স্ত্রীরোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্ত্রীরোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাসিকের রক্ত রঙ ও পরিমাণ » Amar Bangla Post
মেয়েদের মাসিকের রক্ত এর রঙ এক প্রকারের হয় না বরং বেশ কয়েকটি কালারের হয়। মাসিকের রক্ত ৬ রঙের হতে পারে। জেনে নিন মাসিকের রক্তের পরিচয়—
বিস্তারিত পড়ুনঃ মাসিকের রক্ত রঙ ও পরিমাণ » Amar Bangla Postমেয়েদের মাসিকের সমস্যা, কারণ ও করনীয় | আমার বাংলা পোস্ট
কৈশোর থেকে পরিপূর্ণ নারী হয়ে ওঠার জন্য শরীরের ভেতরে ও বাইরে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সের মেয়েদের বিভিন্ন রকম পরিবর্তন হয়। অনেক পরিবর্তনের অন্যতম একটি হলো রজঃস্রাব, যা সাধারণত মাসে মাসে হয়—তাই এটাকে মাসিক বা পিরিয়ড অথবা সাইকেলও বলা হয়।
সাধারণত এটা তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়। এ মাসিকই আবার অনেক সময় দুই বা তিন অথবা চার মাস পরপর হয়। আবার কখনো কখনো অতি অল্প বা খুব বেশি রক্তস্রাব হতে পারে।
মাসিক নিয়মিত হওয়ার জন্য সঠিক ওজন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, আবহাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন ও শরীরের ভেতরের বিভিন্ন গ্রন্থির পরিমাণ মতো নিঃসৃত হরমোন প্রয়োজন। এসব গ্রন্থির মাঝে রয়েছে থাইরয়েড, অ্যাডরেনাল ও ওভারী। অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক মাসিকের সম্ভাব্য কোনো কারণ জানা না থাকলে তাকে ডিইউবি বা ডিসফাংশনাল ইউটেরাইন বিডিং বলা হয়। বিস্তারিত পড়ুনঃ মেয়েদের মাসিকের সমস্যা, কারণ ও করনীয় | আমার বাংলা পোস্ট
স্ত্রীরোগ ( পাতা ১ )
কি সাবলীল দক্ষতায়, কি অনুপম পারদর্শিতায় সৃষ্টি নারীর জরায়ু, ডিম্বকোষ! স্তন তৈরি হয় কি সুন্দর সূক্ষ্ম তন্তু দিয়ে, কি অপার্থিব তার বিন্যাস, সুষমা! কি শৈল্পিক কৌশলে মাতৃজঠরে স্থাপিত হয় ভ্রূণ, ধীরে ধীরে সে বেড়ে ওঠে জরায়ুর মধ্যকার এন্ডোমেট্রিয়মে... স্ত্রী শরীর বিধাতা সৃষ্টি করেছেন এক অপরূপরূপে, সুতরাং তার আভ্যন্তর কলকবজাগুলোও বিগড়োয় একটু আলাদাভাবে-সেইসব অসুস্থতার আলোচনা নিয়েই আমাদের এবারের আলোচনা ‘স্ত্রীরোগ’। আমরা যখন এনাটমি পড়তাম, তখন নারী শরীরের ভেতরকার শিল্পশৈলীআমাদের বিস্ময়ে হতবাক করে দিত।কি সাবলীল দক্ষতায়, কি অনুপম পারদর্শিতায় সৃষ্টি নারীর জরায়ু, ডিম্বকোষ! স্তন তৈরি হয় কি সুন্দরসূক্ষ্ম তন্তু দিয়ে, কি অপার্থিব তার বিন্যাস, সুষমা! কি শৈল্পিক কৌশলে মাতৃজঠরে স্থাপিত হয় ভ্রূণ, ধীরে ধীরে সে বেড়ে ওঠে জরায়ুর মধ্যকার এন্ডোমেট্রিয়মে। এই বিশেষ কারণে বিধাতা পুরুষ নারী দেহকে গড়েছেন বিশেষ পৃথকরূপে, নারী শরীরের গুরুত্বও তাই অপরিসীম। মেয়েদেরশরীরের রূপান্তর যেমন নানা বয়সে নানা রকম, অসুখও ঠিক তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। মেয়েদেরপিরিয়ড হয় ১০-১২ বছর বয়সে, ১৫-১৬ বছরে তা পূর্ণ পরিণতি পায়-‘ওগো তুমি পঞ্চদর্শী, পৌঁছিলে পূর্ণিমাতে’। ২২-২৪ বছরে বিবাহ, তার কিছু পরে সন্তান ধারণ, আজকের যুগে একটিই বড়জোর দুটি। তারপর ৪৮ থেকে ৫৪ এর মধ্যে মনোপজ। হরমোনের এতরকমতারতম্য ও পরিবর্তন পুরুষের জীবনে নেই। তাই স্ত্রী রোগের ফিরিস্তিও যথেষ্ট লম্বা। মেয়েদের বয়স অনুযায়ী সাধারণত দেখা যায় বা শোনা যায় এমন স্ত্রী রোগের একটা মোটামুটি ভাগ করা যায়। শৈশব কৈশোর থেকে ২২-২৩ বছর *. পিরিয়ড ৮ বা তার চেয়েও কম বয়সে শুরু হওয়া। *. প্রজনন অঙ্গের জন্মগত ত্রুটি--বেশি বয়স অবধি পিরিয়ড না হওয়া *. অল্প বয়সে অতিরিক্ত রক্তস্রাব (পিউবারটি মনোরেজিয়া) *. ম্প্যাসমোডিক ডিজমেনোরিয়া (পিরিয়ডের সময় পেটব্যথা) *. লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) ২২-২৩ বছর বয়সের পর বন্ধ্যাত্ব বা ইনফারটিলিটি *. হারমুটিজম (মেয়েদের দাড়িগোঁফগজানো) *. ওভারিয়ান সিস্ট (ডিম্বাকোষেরটিউমার) ৩৫ বছর পর *. ক্যান্সার সারভিক্স (জরায়ু মুখের ক্যান্সার) *. ফাইব্রয়েড (জরায়ু টিউমার) *. পি আই ডি (পেলভিক ইনফ্লামেটারি ডিজিজ বা তলপেটের প্রদাহ) *. এন্ডোমেটরিয়োসিস ৪০ বছরের পর *. প্রোল্যাপস (জরায়ু নিচের দিকে নেমে যাওয়া, এটির শুরু অবশ্য আরও আগেও হতে পারে) *. ব্রেস্ট ক্যান্সার ৪৫-এর পর *. প্রিমেনোপজাল সিন্ড্রোম (মেনোপজের আগেকার অস্বস্তি)ঞ্চমেনোপজ *. ডিসফাংশনাল ইউটেরাইন ব্লিডিং(অনিয়মিত ও অতিরিক্ত রক্তস্রাব) *. পোস্ট মেনোপজাল ব্লিডিং (মনোপজের পর আবার হঠাৎ রক্তস্রাব) কম বয়সে বা সময়ের আগেই যৌবনারী মেয়েটির নাম মধুবন। বয়স আটও পূর্ণ হয়নি। সকালবেলা হাসিমুখেলাফাতে লাফাতে স্কুলে গেছে। থার্ড পিরিয়ডের শেষে দেখে স্কুলড্রেস রক্তে মাখামাখি। বেঞ্চ, বই, খাতা সবেতেই একাকার।অথচ কোথাও কাটাকাটি, ব্যথাযন্ত্রণা নেই। মেয়ে ভয়ে এমন জোরে কেঁদে উঠেছে যে ক্লাস টিচার দৌড়ে এসেছেন। তিনি তো দেখেই ব্যাপার বুঝেছেন। তাড়াতাড়ি তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে টয়লেটে নিয়ে গিয়ে ব্যবস্থা করেতার মাকে খবর দিয়েছেন। এমন ঘটনা হামেশাই ঘটে। আজকাল আবার দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ মেয়েদেরইপিরিয়ড ১০-১১ বছর বয়সের মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে, আগে যে সীমারেখা ছিল ১২-১৩। যখন ১০ বছরের আগে পিরিয়ড শুরু হয় এবং তার সঙ্গে যৌবনারম্ভের অন্যান্য লক্ষণ (যেমন স্তনের বিকাশ ও বৃদ্ধি, শরীরের কিছু বিশেষ অংশে লোমের আধিক্য) দেখা দেয় তখন তাকে বলে প্রিকশাস পিউবারটি। মেয়েটির বয়স এ ক্ষেত্রে ১০,৯, ৮ বা তারও কম হতে পারে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর শরীরের লম্বা হাড়গুলো আর বাড়ে না-তাই খুব কম বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়া মেয়েদেরহাইট সাধারণত কম হয়। এমন কেন হয়? কি কারণে?গঠনগতঃ অনেক সময় তেমন কোনো কারণপাওয়া যায় না। সময়ের আগেই হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-ওভারি এই তিনটি গ্রন্থির মধ্যেসমন্বয় ঘটার ফলে এমন হতে পারে। মস্তিষ্কের রোগঃ মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, পিটুইটারি টিউমার ইত্যাদি কারণেও ৮-৯ বছরের কন্যা শিশুর পিরিয়ড শুরুহয়ে যেতে পারে। ওভারির টিউমারঃ ওভারির কিছু কিছু টিউমার বেশি মাত্রায় ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণ করে। এই হরমোনের আধিক্যের জন্য আগে আগে পিরিয়ড শুরু হওয়া সম্ভব। হরমোন ওষুধ খেলেও এমন হতে পারে। কি কি করণীয় *. মেয়েটির পারিবারিক ইতিহাস জানা খুব জরুরি। মা বা দিদিরওকি এমন হয়েছিল? *. কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা দরকার। *. আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখা প্রয়োজন ওভারিতে টিউমার আছে কি না। *. মাথার এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করে দেখতে হবে কোনো *. অস্বাভাবিকতা আছে কি না। *. রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। *. অনেক সময় কোনো রোগ ছাড়াই আগে আগে পিরিয়ড শুরু হয়। প্রজনন অঙ্গের জন্মগত ত্রুটি *. যোনির গঠন অদ্ভুত হতে পারে (এনলার্জড ক্লিটোরিস বা বর্ধিত ভগ্নাঙ্কুর) *. ইমপারফোরেট হাইমেন (খুব শক্ত সতীচ্ছেদ) , রিজিড হাইমেন *. ট্রান্সভার্স ভ্যাজাইনাল সেপটাম (যোনির মধ্যে পরদাজাতীয় ভাগ) *. ডাবল সারভিক্স *. ডাবল ইউটেরাস। জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি *. আরকুয়েট ইউটেরাস *. সেপটেট ইউটেরাস *. এই ত্রুটিগুলো আজকাল অত্যাধুনিক অপারেশন বা চিকিৎসার সাহায্যে ঠিক করা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সনন্তান ধারণ ঘটানো সম্ভব, কোনো কোনোটিতে মিসক্যারেজ বাবাচ্চার অবস্থান অস্বাভাবিক হলেও তার চিকিৎসা আছে। বেশি বয়স অবধি পিরিয়ড না হওয়া ১৬-১৭ বছর বয়সের পরও পিরিয়ড শুরু না হওয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন- *. অপুষ্টি *. দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ *. থাইরয়েডের অসুখ *. ব্রেন টিউমার *. জন্মগত ত্রুটি *. জরায়ুর অস্বাভাবিকতা *. হাইমেন বা সতীচ্ছেদের অস্বাভাবিকতা--যোনিতে কোনো পরদা বা বাধা থাকা--ক্রোমোজমের অস্বাভাবিকতা আরো পড়ুন, স্ত্রীরোগ ( পাতা ২ )
Read More
স্ত্রীরোগ ( পাতা ২ )
কি করণীয় *. রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা *. সুষম খাবার খাওয়া ও নিয়মিত ব্যায়াম করা *. মেয়েটিকে ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে *. থাইরয়েডের চিকিৎসা *. ইস্ট্রোজেন হরমোন বড়ি দিয়ে অনেক সময় চিকিৎসা করতে হতে পারে *. মেয়েটিকে খুব ভালোভাবে কাউন্সিলিং করা দরকার, তার ভবিষ্যত জীবন, যেমন বিয়ে, সন্তানধারণ এগুলো স্বাভাবিক নাও হতে পারে-এ সম্বন্ধে তাকে বুঝিয়ে বলা দরকার। সেকেন্ডারি এ্যামেনোরিয়া (সাধারণ মহিলার যদি হঠাৎ কোনো কারণে পিরিয়ড বন্ধ থাকে) কারণ *. আসারম্যান সিন্ড্রোম (ইউটেরাসের অসুখ) *. এন্ডোমেট্রিয়াল টিউবারকিউলোসিস ( ইউটেরাসের টিবি) *. মিসড এ্যাবরশন (এক ধরনের গর্ভপাত) *. প্রিম্যাচিউর মেনোপজ (ওভারি ফেলিওর হওয়ার জন্য) *. ওভারিয়ান টিউমার *. রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির কারণে ওভারিয়ান ফেলিওর*. কোনো কোনো ওষুধের কারণে গর্ভাবস্থা ঘটলে বা বাচ্চাকেব্রেস্টফিডিং করালেও পিরিয়ড বন্ধ থাকতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অল্পবয়সী মেয়েদের পিরিয়ড ৩-৪ মাস পরে পরে হচ্ছে। এই ত্রুটি সাধারণ চিকিৎসায় সেরে যায়, না হলে পরীক্ষা করে দেখে চিকিৎসা করতে হয়। পিউবারটি মেনোরেজিয়া (অল্পবয়সিনীর অতিরিক্ত রক্তস্রাব) কোনো কোনো মেয়ের পিরিয়ড প্রথম শুরু হওয়ার পর পরই খুব হেভি ব্লিডিং হয়। এই রক্তস্রাবের প্রকৃতি অনিয়মিত, মাত্রাতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। এর ফলে কিশোরীর চেহারা হয়ে যায় ফ্যাকাশে, বিবর্ণ, এ্যানিমিক। তেমন ক্ষেত্রে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার পড়তে পারে। মেনার্কি বা প্রথম পিরিয়ড হওয়ার পর এমন সমস্যায় বহু ছোট মেয়েই ভোগে। কেন এমন হয়? অল্পবয়সী মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হওয়ার ঠিক পরপরই ওভারি থেকে ডিম্বাণু নির্গমন হয় না, তাই ইউটেরাসের আভ্যন্তর স্তরে (এন্ডোমেট্রিয়ম) শুধুই ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাব পড়ে। এতে করে এন্ডোমেট্রিয়ামে যথেষ্ট বৃদ্ধি ঘটে। (এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লেসিয়া) এবং এই কারণেইরক্তস্রাব বেড়ে যায়। পরবর্তীকালে যখন জরায়ু থেকে ডিম্বাণু বা ওভাম বের হওয়া শুরু হয় তখন প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে এন্ডোমেট্রিয়ামের ইস্ট্রোজেন হরমোনের জন্য অতি বৃদ্ধি বহুলাংশে অবদমিত হয়। তখন রক্তস্রাব কমে গিয়ে আয়ত্তে থাকে। এরকম হলে মেয়েটির কিছু কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। রক্ত পরীক্ষা করে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, ব্লিডিংটাইম, ক্লটিং টাইম এবং প্লেটলেটের মাত্রা দেখে নিতে হবে। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রাও দেখতে হবে। আলট্রাসাউন্ড করে জরায়ু বা ওভারির কোনো দোষত্রুটি আছে কি না দেখতে হবে। চিকিৎসা (১) এ্যানিমিয়ার চিকিৎসা (২) থাইরয়েড গ্রন্থি খারাপ থাকলে তার চিকিৎসা (৩) রক্তস্রাব বন্ধ করার জন্য মেড্রক্সিপ্রজেস্টেরন বড়ি বা নরএথিস্টেরন বড়ি (৪) একটি ছোট ‘ডি’ এ্যান্ড ’সি‘ (ডায়ালেটেশন এ্যান্ড কিউরেটাজ)অপারেশন দরকার হতে পারে। (৫) মেয়েটির সঙ্গে খুব ভালোভাবেকথা বলা দরকার। বলে রাখা ভালো যে বযস বাড়লে এবং ঠিকঠাক চিকিৎসা করলে এই রোগ একেবারেই সেরে যায়; সে জন্য একে বলে পিউবারটি মনোরেজিয়া, অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিতে অতিরিক্ত রক্তস্রাব। ভবিষ্যত বিবাহিত জীবনে এই অসুখ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। স্প্যাসমোডিক ডিজমেনোরিয়া (পিরিয়ডের সময় পেটব্যথা) আউটডোরে সে দিন একটি বছর পনেরো ষোলো বছরের মেয়েকে দেখলাম তার তিনজন মহিলা আত্নীয় ধরে ধরে নিয়ে আসছে। মেয়েটি পেটব্যথায় প্রায় কুঁকড়ে গেছে, হাঁপাচ্ছে কাঁদছে।কি হয়েছে জিজ্ঞেস করাতে তার মা বললেন, প্রত্যেক মাসে ‘মাসিক’ হওয়ার সময় সে ব্যথায় প্রায় অজ্ঞান হয়ে যায়। মেয়েটির নাম জানলাম আফসানা খাতুন। আজ একেবারে অসহনীয় হওয়ায় পাড়াপড়শিরা বলেছে শিগগিরহাসপাতালে চলো, চিকিৎসা না হলে এর বিয়েসাদি হবে না। অল্পবয়সী মেয়েদের এটি একটি খুবসাধারণ সমস্যা। এর কারণ হিসেবেবলা যেতে পারে, বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের অত্যধিক মানসিক চাপ ও চাঞ্চল্য, দুশ্চিন্তা বিশেষত এই বয়সে, জরায়ুর অস্বাভাবিক গঠনও জরায়ুর পেশির প্রবল সংকোচন, দুর্বল শারীরিক গঠন, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ, পিরিয়ডের সময় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে অতিরিক্ত পরিমাণ প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোন নিঃসরণ ইত্যাদি। পিরিয়ড শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে বা শুরুর সময় ব্যথা হয় এবং তা ২-৩ ঘন্টা থেকে। আরম্ভ করে ২৪ ঘন্টার মতো থাকতে পারে। এই ব্যথা তলপেট ও কোমর থেকে দুই উরুর উপরের অংশে প্রসারিত হয়। কখনও কখনও বমি বমি ভাব বা বমি হয়, ক্লান্তি, ডায়রিয়া, মাথাধরা থাকতে পারে, এমনকি মেয়েটি অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা উপযুক্ত খাদ্য, পুষ্টি ও ঠিকমত বিশ্রাম দরকার। সাধারণস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো, রোগীকে আশ্বস্ত করা, কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ঠিকঠাক ওষুধ খেয়ে তা সারানো-এইগুলো করা দরকার। সেরকম ক্ষেত্রে ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল পিরিয়ডের পঞ্চম দিন থেকে মাসে একুশটি করে কয়েক মাস দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আজকাল পিরিয়ডের সম্ভাব্য তারিখের সাতদিন আগে থেকে পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর ৩ বা৪ দিন পর্যন্ত পাইরিডকসিন বা ভিটামিন বি৬ বড়ি (পাররিকনটিন জাতীয় বড়ি) প্রয়োগ করে খুব ভালোফল পাওয়া যাচ্চে। এ কথা বলা দরকার, পিরিয়ডের সময়ে কিছু পরিমাণ ব্যথা ও অস্বস্তি প্রায়সব মহিলারই হয়ে থাকে। কারও কারও ঋতুমতী হওয়ার প্রথম ২-১ বছর কোনো ব্যথা থাকে না। তার সূত্রপাত হয় কিছুদিন পরে, যখন ওভারি থেকে ডিম্বাণু নির্গমন বা ওভিউলেশন শুরু হয়। আর বিভিন্ন মানুষের বেদনাবোধের অনুভূতির তারতম্য আছে। যে সব মেয়ে নেহাতই অজ্ঞ হয়, বেশি ভীতুহয়, তাদের ব্যথা বোধও প্রকট হয়েওঠে। অনেকে আবার সুযোগ বুঝে ব্যথার দোহাই দিয়ে স্কুল বা কলেজ কামাই করে। দুর্বল মনের মা-বাবা অত্যধিক আদিখ্যেতা করলে খুব ঝামেলা-ব্যথা আরও বেড়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের উপদেশই সবচেয়ে ভালো।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তো কোনো ওষুধ খাওয়াই যাবে না। বিবাহ বা সন্মান লাভের পর এই সমস্যা আপনা থেকেই মিটে যায়। আগেকার দিনের মানুষরা একে বলতেন ‘বাধ্যকের ব্যথা’ ♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥ প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন www.facebook.com/sayed.rubel3 ভাল লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন । লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । ভাল থাকুন সব সময় । অশ্নীলতার জোয়ারে বাংলাদেশ ।সৈয়দ রুবেল উদ্দিন http://sayedrubel.blogspot.com/2012/01/blog-post_9352.html
Read More
স্ত্রীরোগে ল্যাপারোস্কপির ভূমিকা ডা. সামসাদ জাহান শেলী
নারীর ভূমিকা এখন আর জননী, জায়া ও কন্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে আর্থসামাজিক এবং জাতীয় রাজনীতিতে আমাদের দেশের নারীর রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা। নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু নারীর প্রাপ্য অধিকারকেই নিশ্চিত করবে না বরং বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পরিবার, সমাজ ও দেশের সমৃদ্ধি তাতে ত্বরান্বিত হবে।
সৃষ্টিকর্তা নারীদের সন্তান ধারণের মহান ও পবিত্র সমমান অর্পণ করেছেন। এ জন্য নারীকে মাতৃত্বের স্বর্গীয় অনুভূতি লাভের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রভূত সক্ষমতা অর্জন করতে হয়। কখনো কখনো এর ব্যত্যয় নারীজীবনে চরম দুর্দশা নিয়ে আসে। আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ সত্য আরো প্রকট হয়ে দেখা দেয়।
নানা শারীরিক সমস্যা একজন নারীর গর্ভাবস্থায়, তার আগে ও পরে দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা নারীরজন্য অত্যাবশ্যকীয়।
কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণে আমাদের নারীরা এখনো পুরোপুরি সচেতন নয়।
স্ত্রীরোগগুলোর বেশ কিছুযেমন শুধু জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন এনে এবং কিছু ওষুধ চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সেরে যায়। আর কিছু রোগ আছে সেগুলোতে অপারেশন বা শল্য চিকিৎসা একান্তই অপরিহার্য। আর এদিকটায় রয়েছে অনেকের প্রবল ভীতি।
অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা, অপারেশন মানেই হলো কাটাছেঁড়া, বিশাল ক্ষত, অনেক রক্তপাত আর ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত দিয়ে তা পূরণ, অপারেশনের পর জ্ঞাননা ফেরা, অনেক দিন হাসপাতালে কষ্টকর অবস্থান, সৌন্দর্যহানি, অনেক টাকার বিশাল বিলের বোঝা ইত্যাদি। আসলেই কি সব সময় এমনটি ঘটে? না, এ ধারণা আজকাল আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। আমাদের মাঝে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কপির ব্যবহার অস্ত্রোপচারকালীন সফলতা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি কমিয়েছে অপারেশনের সময়েরজটিলতা এবং অপারেশনের পরের সময়ের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা। এখন দেখা যাক স্ত্রীরোগে ল্যাপারোস্কপির ব্যবহার। এর ব্যবহার মূলত দুভাবে করা হতে পারে-
*. রোগ নির্ণয়ে
*. রোগ নিরাময়ে বা চিকিৎসায় যেমন লক্ষণ একজন নারীকে ল্যাপারোস্কপির শরণাপন্ন করতে পারে
*. মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা মাসিকের সময়কাল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিহওয়া
*. মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া
*. অনিয়মিত মাসিক
*. তলপেটে ভারবোধ হওয়া অথবা কোনো চাকার অস্তিত্ব অনুভব করা
*. বন্ধ্যাত্ব
এসব লক্ষণের সাথে যেসব রোগ সাধারণত দায়ী তা হলো-
*. জরায়ুর টিউমার উদাহরণস্বরূপ ফাইব্রয়েড, এডিনোমিওসিস
*. এন্ডোমেট্রিওসিস
*. ওভারি বা ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন ধরনের টিউমার
*. এডেহেসিওলাইসিস বা বিভিন্ন অঙ্গের জট ফুটানো
*. এস্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর সঠিক স্থানের ভ্রূণের বিকাশ
*. বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি
এ পদ্ধতির সুবিধা হলো-
*. পেট না কেটে শুধু ৩-৪টাফুটার মধ্য দিয়ে পুরো অপারেশন শেষ করা
*. অপারেশনের জায়গা এবং আশপাশের গঠন ভালোভাবে দেখতে পাওয়া
*. অপারেশনকালীন ন্যূনতম রক্তক্ষরণ
*. তুলনামূলক ব্যথানাশক ওচেতনানাশকের কম ব্যবহার
*. অপারেশন-পরবর্তী ব্যথাকম অনুভূত হওয়া ও দ্রুতসেরে ওঠা
*. অপারেশনকালীন ও পরবর্তীতে জীবাণু সংক্রমণের হার কম থাকা
*. নারী প্রজনন স্বাস্থ্যন্যূনতম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
*. দ্রুত স্বাভাবিক কর্মক্ষেত্রে ফেরত যাওয়া
*. হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময় বিবেচনা করলে তুলনামূলক কম খরচ।
আর অসুবিধা খুব একটা নেই বললেই চলে। যন্ত্রপাতির উচ্চমূল্য আর দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিই আমাদের দেশে এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা।
কিছু ভ্রান্ত ধারণা
অনেকে সংশয়ে থাকেন ছোট ফুটোর মধ্য দিয়ে কী করে বড় টিউমার বের করে আনা সম্ভব। আসলে এজন্য অনেক ধরনের কৌশল অবলম্বন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ জরায়ুর টিউমার অপারেশন করার পর মাসিকের রাস্তাদিয়ে বের করে আনা সম্ভব। অনেকের মাঝেই একটা ধারণা কাজ করে ল্যাপারোটসি বা পেট কেটে অপারেশন করলে বোধ হয় অপারেশন এরিয়া ও তার আশপাশটা ভালো দেখা যায়। আসলে ক্যামেরার সাহায্যে করলে ভালোভাবে দেখা সম্ভব।
ল্যাপারোস্কপি আমাদের দেশে প্রচলিত হয়েছে ৯০-এর দশকে। যদিও উন্নত বিশ্বে ৭০ দশক থেকেই এর চল বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হয়েছে। আর স্ত্রীরোগ চিকিৎসায় এর ব্যাপক প্রচলন সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে শুরু হলেও দ্রুত এর প্রসার ঘটছে এবংদক্ষ পেশাজীবী গড়ে উঠছে। আমাদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞগণ দেশ-বিদেশে নানা প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের উৎকর্ষতা বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দেশের নারীরা এ উন্নত প্রযুক্তির সর্বোত্তম সেবা পাক-এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক, গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগ,বারডেম হাসপাতাল
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More
সৃষ্টিকর্তা নারীদের সন্তান ধারণের মহান ও পবিত্র সমমান অর্পণ করেছেন। এ জন্য নারীকে মাতৃত্বের স্বর্গীয় অনুভূতি লাভের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রভূত সক্ষমতা অর্জন করতে হয়। কখনো কখনো এর ব্যত্যয় নারীজীবনে চরম দুর্দশা নিয়ে আসে। আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ সত্য আরো প্রকট হয়ে দেখা দেয়।
নানা শারীরিক সমস্যা একজন নারীর গর্ভাবস্থায়, তার আগে ও পরে দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসা নারীরজন্য অত্যাবশ্যকীয়।
কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণে আমাদের নারীরা এখনো পুরোপুরি সচেতন নয়।
স্ত্রীরোগগুলোর বেশ কিছুযেমন শুধু জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন এনে এবং কিছু ওষুধ চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সেরে যায়। আর কিছু রোগ আছে সেগুলোতে অপারেশন বা শল্য চিকিৎসা একান্তই অপরিহার্য। আর এদিকটায় রয়েছে অনেকের প্রবল ভীতি।
অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা, অপারেশন মানেই হলো কাটাছেঁড়া, বিশাল ক্ষত, অনেক রক্তপাত আর ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত দিয়ে তা পূরণ, অপারেশনের পর জ্ঞাননা ফেরা, অনেক দিন হাসপাতালে কষ্টকর অবস্থান, সৌন্দর্যহানি, অনেক টাকার বিশাল বিলের বোঝা ইত্যাদি। আসলেই কি সব সময় এমনটি ঘটে? না, এ ধারণা আজকাল আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। আমাদের মাঝে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতি। শল্য চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কপির ব্যবহার অস্ত্রোপচারকালীন সফলতা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি কমিয়েছে অপারেশনের সময়েরজটিলতা এবং অপারেশনের পরের সময়ের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা। এখন দেখা যাক স্ত্রীরোগে ল্যাপারোস্কপির ব্যবহার। এর ব্যবহার মূলত দুভাবে করা হতে পারে-
*. রোগ নির্ণয়ে
*. রোগ নিরাময়ে বা চিকিৎসায় যেমন লক্ষণ একজন নারীকে ল্যাপারোস্কপির শরণাপন্ন করতে পারে
*. মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা মাসিকের সময়কাল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিহওয়া
*. মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া
*. অনিয়মিত মাসিক
*. তলপেটে ভারবোধ হওয়া অথবা কোনো চাকার অস্তিত্ব অনুভব করা
*. বন্ধ্যাত্ব
এসব লক্ষণের সাথে যেসব রোগ সাধারণত দায়ী তা হলো-
*. জরায়ুর টিউমার উদাহরণস্বরূপ ফাইব্রয়েড, এডিনোমিওসিস
*. এন্ডোমেট্রিওসিস
*. ওভারি বা ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন ধরনের টিউমার
*. এডেহেসিওলাইসিস বা বিভিন্ন অঙ্গের জট ফুটানো
*. এস্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর সঠিক স্থানের ভ্রূণের বিকাশ
*. বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি
এ পদ্ধতির সুবিধা হলো-
*. পেট না কেটে শুধু ৩-৪টাফুটার মধ্য দিয়ে পুরো অপারেশন শেষ করা
*. অপারেশনের জায়গা এবং আশপাশের গঠন ভালোভাবে দেখতে পাওয়া
*. অপারেশনকালীন ন্যূনতম রক্তক্ষরণ
*. তুলনামূলক ব্যথানাশক ওচেতনানাশকের কম ব্যবহার
*. অপারেশন-পরবর্তী ব্যথাকম অনুভূত হওয়া ও দ্রুতসেরে ওঠা
*. অপারেশনকালীন ও পরবর্তীতে জীবাণু সংক্রমণের হার কম থাকা
*. নারী প্রজনন স্বাস্থ্যন্যূনতম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
*. দ্রুত স্বাভাবিক কর্মক্ষেত্রে ফেরত যাওয়া
*. হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময় বিবেচনা করলে তুলনামূলক কম খরচ।
আর অসুবিধা খুব একটা নেই বললেই চলে। যন্ত্রপাতির উচ্চমূল্য আর দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিই আমাদের দেশে এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা।
কিছু ভ্রান্ত ধারণা
অনেকে সংশয়ে থাকেন ছোট ফুটোর মধ্য দিয়ে কী করে বড় টিউমার বের করে আনা সম্ভব। আসলে এজন্য অনেক ধরনের কৌশল অবলম্বন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ জরায়ুর টিউমার অপারেশন করার পর মাসিকের রাস্তাদিয়ে বের করে আনা সম্ভব। অনেকের মাঝেই একটা ধারণা কাজ করে ল্যাপারোটসি বা পেট কেটে অপারেশন করলে বোধ হয় অপারেশন এরিয়া ও তার আশপাশটা ভালো দেখা যায়। আসলে ক্যামেরার সাহায্যে করলে ভালোভাবে দেখা সম্ভব।
ল্যাপারোস্কপি আমাদের দেশে প্রচলিত হয়েছে ৯০-এর দশকে। যদিও উন্নত বিশ্বে ৭০ দশক থেকেই এর চল বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হয়েছে। আর স্ত্রীরোগ চিকিৎসায় এর ব্যাপক প্রচলন সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে শুরু হলেও দ্রুত এর প্রসার ঘটছে এবংদক্ষ পেশাজীবী গড়ে উঠছে। আমাদের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞগণ দেশ-বিদেশে নানা প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের উৎকর্ষতা বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দেশের নারীরা এ উন্নত প্রযুক্তির সর্বোত্তম সেবা পাক-এই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক, গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগ,বারডেম হাসপাতাল
♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
সাধারণ স্ত্রী রোগ : যোনি পথে প্রদাহ
এটি একটি যৌনবাহিত রোগ৷ স্বামী-স্ত্রী মিলনের ফলে অথবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অথবা অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতার কারণে স্ত্রীলোকের যোনিপথে প্রদাহ হয়ে থাকে৷
কারণ
যোনিপথে দুটি কারণে প্রদাহ হতে পারে
১. অসংক্রমিত প্রদাহ : যৌনিপথের স্রাব পরীক্ষা করলে কোনও রকম জীবাণু পাওয়া যায় না৷ স্বামী-স্ত্রীর মিলন ছাড়া এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয় না৷
এ ধরনের প্রদাহের উত্স হচ্ছে
* যৌনিপথের অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা
* চর্মরোগ
* মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ
* পুষ্টির অভাবে
* গর্ভাবস্থায়
* অপরিষ্কার এবং আটসাট পায়জামা বা প্যান্ট ব্যবহার করলে
* জণ্মনিয়ন্ত্রণে যৌনিপথে কোনও জেলি বা কপারটি ব্যবহার করলে
২. সংক্রমিত প্রদাহ : যে প্রদাহ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয় তাকে সংক্রমিত প্রদাহ বলে৷ এ প্রদাহকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়৷
* নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি৷
* নির্দিষ্ট ছত্রাক দ্বারা : ট্রাইকোমোনাল, মনিলিয়াল ইত্যাদি৷
লক্ষণ
* স্বামী সহবাসে যোনিপথে জ্বালাও ব্যথা হতে পারে৷
* প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া থাকতে পারে৷
* জ্বর থাকতে পারে৷
* যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা সাদা স্রাব থাকে৷
* যোনিপথে ফোলা ও লাল দেখা যেতে পারে৷
* যোনিপথের স্রাব পরীক্ষা করলে নির্দিষ্ট জীবাণু পাওয়া যাবে৷
চিকিত্সা (Treatment)
* দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে৷ অন্যথায় পরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে৷
* প্রতিরোধ
* রোগীকে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে৷
* পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে৷
* রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে৷
* বিশ্রাম নিতে হবে৷
* রোগমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বামী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা স্বামী সহবাসের সময় স্বামীকে কনডম ব্যবহার করতে হবে৷
* রোগীর কাপড় চোপড় যাতে অন্য কেউ ব্যবহার না করে সে বিষয়ে রোগীকে সতর্ক থাকতে হবে৷
byসৈয়দ রুবেল উদ্দিন to
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More
কারণ
যোনিপথে দুটি কারণে প্রদাহ হতে পারে
১. অসংক্রমিত প্রদাহ : যৌনিপথের স্রাব পরীক্ষা করলে কোনও রকম জীবাণু পাওয়া যায় না৷ স্বামী-স্ত্রীর মিলন ছাড়া এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয় না৷
এ ধরনের প্রদাহের উত্স হচ্ছে
* যৌনিপথের অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতা
* চর্মরোগ
* মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ
* পুষ্টির অভাবে
* গর্ভাবস্থায়
* অপরিষ্কার এবং আটসাট পায়জামা বা প্যান্ট ব্যবহার করলে
* জণ্মনিয়ন্ত্রণে যৌনিপথে কোনও জেলি বা কপারটি ব্যবহার করলে
২. সংক্রমিত প্রদাহ : যে প্রদাহ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয় তাকে সংক্রমিত প্রদাহ বলে৷ এ প্রদাহকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়৷
* নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি৷
* নির্দিষ্ট ছত্রাক দ্বারা : ট্রাইকোমোনাল, মনিলিয়াল ইত্যাদি৷
লক্ষণ
* স্বামী সহবাসে যোনিপথে জ্বালাও ব্যথা হতে পারে৷
* প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া থাকতে পারে৷
* জ্বর থাকতে পারে৷
* যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা সাদা স্রাব থাকে৷
* যোনিপথে ফোলা ও লাল দেখা যেতে পারে৷
* যোনিপথের স্রাব পরীক্ষা করলে নির্দিষ্ট জীবাণু পাওয়া যাবে৷
চিকিত্সা (Treatment)
* দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে৷ অন্যথায় পরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে৷
* প্রতিরোধ
* রোগীকে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে৷
* পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে৷
* রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে৷
* বিশ্রাম নিতে হবে৷
* রোগমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বামী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা স্বামী সহবাসের সময় স্বামীকে কনডম ব্যবহার করতে হবে৷
* রোগীর কাপড় চোপড় যাতে অন্য কেউ ব্যবহার না করে সে বিষয়ে রোগীকে সতর্ক থাকতে হবে৷
byসৈয়দ রুবেল উদ্দিন to
www.facebook.com/sayed.rubel3
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি
(
Atom
)