দিনবদলের সাংসদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দিনবদলের সাংসদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কয়লা ধুইলে ময়লা যায়না" এই কথা আমরা সবাই জানি, কামাল মজুমদার জানেন কিনা আমার জানা নেই।

আমাদের এমপির মানসম্মানে কালি লেগেছে, যেভাবেই হোক ইমেজ ভালো করতেই হবে। আর ইমেজ ভালো করার জন্য কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীকে রাস্তায় নামালেনমানববন্ধনে যোগ দেয়ার জন্য এবংস্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদেরনোটিশ দিয়ে জানিয়েছে,"মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক!!"
মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল,"কামাল আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদে র বিচার চাই!!" ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় দাঁড় করানোর ওপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা আছে। সে নিষেধাজ্ঞাও মানা হয়নি।
এবার একটু পিছনে তাকাই --
রাজধানীর মণিপুর স্কুলে সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি পাঁচ হাজার ১০০ টাকা হলেও অভিভাবকদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফি’র নামে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে কিন্তু এই অতিরিক্ত টাকারজন্য কোন কোনো রসিদ দেয়া হচ্ছিল না।
খবর চলে যায় সাংবাদিকদের কানে, সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারস্কুলে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে কামাল মজুমদার তার দলবল নিয়ে আরটিভির সাংবাদিক অপর্ণা সিংহসহ চারজনকে লাঞ্ছিত করেন কিন্তু কামাল মজুমদার হামলার কথা অস্বীকার করেন। হামলার কথা অস্বীকার করলেও পত্র কামাল মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। উনি হামলার কথাঅস্বীকার করে আবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।
উনার বিরুদ্ধে নাকি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে তাই আজ ডিজিটাল মানববন্ধন করে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করলেন। শত শত শিক্ষার্থীকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করলেন। বাহ, কি সুন্দর!! এ যে দেখি চোরের মা'র বড় গলা, ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত।
রাজনীতির এই একটা বড় সুবিধা, অপরাধ করেই ক্ষমা চাওয়া যায় এবং আবার অপরাধ করা যায়। তবে,"কয়লা ধুইলে ময়লা যায়না" এই কথা আমরা সবাই জানি, কামাল মজুমদার জানেন কিনা আমার জানা নেই।
_______________ _______________ _______________ _______________ ______
Read More

দিনবদলের সাংসদ! সোহরাব হাসান | তারিখ: ০৫-০১-২০১২, ২

জানি না, বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংসদ উপনেতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে নেবেন। তাঁরা তিনজনই নারী। নারী হয়ে তাঁরা কি নারীর প্রতি এই অপমান সহ্য করবেন? এ কাজটি বিরোধী দলের কোনো সাংসদ করলে আমরা নিশ্চিত সাহারা খাতুনের পুলিশ বাহিনী ওই দিন রাতেই তাঁকে চ্যাংদোলা করে থানায় নিয়ে যেত এবং সত্য উদ্ঘাটনের প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো।
কিন্তু কামাল মজুমদার যে সরকারি দলের সাংসদ! তাঁর সাত খুন মাফ। এর আগেও কামাল মজুমদার অনেকবার মাস্তানি করেছেন। ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর প্রথম আলোয় মিরপুরে একটি হাসপাতালকে দেওয়া তিনি দখল করে নিয়েছেন এই মর্মেএকটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এর বিরুদ্ধে তিনি প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ২টি ও প্রতিবেদক অরূপ দত্তের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন। একটি মানহানির (নারী নির্যাতকের আবার মানহানি!)। আরেকটি ক্ষতিপূরণ এবং শেষটি করেছেন সাংবাদিক অরূপ দত্তের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’। তিনটি মামলাই বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করব না। কেবল চাঁদাবাজির মামলাটির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব। কোনো সাংবাদিক চাঁদাবাজি করলেঅবশ্যই তাঁর শাস্তি হবে। প্রথম আলোর সাংবাদিক কোথায়, কখন, কীভাবে চাঁদাবাজি করেছেন, তা কামাল মজুমদারকেই প্রমাণকরতে হবে। কিন্তু প্রমাণ দিতে না পারলে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিক হয়রানির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের সেই মুরোদ আছে কি?
আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর পার হতে চলেছে। এই সময়ে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সাংসদ, নেতা-কর্মী, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, যুবলীগের নেতা-কর্মীদের ভাগ্য যে বদল হয়েছে তা নিশ্চিত করেবলা যায়। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে দেখতে পাবে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এসব সাংসদ ও নেতা-কর্মীর কী সহায়সম্পদ ছিল, কী ব্যবসাবাণিজ্য ছিল এবং এখন কী আছে। এত অল্প সময়েবৈধ পথে এত বিপুল সম্পদেরমালিক হওয়া যায় কি না, তাও দুদক তদন্ত করে দেখতেপারে। অবৈধ অর্থ অবৈধ ক্ষমতার প্রসার ঘটায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভা-সমাবেশে প্রায়শ বিগত বিএনপি সরকারের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।কিন্তু তাঁর দলের সবাই যেদুর্নীতিমুক্ত, সে ব্যাপারে তিনি এতটা নিশ্চিত হলেন কী করে?
কামাল মজুমদার একা নন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ওসাংসদই দেশটাকে তাঁদের জমিদারি ভাবেন।
কয়েক দিন আগে একটি সেমিনারে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী যে ভাষায় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককেগালমন্দ করলেন তা কোনো ভদ্র লোকের মুখে শোভা পায়না। ওই সাংবাদিকের অপরাধ ছিল, তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নামের আগে মুক্তিযোদ্ধা বললেও তাঁর নামের আগে মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি বলেননি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কখনই নামও সার্টিফিকেটের জন্য কাঙালপনা দেখান না। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী দেখাচ্ছেন। এমন কী উপস্থাপক ভুল স্বীকার করার পরও তাঁকে কড়া কথা শুনিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমরাহাওয়ায় ভেসে আসিনি।’ তাঁরা হাওয়ায় ভেসে আসেননি বলেই মন্ত্রী-সাংসদ হয়েছেন। আর আমজনতা হাওয়ায় ভেসে এসেছে বলেই তাদের ওপর জবরদস্তি করছেন।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, গত তিন বছরে সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ এবং আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার মুখের ভাষা-ভঙ্গি বদলে গেছে। আগে যাঁরা নামছাপার জন্য পত্রিকা অফিসে অফিসে ধরনা দিতেন, টেলিফোনে সাংবাদিকদের অনুরোধ-উপরোধ করতেন, এখন কথায় কথায় সবক দেন, ধমক লাগান। কেউ কেউ তুই- তোকারি করতেও ছাড়েন না। এই হলো দিনবদলের নমুনা।
যখন কোনো সরকারের বা দলেরপায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়, তখনই নেতা-নেত্রী-সাংসদেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এটি আমরা ২০০০-২০০১ সালে দেখেছি। ২০০৫-২০০৬ সালে দেখেছি। এবার মেয়াদের দুই বছর বাকি থাকতেই আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা-মন্ত্রী ও সাংসদেরামারমুখী হয়ে উঠেছেন। বাকি সময়টা তাঁরা কী করবেন আল্লাহই জানেন।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3

ভাল লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন । লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । ভাল থাকুন সব সময় ।
Read More

দিনবদলের সাংসদ! সোহরাব হাসান | তারিখ: ০৫-০১-২০১২, ১

আওয়ামী লীগ দিনবদলের সনদ ঘোষণা করেছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে। আজ ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি।
আওয়ামী লীগ তার দিনবদলের সনদে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে আনার কথা বলেছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানের কথা বলেছিল। দারিদ্র্য মুক্তি ও বৈষম্য প্রতিরোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল।
আওয়ামী লীগ গত তিন বছরে সেসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলেও দলের গুণধর সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার বুধবার সুশাসন প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির দেখিয়েছেন এক নারী সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে। ওই সাংবাদিকের অপরাধ, তিনি মিরপুরের মনিপুর স্কুলে ছাত্রভর্তির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি জানতেন না যে ওই স্কুল বা এলাকাটি কামাল মজুমদারেরজমিদারি। তাঁর অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, ‘ভর্তিতে বেশি টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মেরঅভিযোগের ব্যাপারে প্রতিবেদন তৈরি করতে আরটিভির সাংবাদিক অপর্ণাসিংহ, জ্যেষ্ঠ ক্যামেরাম্যান সাইদ হায়দার ও স্থানীয় প্রতিনিধি ওসমান গণি ওই স্কুলে যান। অভিযোগের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে তাঁরা স্কুলে ঢুকতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তাঁদের বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ভেতরে ঢুকলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হাত দিয়ে ক্যামেরা সরিয়ে দেন এবং তাঁদের ধাক্কাতে ধাক্কাতে প্রধান ফটকের বাইরে বের করে দেন।
এর কিছুক্ষণ পরই কিছু যুবকসহ প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হন স্থানীয় সাংসদ ও স্কুলপরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকামাল আহমেদ মজুমদার।
গাড়ি থেকে নেমেই কামাল মজুমদার ও তাঁর সঙ্গে থাকা যুবকেরা তেড়ে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে গালাগাল শুরু করেন। একপর্যায়ে কামাল মজুমদারনিজেই সাংবাদিক অপর্ণার হাতে মোচড় দিয়ে বুম (শব্দধারক) কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলেন। এতে হাতে গুরুতর আঘাত পান অপর্ণা। খবর পেয়ে অপর একটি চ্যানেলের নারী সাংবাদিকসহ দুই সাংবাদিকঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন সাংসদ।’ (প্রথম আলো ৪ জানুয়ারি ২০১২)।
এই হলেন দিনবদলের সাংসদ। তিনি মানুষের কল্যাণে কিছু করতে না পারলেও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করতে খুবই পারঙ্গম। কামাল মজুমদার সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার কথা অস্বীকার করেছেন। যুদ্ধাপরাধী বা খুনের মামলার আসামিও দায় স্বীকার করেন না। কিন্তু ছবি মিথ্যা কথা বলে না।। গতকাল প্রথম আলোর অনলাইনে পাঠক ভিডিওতে দেখেছেন কামাল মজুমদার কী মারমুখী ভঙ্গিতে সাংবাদিক অপর্ণা সিংহের হাত থেকে শব্দধারক ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেন। এ জন্য কামাল মজুমদারের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা হতে পারে। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের ছবিতে দেখা যায়, কামাল মজুমদার সাংবাদিকের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিচ্ছেন। ছবিতে অপর্ণার মোচড়ানো হাতটি আর দেখা যায় না। নিরীহ এক নারী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে এই বীরপুঙ্গব পার পেলেও সমবেত বিক্ষুব্ধ মানুষেরভয়ে লেজ গুটিয়ে স্কুল ভবনের ভেতরে চলে যান। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারের পাহারায় সেখানথেকে মাইক্রোবাসে করে চলে যান।
এ ঘটনায় বিএনপি সরকারের আমলের শনির আখড়ার কথা মনেপড়ল। সে সময় পানি ও বিদ্যুতের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষ যখন প্রতিবাদ করছিল, পুলিশ ও বিএনপির কর্মীরা তাদের বাধা দেন। বিক্ষুব্ধ জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে উপস্থিত বিএনপির তৎকালীন সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদকে ধাওয়া দেয়। এরপর তিনি এমনদৌড় দিলেন, যা অলিম্পিক প্রতিযোগিতাকেও হার মানায়। সেই থেকে তিনি হয়েগেলেন দৌড় সালাহউদ্দিন।
তাহলে মিরপুরের সাংসদ কামাল মজুমদারকে মানুষ কী নামে চিনবে? সাংবাদিক নির্যাতনকারী। আমরা এত দিন জানতাম, সাংসদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। এখন থেকেতাঁদের আরও একটি দায়িত্ব বাড়ল। সাংবাদিক পেটানো। এ ধরনের কাজ তিনি এর আগেওকরেছেন। পুলিশ বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পেটানো, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা তাঁর কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। আশুলিয়ায় গাড়ি আটকানোর জন্য পুলিশ কনস্টেবলের গায়েও হাত তুলেছিলেন এই সাংসদ। সুযোগ্য এই পিতার সুযোগ্য পুত্রও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডিতহয়ে এখন আমেরিকায় পলাতক।
কয়েক দিন আগে বাংলা একাডেমীতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনবাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বিদেশি বহু রাষ্ট্রনেতা ও সংস্থা। প্রশংসা করেছে জাতিসংঘও। আমাদের ধারণা, নারীর এত প্রশংসা পুরুষ কামাল মজুমদারের পছন্দ হয়নি। এ কারণেই তিনি নারীসাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেছেন। তাঁর হাত মোচড়ে দিয়েছেন।
আমাদের সমাজে এখনো নারীকে একটু বাড়তি সমীহ করা হয়। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে কথা বলা হয়। সাধারণত পুরুষের সঙ্গে আরেকজন পুরুষ যতটা উচ্চ স্বরে কথা বলেন, নারীর সঙ্গে সেভাবে বলেন না। কামাল মজুমদার তার উল্টোটাই করেছেন।
তিনি কোনো একজন নারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও ক্যাডার লেলিয়ে ক্ষান্ত হননি। নিজেই ক্যাডারের ভূমিকায়নেমেছেন। আওয়ামী লীগের সব পুরুষ সাংসদই যদি কামাল মজুমদারকে অনুসরণ করেন, তাহলে ঠিকই দিনের বদল হবে। জঙ্গিবাদিরা একভাবে নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়, কামাল মজুমদারেরা আরেকভাবে।
এই অসভ্য ও অভব্য আচরণের মাধ্যমে কামাল মজুমদার কেবল একজন নারী সাংবাদিককেই অপমান করেননি। অপমান করেছেন বাংলাদেশের সমগ্র নারী সমাজকে, অপমান করেছেন তাঁর নেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অপমান করেছেন জাতীয় সংসদের সব নারী সদস্যকেও। এরপর নারী সাংসদেরা সংসদে এই নারী নির্যাতক সাংসদের পাশে বসবেন কী করে? তাঁদের কি একবারও অপর্ণা সিংহের কথা মনে পড়বে না?
আমাদের মনে আছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই সময়ের সাংসদ জয়নাল আবেদিন হাজারি সংসদে দাঁড়িয়ে বাঁধন নামের একটি মেয়ে সম্পর্কে অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষায় বিষোদ্গার করেছিলেন। সে সময় তাঁকে নিবৃত্ত করা হলে হয়তো আজ কামাল মজুমদার একজন নারী সাংবাদিককে এভাবে গালিগালাজ করতে বা গায়ে হাত তুলতে সাহস পেতেন না।

আরো
পড়তে থাকুন
দিনবদলের সাংসদ! ২
Read More

সাংবাদিক নির্যাতনকারীর শাস্তিহোক

এ কেমন সাংসদ?
| তারিখ: ০৫-০১-২০১২
তিনি একজন সাংসদ। তিনি মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের একজন সভাপতি। তিনি বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের বলতে পারেন, ‘এদের গুলি করো।’ তিনি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরায় আঘাত করতে পারেন, কবজি মোচড়াতে পারেন একজন নারী সাংবাদিকের। তিনিই বলতে পারেন, ‘করুক রিপোর্ট...আমার কী করতে পারে, দেখি।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেভর্তি-প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির প্রতিবাদ অভিভাবকেরা করেছেন, সাংবাদিকেরা সেই সত্য যুগপৎ জনগণ ও সরকারের সামনে তুলেও ধরেছেন। আমরা এখন দেখতে চাইব, মিরপুর-২ আসনের সাংসদ কামাল মজুমদারের এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়। এ রকম ঘৃণ্য আচরণের প্রতিকার না করা হলে, আইনের শাসনএবং গণতন্ত্রের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে।
সাংসদের আরেক পরিচয় আইনপ্রণেতা। যিনি আইন প্রণয়ন করেন, তিনি গুলি করার হুমকি দেন কীভাবে? কথার তোড়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে যুবকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘোরেন তাঁদের সঙ্গে পিস্তল-বন্দুক থাকে। নইলে কীভাবে তিনি গুলি করার হুমকি দেন? তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় সাংবাদিকদের হেনস্তা ও শারীরিক আঘাত করেছেন, তাতে মনে হয় তিনি জনপ্রতিনিধি নন, দাপুটে গডফাদার।
এ ঘটনায় মিরপুরের মনিপুর বিদ্যালয়ে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগটি আরও জোরালোই হলো। অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, সেখানে সরকার-নির্ধারিত ফির বাইরেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতেও নেওয়া হচ্ছে লাখ পরিমাণ টাকা—অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতি করে দিয়েছিল যেরাজধানীর যেকোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাবদ পাঁচ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। ঢাকার বাইরে এই সীমা তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া ডোনেশন বা উন্নয়ন ফি নেওয়ার কোনো সুযোগও কোথাও রাখা হয়নি। কিন্তুমনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ তো বটেই, ঢাকার নামীদামি বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই অবৈধভাবে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিধিমালা করেই খালাস; বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না সেই খোঁজ নেই।
সারা দেশেই প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি-প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে গেছে টাকার লেনদেন। বিনা রসিদে উন্নয়ন ফির নাম করে অসহায় অভিভাবকদের চাপ দিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সাংসদ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার এই কুফল অস্বীকার করা যায় না।
শিক্ষামন্ত্রী এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তকাজও শুরু করা হয়েছে। আমরা আশা করব, স্কুল-কলেজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতির যুগল দূষণ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে সাংসদ কামাল মজুমদারের প্রমাণিত দুষ্কৃতিরও শাস্তি হবে।

♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3

ভাল লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন । লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । ভাল থাকুন সব সময় ।
Read More