আদর্শ নারী | Adarsha Nari লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদর্শ নারী | Adarsha Nari লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইভটিজিং ঠেকাতে শরয়ী পর্দার বিকল্প নেই [জুনাইদ আল হাবিব]

মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রম খুবই
মূল্যবান। যা টাকা-পয়সার
বিনিময়ে অর্জন করা যায় না। আবার
তা অর্জন করা যেমন তেমন,
ধরে রাখা খুবই কঠিন। একবার
চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
সমাজের দৃষ্টিতে কারো গায়ে কলংকের
দাগ লেগে গেলে, তা আর মুছার মত নয়।
সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী মানব
সভ্যতা উলঙ্গ থাকতে পারে না।
অন্যথায় বুঝতে হবে – সেই
মানুষটা পাগল ছাড়া কিছুই নয়। কারণ,
পাগলের কোন লজ্জা-শরমের অনুভূতি।
আর মানুষের লজ্জাশরম হিফাজত
রাখাও ইজ্জত-সম্মানের অন্তর্ভূক্ত।
এ জন্য আল্লাহ
তা‘আলা মানুষকে আব্রু
রক্ষার্থে পোশাক দিয়েছেন। আল্লাহ
তা‘আলা বলেন, “হে বনী আদম!
আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ
করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত
করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজ-
সজ্জার বস্ত্র। আর পরহেযগারীর
পোশাক – এটি সর্বোত্তম।
এটা আল্লাহর কুদরতের অন্যতম
নির্দশন, যাতে তারা চিন্তা-
ভাবনা করে।” (সূরাহ আ‘রাফ, আয়াত :
২৬)
তাই আমরা মানুষরা লজ্জাস্থান আবৃত
করে ইজ্জত-সম্মান বাঁচানোর জন্য
আল্লাহ প্রদত্ত পোশাক ব্যবহার
করে থাকি। পুরুষ যারা আছে, তাদের
লজ্জাস্থানের সীমানা হলো – নাভীর
নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা।
তেমনি নারীদের জন্যও লজ্জাস্থান
হিফাজতের হুকুম রয়েছে। বিধান
অনুযায়ী তাদের লজ্জাস্থানের
সীমানা হলো – তাদের আপাদমস্তক
সমস্ত শরীর। তাই নারীদের হিজাব
পড়ে বেগানা পুরুষ থেকে তাদের সমস্ত
শরীর ঢেকে রাখা কর্তব্য।
নারীরা এ বিধান পালনে বাইরে বের
হওয়ার জন্য বোরকা দ্বারা শরীর
আবৃত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়,
অনেকে তা ব্যবহার করে না।
তারা মহান আল্লাহর এ
পর্দা বিধানকে উপেক্ষা করে চলে।
যারা বোরকা পরে পর্দার
আড়ালে থাকতে চায় না,
বর্তমানে তাদের কারণে বখাটে ছেলেদের
উৎপাতে মেয়েদের বিভিন্ন সমস্যায়
পড়তে হচ্ছে। আর এর কারণেই
সাম্প্রতিককালে বহুল আলোচিত বিষয়
হয়ে দাঁড়িয়ে ইভটিজিং বা নারীদের
প্রতি যৌন হয়রানি। আজকাল
“ইভটিজিং-এর প্রতিবাদে স্কুল-
কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও
অভিভাবকদের অংশগ্রহণে এক
মানববন্ধন”, “বখাটেদের উৎপাত
বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি”,
“ইভটিজিং বন্ধে গণপ্রতিরোধ
গড়ে তোলার দাবিতে গণজমায়েত”,
“সারা দেশে অব্যাহতভাবে নারীর
প্রতি অবমাননাকর আচরচণ ও
নির্যাতন বন্ধ ও আত্মহত্যার
প্ররোচনা দানকারীদের গ্রেফতার ও
বিচারের দাবি” এই নামে পত্র-
পত্রিকায়
লেখালেখি করে সারা দেশে গণজাগরণ
সৃষ্টি করলেও তা প্রতিরোধ
করা সম্ভব হচ্ছে না।
আর এই পদ্ধতিতে ফলপ্রসু কিছু হবেও
না – যদি মেয়েরা এভাবে হিজাব
বা পর্দা লংঘন করে বেপর্দা-
অর্ধোলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করে। মহান
আল্লাহর বিধান লংঘনের পরিণতিই
যে এটা।
সুতরাং বখাটে ছেলেদের হাত
থেকে মেয়েদের বাঁচার একমাত্র পথ হল
– তাদের পুরোপুরিভাবে পর্দাবিধান
পালন করা। যদি তারা পর্দার হুকুম
পালন করে চলে,
তাহলে তারা ইভটিজিংসহ অনেক
সমস্যা থেকে বেঁচে যাবে।
নারীদেরকে পর্দার নির্দেশ
দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
“ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন
তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের
যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন
যা সাধারণত প্রকাশমান
তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য্য প্রদর্শন
না করে এবং তারা যেন তাদের জিলবাব
বক্ষদেশে দেয় আর তারা যেন তাদের
স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর
পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা,
স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাঁদী,
যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক –
যারা নারীদের গোপন অঙ্গ
সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতীত
কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ
না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-
সজ্জা প্রকাশ করার জন্য
জোরে পদচারনা না করে। হে মুমিনগণ!
তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট
তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম
হও।” (সূরাহ নূর, আয়াত : ৩১)
সম্প্রতি নারীদের লাগামহীন চলাফেরা,
নির্লজ্জভাবে স্কীন টাইট-শর্ট
পোষাক পরিধান, উত্তেজক নৃত্য-
ক্রীড়া,
অঙ্গভঙ্গি প্রভৃতি বর্তমানে ফ্যাশন
হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মেয়েদের এ
অশ্লীলতা ছেলেদের
চরিত্রকে অবক্ষয়গ্রস্ত করে দিচ্ছে।
হাদীসের বর্ণনা মতে,
নারীরা হচ্ছে শয়তানের ফাঁদ। যখন
তারা অর্ধনগ্ন হয়ে বাইরে বের হয়,
তখন শয়তান বখাটে যুবকদের
চোখে তাদেরকে আকর্ষণীয়
করে দেখায়। আর এতে তারা বেসামাল
হয়ে নানা অপকর্ম ঘটায়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে – নারীদের
প্রতি যৌন হয়রানি বা ইভটিজিং-এর
প্রধান কারণই হচ্ছে নারীদের
বেপর্দা ও বেপরোয়া চলাফেরা।
এমতাবস্থায় যদি আমরা ইভটিজিং ও
বখাটেদের উৎখাতে সোচ্চার হওয়ার
সাথে সাথে আমাদের মেয়েদেরকেও
ইসলামী বিধান অনুযায়ী পর্দার
আড়ালে রাখতে পারি,
তাহলে আশা করা যায় – ইভটিজিংসহ এ
সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান
হয়ে যাবে।
তা না করে সরকারীভাবে বিভিন্ন আইন
প্রণয়ন করা, মিছিল-
মিটিং করা এবং বিভিন্ন ধরনের
ইভটিজিংবিরোধী উদ্যোগ গ্রহণ করেও
যদি মেয়েদেরকে বেপর্দাভাবে ও
বেলাগাম ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে এই
ইভটিজিং কোনদিন বন্ধ হবে না।
কেননা, সুটকিমাছ হিফাজত
করে না রাখলে তো বিড়ালের আহার
হবেই। এই দুষ্ট লোভী বিড়ালের হাত
থেকে বাঁচাতে হলে সুটকি মাছকে যদি খুব
সতর্কতা সাথে হিফাজত করি,
তাহলে বিড়ালকে তাড়ানোর জন্য
আন্দোলন করতে হবে না।
বলা বাহুল্য, যদি মেয়েরা পর্দার
সাথে স্কুল-কলেজে বা যে কোন
স্থানে যাতায়াত করে,
তাহলে ইভটিজিং তো দূরের কথা,
তাদেরকে চিনতেই পারবে না বখাটেরা।
এতে সমস্যা নিমিষেই খতম হয়ে যাবে।


ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "ইসলাম গ্রহণ নিয়ে সাক্ষাতকার হিন্দু থেকে মুসলমান হলেন গঙ্গারাম চোপড়া
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

এক জান্নাতী সাহাবিয়ার অনন্য সাধারণ ঘটনা ...♥♥♥...

হযরত আনাস ইবনে মালিক রা.
হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
স্বপ্নে আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম।
হঠাৎ কারো নড়াচড়ার শব্দ
শুনতে পেলাম।
আমি ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম,
ইনি কে? তারা বললেন, ইনি হলেন
রুমাইছা বিনতে মিলহান, আনাস
ইবনে মালিকের আম্মা। -সহীহ মুসলিম,
হাদীস : ২৪৫৬; মুসনাদে আহমদ,
হাদীস : ১১৯৫৫; তবাকাতে ইবনে সাদ
৮/৪২৯; মুসনাদে তয়ালিসী, হাদীস :
১৭১৫
হযরত জাবের রা. হতে বর্ণিত
হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
আমি স্বপ্নে দেখলাম জান্নাতে প্রবেশ
করেছি। হঠাৎ দেখি আমার সামনে আবু
তলহার স্ত্রী রুমাইছা। -সহীহ বুখারী,
হাদীস : ৩৬৭৯; মুসনাদে আহমদ,
হাদীস : ১৫০০২; সহীহ ইবনে হিববান,
হাদীস : ৭০৮৪; সুনানে নাসায়ী কুবরা,
হাদীস : ৮১২৪
হযরত রুমাইছা বিনতে মিলহান
আনসারিয়া রা.-এর উপনাম হল
উম্মে সুলাইম। এ নামেই তিনি অধিক
প্রসিদ্ধ।
তিনি অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্যের
অধিকারিনী ছিলেন। ইসলাম
গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবীদের
মধ্যে তিনিও একজন। প্রথমে মালেক
ইবনে নযরের সাথে তার বিবাহ হয়েছিল।
সেই ঘরেই হযরত আনাস রা. জন্মগ্রহণ
করেন। তার ইসলাম গ্রহণে ক্রুদ্ধ
হয়ে স্বামী মালেক ইবনে নযর দেশত্যাগ
করে সিরিয়ায় চলে যায় এবং সেখানেই
তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তিনি হযরত
আবু তালহা রা.-এর
সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
হযরত উম্মে সুলাইমের দ্বিতীয় বিবাহ
(হযরত আবু তালহার সাথে)
সম্পর্কে হযরত আনাস রা.
বর্ণনা করেন, ইসলাম গ্রহণের
পূর্বে হযরত আবু
তালহা উম্মে সুলাইমকে বিবাহের
প্রস্তাব দেন।
প্রতি উত্তরে উম্মে সুলাইম রা. বলেন,
আপনি কি জানেন, আপনি যে উপাস্যের
পূজা করেন তা জমি থেকে উৎপন্ন?
(মাটি, গাছ ও খড়কুটা দিয়ে তৈরি)
তিনি বললেন, হ্যাঁ। উম্মে সুলাইম রা.
বলেন, গাছ-গাছালির
পূজা করতে আপনার কি লজ্জা করে না?
আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।
আপনি যদি আমার ধর্মের অনুসরণ
করেন তবেই আমি আপনাকে বিবাহ
করব। আপনার ইসলাম গ্রহণ করাটাই
আমার মোহর। আমি এছাড়া আর
কোনো মোহর চাই না। তিনি বললেন, ঠিক
আছে। আমি ভেবে দেখি। তারপর
তিনি ফিরে এসে বললেন, আমিও আপনার
ধর্মের অনুসারী।
কালিমা পড়ে তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন
এবং উম্মে সুলাইমকে বিবাহ করেন। -
সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ৩৩৪০;
মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস :
১০৪১৭
হযরত আনাস রা. যখন দশ বছর
বয়সে উপনীত হলেন, তার আম্মা হযরত
উম্মে সুলাইম তাকে নিয়ে রাসূলের
দরবারে আগমন করলেন এবং বললেন,
ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই আমার
ছেলে আনাস, আজ থেকে আপনার খেদমত
করবে। তখন থেকেই আনাস রা. নিয়মিত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমত
করেছেন। হযরত আনাস রা. বলেন,
আল্লাহ তাআলা আমার
আম্মাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
তিনি আমাকে উত্তমভাবে লালন-পালন
করেছেন।
হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন,
নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম ও
কিছু
আনসারী মহিলাকে যুদ্ধে নিয়ে যেতেন
যুদ্ধাহতদের সেবা-শুশ্রূষা ও পানি পান
করাতে।
হুনাইনের যুদ্ধে তিনি খঞ্জর
হাতে নিয়ে রণাঙ্গনের
দিকে এগিয়ে গেলেন। আবু তালহা রা.
বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই
যে উম্মে সুলাইম, তার হাতে খঞ্জর!
উম্মে সুলাইম বললেন, কোনো মুশরিক
আমার নিকটবর্তী হওয়ার
চেষ্টা করলে আমি এটা দিয়ে তার
নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলব।
হাদীস, ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থগুলো
তে তার বীরত্ব, সাহসিকতা, ধার্মিকতা,
প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার অনেক
ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
তবে তিনি মুসিবতের সময়
ধৈর্য্যশীলতা ও বুদ্ধিমত্তার যে অনন্য
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইতিহাসের
পাতায় তার নজির খুঁজে পাওয়া সত্যিই
কঠিন।
ইমাম বুখারী রাহ. তার বিখ্যাত
হাদীসগ্রন্থ সহীহ বুখারীতে তার এই
ঘটনার শিরোনাম করেছেন এভাবে-
‘মুসিবতের সময় যিনি তার
মর্মবেদনা প্রকাশ করেন না।’ তার সেই
ঘটনার বিবরণ এরূপ-
হযরত আবু তালহার
সাথে উম্মে সুলাইমের বিবাহ হওয়ার পর
তাদের খুব সুন্দর
ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ
করে। তার নাম রাখা হয় উমাইর। তার
ছোট একটি পাখিও ছিল, যার
সাথে সে খেলত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝেমধ্যে সেই
শিশুটির সাথে কৌতুক করতেন
এবং বলতেন, হে উমাইর! তোমার
বুলবুলির কী খবর!’
আবু তালহা রা. তাকে অত্যাধিক
ভালবাসতেন। একদিন ছেলেটি অসুস্থ
হয়ে পড়ল। আবু তালহা রা. এ নিয়ে খুব
চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি অস্থির
হয়ে পড়লেন। তার অভ্যাস ছিল,
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায়
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
দরবারে আসা যাওয়া করতেন। এক
বিকেলে তিনি ঘর থেকে বের হলেন।
ইত্যবসরে তার অসুস্থ ছেলে মৃত্যুবরণ
করল। এ দিকে উম্মে সুলাইম রা. মৃত্যুর
পর ছেলেকে গোসল করালেন, কাফন
পরালেন, সুগন্ধি মেখে দিলেন। কাপড়-
চোপড় দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিয়ে ঘরের
এক কোণে সুন্দরভাবে শুইয়ে রাখলেন।
আর হযরত আনাস রা.কে পাঠিয়ে হযরত
আবু তালহাকে ডেকে পাঠালেন
এবং তাকে বলে দিলেন আবু
তালহাকে যেন পুত্রের মৃত্যুসংবাদ
না জানায়।
আবু তালহা রা. সেদিন রোযা রেখেছিলেন।
উম্মে সুলাইম রা. তার জন্য
খানা তৈরি করলেন। আবু তালহা রা.
ঘরে ফিরেই সন্তানের কথা জিজ্ঞেস
করলেন। উম্মে সুলাইম বললেন, সে এখন
আগের চেয়ে শান্ত। ক্লান্ত
স্বামীকে তৎক্ষণাৎ পুত্রের মৃত্যুসংবাদ
জানালেন না। ঘরের লোকদেরকেও নিষেধ
করে রেখেছিলেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ
যেন এ সংবাদ তাকে না জানায়। হযরত
আবু তালহা রা. তার
কথা শুনে ভেবেছিলেন ছেলে তাঁর সুস্থ
হয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। তাই তিনিও
নিশ্চিন্ত মনে রাতের খাবার খেলেন
এবং বিশ্রাম নিলেন।
এমনকি ভোরে গোসলও করলেন।
হযরত আবু তালহা রা. বের হওয়ার
আগে উম্মে সুলাইম রা. তাকে বললেন,
বলুন কেউ যদি কারো কাছে কোনো কিছু
গচ্ছিত রাখে অতপর তার
কাছে তা ফেরত চায় তবে তার
কি অধিকার আছে তা ফেরত
না দিয়ে নিজের কাছে আটকে রাখার?
আবু তালহা রা. বললেন, না তার এ
অধিকার নেই। হযরত উম্মে সুলাইম
এবার শান্ত কণ্ঠে বললেন, আপনার
পুত্রের ব্যাপারে সবর করুন। আল্লাহ
তাআলা তাকে আমাদের কাছে গচ্ছিত
রেখেছিলেন তারপর
তিনি ফিরিয়ে নিয়েছেন। আবু তালহা রা.
এতে রাগান্বিত হলেন এবং রাতের
আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
নিকট স্ত্রীর নামে অভিযোগ করলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের
ঘটনা শুনে বিমুগ্ধ হলেন এবং দুআ
করলেন-‘আল্লাহ তোমাদের এ
রাতে বরকত দান করুন।’ তারপর
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আবদুল্লাহ
নামে আরেকটি পুত্র সন্তান দান
করলেন। সেই আবদুল্লাহ ইবনে আবু
তালহাকে পরবর্তীতে আল্লাহ
তাআলা সাত পুত্র দান করলেন, যাদের
প্রত্যেকেই কুরআনের আলেম হয়েছেন। -
সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩০১;
মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১২০৮;
ফাতহুল বারী ৩/২০১;
তবাকাতে ইবনে সাদ ৮/৪৩১-৩২
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.
এই হাদীসের অনেক ফাওয়ায়েদ উল্লেখ
করেছেন। প্রথমে তিনি উম্মে সুলাইমের
বৈশিষ্ট্য ও মহত্ব বর্ণনা করেছেন যে,
তিনি উক্ত ঘটনার মাধ্যমে তার
প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, সহিষ্ণুতা ও নেক
গুণাবলির পরিচয় দিয়েছেন।
প্রথমে স্বামীকে পুত্রের মৃত্যু সংবাদ
না জানিয়ে তাকে নিশ্চিন্তে রাত্রিযাপনের
সুযোগ দিয়েছেন। সন্তানের
মৃত্যুকে গচ্ছিত বস্ত্তর ফেরৎ নেয়ার
সাথে উদাহরণ দিয়ে শোকার্ত
স্বামীকে যেমন সান্ত্বনা দিয়েছেন
তেমনি আল্লাহর
ফয়সালাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়ার
শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা যখন
তার উদ্দেশ্য ও নিয়তের
সততা সম্পর্কে জানলেন তার
মর্যাদা বৃদ্ধি করলেন
এবং তিনি আল্লাহর রাসূলের বরকতের
দুআ লাভ করলেন। এক্ষেত্রে শিক্ষণীয়
বিষয় হল আল্লাহ তাআলার
ফয়সালাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়া।
বিপদ-আপদে ধৈর্য্য ধারণ
করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম
বিনিময় প্রত্যাশা করা। প্রয়োজনের
ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থবোধক বাক্য ব্যবহার
করা। স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য
সাজসজ্জা গ্রহণ করা ইত্যাদি। —


ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "নবী [সা] এর খেদমতে নারীর জিজ্ঞাসা-০১
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

নবী [সা] এর খেদমতে নারীর জিজ্ঞাসা-০১

হযরত আয়েশা [রাযি] বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
সামনে "দব" (মরুভূমির গিরগিটি জাতীয়
একটি প্রাণী) রান্না করে পেশ করা হল।
তিনি তা খেলেন না,
কাউকে খেতে নিষেধও করলেন না। তখন
আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
ইয়া রাসূলাল্লাহ!
আমরা কি তা মিসকীনদেরকে খাওয়াতে পারি?
উত্তরে তিনি বললেন- ﻻ ﺗﻄﻌﻤﻮﻫﻢ
ﻣﻤﺎ ﻻ ﺗﺄﻛﻠﻮﻥ
তোমরা নিজেরা যা খাও
না তা গরীবদেরকে খাওয়াবে না।
{মুসনাদে আহমদ, হাদীস-২৪৬১৭}
••• আমরা অনেকেই
নিজেরা যা খেতে পারি না, যেই খাবার
বাসি হয়ে যায়, যেই খাবার খেতে মন চায়
না তাই গরীবদেরকে দান করি, এমন
না হওয়া উচিত, কারণ আল্লাহর
সন্তুষ্টির জন্য যখন দান করছি তখন
নিজের পছন্দনীয় জিনিস দান
করা উচিত।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "মহিলা সাহাবীয়া [রাযি]দের দ্বীনী এলেম শিখার প্রতি আগ্রহ
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

মহিলা সাহাবীয়া [রাযি]দের দ্বীনী এলেম শিখার প্রতি আগ্রহ

আবু সাঈদ খুদরী [রাযি] বলেন, নারীগণ
নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিল,
পুরুষেরা আপনার
বিষয়ে আমাদিগকে পিছনে ফেলিয়াছে।
সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আপনার
পক্ষ হইতে একটি দিন নির্ধারণ করুন।
তখন তিনি তাহাদের জন্য একটি দিন
নির্ধারণ করিলেন এবং ওই দিন তাহাদের
সহিত সাক্ষাত করিলেন। অনন্তর
তাহাদিগকে উপদেশ দিলেন এবং আদেশ
দিলেন। তিনি তাহাদিগকে যাহা কিছু
বলিলেন, তন্মধ্যে একটি কথা এই,
তোমাদের যে কোন মহিলা, তিনটি সন্তান
অগ্রবর্তী করিবে, তাহা তাহার জন্য
জাহান্নাম হইতে আড়াল হইবে।
জনৈকা স্ত্রীলোক প্রশ্ন করিল, দুইটি?
তিনি বলিলেন? দুইটিও। {বুখারী,
কিতাবুল ইলম, হাদীস-১০১}
"সাহাবী" শব্দের স্ত্রী লিংগ হল
"সাহাবীয়া"

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "পর্দার বিধান হাদীস শরীফে ..♥...
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

পর্দার বিধান হাদীস শরীফে ..♥...

১. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)
থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
নারী হল সতর তথা আবৃত থাকার
বস্ত্ত। নিশ্চয়ই সে যখন ঘর থেকে বের
হয় তখন শয়তান তাকে মনোযোগ
দিয়ে দেখতে থাকে। আর সে যখন
গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করে তখন
সে আল্লাহ তাআলার
সবচেয়ে বেশি নিকটে থাকে।-আলমুজামুল
আওসাত, তবারানী
এই হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে,
বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের
হওয়া উচিত নয়।
২. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ)
থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও
হাতমোজা পরিধান না করে। (সহীহ
বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)
কাযী আবু বকর ইবনে আরাবী বলেন,
নারীর জন্য বোরকা দ্বারা মুখমন্ডল
আবৃত রাখা ফরয। তবে হজ্বের সময়টুকু
এর ব্যতিক্রম। কেননা, এই সময়
তারা ওড়নাটা চেহারার উপর
ঝুলিয়ে দিবে, চেহারার
সাথে মিলিয়ে রাখবে না। পরপুরুষ
থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে এবং পুরুষরাও
তাদের থেকে দূরে থাকবে। (আরিযাতুল
আহওয়াযী ৪/৫৬)
৩. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ)
থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত কাপড়
ঝুলিয়ে রাখে কিয়ামতের দিন আল্লাহ
তাআলা তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে)
তাকাবেন না। তখন উম্মুল মুমিনীন
উম্মে সালামা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন,
তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুল
কীভাবে রাখবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক বিঘত
ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালামা বললেন,
এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এক
হাত ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়। -
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪১১৭;
জামে তিরমিযী ৪/২২৩; সুনানে নাসাঈ
৮/২০৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক
১১/৮২
ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীসে নারীর
জন্য কাপড় ঝুলিয়ে রাখার অবকাশ
দেওয়া হয়েছে। কারণ এটিই তাদের জন্য
অধিক আবৃতকারী।
৪. ওকবা ইবনে আমের জুহানী (রাঃ)-এর
সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
তোমরা নারীদের নিকট
যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক
আনসারী সাহাবী আরয করলেন,
ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্বামী পক্ষীয়
আত্মীয় সম্পর্কে আপনি কী বলেন?
তিনি বললে, সে তো মৃত্যু। -সহীহ
বুখারী ৯/২৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস :
২১৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস :
১১৭১; মুসনাদে আহমাদ ৪/১৪৯,
১৫৩
এই হাদীসে বেগানা নারী-পুরুষের একান্ত
অবস্থানকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ
প্রসঙ্গে স্বামী পক্ষীয় আত্মীয়-
স্বজন যেমন দেবর-ভাসুর ইত্যাদির
সাথে অধিক
সাবধানতা অবলম্বনকে অপরিহার্য
করা হয়েছে।
৫. হযরত আয়েশা (রাঃ) ইফ্কের দীর্ঘ
হাদীসে বলেছেন-আমি আমার
স্থানে বসে ছিলাম একসময় আমার চোখ
দুটি নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল
এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সফওয়ান
ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর
পিছনে আগমনকারী। সে যখন আমার
অবস্থানস্থলের নিকট পৌছল তখন
একজন ঘুমন্ত মানুষের
আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার
নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ
পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার
আগে সে আমাকে দেখেছিল। সে তখন
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম
থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত
করে ফেলি।
অন্য রেওয়ায়েতে আছে,
আমি ওড়না দিয়ে আমার
চেহারা ঢেকে ফেলি।-সহীহ
বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস :
২৭৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস :
৩১৭৯
৬. উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)
বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
নিকট ছিলাম। উম্মুল মুমিনীন
মায়মুনা (রাঃ) ও সেখানে উপস্থিত
ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ
ইবনে উম্মে মাকতুম উপস্থিত হলেন।
এটি ছিল পর্দা বিধানের পরের ঘটনা।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
তোমরা তার সামনে থেকে সরে যাও।
আমরা বললাম, তিনি তো অন্ধ,
আমাদেরকে দেখছেন না?! তখন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও
কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না? -
সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৬১, হাদীস :
৪১১২; জামে তিরমিযী ৫/১০২,
হাদীস : ২৭৭৯; মুসনাদে আহমাদ
৬/২৯৬; শরহুল মুসলিম,
নববী ১০/৯৭; ফাতহুল বারী ৯/২৪৮
৭. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেন,
আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম
অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ
দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত।
তারা যখন আমাদের
সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের
সকলেই চেহারার ওপর
ওড়না টেনে দিতাম।
তারা চলে গেলে আবার
তা সরিয়ে নিতাম।-মুসনাদে আহমাদ
৬/৩০; ইবনে মাজাহ,
হাদীস: ২৯৩৫
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষের
সামনে চেহারা ঢেকে রাখা আবশ্যক।
৮. আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ)
বলেন, আমরা পুরুষদের সামনে মুখমন্ডল
আবৃত করে রাখতাম। -
মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪৫৪
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, সাহাবা-যুগের
সাধারণ মহিলারাও গায়র মাহরাম পুরুষ
থেকে নিজেদের চেহারা আবৃত করতেন।
কারণ আসমা বিনতে আবি বকর রা.
এখানে বহুবচন ব্যবহার করেছেন।
যা প্রমাণ করে উম্মুল মুমিনগণ
ছাড়া অন্য নারীরাও তাদের মুখমন্ডল
আবৃত রাখতেন।
৯. ফাতিমা বিনতে মুনযির (রাহঃ) বলেন,
আমরা আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ)-
এর সাথে ইহরাম অবস্থায়
থাকাকালে আমাদের মুখমন্ডল
ঢেকে রাখতাম।-মুয়াত্তা, ইমাম মালেক
১/৩২৮; মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪৫৪
হযরত ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেছেন-যখনই কোনো পুরুষ
কোনো নারীর সাথে একান্তে সাক্ষাত
করে তখন তাদের তৃতীয়জন হয়
শয়তান।-জামে তিরমিযী
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেন,
একজন মহিলা পর্দার পিছন
থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
হাতে একটি কাগজ দিতে চাইল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত
গুটিয়ে নিলেন (কাগজটি নিলেন না এবং)
বললেন, আমি জানি না, এটা কি পুরুষের
হাত না নারীর। মহিলা আরজ করলেন,
‘নারীর হাত।’ নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
‘তুমি যদি নারী হতে তাহলে নিশ্চয়ই
নখে মেহেদী থাকত।’-সুনানে আবু দাউদ,
সুনানে নাসায়ী
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, পীর-মুর্শিদ
ও উস্তাদের সাথেও
পর্দা করা অপরিহার্য।
হযরত উমাইমা বিনতে রুকাইকা (রাঃ)
থেকে বাইয়াত সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ
হাদীসে আছে যে, নারীগণ বললেন,
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের
প্রতি আমাদের নিজেদের চেয়েও
মেহেরবান। সুতরাং আপনার হাত
মোবারক দিন, আমরা বাইয়াত হই।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
আমি নারীদের সাথে হাত মিলাই না।
(যা মুখে বলেছি তা মেনে চলাই তোমাদের
জন্য অপরিহার্য)।-মুয়াত্তা মালিক
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেন,
আল্লাহর কসম! বাইয়াতের সময় তাঁর
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
এর) হাত কখনো কোনো নারীর হাত
স্পর্শ করেনি। তিনি শুধু মুখে বলতেন,
তোমাকে বাইয়াত করলাম।-সহীহ
বুখারী ২/১০৭১
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
দুই শ্রেণীর দোযখী এখনও আমি দেখিনি।
(কারণ তারা এখন নেই,
ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করবে) এক
শ্রেণী হচ্ছে ঐ সকল মানুষ, যাদের
হাতে ষাঁড়ের লেজের মতো চাবুক থাকবে,
যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে।
(দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে) ঐ সকল নারী,
যারা হবে পোশাক পরিহিতা, নগ্ন,
আকৃষ্ট ও আকৃষ্টকারী; তাদের
মাথা হবে উটের হেলানো কুঁজের ন্যায়।
এরা জান্নাতে যাবে না এবং জান্নাতের
খুশবুও পাবে না অথচ জান্নাতের খুশবু
তো এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে।-
মুসলিম ২/২০৫, হাদীস : ২১২৮
এই হাদীসে বেপর্দা নারীদের প্রতি কঠিন
হুঁশিয়ারি শোনানো হয়েছে। সুতরাং তাদের
মৃত্যুর আগেই তাওবা করে পর্দার
বিধানের দিকে ফিরে আসা কর্তব্য।
উপরের আলোচনা থেকে জানা গেল যে,
কুরআন মজীদে ও হাদীস
শরীফে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্দার
বিধান দেওয়া হয়েছে। এই বিধান
মেনে চলা সকল ঈমানদার নারী-পুরুষের
জন্য অপরিহার্য। —

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "রাসূলুল্লাহ [সা] এর খেদমতে নারীর জিজ্ঞাসা-০৪
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রাসূলুল্লাহ [সা] এর খেদমতে নারীর জিজ্ঞাসা-০৪

হযরত আসমা রা. বলেন, আমার
আম্মা মদীনা শরীফে আমার নিকট
এলেন। তিনি তখন মুশরিক ছিলেন। ঐ
সময় মক্কার মুশরিকদের
সাথে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্ধি ছিল।
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম,
‘আমার আম্মা আমার নিকট এসেছেন
এবং তিনি ইসলাম থেকে বিমুখ। (এখন
আমি তার সাথে কেমন আচরণ করব)?’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
তুমি মায়ের সাথে সুসম্পর্কের পরিচয়
দাও।-সহীহ বুখারী ২/৮৮৪
ফায়েদা : জিজ্ঞাসা থেকেই বোঝা যায়,
তাওহীদ ও শিরকের বিষয়ে মায়ের সাথেও
যে আপোস করা যায় না এটা তাঁর
সামনে পরিষ্কার ছিল। তবে সাধারণ
আচরণের ক্ষেত্রে সন্তানের করণীয়
কী তা জিজ্ঞাসা করেছেন। তাঁর
জিজ্ঞাসার জবাবে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাচারের আদেশ
করেছেন। এ দুটো শিক্ষা কুরআন
মজীদে সুস্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।’ (দেখুন :
সূরা লুকমান : ১৪)

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "উম্মে খালিদ! হাযিহী সানা!
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

উম্মে খালিদ! হাযিহী সানা!

হযরত খালেদ (রাঃ) নামে প্রিয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
এর একজন সাহাবী ছিলেন। উম্মে খালেদ
নামে তার একটি আদুরে শিশুকন্যা ছিল।
চঞ্চল প্রজাপতির মতো সারাক্ষণ
সে হাসিখুশিতে মেতে থাকত।
একদিন তার আব্বু তাকে নিয়ে এলেন
নবীজীর কাছে। উম্মে খালেদ
তো নবীজীর কাছে আসতে পেরে খুব
খুশি। আব্বুর হাত ছাড়িয়ে সে একবার
এদিকে যায়, একবার ওদিকে। একবার
নবীজীর বালিশ ধরে তো একবার
ধরে কম্বল। এমনি করে সব
দেখা শেষে সে নবীজীর
পেছনে দাঁড়িয়ে খেলা করতে লাগল
নবীজীর পিঠের মোহরে নবুওয়ত নিয়ে।
নবীজী ঠিকই বুঝতে পারছিলেন তাঁর
পেছনে কে দাঁড়িয়ে আছে আর
তুলতুলে নরম হাত দুটি কার।
হযরত খালেদ (রাঃ) এতক্ষণ তা লক্ষ্য
করেননি। হঠাৎ তিনি উম্মে খালেদ
নবীজীর মোহরে নবুওয়ত
নিয়ে খেলা করতে দেখে ব্যস্ত
হয়ে ওঠলেন এবং বললেন,একি করছ
উম্মে খালেদ! নবীজীকে বিরক্ত করছ?’
উম্মে খালেদ হকচকিয়ে গেলেন। সত্যিই
তো নবীজীকে বিরক্ত করাটা মোটেই
ঠিক হয়নি। কিন্তু আমাদের
নবীজী তো ছিলেন সর্বোত্তম
আখলাকের অধিকারী। শিশুদের
তিনি কখনো ধমক দিতেন না, শুধু আদর
করতেন। উম্মে খালেদকেও আদর
করলেন। আদর পেয়ে উম্মে খালেদ
তো খুশিতে আটখানা! নবীজী কত ভালো!
আব্বুর চেয়ে ভালো। আব্বু শুধু শুধু
বকা দিলেন। আর নবীজী কিছুই বললেন
না। শুধু আদর করলেন।
***
একদিন নবীজী কিছু জিনিসপত্র বণ্টন
করে দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে দুদিকে সুন্দর
পাড়ওয়ালা একটি ছোট
নকশা করা ওড়না পেলেন।
নবীজী ভাবতে লাগলেন
এটা কাকে দেওয়া যায়। কিছুক্ষণ
ভেবে একজনকে ডেকে বললেন,
উম্মে খালেদকে নিয়ে এসো তো।
উম্মে খালেদ এলে নবীজী তার মাথায়
নিজের হাতে ছোট্ট
ওড়নাটা পরিয়ে দিলেন। বললেন,
উম্মা খালেদ! হাযিহী সানা!’
‘সানা শব্দটি আরবী নয়, হাবাশী। কিন্তু
নবীজী তা ব্যবহার করেছেন। এর কারণ
হল, উম্মে খালেদ যখন একবারে ছোট
তখন তার
আব্বা আম্মা তাকে নিয়ে হাবশা দেশে হিজরত
করেছিলেন। সে দেশে থেকে উম্মে খালেদ
তাদের কিছু কিছু ভাষা শিখে ফেলেছিলেন।
সুন্দরকে আরবী ভাষায় বলে হুসনা।
উম্মে খালেদ এটাকে হাবশী ভাষায়
বলতেন, সানা। তাই নবীজীও বললেন,
সানা’!
নবীজীর উপহার পেয়ে উম্মে খালিদের
কচি মুখখানা ফুলের মতো সুন্দর
হাসিতে ভরে উঠল। আর তার
কানে বাজতে লাগল নবীজীর
বাণী উম্মে খালিদ! হাযিহী সানা’!
**পড়া শেষে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
মানবতার মুক্তির
লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন,
একটি অগ্নিশিখা থেকে
জ্বেলে দিন লক্ষ আলোক প্রদীপ।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "বুদ্ধিমতী স্ত্রী ...♥♥...
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

বুদ্ধিমতী স্ত্রী ...♥♥...

হযরত উতবী (রাহঃ) বর্ণনা করেন,
একদা তিনি বসরা শহরের কোন
রাস্তা দিয়ে যাচিছলেন, হঠাৎ
রাস্তায় এক অপূর্ব
সুন্দরী রমণী নজরে পড়লো। সে কুৎসিত

বীভৎস চেহারার এক বয়োবৃদ্ধ লোকের
সাথে হাসি-তামাশা করছে। সুন্দর
সুন্দর কথা বলে লোকটির
মুখে হাসি ফুটাচ্ছে।
আমি মেয়েটির কাছে গিয়ে বললাম, এই
লোকটি কে? মেয়েটি উত্তর দিলো,
তিনি আমার স্বামী। আমি বললাম,
তুমি এত সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও এরূপ
কুৎসিত স্বামী নিয়ে কিভাবে ধৈর্য
ধারণ করলে? মেয়েটি উত্তর দিলো,
আমাকে পেয়ে সে আল্লাহ তায়ালার
শোকর আদায় করে,
পক্ষান্তরে আমি তাঁকে পেয়ে ধৈর্য
ধারণ করি। হাদীসে বলা হয়েছে,
ধৈর্যশীল আর
শোকরকারী উভয়ে জান্নাতি। এরপরও
কি আমি আল্লাহ তায়ালার
বণ্টনে সন্তুষ্ট হবো না? মেয়েটির
জবাব
শুনে আমি নিরুত্তর হয়ে নিজের পথ
ধরলাম। {খুলুকুল মুমিন : ৭৩}
# পড়া শেষে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
মানবতার মুক্তির
লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন,
একটি অগ্নিশিখা থেকে
জ্বেলে দিন লক্ষ আলোক প্রদীপ।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "হিজাব ও পর্দা : কিছু কথা
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

হিজাব ও পর্দা : কিছু কথা

ইসলামের বিধানেই রয়েছে নারীর
মর্যাদা ও নিরাপত্তা। এই সত্য এখন
অনেকেই উপলব্ধি করছেন। ইসলামের
পর্দা-বিধান সম্পর্কে আগে যারা অনেক
রকম কথা বলেছেন সম্প্রতি তাদের
কথার জোর অনেকটাই কমে এসেছে।
প্রগতি ও নারী অধিকারের তাৎপর্যও
অনেকটা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে।
ফলে একটি নতুন শ্রেণী হিজাব-পর্দায়
উৎসাহী হচ্ছেন এবং নিকাব-
বোরকা ধারণ করছেন। কিন্তু
যে কোনো নতুন অনুশীলনে যা হয়,
এক্ষেত্রেও তা হচ্ছে। জ্ঞান ও
অভিজ্ঞতার স্বল্পতার
কারণে নতুনদের মাঝে কিছু বিচ্যুতি ও
কিছু বিভ্রান্তির ঘটনা ঘটছে। এর জন্য
আমাদের এক শ্রেণীর মিডিয়াও
অনেকটা দায়ী। হিজাব-নিকাবের
যে ধারণা ঐ সকল মিডিয়ায় প্রচারিত
হচ্ছে তা অনেকক্ষেত্রেই সঠিক ও
পূর্ণাঙ্গ ধারণা নয়। এক ধরনের
সমন্বয়ধর্মী ধারণা। তাই ইসলামের
পর্দা-বিধান
সম্পর্কে যারা কৌতুহলী তাদের
কর্তব্য, কুরআন-সুন্নাহর সঠিক বিধান
সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
বোরকা সম্পর্কে প্রথমেই
যা বুঝতে হবে তা হচ্ছে, এটি সৌন্দর্য
প্রকাশের জন্য নয়; সৌন্দর্য আবৃত
রাখার জন্য। এমন বোরকা ব্যবহার
করতে হবে, যা এই উদ্দেশ্য পূরণ করে।
টীকা : আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন
করে বলেছেন-
হে নবী! তুমি তোমার স্ত্রীদের, তোমার
কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের
বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদরের
একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর
নামিয়ে দেয়।-সূরা আহযাব : ৫৯
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা.
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নারীদের
আদেশ করেছেন তারা যেন
কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার
সময় মাথা থেকে চাদর টেনে সম্পূর্ণ
মুখমন্ডল আবৃত করে, শুধু (চলার জন্য)
এক চোখ খোলা রাখে।
ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যা জিলবাবের
ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি চাদর নিলেন
এবং ঘোমটার মতো পরে মাথা মুখ
ঢেকে ফেললেন। কপাল, নাক ও বাম
চোখও ঢাকলেন। ডান চোখ
খোলা রাখলেন। এরপর বললেন,
এভাবে আমাদেরকে চাদর পরে দেখিয়েছেন
আবদুল্লাহ ইবনে আওন
আলমাযানী তাকে দেখিয়েছেন (বিখ্যাত
তাবেয়ী) মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন
তাকে দেখিয়েছেন আবীদা সালমানী রাহ.
(যিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর
শাগরিদ ও শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ী)।-
তাফসীরে তাবারী ১০/৩৩২;
তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/৮২৫
‘জিলবাব’ অর্থ এমন বড় চাদর,
যা দ্বারা মুখমন্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত
করা যায়।-
তাফসীরে কুরতুবী ১৪/২৪৩
বোরকার দ্বারা জিলবাবের উদ্দেশ্য
উত্তমরূপে পূরণ হয়।
দ্বীনদার নারীরা আগে থেকেই বোরকায়
অভ্যস্ত। নতুনদের মাঝে যেসব ত্রুটি-
বিচ্যুতি দেখা যায় তার কিছু এই-
১. কেউ কেউ এত
আঁটোসাটো বোকরা পরেন যে, দেহের
অঙ্গ-প্রতঙ্গের আকার ফুটে উঠে।
বলাবাহুল্য, এর দ্বারা বোরকার
উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। বরং এ জাতীয়
বোরকাও ঐসব পোষাকের
অন্তর্ভুক্ত, যা পরিধান করেও
নারী অনাবৃত থাকে।
টীকা : হাদীস শরীফে এক শ্রেণীর
নারীকে খুব কঠিন ভাষায় সাবধান
করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে,
‘তারা জান্নাতের সুবাস পর্যন্ত
পাবে না।’ এরা হচ্ছে ঐ সকল নারী,
যারা পোষাক পরেও নগ্ন,
যারা (পরপুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট ও
(পরপুরুষকে) আকষর্ণকারী।।
যারা বুখতী উটের হেলানো কুঁজের
মতো মাথা বিশিষ্ট।
যারা এত মিহি কাপড় পরে যে, শরীর
দেখা যায় কিংবা সংক্ষিপ্ত পোষাক
পরিধান করে, যা শরীরের অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গ আবৃত করে না তারাই
হচ্ছে ‘পোষাক পরিহিতা নগ্ন নারী।
তদ্রূপ যারা এত আঁটোসাঁটো কাপড়
পরে যে, অঙ্গ-সৌন্দর্য কাপড়ের উপর
ফুটে থাকে তাদেরও ভয় আছে এই
সাবধান বাণীর মধ্যে পড়ে যাওয়ার।
তো কেউ যদি বোরকার নামে এমন
পোষাক পরিধান করে, যার উদ্দেশ্য
নারীদেহের সৌন্দর্য ও অঙ্গ-সৌন্দর্য
প্রদর্শন করা তাহলে এর চেয়ে বড়
দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?
২. কেউ কেউ শুধু বোরকার নীচের
অংশটি পরেন। মাথা ও মুখমন্ডল
সম্পূর্ণ অনাবৃত থাকে। আর মাথায়
স্কার্ফ বা ওড়না ব্যবহার করলেও
মুখমন্ডল খোলা রাখার রেওয়াজ
তো ব্যাপক। অনেকে একেই মনে করেন
শরীয়তের নিয়ম। এই ভুল ধারণার
ব্যাপক বিস্তারের পিছনে প্রধানত
দায়ী কিছু প্রতিষ্ঠান ও প্রচার-
মাধ্যম। অথচ মুখমন্ডল হচ্ছে দেহের
সুন্দরতম অঙ্গ। এটিই যদি পর পুরুষের
সামনে আবৃত রাখা না হয় তাহলে পর্দার
উদ্দেশ্য কীভাবে পূরণ হবে?
টীকা : মুখমন্ডলের
পর্দা সম্পর্কে গবেষক আলেমগণ বিশদ
আলোচনা করেছেন। এখানে সহজ ভাষায়
কয়েকটি কথা আরজ করছি।
ক) সূরা আহযাবের যে আয়াত (আয়াত :
৫৯) ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার অর্থ আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা.
ও মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রা.,
আবীদা সালমানী রাহ. চোখ ব্যতীত
পুরো চেহারা ঢেকে রাখা।
ইমাম আবু বকর রাযী আলজাসসাস রাহ.
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন- এই
আয়াত থেকে প্রমাণ হয়, বাইরে বের
হওয়ার সময় পর পুরুষের
দৃষ্টি থেকে নারীর মুখমন্ডল আবৃত
রাখা এবং পর্দানশীন পবিত্র নারীর
বেশ গ্রহণ করা অপরিহার্য। যাতে দুষ্ট
লোকেরা তাদের
ব্যাপারে উৎসাহী না হয়।-আহকামুল
কুরআন, জাসসাস ৩/৩৭২
আরো দেখুন : আলকাশশাফ,
যামাখশারী ৩/৩৭৪;
তাফসীরে বায়যাবী ২/২৮০;
তাফসীরে জালালাইন ৫৬০;
তাফসীরে গারাইবুল কুরআন
ওয়া রাগাইবুল ফুরকান ৫/৪৭৬;
আযওয়াউল বয়ান, মুহাম্মাদ আলআমীন
শানকীতী ৬/৫৮৬
২. হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, ‘ইহরামের হালতে মেয়েরা যেন
নেকাব ও দস্তানা ব্যবহার না করে।’-
সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৩৮
এ থেকে বোঝা যায়, সাহাবায়ে কেরামের
যুগে মেয়েরা তাদের হাত ও মুখ আবৃত
রাখতেন। এ কারণে ইহরামের সময়
নেকাব ও দস্তানা না পরার আদেশ
করতে হয়েছে।
৩. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. তাঁর
হজ্বের বিবরণে বলেছেন, সফরের
হালতে ইহরামের কারণে তারা নেকাব
খোলা রাখতেন, কিন্তু যখন
পুরুষরা নিকট দিয়ে অতিক্রম করত
তখন তারা মুখমন্ডল আবৃত
করে ফেলতেন। তারা চলে যাওয়ার পর
নেকাব তুলে ফেলতেন।-সুনানে আবু
দাউদ, হাদীস : ১৮৩৩;
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৭৫৭
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন-
সঠিকতর সিদ্ধান্ত এই যে, নারীর জন্য
পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা ও
মুখমন্ডল খোলা রাখার অবকাশ নেই।-
মাজমূআতুল ফাতাওয়া ২২/১১৪
এসব বিবরণ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়,
পর পুরুষের দৃষ্টি থেকে মুখমন্ডল আবৃত
রাখতে হবে। ইবনুল কাইয়েম রাহ. বলেন,
নারী নামায আদায়ের সময় দুই হাত ও
মুখমন্ডল খোলা রাখতে পারেন, কিন্তু
এভাবে বাজারে ও লোকের
সমাগমস্থলে যাওয়ার অবকাশ নেই।-
ই’লামুল মুয়াক্কিয়ীন ২/৪৭
বর্তমান সময়ের আরব শায়খদের
মাঝে শায়খ ইবনে বায রাহ., শায়খ
উছাইমীন ও শায়খ ইবনে জিবরীনও একই
ফতোয়া দিয়েছেন। দেখুন : রিসালাতুন
ফিলহিজাবি ওয়াসসুফূর, পৃ.১৯;
ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম পৃ.
১১৬৯
বোরকা যেহেতু বাইরে বের হওয়ার সময়ই
পরা হয় তাই বোরকা এমনভাবে পরা চাই
যা দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত থাকে।
৪. অনেকে কালো কাপড়ের কোট পরেন
এবং মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করেন। এই
কোটগুলো সাধারণত আঁটোসাটো হয়
এবং এর সাথে নেকাব পরা হয় না। তাই
এই পোষাক দ্বারাও বোরকার উদ্দেশ্য
পূরণ হয় না। বোরকার দ্বারা পূর্ণ দেহ
ও মুখমন্ডল আবৃত করতে হবে। হাত-
পাও অনাবৃত রাখা যাবে না।
টীকা : নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
যুগে মেয়েরা লম্বা ঝুলওয়ালা জামা পরিধান
করতেন, এর উদ্দেশ্য ছিল পায়ের
পাতা আবৃত রাখা। দেখুন :
মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৫৬৩৭,
৯৩৮৪, ২৪৪৬৯, ২৬৫৩২,
২৬৫৫৪, ২৬৬৩৬
এক হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পুরুষদের
সম্পর্কে বললেন, যারা অহঙ্কার বশত
মাটিতে কাপড় টেনে টেনে চলে কিয়ামতের
দিন আল্লাহ তাআলা তাদের
দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তখন উম্মুল
মুমিনীন উম্মে সালামা রা. মেয়েদের
কাপড়ের ঝুল
সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, মেয়েদের ঝুল এক বিঘত
লম্বা হতে পারবে। উম্মুল মুমিনীন
আরজ করলেন, এতে তো (চলাফেরার
সময়) পায়ের পাতা বের হয়ে যাবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেন, তাহলে এক হাত ঝুলিয়ে দিবে।
এর বেশি নয়।-মুসান্নাফ আবদুর
রাযযাক, হাদীস : ১৯৯৮৪;
জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৮৩১;
সুনানে নাসায়ী ৮/২০৯
আলিমগণ বলেছেন, কাপড়ের ঝুল দীর্ঘ
রাখার উদ্দেশ্য মোজা দ্বারা পূরণ হয়।
এজন্য মোজা ব্যবহার করলে ঝুল দীর্ঘ
রাখার প্রয়োজন নেই। (দেখুন :
আলইসতিযাকার ৭/৩১৫; জামউল
ওসাইল শরহুশ শামাইল
মোল্লা আলী কারী ১/১৭৪)
পর্দানশীন নারীদের উচিত বাইরে বের
হওয়ার সময় মোজা ও দাস্তানা ব্যবহার
করা।
৪. কেউ কেউ এত জাকজমকপূর্ণ
বোরকা ব্যবহার করেন, যা অন্যের
মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটা ঠিক নয়।
বোরকা সাদাসিধা হওয়া চাই। যে পোষাক
নারীর রূপ সৌন্দর্যের আবরণ তাই
যদি হয় অন্যের
দৃষ্টি আকর্ষণকারী তাহলে তা কি বোরকার
উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়?
টীকা : আল্লামা আলুসী রা. বলেন,
আমি মনে করি, কুরআন
মজীদে সৌন্দর্য প্রদর্শনকে নিষিদ্ধ
করে যে বিধান দেওয়া হয়েছে এ সময়ের
অধিকাংশ বিলাসী নারীদের পোষাক তার
সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তারা ঘর
থেকে বের হওয়ার সময় এমন
ঝলমলে রেশমের ও সোনা-রূপার কারুকাজ
করা বোরকা পরিধান করে, যা মানুষের
চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। এটা তাদের স্বামী ও
অভিভাবকের গায়রতহীনতা যে,
এভাবে তাদেরকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ
দিয়ে থাকে। এটা এখন ব্যাপক আকার
ধারণ করেছে ..। রুহুল
মাআনী ১৮/১৪৬]
সারকথা এই যে, আমরা যারা আল্লাহর
বিধান পালনের জন্য
পর্দা করি তাদেরকে অবশ্যই পূর্ণ
পর্দা করতে হবে।
হিজাব-নিকাবের যে বিধান কুরআন-
সুন্নাহয় আছে তা সমর্পিত
চিত্তে মেনে চলতে হবে।
এক্ষেত্রে নিজস্ব খেয়ালখুশির
কোনো সুযোগ নেই।
সবশেষে এ পর্দার বিষয়ে আমাদের
পূর্বসূরীদের একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ
করে আলোচনা সমাপ্ত করব।
উম্মে খাল্লাদ নাম্নী একজন সাহাবিয়ার
পুত্র জিহাদে গিয়ে শহীদ হলেন। তার
সংবাদ জানার জন্য শহীদ
জননী আল্লাহর রাসূলের দরবারে হাজির
হলেন। বলাবাহুল্য, মায়ের জন্য
সন্তানের মৃত্যুর চেয়ে কঠিন বিষয় আর
কিছু নেই। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম
বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলেন, এই
কঠিন অবস্থায়ও তিনি পর্দার
বিষয়ে পূর্ণ সচেতন। পরপুরুষের
সামনে নেকাব দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত
রাখতে ভুলেননি। জনৈক সাহাবী বিস্ময়
প্রকাশ করলে ঐ সাহাবিয়া জবাব দিলেন,
আমি আমার পুত্র হারিয়েছি, তবে আমার
লজ্জা হারাইনি।-সুনানে আবু দাউদ,
হাদীস : ২৪৮০
আল্লাহ রাববুল আলামীন আমাদের
সকলকে লজ্জা হারানোর বিপদ
থেকে রক্ষা করুন আমীন। —

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "আদর্শ মহীয়সী♥♥উম্মুল মুমিনীন সাওদা (রা.)
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

আদর্শ মহীয়সী♥♥উম্মুল মুমিনীন সাওদা (রা.)

উম্মুল মুমিনীন সাওদা (রা.)
এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ
করেন – মুমিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
হচ্ছে সরলতা ও কোমলতা।”
হাদীসে বর্ণিত এ মুমিনী স্বভাব-
চরিত্রের দৃষ্টান্ত হচ্ছেন উম্মুল
মুমিনীন হযরত সাওদা (রা.)।
তিনি ছিলেন অতি সহজ-সরলা। তাঁর
মধ্যে না ছিল কোন অহংকার, হিংসা,
বিদ্বেষ, না ছিল কোন লৌকিকতা। তাঁর
সরলতা নিয়ে মাঝে-মধ্যে রাসূলুল্লাহ
(সা.) হাস্যরস করতেন।
হযরত খাদীজা (রা.)-এর
ইন্তিকালে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে বিরহ
ব্যথা পেয়েছিলেন, তা যেমন সাওদা (রা.)
দ্বারা দূর হয়েছিল, তেমনি তাঁর
দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গৃহের
অভিভাবকশূন্যতা পূরণূ হয়েছিল।
তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
পরিবারে পুনরায় সুখ-সাচ্ছন্দ্য
ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরের যাবতীয়
কাজ-কর্ম তিনি সুষ্ঠু ও
সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলেন।
গৃহকর্মে ছিল তাঁর অসাধারণ
নিপুণতা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুখ-
শান্তির প্রতি তিনি খুব লক্ষ্য
রাখতেন। এ ছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
কল্যাণদ্বয় হযরত ফাতিমা ও হযরত
কুলছুম (রা.)কে তিনি পরম যতেœ
লালন-পালন করেন।
পূর্ব বিবাহ
হযরত সাওদা (রা.)-এর প্রথম বিবাহ
তাঁর চাচাত ভাই সাকরান-এর
সাথে হয়েছিল। তাঁরা উভয়ই
অগ্রগামী মুসলিমদের দলভুক্ত ছিলেন
এবং তারা হাবশায় হিজরতও করেছিলেন।
হাবশা থেকে ফিরে এসে সাকরান (রা.)
মক্কা মু‘আজ্জমায় ইন্তিকাল করেন।
হাবশা থেকে ফিরে এসে মক্কায়
থাকাকালীন হযরত সাওদা (রা.)
একদা স্বপ্নে দেখেন যে, রাসূলুল্লাহ
(সা.) আগমন করে তাঁর কাঁধে হাত
মুবারক রেখেছেন। হযরত সাওদা (রা.)
যখন এ স্বপ্ন
সম্পর্কে স্বামী সাকরানকে অবহিত
করেন, তখন তিনি বললেন, ‘সত্যিই
যদি তুমি এ স্বপ্ন দেখে থাকো,
তবে অতিশীঘ্রই আমার ইন্তিকাল
হবে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
সাথে তোমার বিবাহ হবে।
বর্ণনাকারী বলেন, সেদিনই সাকরান
অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুদিন পর
তিনি ইন্তিকাল করেন।
হযরত সাওদা (রা.)-এর পিতার নাম ছিল
যাম‘আ এবং মাতার নাম ছিল শামসু।
তাঁর প্রথম স্বামীর ঘরে আবদুল্লাহ
নামে একটি পুত্রসন্তান ছিল
এবং তিনি যৌবনে পর্দাপণ করে আল্লাহ
তা‘আলার পথে জিহাদ করে শাহাদাত বরণ
করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য
হযরত সাওদা (রা.) ছিলেন অত্যন্ত
আবেদা ও যাহেদা। বিদায় হজ্বের পর
রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সকল
বিবিগণকে বলেছিলেন যে, আমার পর
তোমরা ঘর থেকে বের হবে না। হযরত
আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরলোকগমনের
তাঁর সকল বিবিই হজ্ব করেন, কিন্তু
হযরত সাওদা ও হযরত যাইনাব (রা.)
হজ্ব করেননি। কারণ, অন্যান্য বিবিগণ
বাইরে বের হওয়া থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-
এর নিষেধ করার উদ্দেশ্য
তারা ধরে নিয়েছিলেন কোন বৈষয়িক
কারণে বের হওয়া। কিন্তু হযরত
সাওদা ও হযরত যাইনাব (রা.)
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এ বাণী এত
মধুরভাবে গ্রহণ করেন যে, রাসূলুল্লাহর
(সা.) পরলোকগমনের পর কোন কারণেই
তাঁরা বাইরে বের হননি। হযরত
সাওদা (রা.) বলতেন, ‘আমি পূর্বেই হজ্ব
ও উমরা করেছি, এখন আল্লাহর রাসূল
(সা.)-এর নির্দেশমত ঘরে বসে সময়
কাটাবো।’ (তাবকাত, ৮ম খ-,
৩৭পৃষ্ঠা)
উদারতা ও বদান্যতা
হযরত সাওদা (রা.) যদিও সহজ-সরল
ছিলেন, কিন্তু তিনি মাঝে-
মধ্যে রসিকতাও করতেন।
এমনকি কখনও
তিনি রসিকতা করে রাসূলুল্লাহ (সা.)কেও
হাসাতেন। একদিন তিনি বললেন,
‘হে আল্লাহর রাসূল (সা.)!
গতরাতে নফল নামাযে আমি আপনার
সাথে শরীক হয়েছিলাম।
নামাযে আপনি এত দীর্ঘ রুকু করেন যে,
নাক ফেটে রক্ত বের হওয়ার
ভয়ে আমি নাক চেপে ধরেছিলাম।’
হযরত সাওদা (রা.) ছিলেন অত্যন্ত
দানশীলা। দরিদ্র, ইয়াতিম ও গরীব-
মিসকীনদের জন্য তাঁর দ্বার ছিল
সদাউন্মুক্ত। তিনি কখনো কোন গরীব-
মিসকীনকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন
না। বরং তিনি নিজে না খেয়ে ইয়াতীম-
মিসকীনদেরকে দিয়ে দিতেন।
হযরত সাওদা (রা.) ছিলেন অসহায়-
কাঙ্গালদের আশ্রয়স্থল। তাই অসহায়
লোকদের সমাগমে তাঁর গৃহে প্রায়ই
পরিচিত-অপরিচিত লোকদের ভীড়
জমে যেত। এ দৃশ্য দেখে হযরত উমর
(রা.) বিরক্তবোধ করতেন
এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে অনুরোধ
করেন, যেন তিনি স্বীয়
বিবিগণকে পর্দায় থাকার নির্দেশ দেন।
কারণ, তখন পর্যন্ত পর্দার বিধান
নাযিল হয়নি।
হযরত উমর (রা.) একবার হযরত
সাওদা (রা.)-এর নিকট একথলে দিরহাম
পাঠিয়েছিলেন। হযরত সাওদা (রা.)
জানতে চান, তাতে কী আছে? বলা হল,
দিরহাম। তখন তিনি বললেন, খেজুরের
থলের মত দেখাচ্ছে। অতঃপর তিনি সকল
দিরহাম দরিদ্রের মাঝে বন্টন
করে দেয়ার নির্দেশ দেন।
ত্যাগ স্বীকার
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায়ই হযরত
সাওদা (রা.) অত্যন্ত
বয়োবৃদ্ধা হয়ে যান। তাই রাসূলুল্লাহ
(সা.) তাঁকে তালাক দিয়ে দেন কি-না এই
আশংকায় তিনি আরজ করলেন,
হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! স্বামীর
খাহেশাত আমার নেই, কিন্তু আমি চাই
আপনার বিবিদের সাথে আমার হাশর
হোক। অতএব, আপনি আমাকে আপনার
বিবাহ বন্ধনে রেখে দিন আর
আমি আমার পালার দিন হযরত
আয়িশাকে দিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.)
তাঁর আরজী কবুল করেন। এ সম্পর্কেই
পবিত্র কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয়
– যদি কোন নারী স্বীয়
স্বামী থেকে অনাকাঙ্খিত আচরণ
কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে,
তবে পরস্পর
মীমাংসা করে নিলে তাতে কোন পাপ নেই।
আর মীমাংসা করে নেয়াই
উত্তম।” (সূরাহ নিসা, আয়াত :১২৯)
এ হিসেবেই হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
বিবাহ বন্ধনে একই সময় যখন ৯জন
স্ত্রী একসাথে ছিলেন, তখন আটজন
বিবির নিকট
তিনি পালাক্রমে রাত্রি যাপন করতেন।
এক্ষেত্রে সবার সাথে একরাত্রি যাপন
করতেন আর হযরত আয়েশা (রা.)-এর
নিকট দুইরাত্রি যাপন করতেন।
পর্দার বিধানে শিরকত
যেহেতু ইসলাম চারিত্রিক পবিত্রতার
প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে, আর
চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষিত হয়
বিশেষভাবে পর্দার মাধ্যমে, তাই হযরত
উমর ফারুক (রা.)-এর দিলে এই
তামান্না ছিল যে, পর্দার হুকুম অবর্তীণ
হোক। আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিবিগণ
পর্দায় থাকুন
এটা তিনি বিশেষভাবে কামনা করতেন।
কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) এ
সম্পর্কে ওহী না আসায় ঐ হুকুম
জারী করেননি। তাই অন্যান্য সাহাবীদের
মত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিবিগণও
প্রকৃতির
ডাকে সাড়া দিতে জংগলে যেতেন।
একবার হযরত সাওদা (রা.) হাজত
সারার জন্য জংগলে বের হন।
পথিমধ্যে তিনি হযরত উমর (রা.)-এর
সামনে পড়ে যান এবং হযরত
সাওদা (রা.) যদিও
নিজেকে পুরোপুরি কাপড়
দিয়ে ঢেকে নিয়েছিলেন, কিন্তু
তিনি মোটা ও লম্বা হওয়ার
কারণে হযরত উমর (রা.)
তাকে চিনে ফেলে বললেন, হে সাওদা!
আমি আপনাকে চিনে ফেলেছি।
একথা দ্বারা হযরত উমর (রা.)-এর
উদ্দেশ্য ছিল যে, রাসূলুল্লাহর (সা.)
বিবিগণ যেন এভাবে বের না হন, সেজন্য
পর্দার বিধান অবতীর্ণ হোক।
অতঃপর পর্দার আয়াত নাযিল হয় –
হে নবী! আপনি আপনার পতীদেরকে,
কন্যাদেরকে এবং মুমিন
স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের
চাদরের অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়।
এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে।
ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।
আল্লাহ অসীম ক্ষমাশীল ও পরম
দয়ালু।” (সূরাহ আহযাব, আয়াত : ৬০)
পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পর হযরত
সাওদা (রা.) নিজেকে খুব
ভালো করে ঢেকে হাজত সারার জন্য
জংগলে বের হন। তিনি খুব মোটা ও
লম্বা ছিলেন বিধায় তখনও তাকে সহজেই
চেনা যায়। তাই হযরত উমর (রা.)
তাকে দেখে চিনে ফেলে বললেন, হে সাওদা!
আল্লাহর কসম, আপনি কাপড়ে খুব
ভালোভাবে ঢেকে বের হলেও
আপনি আমার থেকে অজ্ঞাত থাকবেন
না। সুতরাং ভেবে দেখুন, এখন
আপনি কিভাবে বের হবেন।
এ কথা শুনে হযরত সাওদা (রা.)
ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
খিদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন,
হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমি হাজত
সারার জন্য রাস্তায় বের হয়েছিলাম।
পথিমধ্যে হযরত উমর (রা.)-এর
সাথে দেখা হয়ে যায়। তিনি আমাকে এই
এই বললেন। হযরত সাওদা (রা.)
বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঐ সময়
আমার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন,
তাঁর হাতে ছিল গোশতের হাড়,
তিনি তা থেকে গোশত নিয়ে খাচ্ছিলেন।
ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর
ওহী অবর্তীণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)
-এর বিবিগণকে হাজত সারার জন্য
বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
এটা ঐ সময়ের কথা হাজত সারার জন্য
যখন বাড়ীর আশেপাশে বাথরুম-এর
ব্যবস্থা ছিল না। অতঃপর যখন বাড়ীর
আশেপাশে বাথরুম-এর ব্যবস্থা হয়ে যায়,
তখন বাইরে বের হওয়ার অনুমতি রহিত
হয়ে যায়।
ইন্তিকাল
হযরত সাওদা (রা.) হযরত উমর (রা.)-
এর খিলাফত কালের শেষ দিকে ৫৪
হিজরীতে ইন্তিকাল করেন।
**পড়া শেষে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
মানবতার মুক্তির
লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন,
একটি অগ্নিশিখা থেকে
জ্বেলে দিন লক্ষ আলোক প্রদীপ।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "নারীদের মাহরাম তথা যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

নারীদের মাহরাম তথা যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ

১-বাপ, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন
ক্রমানু পুরুষগণ।
২-সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়
ভাই।
৩-শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও
নানা শ্বশুর এবং তাদের উর্ধ্বতন
ক্রমানু পুরুষগণ।
৪-আপন ছেলে, ছেলের ছেলে, মেয়ের
ছেলে এবং তাদের ঔরষজাত পুত্র
সন্তান এবং কন্যা সন্তানদের স্বামী।
৫-স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত
পুত্র।
৬-ভাতিজা, ভাগিনা তথা সহোদর,
বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনের
ছেলে ও তাদের অধঃস্থন কোন ছেলে।
৭-আপন চাচা অর্থাৎ বাপের সহোদর,
বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় ভাই।
৮-আপন মামা তথা মায়ের সহোদর,
বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই।
৯-দুধ সম্পর্কীয় ছেলে, উক্ত ছেলের
ছেলে, দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের ছেলে ও
তাদের ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান
এবং দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের স্বামী।
১০-দুধ সম্পর্কীয় বাপ, চাচা, মামা,
দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু
পুরুষগণ।
১১-দুধ সম্পর্কীয় ভাই, দুধ ভাইয়ের
ছেলে, দুধ বোনের ছেলে এবং তাদের
ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান।
১২-শরীয়ত অনুমোদিত বৈধ স্বামী।
১৩-যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধ, যার
মাঝে মহিলাদের প্রতি কোন আকর্ষণ
নেই আবার মহিলাদেরও তার প্রতি কোন
আকর্ষণ নেই।
১৪-অপ্রাপ্ত বয়স্ক এমন বালক যার
মাঝে এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি।
উপরোক্ত পুরুষগণ ছাড়া কোন মহিলার
জন্য অন্য কোন পুরুষের সাথে দেখা-
সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ হারাম।
পুরুষের মাহরাম তথা যাদের
সামনে যাওয়া জায়েজ
১-মা।
২-দাদি।, নানী ও তাদের উর্ধ্বতন
ক্রমানু মহিলাগণ।
৩-বোন [আপন হোক বা দুধ বোন
বা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় হোক]।
৪-আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের
মেয়ে, এবং তাদের গর্ভজাত যে কোন
কন্যা সন্তান ও ছেলে সন্তানদের
স্ত্রী।
৫-বিবাহিত বৈধ স্ত্রী এবং যে স্ত্রীর
সাথে দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে তার
পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর
কন্যা সন্তান। স্ত্রীর মা অর্থাৎ
শ্বাশুরী, দাদী শ্বাশুরী।
৬-ফুপু, তথা পিতার সহোদর বোন,
বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।
৭-খালা তথা মায়ের সহোদর বোন,
বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন।
৮-ভাতিজি, তথা সহোদর, বৈপিত্রেয় ও
বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে তাদের
অধঃস্থন কন্যা সন্তান।
৯-ভাগ্নি তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও
বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের
অধঃস্থন কন্যা সন্তান।
১০-দুধ সম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে,
ছেলের মেয়ে ও তাদের অধঃস্থন যে কোন
কন্যা সন্তান ও দুধ সম্পর্কীয় ছেলের
স্ত্রী।
১১-দুধ সম্পর্কীয় মা, খালা, ফুপু, নানী,
দাদী ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু
মহিলাগণ।
১২-দুধ সম্পর্কীয় বোন, দুধ বোনের
মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের
গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান।
১৩-যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধা যার
প্রতি পুরুষের কোন প্রকার আকর্ষণ
নেই।
১৪-অপ্রাপ্ত বয়স্কা এমন মেয়ে যার
প্রতি পুরুষের এখনো যৌন আকর্ষণ
সৃষ্টি হয়নি।
উপরোক্ত মহিলাগণ ছাড়া কোন পুরুষের
জন্য অন্য কোন মহিলার সাথে দেখা-
সাক্ষাৎ করা জায়েজ নয়। সম্পূর্ণ
হারাম।
দ্রষ্টব্য:
সূরা আহযাব-৫৩-৫৫
সূরা নিসা-২৩
সূরা নূর-৩০-৩১
তাফসীরে মাআরিফুল
কুরআন-২/২৫৬-৩৬১
তাফসীরে মাআরেফুল
কুরআন-৬/৪০১-৪০৫
তাফসীরে মাযহারী-২/২৫৪-২৬১ ও
৬/৪৯৭-৫০২
# পড়া শেষে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
মানবতার মুক্তির
লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন,
একটি অগ্নিশিখা থেকে
জ্বেলে দিন লক্ষ আলোক প্রদীপ।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে নারীর জিজ্ঞাসা ...♥♥...
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে নারীর জিজ্ঞাসা ...♥♥...

হযরত আয়েশা (রাঃ) একবার
জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদলেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন,
কাঁদছ কেন?
আয়েশা (রাঃ) বললেন, জাহান্নামের
কথা স্মরণ করে কাঁদছি। আপনাদের
কি কিয়ামতের দিন নিজেদের পরিবার-
পরিজনের কথা মনে থাকবে?
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
তিনটি সময় এমন হবে, যখন কেউ
কাউকে মনে করবে না।
১- আমল ওজনের সময়, যতক্ষণ
না জানা যাবে, তার (নেক) আমলের
পাল্লা ভারি হচ্ছে না হালকা হচ্ছে।
২- আমলনামা দেওয়ার সময়, যখন
ঘোষণা করা হবে, এসো,
আমলনামা পড়ে দেখ, যতক্ষণ
না নিশ্চিত হবে যে, তার আমলনামা ডান
হাতে আসছে, নাকি বাম হাতে,
নাকি পিঠের পিছন দিকে!
৩- পুলসিরাতে। যখন তা জাহান্নামের
সামনে বিছানো হবে।
{সুনানে আবু দাউদ ২/৬৫৪}
## আপনার প্রিয়জনদের
কাছে পৌঁছে দিন ইসলামের শাশ্বত বাণী।
হৃদয় থেকে হৃদয় উদ্ভাসিত হোক ঈমানের
আলোকচ্ছটায়।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "হিজাব ও পর্দাকে যে সব দেশে না জেনে, না চিনে ঘৃণা করে, তেমন এক দেশের একটি ঘটনা।
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

হিজাব ও পর্দাকে যে সব দেশে না জেনে, না চিনে ঘৃণা করে, তেমন এক দেশের একটি ঘটনা।

হিন্দা ছিলো ছোট্ট এক কিশোরী।
স্কুলে যাওয়া-আসা করতো লম্বা ও
শালীন পোষাক পরে। কিন্তু এ-
পোষাকে শিক্ষিকা ওকে দেখলেই রাগ
করে বলতেন-
' এ সব চলবে না। তোমাকে সবার মত
খাটো পোষাকে স্কুলে আসতে হবে।
বুঝলে?'
একদিন শিক্ষিকা একটু বেশীই
রেগে গেলেন। হিন্দার মন ভীষণ খারাপ
হয়ে গেলো। ও
কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরলো।
এসে মাকে জানালো-
'শিক্ষিকা আমাকে লম্বা পোষাকের জন্য
স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে।'
মা বললেন-
' আমার মা মণি! মন শক্ত রাখো!
তুমি যে পোষাক পরেছো তা আল্লাহর
হুকুম। শিক্ষিকা রাগ করুক আর যাই
করুক- এ পোষাক
তুমি ছাড়তে পারো না।'
'তা তো বুঝলাম! কিন্তু
শিক্ষিকা যে মানছেন না?'
'ভেবে দেখো, কার কথা শুনবে তুমি-
শিক্ষিকার কথা না আল্লাহর কথা!
আল্লাহ্ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সুন্দর
আকৃতি দান করেছেন। তোমাকে অসংখ্য
নেয়ামত দান করেছেন।
মানতে হলে আল্লাহর হুকুমই মানতে হবে-
কোনো মানুষের হুকুম নয়! মানুষ তোমার
কোন উপকার
বা ক্ষতি করতে পারবে না- আল্লাহ্
না চাইলে।'
মেয়েটি তখন মাকে জানালো-
' আমি আল্লাহর কথাই শুনবো। তাঁরই
হুকুম পালন করবো।'
পরদিন মেয়েটি স্কুলে গেলো। আগের সেই
লম্বা ও শালীন পোষাক পরেই।
শিক্ষিকা ওকে দেখা মাত্রই কড়া ভাষায়
ভৎসনা শুরু করলেন।
মেয়েটি কেঁদে ফেললো। বললো-
'জানি না, আমি কার আনুগত্য করবো?
আপনার না তাঁর!'
শিক্ষিকা বললেন-
' তাঁর মানে কার?'
কিশোরীটি তখন বললো-
" আল্লাহর! আমি যদি আপনার
আনুগত্য করি তাহলে আমার আল্লাহ্
অসন্তুষ্ট হবেন আর আমার আল্লাহর
কথা মানলে আপনি অসন্তুষ্ট হবেন।
তাহলে আমি কী করব?'
এ কথা শোনার সাথে সাথেই
শিক্ষিকা কান্নায় ভেঙে পড়লেন
এবং সাথে সাথে খাঁটি দিলে তাওবা করলেন।
অশ্রুসিক্ত চোখে এবং বাকরুদ্ধ
কণ্ঠে সস্নেহে প্রিয় ছাত্রীকে বললেন-
" তুমি বরং আল্লাহর আল্লাহর
আনুগত্যই করবে! শুধু আল্লাহর
আনুগত্য!!"
_______________
কিন্তু তুমি? তুমি হে নারী? তুমি কার
অনুসরণ করবে?
পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেওয়া 'ফ্যাশন'-এর
না ইসলামের শাশ্বত বিধান হিজাবের?
অবশ্যই হিজাবের! এতে যদি তোমার
শিক্ষিকা তোমাকে ক্লাস থেকে বের
করে দেন, হাসতে হাসতে বের হয়ে এসো!
বুকটা গর্বে ফুলিয়ে বের হয়ে এসো! এমন
শিক্ষিকার কাছে কেনো পড়বে তুমি-
যিনি তোমাকে আল্লাহর হুকুম
মানতে বারণ করবে? পর্দাকে বিদ্রুপ
করবে? এমন শিক্ষিকার কবল
থেকে আল্লাহ্
যে তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন- এ জন্যই
হাসবে, গর্ব অনুভব করবে। দুনিয়ার
পড়া দুনিয়ারদারদের
কাছে পড়তে গিয়ে যদি দ্বীনই সংরক্ষিত
না থাকলো, তাহলে এমন
পড়াকে হাসতে হাসতেই 'বিদায়' বলো!
কাঁদবে না! কাঁদলে তুমি পরাজিত হবে।
কান্না কি তোমার শোভা পায়?
তুমি তো দ্বীন পালনের জন্য
দুনিয়াকে হারিয়েছো! দ্বীন
পেয়ে দুনিয়া হারিয়ে হাসবে না দ্বীন
হারিয়ে দুনিয়া পেয়ে হাসবে? কখন
হাসবে?
## আপনার প্রিয়জনদের
কাছে পৌঁছে দিন ইসলামের শাশ্বত বাণী।
হৃদয় থেকে হৃদয় উদ্ভাসিত হোক ঈমানের
আলোকচ্ছটায়।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "এক বোকা নারী থেকে শিক্ষা নাও। ...♥...
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More

এক বোকা নারী থেকে শিক্ষা নাও। ...♥...

হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ
আলি থানবি (রাহঃ) বলতেন, এক
বোকা অশিক্ষিত
মেয়ে থেকে শিক্ষা নাও।
একটি বোকা মেয়ে দু'টো কথা উচ্চারন
করে একজন পুরুষের সাথে সম্পর্ক
স্থাপন করে। একজন বলে,
আমি তোমাকে বিয়ে করলাম। অন্যজন
বলে আমি কবুল করলাম। এই
দু'টো কথাকে মেয়েটা এতটুকু সম্মান
করে যে, যার জন্য সে মাতা-পিতা, ভাই-
বোন বংশ পরিবারসহ সবকিছুর
মায়া ত্যাগ করে একমাত্র স্বামীর জন্য
হয়ে যায়। স্বামীর গৃহবন্দী হয়ে যায়।
ছোট্ট দু’টি কথার মূল্যায়ন তার
কাছে এতো বেশি! হজরত থানবি (রাহঃ)
বলেন, একটি বোকা মেয়ের দু'টো মাত্র
কথার প্রতি এতোটা গভীর আস্থা,
শ্রদ্ধা ও হৃদ্যতা যে, সে এ দু'টো কথার
সম্মান রক্ষার্থে সবকিছু পরিত্যাগ
করে স্বামীর জন্য উৎসর্গিত হয়ে যায়।
অথচ তোমরা তো এতটুকুও পার না।
তোমরাও তো দু'টো কথা এভাবে উচ্চারণ
করেছ। কালিমায়ে তাইয়্যিবা-
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর
রাসূলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ
ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। হজরত মুহাম্মদ
(সাঃ) আল্লাহর রাসূল। কথাটুকু উচ্চারণ
করেছ। অথচ তোমরা যার জন্য
দু'টো কথা পাঠ করলে তার জন্য
উৎসর্গিত হতে পার না। এই কালিমার
প্রতি বোকা মেয়েটির সমান আস্থা ও
শ্রদ্ধাশীল হতে পারলেনা।
মেয়েটি দু’টো কথার ইজ্জত রক্ষা করল,
তার সবকিছু স্বামীর জন্য নিবেদন
করে। কিন্তু
তোমরা তো পারলে না আল্লাহর জন্য
নিবেদিত হতে।
## আপনার প্রিয়জনদের
কাছে পৌঁছে দিন ইসলামের শাশ্বত বাণী।
হৃদয় থেকে হৃদয় উদ্ভাসিত হোক ঈমানের
আলোকচ্ছটায়।

ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিন
Next post "ভুল ধারণাগুলো দূর করুন তামাক- জর্দা ক্ষতিকর কিন্তু সুপারি?
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More