্রথমে গর্ভধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত
হবেন। তারপর রোগীর চিকিৎসাপত্র
দেবেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক
গর্ভবতী মা ও ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর
ওষুধ এবং তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার
আছে, এমন পরীক্ষা ও ওষুধ যথাসম্ভব
বাদ দেবেন।
অনেক সময় দেখা যায়, একজন
মহিলা এক্স-রে, সিটিস্ক্যান
ইত্যাদি পরীক্ষা করার পর
বুঝতে পারেন, তিনি ওই পরীক্ষা করার
সময় গর্ভবতী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে ভয়
পাওয়ার কিছু নেই, কারণ রোগ
নির্ণয়ে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় রশ্মির
পরিমাণ অনেক কম থাকে, ফলে ক্ষতির
ঝুঁকিও কম। আবার জরায়ুর
দূরবর্তী অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোর
পরীক্ষায় (যেমন-মায়ের মাথা, হাত, পা,
বুকের পরীক্ষা) ভ্রূণের ওপর
প্রত্যক্ষ তেজস্ক্রিয় রশ্মি পড়ার
আশঙ্কা নেই। তবে অতি অল্প মাত্রায়
কিছু বিক্ষিপ্ত রশ্মি ভ্রূণের
সংস্পর্শে আসতে পারে এবং ক্ষতির
আশঙ্কাও খুব কম।
যেসব ক্ষেত্রে ভ্রূণের ওপর
সরাসরি তেজস্ক্রিয় রশ্মি পড়ার
ঝুঁকি আছে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের
সঙ্গে পরামর্শ করে বিকল্প
পরীক্ষা বা চিকিৎসার
চেষ্টা করা উচিত।
জরায়ুর বাইরের বিভিন্ন
অঙ্গ-প্রতঙ্গের পরীক্ষার
ক্ষেত্রে পেটের ওপর
তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক পর্দা (লেড
অ্যাপ্রোন) রাখার জন্য মেডিকেল
টেকনোলজিস্ট বা কর্তব্যরত
যিনি আছেন তাঁকে অনুরোধ করুন।
গর্ভবতী অবস্থায় বিমান
ভ্রমণঃ দূরপাল্লার বিমানগুলো ভূপৃষ্ঠ
থেকে অনেক উঁচু দিয়ে যাতায়াত করে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে যাওয়া যায়
ততই প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অল্প সময়ের জন্য
অনিয়মিত বিমান
ভ্রমণে গর্ভবতী মা বা ভ্রূণের
ক্ষতির আশঙ্কা বেশ কম।
তবে যাঁরা ঘন ঘন দূরপাল্লার
বিমানে ভ্রমণ করে থাকেন, তাঁদের
নিজেদের ওপর তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রার হিসাব রাখা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সফটওয়্যারের
সাহায্য নিতে হবে এবং প্রাপ্ত
তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা অনুসারে কার্যতালিকায়
পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
এটা মনে রাখা প্রয়োজন, রোগ
নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও
ওষুধ গ্রহণ, সব ক্ষেত্রেই কিছু
ক্ষতি আর কিছু উপকারী দিক আছে।
উপকারের পাল্লা ভারী হলে তখনই
কেবল নির্দিষ্ট পরীক্ষা করানো হয়
এবং চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়।
তেজস্ক্রিয়তারও কিছু ক্ষতিকর দিক
আছে, তবে বিশেষজ্ঞদের
পরামর্শক্রমে এবং সতর্কতার
সঙ্গে ব্যবহার করলে এর
থেকে আমরা সর্বোচ্চ উপকার
পেতে পারি।
মো· তারিকুল ইসলাম
রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল, সিলেট
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
রশ্মির সংস্পর্শে আসতে পারে। এ
ক্ষেত্রে সাধারণত গর্ভস্থ শিশুর
মা তেজস্ক্রিয় রশ্মির
সংস্পর্শে আসেন এবং এরই একাংশ
গর্ভস্থ শিশুর কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
আবার গর্ভবতী মা অনেক সময়
চিকিৎসাগত কারণে তেজস্ক্রিয়
পদার্থযুক্ত ওষুধ খেয়ে থাকেন,
যা মায়ের মূত্রাশয়ের দেয়ালে অনেক
দিন জমা থাকে এবং মূত্রাশয়ের
পেছনে অবস্থিত জরায়ু ও ভ্রূণের ওপর
তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছড়িয়ে দিতে পারে।
সারা বিশ্বেই মানুষ প্রতিনিয়ত
অল্পমাত্রায় তেজস্ক্রিয় রশ্মির
সম্মুখীন হচ্ছে। একে বলা হয়
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা। এর উৎস
হচ্ছে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ,
বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি,
যা বায়ুমণ্ডল ভেদ
করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসে। প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তা অল্প মাত্রায় বিরাজ
করে, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের
উচ্চতা যত বেশি হয়, এর মাত্রা ততই
বাড়তে থাকে।
তেজস্ক্রিয় রশ্মির কার্যকর মাত্রার
একককে বলা হয় মিলি সিভার্ট।
সাধারণভাবে একজন মানুষ বছরে তিন
মিলি সিভার্ট প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হয়। তিন
মিলি সিভার্ট তেজস্ক্রিয়তা মা ও
গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর মাত্রার
চেয়ে অনেক কম। প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তা ছাড়াও একজন
গর্ভবতী মা তেজস্ক্রিয়
রশ্মি বা পদার্থের সম্মুখীন হতে পারে-
এক্স-রে, সিটিস্ক্যান,
ফ্লুরোস্কোপি (বিশেষ ধরনের এক্স-
রে) পরীক্ষা করালে, ক্যানসার
চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি গ্রহণ
করলে কিংবা তেজস্ক্রিয় পদার্থযুক্ত
ওষুধ গ্রহণ করলে।
একজন গর্ভবতী মা বেশি মাত্রায়
তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হলে তাঁর
গর্ভস্থ ভ্রূণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সে জন্য গর্ভবতী মায়েদের এ ধরনের
পরীক্ষা করাতে বা চিকিৎসা গ্রহণের
ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক
হওয়া প্রয়োজন।
সাধারণভাবে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার
যে মাত্রা ব্যবহার করা হয়,
তা প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার তুলনায়
অনেক বেশি। একবার বুকের এক্স-
রে করালে একটা মানুষ যে পরিমাণ
তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসে,
তা প্রায় ১০ দিনের প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার সমান, যার কার্যকর
মাত্রা প্রায় ০·১ মিলি সিভার্ট।
কিডনি ও মূত্রাশয় পরীক্ষার জন্য
আইভিপি বা ইন্ট্র্রাভেনাস
পাইলোগ্রাম পরীক্ষায় ব্যবহৃত
তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ এক বছরের
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার সমান।
পেটের সিটিস্ক্যান, খাদ্যনালির
সিটিস্ক্যান (সিটি কোলোনোগ্রাফি) ও
খাদ্যনালির এক্স-রেতে যে পরিমাণ
তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করা হয়,
তা প্রায় তিন বছরের প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার সমমাত্রার। একজন
মানুষ মাথার সিটিস্ক্যান
করালে যে মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার
সম্মুখীন হন, তা প্রায় আট মাসের
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার সমান।
আবার বুকের সিটিস্ক্যান
কিংবা মেরুদণ্ডের সিটিস্ক্যানে ব্যবহৃত
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা প্রায় দুই
বছরের প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার
সমমাত্রার।
আশার কথা হলো, রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা প্রাকৃতিক
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রার চেয়ে অনেক
গুণ বেশি এটা ঠিক, কিন্তু ভ্রূণের
বা গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হওয়ার জন্য
যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তার প্রয়োজন,
তার তুলনায় অনেক কম। গর্ভস্থ
ভ্রূণের ক্ষতি হওয়ার জন্য
সাধারণভাবে ২০০ মিলি সিভার্ট
তেজস্ক্রিয়তার প্রয়োজন।
তবে ভ্রূণের বয়স দুই সপ্তাহের কম
হলে ৫০ মিলি সিভার্ট তেজস্ক্রিয়তায়
গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। এ
ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মা বুঝতেই পারেন
না যে তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন। রোগ
নির্ণয়ের জন্য
যে পরীক্ষাগুলো করা হয়, এর
মাত্রা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ১০
মিলি সিভার্টের চেয়ে কম হয়।
সে ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় রশ্মি দিয়ে এই
পরীক্ষাগুলো সাধারণভাবে নিরাপদ।
আবার একজন
গর্ভবতী মা তেজস্ক্রিয়
রশ্মি দিয়ে পরীক্ষা করালেই
যে তা ভ্রূণের কাছে পৌঁছে যাবে,
তা নয়। তেজস্ক্রিয় রশ্মি সরল
পথে চলাচল করে, কাজেই জরায়ু ও এর
আশপাশের অঙ্গের পরীক্ষা করালেই
কেবল ভ্রূণ প্রত্যক্ষ তেজস্ক্রিয়তার
সম্মুখীন হয়। দূরবর্তী অঙ্গের
পরীক্ষা করালে কিছু বিক্ষিপ্ত
রশ্মি ভ্রূণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে,
তবে এর মাত্রা অনেক কম।
যেসব অঙ্গের পরীক্ষায়
সরাসরি ভ্রূণে তেজস্ক্রিয়তা পৌঁছার
সম্ভাবনা রয়েছে, এর
মধ্যে আছে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের
এক্স-রে বা সিটিস্ক্যান, কিডনি ও
মূত্রাশয় দেখার জন্য আইভিপি,
জরায়ুর গঠন দেখার জন্য এক্স-
রে হিস্টেরোসালফিঙ্গোগ্রাম, তলপেট
বা হিপ-জয়েন্টের পরীক্ষা, ক্ষুদ্রান্ত
ও বৃহদন্ত্রের পরীক্ষা ইত্যাদি।
তবে রোগ নির্ণয় ছাড়াও চিকিৎসার
জন্য তেজস্ক্রিয়
রশ্মি বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত
হতে পারে। সাধারণত ক্যান্সার
চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি ব্যবহার
করা হয়। এ ছাড়া থাইরয়েডের
ক্যান্সার বা হাইপার থাইরোয়েডিজমের
জন্য তেজস্ক্রিয় পদার্থযুক্ত ওষুধ
গ্রহণ করতে হয়। তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা এ
ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে কিংবা
দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, যা ভ্রূণের জন্য
ক্ষতিকর।
গর্ভস্থ শিশুর ওপর তেজস্ক্রিয়তার
প্রভাব তার বয়স, তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা ও তেজস্ক্রিয়তার সময়ের ওপর
নির্ভর করে। গর্ভস্থ শিশু যত কম
বয়সে তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হয়,
তেজস্ক্রিয়তার সংবেদনশীলতা তত
বেশি থাকে; অর্থাৎ ক্ষতির আশঙ্কা,
ব্যাপকতা বেশি থাকে; আবার
তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এবং বেশি সময়
ধরে এর
কার্যকারিতা থাকলে স্বভাবতই
ক্ষতির আশঙ্কা বেশি।
গর্ভস্থ শিশু তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন
হলে তার জন্ম-
পরবর্তী ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার
আশঙ্কা থাকে এবং এ
ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ও
সময় যত বাড়বে, ক্যানসারে আক্রান্ত
হওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে।
গর্ভধারণে সক্ষম যেকোনো নারীর
চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁর
চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন
যে তিনি গর্ভবতী কি না অথবা
গর্ভবতী হওয়ার
সম্ভাবনা আছে কি না। এ
ক্ষেত্রে চিকিৎসক
প্রথমে গর্ভধারণের ব্যাপারে নিশ্চিত
হবেন। তারপর রোগীর চিকিৎসাপত্র
দেবেন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক
গর্ভবতী মা ও ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর
ওষুধ এবং তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার
আছে, এমন পরীক্ষা ও ওষুধ যথাসম্ভব
বাদ দেবেন।
অনেক সময় দেখা যায়, একজন
মহিলা এক্স-রে, সিটিস্ক্যান
ইত্যাদি পরীক্ষা করার পর
বুঝতে পারেন, তিনি ওই পরীক্ষা করার
সময় গর্ভবতী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে ভয়
পাওয়ার কিছু নেই, কারণ রোগ
নির্ণয়ে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় রশ্মির
পরিমাণ অনেক কম থাকে, ফলে ক্ষতির
ঝুঁকিও কম। আবার জরায়ুর
দূরবর্তী অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোর
পরীক্ষায় (যেমন-মায়ের মাথা, হাত, পা,
বুকের পরীক্ষা) ভ্রূণের ওপর
প্রত্যক্ষ তেজস্ক্রিয় রশ্মি পড়ার
আশঙ্কা নেই। তবে অতি অল্প মাত্রায়
কিছু বিক্ষিপ্ত রশ্মি ভ্রূণের
সংস্পর্শে আসতে পারে এবং ক্ষতির
আশঙ্কাও খুব কম।
যেসব ক্ষেত্রে ভ্রূণের ওপর
সরাসরি তেজস্ক্রিয় রশ্মি পড়ার
ঝুঁকি আছে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের
সঙ্গে পরামর্শ করে বিকল্প
পরীক্ষা বা চিকিৎসার
চেষ্টা করা উচিত।
জরায়ুর বাইরের বিভিন্ন
অঙ্গ-প্রতঙ্গের পরীক্ষার
ক্ষেত্রে পেটের ওপর
তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধক পর্দা (লেড
অ্যাপ্রোন) রাখার জন্য মেডিকেল
টেকনোলজিস্ট বা কর্তব্যরত
যিনি আছেন তাঁকে অনুরোধ করুন।
গর্ভবতী অবস্থায় বিমান
ভ্রমণঃ দূরপাল্লার বিমানগুলো ভূপৃষ্ঠ
থেকে অনেক উঁচু দিয়ে যাতায়াত করে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে যাওয়া যায়
ততই প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অল্প সময়ের জন্য
অনিয়মিত বিমান
ভ্রমণে গর্ভবতী মা বা ভ্রূণের
ক্ষতির আশঙ্কা বেশ কম।
তবে যাঁরা ঘন ঘন দূরপাল্লার
বিমানে ভ্রমণ করে থাকেন, তাঁদের
নিজেদের ওপর তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রার হিসাব রাখা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সফটওয়্যারের
সাহায্য নিতে হবে এবং প্রাপ্ত
তেজস্ক্রিয়তার
মাত্রা অনুসারে কার্যতালিকায়
পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
এটা মনে রাখা প্রয়োজন, রোগ
নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও
ওষুধ গ্রহণ, সব ক্ষেত্রেই কিছু
ক্ষতি আর কিছু উপকারী দিক আছে।
উপকারের পাল্লা ভারী হলে তখনই
কেবল নির্দিষ্ট পরীক্ষা করানো হয়
এবং চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়।
তেজস্ক্রিয়তারও কিছু ক্ষতিকর দিক
আছে, তবে বিশেষজ্ঞদের
পরামর্শক্রমে এবং সতর্কতার
সঙ্গে ব্যবহার করলে এর
থেকে আমরা সর্বোচ্চ উপকার
পেতে পারি।
মো· তারিকুল ইসলাম
রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ
এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল, সিলেট
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
গর্ভাবস্থায় বিড়াল থেকে দূরে থাকুন
বিড়াল আমাদের অনেকেরই খুব পছন্দের
প্রাণী। আমরা অনেকেই খুব শখ
করে বিড়াল পুষি। কিন্তু
আপনি কি জানেন, আপনার
পায়ে পায়ে হাঁটে যে বিড়ালটি তা অনাগত
নবজাতকের কতটা ক্ষতি করতে পারে?
টক্সোপ্লাজমোসিস রোগটির নাম হয়ত
অনেকেই শুনে থাকবেন।
এটি প্রোটোজোয়া (এককোষী প্রাণী)
বাহিত একটি রোগ। পোষা বিড়াল
হচ্ছে এই জীবাণুর বাহক এবং মানুষ এই
জীবাণুর মধ্যবর্তী বাহক। এ
রোগে আক্রান্ত বিড়ালের মলের
মাধ্যমে সরাসরি এ রোগটির জীবাণু
মানুষের কাছাকাছি আসে এবং সুযোগ
বুঝে শরীরে প্রবেশ করে।
তাছাড়া একজন মহিলা যদি গর্ভকালীন
এ রোগের জীবাণু দিয়ে আক্রান্ত হন
তাহলে তার গর্ভস্থ শিশুও এ রোগের
আক্রান্ত হতে পারে। এখন দেখা যাক
এ কারণে কি কি সমস্যা হতে পারে?
এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাটির কিছু কিছু
অঙ্গ যেমন মস্তিষ্ক, চোখ, হৃদপিন্ড,
যকৃত ও ফুসফুস খুব
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এমনকি মৃত বাচ্চা বা গর্ভপাতের
আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়
না। অনেক সময় শিশুটির মধ্যে জন্মের
সময় এ রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়
না। চোখ কিংবা মস্তিষ্কের
ক্ষতিগুলো কয়েক মাস বা কয়েক বছর
পর প্রকাশ পেতে পারে।
এবং শিশুটি মানসিক
প্রতিবন্ধী হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
ভয়ের কিছু নেই। গর্ভকালীন বিড়াল
থেকে দূরে দূরে থাকুন। এভাবে সহজেই এ
রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ইমরান আজিজ, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল
কলেজ
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
প্রাণী। আমরা অনেকেই খুব শখ
করে বিড়াল পুষি। কিন্তু
আপনি কি জানেন, আপনার
পায়ে পায়ে হাঁটে যে বিড়ালটি তা অনাগত
নবজাতকের কতটা ক্ষতি করতে পারে?
টক্সোপ্লাজমোসিস রোগটির নাম হয়ত
অনেকেই শুনে থাকবেন।
এটি প্রোটোজোয়া (এককোষী প্রাণী)
বাহিত একটি রোগ। পোষা বিড়াল
হচ্ছে এই জীবাণুর বাহক এবং মানুষ এই
জীবাণুর মধ্যবর্তী বাহক। এ
রোগে আক্রান্ত বিড়ালের মলের
মাধ্যমে সরাসরি এ রোগটির জীবাণু
মানুষের কাছাকাছি আসে এবং সুযোগ
বুঝে শরীরে প্রবেশ করে।
তাছাড়া একজন মহিলা যদি গর্ভকালীন
এ রোগের জীবাণু দিয়ে আক্রান্ত হন
তাহলে তার গর্ভস্থ শিশুও এ রোগের
আক্রান্ত হতে পারে। এখন দেখা যাক
এ কারণে কি কি সমস্যা হতে পারে?
এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাটির কিছু কিছু
অঙ্গ যেমন মস্তিষ্ক, চোখ, হৃদপিন্ড,
যকৃত ও ফুসফুস খুব
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এমনকি মৃত বাচ্চা বা গর্ভপাতের
আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়
না। অনেক সময় শিশুটির মধ্যে জন্মের
সময় এ রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়
না। চোখ কিংবা মস্তিষ্কের
ক্ষতিগুলো কয়েক মাস বা কয়েক বছর
পর প্রকাশ পেতে পারে।
এবং শিশুটি মানসিক
প্রতিবন্ধী হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
ভয়ের কিছু নেই। গর্ভকালীন বিড়াল
থেকে দূরে দূরে থাকুন। এভাবে সহজেই এ
রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ইমরান আজিজ, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল
কলেজ
সূত্রঃ বাংলা হেলথ ।শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি
(
Atom
)


