নজরুল রচনাবলী । লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নজরুল রচনাবলী । লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাম্যবাদী * কাজী নজরুল ইসলাম ।
গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-
ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-
ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী?
সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্ফুসিয়াস্? চার্বাক চেলা?
ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও
কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-
ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও,
য্ত সখ-
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ
শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি? -
পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল
কালের জ্ঞান,
সকল শাস্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ
নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল
যুগাবতার,
তোমার হৃষয় বিশ্ব-দেউল সকল
দেবতার।
কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত
পুঁথি -কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত
অন্তরালে!
বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল
রাজমুকুট।
এই হৃদ্য়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা,
বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম্ এ, মদিনা,
কাবা-ভবন,
মস্জিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই
হৃদয়,
এইখানে ব’সে ঈসা মুসা পেল সত্যের
পরিচয়।
এই রণ-ভূমে বাঁশীর কিশোর গাহিলেন
মহা-গীতা,
এই মাঠে হ’ল মেষের রাখাল
নবীরা খোদার মিতা।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা-
মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার
ডাক শুনি’।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন
আহবান,
এইখানে বসি’ গাহিলেন তিনি কোরানের
সাম-গান!
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-
কাবা নাই।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-
ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-
ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী?
সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্ফুসিয়াস্? চার্বাক চেলা?
ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও
কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-
ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও,
য্ত সখ-
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ
শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি? -
পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল
কালের জ্ঞান,
সকল শাস্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ
নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল
যুগাবতার,
তোমার হৃষয় বিশ্ব-দেউল সকল
দেবতার।
কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত
পুঁথি -কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত
অন্তরালে!
বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল
রাজমুকুট।
এই হৃদ্য়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা,
বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম্ এ, মদিনা,
কাবা-ভবন,
মস্জিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই
হৃদয়,
এইখানে ব’সে ঈসা মুসা পেল সত্যের
পরিচয়।
এই রণ-ভূমে বাঁশীর কিশোর গাহিলেন
মহা-গীতা,
এই মাঠে হ’ল মেষের রাখাল
নবীরা খোদার মিতা।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা-
মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার
ডাক শুনি’।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন
আহবান,
এইখানে বসি’ গাহিলেন তিনি কোরানের
সাম-গান!
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-
কাবা নাই।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
সর্বহারা *কাজী নজরুল ইসলাম ।
ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস
সেই চরে তোর ঘর?
শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা,
হাট তুলে দে সর্বহারা,
মেঘ-জননীর অশ্র”ধারা
ঝ’রছে মাথার’ পর,
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
দুলিয়ে তর”-কর।।
কন্যারা তোর বন্যাধারায়
কাঁদছে উতরোল,
ডাক দিয়েছে তাদের আজি
সাগর-মায়ের কোল।
নায়ের মাঝি! নায়ের মাঝি!
পাল তু’লে তুই দে রে আজি
তুরঙ্গ ঐ তুফান-তাজী
তরঙ্গে খায় দোল।
নায়ের মাঝি! আর কেন ভাই?
মায়ার নোঙর তোল্।
ভাঙন-ভরা ভাঙনে তোর
যায় রে বেলা যায়।
মাঝি রে! দেখ্ কুরঙ্গী তোর
কূলের পানে চায়।
যায় চ’লে ঐ সাথের সাথী
ঘনায় গহন শাঙন-রাতি
মাদুর-ভরা কাঁদন পাতি’
ঘুমুস্ নে আর, হায়!
ঐ কাঁদনের বাঁধন ছেঁড়া
এতই কি রে দায়?
হীরা-মানিক চাসনি ক’ তুই,
চাস্নি ত সাত ক্রোর,
একটি ক্ষুদ্র মৃৎপাত্র-
ভরা অভাব তোর,
চাইলি রে ঘুম শ্রানি–হরা
একটি ছিন্ন মাদুর-ভরা,
একটি প্রদীপ-আলো-করা
একটু-কুটীর-দোর।
আস্ল মৃত্যু আস্ল জরা,
আস্ল সিঁদেল-চোর।
মাঝি রে তোর নাও ভাসিয়ে
মাটির বুকে চল্!
শক্তমাটির ঘায়ে হউক
রক্ত পদতল।
প্রলয়-পথিক চ’ল্বি ফিরি
দ’লবি পাহাড়-কানন-গিরি!
হাঁকছে বাদল, ঘিরি’ ঘিরি’
নাচছে সিন্ধুজল।
চল্ রে জলের যাত্রী এবার
মাটির বুকে চল্ ।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস
সেই চরে তোর ঘর?
শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা,
হাট তুলে দে সর্বহারা,
মেঘ-জননীর অশ্র”ধারা
ঝ’রছে মাথার’ পর,
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
দুলিয়ে তর”-কর।।
কন্যারা তোর বন্যাধারায়
কাঁদছে উতরোল,
ডাক দিয়েছে তাদের আজি
সাগর-মায়ের কোল।
নায়ের মাঝি! নায়ের মাঝি!
পাল তু’লে তুই দে রে আজি
তুরঙ্গ ঐ তুফান-তাজী
তরঙ্গে খায় দোল।
নায়ের মাঝি! আর কেন ভাই?
মায়ার নোঙর তোল্।
ভাঙন-ভরা ভাঙনে তোর
যায় রে বেলা যায়।
মাঝি রে! দেখ্ কুরঙ্গী তোর
কূলের পানে চায়।
যায় চ’লে ঐ সাথের সাথী
ঘনায় গহন শাঙন-রাতি
মাদুর-ভরা কাঁদন পাতি’
ঘুমুস্ নে আর, হায়!
ঐ কাঁদনের বাঁধন ছেঁড়া
এতই কি রে দায়?
হীরা-মানিক চাসনি ক’ তুই,
চাস্নি ত সাত ক্রোর,
একটি ক্ষুদ্র মৃৎপাত্র-
ভরা অভাব তোর,
চাইলি রে ঘুম শ্রানি–হরা
একটি ছিন্ন মাদুর-ভরা,
একটি প্রদীপ-আলো-করা
একটু-কুটীর-দোর।
আস্ল মৃত্যু আস্ল জরা,
আস্ল সিঁদেল-চোর।
মাঝি রে তোর নাও ভাসিয়ে
মাটির বুকে চল্!
শক্তমাটির ঘায়ে হউক
রক্ত পদতল।
প্রলয়-পথিক চ’ল্বি ফিরি
দ’লবি পাহাড়-কানন-গিরি!
হাঁকছে বাদল, ঘিরি’ ঘিরি’
নাচছে সিন্ধুজল।
চল্ রে জলের যাত্রী এবার
মাটির বুকে চল্ ।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
পাপ *** কাজী নজরুল ইসলাম ***
সাম্যের গান গাই!-
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয়
মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’
কে আছে পুরুষ-নারী?
আমরা ত ছার; পাপে পঙ্কিল পাপীদের
কাণ্ডারী!
তেত্রিশ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ
সে টলমল,
দেবতার পাপ-পথ
দিয়া পশে স্বর্গে অসুর দল!
আদম হইতে শুরু ক’রে এই নজরুল তক্
সবে
কম-বেশী ক’রে পাপের ছুরিতে পুণ্য
করেছে জবেহ্ !
বিশ্ব পাপস্থান
অর্ধেক এর ভগবান, আর অর্ধেক
শয়তান্!
থর্মান্ধরা শোনো,
অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের
পাপ গোনো!
পাপের পঙ্কে পুণ্য-পদ্ম,
ফুলে ফুলে হেথা পাপ!
সুন্দর এই ধরা-ভরা শুধু
বঞ্চনা অভিশাপ।
এদের এড়াতে না পারিয়া যত অবতার
আদি কেহ
পুণ্যে দিলেন আত্মা ও প্রাণ,
পাপেরে দিলেন দেহ।
বন্ধু, কহিনি মিছে,
ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব
হ’তে ধ’রে ক্রমে নেমে এস নীচে-
মানুষের কথা ছেড়ে দাও, যত
ধ্যানী মুনি ঋষি যোগী
আত্মা তাঁদের ত্যাগী তপস্বী, দেহ
তাঁহাদের ভোগী!
এ-দুনিয়া পাপশালা,
ধর্ম-গাধার পৃষ্ঠে এখানে শূণ্য-ছালা!
হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্খারা দিয়ে অন্যের
পাপ মাপি!
জবাবদিহির কেন এত ঘটা যদি দেবতাই
হও,
টুপি প’রে টিকি রেখে সদা বল যেন
তুমি পাপী নও।
পাপী নও যদি কেন এ ভড়ং,
ট্রেডমার্কার ধুম?
পুলিশী পোশাক পরিয়া হ’য়েছ পাপের
আসামী গুম।
বন্ধু, একটা মজার গল্প শোনো,
একদা অপাপ ফেরেশতা সব স্বর্গ-
সভায় কোনো
এই আলোচনা করিতে আছিল বিধির
নিয়মে দুষি,’
দিন রাত নাই এত পূজা করি, এত
ক’রে তাঁরে তুষি,
তবু তিনি যেন খুশি নন্-তাঁর যত স্নেহ
দয়া ঝরে
পাপ-আসক্ত কাদা ও মাটির মানুষ
জাতির’ পরে!
শুনিলেন সব অন্তর্যামী,
হাসিয়া সবারে ক’ন,-
মলিন ধুলার সন-ান ওরা বড় দুর্বল
মন,
ফুলে ফুলে সেথা ভুলের বেদনা-নয়নে ,
অধরে শাপ,
চন্দনে সেথা কামনার জ্বালা,
চাঁদে চুম্বন-তাপ!
সেথা কামিনীর নয়নে কাজল,
শ্রেনীতে চন্দ্রহার,
চরণে লাক্ষা, ঠোটে তাম্বুল,
দেখে ম’রে আছে মার!
প্রহরী সেখানে চোখা চোখ নিয়ে সুন্দর
শয়তান,
বুকে বুকে সেথা বাঁকা ফুল-ধনু,
চোখে চোখে ফুল-বাণ।
দেবদুত সব বলে, ‘প্রভু, মোরা দেখিব
কেমন ধরা,
কেমনে সেখানে ফুল ফোটে যার
শিয়রে মৃত্যু-জরা!’
কহিলেন বিভু-‘তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ
যে দুইজন
যাক্ পৃথিবীতে, দেখুক কি ঘোর ধরণীর
প্রলোভন!’
‘হারুত’ ‘মারুত’ ফেরেশতাদের গৌরব
রবি-শশী
ধরার ধুলার অংশী হইল মানবের
গৃহে পশি’।
কায়ায় কায়ায় মায়া বুলে হেথা ছায়ায়
ছায়ায় ফাঁদ,
কমল-দীঘিতে সাতশ’ হয়েছে এই
আকাশের চাঁদ!
শব্দ গন্ধ বর্ণ হেথায় পেতেছে অরূপ-
ফাঁসী,
ঘাটে ঘাটে হেথা ঘট-ভরা হাসি,
মাঠে মাঠে কাঁদে বাঁশী!
দুদিনে আতশী ফেরেশতা প্রাণ- ভিজিল
মাটির রসে,
শফরী-চোখের চটুল চাতুরী বুকে দাগ
কেটে বসে।
ঘাঘরী ঝলকি’ গাগরী ছলকি’
নাগরী ‘জোহরা’ যায়-
স্বর্গের দূত মজিল সে-রূপে, বিকাইল
রাঙা পা’য়!
অধর-আনার-রসে ডুবে গেল দোজখের
নার-ভীতি,
মাটির সোরাহী মস-ানা হ’ল
আঙ্গুরী খুনে তিতি’!
কোথা ভেসে গেল-সংযম-বাঁধ, বারণের
বেড়া টুটে,
প্রাণ ভ’রে পিয়ে মাটির মদিরা ওষ্ঠ-
পুষ্প-পুটে।
বেহেশ্তে সব ফেরেশ্তাদের
বিধাতা কহেন হাসি’-
‘ হার”ত মার”তে কি ক’রেছে দেখ
ধরণী সর্বনাশী!’
নয়না এখানে যাদু জানে সখা এক আঁখি-
ইশারায়
লক্ষ যুগের মহা-তপস্যা কোথায়
উবিয়া যায়।
সুন্দরী বসুমতী
চিরযৌবনা, দেবতা ইহার শিব নয়-কাম
রতি!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয়
মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’
কে আছে পুরুষ-নারী?
আমরা ত ছার; পাপে পঙ্কিল পাপীদের
কাণ্ডারী!
তেত্রিশ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ
সে টলমল,
দেবতার পাপ-পথ
দিয়া পশে স্বর্গে অসুর দল!
আদম হইতে শুরু ক’রে এই নজরুল তক্
সবে
কম-বেশী ক’রে পাপের ছুরিতে পুণ্য
করেছে জবেহ্ !
বিশ্ব পাপস্থান
অর্ধেক এর ভগবান, আর অর্ধেক
শয়তান্!
থর্মান্ধরা শোনো,
অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের
পাপ গোনো!
পাপের পঙ্কে পুণ্য-পদ্ম,
ফুলে ফুলে হেথা পাপ!
সুন্দর এই ধরা-ভরা শুধু
বঞ্চনা অভিশাপ।
এদের এড়াতে না পারিয়া যত অবতার
আদি কেহ
পুণ্যে দিলেন আত্মা ও প্রাণ,
পাপেরে দিলেন দেহ।
বন্ধু, কহিনি মিছে,
ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব
হ’তে ধ’রে ক্রমে নেমে এস নীচে-
মানুষের কথা ছেড়ে দাও, যত
ধ্যানী মুনি ঋষি যোগী
আত্মা তাঁদের ত্যাগী তপস্বী, দেহ
তাঁহাদের ভোগী!
এ-দুনিয়া পাপশালা,
ধর্ম-গাধার পৃষ্ঠে এখানে শূণ্য-ছালা!
হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্খারা দিয়ে অন্যের
পাপ মাপি!
জবাবদিহির কেন এত ঘটা যদি দেবতাই
হও,
টুপি প’রে টিকি রেখে সদা বল যেন
তুমি পাপী নও।
পাপী নও যদি কেন এ ভড়ং,
ট্রেডমার্কার ধুম?
পুলিশী পোশাক পরিয়া হ’য়েছ পাপের
আসামী গুম।
বন্ধু, একটা মজার গল্প শোনো,
একদা অপাপ ফেরেশতা সব স্বর্গ-
সভায় কোনো
এই আলোচনা করিতে আছিল বিধির
নিয়মে দুষি,’
দিন রাত নাই এত পূজা করি, এত
ক’রে তাঁরে তুষি,
তবু তিনি যেন খুশি নন্-তাঁর যত স্নেহ
দয়া ঝরে
পাপ-আসক্ত কাদা ও মাটির মানুষ
জাতির’ পরে!
শুনিলেন সব অন্তর্যামী,
হাসিয়া সবারে ক’ন,-
মলিন ধুলার সন-ান ওরা বড় দুর্বল
মন,
ফুলে ফুলে সেথা ভুলের বেদনা-নয়নে ,
অধরে শাপ,
চন্দনে সেথা কামনার জ্বালা,
চাঁদে চুম্বন-তাপ!
সেথা কামিনীর নয়নে কাজল,
শ্রেনীতে চন্দ্রহার,
চরণে লাক্ষা, ঠোটে তাম্বুল,
দেখে ম’রে আছে মার!
প্রহরী সেখানে চোখা চোখ নিয়ে সুন্দর
শয়তান,
বুকে বুকে সেথা বাঁকা ফুল-ধনু,
চোখে চোখে ফুল-বাণ।
দেবদুত সব বলে, ‘প্রভু, মোরা দেখিব
কেমন ধরা,
কেমনে সেখানে ফুল ফোটে যার
শিয়রে মৃত্যু-জরা!’
কহিলেন বিভু-‘তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ
যে দুইজন
যাক্ পৃথিবীতে, দেখুক কি ঘোর ধরণীর
প্রলোভন!’
‘হারুত’ ‘মারুত’ ফেরেশতাদের গৌরব
রবি-শশী
ধরার ধুলার অংশী হইল মানবের
গৃহে পশি’।
কায়ায় কায়ায় মায়া বুলে হেথা ছায়ায়
ছায়ায় ফাঁদ,
কমল-দীঘিতে সাতশ’ হয়েছে এই
আকাশের চাঁদ!
শব্দ গন্ধ বর্ণ হেথায় পেতেছে অরূপ-
ফাঁসী,
ঘাটে ঘাটে হেথা ঘট-ভরা হাসি,
মাঠে মাঠে কাঁদে বাঁশী!
দুদিনে আতশী ফেরেশতা প্রাণ- ভিজিল
মাটির রসে,
শফরী-চোখের চটুল চাতুরী বুকে দাগ
কেটে বসে।
ঘাঘরী ঝলকি’ গাগরী ছলকি’
নাগরী ‘জোহরা’ যায়-
স্বর্গের দূত মজিল সে-রূপে, বিকাইল
রাঙা পা’য়!
অধর-আনার-রসে ডুবে গেল দোজখের
নার-ভীতি,
মাটির সোরাহী মস-ানা হ’ল
আঙ্গুরী খুনে তিতি’!
কোথা ভেসে গেল-সংযম-বাঁধ, বারণের
বেড়া টুটে,
প্রাণ ভ’রে পিয়ে মাটির মদিরা ওষ্ঠ-
পুষ্প-পুটে।
বেহেশ্তে সব ফেরেশ্তাদের
বিধাতা কহেন হাসি’-
‘ হার”ত মার”তে কি ক’রেছে দেখ
ধরণী সর্বনাশী!’
নয়না এখানে যাদু জানে সখা এক আঁখি-
ইশারায়
লক্ষ যুগের মহা-তপস্যা কোথায়
উবিয়া যায়।
সুন্দরী বসুমতী
চিরযৌবনা, দেবতা ইহার শিব নয়-কাম
রতি!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
পথের দিশা ( কাজী নজরুল ইসলাম । )
চারিদিকে এই গুণ্ডা এবং বদমায়েসির
আখ্ড়া দিয়ে
রে অগ্রদূত, চ’লতে কি তুই
পারবি আপন প্রাণ বাঁচিয়ে?
পারবি যেতে ভেদ ক’রে এই বক্র-পথের
চক্রব্যুহ?
উঠবি কি তুই পাষাণ
ফুঁড়ে বনস্পতি মহীরুহ?
আজকে প্রাণের গো-ভাগাড়ে উড়ছে শুধু
চিল-শকুনি,
এর মাঝে তুই আলোকে-শিশু কোন্
অভিযান ক’রবি, শুনি?
ছুঁড়ছে পাথর, ছিটায় কাদা, কদর্যের এই
হোরি-খেলায়
শুভ্র মুখে মাখিয়ে কালি ভোজপুরীদের
হট্ট-মেলায়
বাঙলা দেশও মাত্ল কি রে?
তপস্যা তার ভুললো অরুণ?
তাড়িখানার চীৎকারে কি নাম্ল ধুলায়
ইন্দ্র বরুণ?
ব্যগ্র-পরান অগ্রপথিক,কোন্
বাণী তোর শুনাতে সাধ?
মন্ত্র কি তোর
শুন্তে দেবে নিন্দাবাদীর ঢক্কা-নিনাদ?
নর-নারী আজ কন্ঠ ছেড়ে কুৎসা-গানের
কোরাস্ ধ’রে
ভাবছে তা’রা সুন্দরেরই
জয়ধ্বনি ক’রছে জোরে?
এর মাঝে কি খবর পেলি নব-বিপ্লব-
ঘোড়সাওয়ারী
আসছে কেহ? টুট্ল তিমির, খুল্ল দুয়ার
পুব-দয়ারী?
ভগবান আজ ভূত হ’ল যে প’ড়ে দশ-
চক্র ফেরে,
যবন এবং কাফের মিলে হায় বেচারায়
ফিরছে তেড়ে!
বাঁচাতে তায় আসছে কি রে নতুন যুগের
মানুষ কেহ?
ধুলায় মলিন, রিক্তাভরণ, সিক্ত আঁখি,
রক্ত দেহ?
মসজিদ আর মন্দির ঐ শয়তানদের
মন্ত্রণাগার,
রে অগ্রদূত, ভাঙতে এবার
আসছে কি জাঠ কালাপাহাড়?
জানিস যদি, খবর শোনা বন্ধ খাঁচার
ঘেরাটোপে,
উড়ছে আজো ধর্ম-ধ্বজা টিকির
গিঁঠে দাড়ির ঝোপে!
নিন্দাবাদের বৃন্দাবনে ভেবেছিলাম গাইব
না গান,
থাকতে নারি দেখে শুনে সুন্দরের এই হীন
অপমান।
ক্রুদ্ধ রোষে রুদ্ধ ব্যথায় ফোঁপায়
প্রাণে ক্ষুদ্ধ বাণী,
মাতালদের ঐ ভাঁটিশালায় নটিনী আজ
বীণাপাণি!
জাতির পারণ-সিন্ধু মথি’ স্বার্থ-
লোভী পিশাচ যারা
সুধার পাত্র লক্ষ্মীলাভের
ক’রতেছে ভাগ-বাঁটোয়ারা,
বিষ যখন আজ উঠল শেষে তখন কারুর
পাইনে দিশা,
বিষের জ্বালায় বিশ্ব পুড়ে,
স্বর্গে তাঁরা মেটান তৃষা!
শ্মাশন-শবের ছাইয়ের গাদায়
আজকে রে তাই বেড়াই খুঁজে,
ভাঙন-দেব আজ ভাঙের নেশায় কোথায়
আছে চক্ষু বুঁজে!
রে অগ্রদূত, তরুণ মনের গহন বনের
রে সন্ধানী,
আনিস্ খবর, কোথায় আমার
যুগান্তরের খড়্পপাণি!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
আখ্ড়া দিয়ে
রে অগ্রদূত, চ’লতে কি তুই
পারবি আপন প্রাণ বাঁচিয়ে?
পারবি যেতে ভেদ ক’রে এই বক্র-পথের
চক্রব্যুহ?
উঠবি কি তুই পাষাণ
ফুঁড়ে বনস্পতি মহীরুহ?
আজকে প্রাণের গো-ভাগাড়ে উড়ছে শুধু
চিল-শকুনি,
এর মাঝে তুই আলোকে-শিশু কোন্
অভিযান ক’রবি, শুনি?
ছুঁড়ছে পাথর, ছিটায় কাদা, কদর্যের এই
হোরি-খেলায়
শুভ্র মুখে মাখিয়ে কালি ভোজপুরীদের
হট্ট-মেলায়
বাঙলা দেশও মাত্ল কি রে?
তপস্যা তার ভুললো অরুণ?
তাড়িখানার চীৎকারে কি নাম্ল ধুলায়
ইন্দ্র বরুণ?
ব্যগ্র-পরান অগ্রপথিক,কোন্
বাণী তোর শুনাতে সাধ?
মন্ত্র কি তোর
শুন্তে দেবে নিন্দাবাদীর ঢক্কা-নিনাদ?
নর-নারী আজ কন্ঠ ছেড়ে কুৎসা-গানের
কোরাস্ ধ’রে
ভাবছে তা’রা সুন্দরেরই
জয়ধ্বনি ক’রছে জোরে?
এর মাঝে কি খবর পেলি নব-বিপ্লব-
ঘোড়সাওয়ারী
আসছে কেহ? টুট্ল তিমির, খুল্ল দুয়ার
পুব-দয়ারী?
ভগবান আজ ভূত হ’ল যে প’ড়ে দশ-
চক্র ফেরে,
যবন এবং কাফের মিলে হায় বেচারায়
ফিরছে তেড়ে!
বাঁচাতে তায় আসছে কি রে নতুন যুগের
মানুষ কেহ?
ধুলায় মলিন, রিক্তাভরণ, সিক্ত আঁখি,
রক্ত দেহ?
মসজিদ আর মন্দির ঐ শয়তানদের
মন্ত্রণাগার,
রে অগ্রদূত, ভাঙতে এবার
আসছে কি জাঠ কালাপাহাড়?
জানিস যদি, খবর শোনা বন্ধ খাঁচার
ঘেরাটোপে,
উড়ছে আজো ধর্ম-ধ্বজা টিকির
গিঁঠে দাড়ির ঝোপে!
নিন্দাবাদের বৃন্দাবনে ভেবেছিলাম গাইব
না গান,
থাকতে নারি দেখে শুনে সুন্দরের এই হীন
অপমান।
ক্রুদ্ধ রোষে রুদ্ধ ব্যথায় ফোঁপায়
প্রাণে ক্ষুদ্ধ বাণী,
মাতালদের ঐ ভাঁটিশালায় নটিনী আজ
বীণাপাণি!
জাতির পারণ-সিন্ধু মথি’ স্বার্থ-
লোভী পিশাচ যারা
সুধার পাত্র লক্ষ্মীলাভের
ক’রতেছে ভাগ-বাঁটোয়ারা,
বিষ যখন আজ উঠল শেষে তখন কারুর
পাইনে দিশা,
বিষের জ্বালায় বিশ্ব পুড়ে,
স্বর্গে তাঁরা মেটান তৃষা!
শ্মাশন-শবের ছাইয়ের গাদায়
আজকে রে তাই বেড়াই খুঁজে,
ভাঙন-দেব আজ ভাঙের নেশায় কোথায়
আছে চক্ষু বুঁজে!
রে অগ্রদূত, তরুণ মনের গহন বনের
রে সন্ধানী,
আনিস্ খবর, কোথায় আমার
যুগান্তরের খড়্পপাণি!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
পিছু-ডাক...কাজী নজরুল ইসলাম ।
সখি! নতুন ঘরে গিয়ে আমায়
প’ড়বে কি আর মনে?
সেথা তোমার নতুন পূজা নতুন
আযোজনে!
প্রথম দেখা তোমায় আমায়
যে গৃহ-ছায় যে আঙিনায়,
যেথায় প্রতি ধূলিকণায়,
লতাপাতার সনে
নিত্য চেনার বিত্ত রাজে চিত্ত-
আরাধনে,
শূন্য সে ঘর শূন্য এখন
কাঁদছে নিরজনে।।
সেথা তুমি যখন ভুল্তে আমায়, আস্ত
অনেক কেহ,
তখন আমার হ’য়ে অভিমানে কাঁদত
যে ঐ গেহ।
যেদিক পানে চাইতে সেথা
বাজ্তে আমার স্মৃতির ব্যথা,
সে গ্লানি আজ ভুলবে হেথা
নতুন আলাপনে।
আমিই শুধু হারিয়ে গেলেম হারিয়ে-
যাওয়ার বনে।।
আমার এত দিনের দূর ছিল
না সত্যিকারের দুর,
ওগো আমার সুদুর ক’রত নিকট ঐ
পুরাতন পুর।
এখন তোমার নতুন বাঁধন
নতুন হাসি, নতুন কাঁদন,
নতুন সাধন, গানের মাতন
নতুন আবাহনে।
আমারই সুর হারিয়ে গেল সুদুর পুরাতন।।
সখি! আমার আশাই দুরাশা আজ,
তোমার বিধির বর,
আজ মোর সমাধির বুকে তোমার
উঠবে বাসর-ঘর!
শূণ্য ভ’রে শুনতে পেনু
ধেনু-চরা বনের বেণু-
হারিয়ে গেনু হারিয়ে গেনু
অন–দিগঙ্গনে।
বিদায় সখি, খেলা-শেষ এই বেলা-শেষের
খনে!
এখন তুমি নতুন মানুষ নতুন গৃহকোণে।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
প’ড়বে কি আর মনে?
সেথা তোমার নতুন পূজা নতুন
আযোজনে!
প্রথম দেখা তোমায় আমায়
যে গৃহ-ছায় যে আঙিনায়,
যেথায় প্রতি ধূলিকণায়,
লতাপাতার সনে
নিত্য চেনার বিত্ত রাজে চিত্ত-
আরাধনে,
শূন্য সে ঘর শূন্য এখন
কাঁদছে নিরজনে।।
সেথা তুমি যখন ভুল্তে আমায়, আস্ত
অনেক কেহ,
তখন আমার হ’য়ে অভিমানে কাঁদত
যে ঐ গেহ।
যেদিক পানে চাইতে সেথা
বাজ্তে আমার স্মৃতির ব্যথা,
সে গ্লানি আজ ভুলবে হেথা
নতুন আলাপনে।
আমিই শুধু হারিয়ে গেলেম হারিয়ে-
যাওয়ার বনে।।
আমার এত দিনের দূর ছিল
না সত্যিকারের দুর,
ওগো আমার সুদুর ক’রত নিকট ঐ
পুরাতন পুর।
এখন তোমার নতুন বাঁধন
নতুন হাসি, নতুন কাঁদন,
নতুন সাধন, গানের মাতন
নতুন আবাহনে।
আমারই সুর হারিয়ে গেল সুদুর পুরাতন।।
সখি! আমার আশাই দুরাশা আজ,
তোমার বিধির বর,
আজ মোর সমাধির বুকে তোমার
উঠবে বাসর-ঘর!
শূণ্য ভ’রে শুনতে পেনু
ধেনু-চরা বনের বেণু-
হারিয়ে গেনু হারিয়ে গেনু
অন–দিগঙ্গনে।
বিদায় সখি, খেলা-শেষ এই বেলা-শেষের
খনে!
এখন তুমি নতুন মানুষ নতুন গৃহকোণে।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
নারী -কাজী নজরুল ইসলাম ।
সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-
রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-
কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক
তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ
বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক
তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’
করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে,
সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর
নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান
মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল,
ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ
সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে যত
ফল,
অন্তরে তার মোমতাজ নারী,
বাহিরেতে শা-জাহান।
জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য
লক্ষ্মী নারী,
সুষমা-লক্ষ্মী নারীই
ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’।
পুরুষ এনেছে যামিনী-শানি-, সমীরণ,
বারিবাহ!
দিবসে দিয়াছে শক্তি সাহস,
নিশীতে হ’য়েছে বধূ,
পুরুষ এসেছে মরুতৃষা ল’য়ে,
নারী যোগায়েছে মধু।
শস্যক্ষেত্র উর্বর হ’ল, পুরুষ চালাল
হল,
নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল
সুশ্যামল।
নর বাহে হল, নারী বহে জল, সেই জল-
মাটি মিশে’
ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল
সোনালী ধানের শীষে।
স্বর্ণ-রৌপ্যভার,
নারীর অঙ্গ-পরশ
লভিয়া হ’য়েছে অলঙ্কার।
নারীর বিরহে, নারীর মিলনে, নর পেল
কবি-প্রাণ,
যত কথা তার হইল কবিতা, শব্দ হইল
গান।
নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুধা, সুধায়
ক্ষুধায় মিলে’
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু
তিলে তিলে!
জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড়
অভিযান,
মাতা ভগ্নী ও বধূদের
ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান্।
কোন্ রণে কত খুন দিল নর
লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই
তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপড়ি’ কত বোন
দিল সেবা,
বীরের স্মৃতি-স্তম্ভের
গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের
তরবারী,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়
লক্ষ্মী নারী।
রাজা করিতেছে রাজ্য-শাসন,
রাজারে শাসিছে রাণী,
রাণীর দরদে ধুইয়া গিয়াছে রাজ্যের যত
গ্লানি।
পুরুষ হৃদয়-হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক
হৃদয় ঋণ।
ধরায় যাঁদের যশ ধরে না’ক অমর
মহামানব,
বরষে বরষে যাঁদের
স্মরণে করি মোরা উৎসব,
খেয়ালের বশে তাঁদের জন্ম
দিয়াছে বিলাসী পিতা,-
লব-কুশে বনে ত্যজিয়াছে রাম, পালন
ক’রেছে সীতা।
নারী সে শিখা’ল শিশু-পুরুষেরে স্নেহ
প্রেম দয়া মায়া,
দীপ্ত নয়নে পরা’ল কাজল বেদনার ঘন
ছায়া।
অদ্ভুতরূপে পুরুষ পুরুষ করিল সে ঋণ
শোধ,
বুকে ক’রে তারে চুমিল যে, তারে করিল
সে অবরোধ!
তিনি নর-অবতার-
পিতার আদেশে জননীরে যিনি কাটেন
হানি’ কুঠার।
পার্শ্ব ফিরিয়া শুয়েছেন আজ
অর্ধনারীশ্বর-
নারী চাপা ছিল এতদিন, আজ
চাপা পড়িয়াছে নর।
সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’,
নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ
আজি,
কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও ,
উঠিছে ডঙ্কা বাজি’।
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর
পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ
মরিবে ভুগে!
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন
এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।
শোনো মর্ত্যের জীব!
অন্যেরে যত করিবে পীড়ন,
নিজে হবে তত ক্লীব!
স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারের
যক্ষপুরীতে নারী
করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন্
সে অত্যাচারী?
আপনারে আজ প্রকাশের তব নাই সেই
ব্যাকুলতা,
আজ তুমি ভীরু
আড়ালে থাকিয়া নেপথ্যে কও কথা!
চোখে চোখে আজ চাহিতে পার না;
হাতে রুলি, পায় মল,
মাথার ঘোম্টা ছিঁড়ে ফেল নারী,
ভেঙে ফেল ও-শিকল!
যে ঘোমটা তোমা’ করিয়াছে ভীরু, ওড়াও
সে আবরণ,
দূর ক’রে দাও দাসীর চিহ্ন, যেথা যত
আভরণ!
ধরার দুলালী মেয়ে,
ফির না তো আর গিরিদরীবনে পাখী-
সনে গান গেয়ে।
কখন আসিল ‘প্নুটো’ যমরাজা নিশীথ-
পাখায় উড়ে,
ধরিয়া তোমায় পুরিল তাহার আঁধার
বিবর-পুরে!
সেই সে আদিম বন্ধন তব, সেই
হ’তে আছ মরি’
মরণের পুরে; নামিল ধরায় সেইদিন
বিভাবরী।
ভেঙে যমপুরী নাগিনীর মতো আয়
মা পাতাল ফুঁড়ি’!
আঁধারে তোমায় পথ
দেখাবে মা তোমারি ভগ্ন চুড়ি!
পুরুষ-যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও
পদাঘাতে
লুটায়ে পড়িবে ও চরণ-তলে দলিত যমের
সাথে!
এতদনি শুধু বিলালে অমৃত, আজ
প্রয়োজন যবে,
যে-হাতে পিয়ালে অমৃত, সে-হাতে কূট
বিষ দিতে হবে।
সেদিন সুদূর নয়-
যেদিন ধরণী পুরুষের
সাথে গাহিবে নারীরও জয়!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
আমার চক্ষে পুরুষ-
রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-
কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক
তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ
বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক
তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’
করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে,
সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর
নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান
মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল,
ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ
সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে যত
ফল,
অন্তরে তার মোমতাজ নারী,
বাহিরেতে শা-জাহান।
জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য
লক্ষ্মী নারী,
সুষমা-লক্ষ্মী নারীই
ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’।
পুরুষ এনেছে যামিনী-শানি-, সমীরণ,
বারিবাহ!
দিবসে দিয়াছে শক্তি সাহস,
নিশীতে হ’য়েছে বধূ,
পুরুষ এসেছে মরুতৃষা ল’য়ে,
নারী যোগায়েছে মধু।
শস্যক্ষেত্র উর্বর হ’ল, পুরুষ চালাল
হল,
নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল
সুশ্যামল।
নর বাহে হল, নারী বহে জল, সেই জল-
মাটি মিশে’
ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল
সোনালী ধানের শীষে।
স্বর্ণ-রৌপ্যভার,
নারীর অঙ্গ-পরশ
লভিয়া হ’য়েছে অলঙ্কার।
নারীর বিরহে, নারীর মিলনে, নর পেল
কবি-প্রাণ,
যত কথা তার হইল কবিতা, শব্দ হইল
গান।
নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুধা, সুধায়
ক্ষুধায় মিলে’
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু
তিলে তিলে!
জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড়
অভিযান,
মাতা ভগ্নী ও বধূদের
ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান্।
কোন্ রণে কত খুন দিল নর
লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই
তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপড়ি’ কত বোন
দিল সেবা,
বীরের স্মৃতি-স্তম্ভের
গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের
তরবারী,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়
লক্ষ্মী নারী।
রাজা করিতেছে রাজ্য-শাসন,
রাজারে শাসিছে রাণী,
রাণীর দরদে ধুইয়া গিয়াছে রাজ্যের যত
গ্লানি।
পুরুষ হৃদয়-হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক
হৃদয় ঋণ।
ধরায় যাঁদের যশ ধরে না’ক অমর
মহামানব,
বরষে বরষে যাঁদের
স্মরণে করি মোরা উৎসব,
খেয়ালের বশে তাঁদের জন্ম
দিয়াছে বিলাসী পিতা,-
লব-কুশে বনে ত্যজিয়াছে রাম, পালন
ক’রেছে সীতা।
নারী সে শিখা’ল শিশু-পুরুষেরে স্নেহ
প্রেম দয়া মায়া,
দীপ্ত নয়নে পরা’ল কাজল বেদনার ঘন
ছায়া।
অদ্ভুতরূপে পুরুষ পুরুষ করিল সে ঋণ
শোধ,
বুকে ক’রে তারে চুমিল যে, তারে করিল
সে অবরোধ!
তিনি নর-অবতার-
পিতার আদেশে জননীরে যিনি কাটেন
হানি’ কুঠার।
পার্শ্ব ফিরিয়া শুয়েছেন আজ
অর্ধনারীশ্বর-
নারী চাপা ছিল এতদিন, আজ
চাপা পড়িয়াছে নর।
সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’,
নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ
আজি,
কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও ,
উঠিছে ডঙ্কা বাজি’।
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর
পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ
মরিবে ভুগে!
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন
এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।
শোনো মর্ত্যের জীব!
অন্যেরে যত করিবে পীড়ন,
নিজে হবে তত ক্লীব!
স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারের
যক্ষপুরীতে নারী
করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন্
সে অত্যাচারী?
আপনারে আজ প্রকাশের তব নাই সেই
ব্যাকুলতা,
আজ তুমি ভীরু
আড়ালে থাকিয়া নেপথ্যে কও কথা!
চোখে চোখে আজ চাহিতে পার না;
হাতে রুলি, পায় মল,
মাথার ঘোম্টা ছিঁড়ে ফেল নারী,
ভেঙে ফেল ও-শিকল!
যে ঘোমটা তোমা’ করিয়াছে ভীরু, ওড়াও
সে আবরণ,
দূর ক’রে দাও দাসীর চিহ্ন, যেথা যত
আভরণ!
ধরার দুলালী মেয়ে,
ফির না তো আর গিরিদরীবনে পাখী-
সনে গান গেয়ে।
কখন আসিল ‘প্নুটো’ যমরাজা নিশীথ-
পাখায় উড়ে,
ধরিয়া তোমায় পুরিল তাহার আঁধার
বিবর-পুরে!
সেই সে আদিম বন্ধন তব, সেই
হ’তে আছ মরি’
মরণের পুরে; নামিল ধরায় সেইদিন
বিভাবরী।
ভেঙে যমপুরী নাগিনীর মতো আয়
মা পাতাল ফুঁড়ি’!
আঁধারে তোমায় পথ
দেখাবে মা তোমারি ভগ্ন চুড়ি!
পুরুষ-যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও
পদাঘাতে
লুটায়ে পড়িবে ও চরণ-তলে দলিত যমের
সাথে!
এতদনি শুধু বিলালে অমৃত, আজ
প্রয়োজন যবে,
যে-হাতে পিয়ালে অমৃত, সে-হাতে কূট
বিষ দিতে হবে।
সেদিন সুদূর নয়-
যেদিন ধরণী পুরুষের
সাথে গাহিবে নারীরও জয়!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
ছাত্রদলের গান : কাজী নজরুল ইসলাম ।
আমরা শক্তি আমরা বল
আমরা ছাত্রদল।
মোদের পায়ের তলায় মুর্সে তুফান
উর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে
যাত্রা নাঙ্গা পায়,
আমরা শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই
বিষম চলার ঘায়!
যুগে-যুুগে রক্তে মোদের
সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদরে কক্ষচ্যুত ধুমকেতু-প্রায়
লক্ষহারা প্রাণ,
আমরা ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদীর
নিত্য বলিদান।
যখন লক্ষ্মীদেবী স্বর্গে ওঠেন,
আমরা পশি নীল অতল,
আমরা ছাত্রদল।।
আমরা ধরি মৃত্যু-রাজার
যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
মোদের মৃত্যু লেখে মোদের
জীবন-ইতিহাস!
হাসির দেশে আমরা আনি
সর্বনাশী চোখের জল।
আমরা ছাত্রদল।।
সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়,
আমরা করি ভুল।
সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব,
আমরা ভাঙি কূল।
দার”ণ-রাতে আমরা তর”ণ
রক্তে করি পথ পিছল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল
বক্ষে ভরা বাক্,
কন্ঠে মোদের কুন্ঠ বিহীন
নিত্য কালের ডাক।
আমরা তাজা খুনে লাল ক’রেছি
সরস্বতীর শ্বেত কমল।
আমরা ছাত্রদল।।
ঐ দারুণ উপপ্লাবের দিনে
আমরা দানি শির,
মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে
বিংশ শতাব্দীর!
মোরা গৌরবেরি কান্না দিয়ে
ভ’রেছি মা’র শ্যাম আঁচল।
আমরা ছাত্রদল।।
আমরা রচি ভালোবাসার
আশার ভবিষ্যৎ
মোদের স্বর্গ-পথের আভাস দেখায়
আকাশ-ছায়াপথ!
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
আমরা ছাত্রদল।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
আমরা ছাত্রদল।
মোদের পায়ের তলায় মুর্সে তুফান
উর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে
যাত্রা নাঙ্গা পায়,
আমরা শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই
বিষম চলার ঘায়!
যুগে-যুুগে রক্তে মোদের
সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদরে কক্ষচ্যুত ধুমকেতু-প্রায়
লক্ষহারা প্রাণ,
আমরা ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদীর
নিত্য বলিদান।
যখন লক্ষ্মীদেবী স্বর্গে ওঠেন,
আমরা পশি নীল অতল,
আমরা ছাত্রদল।।
আমরা ধরি মৃত্যু-রাজার
যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
মোদের মৃত্যু লেখে মোদের
জীবন-ইতিহাস!
হাসির দেশে আমরা আনি
সর্বনাশী চোখের জল।
আমরা ছাত্রদল।।
সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়,
আমরা করি ভুল।
সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব,
আমরা ভাঙি কূল।
দার”ণ-রাতে আমরা তর”ণ
রক্তে করি পথ পিছল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল
বক্ষে ভরা বাক্,
কন্ঠে মোদের কুন্ঠ বিহীন
নিত্য কালের ডাক।
আমরা তাজা খুনে লাল ক’রেছি
সরস্বতীর শ্বেত কমল।
আমরা ছাত্রদল।।
ঐ দারুণ উপপ্লাবের দিনে
আমরা দানি শির,
মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে
বিংশ শতাব্দীর!
মোরা গৌরবেরি কান্না দিয়ে
ভ’রেছি মা’র শ্যাম আঁচল।
আমরা ছাত্রদল।।
আমরা রচি ভালোবাসার
আশার ভবিষ্যৎ
মোদের স্বর্গ-পথের আভাস দেখায়
আকাশ-ছায়াপথ!
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
আমরা ছাত্রদল।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
কাণ্ডারী হুশিয়ার! কাজী নজরুল ইসলাম ।
১
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর
পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা
হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল,
ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল,
আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান,
হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি,
নিতে হবে তরী পার!!
২
তিমির রাত্রি,
মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত
ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত
অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে,
দিতে হবে অধিকার!!
৩
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া,
জানেনা সন্তরণ,
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার
মাতৃমুক্তিপণ!
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই
জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান
মোর মা’র!
৪
গিরি-সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গুরু
গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ
জাগে আজ
কান্ডারী! তুমি ভূলিবে কি পথ?
ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
‘করে হানাহানি, তবু চল টানি’, নিয়াছ
যে মহাভার!
৫
কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর
প্রান্তর,
বাঙ্গালীর খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের
খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের
দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া
পুনর্বার।
৬
ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল জীবনের
জয়গান,
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা,
দিবে কোন বলিদান?
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের
করিবে ত্রান?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল,
কান্ডারী হুঁশিয়ার!
—————–
কৃষ্ণনগর; ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৩
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর
পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা
হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল,
ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল,
আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান,
হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি,
নিতে হবে তরী পার!!
২
তিমির রাত্রি,
মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত
ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত
অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে,
দিতে হবে অধিকার!!
৩
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া,
জানেনা সন্তরণ,
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার
মাতৃমুক্তিপণ!
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই
জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান
মোর মা’র!
৪
গিরি-সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গুরু
গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ
জাগে আজ
কান্ডারী! তুমি ভূলিবে কি পথ?
ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
‘করে হানাহানি, তবু চল টানি’, নিয়াছ
যে মহাভার!
৫
কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর
প্রান্তর,
বাঙ্গালীর খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের
খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের
দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া
পুনর্বার।
৬
ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল জীবনের
জয়গান,
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা,
দিবে কোন বলিদান?
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের
করিবে ত্রান?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল,
কান্ডারী হুঁশিয়ার!
—————–
কৃষ্ণনগর; ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৩
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
কাণ্ডারী হুশিয়ার! কাজী নজরুল ইসলাম ।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
কবি-রাণী কাজী নজরুল ইসলাম ।
তুমি আমায় ভালোবাসো তাই
তো আমি কবি।
আমার এ রূপ-সে যে তোমায়
ভালোবাসার ছবি।।
আপন জেনে হাত বাড়ালো-
আকাশ বাতাস প্রভাত-আলো,
বিদায়-বেলার সন্ধ্যা-তারা
পুবের অরুণ রবি,-
তুমি ভালোবাস ব’লে ভালোবাসে সবি?
আমার আমি লুকিয়েছিল তোমার
ভালোবাসায়,
তুমিই আমার মাঝে আসি’
অসিতে মোর বাজাও বাঁশি,
আমার পূজার যা আয়োজন
তোমার প্রাণের হবি।
আমার বাণী জয়মাল্য, রাণি! তোমার
সবি।।
তুমি আমায় ভালোবাস তাই
তো আমি কবি।
আমার এ রূপ-সে যে তোমার
ভালোবাসার ছবি।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
তো আমি কবি।
আমার এ রূপ-সে যে তোমায়
ভালোবাসার ছবি।।
আপন জেনে হাত বাড়ালো-
আকাশ বাতাস প্রভাত-আলো,
বিদায়-বেলার সন্ধ্যা-তারা
পুবের অরুণ রবি,-
তুমি ভালোবাস ব’লে ভালোবাসে সবি?
আমার আমি লুকিয়েছিল তোমার
ভালোবাসায়,
তুমিই আমার মাঝে আসি’
অসিতে মোর বাজাও বাঁশি,
আমার পূজার যা আয়োজন
তোমার প্রাণের হবি।
আমার বাণী জয়মাল্য, রাণি! তোমার
সবি।।
তুমি আমায় ভালোবাস তাই
তো আমি কবি।
আমার এ রূপ-সে যে তোমার
ভালোবাসার ছবি।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে কাজী নজরুল ইসলাম ।
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে–
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর
টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে -
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার –
ভাঙা কল্লোলে।
আসল হাসি, আসল কাঁদন
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত
দুখের সুখ আসে।
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে -
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ
সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,
ফুললো সাগর দুললো আকাশ
ছুটলো বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির
শূল আসে!
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,
আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ
বাগের ফুল হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,
মদন মারে খুন-মাখা তূণ
পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল
ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে
গো দিগ বালিকার পীতবাসে;
আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের
অঙ্গনে মোর চারপাশে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ কপট কোপের তূণ ধরি,
ঐ আসল যত সুন্দরী,
কারুর পায়ে বুক ডলা খুন, কেউ
বা আগুন,
কেউ মানিনী চোখের জলে বুক ভাসে!
তাদের প্রাণের ‘বুক-ফাটে-তাও-মুখ-
ফোটে-না’ বাণীর বীণা মোর পাশে
ঐ তাদের কথা শোনাই তাদের
আমার চোখে জল আসে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ আসল ঊষা, সন্ধ্যা, দুপুর,
আসল নিকট, আসল সুদূর
আসল বাধা-বন্ধ-হারা ছন্দ-মাতন
পাগলা-গাজন-উচ্ছ্বাসে!
ঐ আসল আশিন শিউলি শিথিল
হাসল শিশির দুবঘাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ জাগল সাগর, হাসল মরু
কাঁপল ভূধর, কানন তরু
বিশ্ব-ডুবান আসল তুফান,
উছলে উজান
ভৈরবীদের গান ভাসে,
মোর ডাইনে শিশু সদ্যোজাত জরায়-
মরা বামপাশে।
মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন
পাগলা সে।
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর
টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে -
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার –
ভাঙা কল্লোলে।
আসল হাসি, আসল কাঁদন
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত
দুখের সুখ আসে।
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে -
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ
সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,
ফুললো সাগর দুললো আকাশ
ছুটলো বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির
শূল আসে!
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,
আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ
বাগের ফুল হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,
মদন মারে খুন-মাখা তূণ
পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল
ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে
গো দিগ বালিকার পীতবাসে;
আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের
অঙ্গনে মোর চারপাশে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ কপট কোপের তূণ ধরি,
ঐ আসল যত সুন্দরী,
কারুর পায়ে বুক ডলা খুন, কেউ
বা আগুন,
কেউ মানিনী চোখের জলে বুক ভাসে!
তাদের প্রাণের ‘বুক-ফাটে-তাও-মুখ-
ফোটে-না’ বাণীর বীণা মোর পাশে
ঐ তাদের কথা শোনাই তাদের
আমার চোখে জল আসে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ আসল ঊষা, সন্ধ্যা, দুপুর,
আসল নিকট, আসল সুদূর
আসল বাধা-বন্ধ-হারা ছন্দ-মাতন
পাগলা-গাজন-উচ্ছ্বাসে!
ঐ আসল আশিন শিউলি শিথিল
হাসল শিশির দুবঘাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ জাগল সাগর, হাসল মরু
কাঁপল ভূধর, কানন তরু
বিশ্ব-ডুবান আসল তুফান,
উছলে উজান
ভৈরবীদের গান ভাসে,
মোর ডাইনে শিশু সদ্যোজাত জরায়-
মরা বামপাশে।
মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন
পাগলা সে।
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
অভিশাপ >< কাজী নজরুল ইসলাম ।

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন
বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর
পুছবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মর” কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি’
যেদিন আমায় খুঁজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ
চমকে,
কাহার যেন চেনা-ছোঁওয়ায় উঠবে ও-
বুকে ছমকে,-
জাগবে হঠাৎ চমকে!
ভাববে বুঝি আমিই এসে
ব’সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে,
ধরতে গিয়ে দেখবে যখন
শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন!
বেদ্নাতে চোখ বুঁজবে-
বুঝবে সেদিন বুজবে।
গাইতে ব’সে কন্ঠ ছিঁড়ে আস্বে যখন
কান্না,
ব’লবে সবাই-“ সেই য পথিক তার
শেখানো গান না?’’
আস্বে ভেঙে কান্না!
প’ড়বে মনে আমার সোহাগ,
কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!
প’ড়বে মনে অনেক ফাঁকি
অশ্র”-হারা কঠিন আঁখি
ঘন ঘন মুছবে-
বুঝ্বে সেদিন বুঝবে!
আবার যেদিন
শিউলি ফুটে ভ’রবে তোমার অঙ্গন,
তুলতে সে ফুল
গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ-
কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন!
শিউলি ঢাকা মোর সমাধি
প’ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি’!
বুকের মালা ক’রবে জ্বালা
চোখের জলে সেদিন বালা
মুখের হাসি ঘুচবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
আসবে আবার আশিন-হাওয়া, শিশির-
ছেঁচা রাত্রি,
থাকবে সবাই – থাকবে না এই মরণ-
পথের যাত্রী!
আসবে শিশির-রাত্রি!
থাকবে পাশে বন্ধু স্বজন,
থাকবে রাতে বাহুর বাঁধন,
বঁধুর বুকের পরশনে
আমার পরশ আনবে মনে-
বিষিয়ে ও-বুক উঠবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
আসবে আবার শীতের রাতি,
আসবে না ক আ সে-
তোমার সুখে প’ড়ত বাধা থাকলে যে-জন
পার্শ্বে,
আসবে না ক’ আর সে!
প’ড়বে মনে, মোর বাহুতে
মাথা থুয়ে যে-দিন শুতে,
মুখ ফিরিয়ে থাকতে ঘৃণায়!
সেই স্মৃতি তো ঐ বিছানায়
কাঁটা হ’য়ে ফুটবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
আবার গাঙে আসবে জোয়ার,
দুলবে তরী রঙ্গে,
সেই তরীতে হয়ত কেহ থাকবে তোমার
সঙ্গে-
দুলবে তরী রঙ্গে,
প’ড়বে মনে সে কোন্ রাতে
এক তরীতে ছিলেম সাথে,
এমনি গাঙ ছিল জোয়ার,
নদীর দু’ধার এমনি আঁধার
তেম্নি তরী ছুটবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
তোমার সখার আসবে যেদিন
এমনি কারা-বন্ধ,
আমার মতন কেঁদে কেঁদে হয়ত
হবে অন্ধ-
সখার কারা-বন্ধ!
বন্ধু তোমার হান্বে হেলা
ভাঙবে তোমার সুখের মেলা;
দীর্ঘ বেলা কাটবে না আর,
বইতে প্রাণের শান- এ ভার
মরণ-সনে বুঝ্বে-
বুঝবে সেদিন বুঝ্বে!
ফুট্বে আবার দোলন চাঁপা চৈতী-রাতের
চাঁদনী,
আকাশ-ছাওয়া তারায় তারায়
বাজবে আমার কাঁদ্নী-
চৈতী-রাতের চাঁদ্নী।
ঋতুর পরে ফির্বে ঋতু,
সেদিন-হে মোর সোহাগ-ভীতু!
চাইবে কেঁদে নীল নভো গা’য়,
আমার মতন চোখ ভ’রে চায়
যে-তারা তা’য় খুঁজবে-
বুঝ্বে সেদিন বুঝ্বে!
আস্বে ঝড়, নাচবে তুফান, টুটবে সকল
বন্ধন,
কাঁপবে কুটীর সেদিন ত্রাসে,
জাগবে বুকে ক্রন্দন-
টুটবে যবে বন্ধন!
পড়বে মনে, নেই সে সাথে
বাঁধবে বুকে দুঃখ-রাতে-
আপনি গালে যাচবে চুমা,
চাইবে আদর, মাগ্বে ছোঁওয়া,
আপনি যেচে চুমবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে।
আমার বুকের যে কাঁটা-ঘা তোমায়
ব্যথা হান্ত,
সেই আঘাতই যাচবে আবার হয়ত
হ’য়ে শ্রান–
আসবে তখন পান’।
হয়ত তখন আমার কোলে
সোহাগ-লোভে প’ড়বে ঢ’লে,
আপনি সেদিন সেধে কেঁদে
চাপ্বে বুকে বাহু বেঁধে,
চরণ চুমে পূজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
অবেলার ডাক ><কাজী নজরুল ইসলাম ।
অনেক
ক’রে বাসতে ভালো পারিনি মা তখন
যারে,
আজ অবেলায় তারেই মনে পড়ছে কেন
বারে বারে।।
আজ মনে হয় রোজ রাতে সে ঘুম পাড়াত
নয়ন চুমে,
চুমুর পরে চুম দিয়ে ফের হান্তে আঘাত
ভোরের ঘুমে।
ভাব্তুম তখন এ কোন্ বালাই!
কর্ত এ প্রাণ পালাই পালাই।
আজ সে কথা মনে হ’য়ে ভাসি অঝোর
নয়ন-ঝরে।
অভাগিনীর সে গরব আজ ধূলায় লুটায়
ব্যথার ভারে।।
তর”ণ তাহার ভরাট বুকের উপ্চে-
পড়া আদর সোহাগ
হেলায় দু’পায় দ’লেছি মা, আজ কেন হায়
তার অনুরাগ?
এই চরণ সে বক্ষে চেপে
চুমেছে, আর দু’চোখ ছেপে
জল ঝ’রেছে,
তখনো মা কইনি কথা অহঙ্কারে,
এম্নি দার”ণ হতাদরে ক’রেছি মা, বিদায়
তারে।।
দেখেওছিলাম বুক-ভরা তার অনাদরের
আঘাত-কাঁটা,
দ্বার হ’তে সে গেছে দ্বারে খেয়ে সবার
লাথি-ঝাটা।
ভেবেছিলাম আমার কাছে
তার দরদের শানি- আছে,
আমিও গো মা ফিরিয়ে দিলাম
চিন্তে নেরে দেবতারে।
ভিক্ষুবেশে এসেছিল রাজাধিরাজ দাসীর
দ্বারে।।
পথ ভুলে সে এসেছিল সে মোর সাধের
রাজ-ভিখারী,
মাগো আমি ভিখারিনী, আমি কি তাঁয়
চিন্তে পারি?
তাই মাগো তাঁর পূজার ডালা
নিইনি, নিইনি মণির মালা,
দেব্তা আমার নিজে আমায় পূজল
ষোড়শ-উপচারে।
পূজারীকে চিন্লাম না মা পূজা-ধূমের
অন্ধকারে।।
আমায় চাওয়াই শেষ চাওয়া তার
মাগো আমি তা কি জানি?
ধরায় শুধু রইল ধরা রাজ-অতিথির
বিদায়-বাণী।
ওরে আমার ভালোবাসা!
কোথায় বেঁধেছিলি বাসা
যখন আমার রাজা এসে দাঁড়িয়েছিল এই
দুয়ারে?
নিঃশ্বসিয়া উঠছে ধরা, ‘নেই রে সে নেই,
খুঁজিস কারে!’
সে যে পথের চির-পথিক, তার
কি সহে ঘরের মায়া?
দূর হ’তে মা দূরন-রে ডাকে তাকে পথের
ছায়া।
মাঠের পারে বনের মাঝে
চপল তাহার নূপুর বাজে,
ফুলের সাথে ফুটে বেড়ায়, মেঘের
সাথে যায় পাহাড়ে,
ধরা দিয়েও দেয় না ধরা জানি না সে চায়
কাহারে?
মাগো আমায় শক্তি কোথায় পথ-
পাগলে ধ’রে রাখার?
তার তরে নয় ভালোবাসা সন্ধ্যা-
প্রদীপ ঘরে ডাকার।
তাই মা আমার বুকের কবাট
খুলতে নারল তার করাঘাত,
এ মন তখন কেমন যেন বাসত
ভালো আর কাহারে,
আমিই দূরে ঠেলে দিলাম অভিমানী ঘর-
হারারে।।
সোহাগে সে ধ’রতে যেত নিবিড়
ক’রে বক্ষে চেপে,
হতভাগী পারিয়ে যেতাম ভয়ে এ বুক
উঠ্ত কেঁপে।
রাজ ভিখারীর আঁখির কালো,
দূরে থেকেই লাগ্ত ভালো,
আসলে কাছে ক্ষুধিত তার দীঘল
চাওয়া অশ্র”-ভারে।
ব্যথায় কেমন মুষড়ে যেতাম, সুর
হারাতাম মনে তরে।।
আজ কেন মা তারই মতন আমারো এই
বুকের ক্ষুধা
চায় শুধু সেই হেলায় হারা আদর-সোহাগ
পরশ-সুধা,
আজ মনে হয় তাঁর সে বুকে
এ মুখ চেপে নিবিড় সুখে
গভীর দুখের কাঁদন কেঁদে শেষ ক’রে দিই
এ আমারে!
যায় না কি মা আমার কাঁদন তাঁহার
দেশের কানন-পারে?
আজ বুঝেছি এ-জনমের আমার নিখিল
শানি–আরাম
চুরি ক’রে পালিয়ে গেছে চোরের
রাজা সেই প্রাণারাম।
হে বসনে-র রাজা আমার!
নাও এসে মোর হার-মানা-হারা!
আজ যে আমার বুক ফেটে যায়
আর্তনাদের হাহাকারে,
দেখে যাও আজ সেই পাষাণী কেমন
ক’রে কাঁদতে পারে!
তোমার কথাই সত্য হ’ল পাষাণ ফেটেও
রক্ত বহে,
দাবাললের দার”ণ দাহ তুষার-
গিরি আজকে দহে।
জাগল বুকে ভীষণ জোয়ার,
ভাঙল আগল ভাঙল দুয়ার
মূকের বুকে দেব্তা এলেন মুখর মুখে ভীম
পাথারে।
বুক ফেটেছে মুখ ফুটেছে-
মাগো মানা ক’র্ছ কারে?
স্বর্গ আমার গেছে পুড়ে তারই
চ’লে যাওয়ার সাথে,
এখন আমার একার বাসার দোসরহীন এই
দুঃখ-রাতে।
ঘুম ভাঙাতে আস্বে না সে
ভোর না হ’তেই শিয়র-পাশে,
আস্বে না আর গভীর রাতে চুম-চুরির
অভিসারে,
কাঁদাবে ফিরে তাঁহার সাথী ঝড়ের
রাতি বনের পারে।
আজ পেলে তাঁয় হুম্ড়ি খেয়ে প’ড়তুম
মাগো যুগল পদে,
বুকে ধ’রে পদ-কোকনদ স্নান করাতাম
আঁখির হ্রদে।
ব’সতে দিতাম আধেক আঁচল,
সজল চোখের চোখ-ভরা জল-
ভেজা কাজল মুছতাম তার
চোখে মুখে অধর-ধারে,
আকুল কেশে পা মুছাতাম বেঁধে বাহুর
কারাগারে।
দেখ্তে মাগো তখন তোমার রাক্ষুসী এই
সর্বনাশী,
মুখ থুয়ে তাঁর উদার বুকে ব’লত,‘
আমি ভালোবাসি!’
ব’ল্তে গিয়ে সুখ-শরমে
লাল হ’য়ে গাল উঠত ঘেমে,
বুক হ’তে মুখ আস্ত নেমে লুটিয়ে যখন
কোল-কিনারে,
দেখ্তুম মাগো তখন কেমন মান
ক’রে সে থাক্তে পারে!
এম্নি এখন কতই আমা ভালোবাসার
তৃষ্ণা জাগে
তাঁর ওপর মা অভিমানে, ব্যাথায়, রাগে,
অনুরাগে।
চোখের জলের ঋণী ক’রে,
সে গেছে কোন্ দ্বীপান-রে?
সে বুঝি মা সাত সমুদ্দুর তের নদীর
সুদূরপারে?
ঝড়ের হাওয়া সেও বুঝি মা সে দূর-
দেশে যেতে নারে?
তারে আমি ভালোবাসি সে যদি তা পায়
মা খবর,
চৌচির
হ’য়ে প’ড়বে ফেটে আনন্দে মা তাহার
কবর।
চীৎকারে তার উঠবে কেঁপে
ধরার সাগর অশ্র” ছেপে,
উঠবে ক্ষেপে অগ্নি-গিরি সেই পাগলের
হুহুঙ্কারে,
ভূধর সাগর আকাশ বাতাস
ঘুর্ণি নেচে ঘিরবে তারে।
ছি, মা! তুমি ডুকরে কেন উঠছ
কেঁদে অমন ক’রে?
তার চেয়ে মা তারই কোনো শোনা-
কথা শুনাও মোরে!
শুনতে শুনতে তোমার কোলে
ঘুমিয়ে পড়ি। – ও কে খোলে
দুয়ার ওমা? ঝড় বুঝি মা তারই
মতো ধাক্কা মারে?
ঝোড়ো হওয়া! ঝোড়ো হাওয়া! বন্ধু
তোমার সাগর পারে!
সে কি হেথায় আসতে পারে আমি যেথায়
আছি বেঁচে,
যে দেশে নেই আমার ছায়া এবার সে সেই
দেশে গেছে!
তবু কেন থাকি’ থাকি’,
ইচ্ছা করে তারেই ডাকি!
যে কথা মোর রইল বাকী হায়
যে কথা শুনাই কারে?
মাগো আমার প্রাণের কাঁদন
আছড়ে মরে বুকের দ্বারে!
যাই তবে মা! দেকা হ’লে আমার
কথা ব’লো তারে-
রাজার পূজা-সে কি কভু
ভিখারিনী ঠেলতে পারে?
মাগো আমি জানি জানি,
আসবে আবার অভিমানী
খুঁজতে আমায় গভীর রাতে এই আমাদের
কুটীর-দ্বারে,
ব’লো তখন খুঁজতে তারেই
হারিয়ে গেছি অন্ধকারে!
00share0share
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ক’রে বাসতে ভালো পারিনি মা তখন
যারে,
আজ অবেলায় তারেই মনে পড়ছে কেন
বারে বারে।।
আজ মনে হয় রোজ রাতে সে ঘুম পাড়াত
নয়ন চুমে,
চুমুর পরে চুম দিয়ে ফের হান্তে আঘাত
ভোরের ঘুমে।
ভাব্তুম তখন এ কোন্ বালাই!
কর্ত এ প্রাণ পালাই পালাই।
আজ সে কথা মনে হ’য়ে ভাসি অঝোর
নয়ন-ঝরে।
অভাগিনীর সে গরব আজ ধূলায় লুটায়
ব্যথার ভারে।।
তর”ণ তাহার ভরাট বুকের উপ্চে-
পড়া আদর সোহাগ
হেলায় দু’পায় দ’লেছি মা, আজ কেন হায়
তার অনুরাগ?
এই চরণ সে বক্ষে চেপে
চুমেছে, আর দু’চোখ ছেপে
জল ঝ’রেছে,
তখনো মা কইনি কথা অহঙ্কারে,
এম্নি দার”ণ হতাদরে ক’রেছি মা, বিদায়
তারে।।
দেখেওছিলাম বুক-ভরা তার অনাদরের
আঘাত-কাঁটা,
দ্বার হ’তে সে গেছে দ্বারে খেয়ে সবার
লাথি-ঝাটা।
ভেবেছিলাম আমার কাছে
তার দরদের শানি- আছে,
আমিও গো মা ফিরিয়ে দিলাম
চিন্তে নেরে দেবতারে।
ভিক্ষুবেশে এসেছিল রাজাধিরাজ দাসীর
দ্বারে।।
পথ ভুলে সে এসেছিল সে মোর সাধের
রাজ-ভিখারী,
মাগো আমি ভিখারিনী, আমি কি তাঁয়
চিন্তে পারি?
তাই মাগো তাঁর পূজার ডালা
নিইনি, নিইনি মণির মালা,
দেব্তা আমার নিজে আমায় পূজল
ষোড়শ-উপচারে।
পূজারীকে চিন্লাম না মা পূজা-ধূমের
অন্ধকারে।।
আমায় চাওয়াই শেষ চাওয়া তার
মাগো আমি তা কি জানি?
ধরায় শুধু রইল ধরা রাজ-অতিথির
বিদায়-বাণী।
ওরে আমার ভালোবাসা!
কোথায় বেঁধেছিলি বাসা
যখন আমার রাজা এসে দাঁড়িয়েছিল এই
দুয়ারে?
নিঃশ্বসিয়া উঠছে ধরা, ‘নেই রে সে নেই,
খুঁজিস কারে!’
সে যে পথের চির-পথিক, তার
কি সহে ঘরের মায়া?
দূর হ’তে মা দূরন-রে ডাকে তাকে পথের
ছায়া।
মাঠের পারে বনের মাঝে
চপল তাহার নূপুর বাজে,
ফুলের সাথে ফুটে বেড়ায়, মেঘের
সাথে যায় পাহাড়ে,
ধরা দিয়েও দেয় না ধরা জানি না সে চায়
কাহারে?
মাগো আমায় শক্তি কোথায় পথ-
পাগলে ধ’রে রাখার?
তার তরে নয় ভালোবাসা সন্ধ্যা-
প্রদীপ ঘরে ডাকার।
তাই মা আমার বুকের কবাট
খুলতে নারল তার করাঘাত,
এ মন তখন কেমন যেন বাসত
ভালো আর কাহারে,
আমিই দূরে ঠেলে দিলাম অভিমানী ঘর-
হারারে।।
সোহাগে সে ধ’রতে যেত নিবিড়
ক’রে বক্ষে চেপে,
হতভাগী পারিয়ে যেতাম ভয়ে এ বুক
উঠ্ত কেঁপে।
রাজ ভিখারীর আঁখির কালো,
দূরে থেকেই লাগ্ত ভালো,
আসলে কাছে ক্ষুধিত তার দীঘল
চাওয়া অশ্র”-ভারে।
ব্যথায় কেমন মুষড়ে যেতাম, সুর
হারাতাম মনে তরে।।
আজ কেন মা তারই মতন আমারো এই
বুকের ক্ষুধা
চায় শুধু সেই হেলায় হারা আদর-সোহাগ
পরশ-সুধা,
আজ মনে হয় তাঁর সে বুকে
এ মুখ চেপে নিবিড় সুখে
গভীর দুখের কাঁদন কেঁদে শেষ ক’রে দিই
এ আমারে!
যায় না কি মা আমার কাঁদন তাঁহার
দেশের কানন-পারে?
আজ বুঝেছি এ-জনমের আমার নিখিল
শানি–আরাম
চুরি ক’রে পালিয়ে গেছে চোরের
রাজা সেই প্রাণারাম।
হে বসনে-র রাজা আমার!
নাও এসে মোর হার-মানা-হারা!
আজ যে আমার বুক ফেটে যায়
আর্তনাদের হাহাকারে,
দেখে যাও আজ সেই পাষাণী কেমন
ক’রে কাঁদতে পারে!
তোমার কথাই সত্য হ’ল পাষাণ ফেটেও
রক্ত বহে,
দাবাললের দার”ণ দাহ তুষার-
গিরি আজকে দহে।
জাগল বুকে ভীষণ জোয়ার,
ভাঙল আগল ভাঙল দুয়ার
মূকের বুকে দেব্তা এলেন মুখর মুখে ভীম
পাথারে।
বুক ফেটেছে মুখ ফুটেছে-
মাগো মানা ক’র্ছ কারে?
স্বর্গ আমার গেছে পুড়ে তারই
চ’লে যাওয়ার সাথে,
এখন আমার একার বাসার দোসরহীন এই
দুঃখ-রাতে।
ঘুম ভাঙাতে আস্বে না সে
ভোর না হ’তেই শিয়র-পাশে,
আস্বে না আর গভীর রাতে চুম-চুরির
অভিসারে,
কাঁদাবে ফিরে তাঁহার সাথী ঝড়ের
রাতি বনের পারে।
আজ পেলে তাঁয় হুম্ড়ি খেয়ে প’ড়তুম
মাগো যুগল পদে,
বুকে ধ’রে পদ-কোকনদ স্নান করাতাম
আঁখির হ্রদে।
ব’সতে দিতাম আধেক আঁচল,
সজল চোখের চোখ-ভরা জল-
ভেজা কাজল মুছতাম তার
চোখে মুখে অধর-ধারে,
আকুল কেশে পা মুছাতাম বেঁধে বাহুর
কারাগারে।
দেখ্তে মাগো তখন তোমার রাক্ষুসী এই
সর্বনাশী,
মুখ থুয়ে তাঁর উদার বুকে ব’লত,‘
আমি ভালোবাসি!’
ব’ল্তে গিয়ে সুখ-শরমে
লাল হ’য়ে গাল উঠত ঘেমে,
বুক হ’তে মুখ আস্ত নেমে লুটিয়ে যখন
কোল-কিনারে,
দেখ্তুম মাগো তখন কেমন মান
ক’রে সে থাক্তে পারে!
এম্নি এখন কতই আমা ভালোবাসার
তৃষ্ণা জাগে
তাঁর ওপর মা অভিমানে, ব্যাথায়, রাগে,
অনুরাগে।
চোখের জলের ঋণী ক’রে,
সে গেছে কোন্ দ্বীপান-রে?
সে বুঝি মা সাত সমুদ্দুর তের নদীর
সুদূরপারে?
ঝড়ের হাওয়া সেও বুঝি মা সে দূর-
দেশে যেতে নারে?
তারে আমি ভালোবাসি সে যদি তা পায়
মা খবর,
চৌচির
হ’য়ে প’ড়বে ফেটে আনন্দে মা তাহার
কবর।
চীৎকারে তার উঠবে কেঁপে
ধরার সাগর অশ্র” ছেপে,
উঠবে ক্ষেপে অগ্নি-গিরি সেই পাগলের
হুহুঙ্কারে,
ভূধর সাগর আকাশ বাতাস
ঘুর্ণি নেচে ঘিরবে তারে।
ছি, মা! তুমি ডুকরে কেন উঠছ
কেঁদে অমন ক’রে?
তার চেয়ে মা তারই কোনো শোনা-
কথা শুনাও মোরে!
শুনতে শুনতে তোমার কোলে
ঘুমিয়ে পড়ি। – ও কে খোলে
দুয়ার ওমা? ঝড় বুঝি মা তারই
মতো ধাক্কা মারে?
ঝোড়ো হওয়া! ঝোড়ো হাওয়া! বন্ধু
তোমার সাগর পারে!
সে কি হেথায় আসতে পারে আমি যেথায়
আছি বেঁচে,
যে দেশে নেই আমার ছায়া এবার সে সেই
দেশে গেছে!
তবু কেন থাকি’ থাকি’,
ইচ্ছা করে তারেই ডাকি!
যে কথা মোর রইল বাকী হায়
যে কথা শুনাই কারে?
মাগো আমার প্রাণের কাঁদন
আছড়ে মরে বুকের দ্বারে!
যাই তবে মা! দেকা হ’লে আমার
কথা ব’লো তারে-
রাজার পূজা-সে কি কভু
ভিখারিনী ঠেলতে পারে?
মাগো আমি জানি জানি,
আসবে আবার অভিমানী
খুঁজতে আমায় গভীর রাতে এই আমাদের
কুটীর-দ্বারে,
ব’লো তখন খুঁজতে তারেই
হারিয়ে গেছি অন্ধকারে!
00share0share
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
অ-কেজোর গান >< কাজী নজরুল ইসলাম ।
ঐ ঘাসের ফুলে মটরশুটির ক্ষেতে
আমার এ-মন-মৌমাছি ভাই উঠেছে আজ
মেতে।।
এই রোদ-সোহাগী পউষ-প্রাতে
অথির প্রজাপতির সাথে
বেড়াই কুঁড়ির পাতে পাতে
পুষ্পল মৌ খেতে।
আমি আমন ধানের বিদায়-কাঁদন
শুনি মাঠে রেতে।।
আজ কাশ-বনে কে শ্বাস ফেলে যায়
মরা নদীর কূলে,
ও তার হলদে আঁচল চ’লতে জড়ায়
অড়হরের ফুলে!
ঐ বাবলা ফুলের নাকছবি তার,
গা’য় শাড়ি নীল অপরাজিতার,
চ’লেছি সেই অজানিতার
উদাস পরশ পেতে।।
আমায় ডেকেছে সে চোখ-ইশারায়
পথে যেতে যেতে।।
ঐ ঘাসের ফুলে মটরশুটির ক্ষেতে
আমার এ-মন-মৌমাছি ভাই উঠেছে তাই
মেতে।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
আমার এ-মন-মৌমাছি ভাই উঠেছে আজ
মেতে।।
এই রোদ-সোহাগী পউষ-প্রাতে
অথির প্রজাপতির সাথে
বেড়াই কুঁড়ির পাতে পাতে
পুষ্পল মৌ খেতে।
আমি আমন ধানের বিদায়-কাঁদন
শুনি মাঠে রেতে।।
আজ কাশ-বনে কে শ্বাস ফেলে যায়
মরা নদীর কূলে,
ও তার হলদে আঁচল চ’লতে জড়ায়
অড়হরের ফুলে!
ঐ বাবলা ফুলের নাকছবি তার,
গা’য় শাড়ি নীল অপরাজিতার,
চ’লেছি সেই অজানিতার
উদাস পরশ পেতে।।
আমায় ডেকেছে সে চোখ-ইশারায়
পথে যেতে যেতে।।
ঐ ঘাসের ফুলে মটরশুটির ক্ষেতে
আমার এ-মন-মৌমাছি ভাই উঠেছে তাই
মেতে।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
অন্তর-ন্যাশনাল সঙ্গীত ><কাজী নজরুল ইসলাম ।
জাগো–
জাগো অনশন-বন্দী, ওঠ রে যত
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত!
যত অত্যাচারে আজি বজ্র হানি’
হাঁকে নিপীড়িত-জন-মন-মথিত বাণী,
নব জনম লভি’ অভিনব ধরণী
ওরে ওই আগত।।
আদি শৃঙ্খলা সনাতন শাস্ত্র-আচার
মূল সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার!
ভেদি’ দৈত্য-কারা!
আয় সর্বহারা!
কেহ রহিবে না আর পর-পদ-আনত।।
কোরাস্ :
নব ভিত্তি ’পরে
নব নবীন জগৎ হবে উত্থিত রে!
শোন্ অত্যাচারী! শোন্ রে সঞ্চয়ী!
ছিনু সর্বহারা, হব’ সর্বজয়ী।।
ওরে সর্বশেষের এই সংগ্রাম-মাঝ,
নিজ নিজ অধিকার
জুড়ে দাঁড়া সবে আজ!
এই ‘অন্তর-ন্যাশনাল-সংহতি’ রে
হবে নিখিল-মানব-জাতি সমুদ্ধত।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
জাগো অনশন-বন্দী, ওঠ রে যত
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত!
যত অত্যাচারে আজি বজ্র হানি’
হাঁকে নিপীড়িত-জন-মন-মথিত বাণী,
নব জনম লভি’ অভিনব ধরণী
ওরে ওই আগত।।
আদি শৃঙ্খলা সনাতন শাস্ত্র-আচার
মূল সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার!
ভেদি’ দৈত্য-কারা!
আয় সর্বহারা!
কেহ রহিবে না আর পর-পদ-আনত।।
কোরাস্ :
নব ভিত্তি ’পরে
নব নবীন জগৎ হবে উত্থিত রে!
শোন্ অত্যাচারী! শোন্ রে সঞ্চয়ী!
ছিনু সর্বহারা, হব’ সর্বজয়ী।।
ওরে সর্বশেষের এই সংগ্রাম-মাঝ,
নিজ নিজ অধিকার
জুড়ে দাঁড়া সবে আজ!
এই ‘অন্তর-ন্যাশনাল-সংহতি’ রে
হবে নিখিল-মানব-জাতি সমুদ্ধত।।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
বিদ্রোহী / নজরুল রচনাবলী ।
বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর
হিমাদ্রির!
বল বীর -
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময়
আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-
রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর -
আমি চির উন্নত শির!
আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ,
আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম
কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি,
আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান
মাইন!
আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড়
অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত
বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল বীর -
চির-উন্নত মম শির!
আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই,
আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট,
আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন
যা,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর
সাথে পান্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা!
আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন
চির-অধীর!
বল বীর -
আমি চির উন্নত শির!
আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম
হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক
জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত,
আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস,
আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ
ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর
রণ-তূর্য;
আমি কৃষ্ন-কন্ঠ, মন্থন-বিষ
পিয়া ব্যথা-বারিধীর।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-
হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর -
চির - উন্নত মম শির!
আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান
গৈরিক।
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে
কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-
বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল,
ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-
নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-
শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, –
আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু
গ্রাস!
আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ
স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির
দর্পহারী!
আমি প্রভোন্জনের উচ্ছ্বাস,
আমি বারিধির মহা কল্লোল,
আমি উদ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্জ্বল,
আমি উচ্ছ্বল জল-ছল-ছল, চল-
ঊর্মির হিন্দোল-দোল!
আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-
নয়নে বহ্ণি
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম
উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস,
হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির
গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ –
জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফের
আমি অভিমানী চির ক্ষুব্ধ হিয়ার
কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়
চিত চুম্বন-চোর কম্পন আমি থর-থর-
থর প্রথম প্রকাশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি,
ছল-ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র
কাঁকন-চুড়ির কন-কন!
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড়
কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস
পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-
বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা,
আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর,
আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ
কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার
খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!
আমি উথ্থান, আমি পতন,
আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-
বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোররাক আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন
আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!
আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি,
বাড়ব-বহ্ণি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-
কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর
তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস
সন্চারি ভুবনে সহসা সন্চারি’
ভূমিকম্প।
ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’ -
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের
পাখা সাপটি’।
আমি দেব শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব
মায়ের অন্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
ঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি’
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠি’ যবে ছুটি মহাকাশ
ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ
নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল
ব্যাপিয়া!
আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল
ধ্বংস-ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ
হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-
ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী,
আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের
আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়,
আমি অব্যয়।
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম
সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি
স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার
খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!
আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব
শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে
আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব
অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না -
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-
ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান
বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ
হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান
বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব
ভিন্ন!
আমি চির-বিদ্রোহী বীর -
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-
উন্নত শির!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর
হিমাদ্রির!
বল বীর -
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময়
আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-
রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর -
আমি চির উন্নত শির!
আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ,
আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম
কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি,
আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান
মাইন!
আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড়
অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত
বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল বীর -
চির-উন্নত মম শির!
আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই,
আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট,
আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন
যা,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর
সাথে পান্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা!
আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন
চির-অধীর!
বল বীর -
আমি চির উন্নত শির!
আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম
হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক
জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত,
আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস,
আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ
ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর
রণ-তূর্য;
আমি কৃষ্ন-কন্ঠ, মন্থন-বিষ
পিয়া ব্যথা-বারিধীর।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-
হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর -
চির - উন্নত মম শির!
আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান
গৈরিক।
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে
কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-
বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল,
ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-
নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-
শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, –
আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু
গ্রাস!
আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ
স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির
দর্পহারী!
আমি প্রভোন্জনের উচ্ছ্বাস,
আমি বারিধির মহা কল্লোল,
আমি উদ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্জ্বল,
আমি উচ্ছ্বল জল-ছল-ছল, চল-
ঊর্মির হিন্দোল-দোল!
আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-
নয়নে বহ্ণি
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম
উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস,
হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির
গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ –
জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফের
আমি অভিমানী চির ক্ষুব্ধ হিয়ার
কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়
চিত চুম্বন-চোর কম্পন আমি থর-থর-
থর প্রথম প্রকাশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি,
ছল-ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র
কাঁকন-চুড়ির কন-কন!
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড়
কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস
পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-
বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা,
আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর,
আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ
কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার
খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!
আমি উথ্থান, আমি পতন,
আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-
বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোররাক আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন
আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!
আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি,
বাড়ব-বহ্ণি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-
কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর
তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস
সন্চারি ভুবনে সহসা সন্চারি’
ভূমিকম্প।
ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’ -
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের
পাখা সাপটি’।
আমি দেব শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব
মায়ের অন্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
ঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি’
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠি’ যবে ছুটি মহাকাশ
ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ
নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল
ব্যাপিয়া!
আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল
ধ্বংস-ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ
হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-
ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী,
আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের
আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়,
আমি অব্যয়।
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম
সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি
স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার
খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!
আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব
শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে
আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব
অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না -
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-
ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান
বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ
হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান
বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব
ভিন্ন!
আমি চির-বিদ্রোহী বীর -
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-
উন্নত শির!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
দারিদ্র্য |নজরুল রচনাবলী ।
হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,
অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!
শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান
যতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু তুমি
অগ্রে আসি’ কর পান! শূন্য মরুভূমি
হেরি মম কল্পলোক। আমার নয়ন
আমারি সুন্দরে করে অগ্নি বরিষণ!
বেদনা-হলুদ-বৃন্ত কামনা আমার
শেফালির মত শুভ্র সুরভি-বিথার
বিকশি’ উঠিতে চাহে, তুমি হে নির্মম,
দলবৃন্ত ভাঙ শাখা কাঠুরিয়া সম!
আশ্বিনের প্রভাতের মত ছলছল
ক’রে ওঠে সারা হিয়া, শিশির সজল
টলটল ধরণীর মত করুণায়!
তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়
করুণা-নীহার-বিন্দু! ম্লান হ’য়ে উঠি
ধরণীর ছায়াঞ্চলে! স্বপ্ন যায় টুটি’
সুন্দরের, কল্যাণের। তরল গরল
কন্ঠে ঢালি’ তুমি বল, ‘অমৃতে কি ফল?
জ্বালা নাই, নেশা নাই. নাই উন্মাদনা,-
রে দুর্বল, অমরার অমৃত-সাধনা
এ দুঃখের পৃথিবীতে তোর ব্রত নহে,
তুই নাগ, জন্ম তোর বেদনার দহে।
কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!….
গাহি গান, গাঁথি মালা, কন্ঠ
করে জ্বালা,
দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!
….
ভিক্ষা-ঝুলি নিয়া ফের’
দ্বারে দ্বারে ঋষি
ক্ষমাহীন হে দুর্বাসা! যাপিতেছে নিশি
সুখে রব-বধূ যথা-সেখানে কখন,
হে কঠোর-কন্ঠ, গিয়া ডাক-‘মূঢ়, শোন্,
ধরণী বিলাস-কুঞ্জ নহে নহে কারো,
অভাব বিরহ আছে, আছে দুঃখ আরো,
আছে কাঁটা শয্যাতলে বাহুতে প্রিয়ার,
তাই এবে কর্ ভোগ!-পড়ে হাহাকার
নিমেষে সে সুখ-স্বর্গে, নিবে যায় বাতি,
কাটিতে চাহে না যেন আর কাল-রাতি!
চল-পথে অনশন-ক্লিষ্ট ক্ষীণ তনু,
কী দেখি’ বাঁকিয়া ওঠে সহসা ভ্রূ-ধনু,
দু’নয়ন ভরি’ রুদ্র হানো অগ্নি-বাণ,
আসে রাজ্যে মহামারী দুর্ভিক্ষ তুফান,
প্রমোদ-কানন পুড়ে, উড়ে অট্টালিকা,-
তোমার আইনে শুধু মৃত্যু-দন্ড লিখা!
বিনয়ের ব্যভিচার নাহি তব পাশ,
তুমি চান নগ্নতার উলঙ্গ প্রকাশ।
সঙ্কোচ শরম বলি’ জান না ক’ কিছু,
উন্নত করিছ শির যার মাথা নীচু।
মৃত্যু-পথ-যাত্রীদল তোমার ইঙ্গিতে
গলায় পরিছে ফাঁসি হাসিতে হাসিতে!
নিত্য অভাবের কুন্ড জ্বালাইয়া বুকে
সাধিতেছ মৃত্যু-যজ্ঞ পৈশাচিক সুখে!
লক্ষ্মীর কিরীটি ধরি, ফেলিতেছ টানি’
ধূলিতলে। বীণা-তারে করাঘাত হানি’
সারদার, কী সুর বাজাতে চাহ গুণী?
যত সুর আর্তনাদ হ’য়ে ওঠে শুনি!
প্রভাতে উঠিয়া কালি শুনিনু, সানাই
বাজিছে করুণ সুরে! যেন আসে নাই
আজো কা’রা ঘরে ফিরে! কাঁদিয়া কাঁদিয়া
ডাকিছে তাদেরে যেন ঘরে ‘সানাইয়া’!
বধূদের প্রাণ আজ সানা’য়ের সুরে
ভেসে যায় যথা আজ প্রিয়তম দূরে
আসি আসি করিতেছে! সখী বলে, ‘বল্
মুছিলি কেন লা আঁখি, মুছিলি কাজল?….
শুনিতেছি আজো আমি প্রাতে উঠিয়াই
‘ আয় আয়’ কাঁদিতেছে তেমনি সানাই।
ম্লানমুখী শেফালিকা পড়িতেছে ঝরি’
বিধবার হাসি সম-স্নিগ্ধ গন্ধে ভরি’!
নেচে ফেরে প্রজাপতি চঞ্চল পাখায়
দুরন্ত নেশায় আজি, পুষ্প-প্রগল্ভায়
চুম্বনে বিবশ করি’! ভোমোরার পাখা
পরাগে হলুদ আজি, অঙ্গে মধু মাখা।
উছলি’ উঠিছে যেন দিকে দিকে প্রাণ!
আপনার অগোচরে গেয়ে উঠি গান
আগমনী আনন্দের! অকারণে আঁখি
পু’রে আসে অশ্রু-জলে! মিলনের রাখী
কে যেন বাঁধিয়া দেয় ধরণীর সাথে!
পুষ্পঞ্জলি ভরি’ দু’টি মাটি মাখা হাতে
ধরণী এগিয়ে আসে, দেয় উপহার।
ও যেন কনিষ্ঠা মেয়ে দুলালী আমার!-
সহসা চমকি’ উঠি! হায় মোর শিশু
জাগিয়া কাঁদিছ ঘরে, খাওনি ক’ কিছু
কালি হ’তে সারাদিন তাপস নিষ্ঠুর,
কাঁদ’ মোর ঘরে নিত্য তুমি ক্ষুধাতুর!
পারি নাই বাছা মোর, হে প্রিয় আমার,
দুই বিন্দু দুগ্ধ দিতে!-মোর অধিকার
আনন্দের নাহি নাহি! দারিদ্র্য অসহ
পুত্র হ’য়ে জায়া হয়ে কাঁদে অহরহ
আমার দুয়ার ধরি! কে বাজাবে বাঁশি?
কোথা পাব আনন্দিত সুন্দরের হাসি?
কোথা পাব পুষ্পাসব?-ধুতুরা-গেলাস
ভরিয়া করেছি পান নয়ন-নির্যাস!….
আজো শুনি আগমনী গাহিছে সানাই,
ও যেন কাঁদিছে শুধু-নাই কিছু নাই!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,
অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!
শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান
যতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু তুমি
অগ্রে আসি’ কর পান! শূন্য মরুভূমি
হেরি মম কল্পলোক। আমার নয়ন
আমারি সুন্দরে করে অগ্নি বরিষণ!
বেদনা-হলুদ-বৃন্ত কামনা আমার
শেফালির মত শুভ্র সুরভি-বিথার
বিকশি’ উঠিতে চাহে, তুমি হে নির্মম,
দলবৃন্ত ভাঙ শাখা কাঠুরিয়া সম!
আশ্বিনের প্রভাতের মত ছলছল
ক’রে ওঠে সারা হিয়া, শিশির সজল
টলটল ধরণীর মত করুণায়!
তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়
করুণা-নীহার-বিন্দু! ম্লান হ’য়ে উঠি
ধরণীর ছায়াঞ্চলে! স্বপ্ন যায় টুটি’
সুন্দরের, কল্যাণের। তরল গরল
কন্ঠে ঢালি’ তুমি বল, ‘অমৃতে কি ফল?
জ্বালা নাই, নেশা নাই. নাই উন্মাদনা,-
রে দুর্বল, অমরার অমৃত-সাধনা
এ দুঃখের পৃথিবীতে তোর ব্রত নহে,
তুই নাগ, জন্ম তোর বেদনার দহে।
কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!….
গাহি গান, গাঁথি মালা, কন্ঠ
করে জ্বালা,
দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!
….
ভিক্ষা-ঝুলি নিয়া ফের’
দ্বারে দ্বারে ঋষি
ক্ষমাহীন হে দুর্বাসা! যাপিতেছে নিশি
সুখে রব-বধূ যথা-সেখানে কখন,
হে কঠোর-কন্ঠ, গিয়া ডাক-‘মূঢ়, শোন্,
ধরণী বিলাস-কুঞ্জ নহে নহে কারো,
অভাব বিরহ আছে, আছে দুঃখ আরো,
আছে কাঁটা শয্যাতলে বাহুতে প্রিয়ার,
তাই এবে কর্ ভোগ!-পড়ে হাহাকার
নিমেষে সে সুখ-স্বর্গে, নিবে যায় বাতি,
কাটিতে চাহে না যেন আর কাল-রাতি!
চল-পথে অনশন-ক্লিষ্ট ক্ষীণ তনু,
কী দেখি’ বাঁকিয়া ওঠে সহসা ভ্রূ-ধনু,
দু’নয়ন ভরি’ রুদ্র হানো অগ্নি-বাণ,
আসে রাজ্যে মহামারী দুর্ভিক্ষ তুফান,
প্রমোদ-কানন পুড়ে, উড়ে অট্টালিকা,-
তোমার আইনে শুধু মৃত্যু-দন্ড লিখা!
বিনয়ের ব্যভিচার নাহি তব পাশ,
তুমি চান নগ্নতার উলঙ্গ প্রকাশ।
সঙ্কোচ শরম বলি’ জান না ক’ কিছু,
উন্নত করিছ শির যার মাথা নীচু।
মৃত্যু-পথ-যাত্রীদল তোমার ইঙ্গিতে
গলায় পরিছে ফাঁসি হাসিতে হাসিতে!
নিত্য অভাবের কুন্ড জ্বালাইয়া বুকে
সাধিতেছ মৃত্যু-যজ্ঞ পৈশাচিক সুখে!
লক্ষ্মীর কিরীটি ধরি, ফেলিতেছ টানি’
ধূলিতলে। বীণা-তারে করাঘাত হানি’
সারদার, কী সুর বাজাতে চাহ গুণী?
যত সুর আর্তনাদ হ’য়ে ওঠে শুনি!
প্রভাতে উঠিয়া কালি শুনিনু, সানাই
বাজিছে করুণ সুরে! যেন আসে নাই
আজো কা’রা ঘরে ফিরে! কাঁদিয়া কাঁদিয়া
ডাকিছে তাদেরে যেন ঘরে ‘সানাইয়া’!
বধূদের প্রাণ আজ সানা’য়ের সুরে
ভেসে যায় যথা আজ প্রিয়তম দূরে
আসি আসি করিতেছে! সখী বলে, ‘বল্
মুছিলি কেন লা আঁখি, মুছিলি কাজল?….
শুনিতেছি আজো আমি প্রাতে উঠিয়াই
‘ আয় আয়’ কাঁদিতেছে তেমনি সানাই।
ম্লানমুখী শেফালিকা পড়িতেছে ঝরি’
বিধবার হাসি সম-স্নিগ্ধ গন্ধে ভরি’!
নেচে ফেরে প্রজাপতি চঞ্চল পাখায়
দুরন্ত নেশায় আজি, পুষ্প-প্রগল্ভায়
চুম্বনে বিবশ করি’! ভোমোরার পাখা
পরাগে হলুদ আজি, অঙ্গে মধু মাখা।
উছলি’ উঠিছে যেন দিকে দিকে প্রাণ!
আপনার অগোচরে গেয়ে উঠি গান
আগমনী আনন্দের! অকারণে আঁখি
পু’রে আসে অশ্রু-জলে! মিলনের রাখী
কে যেন বাঁধিয়া দেয় ধরণীর সাথে!
পুষ্পঞ্জলি ভরি’ দু’টি মাটি মাখা হাতে
ধরণী এগিয়ে আসে, দেয় উপহার।
ও যেন কনিষ্ঠা মেয়ে দুলালী আমার!-
সহসা চমকি’ উঠি! হায় মোর শিশু
জাগিয়া কাঁদিছ ঘরে, খাওনি ক’ কিছু
কালি হ’তে সারাদিন তাপস নিষ্ঠুর,
কাঁদ’ মোর ঘরে নিত্য তুমি ক্ষুধাতুর!
পারি নাই বাছা মোর, হে প্রিয় আমার,
দুই বিন্দু দুগ্ধ দিতে!-মোর অধিকার
আনন্দের নাহি নাহি! দারিদ্র্য অসহ
পুত্র হ’য়ে জায়া হয়ে কাঁদে অহরহ
আমার দুয়ার ধরি! কে বাজাবে বাঁশি?
কোথা পাব আনন্দিত সুন্দরের হাসি?
কোথা পাব পুষ্পাসব?-ধুতুরা-গেলাস
ভরিয়া করেছি পান নয়ন-নির্যাস!….
আজো শুনি আগমনী গাহিছে সানাই,
ও যেন কাঁদিছে শুধু-নাই কিছু নাই!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
অ-নামিকা |নজরুল রচনাবলী ।
তোমারে বন্দনা করি
স্বপ্ন-সহচরী
লো আমার অনাগত প্রিয়া,
আমার পাওয়ার বুকে না-পাওয়ার
তৃষ্ণা-জাগানিয়া!
তোমারে বন্দনা করি….
হে আমার মানস-রঙ্গিণী,
অনন্ত-যৌবনা বালা, চিরন্তন বাসনা-
সঙ্গিনী!
তোমারে বন্দনা করি….
নাম-নাহি-জানা ওগো আজো-নাহি-
আসা!
আমার বন্দনা লহ, লহ ভালবাসা….
গোপণ-চারিণী মোর, লো চির-প্রেয়সী!
সৃষ্টি-দিন হ’তে কাঁদ’ বাসনার
অন্তরালে বসি’-
ধরা নাহি দিলে দেহে।
তোমার কল্যাণ-দীপ জ্বলিলে না
দীপ-নেভা বেড়া-দেওয়া গেহে।
অসীমা! এলে না তুমি সীমারেখা-পারে!
স্বপনে পাইয়া তোমা’ স্বপনে হারাই
বারে বারে
অরুপা লো! রহি হ’য়ে এলে মনে,
সতী হ’য়ে এলে না ক’ ঘরে।
প্রিয় হ’য়ে এলে প্রেমে,
বধূ হয়ে এলে না অধরে!
দ্রাক্ষা-বুকে রহিলে গোপনে তুমি শিরীন্
শরাব,
পেয়ালায় নাহি এলে!-
‘উতারো নেকার’-
হাঁকে মোর দুরন্ত কামনা!
সুদুরিকা! দূরে থাক’-ভালোবাসা-
নিকটে এসো না।
তুমি নহ নিভে যাওয়া আলো, নহ শিখা।
তুমি মরীচিকা,
তুমি জ্যোতি।-
জন্ম-জন্মান্তর ধরি’ লোকে-
লোকান্তরে তোমা’ করেছি আরতি,
বারে বারে একই জন্মে শতবার করি!
যেখানে দেখেছি রূপ,-
করেছি বন্দনা প্রিয়া তোমারেই স্মরি’।
রূপে রূপে, অপরূপা, খুঁজেছি তোমায়,
পবনের যবনিকা যত তুলি তত
বেড়ে যায়!
বিরহের কান্না-ধোওয়া তৃপ্ত
হিয়া ভরি’
বারে বারে উদিয়াছ ইন্দ্রধনুসমা,
হাওয়া-পরী
প্রিয় মনোরমা!
ধরিতে গিয়োছি-তুমি মিলায়েছ দূর
দিগ্বলয়ে
ব্যথা-দেওয়া রাণী মোর, এলে না ক’
কথা কওয়া হ’য়ে।
চির-দূরে থাকা ওগো চির-নাহি-আসা!
তোমারে দেহের তীরে পাবার দুরাশা
গ্রহ হ’তে গ্রহান্তরে ল’য়ে যায় মোরে!
বাসনার বিপুল আগ্রহে-
জন্ম লভি লোকে-লোকান্তরে!
উদ্বেলিত বুকে মোর অতৃপ্ত যৌবন-
ক্ষুধা
উদগ্র কামনা,
জন্ম তাই লভি বারে বারে,
না-পাওয়ার করি আরাধনা!….
যা-কিছু সুন্দর হেরি’ ক’রেছি চুম্বন,
যা-কিছু চুম্বন দিয়া ক’রেছি সুন্দর-
সে-সবার মাঝে যেন তব হরষণ
অনুভব করিয়াছি!-ছুঁয়েছি অধর
তিলোত্তমা, তিলে তিলে!
তোমারে যে করেছি চুম্বন
প্রতি তরুণীর ঠোঁটে
প্রকাশ গোপন।
যে কেহ প্রিয়ারে তার চুম্বিয়াছে ঘুম-
ভাঙা রাতে,
রাত্রি-জাগা তন্দ্রা-লাগা ঘুম-
পাওয়া প্রাতে,
সকলের সাথে আমি চুমিয়াছি তোমা’
সকলের ঠোঁটে যেন, হে নিখিল-
প্রিয়া প্রিয়তমা!
তরু, লতা, পশু, পাখী, সকলের কামনার
সাথে
আমার কামনা জাগে,-আমি রমি বিশ্ব-
কামনাতে!
বঞ্চিত যাহারা প্রেমে,
ভুঞ্জে যারা রতি-
সকলের মাঝে আমি-সকলের প্রেমে মোর
গতি!
যে-দিন স্রষ্টার বুকে জেগেছিল
আদি সৃষ্টি-কাম,
সেই দিন স্রষ্টা সাথে তুমি এলে,
আমি আসিলাম।
আমি কাম, তুমি হ’লে রতি,
তরুণ-তরুণী বুকে নিত্য তাই আমাদের
অপরূপ গতি!
কী যে তুমি, কী যে নহ, কত ভাবি-কত
দিকে চাই!
নামে নামে, অ-নামিকা,
তোমারে কি খুঁজিনু বৃথাই?
বৃথাই বাসিনু ভালো?
বৃথা সবে ভালোবাসে মোরে?
তুমি ভেবে যারে বুকে চেপে ধরি সে-ই
যায় স’রে।
কেন হেন হয়, হায়, কেন লয় মনে-
যারে ভালো বাসিলাম,
তারো চেয়ে ভালো কেহ
বাসিছে গোপনে।
সে বুঝি সুন্দরতর-আরো আরো মধু!
আমারি বধূর
বুকে হাসো তুমি হ’য়ে নববধূ।
বুকে যারে পাই, হায়,
তারি বুকে তাহারি শয্যায়
নাহি-পাওয়া হ’য়ে তুমি কাঁদ একাকিনী,
ওগো মোর প্রিয়ার সতিনী।….
বারে বারে পাইলাম-বারে বারে মন যেন
কহে-
নহে, এ সে নহে!
কুহেলিকা! কোথা তুমি? দেখা পাব কবে?
জন্মেছিলে জন্মিয়াছ কিম্বা জন্ম
লবে?
কথা কও, কও কথা প্রিয়া,
হে আমার যুগে-যুগে না-পাওয়ার তৃষ্ণা-
জাগানিয়া!
কহিবে না কথা তুমি! আজ মনে হয়,
প্রেম সত্য চিরন্তন, প্রেমের পাত্র
সে বুঝি চিরন্তন নয়।
জন্ম যার কামনার বীজে
কামনারই মাঝে সে যে বেড়ে যায়
কল্পতরু নিজে।
দিকে দিকে শাখা তার করে অভিযান,
ও যেন শুষিয়া নেবে আকাশের যত বায়ু
প্রাণ।
আকাশ ঢেকেছে তার পাখা
কামনার সবুজ বলাকা!
প্রেম সত্য, প্রেম-পাত্র বহু-আগণন,
তাই-চাই, বুকে পাই, তবু কেন
কেঁদে ওঠে মন।
মদ সত্য, পাত্র সত্য নয়!
যে-পাত্রে ঢালিয়া খাও সেই নেশা হয়!
চির-সহচরী!
এতদিনে পরিচয় পেনু, মরি মরি!
আমারি প্রেমের মাঝে রয়েছ গোপন,
বৃথা আমি খুঁজে মরি’
জন্মে জন্মে করিনু রোদন।
প্রতি রূপে, অপরূপা, ডাক তুমি,
চিনেছি তোমায়,
যাহারে বাসিব ভালো-সে-ই তুমি,
ধরা দেবে তায়!
প্রেম এক, প্রেমিকা সে বহু,
বহু পাত্রে ঢেলে পি’ব সেই প্রেম-
সে শরাব লোহু।
তোমারে করিব পান, অ-নামিকা, শত
কামনায়,
ভৃঙ্গারে, গোলাসে কভু, কভু পেয়ালায়!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
স্বপ্ন-সহচরী
লো আমার অনাগত প্রিয়া,
আমার পাওয়ার বুকে না-পাওয়ার
তৃষ্ণা-জাগানিয়া!
তোমারে বন্দনা করি….
হে আমার মানস-রঙ্গিণী,
অনন্ত-যৌবনা বালা, চিরন্তন বাসনা-
সঙ্গিনী!
তোমারে বন্দনা করি….
নাম-নাহি-জানা ওগো আজো-নাহি-
আসা!
আমার বন্দনা লহ, লহ ভালবাসা….
গোপণ-চারিণী মোর, লো চির-প্রেয়সী!
সৃষ্টি-দিন হ’তে কাঁদ’ বাসনার
অন্তরালে বসি’-
ধরা নাহি দিলে দেহে।
তোমার কল্যাণ-দীপ জ্বলিলে না
দীপ-নেভা বেড়া-দেওয়া গেহে।
অসীমা! এলে না তুমি সীমারেখা-পারে!
স্বপনে পাইয়া তোমা’ স্বপনে হারাই
বারে বারে
অরুপা লো! রহি হ’য়ে এলে মনে,
সতী হ’য়ে এলে না ক’ ঘরে।
প্রিয় হ’য়ে এলে প্রেমে,
বধূ হয়ে এলে না অধরে!
দ্রাক্ষা-বুকে রহিলে গোপনে তুমি শিরীন্
শরাব,
পেয়ালায় নাহি এলে!-
‘উতারো নেকার’-
হাঁকে মোর দুরন্ত কামনা!
সুদুরিকা! দূরে থাক’-ভালোবাসা-
নিকটে এসো না।
তুমি নহ নিভে যাওয়া আলো, নহ শিখা।
তুমি মরীচিকা,
তুমি জ্যোতি।-
জন্ম-জন্মান্তর ধরি’ লোকে-
লোকান্তরে তোমা’ করেছি আরতি,
বারে বারে একই জন্মে শতবার করি!
যেখানে দেখেছি রূপ,-
করেছি বন্দনা প্রিয়া তোমারেই স্মরি’।
রূপে রূপে, অপরূপা, খুঁজেছি তোমায়,
পবনের যবনিকা যত তুলি তত
বেড়ে যায়!
বিরহের কান্না-ধোওয়া তৃপ্ত
হিয়া ভরি’
বারে বারে উদিয়াছ ইন্দ্রধনুসমা,
হাওয়া-পরী
প্রিয় মনোরমা!
ধরিতে গিয়োছি-তুমি মিলায়েছ দূর
দিগ্বলয়ে
ব্যথা-দেওয়া রাণী মোর, এলে না ক’
কথা কওয়া হ’য়ে।
চির-দূরে থাকা ওগো চির-নাহি-আসা!
তোমারে দেহের তীরে পাবার দুরাশা
গ্রহ হ’তে গ্রহান্তরে ল’য়ে যায় মোরে!
বাসনার বিপুল আগ্রহে-
জন্ম লভি লোকে-লোকান্তরে!
উদ্বেলিত বুকে মোর অতৃপ্ত যৌবন-
ক্ষুধা
উদগ্র কামনা,
জন্ম তাই লভি বারে বারে,
না-পাওয়ার করি আরাধনা!….
যা-কিছু সুন্দর হেরি’ ক’রেছি চুম্বন,
যা-কিছু চুম্বন দিয়া ক’রেছি সুন্দর-
সে-সবার মাঝে যেন তব হরষণ
অনুভব করিয়াছি!-ছুঁয়েছি অধর
তিলোত্তমা, তিলে তিলে!
তোমারে যে করেছি চুম্বন
প্রতি তরুণীর ঠোঁটে
প্রকাশ গোপন।
যে কেহ প্রিয়ারে তার চুম্বিয়াছে ঘুম-
ভাঙা রাতে,
রাত্রি-জাগা তন্দ্রা-লাগা ঘুম-
পাওয়া প্রাতে,
সকলের সাথে আমি চুমিয়াছি তোমা’
সকলের ঠোঁটে যেন, হে নিখিল-
প্রিয়া প্রিয়তমা!
তরু, লতা, পশু, পাখী, সকলের কামনার
সাথে
আমার কামনা জাগে,-আমি রমি বিশ্ব-
কামনাতে!
বঞ্চিত যাহারা প্রেমে,
ভুঞ্জে যারা রতি-
সকলের মাঝে আমি-সকলের প্রেমে মোর
গতি!
যে-দিন স্রষ্টার বুকে জেগেছিল
আদি সৃষ্টি-কাম,
সেই দিন স্রষ্টা সাথে তুমি এলে,
আমি আসিলাম।
আমি কাম, তুমি হ’লে রতি,
তরুণ-তরুণী বুকে নিত্য তাই আমাদের
অপরূপ গতি!
কী যে তুমি, কী যে নহ, কত ভাবি-কত
দিকে চাই!
নামে নামে, অ-নামিকা,
তোমারে কি খুঁজিনু বৃথাই?
বৃথাই বাসিনু ভালো?
বৃথা সবে ভালোবাসে মোরে?
তুমি ভেবে যারে বুকে চেপে ধরি সে-ই
যায় স’রে।
কেন হেন হয়, হায়, কেন লয় মনে-
যারে ভালো বাসিলাম,
তারো চেয়ে ভালো কেহ
বাসিছে গোপনে।
সে বুঝি সুন্দরতর-আরো আরো মধু!
আমারি বধূর
বুকে হাসো তুমি হ’য়ে নববধূ।
বুকে যারে পাই, হায়,
তারি বুকে তাহারি শয্যায়
নাহি-পাওয়া হ’য়ে তুমি কাঁদ একাকিনী,
ওগো মোর প্রিয়ার সতিনী।….
বারে বারে পাইলাম-বারে বারে মন যেন
কহে-
নহে, এ সে নহে!
কুহেলিকা! কোথা তুমি? দেখা পাব কবে?
জন্মেছিলে জন্মিয়াছ কিম্বা জন্ম
লবে?
কথা কও, কও কথা প্রিয়া,
হে আমার যুগে-যুগে না-পাওয়ার তৃষ্ণা-
জাগানিয়া!
কহিবে না কথা তুমি! আজ মনে হয়,
প্রেম সত্য চিরন্তন, প্রেমের পাত্র
সে বুঝি চিরন্তন নয়।
জন্ম যার কামনার বীজে
কামনারই মাঝে সে যে বেড়ে যায়
কল্পতরু নিজে।
দিকে দিকে শাখা তার করে অভিযান,
ও যেন শুষিয়া নেবে আকাশের যত বায়ু
প্রাণ।
আকাশ ঢেকেছে তার পাখা
কামনার সবুজ বলাকা!
প্রেম সত্য, প্রেম-পাত্র বহু-আগণন,
তাই-চাই, বুকে পাই, তবু কেন
কেঁদে ওঠে মন।
মদ সত্য, পাত্র সত্য নয়!
যে-পাত্রে ঢালিয়া খাও সেই নেশা হয়!
চির-সহচরী!
এতদিনে পরিচয় পেনু, মরি মরি!
আমারি প্রেমের মাঝে রয়েছ গোপন,
বৃথা আমি খুঁজে মরি’
জন্মে জন্মে করিনু রোদন।
প্রতি রূপে, অপরূপা, ডাক তুমি,
চিনেছি তোমায়,
যাহারে বাসিব ভালো-সে-ই তুমি,
ধরা দেবে তায়!
প্রেম এক, প্রেমিকা সে বহু,
বহু পাত্রে ঢেলে পি’ব সেই প্রেম-
সে শরাব লোহু।
তোমারে করিব পান, অ-নামিকা, শত
কামনায়,
ভৃঙ্গারে, গোলাসে কভু, কভু পেয়ালায়!
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
মানুষ
গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু
মহিয়ান্ ।
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ
ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-
ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
‘পূজারী দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার
সময় হ’ল!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল
ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-
টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায়
কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান’, ‘দ্বার খোল বাবা,
খাইনি ক’ সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির,
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার
মানিক জ্বলে!
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা,
তোমার নয়!’
মসজিদে কাল শির্নী আছিল,-অঢেল
গোস–র”টি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই
কুটি কুটি,
এমন সময় এলো মুসাফির
গায়ে আজারির চিন্
বলে, ‘ বাবা, আমি ভূখা-
ফাকা আমি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল
মোল্লা-‘ভ্যালা হ’ল দেখি লেঠা,
ভূখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ
পড়িস বেটা?’
ভূখারী কহিল, ‘না বাবা!’
মোল্লা হাঁকিল-‘তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ!’ গোস–
র”টি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল,
আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা ব’লে বন্ধ
করনি প্রভু।
তব মস্জিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের
দাবী।
মোল্লা-পুর”ত লাগায়েছে তার সকল
দুয়ারে চাবী!’
কোথা চেঙ্গিস্, গজনী-মামুদ, কোথায়
কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-
দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয়
সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে,
চালা হাতুড়ি শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড
গাহে স্বার্থের জয়!
মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল
চুম্বিছে মরি’ মরি’
ও’ মুখ হইতে কেতাব গ্রন’ নাও জোর
ক’রে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন’-কেতাব সেই
মানুষেরে মেরে,
পূজিছে গ্রন’ ভন্ডের দল! মূর্খরা সব
শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন’;-গ্রন’
আনেনি মানুষ কোনো।
আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম
মোহাম্মাদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের
সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতা-পিতামহ, এই
আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-
বেশী ক’রে প্রতি ধমনীতে রাজে!
আমরা তাঁদেরি সন্তান, জ্ঞাতি,
তাঁদেরি মতন দেহ,
কে জানে কখন মোরাও
অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ।
হেসো না বন্ধু! আমার আমি সে কত
অতল অসীম,
আমিই কি জানি-কে জানে কে আছে
আমাতে মহামহিম।
হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি,
তোমাতে মেহেদী ঈসা,
কে জানে কাহার অন- ও আদি, কে পায়
কাহার দিশা?
কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই,
কাহারে মারিছ লাথি?
হয়ত উহারই বুকে ভগবান্ জাগিছেন
দিবা-রাতি!
অথবা হয়ত কিছুই নহে সে, মহান্ উ”চ
নহে,
আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত
পড়িয়া দুঃখ-দহে,
তবু জগতের যত পবিত্র গ্রন’
ভজনালয়
ঐ একখানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র
নয়!
হয়ত ইহারি ঔরসে ভাই ইহারই কুটীর-
বাসে
জন্মিছে কেহ- জোড়া নাই যার জগতের
ইতিহাসে!
যে বাণী আজিও শোনেনি জগৎ,
যে মহাশক্তিধরে
আজিও বিশ্ব দেখনি,-হয়ত
আসিছে সে এরই ঘরে!
ও কে? চন্ডাল? চম্কাও কেন? নহে ও
ঘৃণ্য জীব!
ওই হ’তে পারে হরিশচন্দ্র, ওই
শ্মশানের শিব।
আজ চন্ডাল, কাল
হ’তে পারে মহাযোগী-সম্রাট,
তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে,
করিবে নান্দী-পাঠ।
রাখাল বলিয়া কারে করো হেলা, ও-
হেলা কাহারে বাজে!
হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল
এসেছে রাখাল সাজে!
চাষা ব’লে কর ঘৃণা!
দে’খো চাষা-রূপে লুকায়ে জনক বলরাম
এলো কি না!
যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারাও
ধরিল হাল,
তারাই আনিল অমর বাণী-
যা আছে র’বে চিরকাল।
দ্বারে গালি খেয়ে ফিরে যায়
নিতি ভিখারী ও ভিখারিনী,
তারি মাঝে কবে এলো ভোলা-নাথ
গিরিজায়া, তা কি চিনি!
তোমার ভোগের হ্রাস হয় পাছে ভিক্ষা-
মুষ্টি দিলে,
দ্বারী দিয়ে তাই মার
দিয়ে তুমি দেবতারে খেদাইলে।
সে মার রহিল জমা-
কে জানে তোমায়
লাঞ্ছিতা দেবী করিয়াছে কিনা ক্ষমা!
বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ,
দু’চোখে স্বার্থ-ঠুলি,
নতুবা দেখিতে,
তোমারে সেবিতে দেবতা হ’য়েছে কুলি।
মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা-
মথিত সুধা,
তাই লুটে তুমি খাবে পশু?
তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা?
তোমার ক্ষুধার আহার তোমার
মন্দোদরীই জানে
তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের
কোন্খানে!
তোমারি কামনা-রাণী
যুগে যুগে পশু, ফেলেছে তোমায় মৃত্যু-
বিবরে টানি’।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু
মহিয়ান্ ।
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ
ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-
ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
‘পূজারী দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার
সময় হ’ল!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল
ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-
টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায়
কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান’, ‘দ্বার খোল বাবা,
খাইনি ক’ সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির,
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার
মানিক জ্বলে!
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা,
তোমার নয়!’
মসজিদে কাল শির্নী আছিল,-অঢেল
গোস–র”টি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই
কুটি কুটি,
এমন সময় এলো মুসাফির
গায়ে আজারির চিন্
বলে, ‘ বাবা, আমি ভূখা-
ফাকা আমি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল
মোল্লা-‘ভ্যালা হ’ল দেখি লেঠা,
ভূখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ
পড়িস বেটা?’
ভূখারী কহিল, ‘না বাবা!’
মোল্লা হাঁকিল-‘তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ!’ গোস–
র”টি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল,
আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা ব’লে বন্ধ
করনি প্রভু।
তব মস্জিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের
দাবী।
মোল্লা-পুর”ত লাগায়েছে তার সকল
দুয়ারে চাবী!’
কোথা চেঙ্গিস্, গজনী-মামুদ, কোথায়
কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-
দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয়
সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে,
চালা হাতুড়ি শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড
গাহে স্বার্থের জয়!
মানুষেরে ঘৃণা করি’
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল
চুম্বিছে মরি’ মরি’
ও’ মুখ হইতে কেতাব গ্রন’ নাও জোর
ক’রে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন’-কেতাব সেই
মানুষেরে মেরে,
পূজিছে গ্রন’ ভন্ডের দল! মূর্খরা সব
শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন’;-গ্রন’
আনেনি মানুষ কোনো।
আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম
মোহাম্মাদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের
সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতা-পিতামহ, এই
আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-
বেশী ক’রে প্রতি ধমনীতে রাজে!
আমরা তাঁদেরি সন্তান, জ্ঞাতি,
তাঁদেরি মতন দেহ,
কে জানে কখন মোরাও
অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ।
হেসো না বন্ধু! আমার আমি সে কত
অতল অসীম,
আমিই কি জানি-কে জানে কে আছে
আমাতে মহামহিম।
হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি,
তোমাতে মেহেদী ঈসা,
কে জানে কাহার অন- ও আদি, কে পায়
কাহার দিশা?
কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই,
কাহারে মারিছ লাথি?
হয়ত উহারই বুকে ভগবান্ জাগিছেন
দিবা-রাতি!
অথবা হয়ত কিছুই নহে সে, মহান্ উ”চ
নহে,
আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত
পড়িয়া দুঃখ-দহে,
তবু জগতের যত পবিত্র গ্রন’
ভজনালয়
ঐ একখানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র
নয়!
হয়ত ইহারি ঔরসে ভাই ইহারই কুটীর-
বাসে
জন্মিছে কেহ- জোড়া নাই যার জগতের
ইতিহাসে!
যে বাণী আজিও শোনেনি জগৎ,
যে মহাশক্তিধরে
আজিও বিশ্ব দেখনি,-হয়ত
আসিছে সে এরই ঘরে!
ও কে? চন্ডাল? চম্কাও কেন? নহে ও
ঘৃণ্য জীব!
ওই হ’তে পারে হরিশচন্দ্র, ওই
শ্মশানের শিব।
আজ চন্ডাল, কাল
হ’তে পারে মহাযোগী-সম্রাট,
তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে,
করিবে নান্দী-পাঠ।
রাখাল বলিয়া কারে করো হেলা, ও-
হেলা কাহারে বাজে!
হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল
এসেছে রাখাল সাজে!
চাষা ব’লে কর ঘৃণা!
দে’খো চাষা-রূপে লুকায়ে জনক বলরাম
এলো কি না!
যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারাও
ধরিল হাল,
তারাই আনিল অমর বাণী-
যা আছে র’বে চিরকাল।
দ্বারে গালি খেয়ে ফিরে যায়
নিতি ভিখারী ও ভিখারিনী,
তারি মাঝে কবে এলো ভোলা-নাথ
গিরিজায়া, তা কি চিনি!
তোমার ভোগের হ্রাস হয় পাছে ভিক্ষা-
মুষ্টি দিলে,
দ্বারী দিয়ে তাই মার
দিয়ে তুমি দেবতারে খেদাইলে।
সে মার রহিল জমা-
কে জানে তোমায়
লাঞ্ছিতা দেবী করিয়াছে কিনা ক্ষমা!
বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ,
দু’চোখে স্বার্থ-ঠুলি,
নতুবা দেখিতে,
তোমারে সেবিতে দেবতা হ’য়েছে কুলি।
মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা-
মথিত সুধা,
তাই লুটে তুমি খাবে পশু?
তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা?
তোমার ক্ষুধার আহার তোমার
মন্দোদরীই জানে
তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের
কোন্খানে!
তোমারি কামনা-রাণী
যুগে যুগে পশু, ফেলেছে তোমায় মৃত্যু-
বিবরে টানি’।
শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কে জানার সুযোগ দিন ।আপনি জেনেছেন হয়তো সে জানেনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি
(
Atom
)