বিবাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিবাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বিবাহ ৪

বিয়ের অনুষ্ঠানের সর্বশেষ পর্যায় কনে সমর্পণ, যাকে গ্রিক ভাষায়বলা হয় Ekdosis যার অর্থকারো কর্তৃক থেকে কোনো বস্তু বা অধিকার অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা। এর দ্বারা উপলব্ধি করা সহজ যে, গ্রিক সমাজে মেয়েদের পিতার অধীনে কোনো সামগ্রী অথবা এক টুকরো জমির মতো সম্পদ ছাড়া আর কিছু বিবেচনা করাহতো না। প্রথম জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন হতো কনের পিতৃগৃহে। ভোজের স্থান সাজানো হতো জলপাই-এর ডাল ও পাতা দ্বারা। বর ও কনে পক্ষের সকল আত্মীয়-স্বজনও বন্ধু-বান্ধব এতে যোগ দিত। মহিলারা বসত পৃথক জায়গায়। পেশাদার শিল্পীরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করত।
কনে অনুষ্ঠানে আবির্ভূত হতো তার সখীর সাথে, যে তার পর্দার দিকটি খেয়াল রাখত। প্রথাগতভাবে কনেকেআপাদমস্তক পর্দায় ঢেকে রাখা হতো, খোলা থাকত শুধুচোখের অংশটুকু এবং খাবার শেষে সে সেই আবরণী খুলে রাখতে পারত। একটি ব্যাখ্যা অনুসারে অশুভ দৃষ্টি থেকে কনেকে রক্ষার জন্যই পর্দাপ্রথাচালু ছিল অন্তত বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। অন্যদিকে বর ফুলের মালায় সজ্জিত হয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিবেষ্টিতঅবস্থায় থাকত।
একজন যুবকের বাবা-মা উভয়েই যদি জীবিত থাকত তাহলে সে কাঁটা ও ওক গাছের পাতার মুকুট ধারণ করে বিয়ে উপলক্ষে আগত অতিথিদের কাছে ঝুড়িতে করে রুটি নিয়ে যেত এবং উচ্চারণ করত যে, ‘আমি সবসময় নিজেকে মন্দ থেকে দূরে রেখেছি এবং উত্তম কীতা আমি জানি।’ এর মর্মার্থ হচ্ছে যে, নববিবাহিত দম্পতি প্রাপ্তবয়স্ক এবং অগোছালো জীবন থেকে এখন পরিকল্পিত জীবনে প্রবেশ করেছে। এক্ষেত্রে তার বক্তব্যের প্রতীকী সাক্ষ্য ছিল তার দেয়া রুটি, যা মাটি থেকে চাষ করে উৎপাদিত এবং সভ্যতার মূল্যবোধের চিরন্তন প্রতীক।
ভোজপর্ব শেষে এবং নববধূকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আগে ‘ঘোমটা উন্মোচন’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতো। কনের বান্ধবী যে এতক্ষণ ধরে তার পর্দা রক্ষার দায়িত্বে ছিল সে ঘোমটা তুলে বরকে প্রথমবারের মতো কনের মুখ প্রদর্শন করত। উপস্থিত অতিথিরাও নববধূকে দেখে তাদের প্রশংসা উচ্চারণ এবং উপহার প্রদান করত।
এরপর নবদম্পতি সুন্দরভাবে সাজানো একটি শকটে আরোহণ করলে সেটি টেনে নিয়ে যেত ষাঁঢ় অথবা ঘোড়া এবং অতিথিরা শোভাযাত্রা সহকারে বরের বাড়িতে গমন করত। বর যখন শকটটি চালিয়ে নিয়ে যেত তখন বধূ বসে থাকত তার বামদিকে। হয় সে ফুলের স্তবক ধরে থাকত, কিংবা একটি দোলনা, অর্থাৎ এগুলো তার বিবাহিত জীবনের প্রতীক। শকটে বধূ ঘোমটা ঢাকা অবস্থায় থাকত না, বিশেষত শোভাযাত্রার কারণে।শকটে বধূ ঘোমটা ঢাকা অবস্থায় থাকত না, বিশেষত শোভাযাত্রার কারণে। বিয়েকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা এবং কনেকে পিতৃগৃহ থেকে যে তার স্বামীর নেতৃত্বে ন্যস্ত করা হচ্ছে তা প্রমাণ করা হতো এর মাধ্যমে।
বর ও কনেকে বহনকারী শকট ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার সময় সামনে থাকত মশাল এবং মশালধারীদের পেছনে উভয়পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা, যারা কোরাস, বিয়ের গান গাইত বাঁশির সুরের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে।
বর যখন তার নবপরিণীতা স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছে তখন তার বাবা-মা তাদের স্বাগত জানাত। তার পিতার মাথায় পরা থাকত সবুজ লতার মুকুটএবং মায়ের হাতে মশাল।
দম্পতি যখন শকট থেকে মাটিতে অবতরণ করে তখন সমাগত অতিথিরা পুত্রবধূরওপর শুকনো ডুমুরের টুকরো,কাঠবাদাম ছিটাত এবং তিল ওমধু দিয়ে তৈরি বিয়ের পিঠার একট টুকরো খেতে দিত। মোরব্বাও দিত তাকে। মোরব্বা দেয়া হতো প্রেম ওউৎপাদনক্ষমতার প্রতীক হিসেবে, যা প্রেমের দেবী আফ্রোদিতের সাথে জড়িত। এরপর বধূর পরিচারিকা তাকে প্রথমে নিয়ে যায় পরিবারের বেদীতে এবং পরে বাসর ঘরে। বরও প্রবেশ করেসেখানে। ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বিয়ে পরিপূর্ণতা লাভ করে।
বাসর ঘরের বাইরে বন্ধুদের একজন সারারাত দাঁড়িয়ে থাকত প্রহরী হিসেবে। অন্য বন্ধুরা বিয়ের গান গাইত এবং শোরগোল করত অশুভ কোনো কিছুকে দূরে রাখতে।
বাসর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়ার পর ঘরের মধ্যে কী ঘটে, সে সম্পর্কিত কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। কিংবা কোথাও এর কোনো প্রতিকৃতি বা চিত্রও অংকিত নেই। এর কারণ সপষ্টএবং বোধগম্য। শ্রদ্ধাভাজন কোনো এথেনীয়রমণীর একান্ত জীবন কখনো প্রকাশ্যে আসতে পারে না, কিংবা তার নাম প্রকাশ্যে বলাও হতো না। এটি অদ্ভুত রীতি হলেও এত কঠোরভাবে পালন করা হতো যে, কোনো খ্যাতিমান ব্যক্তির বক্তৃতাতেও আমরা এথেন্সের কোনো মহিলার নাম দেখতে পাই না। যাদের নাম বিভিন্ন স্থানে উচ্চারিত হয়েছে বা দেখতে পাওয়া যায় তারা হয় ক্রীতদাস অথবা বেশ্যা। চিত্রের ক্ষেত্রেও একই বিষয় সত্য। প্রাচীন গ্রিক কাহিনীবহির্ভূত যতযৌন চিত্রপ্রতিকৃতি তা যে কোনো যুগেরই হোক না কেন সেগুলোতে নারীচিত্র নৈতিকভাবে স্খলিত চরিত্রের মহিলা ও দাসীদের, সমমানিত কোনো মহিলার চিত্রের অস্তিত্বকোথাও পাওয়া যায় না।
তাছাড়া বিবাহিত যৌন সম্পর্কের মধ্যে সুড়সুড়িমূলক কিছু নেই। কারণ বিবাহিত যৌনমিলন প্রমোদ বা উপভোগের বিষয় নয় বরং সন্তান উৎপাদনের উদ্দেশ্যে।তবুও কিছু প্রাচীন গ্রিক পাত্রের গায়ে নববিবাহিতদের বাসর ঘরে অবস্থান করার চিত্র দেখা যায়। কিন্তু কোনো ধরনের যৌন মিলনরত আসনের ভঙ্গিমায় নয়।
বিয়ের পরদিন গানের সুরে নবদম্পতি ঘুম থেকে জাগ্রত হয় এবং কনের বাবা-মা এবং অন্যান্য আত্মীয় উপহার সামগ্রীসহ উপস্থিত হন। সারাদিনের আচার অনুষ্ঠান শেষে তারা বিয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট দেবদেবী, বিশেষ করে হেরা ও আফ্রোদিতের উদ্দেশ্যে তাদের কৃতজ্ঞতা জানায় এবং Nymphs (ঝর্ণা, বনজঙ্গল গুহা ও পর্বতের সাথে সংশ্লিষ্ট দেবী। এই দেবীরা তারুণ্যে পরিপূর্ণ, সুন্দরী এবং সহৃদয়)-এর মন্দিরে গিয়ে বিয়ের প্রতীক উৎসর্গ করার মাধ্যমে। আর্কোপলিসের দক্ষিণ দিকের ঢালুতে অবস্থিত এই মন্দির। এই অনুষ্ঠান দুই অথবা তিনদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতো এবং নগরপালের তালিকায় বিয়ের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটত।সেখানে দুজন লোককে এই মর্মে সাক্ষ্য দিতে হতো যে, যে মেয়েটিকে বিয়ে করাহয়েছে সে দুজন এথেনীয়ের মধ্যে বৈধ বিয়ের ফলে জন্মগ্রহণকারী কন্যা। এইশনাক্তকরণের ফলে তার গর্ভে যেসব সন্তানের জন্ম হবে তারা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারবে।
সপার্টায় বিয়ের রীতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। কোনোপুরুষ বিবাহযোগ্যা কোনো মেয়েকে তুলে নিয়ে আসত।
Read More

বিবাহ ৩

প্রাচীন গ্রিসে যৌতুক হিসেবে দেয়া হতো অর্থ অথবা জমি কিংবা এক সাথে দুটোই। ক্লাসিক্যাল যুগেএথেন্সের একটি মেয়ের জন্য যৌতুক দিতে হতো এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ড্রাচমা পর্যন্ত। তখনকারদিনের জন্য বিপুল অর্থ। পেরিক্লেসের মৃত্যুর কিছুদিন আগের এক হিসাব অনুসারে দেখা যায় যে, তখনএক দিনের মজুরি ছিল এক ড্রাচমা যা চারজনের একটি পরিবারের ব্যয় নির্বাহেরজন্য পর্যাপ্ত ছিল। বিত্তবান পরিবার তাদের মেয়েদের জন্য যৌতুক প্রদান করত তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং বারো হাজার ড্রাচমা যৌতুক দেয়ার দৃষ্টান্ত পর্যন্ত আছে। এর চেয়েও অধিক যৌতুক পেয়েছিলেন অ্যালকিবিয়াডেস, যার পরিমাণ ছিল এক লাখ বিশ হাজার ড্রাচমা। যৌতুকের পরিমাণ আইন দ্বারা নির্ধারিত কোনো ব্যাপার ছিল না, বরং দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হতো। এই রীতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্র দরিদ্র নাগরিকদের মেয়ের বিয়ের জন্য যৌতুকের ব্যবস্থা করত। এটি ভূমিহীন ও অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের জন্য একটি আইন ছিল, যার দ্বারা দরিদ্র কোনো মেয়ের অবস্থাসম্পন্ন আত্মীয়দের বাধ্য করা হতো তার যৌতুকের অর্থ সংগ্রহ করতে। তাছাড়া যৌতুকের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাশালী পরিবারের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করে অর্থনৈতিক স্বার্থকে আরো শক্তিশালীকরা এবং সমাজের দুর্বল অংশের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা।
বিয়ের মাধ্যমে স্বামী যে যৌতুক লাভ করত তা সে নিজের মর্জি অনুসারে কাজে লাগাতে পারত, যেন এগুলো তার সম্পত্তি। এর কারণ মহিলাদের সম্পত্তিরমালিকানার অধিকার ছিল না। অতএব বিবাহ বিচ্ছেদ অথবা স্বামীর মৃত্যুর ফলে স্ত্রী যৌতুকের আপেক্ষিক মূল্যই ফেরত পেত। কারণ স্বামী ইতিমধ্যে যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত সামগ্রী কোনো না কোনো কাজে লাগিয়ে ফেলে অথবা বিক্রি করে দেয়। এ অবস্থায় স্বামী পরিত্যক্তা অথবা স্বামীহীন ও দারিদ্র্যে নিপতিত কোনো মহিলা যদি পুনরায় বিয়ে করতে চায় তাহলে তাকে নতুন করে যৌতুক সংগ্রহ করার প্রয়োজন পড়ত। অথবা বলা যায় এ দায়িত্ব গ্রহণ করতেহতো তার আত্মীয়দের।
বাগদান সংক্রান্ত আলোচনার সময়ে বিয়ের তারিখ অথবা আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়কনেকে বরের হাতে তুলে দেয়ার বিষয় নির্ধারিত হতো। অধিকাংশ বিয়ে সম্পন্ন হতো ‘গ্যামেলিয়ন’মাসে, অ্যাটিক বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাসে, যা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিরমধ্যে পড়ে। কারণ এই মাসটিবিয়ের দেবী হেরার উদ্দেশ্যে নিবেদিত। কিন্তু যেসব বর ও কনে কোনো কারণে এই শুভ মাসের অপেক্ষায় থাকতে পারত না তারা কোনো মাসের পূর্ণিমাকে বাছাই করে নিত।
বিয়ের একদিন আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম পালন করা হতো-ভবিষ্যৎ দম্পতিরত্যাগ ও পবিত্রকরণ। প্রথমত কনের পিতা জিউস, হেরা, আফ্রোদিতে, আর্টেমিস ও পেইথোর উদ্দেশ্যে তার অর্ঘ্য নিবেদন করত। এসব দেবতা ও দেবী বিয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। গ্রিক দেবদেবীর মধ্যে জিউস ও হেরা শুধু গুরুত্বপূর্ণইছিলেন না তারা আদর্শ দম্পতির দৃষ্টান্তও ছিলেন। যদিও জিউস ব্যভিচার করতেন এবং হেরার সাথে তার সংঘাতও হতো। আফ্রোদিতে ছিলেন প্রেমের দেবী এবং প্রজনন উর্বরতারও। আর্টেমিসের সম্পর্ক বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে। তাছাড়া তিনি প্রসব যাতনায় কাতর রমণীদেরও রক্ষাকারিণী ছিলেন। শেষ দেবতা পেইথোর উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য নিবেদনের কারণ ছিল। দম্পতির মধ্যে আনুগত্য ও সমঝোতার ভিত্তি স্থাপনেরদেবী ছিলেন তিনি, যার ওপরনির্ভর করত বিয়ের স্থায়িত্ব।
আরেক নীতি পালন করা হতো, যাতে বাগদত্তা কনেকে আর্টেমিসের উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে হতো তার শৈশবও কৈশোরের সাথে জড়িত কিছুসামগ্রী, যা সে ইতিমধ্যে পরিত্যাগ করেছে। যেমন খেলনা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র-আয়না, চুল বাঁধার ফিতা, চুলের খোঁপা বাঁধার জালি ইত্যাদি। বিয়ের রীতি হিসেবে বাগদত্তা কনের চুলের গোছা আর্টেমিসের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হতো ডেলোস, ট্রোয়েজেন এবংমেগারায়। এথেন্সে এ ধরনের রীতি পালনের কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু এই রীতি পালনের মধ্য দিয়ে কোনো মেয়ের কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের ক্রান্তিলগ্নকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। হবু বরকে প্রাচীন গ্রিসের কোথাও এই রীতিগুলো পালন করতে হতো না। কারণ তাদের বয়ঃপ্রাপ্তি ঘটেছে অনেক আগে এবং বিয়ের সময়ে বয়স ত্রিশ অতিক্রম করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রীতি ছিল বর ও কনের পবিত্রকরণ অনুষ্ঠান, যা প্রকৃতপক্ষে বিয়ের আগে আনুষ্ঠানিক স্নান করার রীতি। এথেন্সে কনেকে স্নান করানো হতো নগরীর বিখ্যাত ঝর্ণা কালিরহোর পানি দিয়ে। একটি শোভাযাত্রা বের হতো কনের বাড়ি থেকে এবং সে শোভাযাত্রা ঝর্ণার দিকে এগিয়ে যেত। শোভাযাত্রায় থাকত একজন তরুণ বংশীবাদক,সম্ভবত কনের নিকটতম কোনো আত্মীয়ের পুত্র। বন্ধু ও আত্মীয়রা বহন করত মশাল এবং একজন বহন করত দীর্ঘ নল ও দুই হাতলবিশিষ্ট একটি সোরাহি, যা পূর্ণ করা হতো ঝর্ণার পানি দিয়ে। কোনো বিবরণীতে সপষ্ট নয় যে শোভাযাত্রায় কনে স্বয়ং অংশগ্রহণ করত কি না। অবশ্য পরবর্তীতে প্রাপ্ত এ ধরনের সোরাহিতে কনের প্রতিকৃতিদেখা যায়। এমন একটি সোরাহি রয়েছে এথেন্সের ন্যাশনাল আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়ামে।
ওয়ারশ মিউজিয়ামের একটি সোরাহিতে দেখা যায় যে, একজন তরুণ বিয়ের আগে আনুষ্ঠানিক স্নান করছে। সম্ভবত ছেলেরা নিজেরাই ঝর্ণায় স্নান করে নিত, যাকোনো মেয়ের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
বিয়ে উপলক্ষে বর ও কনের পবিত্রকরণ ছাড়াও আনুষ্ঠানিক স্নানের আরেকটি প্রতীকী বৈশিষ্ট্য ছিল। নদী এবং ঝর্ণার পানি যেভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, একইভাবে এই পানি নব বিবাহিতদের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতায় অবদান রাখবে বলে গ্রিকরা বিশ্বাস করত। তাছাড়া এটা ভুললে চলবে না যে পানির জাদুকরি ক্ষমতা সম্পর্কেমানুষের বদ্ধমূল ধারণা সকল সভ্যতা ও ধর্মে দেখতেপাওয়া যায়। আমরা তো অ্যাচেলোস নদীতে উৎসর্গ প্রদান, জর্দান ও নীল নদীর পানি দ্বারা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা গ্রহণ, স্টাইবাস নদীর পানির অমরত্বের গুণ, গঙ্গা নদীর পানিতে জীবিতদের পবিত্রকরণ বা পাপমোচন ও মৃতদের দেহভষ্ম উৎসর্গ করা এবং নামাজের পূর্বে মুসলমানদের অজু করার রীতিগুলো সম্পর্কে অবহিত। তাছাড়া আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মানব দেহের অধিকাংশ পানি এবং পৃথিবীরও। অতএব পানিকে সবসময় পবিত্র বিবেচনা করা হয়েছে।

আরো
পড়তে থাকুন ৪
Read More

বিবাহ ২

বাগদান প্রসঙ্গে বলা যায় যে, একটি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বিয়ের কথা পাকা হওয়ার আগে সম্ভবত কখনো তাদের সাক্ষাৎই ঘটত না। তাছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানেরআগে বিয়ের সময় অথবা পরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রেম, বিশ্বাস কোনোকিছুই গুরুত্ব পায় না, প্রত্যেকে চায় নবদম্পতির সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা ও সমৃদ্ধি। এমনকি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যৌন আকর্ষণও অনেকটা দুর্লভ ব্যাপার ছিল। কারণ তখনকার সাধারণ অবস্থা ছিল পুরুষরা শুধু বৈধ সন্তানের জন্ম দেয়ার উদ্দেশ্যেই তাদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে, আর যৌন পরিতৃপ্তির জন্য বাড়ির বাইরে বারাঙ্গনাদের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখবে। আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তানের জন্মের পর স্বামী যৌনসঙ্গমের জন্য আর স্ত্রীর কাছে যেত না। এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও কিছু স্বামী-স্ত্রী পরসপরের প্রতি গভীর আবেগ অনুভব করত এবং আমৃত্যু একে অন্যের কাছে বিশ্বস্ত থাকত। এ ধরনের একটি দৃষ্টান্তের উল্লেখপাওয়া যায় জেনোফনের সিম্পোজিয়ামে, যেখানে সক্রেটিস বলছেন, ‘নিকিরাটোস তার স্ত্রীকে আসলেই ভালোবাসে এবং স্ত্রীও তাকে ভালোবাসে বলে আমাকে বলা হয়েছে’।
এভাবেই বিয়ের আয়োজন করা হতো অভিভাবকদের দ্বারা, মুখ্যত পিতা কর্তৃক এবং পিতার অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে পরিবারের নিকটতম পুরুষ সদস্য এই দায়িত্ব পালন করত। স্বামীর পছন্দ নির্ধারিতহতো উপরে বর্ণিত লক্ষণ ও যোগ্যতাসমূহের আলোকে এবংআত্মীয়দের পছন্দকেও গুরুত্ব দেয়া হতো।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, একই মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণকারী ছেলে ও মেয়ে অর্থাৎ ভাই বোন পরসপর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারত কি না। এক্ষেত্রে পিতা একজন হলেও তাদের মা যদি ভিন্ন হতো তাহলে তাদের মধ্যে বিয়ে গ্রহণযোগ্য ছিল। একটি বর্ণনা পাওয়া যায় যে, থেমিস্টোক্লেসের দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী কন্যা তারসৎ ভাইকে বিয়ে করেছিল, যার জন্ম হয়েছিল এই খ্যাতিমান রাজনীতিবিদের প্রথম স্ত্রীর গর্ভে। আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন ডেমোসথেনিস। তিনিলিখেছেন যে তার পিতামহ বিয়ে করেছিলেন তার সৎ মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণকারী সৎ বোনকে।পেরিক্লেসও বিয়ে করেছিলেন তার এক আত্মীয়কে। কোনো মেয়ে তার চাচা অথবা মামাকেও বিয়ে করতে পারত। এ ধরনের বিয়েরক্ষেত্রে কাজ করত প্রয়োজন, বিশেষ করে যখন পরিবারের সম্পত্তি রক্ষার প্রশ্ন জড়িত থাকত। মেয়ের যদি একই পিতার দ্বারা জন্মদানকারী কোনো ভাই না থাকে তাহলে তাকে তার পিতার নিকটতম কোনো পুরুষ আত্মীয়কে বিয়ে করতে হতো,যাতে সম্পত্তি পরিবারের কাছেই থাকে।
বিয়ের ব্যাপারে পিতা-মাতার পছন্দের বাইরে কিছু করা সন্তানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এটা শুধু আনুগত্যের কারণে নয়,বিয়ে তাদের পক্ষে এড়ানো সম্ভব নয় জেনেও সমমত হতো এবং তাদের ব্যক্তিগত সুখের প্রশ্ন এতে আদৌ জড়িত থাকত না। কবি মেনানডের বলছেন যে, ‘বিয়ে প্রয়োজনীয় এক অমঙ্গল।’
মেয়েরা বিবাহযোগ্যা হতো ১৬ বছর বয়সে এবং ছেলেরা বিবাহযোগ্য হতো ৩০ বছর বয়সে। হেসিয়ড উপদেশ দিয়েছেন, ‘বিয়ে করে স্ত্রীকে ঘরে আনার বয়স হয়েছে তোমার। কারণ এখন তোমার বয়স ৩০ বছর। বয়স তোমার কমও নয় এবং খুব বেশিও নয়। বিয়ের উপযুক্ত বয়স তোমার। আরো ৪ বছর তোমার স্ত্রীকে পুরোপুরিবিকশিত হতে দাও এবং ৫ম বছরে ঘরে তোল।’ যদিও এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইনগত কোনো কাঠামো ছিল না, কিন্তু মনে হয় মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ারআগে তাদের বিয়ে হতো না। পরবর্তীতে রোমেও এই রীতি অনুসৃত হয়েছে। তরুণরা তাদের সামরিক দায়িত্ব প্রতিপালন করার আগে বিয়ে করতে পারত না। রাষ্ট্রের জন্য বিয়ে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।অতএব, এথেন্সে ৪০ বছর বয়সেও যদি কেউ অবিবাহিত থাকত, তাহলে তাকে বিশেষ একটি কর দিতে হতো। অনুরূপএকটি আইন সপার্টাতেও ছিল। সপার্টায় এ আইনের প্রচলন করেছিলেন লাইকারগাস। ক্লাসিক্যাল যুগ ও হোমারের যুগের বিয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য ছিল তরুণী মেয়েদের সতীত্ব। সলোনের আইন অনুসারে তরুণীদের অবশ্যই তাদের বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত কুমারীত্বঅক্ষুণ্ন রাখতে হতো। কুমারীত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনেই মেয়েদের তুলনামূলক কম বয়সে বিয়ের নিয়ম স্থির করা হয়েছিল।
বিয়ের এসব শর্ত ছিল অলিখিত, কিন্তু এক ধরনের বৈধ চুক্তি। বলা যায় যে, উপরোক্ত শর্তগুলো পরিপূরণ হলেই ধরে নেয়া যেত যে, বিয়ে কার্যকর হয়েছে। প্রথমে উপহার প্রদান, মেয়ে বা কনেকে সমর্পণ। চুক্তির পর্যায়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যখন হবু স্বামী এবং হবু শ্বশুর কনের বাড়িতে কিছু সংখ্যক সাক্ষীর উপস্থিতিতে করমর্দন এবং দু একটা বাক্য বিনিময় করত। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের শপথই ছিল মূল বিষয়। গ্রিকরা যে তাদের শপথ রক্ষার ব্যাপারে কতটা প্রবল ছিল তা সর্বজনবিদিত। কনে যদি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকত তাহলে সে হতো শুধু নীরব অংশগ্রহণকারী। বরেরপিতার উপস্থিতি অনিবার্যছিল না। কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে পুত্র যে পিতার সমমতি গ্রহণ করেছে তা নিশ্চিত।বিয়ের চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ যৌতুক। দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক শপথের পর বৈবাহিক দান, যাকনের পিতা বরকে প্রদান করত তার কন্যার ভরণ-পোষণের জন্য, যেহেতু তাকে স্বামীর বাড়িতে কোনো কাজ করতে হবে না। উভয় পক্ষের সমমতিতে এ ধরনের যৌতুকের সামগ্রী এবং তা পরিশোধের সময় স্থির করা হতো।
এই রীতি পালনের দুটি কারণছিল (এখনো গ্রিসে এই রীতিপালন করা হয়, যদিও ১৯৮১ সালে এটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে) বিবাহযোগ্যা কন্যার বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্রদের আকর্ষণ এবং প্রবৃত্ত করা। একদিকে এর ফলে ছেলেরা তাদের সম্পত্তি বৃদ্ধির জন্য আকৃষ্ট হতো এবং অন্যদিকে এতে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রবণতা দূর হতো। কারণ বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পিতা কর্তৃক কন্যার স্বামীকে প্রদত্তসম্পত্তি বা যৌতুক সামগ্রী ফেরত দিতে হতো। স্বামীর মৃত্যুর ক্ষেত্রেও যৌতুক ফিরিয়ে দিতে হতো এবং এরপর সেই সামগ্রী দেয়া হতো সংশ্লিষ্ট মহিলার দায়িত্বগ্রহণকারী তার সন্তান অথবা তার পিতার পরিবারের কোনো সদস্যকে। অথবা তাদের অনুপস্থিতিতেতার নিকটতম কোনো আত্মীয়কে।
প্রাচীন গ্রিসে যৌতুক হিসেবে দেয়া হতো অর্থ অথবা জমি কিংবা এক সাথে দুটোই। ক্লাসিক্যাল যুগেএথেন্সের একটি মেয়ের জন্য যৌতুক দিতে হতো এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ড্রাচমা পর্যন্ত।

আরো
পড়তে থাকুন ৩
Read More

বিবাহ ১

নিকোলাওস এ ভ্রিসিমটজিস আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেইবিবাহকে সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর বলে বিবেচনা করা হয়েছে। বংশ রক্ষার জন্য বিবাহের মাধ্যমে সৃষ্ট পরিবারকে অন্যতম মৌলিক একটি দিক এবং অত্যাবশ্যক শর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। যে কারণে হোমারের কাব্যে বিবাহ ও পরিবারের মূল্যবোধ ও গুরুত্ব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে এবং জিউস ও হেরা, হেক্টর ও অ্যানড্রোম্যাচে, ইউলিসেস ও পেনিলোপের মতো দম্পতি দৃষ্টান্ত স্থাপনকরেছেন, অন্যদিকে অ্যাচিলেস, টেলিম্যাচাস, নউসিকার মতো একক বীরেরা অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করেছেন যে কবে যুদ্ধ বা তাদের ব্যক্তিগত অভিযান শেষ হলে তারা বিয়ে করবেন।
সেই সুদূর অতীতে বিবাহের কোনো আইনানুগ বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল না। শুধু অলিখিত কিছু বিধি বর্তমান রীতিপ্রথারমধ্যে প্রতিফলিত আছে। তবুও সবকিছুর বিবেচনায় মনে হয় যে, বিবাহকে আইনানুগ বা বৈধ রূপ দিতে হলে কমপক্ষে দুটি শর্ত পরিপূরণ করার প্রয়োজন পড়ত। প্রথমত বিয়ের উপহারসামগ্রী পাঠাতে হতোমেয়ের বাড়িতে এবং এরপরই সেই মেয়ে বা বধূ স্বামীর বাড়িতে আসত আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা সহকারে। পরবর্তীতে, ক্লাসিক্যাল যুগে বিয়ের উপহার হিসেবে মেয়ের পিতাকে এক ধরনের বাগদান বা বিয়ের চুক্তির অনুরূপ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামগ্রী দিতে হতো স্বামীর পক্ষ থেকে। এসবের মধ্যে থাকত পশু, মূল্যবান অলঙ্কার, বস্ত্রাদি এবং ব্যক্তিগতব্যবহারের সামগ্রী। উপহারের মধ্যে অর্থ থাকত না কারণ তখন পর্যন্ত অর্থবা মুদ্রা আবিষকৃত হয়নি। বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে প্রদত্ত উপহারগুলো স্বামীকে ফেরত দিতে হতো। কিন্তু বিচ্ছেদের জন্য যদি স্বামী দায়ী বলে প্রমাণিত হতো তাহলে প্রদত্ত উপহারসামগ্রী স্ত্রীর পরিবারেই থাকত। এতে অন্তত একটি বিষয় সপষ্ট হয় যে, বিবাহ বিচ্ছেদকে সামগ্রিকভাবে নিরুৎসাহিতই করা হতো। কারণ সেক্ষেত্রে উপহারসামগ্রী হারানো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির ব্যাপার ছিল।
বিয়ের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিকতা ছিল বিয়ে করা কনেটিকে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। স্বামীর পরিবারের যারা কনের পিতৃগৃহে বিয়ের ভোজে অংশ নিত তাদের সাথে পরিচিতির অংশটুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভোজপর্ব শেষে এবং উপহার স্থির করা নিয়ে কথাবার্তা শেষ হলে কনে তার নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করত সুসজ্জিত শকটে আরোহণ করে। সুরশিল্পীরা বাদ্যযন্ত্র বাজাত এবং বরের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা মশাল হাতে নিয়ে বিয়ের গান গাইতে গাইতে শোভাযাত্রা সহকারে এগিয়েযেত শকটের সাথে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই যুগের বিয়ে সম্পর্কে আর কিছু পাওয়া যায় না। কোনো চিত্রেও এর প্রতিফলন নেই। এ সম্পর্কে আমাদের জানার একমাত্র উৎস হোমারের কবিতা।
ক্লাসিক্যাল যুগে বিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইনানুগ রূপ লাভ করে, যা এথেন্সে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে আইনপ্রণেতা সলোনের দ্বারা সম্ভবত প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে দাঁড়ায়। কোনো বিয়ের বৈধতার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হতো, হবু স্বামী ও কনের পিতার মধ্যে সম্পাদিত বিয়ের চুক্তি এবং স্বামীর পরিবারের কাছে কনেকে হস্তান্তর। এই নিয়ম মেনে বিয়ে সম্পন্ন হলে সেই দম্পতির পুত্রেরা উত্তরাধিকার সূত্রে পরিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক ওনাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
পরবর্তীতে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫১ সালে পেরিক্লেসের সময়ে প্রণীত এক আইনে বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুসারে শুধু উপরে উল্লিখিত শর্ত মেনে বিয়ে করলেই তা যে বৈধ বিয়ে হতো তা নয়, বরং বিয়ের শর্ত হিসেবে ছেলে ওমেয়ের এথেন্সবাসী হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। এই আইনটি প্রণয়ন করা হয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে। এর দ্বারা একদিকে নাগরিক অধিকারের দাবিদার ও ক্ষমতায় যেতে আগ্রহীদের সংখ্যা যেমন সীমিত রাখার উদ্যোগ কাজ করেছে, অন্যদিকে নগর রাষ্ট্রটি বিদেশীদের হাতে যাতে না পড়ে সেই লক্ষ্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এথেন্স যেহেতু এথেনিয়ান লীগের Athenian League (এজিয়ান সাগরে অবস্থিত বহু সংখ্যক গ্রিক দ্বীপ ও উপকূলীয় নগর এবং এথেন্সের মধ্যেকার সামরিক মৈত্রী, যা স্থাপিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৮ সালে। প্রথমে এর কেন্দ্র ছিল ডেলোসে যা পরবর্তীতে এথেন্সে স্থানান্তরিত হয়) নেতৃত্বে ছিল সে কারণে উপরোক্ত আইনের উদ্দেশ্য ছিল এথেন্সের মিত্র ভূখণ্ডগুলো থেকে আগত অভিবাসীদের নাগরিক অধিকার প্রদান থেকে বিরত থাকা। ফলে এথেন্সবাসী ও বিদেশীদের মধ্যে এর আগে বিয়ে বৈধ থাকলেও এরপর থেকে এ ধরনের সম্পর্ককে বিবেচনা করা হতে থাকে অবাধ মিলন হিসেবে এবং সে মিলনে জন্মগ্রহণকারী পুরুষ সন্তানদেরও রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার দেয়া হতো না।
এই আইনের এক শিকার স্বয়ং পেরিক্লেস। আইনটি প্রণীতহওয়ার এক বছর পর মাইলেটাসনামে বিশিষ্ট ও শিক্ষিত এক নারী আসপাসিয়ার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটে। পেরিক্লেসের দুটি পুত্র সন্তান ছিল যারা তার বৈধ স্ত্রীর গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছিল। সেই স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে পেরিক্লেস আসপাসিয়ার সাথে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। আসপাসিয়াযদি এথেন্সবাসী হতো, কিংবা কোনো একটি নগর রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতো, যাদেরকে এথেন্সবাসীদের সাথে বিয়ের অধিকার দেয়া হয়েছিল, তাহলে পেরিক্লেস অবশ্যই তাকে বিয়ে করতেন। কিন্তু বিয়ে না করা সত্ত্বেও খ্রিস্টপূর্ব ৪২৯ সালে আসপাসিয়ার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পেরিক্লেসের সাথে তার সম্পর্ক অটুট ছিল। তার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলেও সেই পুত্র নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল যতদিন পর্যন্ত পেরিক্লেস বিদ্যমান আইনের বিশেষ ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হননি।
একজন নাগরিকের জন্য স্ত্রী গ্রহণের মূল কারণ ছিল বৈধ পুত্র লাভ, যে পরিবারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে এবং পিতা বার্ধক্যে উপনীত হলে তার দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবে। বিয়ের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল দুটি শক্তিশালী অথবা বিত্তবানপরিবারের এবং তাদের সম্পত্তির মধ্যে সম্পর্কস্থাপন, যাতে উভয় পরিবারের অভিন্ন স্বার্থসংরক্ষিত থাকে। অতএব, এটাঅত্যন্ত সপষ্ট যে, খ্রিস্টপূর্ব তিনশ’ শতাব্দী পর্যন্ত সকল বিয়ে ছিল সুবিধা লাভের স্বার্থে সম্পর্কিত।
২
Read More

নারী ছলনাময়ী-পুরুষ কিন্তু ছলনায় সেরা

সঙ্গিনীর চেয়ে কম রোজগার করলে পুরুষের প্রতারণা করার প্রবণতা বেড়ে যায় কে বেশি ছলনা করে? নারী না পুরুষ সঙ্গীটি? সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় এসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে পাওয়া গেছে। বিবাহিত বা কমপক্ষে ১ বছর ধরে একসঙ্গে আছেন এমন ১০২৪ জন পুরুষ ও ১৫৫৯ জন নারীর কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেই এ সমীক্ষাটি করা হয়েছে। সমীক্ষাটির লেখক কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের ডক্টরেট প্রার্থী ক্রিস্টিন মুনস্চ বিষয়টিকে বলেছেন এইভাবে, যখন কোনো পুরুষ মনে করেন সঙ্গিনীর চেয়ে কম রোজগার তার জন্য হুমকি, তখন তিনিতার নিজস্বতাকে বজায় রাখার জন্যপ্রতারণার আশ্রয় নেন। ‘অ্যামেরিকান স্যোসিওলোজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর বার্ষিক আলোচনা সভায় লেখক এ বিষয়টি উপস্থাপন করেন। ক্রিস্টিন বলেন,পুরুষ নারীর চেয়ে বেশি রোজগার করবে এবং পুরুষই পরিবারের প্রধান রোজগেরে, এ ধারণাটি এতটাই বদ্ধমূল, যে সঙ্গিনীর চেয়ে কম রোজগার করাটা পুরুষের সামনে হুমকি হয়ে দেখা দেয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজগুলোতে এ বিষয়টি আরো প্রকট। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যদি কোনো পুরুষ তার সঙ্গিনীর চেয়ে কম রোজগার করেন তাহলে তার বিশ্বাসঘাতক হওয়ার প্রবণতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। আবার ওই একই সমীক্ষাতে দেখা যাচ্ছে, যেসব পুরুষের সঙ্গিনী তাদের ওপর খুব বেশিমাত্রায় নির্ভরশীল সেসব পুরুষেরও প্রতারণার প্রবণতা যথেষ্ট বেশি। যদিও নারীদের বেলায় চিত্রটি ভিন্ন। দেখা গেছে, একজন নারী যখন পরিবারের প্রধান রোজগারদাতা হচ্ছেন, তখন তার মধ্যে প্রতারণার প্রবণতা বেশি। কিন্তু তিনি যদি তার পুরুষ সঙ্গীটির ওপর নির্ভরশীল হন, সেক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। সমীক্ষা বলছে, সবমিলিয়ে মেয়েদেরপ্রতারণা করার প্রবণতা পুরুষদের প্রতারণার অনুপাতে অর্ধেক


♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More

সুন্দরী নারী স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি!

সুন্দরী নারীর সঙ্গ পুরুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হতে পারে। ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় এই তথ্য দেয়া হয়েছে। এ গবেষণায় বলা হয়, কোনো দৃষ্টিনন্দন নারীর সাক্ষাতের পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুরুষদের মধ্যে করটিসল (যে হরমোন শারীরিকও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে) নামের এক ধরনের হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। যেসব পুরুষ সাক্ষাত পাওয়া সুন্দরী নারীদের নিজেদের নাগালের বাইরে বলে মনে করেন তাদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রয়া আরো বেশি হয়। এতে পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপও পুরুষত্বহীনতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানসিক ও শারীরিক চাপের সময় করটিসল নামেরহরমোনটি উৎপন্ন হয়। বিজ্ঞানীরা ৮৪ জন ছেলে শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা চালান। এখানে একটি কক্ষেদুজন করে ছাত্রকে সুডোকু মেলাতেবলা হয়। কক্ষটিতে তাদের সঙ্গে একজন সুন্দরী তরুণী এবং একজন তরুণকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাঠানো হয়। এ দুজনই ছাত্রদের নিকট ছিল অপরিচিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যখন মেয়েটি স্বেচ্ছাসেবকছেলেটিকে রেখে কক্ষ থেকে বেরিয়েযায় তখন ওই দুই ছাত্রের করটিসল মাত্রা স্থির ছিল। কিন্তু ছেলেটি যখন তরুণীকে রেখে বের হয় তখন ছাত্র দুজনের করটিসল বৃদ্ধিপেতে থাকে। গবেষণাটি থেকে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, কোনো সুন্দরী ও মোহনীয় নারীরকাছাকাছি এলে অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ এসেছে এমন ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকর্ষণীয় নারীদের সঙ্গে পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে পুরুষদেহে করটিসল বেড়ে যেতে পারে। অল্প মাত্রায় বাড়লে করটিসল সতর্কতা সৃষ্টির মতো কিছু ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাড়তে থাকলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হতে পারে।


♥♥♥♥সমাপ্ত♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More

ঝগড়াটে স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকাই ভালো সন্তানের স্বার্থে

কমবেশি সব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই ঝগড়া হয়ে থাকে। এর মাত্রাও কমবেশি হয়। অনেকে নিয়মিত ঝগড়া করেন। আবার সমঝোতাওহয় তাদের মধ্যে। তবে কোনো কোনো দম্পতি ঝগড়ায় ডুবে থাকেন দিন-রাত। অভ্যাসে পরিণত হয় ঝগড়া। কারো পারিবারিক অশান্তি চিরস্থায়ী হয়। কলহপ্রবণ অনেক দম্পতি বেশির ভাগ সময় সন্তানের কথা ভেবেই একত্রে জীবন পার করেন। আবার একই সঙ্গে তাদের কলহ চলতেই থাকে। কিন্তু যাদের কথা ভেবে এই বিষময় জীবনযাপন, তাদেরই এতে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। যা অনেকেই ভেবে দেখেন না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কলহপ্রবণ দম্পতির সন্তান আরো বেশি অশান্তি নিয়ে বড় হয়। তারা মানসিক অস্থিরতায় ভোগে এবংঅনেক সময় মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে। সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডও এসব বাবা-মার সন্তানেরাই বেশি করে।
এই গবেষণাটি পরিচালিত হয় বৃটেনের ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থার শিকার প্রায় ৭ হাজার শিশুর ওপর। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক। এই গবেষণার মাধ্যমে তারাদেখান বিবাহ বিচ্ছেদের শিকার শিশুরা বা কিশোর-কিশোরীরা কলহপ্রিয় কিন্তু একসঙ্গে বাস করা পিতা-মাতার সন্তানদের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ ভালো আছে। গবেষকদের মতে, এই সংখ্যা পরিবর্তনশীল হলেও এটা সত্য পিতা-মাতার বিচ্ছেদের পর নতুন বা একক অভিভাবকের কাছে সন্তানরাকিছুদিন মনমরা হয়ে থাকলেও ১ বছরের মাথায় তারা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। তখন তাদের মধ্যে অতৃপ্তি বা অপ্রাপ্তি বলেআর কোন কিছু থাকে না। নিজের দায়িত্ব নিজে পালন করাও তারা দ্রুত আয়ত্ত করে নেয়। গবেষকরা এক্ষেত্রে শুধু শতকরা হিসাব দিয়েই ক্ষান্ত হননি। বেশ কিছু কেস স্টাডি প্রকাশ করে এই গবেষনার সারবেত্তা প্রমাণেরও চেষ্টা করেছে তারা। প্রায় দু বছর ব্যাপী এই গবেষণায় শিশুর আকাঙ্খা ও সন্তুষ্টির স্কেল ব্যবহার করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

♥♥♥♥সমাপ্ত
♥♥♥♥
প্রকাশক : সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
www.facebook.com/sayed.rubel3
Read More