রোজা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রোজা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রামাযান মাসের মর্যাদা ও রোযার গুরুত্ব

১) মুসলমানদের জন্য রামাযানের
রোযা রাখা ফরয:
রামাযান মাসে রোযা রাখা ফরজ হওয়ার
সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢُ
ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡُ ﻛَﻤَﺎ ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ
ﻗَﺒْﻠِﻜُﻢْ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর
রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ
করা হয়েছিল তোমাদের
পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন
তোমরা পরহেযগারী অর্জন
করতে পার।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)
২) রামাযান মাসে রোযা রাখা ইসলামের
অন্যতম একটি স্তম্ভ:
ক) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা:)
হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন:
ﺑﻨﻲ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺧﻤﺲ :
ﺷﻬﺎﺩﺓ ﺃﻥ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ، ﻭﺃﻥ
ﻣﺤﻤﺪﺍً ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ،ﻭﺇﻗﺎﻣﺔ
ﺍﻟﺼﻼﺓ ، ﻭﺇﻳﺘﺎﺀ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ ، ﻭﺍﻟﺤﺞ،
ﻭﺻﻮﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ )
ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর
প্রতিষ্ঠিত। লা ‘ইলাহা ইল্লাল্লাহ
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ তথা এ কথার
স্বাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য
কোন উপাস্য নেই এবং নামায
প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা,
হজ্জ আদায় করা এবং রামাযান
মাসে রোযা রাখা।[বুখারী ও মুসলিম।]
খ) আবু হুরায়রা (রাহ.) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন মানুষের
সামনে ছিলেন এমতবস্থায় তাঁর নিকট
এক লোক এসে জিজ্ঞেস করল: ঈমান
কী? তিনি উত্তরে বললেন:
ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﺃﻥ ﺗﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﻠﻪ ،
ﻭﻣﻼﺋﻜﺘﻪ ، ﻭﺑﻠﻘﺎﺋﻪ ، ﻭﺭﺳﻠﻪ،
ﻭﺗﺆﻣﻦ ﺑﺎﻟﺒﻌﺚ
“ঈমান হল, আল্লাহ, তাঁর ফেরেশ্তাগণ,
তাঁর সাথে স্বাক্ষাৎ হওয়াকে এবং তাঁর
রাসূলগণকে বিশ্বাস করবে এবং সেই
সাথে বিশ্বাস করবে মৃত্যুর পর
পূণরুত্থানকে।” সে ব্যক্তি আবার
জিজ্ঞেস করল, ইসলাম কী?
তিনি বললেন:
ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺃﻥ ﺗﻌﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﺗﺸﺮﻙ
ﺑﻪ ﻭﺗﻘﻴﻢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺗﺆﺗﻲ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ
ﺍﻟﻤﻔﺮﻭﺿﺔ ﻭﺗﺼﻮﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ
ইসলাম হল: এমনভাবে আল্লাহ আল্লাহর
এবাদত করবে যে, যেন
তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। তাঁর
সাথে শির্ক করবে না, নামায পড়বে,
ফরয যাকাত দিবে এবং রামাযান
মাসে রোযা রাখবে।”
লোকটি পূণরায় জিজ্ঞেস করল, ইহসান
কী? তিনি বললেন:
ﺃﻥ ﺗﻌﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﺄﻧﻚ ﺗﺮﺍﻩ ، ﻓﺈﻥ ﻟﻢ
ﺗﻜﻦ ﺗﺮﺍﻩ ﻓﺈﻧﻪ ﻳﺮﺍﻙ
“ইহসান হল, এমনভাবে আল্লাহ
আল্লাহর এবাদত করবে যে, যেন
তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। আর
যদি তাকে দেখতে না পাও তবে (এ
মনোভাব রাখবে)
যে তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন…।
”[বুখারী ও মুসলিম।]
গ) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক
বেদুইনের কথোপকথন:
ত্বালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রাহ:)
হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এক
বেদুঈন আগমণ করল। তার মাথার চুল
ছিল উসকো-খুশ্কো। লোকটি বলল:
হে আল্লাহর রাসূল,
আপনি আমাকে বলুন, আল্লাহ
তাআলা আমার জন্য কী পরিমাণ নামায
ফরয করেছেন? তিনি বললেন: “পাঁচ
ওয়াক্ত নামায। তবে কিছু অতিরিক্ত
নফল নামায পড়তে পার।”
লোকটি বলল: আপনি আমাকে বলুন,
আল্লাহ তাআলা আমার জন্য
কী পরিমাণ রোযা ফরয করেছেন?
তিনি বললেন: “রামাযান মাসের রোযা।
তবে কিছু অতিরিক্ত নফল
রোযা রাখতে পার।”
লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল:
আপনি আমাকে বলুন, আল্লাহ
তাআলা আমার উপর কী পরিমাণ যাকাত
ফরয করেছেন?
বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
প্রশ্নকারীকে ইসলামের বিভিন্ন বিধি-
বিধান সম্পর্কে জ্ঞান দান করলেন।
অতঃপর লোকটি বলল: সে প্রভুর শপথ
করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য
দ্বারা সম্মানিত করেছেন,
আমি অতিরিক্ত কোন কিছুই করব
না এবং আল্লাহ তাআলা আমার উপর
যা ফরয করেছেন তা থেকে কোন কিছুই
কমও করব না। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সে সত্য
বলে থাকলে সফল হবে।”
অথবা তিনি বলছেন: “সে সত্য
বলে থাকলে জান্নাতবাসী হবে।”[বুখারী,
সাওম অধ্যায় ও মুসলিম, ঈমান
অধ্যায়।]
৪) রামাযান মাসে জান্নাতের
দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়
এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ
করে দেয়া হয়:
আবু হুরায়রা (রাহ:)হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন
রামাযান আগমণ করে তখন জান্নাতের
দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয়।” অন্য
বর্ণনায় রয়েছে: যখন রামাযান আগমণ
করে তখন আসমানের
দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের
দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়
এবং শয়তানদেরকে শিকল
দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়।”[সহীহ বুখারী,
কিতাবুস সাওম। সহীহ মুসলিম কিতাবুস
সিয়াম।]
৫) নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযান
ছাড়া অন্য কখনো পুরো মাস
রোযা রাখতেন না:
আয়েশা (রাহ:) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন:
ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺼﻮﻡ ﺣﺘﻰ ﻧﻘﻮﻝ ﻻ
ﻳﻔﻄﺮ ، ﻭﻳﻔﻄﺮ ﺣﺘﻰ ﻧﻘﻮﻝ ﻻ
ﻳﺼﻮﻡ ، ﻭﻣﺎ ﺭﺃﻳﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﺳﺘﻜﻤﻞ
ﺻﻴﺎﻡ ﺷﻬﺮ ﺇﻻ ﺭﻣﻀﺎﻥ ، ﻭﻣﺎ ﺭﺍﻳﺘﻪ
ﺃﻛﺜﺮ ﺻﻴﺎﻣﺎً ﻣﻨﻪ ﻓﻲ ﺷﻌﺒﺎﻥ ((
ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
নফল রোযা রাখা শুরু
করলে আমরা বলতাম, তিনি হয়ত আর
রোযা বাদ দিবে না। আবার রোযা বন্ধ
করলে আমরা ধারণা করতাম হয়ত
তিনি আর রোযাই রাখবেন না।
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রামাযান
ছাড়া অন্য কখনো সারা মাস
ধরে রোযা পালন
করতে দেখিনি এবং শাবান মাসে তার
চেয়ে বেশি আর
কাউকে রোযা রাখতে দেখিনি।”[বুখারী ও
মুসলিম।]
৬) এক রামাযান অন্য রামাযানের
মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সংঘটিত
পাপরাশীর জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ:
আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলতেন:
ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﺨﻤﺲ ، ﻭﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺇﻟﻰ
ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ، ﻭﺭﻣﻀﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﺭﻣﻀﺎﻥ ،
ﻣﻜﻔﺮﺍﺕ ﻣﺎ ﺑﻴﻨﻬﻦ ، ﺇﺫﺍ ﺍﺟﺘﻨﺐ
ﺍﻟﻜﺒﺎﺋﺮ
“পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমুআ
থেকে আরেক জুমুআ এবং এক রামাযান
থেকে আরেক রামাযানের
মধ্যবর্তী গুনাহসমূহ মোচন
হয়ে যাবে যদি কবীরাগুনাহ
থেকে বেঁচে থাকা হয়।”[সহীহ মুসলিম।
পবিত্রতা অধ্যায়।]
৭) মাহে রামাযানে অসংখ্য কল্যাণের
হাতছানি:
ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﺃﻭﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ
ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺻﻔﺪﺕ ﺍﻟﺸﻴﺎﻃﻴﻦ ﻭﻣﺮﺩﺓ
ﺍﻟﺠﻦ ، ﻭﻏﻠﻘﺖ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﻨﻴﺮﺍﻥ
ﻓﻠﻢ ﻳﻔﺘﺢ ﻣﻨﻬﺎ ﺑﺎﺏ ، ﻭﻓﺘﺤﺖ
ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﻠﻢ ﻳﻐﻠﻖ ﻣﻨﻬﺎ ﺑﺎﺏ ،
ﻭﻳﻨﺎﺩﻱ ﻣﻨﺎﺩ ﻳﺎ ﺑﺎﻏﻲ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﺃﻗﺒﻞ ،
ﻭﻳﺎ ﺑﺎﻏﻲ ﺍﻟﺸﺮ ﺃﻗﺼﺮ ، ﻭﺍﻟﻠﻪ
ﻋﺘﻘﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻭﺫﻟﻚ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ
“রামাযান মাসের প্রথম রাতেই শায়তান
এবং উশৃংখল
জিনদেরকে শিকলবন্দী করে ফেলা হয়,
জাহান্নামের সবগুলো দরজা বন্ধ
করে দেয়া হয়-যার একটিও
খোলা রাখা হয় না এবং জান্নাতের
সবগুলো দরজা খুলে দেয়া হয়- যার
একটিও বন্ধ রাখা হয় না। আর এক
আহবানকারী আহবান করতে থাকে,
হে কল্যাণ প্রাত্যাশী, অগ্রসর হও।
হে অন্যায়কামী, বিরত হও। আর
আল্লাহ তাআলা অনেক
জাহান্নামীকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর
তা রামাযানের প্রতি রাতেই।”[তিরমিযী,
রোযা অধ্যায়। মুসতাদরাক হাকেম।
আল্লামা আলবানী (রা.)
হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ
তারগীব ওয়াত্ তারহীব। হাদীস
নং ৯৯৮।
৮) একই বছরে রামাযান এবং যিল হজ্জ
মাস একসাথে অপূর্ণ হবে না:
আবু বাকরা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(( ﺷﻬﺮﺍﻥ ﻻ ﻳﻨﻘﺼﺎﻥ ، ﺷﻬﺮ ﻋﻴﺪ :
ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﺫﻭ ﺍﻟﺤﺠﺔ (( ﻣﺘﻔﻖ
ﻋﻠﻴﻪ
“দুটি মাস (একই বছরে) অপূর্ণ হবে না।
সেগুলো হল: ঈদের দু মাস তথা রামাযান
এবং যুল হিজ্জা।”[সহীহ বুখারী, অধ্যায়:
রোযা। সহীহ মুসলিম অধ্যায়: রোযা।]
অর্থাৎ এ দুটি মাস একই বছরে এক
সাথে অসম্পূর্ণ হবেনা। একটি ২৯
দিনে হলে অন্যটি অবশ্যই ৩০
দিনে হবে। আরেকটি মত হল, হাদীসটির
অর্থ এ দুটি মাসে আমলের সাওয়াব কম
হবে না।[সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ
ফাত্হুল বারী। অধ্যায়: দু মাস এক
সাথে কম হবে না। ১৭৭৯ নং হাদীসের
ব্যাখ্যা।]

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "Next post "নবী (সাঃ)এর উপর দরুদ পাঠের ফজীলত।
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

►প্রশ্ন-উত্তরে সিয়াম◄সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার কারণসমূহ

►প্রশ্ন : কী কী কারণে সিয়াম ভঙ্গ
হয়ে যায়?
উত্তর : নিুোক্ত যে কোন কারণ
দেখা গেলে সিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে :
১. ইচ্ছা পূর্বক পানাহার ও ধুমপান
করা।
২. স্বেচ্ছায় বমি করা
৩. স্বামীস্ত্রীর মিলন
৪. বৈধ অবৈধ যে কোন প্রকার যৌন
ক্রিয়া।
৫. পানাহারের বিকল্প কিছু গ্রহণ করা,
যেমন- ইনজেকশান বা রক্ত গ্রহণ
করা। আর তা এমন ইনজেকশান যার
মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হয়।
৬. মাসিক স্রাব ও প্রসবোত্তর স্রাব
►প্রশ্ন: কেউ যদি ভুলক্রমে কিছু
খেয়ে ফেলে তবে কি তার সিয়াম ভঙ্গ
হয়ে যাবে?
উত্তর : না, ভাঙ্গবে না।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন,
ﺇِﺫَﺍ ﻧَﺴِﻲَ ﻓَﺄَﻛَﻞَ ﻭَﺷَﺮِﺏَ ﻓَﻠْﻴُﺘِﻢَّ
ﺻَﻮْﻣَﻪُ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻃْﻌَﻤَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺳَﻘَﺎﻩُ
১. যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার
করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ
করে নেয়, কেননা আল্লাহ তা‘আলাই
তাকে এ পানাহার করিয়েছেন (অর্থাৎ
এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি)।
(বুখারী-১৯৩৩ ও মুসলিম-১১৫৫)
ﻣَﻦْ ﺃَﻓْﻄَﺮَ ﻓِﻲْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻧَﺎﺳِﻴًﺎ ﻓَﻼَ
ﻗَﻀَﺎﺀَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻻَ ﻛَﻔَّﺎﺭَﺓَ
২. যে ব্যক্তি ভুল বশতঃ রমাযানের
দিনে বেলায় কিছু খেয়ে ফেলল : সেজন্য
কোন কাযা ও কাফফারা দিতে হবে না।
(দারাকুতনী ২৪, বায়হাকী ৭৮৬৩)
►প্রশ্ন : অযু গোসলের সময়
অসাবধানতা বশতঃ হঠাৎ করে কিছু
পানি গলায় ঢুকে গেলে বা জোরপূর্বক
খাওয়ানো হলে সিয়াম কি ভঙ্গ
হয়ে যাবে?
উত্তর : না, ভঙ্গ হবে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺿﻊَ ﻋَﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻰ ﺍﻟْﺨَﻄَﺄ
ﻭَﺍﻟﻨِّﺴْﻴَﺎﻥَ ﻭَﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻜْﺮَﻫُﻮْﺍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
“আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মাতের
ভুল-ভ্রান্তি ও বাধ্য
হয়ে ঘটে যাওয়া পাপরাশি মাফ
করে দিবেন। (শরহে মা‘আনীল আসার)
►প্রশ্ন : সিয়াম অবস্থায় কেউ
যদি ইচ্ছাকৃত
বমি করে তাহলে তাকে কী করতে হবে?
উত্তর : এ সিয়াম আবার
কাযা করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
ﻣَﻦْ ﺫﺭﻋﻪ ﻗﻰﺀ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻗَﻀَﺎﺀً ﻭﺇﻥ ﺍﺳﺘﻘﺎﺀ ﻓﻠﻴﻘﺾ
যে ব্যক্তি অনিচ্ছা বমি করল
তাকে উক্ত সিয়াম কাযা করতে হবে না।
কিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করল
তাকে উক্ত সিয়াম অবশ্যই
কাযা করতে হবে। (আবূ দাঊদ ২৩৮০)
►প্রশ্ন: রমযান মাসে দিনের বেলায়
স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে স্বামী-স্ত্রীর
মিলন হলে এর হুকুম কি?
উত্তর : এতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
এর ফলে কাযাও
করতে হবে এবং কাফফারাও দিতে হবে।
(ক) একদিনের রোযার জন্য
একাধারে দু’মাস রোযা রাখতে হবে।
মাঝখানে একদিন বাদ গেলে এর পরের
দিন থেকে আবার একাধারে পূর্ণ দু’ মাস
রোযা রাখতে হবে। অথবা
(খ) ষাটজন মিসকিনকে এক বেলা আহার
করাতে হবে।
►প্রশ্ন: উপরোক্ত ঘটনায়
কারণে কে কাযা করবে?
স্বামী নাকি স্ত্রী?
উত্তর : উভয়েই
কাযা করবে এবং কাফফারা দিবে।
তবে স্ত্রীকে যদি জোরপূর্বক সঙ্গম
করে থাকে তাহলে কাযা ও
কাফফারা দিবে শুধু স্বামী, স্ত্রী নয়।
উল্লেখ্য যে, বৈধ ও অবৈধ যে কোন
উপায়ে বীর্যপাত ঘটানো হলে সিয়াম
ভঙ্গ হয়ে যাবে।
►প্রশ্ন: রমযান মাসে রাতের বেলায়
কি স্ত্রীসহবাস করা যাবে?
উত্তর : হা, তা জায়েয আছে।
►প্রশ্ন: কোন প্রকার
ইনজেকশানে সিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে?
উত্তর :
(ক) রক্তশূন্যতা পূরণ জনিত
ইনজেকশান
(খ) শক্তি বর্ধক ইনজেকশান
(গ) স্যালাইন ও পানাহারের
স্থলাভিষিক্ত ইনজেকশান। এর কোন
একটা পুশ করলে সিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে।
তবে শুধুমাত্র ঔষধজনিত হলে সিয়াম
ভঙ্গ হবে না।
►প্রশ্ন : দিবসের কোন
অংশে রক্তস্রাব শুরু হলে সিয়াম ভঙ্গ
হয়ে যাবে?
উত্তর : দিবসের শুরু বা শেষ যে কোন
অংশে স্রাব শুরু হলে সিয়াম ভঙ্গ
হয়ে যাবে।
►প্রশ্ন: মাসিক স্রাব শুরু
হওয়া অনুভব করছে কিন্তু হয় নি। এ
অবস্থায় কি সিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে?
উত্তর : শুরু না হওয়া পর্যন্ত ভঙ্গ
হবে না।
►প্রশ্ন:
ঋতুবর্তী মহিলারা কি কাযা করবে?
উত্তর : শুধুমাত্র সিয়াম কাযা করবে।
সালাত কাযা করতে হবে না।
আয়িশাহ (রাঃ) বলেন :
ﻛَﺎﻥَ ﻳُﺼِﻴﺒُﻨَﺎ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻨُﺆْﻣَﺮُ ﺑِﻘَﻀَﺎﺀِ
ﺍﻟﺼَّﻮْﻡِ ﻭَﻻَ ﻧُﺆْﻣَﺮُ ﺑِﻘَﻀَﺎﺀِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ
আমাদেরও এটা ঘটত (অর্থাৎ মাসিক
হতো)। তখন আমরা শুধু সিয়াম
কাযা করতে আদিষ্ট হতাম। কিন্তু
সালাত কাযা করতে আদিষ্ট হতাম না।
(বুখারী ও মুসলিম-৩৩৫)
►প্রশ্ন : ফাজরের ওয়াক্ত
হয়নি মনে করে ফজর শুরু হওয়ার পর
পানাহার করল, এমনিভাবে সূর্যাস্ত
হয়ে গেছে মনে করে অস্ত যাওয়ার আগেই
ইফতার করে ফেলল- এ সিয়াম কি শুদ্ধ
হবে?
উত্তর : হা, শুদ্ধ হবে এ জন্য যে,
এটি তার অজানা ও
অজ্ঞতাবশতঃ হয়ে গেছে। আল্লাহ
তা‘আলা বলেন :
ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺟُﻨَﺎﺡٌ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺃَﺧْﻄَﺄْﺗُﻢْ
ﺑِﻪِ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻣَﺎ ﺗَﻌَﻤَّﺪَﺕْ ﻗُﻠُﻮﺑُﻜُﻢْ
ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭﺍً ﺭَﺣِﻴﻤﺎً
ভুলক্রমে কোনকিছু
করে ফেললে এতে কোন গুনাহ হবে না।
তবে জেনে শুনে ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন
অপরাধ করলে অবশ্যই এতে গুনাহ হবে।
আল্লাহ তা‘আলা অতিশয় ক্ষমাশীল ও
মেহেরবান। (আহযাব : ৫)
►প্রশ্ন : সিয়াম অবস্থায়
ভুলে পানাহার শুর করে দিল। এমন সময়
হঠাৎ স্মরণ হল। এ ব্যক্তি কি করবে?
উত্তর : মনে হওয়ামাত্র মুখের
বাকীখানা বা পানীয় ফেলে দেবে আর
যতটুকু ভুলে খাওয়া হয়ে গেছে সেজন্য
সিয়াম ভঙ্গ হবে না। তবে এ দৃশ্য
যে দেখবে তার উপর ফরয হল সিয়াম
পালনকারীকে স্মরণ করিয়ে দেয়া।
►প্রশ্ন : কেউ যদি কোন
সিয়ামকারীকে জবরদস্তি করে কোন
কিছু খাওয়ায় তাহলে কি হবে?
উত্তর : এতে সিয়াম ভঙ্গ হবে না।
অনুরূপভাবে জোর করে কোন
মুমিনকে কাফির
বানাতে চাইলে সে কাফির হবে না।
অনুরূপভাবে স্ত্রীর
সম্মতি ব্যতিরেকে স্ত্রীকে জোর
করে সঙ্গম করলে স্ত্রীর সিয়াম
ভাঙ্গবে না কিন্তু স্বামীর সিয়াম
অবশ্যই ভেঙ্গে যাবে।
►প্রশ্ন :
বিনা উযরে যে ইচ্ছা করে অতীতের
সিয়াম ভঙ্গ করেছে তার
কি করতে হবে?
উত্তর : এটি একটি মহাপাপ।
তাকে তাওবা করতে হবে এবং এসব
রোযা কাযা করতে হবে।
►প্রশ্ন : দিনের বেলায় ঘুমন্ত
অবস্থায় যদি স্বপ্নদোষ হয়ে যায়
তাহলে কি হবে?
উত্তর : এতে রোযা ভাঙ্গবে না। কারণ
স্বপ্নদোষ নিজের ইচ্ছাকৃত কোন
ঘটনা নয়।
►প্রশ্ন : সিয়াম অবস্থায় থুথু
কাশি গিলে ফেলা কেমন?
উত্তর : মুখে থাকা থুথু
গিলে ফেললে অসুবিধা নেই।
তবে কাশি গিলে ফেলা জায়েয নয়।
কেননা কাশি থুথুর মত নয়।
►প্রশ্ন : নাক দিয়ে রক্ত
পড়লে কিংবা দাঁত উঠলে অথবা আহত
হয়ে রক্ত প্রবাহিত হলে কি সিয়ামের
কোন ক্ষতি হবে?
উত্তর : না, এতে সিয়াম ভাঙ্গবে না।
কোন ক্ষতিও হবে না।
►প্রশ্ন : কোন রোযাদার ব্যক্তি তার
সিয়াম ভঙ্গ করার নিয়ত করল কিন্তু
সে তখনো কোন খানাপিনা খায়নি- তার
সিয়াম কি ঠিক আছে,
নাকি ভেঙ্গে গেছে?
উত্তর : তার সিয়াম ভঙ্গ হয়ে গেছে।
কারণ সিয়ামের জন্য নিয়ত ফরয। আর
এ ফরয তার তরক হয়ে গেছে। কাজেই
রোযা তার ভেঙ্গে গেছে খাবার বা পানীয়
গ্রহণ ছাড়াই।
কৃতজ্ঞতা ঃ Unity in the
Muslim ummah (মুসলিম উম্মার
মধ্যে ঐক্য)

Post on আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবন খুবই নগণ্য

Next post রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযিলত

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ সৈয়দ রুবেল উদ্দিন

ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযিলত

জায়েদ ইব্ন খালেদ জুহানি রাদিয়াল্লাহু
আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« ﻣَﻦ ﻓَﻄَّﺮَ ﺻَﺎﺋﻤﺎً ﻛَﺎﻥَ ﻟﻪ ﻣِﺜْﻞُ
ﺃَﺟْﺮِﻩِ ﻏَﻴْﺮَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻻ ﻳَﻨﻘُﺺُ ﻣِﻦ ﺃَﺟْﺮِ
ﺍﻟﺼَّﺎﺋِﻢِ ﺷَﻴﺌﺎً »
“যে রোযাদারকে ইফতার করাল, তার
রোযাদারের ন্যায় সাওয়াব হবে,
তবে রোযাদারের নেকি বিন্দুমাত্র
কমানো হবে না”। {তিরমিযি: (৮০৭),
ইব্ন মাজাহ: (১৭৪৬), নাসায়ি ফিল
কুবরা: (৩৩৩০-৩৩৩১), সহিহ ইব্ন
খুযাইমাহ: (২০৬৪), ইব্ন হিব্বান:
(৩৪২৯), নাসায়ি আয়েশা থেকে মওকুফ
হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, দেখুন:
নাসায়ি ফিল কুবরা: (৩৩৩২), আব্দুর
রায্যাক আবু হুরায়রা থেকে মওকুফ
হিসেবে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আব্দুর
রায্যাক: (৭৯০৬)}
অপর বর্ণনায় আছে :
« ﻣَﻦْ ﻓَﻄَّﺮ ﺻَﺎﺋﻤﺎً ﺃَﻃﻌَﻤَﻪُ ﻭﺳَﻘَﺎﻩُ
ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻪُ ﻣِﺜْﻞُ ﺃَﺟْﺮِﻩِ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْ
ﻳَﻨﻘُﺺَ ﻣِﻦْ ﺃَﺟْﺮِﻩِ ﺷَﻲﺀ ».
“যে রোযাদারকে ইফতার করাল,
তাকে পানাহার করাল, তার রোযাদারের
সমান সওয়াব হবে, তবে তার
নেকি থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস
করা হবে না”। {আব্দুর রায্যাক:
(৭৯০৫), তাবরানি ফিল কাবির:
(৫/২৫৬), হাদিস নং: (৫২৬৯)}
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বর্ণিত, তাকে এক
মহিলা ইফতারের জন্য দাওয়াত করল,
তিনি তাতে সাড়া দিলেন এবং বললেন:
“আমি তোমাকে বলছি, যে গৃহবাসী কোন
রোযাদারকে ইফতার করাবে, তাদের জন্য
তার অনুরূপ সওয়াব হবে। মহিলা বলল:
আমি চাই আপনি ইফতারের জন্য আমার
কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করুন, বা এ
জাতীয় কিছু বলেছে। তিনি বললেন:
আমি চাই এ নেকি আমার পরিবার হাসিল
করুক। {মুসান্নাফ ইব্ন আব্দুর
রায্যাক: (৭৯০৮)}
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. আল্লাহ তা‘আলার অসীম অনুগ্রহ
যে, তিনি কল্যাণের নানা ক্ষেত্র
উন্মুক্ত করেছেন। যেমন তিনি মানুষের
প্রতি অনুগ্রহ করার আহ্বান
জানিয়ে মহান সওয়াবের
ঘোষণা দিয়েছেন।
দুই. রোযাদারকে ইফতার
করানো একটি ফযিলতপূর্ণ আমল,
যে রোযাদারকে ইফতার করাবে সে তার
ন্যায় নেকি লাভ করবে।
তিন. রোযাদারকে ইফতার করালে তার
বদলা আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে প্রদান
করেন, রোযাদারের পক্ষ থেকে নয়।
অতএব রোযাদারের সামান্য নেকি হ্রাস
হবে না, এটা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের
আলামত।
চার. এ থেকে বুঝা যায় ইফতারের
দাওয়াত গ্রহণ করা বৈধ,
বুজুর্গি দেখিয়ে বা নেকি কমার
আশঙ্কায় তা প্রত্যাখ্যান
করা বাড়াবাড়ি। কারণ অপরের নিকট
ইফতার করলে রোযাদারের পুণ্য কমে না।
তবে শুধু মিসকিনদের জন্য ইফতারের
দাওয়াত হলে, সেখানে ধনীদের
যাওয়া ঠিক নয়।
পাঁচ. আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচার ও
তাদের খুশির জন্য
দাওয়াতে সাড়া দেয়া ও ইফতার
করা বৈধ, যেন তাদের পুণ্য হাসিল হয়,
যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু
করেছেন।
ছয়. যে ইফতার করাবে, সে নেকি ও
অপরের প্রতি ইহসানের নিয়ত করবে,
বিশেষ করে রোযাদার যদি গরিব হয়।
সাত. রোযাদারকে বাসায় নিয়ে আপ্যায়ন
করা, বা খাবার প্রস্তুত করে তার জন্য
পাঠিয়ে দেয়া ইফতার করানোর শামিল,
তবে অপচয় না করা, বিশেষ
করে রকমারি ইফতারের এ যুগে।
আট. কেউ যদি গরিবকে টাকা দেয়, যার
কিছু দিয়ে সে ইফতার করল,
বাকিটা সংগ্রহে রেখে দিল, বাহ্যত
তা ইফতার করানোর হাদিসের
অন্তর্ভুক্ত হবে, অধিকন্তু
সে আর্থিকভাবে উপকৃত হল।
ইবরাহিম ইব্ন মুহাম্মাদ আল-হাকিল
অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা : আবু বকর মুহাম্মাদ
যাকারিয়া

Post on আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার
জীবন খুবই নগণ্য

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ সৈয়দ রুবেল উদ্দিন

ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রমজানে যা করনীয়

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার
করতে ভুলবেন না
রমজানে যা করনীয় আমরা যখন এ
মাসের গুরুত্ব অনুভব করলাম তখন
আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়াল
কীভাবে এ মাসের
প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লা গানো যায়
সে প্রচেষ্টা চালানো। এ
মাসে হেদায়াতের আলো কবর
্তিকা আল-কোরআন নাজিল হয়েছে।
এ মাসে জান্নাতের
দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। এ
মাসে জাহান্ নামের দরজাগুলো বন্ধ
করে দেয়া হয়।
শয়তানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।
একজন ঘোষণাকারী ভাল কাজের
আহ্বান জানাতে থাকে ও খারাপ কাজ
থেকে বিরত থাকতে বলে।
সাথে সাথে এটা হল মাগফিরাতের মাস,
জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। এ
মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা হাজার
মাস থেকে শ্রেষ্ঠ। আমাদের অনেকের
ধারণা রমজান মাস সিয়াম পালন ও
তারাবীহ আদায়ের মাস। ব্যাস ! আর
কীসের আমল ? দিনের বেলা পানাহার
থেকে বিরত থাকছি এটা কম কি? না,
ব্যাপারটা শুধু এ টুকুতে সীমিত নয়।
রমজান একটি বিশাল বিদ্যাপীঠ। এ
রমজানে আমরা কি কি নেক আমল
করতে পারি তা নিম্নে আলোচনা করা হল :
—
(১) কিয়ামুল লাইল কিয়ামুল লাইল
শব্দের অর্থ রাতের সালাত। অর্থাৎ
সালাতে তারাবীহ। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেন :—
ﻣﻦ ﻗﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺇﻳﻤﺎﻧﺎ
ﻭﺍﺣﺘﺴﺎﺑﺎ ﻏﻔﺮ ﻟﻪ ﻣﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻣﻦ
ﺫﻧﺒﻪ. ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের
সাথে রাতে সালাত আদায় করবে তার
অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা
করে দেয়া হবে। বর্ণনায় : মুসলিম
সালাতে তারাবীহ যেমন কিয়ামুল
লাইলের মধ্যে পড়ে তেমনি শেষ
রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইল এর
অন্তর্ভুক্ত। ইমাম সাহেবের
সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
জামাতে সালাত আদায়
করলে রমজানের পূর্ণ রাত সালাত
আদায়ের সওয়াব অর্জিত হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
ﻣﻦ ﻗﺎﻡ ﻣﻊ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺣﺘﻰ
ﻳﻨﺼﺮﻑ ﻛﺘﺐ ﻟﻪ ﻗﻴﺎﻡ ﻟﻴﻠﺔ
)ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ(
ইমাম সাহেব সালাত শেষ করা পর্যন্ত
তার সাথে যে সালাত আদায়
করবে সে পূর্ণ এক রাত সালাত
আদায়ের সওয়াব পাবে। বর্ণনায় :
আবু দাউদ যে সামর্থ্য
রাখে সে ইমামের সাথে সালাত শেষ
করে একা একা যত ইচ্ছা তত সালাত
আদায় করবে। এ ক্ষেত্রে অনেকের
মধ্যে যে অমনোযোগিতা দেখা যায়
তা হল রমজানের প্রথম
রাতে তারা সালাতে অংশ
নিতে পারে না। আবার
অনেককে রমজানের শেষ
দিকে অলসতায় পেয়ে বসে।
ফলে তারা পূর্ণ রমজানের কিয়ামুল
লাইলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত
হয়ে থাকেন।
(২) আল-কোরআন খতম ও
তিলাওয়াত : নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
ﺍﻟﺼﻴﺎﻡ ﻭﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻳﺸﻔﻌﺎﻥ ﻟﻠﻌﺒﺪ
ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ . . .
সিয়াম ও কোরআন কেয়ামতের দিন
মানুষের জন্য সুপারিশ করবে…।
হাদিসে এসেছে, রমজানে জিবরাইল
রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কোরআন
পাঠ করে শোনাতেন। আর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াতের
মাধ্যমে জিবরাইলের
কাছে তুলে ধরতেন। আল-কোরআন
তিলাওয়াত হল সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির।
সিয়াম পালনকারী এ জিকির
থেকে বঞ্চিত থাকতে পারেন না।
আল-কোরআন তিলাওয়াতের
একটি সঠিক দিক-নির্দেশনামুলক
প্রবন্ধ এ বইয়ের শেষ দিকে যুক্ত
করে দেয়া হয়েছে। পাঠক এ
থেকে উপকৃত হতে পারবেন। যদি কেউ
কোরআন তিলাওয়াত করতে অপারগ
হন তাহলে বিভিন্ন তাসবীহ, তাহলীল,
তাহমীদ আদায়ের
মাধ্যমে মুখে আল্লাহর জিকির
অব্যাহত রাখবেন।
(৩) সদকা বা দান : প্রখ্যাত
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস
বলেন :—
ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﺃﺟﻮﺩ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﺎﻟﺨﻴﺮ،
ﻭﻛﺎﻥ ﺃﺟﻮﺩ ﻣﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﻓﻲ ﺷﻬﺮ
ﺭﻣﻀﺎﻥ. ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মানুষের
মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর
রমজানে তার
বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।
বর্ণনায় : মুসলিম ইমাম শাফেয়ি (র.)
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ
করে তার উম্মতের জন্য উত্তম
কাজ হল রমজান
মাসে তারা বেশি করে দান-
সদকা করবে। কারণ এ মাসে মানুষের
প্রয়োজন বেশি থাকে।
অপরদিকে রমজান হল জিহাদের মাস।
তাই প্রত্যেকের উচিত অর্থ-সম্পদ
দান করার মাধ্যমে জিহাদে অংশ
নেয়া।
(৪) এতেকাফ :— ইবনে উমার রা.
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻌﺘﻜﻒ ﺍﻟﻌﺸﺮ ﺍﻷﻭﺍﺧﺮ
ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ . ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ
দশকে এতেকাফ করতেন। বর্ণনায় ;
মুসলিম। এতেকাফ প্রসঙ্গে ইমাম
যুহরি বলেন, আশ্চর্যজনক হল
মুসলমানরা এতেকাফ পরিত্যাগ
করে অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আসার
পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত
কখনো এতেকাফ পরিত্যাগ করেননি।
(৫) ওমরাহ আদায় :—
যেমনটি হাদিসে এসেছে নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :—
ﻋﻤﺮﺓ ﻓﻲ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻛﺤﺠﺔ
ﻣﻌﻲ
রমজান মাসে ওমরাহ আদায় আমার
সাথে হজ আদায়ের সমতুল্য।
(৬) রোজাদারদের ইফতার করানো :
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
ﻣﻦ ﻓﻄﺮ ﺻﺎﺋﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﻣﺜﻞ
ﺃﺟﺮﻩ ، ﻏﻴﺮ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻦ
ﺃﺟﺮ ﺍﻟﺼﺎﺋﻢ ﺷﻴﺌﺎ. ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺣﻤﺪ
যে ব্যক্তি কোন সিয়াম
পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার
করাবে সে সিয়াম পালনকারীর অনুরূপ
সওয়াব লাভ করবে, তবে তাতে সিয়াম
পালনকারীর সওয়াব বিন্দুমাত্র
কমে যাবে না। বর্ণনায় : আহমদ
(৭) দোয়া-প্রার্থনা করা : আল্লাহ
রাব্বুল সিয়ামের বিধান বর্ণনা করার
পর বলেছেন -
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟَﻚَ ﻋِﺒَﺎﺩِﻱ ﻋَﻨِّﻲ ﻓَﺈِﻧِّﻲ
ﻗَﺮِﻳﺐٌ ﺃُﺟِﻴﺐُ ﺩَﻋْﻮَﺓَ ﺍﻟﺪَّﺍﻉِ ﺇِﺫَﺍ
ﺩَﻋَﺎﻥِ )ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ (186 :
আমার বান্দাগণ যখন আমার
সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে,
আমি তো নিকটেই।
প্রার্থনাকারী যখন আমার
কাছে প্রার্থনা করে আমি তার
প্রার্থনায় সাড়া দেই। [সূরা আল-
বাকারা : ১৮৬]
তাই সিয়াম পালনকারী আল্লাহর
কাছে অধিক পরিমাণে দোয়া-
প্রার্থনা করবে। রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :—
ﺛﻼﺙ ﺩﻋﻮﺍﺕ ﻣﺴﺘﺠﺎﺑﺔ : ﺩﻋﻮﺓ
ﺍﻟﺼﺎﺋﻢ، ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﻈﻠﻮﻡ،
ﺩﻋﻮﺓ ﺍﻟﻤﺴﺎﻓﺮ. ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ
ﻓﻲ ﺷﻌﺐ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻭﺻﺤﺤﻪ
ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ তিনজনের দোয়া কবুল করা হয় ;
সিয়াম পালনকারীর দোয়া,
অত্যাচারিত ব্যক্তির
দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।
সহি আল-জামে (৮)
তওবা করা :
সর্বদা তওবা করা ওয়াজিব। বিশেষ
করে এ মাসে তো বটেই। এ
মাসে তওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ
করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ
করা হয়, জাহান্নাম
থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া হয়। এ
ছাড়া রমজান মাসের সকল ইবাদত
বন্দেগি তওবার অনুকুল পরিবেশ
সৃষ্টি করে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন :—
ﺭﻏﻢ ﺃﻧﻒ ﺭﺟﻞ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻴﻪ
ﺭﻣﻀﺎﻥ، ﺛﻢ ﺍﻧﺴﻠﺦ ﻗﺒﻞ ﺃﻥ
ﻳﻐﻔﺮ ﻟﻪ )ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ(
যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার
পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি তার নাক
ধুলায় ধূসরিত হোক। বর্ণনায় :
তিরমিজি
তাই রমজান মাসটাকে তওবা ও
ক্ষমা পাওয়ার মাস হিসেবে গ্রহণ
করে সে অনুযায়ী আমল করা উচিত।
(৯) নেক আমল করতে অধিক
হারে চেষ্টা অব্যাহত রাখা: বিশেষ
করে রমজানের শেষ দশকে -
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ
ﻗﺎﻟﺖ : ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ
ﺍﻟﻌﺸﺮ ﺃﺣﻴﻰ ﺍﻟﻠﻴﻞ، ﻭﺃﻳﻘﻆ
ﺃﻫﻠﻪ، ﻭﺟﺪ ﻭﺷﺪ ﺍﻟﻤﺌﺰﺭ. ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন : যখন রমজানের শেষ
দশক এসে যেত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন
রাত্রি জাগরণ করতেন,
পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন,
লুঙ্গি শক্ত ও ভাল
করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন।
বর্ণনায় : মুসলিম
তিনি আরো বলেন :—
ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺠﺘﻬﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻌﺸﺮ
ﺍﻷﻭﺍﺧﺮ ﻣﺎ ﻻ ﻳﺠﺘﻬﺪﻩ ﻓﻲ
ﻏﻴﺮﻩ. ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ
দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে যে পরিশ্রম
করতেন অন্য সময় এ রকম করতেন
না। বর্ণনায় : মুসলিম(১০) ইসলামি শিক্ষা অর্জনের
প্রতি গুরুত্ব প্রদান :
ইসলামি শিক্ষা হল সকল প্রকার
শিক্ষার মূল। তা ছাড়া দুটি বিষয়
লক্ষ্য করা খুব জরুরি এক. ইসলামের
সকল ইবাদত-
বন্দেগি সঠিকভাবে আদায়
করতে হলে ইসলামি শিক্ষা অর্জন
করতে হয়। এ ব্যাপারে কোন ওজর-
আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়। সালাতের
নিয়মকানুন, সিয়ামের বিধান,
জাকাতের নিয়ম-নীতি, হজের আহকাম
না শিখে এগুলো আদায় করা যায় না।
দুই. আল-কুরআনের তফসির শেখা ও
অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ
করে আমরা যে সকল সূরা-কেরাত
সালাতের মাঝে পড়ে থাকি সেগুলোর
মর্ম অনুধাবন করে তিলাওয়াত
করা দরকার। কাজেই রমজান
মাসকে আমরা ইসলামি শিক্ষা অর্জন
ও শিক্ষা প্রসারের একটি সুযোগ
হিসেবে নিতে পারি। মূর্খতার অবসান
ঘটানো সিয়ামের একটা গুরুত্বপূর্ণ
দাবি। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳﺪﻉ ﻗﻮﻝ ﺍﻟﺰﻭﺭ ﻭﺍﻟﻌﻤﻞ
ﺑﻪ ﻭﺍﻟﺠﻬﻞ، ﻓﻠﻴﺲ ﻟﻠﻪ ﺣﺎﺟﺔ
ﺃﻥ ﻳﺪﻉ ﻃﻌﺎﻣﻪ ﻭﺷﺮﺍﺑﻪ . ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ
যে মিথ্যা কথা ও কাজ
এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল
না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর
কোন প্রয়োজন নেই। বর্ণনায় :
বোখারি
হাদিসটি দ্বারা স্পষ্ট
বুঝে আসে যদি মূর্খতা পরিহার
না করা হয় তবে সিয়াম আল্লাহর
কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। আর
মূর্খতা ত্যাগ করা যাবে শুধু
শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে।
সমাপ্ত

Next post রোযা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ


ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ
সৈয়দ রুবেল উদ্দিন

ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রোযা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার
করতে ভুলবেন না
লেখক: মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-
উসাইমীন
অনুবাদক: আব্দুররব আফফান
সকল প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতিপালক
আল্লাহর জন্য এবং আমাদের
নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর বংশধর ও
সকল সাহাবীদের প্রতি দরুদ ও সালাম।
রোযা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত এই
প্রবন্ধটিতে রোযার বিধান, রোযায়
মানুষের শ্রেণিভেদ, রোযা ভঙ্গের
কারণ ও অন্যান্য কতিপয় প্রয়োজনীয়
মাসয়ালা সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে
।
১- সিয়াম বা রোযা : ফজরের শুরু
হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযা ভঙ্গের
কারণ থেকে বিরত হয়ে আল্লাহর
উদ্দেশ্যে ইবাদত পালন করা।
২- রমযানের সিয়াম : রমাযানের
সিয়াম ইসলামের পাঁচটি রুকনের
অন্যতম একটি রুকন বা ভিত।
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ইসলাম
পাঁচটি স্তম্ভের উপর স্থাপিতঃ (১)
সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন
মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল
(২) রীতি মত নামায আদায় করা (৩)
যাকাত দেয়া (৪) রমযানের রোযা পালন
করা (৫) বায়তুল্লাহ্র হজ্জ করা।
(বুখারী ও মুসলিম)
সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে মানুষের
শ্রেণিভেদ
সিয়াম প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স, বিবেক
সম্পন্ন, সামর্থ্যবান ও নিজ
বাসস্থানে অবস্থানকারী মুসলিম
ব্যক্তির উপর ফরয।
যে সব লোকের প্রতি সিয়াম ফরয নয়:
১- কাফের : ইসলাম গ্রহণের
পূর্বে কাফেরের উপর সিয়াম ফরয নয়
এবং তার জন্য ইসলাম গ্রহণের পর
কাযা করাও জরুরি নয়।
২- অপ্রাপ্ত বয়স : অপ্রাপ্ত বয়স্ক
ছেলে-মেয়ের উপর সিয়াম ফরজ নয়
কিন্তু অভ্যাস গড়ার জন্য
রোযা পালনের আদেশ করা যাবে।
৩- পাগল : প্রাপ্ত বয়স্ক পাগলের
উপর সিয়াম ফরয নয় এবং তার জন্য
রোযা করিয়ে নেয়ারও প্রয়োজন নেই,
অনুরূপ বিধান যার জ্ঞান লোপ
পেয়েছে এবং যার অতি মাত্রায়
মতিভ্রম হওয়ার কারণে ভাল-মন্দ
তারতম্য করতে পারে না।
৪- অপারগ : স্থায়ী সামর্থ্যহীন যেমন
অতিশয় বৃদ্ধ বা এমন রোগে আক্রান্ত
যার আরোগ্য লাভের আর আশা নেই,
এরূপ ব্যক্তির প্রতি সিয়াম ফরয নয়।
তবে রমযানের প্রত্যেক দিনের জন্য
একজন মিসকিনকে খাবার দিতে হবে।
৫- অসুস্থ :
অস্থায়ী ভাবে রোগে আক্রান্ত
ব্যক্তির পক্ষে রোযা রাখা কঠিন
হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত
রোযা রাখবে না, কিন্তু সুস্থ হওয়ার
পর কাযা করবে।
৬- গর্ভবতী বা দুধ পান করায় এমন
মহিলা : গর্ভ-ধারণ বা দুধপান
করানোর কারণে যদি তাদের
প্রতি রোযা রাখা কঠিন হয়, বা স্বীয়
সন্তানের অনিষ্টের
আশঙ্কা করে তবে রোযা না রেখে যখন
আশঙ্কা মুক্ত হবে তখন সুবিধা মত
সময়ে কাযা করে নিবে।
৭- মাসিক ঋতু স্রাব অথবা সন্তান
প্রসব জনিত স্রাব হলে উক্ত
অবস্থায় রোযা না রেখে, তা দূর
হলে পরে কাযা করে নেবে।
৮- নিরুপায় : এমন
ব্যক্তি যে রোযা ছেড়ে দিতে বাধ্য,
যেমন কোন ছোট
বাচ্চা পানিতে ডুবে গেছে অথবা আগুনে পু
ড়ে যাচ্ছে তাকে মুক্ত করার জন্য
রোযা ছেড়ে দিতে হলে দেবে কিন্তু
পরবর্তীতে কাযা করে নেবে।
৯- মুসাফির : মুসাফিরের জন্য
সফরে রোযা রাখা, না রাখার
স্বাধীনতা রয়েছে,
তবে যদি না রাখে পরে কাযা করে নেবে।
উল্লেখ্য, মুসাফির ইচ্ছা করলে যতদিন
সফরে থাকবে, (উক্ত সফর
স্বল্পস্থায়ী হোক বা স্থায়ী) ততদিন
রোযা ছাড়তে পারবে।
রোযা ভঙ্গের কারণ
রোযাদার
যদি ভুলক্রমে বা নাজেনে বা বাধ্য
হয়ে কিছু খেয়ে পেলে, তবে রোযা নষ্ট
হবে না, আল্লাহ বলেন:
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗُﺆَﺍﺧِﺬْﻧَﺎ ﺇِﻥْ ﻧَﺴِﻴﻨَﺎ ﺃَﻭْ
ﺃَﺧْﻄَﺄْﻧَﺎ
হে আমাদের প্রতিপালক!
যদি আমরা ভুল
করে অথবা অজ্ঞাতসারে দোষে লিপ্ত
হই তবে আমাদেরকে পাকড়াও কর না।
(সূরা আল-বাকারা : ২৮৬)
আল্লাহ তাআলা বলেন :
ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃُﻛْﺮِﻩَ ﻭَﻗَﻠْﺒُﻪُ ﻣُﻄْﻤَﺌِﻦٌّ
ﺑِﺎﻟْﺈِﻳﻤَﺎﻥِ
তবে তার জন্য মহা শাস্তি নয়
যাকে কুফরী করতে বাধ্য
করা হয়েছে কিন্তু তার অন্তর
ঈমানে অবিচল।সূরা আন - নাহাল :
১০৬
আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺟُﻨَﺎﺡٌ ﻓِﻴﻤَﺎ
ﺃَﺧْﻄَﺄْﺗُﻢْ ﺑِﻪِ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﻣَﺎ ﺗَﻌَﻤَّﺪَﺕْ
ﻗُﻠُﻮﺑُﻜُﻢْ
‘যা তোমরা অজ্ঞাতসারে ভুল করেছ
তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই
কিন্তু তা তোমাদের সংকল্প
থাকলে অপরাধ হবে।’ সূরা আল-
আহ্যাব : ৫
অতএব, রোযাদার যদি ভুলবশত:
পানাহার করে তবে ভুলের
কারণে তার রোযা নষ্ট হবে না।
আর কেউ যদি সূর্য
ডুবে গেছে অথবা ফজর এখনও
হয়নি এরূপ মনে করে পানাহার
করে তবে তার অজ্ঞতার
কারণে রোযা নষ্ট হবে না।
যদি কুলি করা অবস্থায়
অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলায়
পানি চলে যায় তবে রোযা নষ্ট
হবে না।
স্বপ্নদোষ হলেও এতে তার কোন
ইচ্ছা না থাকায় রোযা ভঙ্গ
হবে না।
রোযা ভঙ্গের কারণ ৮ টি
১- স্ত্রী সহবাস : রোযাদার
যদি রমাযানের
দিনে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়
তবে উক্ত রোযা কাযা আদায়সহ জটিল
কাফ্ফারা আদায় করতে হবে। আর
তা হলো :
একটি গোলাম আজাদ করা,
যদি সামর্থ্য না থাকে তবে ধারাবাহিক
দুই মাস (মাঝে বিরতি ছাড়া)
রোযা রাখতে হবে আর যদি তার
সামর্থ্য না থাকে তবে ৬০ জন
মিসকীনকে খাওয়াতে হবে।
২- বীর্যপাত : জাগ্রতাবস্থায় হস্ত
মৈথুন, স্ত্রীর সাথে মেলাÑ মেশা করা,
চুমো দেয়া, স্পর্শ করা অথবা অন্য
কোন কারণে বীর্যপাত
হলে রোযা বিনষ্ট হয়ে যাবে।
৩- পানাহার :
উপকারী বা ক্ষতি কারক (যেমন
ধূমপান) কোন কিছু
পানাহারে রোযা ভেঙে যায়।
৪- ইনজেকশন যোগে খাদ্যের সম্পূরক
খাদ্য জাতীয় কোন কিছু প্রয়োগ
করলে। কিন্তু তা যদি খাদ্যের সম্পূরক
না হয় তবে শরীরের যেখানেই প্রয়োগ
করা হোক যদিও তার স্বাদ গলায়
অনুভূত হয় রোযা নষ্ট হবে না।
৫- ইনজেকশন যোগে রক্ত প্রয়োগ :
যেমন রোযাদারের যদি রক্ত
শূন্যতা দেখা দেয় আর তার
ফলে ইন্জেকশন প্রয়োগে রক্ত প্রবেশ
করান হয় তবে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
৬- মাসিক ঋতু স্রাব ও সন্তান প্রসব
জনিত স্রাব।
৭- শিংগা বা এ জাতীয় কিছু
লাগিয়ে রক্ত বের করা, তবে যদি রক্ত
স্বাভাবিকভাবে যেমন নাক
থেকে রক্তক্ষরণ বা দাঁত উঠানোর
ফলে বা এ ধরনের অন্য কারণে বের হয়
তবে রোযা বিনষ্ট হবে না।
৮- বমি করলে :
ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোযা নষ্ট
হবে কিন্তু অনিচ্ছায়
বমি করলে রোযা নষ্ট হবে না।
রোযার কতিপয় প্রয়োজনীয় মাসয়ালা
১- অপবিত্র অবস্থায় রোযার নিয়ত
করা জায়েয তবে ফজর হলে গোসল
করবে।
২- কোন মহিলা যদি রমাযানে ফজরের
পূর্বে মাসিক ঋতু-স্রাব বা সন্তান
প্রসব জনিত স্রাব হতে পবিত্র হয়
তবে সে ফজরের পূর্বে গোসল
না করলেও তার প্রতি রোযা রাখা ফরয
তারপর ফজরে গোসল করে নিবে।
৩- রোযা অবস্থায় দাঁত উঠানো,
জখমে ঔষধ
লাগানো চোখে বা কানে ঔষধের
ফোটা নিক্ষেপ জায়েয, যদিও
চোখে বা কানে ফোঁটা প্রয়োগের
ফলে গলায় ঔষধের স্বাদ অনুভূত হয়।
৪- রোযা অবস্থায় দিনের
প্রথমভাগে ও শেষ ভাগে মিসওয়াক
করা জায়েয বরং অন্যের মত তার
জন্যেও এ অবস্থায় সুন্নাত।
৫- রোযাদার গরম ও পিপাসার
তীব্রতা কমানোর জন্য পানি, শীতাতপ
নিয়ন্ত্রণ বা অন্য কিছুর
মাধ্যমে ঠান্ডা গ্রহণ করা বৈধ।
৬- প্রেশার বা অন্য কোন
কারণে শ্বাস কষ্ট হলে রোযা অবস্থায়
মুখে স্প্রে করা জায়েয।
৭- রোযাদারের ঠোঁট
শুকিয়ে গেলে পানি দ্বারা ভিজান
এবং মুখ শুকিয়ে গেলে গড়
গড়া করা ছাড়া কুলি করা বৈধ।
৮- ফজরের সামান্য পূর্বে অর্থাৎ
দেরী করে সেহরী খাওয়া এবং সূর্যাস্তের
পর তাড়াতাড়ি ইফ্তার করা সুন্নাত।
রোযাদার ইফ্তারের জন্য খেজুর,
শুকনা খেজুর, পানি, যে কোন হালাল
খাবার যথাক্রমে প্রথম
থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ
করবে। আর যদি ইফ্তারের জন্য কিছুই
না পাওয়া যায়, তবে কোন খাবার
পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত
মনে মনে ইফ্তারের নিয়ত করে নিবে।
৯- রোযাদারের উচিত সৎকর্ম
বেশি বেশি করা এবং সকল নিষিদ্ধ কাজ
থেকে বিরত থাকা।
১০- রোযাদারের ফরয কাজ সমূহ
নিয়মিত আঞ্জাম দেয়া এবং সকল
হারাম থেকে দুরে থাকা একান্ত
কর্তব্য; অতএব, পাঁচ ওয়াক্ত নামায
সময় মত এবং যদি সে জামায়াতে উক্ত
নামায আদায়ের ওযর বিহীন লোক হয়
তবে জামায়াতের সাথে আদায়
করবে এবং মিথ্যা কথা, পরনিন্দা,
ধোঁকাবাজি, সুদী লেন-দেন করা ও সকল
হারাম কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে।
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেন : ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা,
অনুরূপ আচরণ ও জাহেলিয়াত বর্জন
না করে, তবে তার পানাহার বর্জনের
আল্লাহ্র কোনই প্রয়োজন
নেই। ’ (বুখারী)
সকল প্রশংসা জগৎ সমুহের প্রতিপালক
আল্লাহ্র জন্য এবং আমাদের
নবী মুহাম্মাদ, তাঁর বংশধর ও তাঁর
সকল সাহাবীর প্রতি সালাম বর্ষিত
হোক। আমীন !
সমাপ্ত

এ বিষয়ে আরো একটি পোস্ট পড়ুন সিয়ামের হিকমত, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও উপকারিতা

Blog Eiditor_Syed Rubel

আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।

পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান

পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুন

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

সিয়ামের হিকমত, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও উপকারিতা →পাতা ১←

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
লেখক : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
সিয়ামের হিকমত, লক্ষ্য -উদ্দেশ্য ও উপকারিতা
ইসলাম অর্থ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর নির্দেশের কাছে নিজেকেসন্তুষ্ট চিত্ত সঁপে দেয়া। তার প্রতি ঈমান রাখা, তার কাছে প্রতিদানের আশা করা এবং বিশ্বাস করা যে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন যাপনের মধ্যে রয়েছে কল্যাণ ও সফলতা। এটাও বিশ্বাস করতে হবে যে আল্লাহ তাআলা হলেন হাকিম বা মহাজ্ঞানী। তার বিধানই পূর্ণাঙ্গ ও সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সুন্দর। তার প্রতিটি বিধানে রয়েছে হেকমত বা কল্যাণকর মহা উদ্দেশ্য। অনেক সময় মানুষ তার বিধানের কল্যাণকর দিক ও হেকমত যথার্থ ভাবে অনুধাবন করতে পারে না। এটা মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। আল্লাহ তাআলা বলেন:—
وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا ﴿85﴾ سورة الإسراء.
তোমাদের খুব অল্পই জ্ঞান দেয়াহয়েছে। মানুষের কর্তব্য হল সর্বদা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নির্দেশ পালন করা। এ আদেশ-নির্দেশসমূহের হেকমত তথা বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও উপকারিতা অনুধাবন করতে পারা যাক বা না যাক। যদি এমন হয় যে আল্লাহর যে সকল বিধানের উপকারিতা আমাদের কাছে স্পষ্ট সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করব আরঅন্যগুলো গুরুত্ব দেব না তাহলেতো আল্লাহর দাসত্ব করা হলো না। বরং নিজের মনের দাসত্ব করা হলো। এরূপ কেউ করলে এটা তার ঈমান ও বিশ্বাসের দুর্বলতার পরিচয় দিল। আবার এর অর্থ এটাও নয় যে আমরা আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধানের বৈজ্ঞানিক লাভ-ক্ষতি, উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে পারব না। অবশ্যই পারব, কারণ এটা আমাদের ঈমানকে আরো শক্তিশালী করবে, তাঁর প্রতিবিশ্বাসকে মজবুত করবে। তাই আমরা এখন সিয়ামের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তার কল্যাণ ও উপকারিতার দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।
(১) তাকওয়া বা আল্লাহ-ভীতি:
এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। সিয়ামের একটা লক্ষ্য হল মানুষ তাকওয়া বা আল্লাহ-ভীতি অর্জন করবে। তিনি বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ.البقرة : 183
হে বিশ্বাসীগণ ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমনবিধান তোমাদের পর্ববর্তীদের দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। সূরাআল-বাকারা : ১৮৩
তাকওয়া কী ? যা অর্জন করা যাবে সিয়াম পালন করলে।
তাকওয়া হল : আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করা আর যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। এটা করা হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান লাভ ও তাঁর শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়। সিয়াম পালনকারী আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করে যখন বৈধপানাহার ও যৌনাচার বর্জন করতেপারে তখন সে অবশ্যই অবৈধ আচার-আচরণ, কথা ও কাজ এবং ভোগ-বিলাস থেকে বেঁচে থাকতে পারবে।
(২) শয়তান ও কু-প্রবৃত্তিরক্ষমতা দুর্বল করা :
শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় চলাচল করতে পারে। এবং কু-প্রবৃত্তি যদি যখন যা ইচ্ছা তা করতে থাকে তখনসে উদ্ধত ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে থাকে। এবং সে তার আরো চাহিদা মিটানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখে। এমতাবস্থায় শয়তান ক্ষুধা ও পিপাসা দিয়ে এর সাথে যুদ্ধ করে। এ যুদ্ধে সিয়াম পালনকারী আল্লাহর সাহায্যে শয়তান ও কু-প্রবৃত্তিকে পরাজিত করে। একারণে কু-প্রবৃত্তিকে দমন করার জন্য নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়াম নামক চিকিৎসা দিয়েছিলেন। কেননা নফ্‌সে আম্মারা বা কু-প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ সকল প্রকারের পাপাচারে লিপ্ত হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন -
يا معشر الشباب: من استطاع منكم الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم، فإنه له وجاء .متفق عليه
হে যুবকেরা ! তোমাদের মধ্যে যেসামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের সুরক্ষা দেয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না সে যেন সিয়াম পালন করে। কারণ এটা তার রক্ষা কবচ। বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম। সিয়ামের বিধানের এটা একটা হিকমত। এভাবেই সিয়াম মানুষকেতাকওয়ার পথে নিয়ে যায়। মোটকথা সিয়াম যাবতীয় জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও তা বৈধ পথে পরিচালিত করার প্রশিক্ষণ দেয়।
(৩) সিয়াম আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও তার দাসত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশিক্ষণআরো পড়ুন

Blog Eiditor_Syed Rubel

আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।

পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান

পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

সিয়ামের হিকমত, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও উপকারিতা →পাতা ২←

প্রথম পাতার পরমানুষ যখন তার প্রবৃত্তির গোলামি ও শয়তানের আগ্রাসন থেকে মুক্তি লাভ করবে তখনই সে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বান্দা বা দাস হওয়ার যোগ্যতাঅর্জন করবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ব্যতীত তার সামনে আর কোন উদ্দেশ্য থাকে না। তাই সে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশ-নিষেধকে নিজের প্রবৃত্তির দাবির উপর অগ্রাধিকার দেয়। এতে যত কষ্টহোক, যত ধৈর্যের প্রয়োজন হোক,যত ত্যাগের দরকার হোক সব কিছু করতে সে প্রস্তুত হয়ে যায়। তাই সিয়াম পালনকারীকে দেখবেনসে দিনের বেলা খাচ্ছে না, খাচ্ছে রাতে, রাতে নিদ্রা যাচ্ছে না, রাত জেগে সে সালাত আদায় করছে। মিথ্যা কথা ও কাজ এবং সব ধরনের অসদাচরণ সে পরিহার করে চলছে । অথচ তার মন ও প্রবৃত্তি নির্দেশ দিচ্ছে দিনের বেলায় খাওয়া-দাওয়া করতে, রাতের বেলা বিশ্রাম নিতে, মিথ্যা কথা বলতে ইত্যাদি। এমনিভাবে সিয়াম ও এসম্পর্কিত কাজগুলো আদায় করারমাধ্যমে সিয়াম পালনকারী প্রবৃত্তিসহ সকল মানুষের দাসত্ব অস্বীকার করে আল্লাহর দাসত্বে প্রবেশ করার যোগ্যতা অর্জন করে।
(৪) ঈমানকে দৃঢ় করা, মোরাকাবা ও আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা :— আল্লাহ রাব্বুল আলা-মীনের নির্ধারণ করা সময়ে তারই সন্তুষ্টি লাভের জন্য সকল প্রকার পানাহার পরিহার করা, আল্লাহকে ভয় করা ও তার মোরাকাবার একটি বলিষ্ঠ প্রমাণবহন করে। এটাই প্রকৃত ঈমান। সিয়াম পালনকারী যদি লোক চক্ষুর আড়ালে পানাহার করে আরমানুষের কাছে প্রকাশ করল সে সিয়াম অবস্থায় আছে তাহলে সেসিয়াম পালনকারী বলে গণ্য হবেনা। এমনিভাবে সে দিনের বেলা ও পানাহার ও যৌনাচার ত্যাগ করল বটে কিন্তু সিয়ামের নিয়ত ছিল না তাহলে সে সিয়াম আদায় করেছে বলে ধরা হবে না। সিয়াম পালনকারীর এ অনুভূতি আল্লাহকেভয় করা ও তার মোরাকাবার প্রমাণ দিতে শিখায়। (মোরাকাবা হল : সর্বদা আল্লাহ আমাকে ও আমি যা করছি তা দেখছেনএ ধরনের দৃঢ় অনুভূতি ধারণ করা) তাই সিয়াম মুসলিমকে ঈমানের সত্যতার প্রমাণ দিতে প্রশিক্ষণ দেয়আরো পড়ুন

Blog Eiditor_Syed Rubel
আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।
পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান

পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

সিয়ামের হিকমত, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও উপকারিতা →পাতা ৩←

২য় পাতার পর তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে,মোমিন হিসেবে তার কর্তব্য হল সর্বদা আল্লাহর মোরাকাবা করা অর্থাৎ এ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে আমার প্রতিটি মুহূর্তের প্রতিটি কাজ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পর্যবেক্ষণ করছেন তাই আমাকে কোন কাজে তার অবাধ্য হওয়া চলবে না। তিনি যাতে সন্তুষ্ট হন শুধু তা-ই আমাকে করতে হবে। যদি এ রকম মোরাকাবার সাথে সিয়াম আদায় করা যায় তাহলে তার জন্য রয়েছে যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالـها إلى سبع مئة ضعف. قال الله عز وجل: ( إلا الصوم فإنه لي وأنا أجزى به، يدع شهوته وطعامه من أجلي . ..) رواه البخاري ومسلم
মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, কিন্তু সিয়ামের বিষয়টা ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধু আমার জন্য আমিই তার প্রতিদান দেব। আমার জন্যই সে পানাহার ত্যাগ করে থাকে। বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম
আর এ বিষয়টা সকল প্রকার ইবাদত-বন্দেগিতে থাকতে হয়। যখন মানুষ বিশ্বাস করবে আল্লাহ আমাকে সর্বদা দেখছেন তখন সে বিনা ওজুতে সালাত আদায় করে না। ঠিক তেমনি কোন কাজে ফাঁকি দিতে চেষ্টা করবে না। সকল প্রকার কাজ-কর্ম যথাযথ ও সুন্দরভাবে সম্পাদন করবে।
(৫) ধৈর্য, সবর ও দৃঢ় সংকল্পের প্রশিক্ষণ : সিয়ামের মাস মূলত ধৈর্য ও সবরের মাস। সিয়াম মনের চাহিদা পূরণে বাধা দেয়ার মাধ্যমে সংকল্পের দৃঢ়তার প্রশিক্ষণ দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন না করে তা মেনে চলার অভ্যাস গড়তে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলে। কখনো তাঁর সীমা লঙ্ঘনেরকথা চিন্তা করে না। আল্লাহ তাআলা সিয়ামের বিধান বর্ণনা করার পর বলেছেন :
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَاتَقْرَبُوهَا (البقرة : 187)
এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং এগুলোর নিকটবর্তী হয়ওনা। সূরা বাকারা :১৮৭
এর মাধ্যমে মানুষ নিজের মন ও বিবেককে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা লাভ করে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ধরুন কোন ব্যক্তি একটি খারাপ অভ্যাসে লিপ্ত। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে এর থেকে বিরত থাকতে পারছে না। রমজান মাসের সিয়াম তার তার বদ অভ্যাস উৎপাটন করতে একটা বিরল সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এরপর সে যেন আর বলতে না পারে যে আমি পারি না।
(৬) আখেরাতমুখী করার প্রশিক্ষণ :
সিয়াম পালনকারী পার্থিব সকল ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে দুনিয়ারপ্রতি বিমুখ হয়ে আখেরাতমুখী হওয়ার দীক্ষা নিয়ে থাকে। তার এ ত্যাগ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আখেরাতে জান্নাত লাভের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কিছুর জন্যে নয়। এ আধ্যাত্মিক শিক্ষার মাধ্যমে দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক কমিয়েআখেরাতের সম্পর্ককে প্রাধান্য দেয়ায় সবক নিয়ে থাকে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে সে শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত-বন্দেগি ও সৎকর্ম সম্পাদন ক্ষেত্র প্রশস্ত করতে চেষ্টা করে।
(৭) আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া ও সৃষ্টি জীবের সেবা করার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়া :
অনুগ্রহের কথা ভুলে যাওয়া মানুষের একটি স্বভাব। অনুগ্রহমূল্যায়ন করতে শেখে তখন, যখন সে তা হারিয়ে ফেলে। সিয়াম আদায়ের মাধ্যমে বঞ্চিত ও অভাবী মানুষদের দুরবস্থা অনুধাবন করতে শেখে। তখন সে যেমন তার প্রতি আল্লাহ রাব্বুল আলা-মীনের অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে আল্লাহর শোকর আদায়ে যত্নবান হয় তেমনি বঞ্চিত, অভাবী, অনাহার ক্লিষ্টমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয় ও তাদের সেবা করতে উৎসাহ পায়।
(৮) সিয়াম সমাজ সংস্কারের একটি বিদ্যাপীঠ : সিয়ামের যে সকল হিকমত রয়েছেযা ব্যক্তিকে পরিশুদ্ধ করে, এসকল হিকমত সমাজকেও পরিশুদ্ধ ও সংস্কারে ভূমিকা রাখে। কেননা ব্যক্তির পরিশুদ্ধতা হলসমাজ শুদ্ধির পথ। ব্যক্তি সংশোধন হয়ে গেলে সমাজ সংশোধনহয়ে যায়। তাইতো আমরা দেখি, সিয়ামকে সামাজিক ভাবে আদায় করতে হয়। অর্থাৎ একই সাথে একই সময়ে। কিন্তু নফল সিয়ামসকলকে এক সময়ে এক সাথে আদায় করতে হবে বলে কোন বাধ্য-বাধকতা নেই। রমজান আমাদেরকে সমাজ সংস্কারের পথে উদ্বুদ্ধ করে, সমাজ যতই কলুষিত হয়ে যাকনা কেন। রমজান ইসলামি শরিয়া বাস্তবায়নের আন্দোলনের এক অনুকুল সময়। এ সময় যেমন শয়তানের সৃষ্ট প্রতিকূলতা দুর্বল হয়ে পড়ে, তেমনিভাবে মানুষের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি দেখা যায়। তাই সমাজ সংস্কারের উদ্যোগের এটাইউপযুক্ত সময়। মানুষকে বুঝানোর এটা উত্তম সময় যে, ইসলামি শরিয়া হর বাস্তবায়ন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
(৯) শারীরিক শক্তি ও সুস্থতা অর্জন :
এক নম্বর থেকে আট পর্যন্ত সিয়ামের যে সকল কল্যাণকর দিকআলোচিত হল তা ছাড়াও সিয়ামেরএকটি কল্যাণকর দিক হল স্বাস্থ্যের উন্নতি। নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে খাবার গ্রহণ, পরিমিত আহার, ঠিক একই সময় পানাহার আবার ঠিক একই সময় বিরতি দেয়া ইত্যাদি পাকস্থলীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্রাম দেয় ফলে পাকস্থলী শক্তিশালী হয়। এমনিভাবে ইসলাম প্রবর্তিত প্রত্যেকটি ইবাদত-বন্দেগিতে রয়েছে হিকমত ও মানুষের জন্য অসংখ্য পার্থিব কল্যাণ।
সমাপ্ত

এ বিষয়ে আরো একটি পোস্ট পড়ুন রমজানে যা করনীয়

Blog Eiditor_Syed Rubel


আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রমজানে যা করনীয় →পাতা ১←

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রমজানে যা করনীয় আমরা যখন এ মাসের গুরুত্ব অনুভব করলাম তখনআমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়াল কীভাবে এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো যায় সেপ্রচেষ্টা চালানো। এ মাসে হেদায়াতের আলোকবর্তিকা আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়াহয়। এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। একজন ঘোষণাকারী ভাল কাজেরআহ্বান জানাতে থাকে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলে। সাথে সাথে এটা হল মাগফিরাতের মাস, জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। এমাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ। আমাদের অনেকের ধারণা রমজান মাসসিয়াম পালন ও তারাবীহ আদায়েরমাস। ব্যাস ! আর কীসের আমল ? দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থাকছি এটা কম কি? না, ব্যাপারটাশুধু এ টুকুতে সীমিত নয়। রমজান একটি বিশাল বিদ্যাপীঠ। এরমজানে আমরা কি কি নেক আমল করতেপারি তা নিম্নে আলোচনা করা হল:—
(১) কিয়ামুল লাইল কিয়ামুল লাইল শব্দের অর্থ রাতের সালাত।অর্থাৎ সালাতে তারাবীহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :—
من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدممن ذنبه. رواه مسلم‎ যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রাতে সালাত আদায় করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। বর্ণনায় : মুসলিম সালাতে তারাবীহ যেমন কিয়ামুল লাইলেরমধ্যে পড়ে তেমনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদও সালাতুল লাইল এর অন্তর্ভুক্ত। ইমাম সাহেবের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জামাতে সালাত আদায় করলে রমজানের পূর্ণ রাত সালাত আদায়ের সওয়াব অর্জিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:—
من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة (رواه أبو داود)
ইমাম সাহেব সালাত শেষ করা পর্যন্ত তার সাথে যে সালাত আদায় করবে সে পূর্ণ এক রাত সালাত আদায়ের সওয়াব পাবে। বর্ণনায় : আবু দাউদ যে সামর্থ্য রাখে সে ইমামের সাথেসালাত শেষ করে একা একা যত ইচ্ছা তত সালাত আদায় করবে। এ ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে যে অমনোযোগিতা দেখা যায় তা হল রমজানের প্রথম রাতে তারা সালাতে অংশ নিতে পারে না। আবার অনেককে রমজানের শেষ দিকেঅলসতায় পেয়ে বসে। ফলে তারা পূর্ণ রমজানের কিয়ামুল লাইলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।
(২) আল-কোরআন খতম ও তিলাওয়াত : নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة . . .‏‎ সিয়াম ও কোরআন কেয়ামতের দিনমানুষের জন্য সুপারিশ করবে…।হাদিসে এসেছে, রমজানে জিবরাইল রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কোরআনপাঠ করে শোনাতেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জিবরাইলের কাছে তুলে ধরতেন। আল-কোরআন তিলাওয়াত হল সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির । সিয়াম পালনকারী এ জিকির থেকে বঞ্চিতথাকতে পারেন না। আল-কোরআন তিলাওয়াতের একটি সঠিক দিক-নির্দেশনামুলক প্রবন্ধ এ বইয়ের শেষ দিকে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। পাঠক এ থেকে উপকৃত হতে পারবেন। যদি কেউ কোরআন তিলাওয়াত করতে অপারগ হন তাহলে বিভিন্ন তাসবীহ, তাহলীল, তাহমীদ আদায়ের মাধ্যমে মুখে আল্লাহর জিকির অব্যাহত রাখবেন।
(৩) সদকা বা দান : প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন :—
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس بالخير، وكان أجود ما يكون في شهر رمضان. رواه مسلم
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তার বদান্যতা আরো বেড়ে যেত।আরো পড়ুন

Blog Eiditor_Syed Rubel

আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রমজানে যা করনীয় →পাতা ২←

প্রথম পাতার পরবর্ণনায় : মুসলিম ইমাম শাফেয়ি (র.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করে তার উম্মতের জন্য উত্তম কাজ হল রমজান মাসে তারা বেশি করে দান-সদকা করবে। কারণ এ মাসে মানুষের প্রয়োজন বেশিথাকে। অপরদিকে রমজান হল জিহাদের মাস। তাই প্রত্যেকের উচিত অর্থ-সম্পদ দান করার মাধ্যমে জিহাদে অংশ নেয়া।
(৪) এতেকাফ :— ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتكف العشر الأواخر من رمضان . رواه مسلم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। বর্ণনায় ; মুসলিম। এতেকাফ প্রসঙ্গে ইমাম যুহরি বলেন, আশ্চর্যজনক হল মুসলমানরা এতেকাফ পরিত্যাগ করে অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আসার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত কখনো এতেকাফ পরিত্যাগকরেননি।
(৫) ওমরাহ আদায় :— যেমনটি হাদিসে এসেছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
عمرة في رمضان كحجة معي
রমজান মাসে ওমরাহ আদায় আমার সাথে হজ আদায়ের সমতুল্য।
(৬) রোজাদারদের ইফতার করানো : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
من فطر صائما كان له مثل أجره ، غير أنه لا ينقص من أجر الصائم شيئا. رواه أحمد
যে ব্যক্তি কোন সিয়াম পালনকারীকে (রোজাদারকে) ইফতার করাবে সে সিয়াম পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে তাতে সিয়াম পালনকারীর সওয়াব বিন্দুমাত্র কমে যাবে না। বর্ণনায় : আহমদ
(৭) দোয়া-প্রার্থনা করা : আল্লাহ রাব্বুল সিয়ামের বিধান বর্ণনা করার পর বলেছেন -
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ (البقرة : 186)
আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দেই। [সূরা আল-বাকারা : ১৮৬]
তাই সিয়াম পালনকারী আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে দোয়া-প্রার্থনা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
ثلاث دعوات مستجابة : دعوة الصائم، دعوة المظلوم، دعوة المسافر. رواه البيهقي في شعب الإيمان وصححه الألباني في الجامع‎ তিনজনের দোয়া কবুল করা হয় ; সিয়াম পালনকারীর দোয়া, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া। সহি আল-জামে (৮)
তওবা করা : সর্বদা তওবা করা ওয়াজিব। বিশেষ করে এ মাসে তো বটেই। এ মাসে তওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া হয়। এ ছাড়া রমজান মাসের সকল ইবাদত বন্দেগি তওবার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:—
رغم أنف رجل دخل عليه رمضان، ثم انسلخ قبل أن يغفر له (رواه الترمذي)
যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। বর্ণনায় : তিরমিজি
তাই রমজান মাসটাকে তওবা ও ক্ষমা পাওয়ার মাস হিসেবে গ্রহণ করে সে অনুযায়ী আমল করা উচিত।
(৯) নেক আমল করতে অধিক হারে চেষ্টা অব্যাহত রাখা: বিশেষকরে রমজানের শেষ দশকে -
عن عائشة رضي الله عنهاقالت : كان رسول الله صلىالله عليه وسلم إذا دخل العشر أحيى الليل، وأيقظ أهله، وجد وشد المئزر. رواه مسلم
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : যখন রমজানের শেষ দশক এসে যেত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন রাত্রি জাগরণ করতেন, পরিবারবর্গকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি শক্ত ও ভাল করে বেঁধে (প্রস্তুতি গ্রহণ) নিতেন। বর্ণনায় : মুসলিম
তিনি আরো বলেন :—
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجتهد في العشر الأواخر ما لا يجتهده في غيره. رواه مسلم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে যে পরিশ্রম করতেন অন্য সময় এ রকম করতেন না। বর্ণনায় : মুসলিম (১০) ইসলামি শিক্ষা অর্জনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান : ইসলামি শিক্ষা হল সকল প্রকার শিক্ষার মূল। তা ছাড়া দুটি বিষয় লক্ষ্য করা খুব জরুরি এক. ইসলামের সকল ইবাদত-বন্দেগি সঠিকভাবে আদায় করতে হলে ইসলামি শিক্ষাঅর্জন করতে হয়। এ ব্যাপারে কোন ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়। সালাতের নিয়মকানুন, সিয়ামের বিধান, জাকাতের নিয়ম-নীতি, হজের আহকাম না শিখে এগুলো আদায় করা যায় না। দুই. আল-কুরআনের তফসির শেখা ও অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আমরা যে সকল সূরা-কেরাত সালাতের মাঝে পড়েথাকি সেগুলোর মর্ম অনুধাবন করে তিলাওয়াত করা দরকার। কাজেই রমজান মাসকে আমরা ইসলামি শিক্ষা অর্জন ও শিক্ষাপ্রসারের একটি সুযোগ হিসেবে নিতে পারি। মূর্খতার অবসান ঘটানো সিয়ামের একটা গুরুত্বপূর্ণ দাবি। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:—
من لم يدع قول الزور والعمل به والجهل، فليسلله حاجة أن يدع طعامهوشرابه . رواه البخاري
যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। বর্ণনায় : বোখারি
হাদিসটি দ্বারা স্পষ্ট বুঝে আসে যদি মূর্খতা পরিহার না করা হয় তবে সিয়াম আল্লাহর কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। আর মূর্খতা ত্যাগ করা যাবে শুধু শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে।
সমাপ্ত

এ বিষয়ে আরো একটি পোস্ট পড়ুনরোজার মাহাত্ম, তাৎপর্য ও বিধি-বিধান

Blog Eiditor_Syed Rubel

আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রোজার মাহাত্ম, তাৎপর্য ও বিধি-বিধান →পাতা ১←

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রমজান মাসের ফজিলত
রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আনন্দপ্রকাশ করাই স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ (يونس: 58)
বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম। [সূরা ইউনুস : ৫৮]
পার্থিব কোন সম্পদের সাথে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলেনা, তা হবে এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা। যখন রমজানের আগমন হত তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতিশয় আনন্দিত হতেন, তার সাহাবাদের বলতেন :—
أتاكم رمضان شهر مبارك
তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। এরপর তিনি এ মাসের কিছু ফজিলত বর্ণনা করে বলতেন :—
فرض الله عز وجل عليكم صيامه، تفتح فيه أبواب السماء، وتغلق فيه أبواب الجحيم، وتغل فيه مردة الشياطين، لله فيه ليلة خير من ألف شهر، من حرم خيرها فقد حرم. رواه النسائي
আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলেদেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করাহয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাতযা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল। বর্ণনায় : নাসায়ী
আমাদের কর্তব্য : আল্লাহর এ অনুগ্রহের মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করা, এ মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়াও ইবাদত-বন্দেগিসহ সকল কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থাকা। এ মাসের যে সকল ফজিলত রয়েছে তা হল :
এক. এ মাসের সাথে ইসলামের একটিগুরুত্বপূর্ণ রুকনের সম্পর্ক রয়েছে ; আর তা হলে সিয়াম পালন।
হজ যেমন জিলহজ মাসের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে সে মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এমনি সিয়াম রমজান মাসে হওয়ার কারণে এ মাসের মর্যাদাবেড়ে গেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَآَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ. سورة البقرة :183
হে মোমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ফরজ করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর-যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। [সূরা বাকারা : ১৮৩]
রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ইসলাম যে পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তার একটি হল সিয়াম পালন। এ সিয়াম জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম ; যেমন হাদিসে এসেছে :—
من آمن بالله ورسولـه، وأقام الصلاة، وآتى الزكاة، وصام رمضان، كان حقاً على الله أن يدخله الجنة … رواه البخاري
যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল, জাকাত আদায় করল, সিয়াম পালন করল রমজানমাসে, আল্লাহ তাআলার কর্তব্য হল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো…। বোখারি
দুই. রমজান হল কোরআন নাজিলের মাস : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন -
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ : البقرة: 184
রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে আল-কোরআন, যা মানুষের দিশারি এবং স্পষ্টনিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী। সূরা বাকারা : ১৮৪ রমজান মাসে সপ্তম আকাশের লওহেমাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে বায়তুল ইজ্জতে পবিত্র আল-কোরআন একবারে নাজিল হয়েছে। সেখান হতে আবার রমজানমাসে অল্প অল্প করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি নাজিল হতে শুরু করে। কোরআন নাজিলের দুটিস্তরই রমজান মাসকে ধন্য করেছে। শুধু আল-কোরআনই নয় বরং ইবরাহিম আ.-এর সহিফা, তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল সহ সকল ঐশী গ্রন্থ এ মাসে অবতীর্ণ হয়েছে বলে তাবরানী বর্ণিত একটি সহি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। (সহি আল-জামে)
এ মাসে মানুষের হেদায়াত ও আলোকবর্তিকা যেমন নাজিল হয়েছে তেমনি আল্লাহর রহমত হিসেবে এসেছে সিয়াম। তাই এ দুই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়করতে বেশি বেশি করে কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। প্রতি বছর রমজান মাসে জিবরাইল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পূর্ণকোরআন শোনাতেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও তাকে পূর্ণ কোরআন শোনাতেন। আর জীবনের শেষ রমজানে আল্লাহর রাসূল দু বার পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াত করেছেন। সহি মুসলিমের হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত।আরো পড়ুন

Blog Eiditor_Syed Rubel

আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।
পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান

পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রোজার মাহাত্ম, তাৎপর্য ও বিধি-বিধান →পাতা ২←

প্রথম পাতার পর

তিন. রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় শয়তানদের। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :—
إذا جاء رمضان فتحت أبواب الجنة، وأغلقت أبواب النار، وصفدت الشياطين. وفي لفظ : (وسلسلت الشياطين) رواه مسلم
যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করেদেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে-শয়তানের শিকল পড়ানো হয়।(মুসলিম)
তাই শয়তান রমজানের পূর্বে যেসকল স্থানে অবাধে বিচরণ করত রমজান মাস আসার ফলে সে সকল স্থানে যেতে পারে না। শয়তানের তৎপরতা দুর্বল হয়ে যায়। ফলে দেখা যায় ব্যাপকভাবে মানুষ তওবা, ধর্মপরায়ণতা, ও সৎকর্মের দিকে অগ্রসর হয় ও পাপাচার থেকে দূরে থাকে। তারপরও কিছু মানুষ অসৎ ও অন্যায় কাজ-কর্মে তৎপর থাকে। কারণ, শয়তানের কু-প্রভাবে তারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়ে পড়েছে।
চার. রমজান মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তাআলা বলেন :—
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿3﴾ تَنَزَّلُالْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ﴿4﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿5﴾ (القدر: 3-5)
লাইলাতুল কদর সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে।শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। [সূরা আল-কদর : ৩-৫]
পাঁচ. রমজান মাস দোয়া কবুলেরমাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :—
لكل مسلم دعوة مستجابة، يدعو بـها في رمضان. رواه أحمد
রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়। (মুসনাদ আহমদ)
অন্য হাদিসে এসেছে -
إن لله تبارك وتعالى عتقاء في كل يوم وليلة، (يعني في رمضان) وإن لكل مسلم في كل يوم وليلة دعوة مستجابة. صحيح الترغيب والترهيب.
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং প্রতি রাত ও দিবসে মুসলিমের দোয়া-প্রার্থনা কবুল করা হয়। (সহি আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
তাই প্রত্যেক মুসলমান এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের কল্যাণের জন্য যেমন দোয়া-প্রার্থনা করবে, তেমনি সকল মুসলিমের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জ্ঞাপন করবে। ছয়. রমজান পাপ থেকে ক্ষমা লাভের মাস। যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপসমূহ ক্ষমাকরানো থেকে বঞ্চিত হলো আল্লাহর রাসূল তাকে ধিক্কার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন :—
.. رغم أنف رجل، دخل عليهرمضان، ثم انسلخ قبل أن يغفر له. .رواه الترمذي
ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করা হয়নি। (তিরমিজি)
সত্যিই সে প্রকৃত পক্ষে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত যে এ মাসেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিতরয়ে গেল।
সাত. রমজান জাহান্নাম থেকে মুক্তির লাভের মাস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:—
إذا كان أول ليلة من رمضان صفدت الشياطين ومردة الجن، وغلقت أبواب النار، فلم يفتح منها باب، وفتحت أبواب الجنة فلم يغلق منها باب، وينادي مناد كل ليلة: يا باغي الخير أقبل! وياباغي الشر أقصر! ولله عتقاء من النار، وذلك في كل ليلة. رواه الترمذي
রমজান মাসের প্রথম রজনির যখন আগমন ঘটে তখন শয়তান ও অসৎ জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, এ মাসে আর তা খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এ মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা দিতে থাকে যে, হে সৎকর্মের অনুসন্ধানকারী তুমি অগ্রসর হও ! হে অসৎ কাজের অনুসন্ধানকারী তুমি থেমে যাও ! এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। (তিরমিজি)
আট. রমজান মাসে সৎকর্মের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি করেদেয়া হয়। যেমন হাদিসে এসেছেযে, রমজান মাসে ওমরাহ করলে একটি হজের সওয়াব পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, বরং, রমজান মাসে ওমরাহ করা আল্লাহররাসূলের সাথে হজ আদায়ের মর্যাদা রাখে। এমনিভাবে সকল ইবাদত-বন্দেগিসহ সকল সৎকাজের প্রতিদান কয়েক গুণ বেশি দেয়া হয়।নয়. রমজান ধৈর্য ও সবরের মাস।এ মাসে ঈমানদার ব্যক্তিগণ খাওয়া-দাওয়া, বিবাহ-শাদি ও অন্যান্য সকল আচার-আচরণে যে ধৈর্য ও সবরের এত অধিক অনুশীলন করেন তা অন্য কোন মাসে বা অন্য কোন পর্বে করেন না। এমনিভাবে সিয়াম পালন করেযে ধৈর্যের প্রমাণ দেয়া হয় তা অন্য কোন ইবাদতে পাওয়া যায় না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন :—
إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِحِسَابٍ. الزمر: 10
ধৈর্যশীলদের তো বিনা হিসাবে পুরস্কার দেয়া হবে। [সূরা যুমার : ১০]

এবিষয়ে আরো একটি পোস্ট

Blog Eiditor_Syed Rubelআরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

যেভাবে স্বাগত জানাব মাহে রমজানকে →পাতা ১←

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
লেখক : আব্দুররহমান বিন আব্দুলআযীয আস সুদ াইস
অনুবাদক : আবু শুআইব মুহাম্মাদসিদ্দীক
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদেরকে নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন সৎকাজ করার বিভিন্ন মৌসুম। যিনি রমজানকে করেছেন মহিমান্বিত, বরকতময়। যিনি উৎসাহ দিয়েছেন মাহে রমজানে ইবাদত -বন্দেগী যথার্থরূপে পালন করতে। পুণ্যময় কাজসমূহে অধিকমাত্রায় রত হতে। আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তার অফুরান নেয়ামতের জন্য। শুকরিয়া করছি তাঁর অঢেল করুণার জন্য। দরুদ ও সালাম তাঁর প্রতি যিনি নাম াজ ও রোজা আদায়কারীদের মধ্যে ছিলেন সর্বোত্তম। যিনি তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল সম্পাদনকারীদের মধ্যে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তার প্রতি রহমত ও বরকত নাযিল করুন। তাঁর সাহাবাদের প্রতিও রহমত বর্ষণ করুন। তাবেয়ীন ও ঐকান্তিকতার সাথে, পৃথিবীতে আলো অন্ধকার যতদিন থাকবে, ততদিন যারাই তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার প্রতি বর্ষিত হোক আল্লাহর অফুরান রহতম ।
আল্লাহ তাআলা বড়-বড় উপলক্ষ্যরেখেছেন যা হৃদয়ে ইমানকে শানিত করে, অন্তরাত্মায় আন্দোলিত করে উচ্ছ্বসিত অনুভূতি। অতঃপর বাড়িয়ে দেয় ইবাদত আরাধনার অনুঘটনা, সঙ্কুচিত করে দেয় সমাজে পাপ ও অন্যায়ের ক্ষেত্রসমূহ । রমজানমুসলমানদেরকে দেয় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, স্বচ্ছতা, সহমর্মিতা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা,পবিত্রতা, উত্তমতা, সবর ও শৌর্যবীর্যের দীক্ষা। ইহা একটিসুমিষ্ট পানিয়ের প্রস্রবণ। ইহা ইবাদতকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ভূমি, আনুগত্যকারীদের জন্য দুর্পার দুর্গ। যারা পাপীতাদের জন্য ইহা একটি সুযোগ, যাতে তারা তাদের গুনাহ থেকে তাওবা করতে পারে। তাদের জীবন- ইতিহাস ে স্বচ্ছ কিছু অধ্যায় রচিত করতে পারে। তাদের জীবনকে ভরে দিতে পারে উত্তম আমল ে, উৎকৃষ্ট চরিত্রে।
রমজানের ফজিলত কালের বিবেচনায় এসব উপলক্ষ্যের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট, সম্মানের বিবেচনায় সর্বশ্রেষ্ঠ, প্রভাবের বিবেচনায় সুদূর বিস্তৃত উপলক্ষ্য হল সম্মানিত মাহে রমজান যার টলটলে রস আস্বাদন করে আমরা হই পরিতৃপ্ত। চুমুকে চুমুকে তুলে নিই তার মধু। নাক ভরে শুঁকে নেই তার সুগন্ধি। মাহে রমজান ছাওয়াব-পুণ্য বহুগুণে বেড়ে যাওয়ার মাস। দরজা বুলন্দ হওয়ার মাস।পাপ-গুনাহ মোচন হওয়ার মাস। পদস্খলন থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মাস। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। দোযখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে আবদ্ধ করে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে রোজা রাখবে, তারাবিহ পড়বে ইমান ও ছাওয়াব লাভের আশায়, তার অতীতজীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। সহিহ হাদিসে এভাবেই এসেছে:
আবু হুরায়রা (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ইমান ও ইহতেসাব – আল্লাহর কাছ থেকে ছাওয়াব প্রাপ্তির আশায় সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।[ বুখারি ও মুসলিম] { যে ব্যক্তি ইমান ও ইহতেসাবসহ রমজানের রাত্রি যাপন করবে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। [ বুখারি ও মুসলিম]
মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ: রমজান মুসলমানদের জন্য বিশাল এক আনন্দের মাস। মহাকালের পরিক্রমায় ঘুরে ঘুরে আসে রমজান। আসে এই সম্মানিত মৌসুম। আসে এই মহান মাস। আসে প্রিয় মেহমান হয়ে, সম্মানিত অতিথি হয়ে। এই উম্মতের জন্য মাহে রমজান আল্লাহর এক নেয়ামত। কেননা এ মাসের রয়েছে বহু গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য। আবু হুরাইরা (রাযি) হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে:
যখন রমজান আসে বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। দোযখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শিকল পড়িয়ে দেয়া হয়। [ বুখারি ও মুসলিম]
এটা নিঃসন্দেহে বড় সুযোগ। এটা এক সম্মানিত উপলক্ষ্য যেখানে স্বচ্ছতা পায় অন্তরাত্মা। ধাবিত হয় যার প্রতি হৃদয়। যাতে বেড়ে যায়ভাল কাজ করার উৎসাহ-উদ্যম। উন্মুক্ত হয়ে যায় জান্নাত, নাযিল হয় অফুরান রহমত। বুলন্দ হয় দরজা, মাফ করা হয় গুনাহ।
আরো পড়ুন
Blog Eiditor_Syed Rubelআরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

যেভাবে স্বাগত জানাব মাহে রমজানকে →পাতা ২←

প্রথম পাতার পররমজান তাহাজ্জুদ ও তারাবির মাস। যিকির ও তাসবিহর মাস। রমজান কুরআন তিলাওয়াত ও নামাজের মাস। দান সাদকার মাস।যিকির-আযকার ও দুআর মাস। আহাজারি ও কান্নার মাস।
যে কারণে রমজান আমাদের প্রয়োজন
মুসলিম ভাইয়েরা ! জাতির জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত হওয়া জরুরি যখন আত্মার পরিশুদ্ধি ও তৃপ্তি সম্পন্ন হবে। যখন ইমানের মাইলফলকগুলো নবায়ন করা হবে। যা কিছু নষ্ট হয়েছে তা সংস্কার করা হবে। যেসব রোগব্যাধি বাসা বেঁধেছে তা সারিয়ে তোলা হবে। রমজান সেই আধ্যাত্মিক মুহূর্ত যেখানে মুসলিম উম্মাহ তাদের বিভিন্ন অবস্থা সংস্কার করার সুযোগ পায়, তাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ পায়। তাদের অতীতকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ পায়। এটা আত্মিক ও চারিত্রিক বল ফিরিয়ে আনার একটি মাস। আর এ আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক শক্তি ফিরিয়ে আনা প্রতিটি জাতিরই কর্তব্য। মুসলমানরা এ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে অধীর আগ্রহে। এটা ইমান নবায়নের একটা বিদ্যাপীঠ। চরিত্র মাধুর্যমণ্ডিত করার সময়। আত্মাকে শানিত করার সময়। নাফসকে ইসলাহ করার সময়। প্রবৃত্তিকে কনট্রৌল করার সময়। কুপ্রবৃত্তিকে দমন করারসময়।
রমজানে অর্জন হয় তাকওয়া। রমজানে বাস্তবায়ন হয় আল্লাহর নির্দেশমালা। শাণিত হয় ইচ্ছা। রমজানে একজন মুসলিম প্রশিক্ষণ নেয় আত্মদানের। শাহাতদতবরণের। রমজানে অর্জিত হয় ঐক্য, মহব্বত, ভ্রাতৃত্ব, ও মিলমিলাপ। এ মাসে মুসলমানরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার অনুভূতি অর্জন করে। অনুভব করেক্ষুধার্তের ক্ষুধা। রোজা ত্যাগ, বদান্যতা ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার সময়। এটা সত্যিই চরিত্রের জন্য সহায়ক।রহমতের প্রস্রবণ। যে ব্যক্তি সত্যি সত্যি রোজা রাখল তার রুহ পরিচ্ছন্ন হল। তার হৃদয় নরম হল। তার আত্মা পরিশুদ্ধ হল। তার অনুভূতিসমূহ ঠিকরে পড়ল ও শাণিত হল। তার আরচরণসমূহ বিনম্র হল।
মুসলমানদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মোক্ষম সময় হল রমজান। অতঃপর তাদের উচিত রমজান এলে আত্বসমালোচনায় মনোযোগী হওয়া। রমজানের হেকমতসমূহ খোঁজে নেওয়া তাদেরজন্য কতোই না জরুরি। রমাজানেরদানসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া তাদের জন্য কতোই না প্রয়োজন।রমাজানের উত্তম ফলাফল আহরণ করা কতোই না প্রয়োজন।
আমরা কীভাবে রমজানকে স্বাগত জানাব?
প্রিয় ভাইয়েরা! আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রথমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। সকল পাপ-গুনাহ থেকে তাওবার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। সকল প্রকার জুলুমঅন্যায় থেকে বের হয়ে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। যাদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের কাছে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। ভাল কাজের মাধ্যমে রমজানের দিবস-রজনী যাপনের মানসিকতা নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। এধরনের আবেগ অনুভূতির মাধ্যমেইআশাসমূহ পূর্ণ হয়। ব্যক্তি ওসমাজ তাদের সম্মান ফিরে পায়।এর বিপরীতে রমজান যদি কেবলই একটি অন্ধ অনুকরণের বিষয় হয়। কেবলই কিছু সীমিত প্রভাবের নিষ্প্রাণ আচার পালনের নাম হয় । যদি এমন হয় যে রমজানে, পুণ্যের বদলে, পাপ ও বক্রতা কারও কারও জীবনে বেড়ে যায়, তবে এটা নিশ্চয়ই একটি আত্মিক পরাজয়, এটা নিশ্চয় শয়তানের ক্রীড়া, যার বিরূপ প্রভাব ব্যক্তি ও সমাজের উপর পড়তে বাধ্য।
এই মহান মাসের আগমনে মুসলমানদের জীবনে আসুক সুখ ও সমৃদ্ধি। সারা পৃথিবীর মুসলমানদের জীবনে এ মহান মৌসুমের আগমনে বয়ে যাক আনন্দের ফল্গুধারা। যারা আনুগত্যশীল, এ মাস তাদের নেক কাজ বাড়িয়ে দেওয়ার। যারা পাপী, তাদের জন্য এ মাস পাপ থেকে ফিরে আসার। মুমিন বেহেশতের দরজাসমূহের উন্মুক্তিতে খুশি না হয়ে পারে না? পাপী, দোযখের দরজাসমূহ এ মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুশি হবে বই কি। এ একবিশাল সুযোগ যা থেকে মাহরুম ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেও বঞ্চিত হয় না। সিয়াম ও কিয়ামের মাস রমজানের আগমন মুসলমানদের জন্য বিরাট সুখের সংবাদ। অতঃপর হে আল্লাহর বান্দারা আপনারা সিরিয়াস হোন, ঐকান্তিক হোন, রোজাকে কখনো কঠিন ভাববেন না। রোজার দিবসকে দীর্ঘ মনে করবেন না। রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকেবিরত থাকুন। আত্মিক ও বস্তুকেন্দ্রিক সকল প্রকার রোজাভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরতথাকুন।
রোজার হাকীকত
অনেক এমন রয়েছে যারা রোজার হাকীকত সম্পর্কে বেখবর। তারা রোজাকে কেবলই খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার মধ্যে সীমিত করে দিয়েছে। তাদের রোজা মিথ্যাচারিতায় জবান দরাজ করতে বারণ করে না। চোখের ও কানের লাগাম তারা উন্মুক্ত করে দেয়। তারা গুনাহ ও পাপে নিপতিত হতে সামান্যও উৎকণ্ঠিতহয় না। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: { যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, সে অনুযায়ী কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করল না, তার খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
কবি সত্যই বলেছেন:
রক্ষিত যদি না হয় কর্ণ
দৃষ্টিতে না থাকে বাধা
তবে বুঝে নিও
আমার রোজা কেবলই তৃষ্ণা ও পিপাসা।
যদি বলি আমি আজ রোজা,
মনে করিও আমি আদৌ রোজাদার নই।

রমজান প্রজন্ম গড়ার শিক্ষালয়

আরো পড়ুন

Blog Eiditor_Syed Rubelআরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

যেভাবে স্বাগত জানাব মাহে রমজানকে →পাতা ৩←

২য় পাতার পর
রোজাদার ভাইয়েরা! মাহে রমজানে মুসলিম উম্মাহ ঐকান্তিকতার শিক্ষা নেয়, খেল-তামাশা থেকে বিমুক্ত হয়েসিরিয়াসনেস অবলম্বনের শিক্ষা নেয়, জিহ্বায় লাগাম লাগানো, যা কিছু বললে পাপ হয় সেসব থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষানেয় এই মাহে রমজানে। হৃদয় পরিচ্ছন্ন রাখার, হিংসা, দ্বেষ, রেষারেষি থেকে মুক্তি লাভের শিক্ষা নেয় রমজানের এইপবিত্র মাসে বিশেষ করে উলামা ও দাওয়াতকর্মীগণ। ফলে বিচ্ছিন্ন হৃদয়গুলো অভিন্ন সুতোয় নিজেদেরকে বেঁধে নেওয়ার সুযোগ পায়। বিচ্ছিন্ন মেহনত-প্রচেষ্টা একীভূত হয় গঠনমূলক কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে, কমন শত্রুকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে। এ মাসে আমরা সবাই খুঁটিনাটী ভুল ধরা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে নিতে পারি। কে কোথায় সামান্য হোঁচট খেল তা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ খোঁজে নিতে পারি। কে কোথায় ভুল করল তা ফুঁক দিয়ে ফুলিয়ে প্রচার করার প্রবণতা থেকে মুক্তি পেতে পারি। কার কি উদ্দেশ্য সে বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারি।
রমজান মাসে আমাদের যুবকদের কাছে প্রত্যাশা, তারা তাদের ভূমিকা যথার্থরূপে পালন করবে।তারা তাদের মিশনকে ভালভাবে আয়ত্ত করবে। তারা তাদের রবেরঅধিকার বিষয়ে সচেতন হবে। তারা তাদের সরকার প্রধানদের অধিকার বিষয়ে সচেতন হবে। মাতা-পিতা ও সমাজের অধিকার বিষয়ে সচেতন হবে।
রমজানে মুসলমানদের শাসক ও শাসিতের মাঝে যোগাযোগের একটি উপলক্ষ্য সৃষ্টি হয়। উলামা ওসাধারণ মানুষের মাঝে, ছোট ও বড়র মাঝে সেতুবন্ধনের লক্ষণসমূহ দৃশ্যমান হয়। সবাইএকহাত হয়ে, একশরীর হয়ে কাজ করার সুযোগ আসে, ফেতনা ফাসাদ দূর করার স্বার্থে, নির্যাতনে নিপতিত হওয়ার উপলক্ষ্যসমূহ দূরে ঠেলে দেওয়ার স্বার্থে, নৌকা যাতে ফুটো করা না হয়, বিল্ডিং যাতে ভেঙ্গে না পড়ে, সামাজিক ও চিন্তাগত অস্থিরতা যেন জায়গা করে নিতে না পারে সে উদ্দেশ্যে কাজ করে যাওয়ারস্বার্থে
রমজানে ভাল কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়, হৃদয়ে ঝোঁক সৃষ্টি হয়। এটা দাওয়াতকর্মী ও সংস্কারকদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ। সৎকাজের নির্দেশদাতা ও অসৎ কাজ থেকে বারণকারীদের জন্য বিরাট সুযোগ, যারা অন্যদেরকে দীক্ষিত করে তুলতে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছে তাদের জন্য বিরাট সুযোগ যে তারা তাদের কল্যাণকর্মসমূহ এ মাসে উত্তমরূপে পালন করতে পারবে। কেননা সুযোগ দ্বারপ্রান্তে, মানুষের হৃদয়েও রয়েছে প্রস্তুতি।
অত:পর আল্লাহকে ভয় করুন হে আল্লাহর বান্দারা! রমজানের হাকীকতকে জানুন। রমজানের আদব ও আহকামকে জানুন। রমজানের দিবস রজনীকে সৎ কাজ দিয়ে ভরে দিন। রমজানের রোজাসমূহকে ত্রুটি থেকে বাঁচান। তাওবা নবায়ন করুন। তাওবার শর্তসমূহপূরণ করুন। আশা করা যায় আল্লাহ আপনার পাপসমূহ মার্জনাকরে দেবেন। যাদেরকে তিনি তাঁররহমত ও করুণায় ভূষিত করবেন, দোযখ থেকে মুক্তি দেবেন আপনাকে তাদের মধ্যে শামিল করেনেবেন।
মাহে রমজানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমধিক বদান্য ব্যক্তি ছিলেন। মাহে রমজানে তাঁর দানশীলতার মাত্রাআরো বেড়ে যেত বহুগুণে। ইবনুলকাইয়েম রাহ. বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ছিল পূর্ণাঙ্গতম আদর্শ, উদ্দেশ্য সাধনে সর্বোত্তম আদর্শ। মানুষের পক্ষে পালনযোগ্য সহজতর আদর্শ। আর রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে আদর্শ ছিল: সকল প্রকার ইবাদত বাড়িয়ে দেয়া। এ মাসে জিব্রিল ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কুরআন পঠন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে দান-খয়রাত বাড়িয়ে দিতেন। কুরআন তিলাওয়াত বাড়িয়ে দিতেন। নামাজ ও যিকির বাড়িয়ে দিতেন। এ মাসে তিনি ইতিকাফ করতেন এবং এমন ইবাদতে এ মাসকে বিশেষিত করতেন যা অন্য কোনো মাসে করতেন না। সালাফে সালেহীনগণও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ আদর্শঅনুসরণে সচেষ্ট হয়েছেন। তারাউত্তমরূপে রোজা পালনের ক্ষেত্রে সুন্দরতম আদর্শ স্থাপন করেছেন। তারা রোজার উদ্দেশ্য হাকীকতকে ভালভাবে আয়ত্তে এনেছেন এবং মাহে রমজানের দিবস-রজনীকে আমলে সালেহ দিয়ে ভরে রেখেছেন।
প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা!
আপনারা যেভাবে এ মাসটিকে স্বাগত জানিয়েছেন একইরূপে আপনারা তাকে অচিরেই বিদায় দেবেন। আমরা এ মাসকে স্বাগত জানিয়েছি তবে জানি না পুরো মাস রোজা রাখার ভাগ্য আমাদের সবার হবে কি-না। আমরা তো প্রতিদিন বহু মানুষের জানাযা পড়ছি, যাদের সাথে আমরা অতীতে রোজা রেখেছি তাদের সবাই কি আমাদের মাঝে আছে?!
বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি যে রমজানকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে নেয়। নিজের বক্রতাকে সোজা করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণকরে। মৃত্যু তাকে অতর্কিতে হামলা করার পূর্বেই নিজের নফসকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি বাধ্য করে। আর মৃত্যু যদি চলে আসে তবে সৎকাজ ব্যতীত অন্য কিছু কোনো কাজে আসবার নয়। অতঃপর এ মাসে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হোন। তাওবা করুন, লজ্জিত হোন, পাপ-গুনাহ থেকে ফিরে আসুন। নিজের জন্য, আত্মীয়স্বজনদের জন্য ও গোটা মুসলিম উম্মার জন্য দুআ মুনাজাতে খুবই পরিশ্রমী হোন।
Blog Eiditor_Syed Rubelআরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রমজানের শেষ দশকের ফজিলত ও তাৎপর্য →পাতা ১←

রমজান মাসের শেষ দশকের বিশেষ ফজিলত রয়েছে এবং আছে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য।
এগুলো হল : (১) এ দশ দিনের মাঝে রয়েছে লাইলাতুল কদর নামের একটিরাত। যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। যে এ রাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে।
(২) নবী করিম (সাঃ) এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি সময় ও শ্রম দিতেন, যা অন্য কোন রাতে দেখা যেত না। যেমন মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি এ রাতে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির , সালাত ও দোয়ার মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন।
রমজানের শেষ দশকের ফজিলত ও তাৎপর্য রমজান মাসের শেষ দশকেরবিশেষ ফজিলত রয়েছে এবং আছে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য। এগুলো হল :
(১) এ দশ দিনের মাঝে রয়েছে লাইলাতুল কদর নামের একটি রাত। যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। যে এ রাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়াহবে।
(২) নবী করিম (সাঃ) এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি সময় ও শ্রম দিতেন, যা অন্য কোন রাতে দেখা যেত না। যেমন মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি এ রাতে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, সালাত ওদোয়ার মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন।
(৩) রমজানের শেষ দশক আসলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পরনের লুঙ্গি শক্ত করে নিতেন। রাত্রিজাগরণ করতেন এবং পরিবারের সকলকে জাগিয়ে দিতেন। যেমন বোখারি ও মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসে এসেছে। তিনি এ দশদিনের রাতে মোটেই নিদ্রা যেতেন না। পরিবারের সকলকে তিনিএ রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য জাগিয়ে দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) লুঙ্গি শক্ত করে নিতেন’ কথাটির অর্থ হল তিনিএ দিনগুলোতে স্ত্রীদের থেকে আলাদা হয়ে যেতেন। (৪) এ দশদিনের একটি বৈশিষ্ট্য হল, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এ শেষ দশদিনে মসজিদে এতেকাফ করতেন। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না। লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব আল্লাহ রাব্বুলআলামিন এ রাতকে সকল রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি তার কালামে এ রাতকে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর কালাম সম্পর্কে বলতে যেয়ে এরশাদ করেন :—
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ ﴿৩﴾ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ﴿৪﴾. (الدخان)
‘আমি তো ইহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনিতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রজনিতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ সূরা আদ-দুখান : ৩-৪
বরকতময় রজনি হল লাইলাতুল কদর।আল্লাহ তাআলা একে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণও তাৎপর্য। বরকতের প্রধান কারণ হল এ রাতে আল-কোরআন নাজিলহয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্তলওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল আল্লাহতাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত পঠিত হতে থাকবে।
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿১﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿২﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿৩﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ﴿৪﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿৫﴾ القدر
‘নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনিতে। আর মহিমান্বিত রজনি সম্পর্কে তুমি কী জান? মহিমান্বিত রজনি সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতেই ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনি উষার আবির্ভাব পর্যন্ত।
সূরা আল-কদর এ সুরাতে যে সকল বিষয় জানা গেল তা হল:
(১) এ রাত এমন এক রজনি যাতে মানবজাতির হেদায়াতের আলোকবর্তিকা মহা গ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
(২) এ রজনি হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ তিরাশি বছরেরচেয়েও এর মূল্য বেশি।
(৩) এ রাতে ফেরেশতাগণ রহমত, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে থাকে।(৪) এ রজনি শান্তির রজনি। আল্লাহর বান্দারা এ রাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তি অর্জন করেথাকে।
(৫) সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া।এ আয়াতগুলোতে অল্প সময়ে বেশি কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হল। যত সময় বেশি তত বেশি কাজ করতে হবে। সময় নষ্ট করা চলবে না।
(৬) গুনাহ ও পাপ থেকে ক্ষমা লাভ। এ রাতের এই ফজিলত সম্পর্কে বোখারি ও মুসলিম বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
إن النبي صلى الله عليه وسلم قال : من قام ليلة القدر إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه. رواه البخاري ومسلم
নবী করিম (সাঃ) বলেছেন : যে লাইলাতুল কদরে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে সালাত আদায়ও ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। বর্ণনায় : বোখারিও মুসলিম
লাইলাতুল কদর কখন ?
আল-কোরআনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল কদর কোন রাত। তবে কুরআনের ভাষ্য হল লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। কিয়ামত পর্যন্ত রমজান মাসে লাইলাতুল কদর অব্যাহত থাকবে। এবং এ রজনি রমজানের শেষ দশকে হবে বলে সহি হাদিসে এসেছে। এবং তা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে এসেছে।
تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان. رواه البخاري
‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।’ বর্ণনায়: বোখারি
এবং রমজানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা অধিকতর। যেমন হাদিসে এসেছে
. . . فمن كان متحر بها فليتحرها في السبع الأواخر. متفق عليه
‘যে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চায় সে যেন শেষ সাত দিনে অন্বেষণ করে।’ বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম

আরো পড়ুন

Blog Eiditor_Syed Rubelআরো 1 টি চমৎকার অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।
Read More

রমজানের শেষ দশকের ফজিলত ও তাৎপর্য →পাতা ২←

প্রথম পাতার পর:

অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হল রমজান মাসের সাতাশ তারিখ। দ্বিতীয় হল পঁচিশ তারিখ। তৃতীয় হল ঊন ত্রিশ তারিখ। চতুর্থ হল একুশ তারিখ।পঞ্চম হল তেইশ তারিখ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে। তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফজিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে। লাইলাতুল কদরে আমাদের করণীয় হল বেশি করে দোয়া করা। আয়েশা (রাঃ) নবী করিম (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, লাইলাতুল কদরে আমি কি দোয়া করতে পারি? তিনি বললেন, বলবে—
اَللّهُم إِنَّكَ عَفُوٌّ تٌحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ . رواه الترمذي ‘হে আল¬াহ ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।’ বর্ণনায়: তিরমিজি
এতেকাফ : এতেকাফ হল সকল কাজ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদতের জন্য মসজিদে অবস্থান করা। এটা হল সুন্নত। আয়েশা (রাঃ) বলেন :—
كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في العشر الأواخر من رمضان حتى توفاه اللهعز وجل، ثم اعتكف أزوجه من بعده. رواه البخاري ومسلم
‘রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে এতেকাফ করতেন। যতদিন না আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন ততদিন তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী-গণ এতেকাফ করেছেন।’ বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম
এতেকাফের উদ্দেশ্য: মানুষেরঝামেলা থেকে দূরে থেকে আল্লাহতাআলার ইবাদতে একাগ্রচিত্তে নিয়োজিত হওয়া। এ লক্ষ্যে কোন মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর তরফ থেকে সওয়াব ও লাইলাতুল কদর লাভ করার আশা করা। এতেকাফকারীর কর্তব্য হল অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করে সালাত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির -আজকার, ইস্তিগফার, দোয়া ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত থাকা। তবে পরিবার পরিজনবা অন্য কারো সাথে অতিপ্রয়োজনীয় কথা বলতে দোষ নেই। এতেকাফকারী নিজ অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর সাথে সম্পৃক্তরাখতে চেষ্টা করবে। নিজের অবস্থার দিকে খেয়াল করবে। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালনের ব্যাপারে নিজের অলসতা ও অবহেলা করার কথা মনে করবে। নিজের পাপাচার সত্ত্বেও আল্লাহ যে কত নেয়ামত দিয়েছেন তা স্মরণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হবে। গভীরভাবে আল্লাহরকালাম অধ্যয়ন করবে। খাওয়া-দাওয়া, নিদ্রা ও গল্প গুজব কমিয়ে দেবে। কেননা এ সকল কাজ-কর্ম আল্লাহর স্মরণ থেকে অন্তরকে ফিরিয়ে রাখে। অনেকে এতেকাফকে অত্যধিক খাওয়া-দাওয়া ও সাথিদের সাথে গল্প-গুজব করে সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। এতে এতেকাফের ক্ষতি হয়না বটে তবে আল্লাহর রাসূলের এতেকাফ ছিল অন্য রকম। এতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস, চুম্বন,স্পর্শ নিষেধ। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِد .(البقرة: ১৮৭)
‘তোমরা মসজিদে এতেকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে না।’ সূরা আল-বাকারা : ১৮৭ শরীরের কিছু অংশ যদি মসজিদ থেকে বের করা হয় তাতে দোষ নেই।নবী করিম (সাঃ) এতেকাফ অবস্থায়নিজ মাথা মসজিদ থেকে বের করতেন। তখন আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) তাঁর মাথার চুল বিন্যস্তকরে দিতেন।
এতেকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকেবের হওয়া ও তার বিধান : এতেকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়া তিন ধরনের হতে পারে:—
এক. মানবীয় প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন পায়খানা, প্রস্রাবের জন্য, খাওয়া-দাওয়ার জন্য, পবিত্রতা অর্জনের জন্য। তবে শর্ত হল এ সকল বিষয় যদি মসজিদের গণ্ডির মাঝে সেরে নেয়া যায় তবে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না।
দুই. এমন সকল নেক আমল বা ইবাদত-বন্দেগির জন্য বের হওয়াযাবে না যা তার জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন রোগীর সেবা করা, জানাজাতে অংশ নেয়া ইত্যাদি। তিন. এমন সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না যা এতেকাফের বিরোধী। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, চাষাবাদ ইত্যাদি। এতেকাফ অবস্থায় এ সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে এতেকাফ বাতিল হয়ে যায়।
সমাপ্ত

Blog Eiditor_Syed Rubel
আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

সিয়াম পালন যাদের উপর ফরজ

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার
করতে ভুলবেন না
সংকলন : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর
রহমান
প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ
মস্তিষ্ক সম্পন্ন, মুকিম,
সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য সিয়াম
পালন ফরজ।
যে ব্যক্তি এ সকল শর্তাবলির
অধিকারী তাকে অবশ্যই রমজান
মাসে সিয়াম পালন করতে হবে।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
‘সুতরাং তোমাদের মাঝে যারা এ মাস
পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন
করে।’ [সুরা বাকারা : ১৮৫]
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন :—
‘যখন তোমরা রমজানের চাঁদ
দেখবে তখন সিয়াম পালন
করবে।’ [বর্ণনায় : বোখারি ও
মুসলিম]। এ বিষয়ে সকল মুসলিমের
ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত।
দশ প্রকার মানুষের মাঝে সিয়াম
পালনের এ সকল
শর্তাবলি অনুপস্থিত। তারা হল :
প্রথম: কাফের বা অমুসলিম। কারণ
তারা ইবাদত করার
যোগ্যতা রাখে না। ইবাদত করলেও
ইসলামের অবর্তমানে তা সহি হবে না,
কবুলও হবে না। যদি কোন কাফের
রমজানে ইসলাম গ্রহণ
করে তবে পিছনের সিয়ামের
কাজা আদায় করতে হবে না। কারণ
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
‘যারা কুফরি করে তাদেরকে বল,
‘যদি তারা বিরত হয়
তবে যা অতীতে হয়েছে আল্লাহ্ তা
ক্ষমা করবেন।’ [সূরা আনফাল :
৩৮]
তবে রমজানের দিনে ইসলাম গ্রহণ
করলে ঐ দিনের বাকি অংশটা পানাহার
থেকে বিরত থাকবে।
দ্বিতীয়: অপ্রাপ্ত বয়স্ক। অপ্রাপ্ত
বয়স্ক ব্যক্তি প্রাপ্ত বয়স্ক
না হওয়া পর্যন্ত তার সিয়াম পালন
ফরজ নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন :
—
‘তিন
ব্যক্তি থেকে কলমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
নিদ্রা মগ্ন ব্যক্তি যতক্ষণ
না সে জাগ্রত হয়। কম
বয়সী ব্যক্তি যতক্ষণ না সে প্রাপ্ত
বয়স্ক হয়। পাগল ব্যক্তি যতক্ষণ
না সে সুস্থ হয়।’ [বর্ণনায় : আবু
দাউদ]যদিও অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-
বালিকাদের উপর সিয়াম পালন ফরজ
নয় তবে অভিভাবকরা অভ্যস্ত
করার জন্য তাদের সিয়াম পালন
করতে বলবেন। সাহাবায়ে কেরাম
তাদের বাচ্চাদের সিয়াম
পালনে অভ্যস্ত করেছেন। তাই
আমাদের জন্য মোস্তাহাব হল
আমরাও আমাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক
সন্তানদের সিয়াম পালনে উদ্বুদ্ধ
করব, যদি সিয়াম পালন তাদের কোন
ক্ষতি না করে।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে কখন
বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হয় ?
যদি কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক
বা বালিকাদের
মাঝে তিনটি আলামতের কোন
একটি পরিলক্ষিত হয় তখন তাদের
প্রাপ্তবয়স্ক বলে ধরা হবে।
আলামত তিনটি হল:
(১) স্বপ্নদোষ অথবা অন্য কোন
কারণে বীর্যপাত হলে।
(২) যৌনাঙ্গে কেশ দেখা দিতে শুরু
করলে।
(৩) বয়স পনেরো বছর পূর্ণ হলে।
ছেলেদের মাঝে যখন এ
তিনটি আলামতের কোন
একটি পরিলক্ষিত হবে তখন তাদের
পূর্ণবয়স্ক বলে ধরা হবে। অবশ্য
মেয়েদের জন্য চতুর্থ একটি আলামত
রয়েছে, তা হল মাসিক দেখা দেয়া।
যদি দশ বছর বয়সী কিশোরীদেরও
মাসিক দেখা দেয় তাহলে তাদের
পূর্ণবয়স্ক বলে ধরতে হবে।
এবং শরিয়তের সকল আদেশ-নিষেধ
তার জন্য অবশ্য পালনীয় বলে গণ্য
হবে। কোন কিশোর
বা কিশোরী রমজান মাসের দিনের
বেলা যদি বয়স প্রাপ্ত হয়
তবে তাকে দিনের অবশিষ্ট অংশ
পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ
দিনের সওম তার
কাজা করতে হবে না। পিতা-মাতার
কর্তব্য হল এ বিষয়ে সতর্ক থাকা ও
সন্তানকে সচেতন করা।
সাথে সাথে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর
তার উপর যে সকল ধর্মীয় দায়িত্ব-
কর্তব্য আছে তা পালনে দিক-
নির্দেশনা দেয়া। পাক-
পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম-
নীতিগুলো সে জানে কি না বা মনে রাখতে পেরেছে কিনা তার
প্রতি খেয়াল রাখা।
তৃতীয়: পাগল। পাগল বলতে বুঝায়
যার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। যার
কারণে ভাল-মন্দের মাঝে পার্থক্য
করতে পারে না। এর জন্য সিয়াম
পালন ফরজ নয়। যেমন পূর্বের
হাদিসে উলে¬খ করা হয়েছে। পাগল
যখনই সুস্থ হয়ে যাবে তখনই
সে সিয়াম পালন শুরু করে দেবে।
যদি এমন হয় যে দিনের কিছু অংশ
সে সুস্থ থাকে কিছু অংশ অসুস্থ
তাহলে সুস্থ হওয়া মাত্রই সে পানাহার
থেকে বিরত থাকবে। সিয়াম পূর্ণ
করবে। পাগলামি শুরু হলেই তার সিয়াম
ভঙ্গ হবে না, যদি না সে সিয়াম
ভঙ্গের কোন কাজ করে।
চতুর্থ: অশীতিপর বৃদ্ধ যে ভাল-
মন্দের পার্থক্য করতে পারে না । এ
ব্যক্তি যার বয়সের কারণে ভাল-
মন্দ পার্থক্য করার
অনুভূতি চলে গেছে সে শিশুর মতই।
শিশু যেমন শরিয়তের নির্দেশমুক্ত
তেমনি সেও।
তবে অনুভূতি ফিরে আসলে সে পানাহার
থেকে বিরত থাকবে। যদি তার
অবস্থা এমন হয়
যে কখনো অনুভূতি আসে আবার
কখনো চলে যায়
তবে অনুভূতি থাকাকালীন সময়ে তার
উপর সালাত, সিয়াম ফরজ হবে।
পঞ্চম: যে ব্যক্তি সিয়াম পালনের
সামর্থ্য রাখে না। এমন সামর্থ্যহীন
অক্ষম ব্যক্তি যার সিয়াম পালনের
সামর্থ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
যেমন অত্যধিক বৃদ্ধ অথবা এমন
রোগী যার রোগ মুক্তির
সম্ভাবনা নেই—আল্লাহ্র
কাছে আমরা এ ধরনের রোগ-
ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই। এ ধরনের
লোকদের সিয়াম পালন জরুরি নয়।
কারণ সে এ কাজের সামর্থ্য রাখে না।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
‘আল্লাহ কারো উপর এমন কোন
কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন
না যা তার সাধ্যাতীত।’ [সূরা আল-
বাকারা: ২৮৬]
কিন্তু এমন ব্যক্তির উপর সিয়ামের
ফিদয়া প্রদান ওয়াজিব। সিয়ামের
ফিদয়া হল, প্রতিটি দিনের
পরিবর্তে একজন মিসকিন (অভাবী)
লোককে খাদ্য প্রদান করবে।
কিভাবে মিসকিনকে খাদ্য প্রদান
করবে ?
মিসকিনদের দু ভাবে খাদ্য প্রদান
করা যায় :
(১) খাদ্য তৈরি করে সিয়ামের
সংখ্যা অনুযায়ী সমসংখ্যক
মিসকিনকে আপ্যায়ন করাবে।
(২) মিসকিনদের প্রত্যেককে এক মুদ
পরিমাণ ভাল আটা দেবে। এক মুদ হল
৫১০ গ্রাম। (তবে হানাফি ফিকাহ
অনুযায়ী দুই মুদ বা এক কেজি বিশ
গ্রাম আটা বা সমপরিমাণ
টাকা দেয়া যেতে পারে।)
ষষ্ঠ: মুসাফির। মুসাফিরের জন্য
সিয়াম পালন না করা জায়েজ আছে।
সফরকে যেন সিয়াম পালন না করার
কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :—
‘যে কেউ অসুস্থ
থাকে বা সফরে থাকে অন্য সময় এ
সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ
তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান,
যা কষ্টকর তা চান না।’
[সূরা বাকারা : ১৮৫]
সুতরাং যে ব্যক্তি সফরে থাকে তার
জন্য সিয়াম ভঙ্গের
অনুমতি আছে এবং সফর
শেষে সে সিয়াম আদায় করবে।
এমনিভাবে সে যদি সফরাবস্থায়
সিয়াম পালন করে তবে তা আদায়
হবে। তবে উত্তম কোনটি,
সফরকালীন সময়ে সিয়াম পালন করা,
না সিয়াম ত্যাগ করা? যেটা সহজ
মুসাফির সেটা করবেন।
যদি তিনি দেখেন সফরকালীন
সময়ে তার সিয়াম পালন
বাড়িতে থাকাকালীন সময়ের মতই
মনে হয় তবে সফরে তার সিয়াম পালন
করা উত্তম। আর যদি দেখেন
সফরে সিয়াম পালন করলে অতিরিক্ত
কষ্ট হয় তবে সিয়াম ত্যাগ করা তার
জন্য উত্তম। বরং বেশি কষ্ট
হলে সিয়াম পালন মাকরূহ হবে। যেমন
রাসূলে করিম স.-এর সাথে একদল
সাহাবি সফরে থাকাকালীন
সময়ে সিয়াম পালন করে খুব কষ্ট
সহ্য করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (স.)
তাদের লক্ষ্য করে বললেন :—
‘তারাইতো অবাধ্য !
তারাইতো অবাধ্য !!’ [বর্ণনায় :
মুসলিম]
সফরে কেউ সিয়াম পালন শুরু করল
পরে দেখা গেল সিয়াম অব্যাহত
রাখতে তার কষ্ট হচ্ছে তখন
সে সিয়াম ভঙ্গ করে ফেলবে। এখন
কথা হল এক ব্যক্তি সাড়া জীবনই
সফরে থাকেন এবং সফরাবস্থায়
সিয়াম পালন তার জন্য কষ্টকর
সে কীভাবে সিয়াম পালন করবেন ?
তিনি শীতকালে ছোট
দিনগুলোতে সিয়াম পালন
করতে পারেন।
সপ্তম: যে রোগী সুস্থ হওয়ার
আশা রাখে। যে রোগাক্রান্ত
ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার
সম্ভাবনা আছে তার অবস্থা তিনটির
যে কোন একটি হয়ে থাকে:
এক: এমন রোগী যার পক্ষে সিয়াম
পালন কষ্টসাধ্য নয় এবং সিয়াম তার
কোন ক্ষতি করে না। এমন ব্যক্তির
সিয়াম পালন অপরিহার্য।
দুই: এমন রোগী সিয়াম পালন যার
জন্য কষ্টকর। এমন ব্যক্তির
সিয়াম পালন বিধেয় নয়-মাকরূহ।
সিয়াম পালন করলে আদায়
হয়ে যাবে তবে মাকরূহ হবে।
ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্য
মানুষকে কষ্ট দেয়া নয়
বরং শরিয়তের উদ্দেশ্য হল মানুষের
সমস্যাকে হালকা করা।
তিন: এমন রোগী যে সিয়াম পালন
করলে রোগ বেড়ে যাবে। এ অবস্থায়
তার সিয়াম ত্যাগ করাই হল ওয়াজিব
বা অপরিহার্য।
অষ্টম: যে নারীর মাসিক চলছে।
ঋতুকালীন সময়ে নারীর জন্য সওম
পালন জায়েজ নয় বরং নিষেধ।
যদি সওম পালন করা অবস্থায় মাসিক
দেখা দেয় তাহলে তার সওম
ভেঙে যাবে যদি সূর্যাস্তের এক
মুহূর্ত পূর্বেও দেখা যায় এবং এ
সওমের কাজা আদায় করতে হবে।
মাসিক অবস্থায় রমজানের দিনের
বেলা কোন মহিলার মাসিক বন্ধ
হয়ে গেল তাহলে তাকে ঐ দিনের
বাকি সময়টা খাওয়া-
দাওয়া থেকে বিরত
থাকতে হবে পরে এটাও
কাজা করতে হবে। যদি সুবহে সাদিকের
এক মুহূর্ত পূর্বে মাসিক বন্ধ
হয়ে যায় তাহলে ঐ দিনের সওম পালন
অপরিহার্য। এমন ভাবা ঠিক নয় যে,
গোসল করা হয়নি তাই সওম পালন
থেকে বিরত থাকতে হবে। রোজার
নিয়ত করে নিবে। গোসল
পরে করলে সমস্যা নেই। সিয়াম
আদায়ের ক্ষেত্রে সদ্য
প্রসূতি নারীর বিধান ঋতুবতী নারীর
অনুরূপ। ঋতুবতী ও সদ্য
প্রসূতি নারীরা সুস্থ হয়ে সিয়ামের
কাজা আদায় করবে। তবে তাদের
সালাতের কাজা আদায় করতে হবে না।
আয়েশা রা.-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল
যে, ঋতুবতী নারী সালাতের
কাজা আদায় করবে না, কিন্তু তাদের
সিয়ামের কাজা আদায়
করতে হবে কেন ?
তিনি উত্তরে বললেন, আমাদের এ
অবস্থায় শুধু সিয়ামের কাজা আদায়
করতে রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ
দিয়েছেন, সালাতের কাজা আদায়ের
নির্দেশ দেননি। [বর্ণনায় :
বোখারি ও মুসলিম]
এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক
বিরাট অনুগ্রহ যে তিনি মহিলাদের
হায়েজ ও নিফাস চলাকালীন সময়ের
সালাত মাফ করে দিয়েছেন।
নবম: গর্ভবতী ও দুগ্ধ
দানকারী নারী।
যদি গর্ভবতী বা দুগ্ধ
দানকারী নারী সিয়ামের কারণে তার
নিজের বা সন্তানের ক্ষতির
আশঙ্কা করে তবে সে সিয়াম ভঙ্গ
করতে পারবে। পরে নিরাপদ
সময়ে সে সিয়ামের কাজা আদায়
করে নিবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন :
—
‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসাফিরের
অর্ধেক সালাত কমিয়ে দিয়েছেন
এবং গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকরী নারীর
সিয়াম না রেখে পরে আদায় করার
অবকাশ দিয়েছেন।’ [বর্ণনায় :
তিরমিজি]
দশম: যে অন্যকে বাঁচাতে যেয়ে সিয়াম
ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়। যেমন কোন
বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ;
পানিতে পড়ে যাওয়া মানুষকে অথবা আগুনে নিপতিত
ব্যক্তিকে কিংবা বাড়িঘর ধসে তার
মাঝে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার
করতে যেয়ে সিয়াম ভঙ্গ করল।
এতে অসুবিধা নেই। যদি এমন হয়
যে সিয়াম ভঙ্গ করা ব্যতীত এ সকল
মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব
হচ্ছে না তাহলে সিয়াম ভঙ্গ
করে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত
হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়বে।
কেননা জীবনের
প্রতি হুমকি সৃষ্টি হয়েছে এমন
বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার
করা ফরজ। এমনিভাবে যে ইসলাম ও
মুসলিমদের শত্র“দের
বিরুদ্ধে আল্লাহ্র
পথে জিহাদে নিয়োজিত সে সিয়াম
ভঙ্গ করে শক্তি অর্জন
করতে পারবে। এ দশ প্রকার মানুষ
যাদের জন্য সিয়াম ভঙ্গ করার
অনুমতি দেয়া হল তারা যেন
প্রকাশ্যে পানাহার
না করে সে দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
কারণ এতে অনেক অজানা লোকজন
খারাপ ধারণা পোষণ
করবে যা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য
ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ -ই-
গাফফার
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়া,
রিয়াদ

Blog Eiditor_Syed Rubel

আরো দুটি চমৎকার পোস্ট পড়ুন।পোস্ট এক বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলার বীর মুসলমান পোস্ট দুই অমুসলিমরা ইসলামকে নিয়ে এতো সমলোচনা করে কেনো?এর দাত ভাঙ্গা জবাব দেখুনশেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More