মুসলিম মনুষীদের জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুসলিম মনুষীদের জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইমাম বুখারী (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
ভূমিকা: ইমাম বুখারী। কাল
প্রবাহে একটি বিস্ময়ের নাম। স্মৃতির
প্রখরতা, জ্ঞানের গভীরতা, চিন্তার
বিশালতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, অটুট
সততা আর বিশাল পর্বত সম হিম্মতের
এক মূর্ত প্রতীক এই মহাপুরুষ।
তিনি ইলমে হাদীসের এক
বিজয়ী সম্রাট। তার সংকলিত হাদীসের
মহামূল্যবান সংকলন সহীহুল
বুখারী বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আল্লাহর
কিতাব মহা গ্রন্থ আল কুরআনের
পরেই যার অবস্থান। কিয়ামত পর্যন্ত
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ তার সাধনার
কাছে ঋণী। আসুন, খুব
সংক্ষেপে আমরা এই মনিষীকে জানার
চেষ্টা করি:
নাম, জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ
তিনি হচ্ছেন সমকালীন মুহাদ্দিছদের
ইমাম হাফেয আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ
বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন
মুগীরা বিন বারদিযবাহ আলজু’ফী।
তাঁকে আমীরুল মুমিনীন ফীল হাদীছও
বলা হয়। ১৯৪ হিঃ সালের ১৩ই
শাওয়াল জুমআর
রাত্রিতে তিনি বুখারায় জন্ম গ্রহণ
করেন।
শৈশব কাল ও জ্ঞান অর্জনঃ
শিশুকালেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।
পিতার মৃত্যুর পর মাতার
তত্বাবধানে তিনি প্রতিপালিত হন। দশ
বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি জ্ঞান
চর্চার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন।
অল্প বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন
মুখস্ত করেন। শৈশব
কালে মক্তবে লেখাপড়া করার সময়ই
আল্লাহ্ তাঁর অন্তরে হাদীছ মুখস্ত ও
তা সংরক্ষণ করার প্রতি আগ্রহ ও
ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন। ১৬ বছর
বয়সেই হাদীছের প্রসিদ্ধ
কিতাবগুলো পাঠ সমাপ্ত করেন।
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
তিনি ছোট থাকতেই অন্ধ
হয়ে গিয়েছিলেন। এতে তাঁর
মাতা আল্লাহর কাছে খুব ক্রন্দন
করলেন এবং স্বীয় সন্তানের
দৃষ্টি শক্তি ফেরত দেয়ার জন্য তাঁর
কাছে অবিরাম দুআ করে যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ এক দিন তাঁর মা স্বপ্নে দেখলেন
যে আল্লাহর নবী ইবরাহীম (আঃ)
তাঁকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ ওহে!
তোমার সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফেরত
চেয়ে আল্লাহর দরবারে তোমার
ক্রন্দনের কারণে তিনি তোমার
সন্তানের
দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন
তিনি প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার জন্য
স্বীয় সন্তানের কাছে গিয়ে দেখেন
সত্যিই তাঁর সন্তান সম্পূর্ণ
দৃষ্টি শক্তি ফেরত পেয়েছে।
ইমাম বুখারীর স্মরণ শক্তির
প্রখরতাঃ
১৮ বছর বয়সে তিনি হজ্জ পালনের
জন্য মক্কায় গমণ করেন। মক্কায়
অবস্থান করে তিনি ইলমে হাদীছের
চর্চা শুরু করেন। অতঃপর তিনি এই
উদ্দেশ্যে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেন
এবং এক হাজারেরও অধিক সংখ্যক
মুহাদ্দিছের নিকট তেকে হাদীছ সংগ্রহ
করেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য
সারা রাত জেগে তিনি অত্যন্ত কঠিন
পরিশ্রম করতেন। তাঁর
স্মৃতি শক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর।
বলা হয় যে তিনি সনদসহ ছয় লক্ষ
হাদীছের হাফেয ছিলেন। আলেমগণ তাঁর
জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যে কোন
কিতাবে একবার দৃষ্টি দিয়েই
তিনি তা মুখস্ত করে নিতেন। তাঁর
জীবনীতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,
তিনি যখন বসরার মুহাদ্দিছদের
হাদীছের ক্লাশে হাজীর হতেন তখন
অন্যান্য ছাত্রগণ খাতা-কলম
নিয়ে বসে উস্তাদের নিকট থেকে হাদীছ
শুনতেন এবং প্রতিটি হাদীছই
লিখে ফেলতেন। কিন্তু ইমাম
বুখারী তা করতেন না। কয়েক দিন পর
তাঁর সাথীগণ জিজ্ঞেস
করলঃ আপনি শুধু আমাদের
সাথে বসে থাকেন কেন?
হাদীছগুলো না লেখার কারণই বা কি?
এভাবে সময় নষ্ট করে লাভ কি?
বন্ধুরা যখন
পিড়াপিড়ি করতে থাকলো তখন ১৬
দিন পর তিনি বললেনঃ আপনারা আমার
নিকট বারবার একই প্রশ্ন করছেন।
আপনারা যে সমস্ত হাদীছ লিখেছেন
তা আমাকে পড়ে শুনান।
বন্ধুরা তা দেখানোর পর তিনি সমস্ত
হাদীছ মুখস্ত শুনিয়ে দিলেন এবং আরও
অতিরিক্ত পনের হাজার হাদীছ
শুনালেন। অতঃপর তাঁর সাথীগণ তাদের
কাছে রক্ষিত কিতাবের
হাদীছগুলো ইমাম বুখারীর মুখস্ত কৃত
হাদীছের সাথে মিলিয়ে ভুল-
ভ্রান্তি ঠিক করে নিলেন। অতঃপর
তিনি বন্ধুদেরকে লক্ষ্য
করে বললেনঃ এরপরও
কি তোমরা বলবে যে,
আমি এখানে অযথা সময় নষ্ট করছি?
সে দিন থেকেই হাদীছ
শাস্ত্রে তারা ইমাম বুখারীকে প্রাধান্য
দেয়া শুরু করলেন।
ইমাম বুখারী (রঃ) বলেনঃ আমার
অন্তরে এক লক্ষ সহীহ হাদীছ ও দুই
লক্ষ যঈফ হাদীছ মুখস্ত রয়েছে। সহীহ
বুখারীর অন্যতম ভাষ্যকার
কুস্তুলানীর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ছয়
লক্ষ হাদীছের হাফেয ছিলেন। মুহাদ্দিছ
ইবনে খুযায়মা (রঃ)
বলেনঃ পৃথিবীতে ইমাম
বুখারী অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ
এবং হাদীছের হাফেয আর কেউ জন্ম
গ্রহণ করে নি। কেউ কেউ
বলেনঃ খোরাসানের যমীনে ইমাম
বুখারীর মত আর কেউ জন্ম গ্রহণ
করে নি।
ইমাম বুখারীর বাল্যকালের
একটি ঘটনা অত্যন্ত চমকপ্রদ। তখন
তিনি দশ বছর বয়সের কিশোর। এ সময়
তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ ইমাম
দাখিলীর ক্লাশে হাদীছের পাঠ গ্রহণ
করছিলেন।
মুহাদ্দিছ দাখিলী এই সনদে একটি হাদীছ
উপস্থাপন করলেনঃ
ﺳﻔﻴﺎﻥ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺇﺑﻲ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﻋﻦ
ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ
“সুফিয়ান বর্ণনা করেন আবুয্ যুবাইর
হতে আর আবুয যুবাইর বর্ণনা করেন
ইবরাহমী হতে।” বালক বুখারী প্রতিবাদ
করে বললেনঃ আবুয যুবাইর ইবরাহীম
হতে হাদীছ হাদীছটি বর্ণনা করেন নি।
মুহাদ্দিছ দাখিলী তাঁকে ধমক
দিয়ে বললেও তিনি প্রশান্ত
চিত্তে বললেনঃ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﻋﻦ
ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ নয়: বরং ﺯﺑﻴﺮ ﺑﻦ ﻋﺪﻱ
ﻋﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ
আপনি দয়া করে একবার আপনার
পান্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখুন।
অতিরিক্ত জোর দেয়ার
কারণে উস্তাদের মনে সংশয় দেখা দিল।
তিনি পান্ডুলিপি দেখে ইমাম
বুখারীকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার
কথাই ঠিক। তখন মুহাদ্দিছ দাখিলী তার
জন্য প্রাণ খুলে দুআ করলেন।
হাদীছ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশ
ভ্রমণঃ
হাদীছ সংগ্রহের জন্য ইমাম
বুখারী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম
করে অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
সে সময় যে সমস্ত দেশে বিজ্ঞ
মুহাদ্দিছগণ বসবাস করতেন তার প্রায়
সবগুলোতেই তিনি ভ্রমণ করেছেন
এবং তাদের নিকট থেকে হাদীছ সংগ্রহ
করেছেন। খোরাসানের বিভিন্ন অঞ্চল
ছাড়াও তিনি যে সমস্ত দেশে ভ্রমণ
করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মক্কা,
মদীনা, ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া, মিশর
এবং আরও অনেক শহর।
বাগদাদে আগমণ ও তাঁর স্মরণ শক্তির
পরীক্ষাঃ
তৎকালীন সমগ্র ইসলামী রাজ্যে যখন
মুহাদ্দিছ হিসেবে ইমাম বুখারীর
কথা ছড়িয়ে পড়ল তখন সেই যুগের বড়
বড় মুহাদ্দিছগণ
তাঁকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তাই
তিনি যখন বাগদাদে আগমণ করলেন
তখন চারশত মুহাদ্দিছ একত্রিত
হয়ে ১০০টি সহীহ হাদীছ নির্বাচন
করে তার সনদ ও মতন
পাল্টিয়ে দিয়ে ১০ ভাগে বিভক্ত
করে দশজন মুহাদ্দিছের হাতে সোপর্দ
করলেন। অতঃপর তাঁর জন্য হাদীছের
মজলিস স্থাপন করা হলো। তিনি যখন
আসন গ্রহণ করলেন তখন
প্রথমে একজন মুহাদ্দিছ ১০টি হাদীছ
নিয়ে তার
দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি একটি করে
সবগুলো হাদীছ পাঠ করে শেষ করলেন।
প্রতিটি হাদীছ পড়া শেষ হলেই ইমাম
বুখারী বলতেনঃ ﻻﺃﻋﺮﻓﻪ অর্থাৎ এ
ধরণের কোন হাদীছ আমার জানা নেই।
এমনিভাবে ১০ জন বিখ্যাত মুহাদ্দিছ
১০০টি হাদীছ তাঁর সামনে পাঠ
করলেন। সকল হাদীছের ক্ষেত্রেই
তিনি বার বার একই কথা বললেন।
পরিশেষে তিনি সকলকে ডেকে উলটপালট
কৃত হাদীছগুলোর
প্রত্যেকটি হাদীছকে তার আসল সনদের
দিকে ফিরিয়ে দিলেন এবং ঠিক
করে দিলেন। হাদীছগুলোর সনদ
থেকে কোন রাবীর নাম বাদ
পড়েনি এবং মতনসমূহ
থেকে একটি শব্দও ছুটে যায় নি।
এমনকি হাদীছগুলো সঠিকভাবে
সাজানোতে মুহাদ্দিছগণ তাঁর কোন ভুল-
ত্র“টি ধরতে পারেন নি। বলা হয় যে,
সমরকন্দে যাওয়ার পরও তাঁকে একই
নিয়মে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এতে সেই
যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ
হিসেবে সকলেই তাঁকে স্বীকৃত প্রদান
করলেন।
ইমাম বুখারীর উস্তাদ ও ছাত্রগণঃ
ইমাম বুখারী (রঃ) থেকে অসংখ্য
মুহাদ্দিছ সহীহ বখারী বর্ণনা করেছেন।
খতীব বাগদাদী (রঃ) বুখারীর অন্যতম
রাবী ফিরাবরির বরাত দিয়ে বলেন যে,
তার সাথে প্রায় সত্তর হাজার লোক
ইমাম বুখারী থেকে সরাসরি সহীহ
বুখারী পড়েছেন। তাদের
মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ
বর্তমানে জীবিত নেই। তাঁর ছাত্রদের
মধ্যে রয়েছেন ইমাম মুসলিম, ইমাম
তিরমিজী, ইমাম নাসাঈ। তিনি যাদের
কাছে হাদীছ শুনেছেন তাদের
মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমাদ বিন
হাম্বাল, ইসহাক বিন রাহওয়াই
এবং আরও অনেকেই। তিনি আটবার
বাগদাদে আগমণ করেছেন। প্রতিবারই
তিনি আহমাদ বিন হাম্বালের
সাথে দেখা করেছেন। প্রত্যেক
সাক্ষাতের সময়ই ইমাম আহমাদ
তাঁকে খোরাসান
ছেড়ে দিয়ে বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস
করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
সহীহ বুখারী সংকলনের কারণঃ
ইমাম বখারীর পূর্বে শুধু সহীহ
হাদীছসমূহ একত্রিত করে কেউ কোন
গ্রন্থ রচনা করেন নি। সহীহ
বুখারী সংকলনের পূর্বে আলেমগণ সহীহ
ও যঈফ হাদীছগুলোকে এক সাথেই
লিখতেন। কিন্তু ইমাম বুখারীই
সর্বপ্রথম যঈফ হাদীছ থেকে সহীহ
হাদীছগুলোকে আলাদা করে লেখার
কাজে অগ্রসর হন।
তিনি তাঁর বিশিষ্ট উস্তাদ ইসহাক বিন
রাহওয়াই হতে এই মহৎ কাজের
অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
তিনি স্বয়ং বর্ণনা করেন যে, এক দিন
আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইয়ের
মসজিদে বসা ছিলাম।
তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ
যদি হাদীছের এমন একটি গ্রন্থ
করতো, যাতে শুধু সহীহ হাদীছগুলোই
স্থান পেতো তাহলে খুবই সুন্দর হতো।
মজলিসে উপস্থিত সকলেই তাঁর
কথা শুনলেও এ কাজে কেউ অগ্রসর
হওয়ার সাহস পায় নি। ইসহাকের
কথাগুলো ইমাম বুখারীর
অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল।
তিনি সেই দিন হতেই এই মহান দায়িত্ব
পালন করবেন বলে মনে মনে স্থির
করলেন।
তাঁর জীবনীতে আরও উল্লেখ করা হয়
যে, তিনি একবার স্বপ্নে দেখলেন যে,
রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র
শরীরে মাছি বসছে। তিনি এতে কষ্ট
পাচ্ছেন। আর ইমাম
বুখারী হাতে পাখা নিয়ে তাঁর পবিত্র
শরীর থেকে মাছিগুলো তাড়িয়ে দিচ্ছেন।
তিনি এই স্বপ্নের কথা সেই যুগের
একাধিক আলেমের কাছে প্রকাশ
করলে সকলেই বললেন যে, তুমি রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
হাদীছের সাথে যে সমস্ত জাল ও
বানোয়াট হাদীছ
ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তা থেকে সহীহ
হাদীছগুলো আলাদা করবে। আলেমদের
ব্যাখা শুনে সহীহ হাদীছ সম্বলিত
একটি কিতাব রচনার প্রতি তাঁর
আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
সহীহ বুখারী রচনায় ইমাম বুখারীর শর্ত
ও সতর্কতাঃ
ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবে কেবল রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছগুলোই
বর্ণনা করেছেন। কোন হাদীছকে সহীহ
হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য
এবং তা সহীহ বুখারীতে লিপিদ্ধ করার
জন্য যদিও তিনি সুস্পষ্ট করে কোন
শর্তের কথা উল্লেখ না করলেও
আলেমগণ তাঁর কাজের উপর
ভিত্তি করে নিম্নলিখিত
শর্তগুলো বের করেছেনঃ
১) হাদীছের রাবী তার উপরের রাবীর
সমসাময়িক হতে হবে এবং উভয়ের
মাঝে সাক্ষাত হওয়া প্রমাণিত
হতে হবে। অর্থাৎ সাক্ষাৎ
করা এবং হাদীছ শুনা প্রমাণিত
হওয়া জরুরী। এই শর্তে তিনি অন্যান্য
মুহদ্দিছদের খেলাফ করেছেন। এই
ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের মর্ত
হচ্ছে উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ সম্ভব
হলেই চলবে। জীবনে কমপক্ষে একবার
সাক্ষাত হয়েছে বলে প্রমাণিত
হওয়া এবং নির্দিষ্ট কোন হাদীছ
শুনা জরুরী নয়।
২) রাবী ছিাকাহ তথা নির্ভরযোগ্য
হতে হবে।
৩) ন্যায়পরায়ন তথা মানুষের
সাথে কথা-বার্তায় ও
লেনদেনে সত্যবাদী হতে হবে।
৪) রাবী পূর্ণ ম্মরণশক্তি সম্পন্ন
হওয়া।
৫) হাদীছের সনদ মুত্তাসিল হওয়া।
অর্থাৎ মাঝখান থেকে কোন রাবী বাদ
না পড়া।
কোন হাদীছে উপরোক্ত
শর্তগুলো পাওয়া গেলেই ইমাম
বুখারী স্বীয় কিতাবে তা লিখে ফেলেন
নি। বরং প্রতিটি হাদীছ লেখার
আগে তিনি গোসল করে দুই রাকআত
নামায পড়েছেন
এবং ইস্তেখারা করেছেন। তাঁর
অন্তরে যদি হাদীছটি সম্পর্কে কোন
প্রকার সন্দেহ
জাগতো তাহলে সে হাদীছটি শর্ত
মোতাবেক সহীহ হওয়া সত্ত্বেও
তিনি সহীহ বুখারীতে লিখতেন না।
এইভাবে মসজিদে নববীতে বসে তিনি তা
লেখা শুরু করেন এবং একটানা ১৬ বছর
এই কাজে দিন রাত পরিশ্রম করেন।
লেখা শেষ করেই
তাড়াহুড়া করে তা মানুষের জন্য
প্রকাশ করেন নি; বরং কয়েকবার
তিনি তাতে পুনদৃষ্টি প্রদান করেছেন,
ভুল-ত্রুটি সংশোধন করেছেন
এবং পরিমার্জিত করেছেন। তিনবার
তিনি তা লিপিবদ্ধ করেন। সর্বশেষ
লিখিত কপিটিই বর্তমানে মুসলিম
জাতির নিকট অমূল্য রত্ম
হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ইমাম
বুখারীর উস্তাদ ও বন্ধুগণের নিকট
কিতাবটি পেশ করলে তাদের সকলেই
তা পছন্দ করেছেন। যারা এই
কিতাবটির প্রশংসা করেছেন তাদের
মধ্যে রয়েছেন আহমাদ বিন হাম্বাল,
আলী ইবনুল মাদীনী,
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আরও
অনেকেই। তারা সকলেই এর সকল
হাদীছকে সহীহ বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাদের পরে এই উম্মাত আল্লাহ্
তাআলার কিতাবের পরই
এটিকে সর্বাধিক সহীহ বলে কবুল
করে নিয়েছে।
ইমাম বুখারীর দানশীলতা ও উদারতাঃ
ইমাম বুখারী প্রচুর ধনসম্পদের মালিক
ছিলেন। মুহাম্মাদ বিন আবু হাতিম
বলেনঃ ইমাম বুখারীর এক খন্ড যমীন
ছিল। এ থেকে তিনি প্রতি বছর সাত
লক্ষ দিরহাম ভাড়া পেতেন। এই বিশাল
অর্থ থেকে তিনি খুব সামান্যই নিজের
ব্যক্তিগত কাজে খরচ করতেন।
তিনি খুব সীমিত খাদ্য গ্রহণ করতেন।
বেশীর ভাগ সময়েই খাদ্য হিসেবে শসা,
তরমুজ ও সবজি গ্রহণ করতেন।
সামান্য খরচের পর যে বিশাল অর্থ
অবশিষ্ট থাকতো তার সম্পূর্ণটাই
তিনি ইলম অর্জনের পথে খরচ করতেন
এবং অভাবীদের অভাব পূরণে ব্যয়
করতেন। তিনি সব সময় দিনার ও
দিরহামের থলে সাথে রাখতেন।
মুহাদ্দিছদের মধ্যে যারা অভাবী ছিলেন
তাদেরকেও তিনি প্রচুর পরিমাণ দান
করতেন।
তাঁর জীবনীর সাথে সম্পৃক্ত
একটি স্মরণীয় ঘটনাঃ
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয় যে,
তিনি একবার একটি থলের ভিতর
একহাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে হাদীছ
অন্বেষণের সফরে বের হলেন। সফর
অবস্থায় কোন এক চোর এই
স্বর্ণমুদ্রাগুলো দেখে ফেলে এবং তা চুরি
করার জন্য ইমাম বুখারীর পিছনে লাগে।
কিন্তু চোর তা চুরি করার সকল
প্রকার চেষ্টা করা সত্ত্বেও ব্যর্থ
হয়। পথিমধ্যে ইমাম
বুখারী পানি পথে ভ্রমণের জন্য
জাহাজে আরোহন করলে চোরও তাঁর
সাথে যাত্রা শুরু করে। সেখানেও
সে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
পরিশেষে চোর মুদ্রাগুলো চুরি করার
নতুন এক কৌশল অবলম্বন করে।
সে এই বলে চিৎকার করতে থাকে যে, এই
জাহাজে উঠার পর আমার একহাজার
স্বর্ণমুদ্রা চুরি হয়ে গেছে।
মুদ্রাগুলো একটি থলের ভিতর ছিল।
সে থলেটির ধরণও বর্ণনা করল,
যা সে ইতিপূর্বে ইমামের কাছে দেখেছিল।
চিৎকার ও কান্নাকাটির
মাধ্যমে চোরটি জাহাজের মাঝি-
মাল্লাদের দৃষ্টি আকর্ষণ
করতে সক্ষম হয়।
মাঝি-মাল্লাগণ এক এক করে সকল
যাত্রীর পকেট ও শরীর চেক করা শুরু
করল। এই দৃশ্য দেখে ইমাম
বুখারী চিন্তা ও হতাশায় পড়ে গেলেন।
চোরের উদ্দেশ্য
বুঝতে পেরে তিনি ভাবলেন এখন
যদি আমাকে তল্লাশি করা হয়
তাহলে তো আমার কাছে একহাজার
স্বর্ণমুদ্র পাওয়া যাবে আর আমিই
চোর হিসাবে সাব্যস্ত হবো।
আমি অভিযোগ অস্বীকার করলেও
আমার কথায় কেউ কর্ণপাত করবে না।
আর আমি যদি আজ চোর
হিসেবে ধরা পড়ি তাহলে সারা দুনিয়ায়
খবর ছড়িয়ে পড়বে যে, মুহাম্মাদ বিন
ইসমাঈল আল বুখারী এক হাজার স্বর্ণ
মুদ্রা চুরি করেছে। আমার
সারা জীবনের সাধনা ব্যর্থ হবে।
আমি যে সমস্ত সহীহ হাদীছ সংগ্রহ
করেছি, তাও লোকেরা মিথ্যা প্রতিপন্ন
করবে এবং পবিত্র ইলমে হাদীছের
অবমাননা হবে। এই কঠিন
পরিস্থিতিতে তিনি এক হাজার
স্বর্ণমুদ্রার মায়া ত্যাগ করে রাসূলের
হাদীছে মর্যাদ অক্ষুন্ন রাখার
সিদ্বান্ত গ্রহণ করলেন।
তাই তল্লাশ কারীগণ তাঁর
শরীরে তল্লাশি চালানোর আগেই
অতি গোপনে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রাসহ
থলেটি পানিতে ফেলে দিলেন। এরপর
সকলের মাল-পত্র ও শরীর তল্লাশির
এক পর্যায়ে ইমাম বুখারীর শরীরও
তল্লাশি করা হলো। জাহাজের কারও
কাছে কোন থলের ভিতর এক হাজার
স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া গেল না।
পরিশেষে জাহাজের লোকেরা চোরকেই
মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত
করে সকলকে হয়রানি করার
শাস্তি প্রদান করলো এবং আল্লাহ্
তাআলা তাকেই অপদস্ত করলেন।
পরে চোর তাঁর সাথে একান্তে মিলিত
হয়ে বললঃ জনাব আপনার সাথের এক
হাজার স্বর্ণমুদ্রা আপনি কোথায়
রেখেছেন?
উত্তরে তিনি বললেনঃ তোমার
চক্রান্ত
বুঝতে পেরে আমি তা পানিতে ফেলে
দিয়েছি।
আল্লাহ্ তাআলা ইমাম বুখারী এবং তাঁর
সংগ্রহীত সহীহ হাদীছের
মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখলেন।
আলেমদের মূল্যায়নে সহীহ বুখারীঃ
সংক্ষিপ্তভাবে কিতাবটি সহীহ
বুখারী হিসোবে প্রসিদ্ধতা অর্জন
করলেও এর পূর্ণ নাম হচ্ছে ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ
ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﺍﻟﻤﺴﻨﺪ ﻣﻦ ﺃﻣﻮﺭ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻭﺳﻨﻨﻪ ﻭﺃﻳﺎﻣﻪ আল জামেউস সহীহহুল
মুসনাদু মিন
উমরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি।
তবে কারও মতে দীর্ঘ নামটির
মধ্যে শব্দের তারতম্য রয়েছে। এই
কিতাবে তিনিই সর্বপ্রথম
হাদীছসমূহকে আধুনিক
পদ্ধতিতে সুবিন্যাস্ত করেন।
কিতাবটি রচনার জন্য
তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় গমণ করেন।
মসজিদে নববীতে বসে একটানা ১৬
বছর কঠোর পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক
সাধনার ফলশ্র“তিতে সম্পাদিত এই
গ্রন্থটি সর্বযুগের সকল আলেমের
নিকট সমাদৃত হয়। সমকালীন মুহাদ্দিছ
ও হাদীছ বিশেষজ্ঞ পন্ডিতমন্ডলী এই
মহাগ্রন্থের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বিচার-
বিবেচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আলোচনা-
সমালোচনা এবং পর্যালোচনা করেছেন।
সমগ্র উম্মত সর্বসম্মতভাবে এই
গ্রন্থটিকে ﺃﺻﺢ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺑﻌﺪ ﻛﺘﺎﺏ
ﺍﻟﻠﻪ আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক
বিশুদ্ধ ও নির্ভুল
বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
উপরে বলা হয়েছে যে, প্রায় নব্বই
হাজার লোক ইমাম বুখারীর নিকট
হতে এই কিতাবটির পুনরাবৃত্তি শ্রবণ
করেছেন। বর্তমান মুসলিম জাহানের
এমন কোন স্থান ও
ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
পাওয়া যাবে না যেখানে এই
কিতাবটি শিক্ষা দান করা হয় না।
ইসলামী শিক্ষার শিক্ষার্থীগণ এই
গ্রন্থটি অধ্যয়ন ও পাঠ দানের
যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমেই বড়
আলেম রূপে স্বীকৃত হয়ে থাকেন।
এ যাবৎ সহীহ বুখারীর
যতগুলো ব্যাখ্যা গ্রন্থ বের
হয়েছে হাদীছের অন্য কোন কিতাবের
এত বেশী সংখ্যক ব্যাখ্যা বের হয় নি।
এই ব্যাখ্যা গ্রন্থগুলোর
মধ্যে আল্লামা হাফেয ইবনে হাজার
আসকালানী কর্তৃক রচিত ফতহুল
বারী সর্বশ্রেষ্ট স্থান দখল
করে আছে। কেউ কেউ সহীহ বুখারীর
উপর লিখিত ব্যাখ্যা গ্রন্থ শতাধিক
বলে মন্তব্য করেছেন।
ইমাম বুখারীর শেষ জীবন ও কঠিন
পরীক্ষাঃ
ইমাম বুখারীর শেষ জীবন খুব সুখ-
শান্তিতে অতিবাহিত হয় নি। বুখারার
তৎকালীন আমীরের সাথে তাঁর
মতবিরোধ হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত
বিবরণ এই যে, যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ
হিসাবে যখন ইমাম বুখারীর সুনাম ও
সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল তখন
বুখারার আমীর স্বীয়
সন্তানদেরকে সহীহ বুখারী পড়ানোর
জন্য ইমামের কাছে প্রস্তাব করলো।
আমীর আরও প্রস্তাব করলো যে, তার
সন্তানদের পড়ানোর জন্য ইমাম
বুখারীকে রাজ দরবারে আসতে হবে।
কারণ সাধারণ জনগণের
সাথে মসজিদে বসে আমীরের ছেলেদের
পক্ষে সহীহ বুখারী পড়া সম্ভব নয়।
ইমাম বুখারী তাঁর মসজিদ ও সাধারণ
লোকদেরকে ছেড়ে দিয়ে রাজ
দরবারে গিয়ে আলাদাভাবে আমীরের
ছেলেদেরকে বুখারী পড়ানোতে ইলমে হাদীছ
ের জন্য বিরাট অবমাননাকর
ভেবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন।
তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিলেন যে,
আমি কখনও হাদীছের ইলমকে হেয়
প্রতিপন্ন করতে পারবো না এবং এই
মহান রত্মকে আমীর-উমারাদের
দারস্থ করতে পারবো না। আমীর
যদি সত্যিকার অর্থে ইলমে হাদীছের
প্রতি অনুরাগী হন, তাহলে তিনি যেন
তাঁর সন্তানদেরসহ আমার বাড়িতে ও
মসজিদে উপস্থিত হন।
এতে আমীর ইমামের প্রতি রাগান্বিত
হয়ে তাঁকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করলেন
এবং ইমামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার
জন্য দুনিয়া পূজারী কিছু আলেম ঠিক
করলেন। আমীরের আদেশ
এবং ষড়যন্ত্রের
প্রেক্ষিতে তিনি জন্মভূমি বুখারা ত্যাগ
করে নিশাপুরে চলে যান। নিশাপুরেও
অনুরূপ দুঃখজনক
ঘটনা ঘটলে পরিশেষে সমরকন্দের
খরতঙ্গ নামক স্থানে চলে যান।
বুখারা থেকে বের হওয়ার সময় ইমাম
আল্লাহর কাছে এই দুআ করেন যে,
হে আল্লাহ্! সে আমাকে যেভাবে অপমান
করে বের করে দিলো তুমিও
তাকে অনুরূপ লাঞ্চিত করো। মাত্র
এক মাস পার হওয়ার পূর্বেই খুরাসানের
আমীর খালেদ বিন আহমাদের
বিরুদ্ধে জনগণ বিদ্রোহ
ঘোষণা করে তাকে ক্ষমতা ছাড়া করলো।
পরবর্তীতে বাগদাদের
জেলে থাকা অবস্থায় সে মৃত্যু বরণ
করে। শুধু তাই নয় যারাই ইমাম বুখারীর
বিরুদ্ধে তার সহযোগীতা করেছে তারাই
পরবর্তীতে লাঞ্চিত হয়েছে।
ইমাম বুখারী সম্পর্কে আলেমদের কিছু
অভিমতঃ
১) ইমাম ফাল্লাস (রঃ)
বলেনঃ যে হাদীছ সম্পর্কে ইমাম
বুখারী জানেন না, সেটি হাদীছ নয়।
২) ইমাম আবু নুআইম আহমাদ বিন
হাম্মাদ (রঃ) বলেনঃ ইমাম
বুখারী হচ্ছেন এই উম্মতের ফকীহ।
ইয়াকুব বিন ইবরাহীমও অনুরূপ
বলেছেন।
৩) কোন কোন বিদ্যান ফিকহ ও হাদীছ
শাস্ত্রে ইমাম বুখারীকে আহমাদ বিন
হাম্বাল এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইয়ের
উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
৪) কুতাইবা বলেনঃ পৃতিবীর পূর্ব ও
পশ্চিম হতে আমার নিকট অনেক লোক
এসেছে। কিন্তু মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল
আল বুখারী যতবার এসেছে আর কেউ
এত বেশীবার আগমণ করে নি।
৫) ইমাম আবু হাতিম
রাযী বলেনঃ যে সমস্ত মুহাদ্দিছ
বাগদাদে আগমণ করেছেন তাদের
মধ্যে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী হলেন
ইমাম বুখারী।
৬) ইমাম তিরমিজী (উরঃ)
বলেনঃ হাদীছের ইল্লত, ইতহিাস
এবং সনদ সম্পর্কে বুখারীর
চেয়ে অধিক জ্ঞানী ইরাক
এবং খোরাসানের যমীনে আর
কাউকে দেখি নি।
৭) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রঃ)
বলেনঃ খোরাসানের যমীনে ইমাম
বুখারীর অনুরূপ আর কেউ জন্ম গ্রহণ
করে নি।
৮) ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (রঃ)
বলেনঃ ইমাম বুখারীর সমকক্ষ আর
কেউ ছিল না।
৯) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন
নুমাইর ও আবু বকর
ইবনে আবী শায়বা বলেনঃ তাঁর মত আর
কাউকে দেখি নি।
১০) আলী বিন হাজার বলেনঃ তাঁর মত
আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই।
Post in Dineralo
Next post বিশ্ববিখ্যাত আলেম শায়খ
মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-
উছাইমীন (রঃ)এর সংক্ষিপ্ত
জীবনীঃ
ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
প্রবাহে একটি বিস্ময়ের নাম। স্মৃতির
প্রখরতা, জ্ঞানের গভীরতা, চিন্তার
বিশালতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, অটুট
সততা আর বিশাল পর্বত সম হিম্মতের
এক মূর্ত প্রতীক এই মহাপুরুষ।
তিনি ইলমে হাদীসের এক
বিজয়ী সম্রাট। তার সংকলিত হাদীসের
মহামূল্যবান সংকলন সহীহুল
বুখারী বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আল্লাহর
কিতাব মহা গ্রন্থ আল কুরআনের
পরেই যার অবস্থান। কিয়ামত পর্যন্ত
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ তার সাধনার
কাছে ঋণী। আসুন, খুব
সংক্ষেপে আমরা এই মনিষীকে জানার
চেষ্টা করি:
নাম, জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ
তিনি হচ্ছেন সমকালীন মুহাদ্দিছদের
ইমাম হাফেয আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ
বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন
মুগীরা বিন বারদিযবাহ আলজু’ফী।
তাঁকে আমীরুল মুমিনীন ফীল হাদীছও
বলা হয়। ১৯৪ হিঃ সালের ১৩ই
শাওয়াল জুমআর
রাত্রিতে তিনি বুখারায় জন্ম গ্রহণ
করেন।
শৈশব কাল ও জ্ঞান অর্জনঃ
শিশুকালেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।
পিতার মৃত্যুর পর মাতার
তত্বাবধানে তিনি প্রতিপালিত হন। দশ
বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি জ্ঞান
চর্চার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন।
অল্প বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন
মুখস্ত করেন। শৈশব
কালে মক্তবে লেখাপড়া করার সময়ই
আল্লাহ্ তাঁর অন্তরে হাদীছ মুখস্ত ও
তা সংরক্ষণ করার প্রতি আগ্রহ ও
ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন। ১৬ বছর
বয়সেই হাদীছের প্রসিদ্ধ
কিতাবগুলো পাঠ সমাপ্ত করেন।
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
তিনি ছোট থাকতেই অন্ধ
হয়ে গিয়েছিলেন। এতে তাঁর
মাতা আল্লাহর কাছে খুব ক্রন্দন
করলেন এবং স্বীয় সন্তানের
দৃষ্টি শক্তি ফেরত দেয়ার জন্য তাঁর
কাছে অবিরাম দুআ করে যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ এক দিন তাঁর মা স্বপ্নে দেখলেন
যে আল্লাহর নবী ইবরাহীম (আঃ)
তাঁকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ ওহে!
তোমার সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফেরত
চেয়ে আল্লাহর দরবারে তোমার
ক্রন্দনের কারণে তিনি তোমার
সন্তানের
দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন
তিনি প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার জন্য
স্বীয় সন্তানের কাছে গিয়ে দেখেন
সত্যিই তাঁর সন্তান সম্পূর্ণ
দৃষ্টি শক্তি ফেরত পেয়েছে।
ইমাম বুখারীর স্মরণ শক্তির
প্রখরতাঃ
১৮ বছর বয়সে তিনি হজ্জ পালনের
জন্য মক্কায় গমণ করেন। মক্কায়
অবস্থান করে তিনি ইলমে হাদীছের
চর্চা শুরু করেন। অতঃপর তিনি এই
উদ্দেশ্যে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেন
এবং এক হাজারেরও অধিক সংখ্যক
মুহাদ্দিছের নিকট তেকে হাদীছ সংগ্রহ
করেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য
সারা রাত জেগে তিনি অত্যন্ত কঠিন
পরিশ্রম করতেন। তাঁর
স্মৃতি শক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর।
বলা হয় যে তিনি সনদসহ ছয় লক্ষ
হাদীছের হাফেয ছিলেন। আলেমগণ তাঁর
জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যে কোন
কিতাবে একবার দৃষ্টি দিয়েই
তিনি তা মুখস্ত করে নিতেন। তাঁর
জীবনীতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,
তিনি যখন বসরার মুহাদ্দিছদের
হাদীছের ক্লাশে হাজীর হতেন তখন
অন্যান্য ছাত্রগণ খাতা-কলম
নিয়ে বসে উস্তাদের নিকট থেকে হাদীছ
শুনতেন এবং প্রতিটি হাদীছই
লিখে ফেলতেন। কিন্তু ইমাম
বুখারী তা করতেন না। কয়েক দিন পর
তাঁর সাথীগণ জিজ্ঞেস
করলঃ আপনি শুধু আমাদের
সাথে বসে থাকেন কেন?
হাদীছগুলো না লেখার কারণই বা কি?
এভাবে সময় নষ্ট করে লাভ কি?
বন্ধুরা যখন
পিড়াপিড়ি করতে থাকলো তখন ১৬
দিন পর তিনি বললেনঃ আপনারা আমার
নিকট বারবার একই প্রশ্ন করছেন।
আপনারা যে সমস্ত হাদীছ লিখেছেন
তা আমাকে পড়ে শুনান।
বন্ধুরা তা দেখানোর পর তিনি সমস্ত
হাদীছ মুখস্ত শুনিয়ে দিলেন এবং আরও
অতিরিক্ত পনের হাজার হাদীছ
শুনালেন। অতঃপর তাঁর সাথীগণ তাদের
কাছে রক্ষিত কিতাবের
হাদীছগুলো ইমাম বুখারীর মুখস্ত কৃত
হাদীছের সাথে মিলিয়ে ভুল-
ভ্রান্তি ঠিক করে নিলেন। অতঃপর
তিনি বন্ধুদেরকে লক্ষ্য
করে বললেনঃ এরপরও
কি তোমরা বলবে যে,
আমি এখানে অযথা সময় নষ্ট করছি?
সে দিন থেকেই হাদীছ
শাস্ত্রে তারা ইমাম বুখারীকে প্রাধান্য
দেয়া শুরু করলেন।
ইমাম বুখারী (রঃ) বলেনঃ আমার
অন্তরে এক লক্ষ সহীহ হাদীছ ও দুই
লক্ষ যঈফ হাদীছ মুখস্ত রয়েছে। সহীহ
বুখারীর অন্যতম ভাষ্যকার
কুস্তুলানীর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ছয়
লক্ষ হাদীছের হাফেয ছিলেন। মুহাদ্দিছ
ইবনে খুযায়মা (রঃ)
বলেনঃ পৃথিবীতে ইমাম
বুখারী অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ
এবং হাদীছের হাফেয আর কেউ জন্ম
গ্রহণ করে নি। কেউ কেউ
বলেনঃ খোরাসানের যমীনে ইমাম
বুখারীর মত আর কেউ জন্ম গ্রহণ
করে নি।
ইমাম বুখারীর বাল্যকালের
একটি ঘটনা অত্যন্ত চমকপ্রদ। তখন
তিনি দশ বছর বয়সের কিশোর। এ সময়
তদানীন্তন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ ইমাম
দাখিলীর ক্লাশে হাদীছের পাঠ গ্রহণ
করছিলেন।
মুহাদ্দিছ দাখিলী এই সনদে একটি হাদীছ
উপস্থাপন করলেনঃ
ﺳﻔﻴﺎﻥ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺇﺑﻲ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﻋﻦ
ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ
“সুফিয়ান বর্ণনা করেন আবুয্ যুবাইর
হতে আর আবুয যুবাইর বর্ণনা করেন
ইবরাহমী হতে।” বালক বুখারী প্রতিবাদ
করে বললেনঃ আবুয যুবাইর ইবরাহীম
হতে হাদীছ হাদীছটি বর্ণনা করেন নি।
মুহাদ্দিছ দাখিলী তাঁকে ধমক
দিয়ে বললেও তিনি প্রশান্ত
চিত্তে বললেনঃ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﻋﻦ
ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ নয়: বরং ﺯﺑﻴﺮ ﺑﻦ ﻋﺪﻱ
ﻋﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ
আপনি দয়া করে একবার আপনার
পান্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখুন।
অতিরিক্ত জোর দেয়ার
কারণে উস্তাদের মনে সংশয় দেখা দিল।
তিনি পান্ডুলিপি দেখে ইমাম
বুখারীকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার
কথাই ঠিক। তখন মুহাদ্দিছ দাখিলী তার
জন্য প্রাণ খুলে দুআ করলেন।
হাদীছ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশ
ভ্রমণঃ
হাদীছ সংগ্রহের জন্য ইমাম
বুখারী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম
করে অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
সে সময় যে সমস্ত দেশে বিজ্ঞ
মুহাদ্দিছগণ বসবাস করতেন তার প্রায়
সবগুলোতেই তিনি ভ্রমণ করেছেন
এবং তাদের নিকট থেকে হাদীছ সংগ্রহ
করেছেন। খোরাসানের বিভিন্ন অঞ্চল
ছাড়াও তিনি যে সমস্ত দেশে ভ্রমণ
করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মক্কা,
মদীনা, ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া, মিশর
এবং আরও অনেক শহর।
বাগদাদে আগমণ ও তাঁর স্মরণ শক্তির
পরীক্ষাঃ
তৎকালীন সমগ্র ইসলামী রাজ্যে যখন
মুহাদ্দিছ হিসেবে ইমাম বুখারীর
কথা ছড়িয়ে পড়ল তখন সেই যুগের বড়
বড় মুহাদ্দিছগণ
তাঁকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তাই
তিনি যখন বাগদাদে আগমণ করলেন
তখন চারশত মুহাদ্দিছ একত্রিত
হয়ে ১০০টি সহীহ হাদীছ নির্বাচন
করে তার সনদ ও মতন
পাল্টিয়ে দিয়ে ১০ ভাগে বিভক্ত
করে দশজন মুহাদ্দিছের হাতে সোপর্দ
করলেন। অতঃপর তাঁর জন্য হাদীছের
মজলিস স্থাপন করা হলো। তিনি যখন
আসন গ্রহণ করলেন তখন
প্রথমে একজন মুহাদ্দিছ ১০টি হাদীছ
নিয়ে তার
দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি একটি করে
সবগুলো হাদীছ পাঠ করে শেষ করলেন।
প্রতিটি হাদীছ পড়া শেষ হলেই ইমাম
বুখারী বলতেনঃ ﻻﺃﻋﺮﻓﻪ অর্থাৎ এ
ধরণের কোন হাদীছ আমার জানা নেই।
এমনিভাবে ১০ জন বিখ্যাত মুহাদ্দিছ
১০০টি হাদীছ তাঁর সামনে পাঠ
করলেন। সকল হাদীছের ক্ষেত্রেই
তিনি বার বার একই কথা বললেন।
পরিশেষে তিনি সকলকে ডেকে উলটপালট
কৃত হাদীছগুলোর
প্রত্যেকটি হাদীছকে তার আসল সনদের
দিকে ফিরিয়ে দিলেন এবং ঠিক
করে দিলেন। হাদীছগুলোর সনদ
থেকে কোন রাবীর নাম বাদ
পড়েনি এবং মতনসমূহ
থেকে একটি শব্দও ছুটে যায় নি।
এমনকি হাদীছগুলো সঠিকভাবে
সাজানোতে মুহাদ্দিছগণ তাঁর কোন ভুল-
ত্র“টি ধরতে পারেন নি। বলা হয় যে,
সমরকন্দে যাওয়ার পরও তাঁকে একই
নিয়মে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এতে সেই
যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ
হিসেবে সকলেই তাঁকে স্বীকৃত প্রদান
করলেন।
ইমাম বুখারীর উস্তাদ ও ছাত্রগণঃ
ইমাম বুখারী (রঃ) থেকে অসংখ্য
মুহাদ্দিছ সহীহ বখারী বর্ণনা করেছেন।
খতীব বাগদাদী (রঃ) বুখারীর অন্যতম
রাবী ফিরাবরির বরাত দিয়ে বলেন যে,
তার সাথে প্রায় সত্তর হাজার লোক
ইমাম বুখারী থেকে সরাসরি সহীহ
বুখারী পড়েছেন। তাদের
মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ
বর্তমানে জীবিত নেই। তাঁর ছাত্রদের
মধ্যে রয়েছেন ইমাম মুসলিম, ইমাম
তিরমিজী, ইমাম নাসাঈ। তিনি যাদের
কাছে হাদীছ শুনেছেন তাদের
মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমাদ বিন
হাম্বাল, ইসহাক বিন রাহওয়াই
এবং আরও অনেকেই। তিনি আটবার
বাগদাদে আগমণ করেছেন। প্রতিবারই
তিনি আহমাদ বিন হাম্বালের
সাথে দেখা করেছেন। প্রত্যেক
সাক্ষাতের সময়ই ইমাম আহমাদ
তাঁকে খোরাসান
ছেড়ে দিয়ে বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস
করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
সহীহ বুখারী সংকলনের কারণঃ
ইমাম বখারীর পূর্বে শুধু সহীহ
হাদীছসমূহ একত্রিত করে কেউ কোন
গ্রন্থ রচনা করেন নি। সহীহ
বুখারী সংকলনের পূর্বে আলেমগণ সহীহ
ও যঈফ হাদীছগুলোকে এক সাথেই
লিখতেন। কিন্তু ইমাম বুখারীই
সর্বপ্রথম যঈফ হাদীছ থেকে সহীহ
হাদীছগুলোকে আলাদা করে লেখার
কাজে অগ্রসর হন।
তিনি তাঁর বিশিষ্ট উস্তাদ ইসহাক বিন
রাহওয়াই হতে এই মহৎ কাজের
অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
তিনি স্বয়ং বর্ণনা করেন যে, এক দিন
আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইয়ের
মসজিদে বসা ছিলাম।
তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ
যদি হাদীছের এমন একটি গ্রন্থ
করতো, যাতে শুধু সহীহ হাদীছগুলোই
স্থান পেতো তাহলে খুবই সুন্দর হতো।
মজলিসে উপস্থিত সকলেই তাঁর
কথা শুনলেও এ কাজে কেউ অগ্রসর
হওয়ার সাহস পায় নি। ইসহাকের
কথাগুলো ইমাম বুখারীর
অন্তরে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল।
তিনি সেই দিন হতেই এই মহান দায়িত্ব
পালন করবেন বলে মনে মনে স্থির
করলেন।
তাঁর জীবনীতে আরও উল্লেখ করা হয়
যে, তিনি একবার স্বপ্নে দেখলেন যে,
রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র
শরীরে মাছি বসছে। তিনি এতে কষ্ট
পাচ্ছেন। আর ইমাম
বুখারী হাতে পাখা নিয়ে তাঁর পবিত্র
শরীর থেকে মাছিগুলো তাড়িয়ে দিচ্ছেন।
তিনি এই স্বপ্নের কথা সেই যুগের
একাধিক আলেমের কাছে প্রকাশ
করলে সকলেই বললেন যে, তুমি রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
হাদীছের সাথে যে সমস্ত জাল ও
বানোয়াট হাদীছ
ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তা থেকে সহীহ
হাদীছগুলো আলাদা করবে। আলেমদের
ব্যাখা শুনে সহীহ হাদীছ সম্বলিত
একটি কিতাব রচনার প্রতি তাঁর
আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
সহীহ বুখারী রচনায় ইমাম বুখারীর শর্ত
ও সতর্কতাঃ
ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবে কেবল রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছগুলোই
বর্ণনা করেছেন। কোন হাদীছকে সহীহ
হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য
এবং তা সহীহ বুখারীতে লিপিদ্ধ করার
জন্য যদিও তিনি সুস্পষ্ট করে কোন
শর্তের কথা উল্লেখ না করলেও
আলেমগণ তাঁর কাজের উপর
ভিত্তি করে নিম্নলিখিত
শর্তগুলো বের করেছেনঃ
১) হাদীছের রাবী তার উপরের রাবীর
সমসাময়িক হতে হবে এবং উভয়ের
মাঝে সাক্ষাত হওয়া প্রমাণিত
হতে হবে। অর্থাৎ সাক্ষাৎ
করা এবং হাদীছ শুনা প্রমাণিত
হওয়া জরুরী। এই শর্তে তিনি অন্যান্য
মুহদ্দিছদের খেলাফ করেছেন। এই
ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের মর্ত
হচ্ছে উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ সম্ভব
হলেই চলবে। জীবনে কমপক্ষে একবার
সাক্ষাত হয়েছে বলে প্রমাণিত
হওয়া এবং নির্দিষ্ট কোন হাদীছ
শুনা জরুরী নয়।
২) রাবী ছিাকাহ তথা নির্ভরযোগ্য
হতে হবে।
৩) ন্যায়পরায়ন তথা মানুষের
সাথে কথা-বার্তায় ও
লেনদেনে সত্যবাদী হতে হবে।
৪) রাবী পূর্ণ ম্মরণশক্তি সম্পন্ন
হওয়া।
৫) হাদীছের সনদ মুত্তাসিল হওয়া।
অর্থাৎ মাঝখান থেকে কোন রাবী বাদ
না পড়া।
কোন হাদীছে উপরোক্ত
শর্তগুলো পাওয়া গেলেই ইমাম
বুখারী স্বীয় কিতাবে তা লিখে ফেলেন
নি। বরং প্রতিটি হাদীছ লেখার
আগে তিনি গোসল করে দুই রাকআত
নামায পড়েছেন
এবং ইস্তেখারা করেছেন। তাঁর
অন্তরে যদি হাদীছটি সম্পর্কে কোন
প্রকার সন্দেহ
জাগতো তাহলে সে হাদীছটি শর্ত
মোতাবেক সহীহ হওয়া সত্ত্বেও
তিনি সহীহ বুখারীতে লিখতেন না।
এইভাবে মসজিদে নববীতে বসে তিনি তা
লেখা শুরু করেন এবং একটানা ১৬ বছর
এই কাজে দিন রাত পরিশ্রম করেন।
লেখা শেষ করেই
তাড়াহুড়া করে তা মানুষের জন্য
প্রকাশ করেন নি; বরং কয়েকবার
তিনি তাতে পুনদৃষ্টি প্রদান করেছেন,
ভুল-ত্রুটি সংশোধন করেছেন
এবং পরিমার্জিত করেছেন। তিনবার
তিনি তা লিপিবদ্ধ করেন। সর্বশেষ
লিখিত কপিটিই বর্তমানে মুসলিম
জাতির নিকট অমূল্য রত্ম
হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ইমাম
বুখারীর উস্তাদ ও বন্ধুগণের নিকট
কিতাবটি পেশ করলে তাদের সকলেই
তা পছন্দ করেছেন। যারা এই
কিতাবটির প্রশংসা করেছেন তাদের
মধ্যে রয়েছেন আহমাদ বিন হাম্বাল,
আলী ইবনুল মাদীনী,
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আরও
অনেকেই। তারা সকলেই এর সকল
হাদীছকে সহীহ বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তাদের পরে এই উম্মাত আল্লাহ্
তাআলার কিতাবের পরই
এটিকে সর্বাধিক সহীহ বলে কবুল
করে নিয়েছে।
ইমাম বুখারীর দানশীলতা ও উদারতাঃ
ইমাম বুখারী প্রচুর ধনসম্পদের মালিক
ছিলেন। মুহাম্মাদ বিন আবু হাতিম
বলেনঃ ইমাম বুখারীর এক খন্ড যমীন
ছিল। এ থেকে তিনি প্রতি বছর সাত
লক্ষ দিরহাম ভাড়া পেতেন। এই বিশাল
অর্থ থেকে তিনি খুব সামান্যই নিজের
ব্যক্তিগত কাজে খরচ করতেন।
তিনি খুব সীমিত খাদ্য গ্রহণ করতেন।
বেশীর ভাগ সময়েই খাদ্য হিসেবে শসা,
তরমুজ ও সবজি গ্রহণ করতেন।
সামান্য খরচের পর যে বিশাল অর্থ
অবশিষ্ট থাকতো তার সম্পূর্ণটাই
তিনি ইলম অর্জনের পথে খরচ করতেন
এবং অভাবীদের অভাব পূরণে ব্যয়
করতেন। তিনি সব সময় দিনার ও
দিরহামের থলে সাথে রাখতেন।
মুহাদ্দিছদের মধ্যে যারা অভাবী ছিলেন
তাদেরকেও তিনি প্রচুর পরিমাণ দান
করতেন।
তাঁর জীবনীর সাথে সম্পৃক্ত
একটি স্মরণীয় ঘটনাঃ
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয় যে,
তিনি একবার একটি থলের ভিতর
একহাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে হাদীছ
অন্বেষণের সফরে বের হলেন। সফর
অবস্থায় কোন এক চোর এই
স্বর্ণমুদ্রাগুলো দেখে ফেলে এবং তা চুরি
করার জন্য ইমাম বুখারীর পিছনে লাগে।
কিন্তু চোর তা চুরি করার সকল
প্রকার চেষ্টা করা সত্ত্বেও ব্যর্থ
হয়। পথিমধ্যে ইমাম
বুখারী পানি পথে ভ্রমণের জন্য
জাহাজে আরোহন করলে চোরও তাঁর
সাথে যাত্রা শুরু করে। সেখানেও
সে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
পরিশেষে চোর মুদ্রাগুলো চুরি করার
নতুন এক কৌশল অবলম্বন করে।
সে এই বলে চিৎকার করতে থাকে যে, এই
জাহাজে উঠার পর আমার একহাজার
স্বর্ণমুদ্রা চুরি হয়ে গেছে।
মুদ্রাগুলো একটি থলের ভিতর ছিল।
সে থলেটির ধরণও বর্ণনা করল,
যা সে ইতিপূর্বে ইমামের কাছে দেখেছিল।
চিৎকার ও কান্নাকাটির
মাধ্যমে চোরটি জাহাজের মাঝি-
মাল্লাদের দৃষ্টি আকর্ষণ
করতে সক্ষম হয়।
মাঝি-মাল্লাগণ এক এক করে সকল
যাত্রীর পকেট ও শরীর চেক করা শুরু
করল। এই দৃশ্য দেখে ইমাম
বুখারী চিন্তা ও হতাশায় পড়ে গেলেন।
চোরের উদ্দেশ্য
বুঝতে পেরে তিনি ভাবলেন এখন
যদি আমাকে তল্লাশি করা হয়
তাহলে তো আমার কাছে একহাজার
স্বর্ণমুদ্র পাওয়া যাবে আর আমিই
চোর হিসাবে সাব্যস্ত হবো।
আমি অভিযোগ অস্বীকার করলেও
আমার কথায় কেউ কর্ণপাত করবে না।
আর আমি যদি আজ চোর
হিসেবে ধরা পড়ি তাহলে সারা দুনিয়ায়
খবর ছড়িয়ে পড়বে যে, মুহাম্মাদ বিন
ইসমাঈল আল বুখারী এক হাজার স্বর্ণ
মুদ্রা চুরি করেছে। আমার
সারা জীবনের সাধনা ব্যর্থ হবে।
আমি যে সমস্ত সহীহ হাদীছ সংগ্রহ
করেছি, তাও লোকেরা মিথ্যা প্রতিপন্ন
করবে এবং পবিত্র ইলমে হাদীছের
অবমাননা হবে। এই কঠিন
পরিস্থিতিতে তিনি এক হাজার
স্বর্ণমুদ্রার মায়া ত্যাগ করে রাসূলের
হাদীছে মর্যাদ অক্ষুন্ন রাখার
সিদ্বান্ত গ্রহণ করলেন।
তাই তল্লাশ কারীগণ তাঁর
শরীরে তল্লাশি চালানোর আগেই
অতি গোপনে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রাসহ
থলেটি পানিতে ফেলে দিলেন। এরপর
সকলের মাল-পত্র ও শরীর তল্লাশির
এক পর্যায়ে ইমাম বুখারীর শরীরও
তল্লাশি করা হলো। জাহাজের কারও
কাছে কোন থলের ভিতর এক হাজার
স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া গেল না।
পরিশেষে জাহাজের লোকেরা চোরকেই
মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত
করে সকলকে হয়রানি করার
শাস্তি প্রদান করলো এবং আল্লাহ্
তাআলা তাকেই অপদস্ত করলেন।
পরে চোর তাঁর সাথে একান্তে মিলিত
হয়ে বললঃ জনাব আপনার সাথের এক
হাজার স্বর্ণমুদ্রা আপনি কোথায়
রেখেছেন?
উত্তরে তিনি বললেনঃ তোমার
চক্রান্ত
বুঝতে পেরে আমি তা পানিতে ফেলে
দিয়েছি।
আল্লাহ্ তাআলা ইমাম বুখারী এবং তাঁর
সংগ্রহীত সহীহ হাদীছের
মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখলেন।
আলেমদের মূল্যায়নে সহীহ বুখারীঃ
সংক্ষিপ্তভাবে কিতাবটি সহীহ
বুখারী হিসোবে প্রসিদ্ধতা অর্জন
করলেও এর পূর্ণ নাম হচ্ছে ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ
ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﺍﻟﻤﺴﻨﺪ ﻣﻦ ﺃﻣﻮﺭ ﺭﺳﻮﻝ
ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻭﺳﻨﻨﻪ ﻭﺃﻳﺎﻣﻪ আল জামেউস সহীহহুল
মুসনাদু মিন
উমরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি।
তবে কারও মতে দীর্ঘ নামটির
মধ্যে শব্দের তারতম্য রয়েছে। এই
কিতাবে তিনিই সর্বপ্রথম
হাদীছসমূহকে আধুনিক
পদ্ধতিতে সুবিন্যাস্ত করেন।
কিতাবটি রচনার জন্য
তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় গমণ করেন।
মসজিদে নববীতে বসে একটানা ১৬
বছর কঠোর পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক
সাধনার ফলশ্র“তিতে সম্পাদিত এই
গ্রন্থটি সর্বযুগের সকল আলেমের
নিকট সমাদৃত হয়। সমকালীন মুহাদ্দিছ
ও হাদীছ বিশেষজ্ঞ পন্ডিতমন্ডলী এই
মহাগ্রন্থের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বিচার-
বিবেচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আলোচনা-
সমালোচনা এবং পর্যালোচনা করেছেন।
সমগ্র উম্মত সর্বসম্মতভাবে এই
গ্রন্থটিকে ﺃﺻﺢ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺑﻌﺪ ﻛﺘﺎﺏ
ﺍﻟﻠﻪ আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক
বিশুদ্ধ ও নির্ভুল
বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
উপরে বলা হয়েছে যে, প্রায় নব্বই
হাজার লোক ইমাম বুখারীর নিকট
হতে এই কিতাবটির পুনরাবৃত্তি শ্রবণ
করেছেন। বর্তমান মুসলিম জাহানের
এমন কোন স্থান ও
ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
পাওয়া যাবে না যেখানে এই
কিতাবটি শিক্ষা দান করা হয় না।
ইসলামী শিক্ষার শিক্ষার্থীগণ এই
গ্রন্থটি অধ্যয়ন ও পাঠ দানের
যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমেই বড়
আলেম রূপে স্বীকৃত হয়ে থাকেন।
এ যাবৎ সহীহ বুখারীর
যতগুলো ব্যাখ্যা গ্রন্থ বের
হয়েছে হাদীছের অন্য কোন কিতাবের
এত বেশী সংখ্যক ব্যাখ্যা বের হয় নি।
এই ব্যাখ্যা গ্রন্থগুলোর
মধ্যে আল্লামা হাফেয ইবনে হাজার
আসকালানী কর্তৃক রচিত ফতহুল
বারী সর্বশ্রেষ্ট স্থান দখল
করে আছে। কেউ কেউ সহীহ বুখারীর
উপর লিখিত ব্যাখ্যা গ্রন্থ শতাধিক
বলে মন্তব্য করেছেন।
ইমাম বুখারীর শেষ জীবন ও কঠিন
পরীক্ষাঃ
ইমাম বুখারীর শেষ জীবন খুব সুখ-
শান্তিতে অতিবাহিত হয় নি। বুখারার
তৎকালীন আমীরের সাথে তাঁর
মতবিরোধ হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত
বিবরণ এই যে, যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ
হিসাবে যখন ইমাম বুখারীর সুনাম ও
সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল তখন
বুখারার আমীর স্বীয়
সন্তানদেরকে সহীহ বুখারী পড়ানোর
জন্য ইমামের কাছে প্রস্তাব করলো।
আমীর আরও প্রস্তাব করলো যে, তার
সন্তানদের পড়ানোর জন্য ইমাম
বুখারীকে রাজ দরবারে আসতে হবে।
কারণ সাধারণ জনগণের
সাথে মসজিদে বসে আমীরের ছেলেদের
পক্ষে সহীহ বুখারী পড়া সম্ভব নয়।
ইমাম বুখারী তাঁর মসজিদ ও সাধারণ
লোকদেরকে ছেড়ে দিয়ে রাজ
দরবারে গিয়ে আলাদাভাবে আমীরের
ছেলেদেরকে বুখারী পড়ানোতে ইলমে হাদীছ
ের জন্য বিরাট অবমাননাকর
ভেবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন।
তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিলেন যে,
আমি কখনও হাদীছের ইলমকে হেয়
প্রতিপন্ন করতে পারবো না এবং এই
মহান রত্মকে আমীর-উমারাদের
দারস্থ করতে পারবো না। আমীর
যদি সত্যিকার অর্থে ইলমে হাদীছের
প্রতি অনুরাগী হন, তাহলে তিনি যেন
তাঁর সন্তানদেরসহ আমার বাড়িতে ও
মসজিদে উপস্থিত হন।
এতে আমীর ইমামের প্রতি রাগান্বিত
হয়ে তাঁকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করলেন
এবং ইমামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার
জন্য দুনিয়া পূজারী কিছু আলেম ঠিক
করলেন। আমীরের আদেশ
এবং ষড়যন্ত্রের
প্রেক্ষিতে তিনি জন্মভূমি বুখারা ত্যাগ
করে নিশাপুরে চলে যান। নিশাপুরেও
অনুরূপ দুঃখজনক
ঘটনা ঘটলে পরিশেষে সমরকন্দের
খরতঙ্গ নামক স্থানে চলে যান।
বুখারা থেকে বের হওয়ার সময় ইমাম
আল্লাহর কাছে এই দুআ করেন যে,
হে আল্লাহ্! সে আমাকে যেভাবে অপমান
করে বের করে দিলো তুমিও
তাকে অনুরূপ লাঞ্চিত করো। মাত্র
এক মাস পার হওয়ার পূর্বেই খুরাসানের
আমীর খালেদ বিন আহমাদের
বিরুদ্ধে জনগণ বিদ্রোহ
ঘোষণা করে তাকে ক্ষমতা ছাড়া করলো।
পরবর্তীতে বাগদাদের
জেলে থাকা অবস্থায় সে মৃত্যু বরণ
করে। শুধু তাই নয় যারাই ইমাম বুখারীর
বিরুদ্ধে তার সহযোগীতা করেছে তারাই
পরবর্তীতে লাঞ্চিত হয়েছে।
ইমাম বুখারী সম্পর্কে আলেমদের কিছু
অভিমতঃ
১) ইমাম ফাল্লাস (রঃ)
বলেনঃ যে হাদীছ সম্পর্কে ইমাম
বুখারী জানেন না, সেটি হাদীছ নয়।
২) ইমাম আবু নুআইম আহমাদ বিন
হাম্মাদ (রঃ) বলেনঃ ইমাম
বুখারী হচ্ছেন এই উম্মতের ফকীহ।
ইয়াকুব বিন ইবরাহীমও অনুরূপ
বলেছেন।
৩) কোন কোন বিদ্যান ফিকহ ও হাদীছ
শাস্ত্রে ইমাম বুখারীকে আহমাদ বিন
হাম্বাল এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইয়ের
উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
৪) কুতাইবা বলেনঃ পৃতিবীর পূর্ব ও
পশ্চিম হতে আমার নিকট অনেক লোক
এসেছে। কিন্তু মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল
আল বুখারী যতবার এসেছে আর কেউ
এত বেশীবার আগমণ করে নি।
৫) ইমাম আবু হাতিম
রাযী বলেনঃ যে সমস্ত মুহাদ্দিছ
বাগদাদে আগমণ করেছেন তাদের
মধ্যে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী হলেন
ইমাম বুখারী।
৬) ইমাম তিরমিজী (উরঃ)
বলেনঃ হাদীছের ইল্লত, ইতহিাস
এবং সনদ সম্পর্কে বুখারীর
চেয়ে অধিক জ্ঞানী ইরাক
এবং খোরাসানের যমীনে আর
কাউকে দেখি নি।
৭) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রঃ)
বলেনঃ খোরাসানের যমীনে ইমাম
বুখারীর অনুরূপ আর কেউ জন্ম গ্রহণ
করে নি।
৮) ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (রঃ)
বলেনঃ ইমাম বুখারীর সমকক্ষ আর
কেউ ছিল না।
৯) মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন
নুমাইর ও আবু বকর
ইবনে আবী শায়বা বলেনঃ তাঁর মত আর
কাউকে দেখি নি।
১০) আলী বিন হাজার বলেনঃ তাঁর মত
আর কেউ আছে বলে আমার জানা নেই।
Post in Dineralo
Next post বিশ্ববিখ্যাত আলেম শায়খ
মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-
উছাইমীন (রঃ)এর সংক্ষিপ্ত
জীবনীঃ
ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
বিশ্ববিখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছাইমীন (রঃ)এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
নাম: আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন
ছালেহ বিন মুহাম্মাদ আত্-তামীমী।
জম্ম: তিনি হিজরী ১৩৪৭ সালের
২৭ রামাযানের
রাত্রিতে সঊদী আরবের আল ক্বাসীম
প্রদেশের উনাইযা শহরে জম্ম গ্রহণ
করেন।
শিক্ষা জীবনঃ শিক্ষা জীবনের
শুরুতে তিনি তাঁর নানার কাছ
থেকে কুরআন শিক্ষা করেন। অতঃপর
আরবী ভাষা ও অন্যান্য
বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর
মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি অতি অল্প
বয়সেই কুরআন মজীদ মুখস্থ করেন
এবং হাদীছ ও ফিক্হসহ কতিপয়
পুস্তিকাও মুখস্থ করেন।
অতঃপর তিনি তাওহীদ, ফিক্হ এবং নাহু
শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করার পর
শায়খ আবদুর রাহমান বিন নাসির আল-
সা’দী (রঃ)এর পাঠশালায় যোগদান
করেন। সেখানে তিনি তাফসীর, হাদীছ,
ফারায়েয, ফিক্হ, উসূলে ফিক্হ
এবং আরবী ব্যকরণ অধ্যয়ন করেন।
যে সমস্ত শায়খদের ইলম, আকীদাহ
এবং পাঠদান পদ্ধতির
দ্বারা তিনি সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত
হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শায়খ আব্দুর
রাহমান বিন নাসের আল-সা’দী (রঃ)
সর্বপ্রথম।
উনাইযাতে থাকাবস্থায় তিনি শায়খ
আব্দুর রাহমান বিন আলী বিন আওদান
(রঃ)এর নিকট ইলমে ফারায়েয
এবং শায়খ আব্দুর রাজ্জাক
আফীফী (রঃ) এর নিকট ইলমে নাহু
এবং ইলমে বালাগাত শিক্ষা করেন।
রিয়াদ শহরে ইসলামিক
শিক্ষা ইন্সটিটিউট
খোলা হলে তিনি বন্ধুদের
পরামর্শক্রমে এবং তাঁর উস্তাদ শায়খ
আব্দুর রাহমান সা’দীর
অনুমতিক্রমে তথায় ভর্তি হন।
সেখানে তিনি দু’বছর অধ্যয়ন
কালে শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমীন
শানকীতী, আব্দুল আজীজ নিব নাসের
বিন রাশীদ এবং শায়খ আব্দুর রাহমান
আল-আফ্রিকীসহ অন্যান্য উস্তাদদের
নিকট থেকে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ
পান। এ সময়ই আল্লামা ইবনে বায
(রঃ)এর কাছে উপস্থিত হয়ে ছহীহ
বুখারী এবং ইমাম ইবনে তাইমীয়া (রঃ)
এর লিখিত বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন
করেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে হাদীছ
এবং ফিকহী মাজহাব সম্পর্কে বিশেষ
জ্ঞান অর্জন করেন। ইলম অর্জনের
ক্ষেত্রে যাদের
দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন
ইবনে বায (রঃ) ছিলেন তাঁদের
মধ্যে দ্বিতীয়।
অতঃপর তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন
সঊদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে
একাডেমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত
করে উনাইযায় ফেরত
এসে উনাইযা জামে মসজিদে পাঠ দান
শুরু করেন। তাঁর উস্তাদ আব্দুর
রাহমান সা’দী ইন্তেকাল করার পর
উন্য়াযা জামে মসজিদের ইমাম ও
খতীবের দায়িত্ব পালনসহ উস্তাদের
প্রতিষ্ঠিত উনায়যা কেন্দ্রীয়
লাইব্রেরীতে শিক্ষা দানের দায়িত্ব
পালন করেন। ছাত্রের
সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে লাইব্রেরীতে
স্থান দেয়া অসম্ভব হওয়ায় মসজিদেই
ক্লাশ নেওয়া শুরু করেন। এ
পর্যায়ে সঊদী আরবের বাইরে থেকেও
বিপুল সংখক ছাত্রের আগমণ
ঘটতে থাকে। জীবনের শেষ কাল
পর্যন্ত তিনি অত্র
মসজিদে শিক্ষা দানে ব্যস্ত ছিলেন।
সাঊদী সরকারের উলামা পরিষদেরও
তিনি সদস্য ছিলেন।
ব্যক্তিগত আমল-আখলাকঃ
শায়খ একজন উঁচু মানের আলেম হওয়ার
সাথে সাথে উন্নত চরিত্রের
অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন
অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল, বিনয়ী, নম্র
এবং আল্লাহ ভীরু।
জীবনের প্রতিটি কাজে তিনি রাসূল
(সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
সুন্নাত বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতেন।
ফতোওয়া দানের
ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া না করে
ধীরস্থীরতা অবলম্বন করতেন।
তিনি মানুষের অভাব-অভিযোগের
কথা শুনতেন এবং সাধ্যানুসারে তাদের
প্রয়োজন পূরণ করতে সচেষ্ট
থাকতেন। বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক
সংগঠনকে তিনি বিশেষভাবে সহযোগিতা
প্রদান করতেন।
দাওয়াতী কর্মতৎপরতাঃ
তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত একজন
আলেম এবং দাঈ। পৃথিবীতে এমন কোন
তালেবে ইলম পাওয়া যাবেনা, যে শায়খ
ইবনে উছাইমীন সম্পর্কে অবগত নয়।
প্রচন্ড রোগে আক্রান্ত অবস্থায়ও
তিনি মক্কা শরীফে দারস্
এবং তালীমের কাজ আন্জাম দিতেন।
মৃত্যুর ছয়মাস পূর্বে তিনি চিকিৎসার
জন্য আমেরিকা সফরে গিয়ে বিভিন্ন
ইসলামী সেন্টারে উপস্থিত হয়ে লেকচার
প্রদান করেন। তথায় তিনি জুমআর
খুৎবা দেন এবং ইমামতি করেন।
সাঊদী আরব আল কুরআন রেডিওতেও
তিনি নিয়মিত শ্রোতাদের প্রশ্নের
উত্তর প্রদান করতেন।
ইলমী খিদমতঃ
ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম নামে তাঁর
একটি প্রসিদ্ধ কিতাব রয়েছে। এই
কিতাবটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ হওয়ার
সাথে সাথে বাংলাভাষী মুসলিমগণের
মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
দেশে ও বিদেশে কিতাবটি বহুবার
ছাপা হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর রচিত
কিতাব ও পুস্তিকার সংখ্যা অনেক।
তাঁর লেখনীর মধ্যে রয়েছেঃ-
১) শারহুল আকীদাহ আল-
ওয়াসিতীয়াহ।
২) কাশফুশ্ শুবহাত।
৩) আল কাওয়ায়েদুল মুছলা
৪) শারহুল আরবাঈন আন নাবুবীয়াহ।
৫) কিতাবুল ইলম।
৬) আশ্ শারহুল মুমতিউ (সাত ভলিওম)
৭) শারহু ছালাছাতুল উসূল
৮) আল উছূল মিন ঈলমিল উছূল।
এছাড়া রয়েছে তাঁর আরো অসংখ্য
ক্যাসেট ও ছোট ছোট পুস্তিকা, যা তাঁর
নামে প্রতিষ্ঠিত ইবনে উছাইমীন
কল্যাণ সংস্থা বিশেষ গুরুত্ব
সহকারে প্রচার করে থাকে।
বর্তমানে তাঁর ইসলামের খিদমত সমূহ
ওয়েব সাইটেও পাওয়া যায়।
ঠিকানাঃ
http://
www.ibnothaimeen.com/
index.shtml
পরলোক গমণঃ
এই স্বনামধন্য ও বিশ্ববরেণ্য
আলেমে দ্বীন দীর্ঘ দিন ইসলামের
খেদমত আন্জাম দেয়ার পর ১৪২১
হিঃ শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ
মাগরিবের নামাযের সামান্য
পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তাঁর
মৃত্যুতে সঊদী আরবের বাদশাসহ রাজ
পরিবারের সকল সদস্য, সে দেশের সকল
আলেম এবং সর্বস্তরের জনগণ
শোকাহত হন। বিশ্ব এক অপূরণীয়
ক্ষতি অনুভব করে।
আল্লাহর কাছে দু’আ করি তিনি যেন
শায়খের সমস্ত দ্বীনি খেদমত কবূল
করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল
ফেরদাউসে স্থান প্রদান করেন।
আমীন॥
আব্দুল্লাহ শাহেদ
Post on Dineralo.
Next post উমার (রাঃ) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিনব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
ছালেহ বিন মুহাম্মাদ আত্-তামীমী।
জম্ম: তিনি হিজরী ১৩৪৭ সালের
২৭ রামাযানের
রাত্রিতে সঊদী আরবের আল ক্বাসীম
প্রদেশের উনাইযা শহরে জম্ম গ্রহণ
করেন।
শিক্ষা জীবনঃ শিক্ষা জীবনের
শুরুতে তিনি তাঁর নানার কাছ
থেকে কুরআন শিক্ষা করেন। অতঃপর
আরবী ভাষা ও অন্যান্য
বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর
মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি অতি অল্প
বয়সেই কুরআন মজীদ মুখস্থ করেন
এবং হাদীছ ও ফিক্হসহ কতিপয়
পুস্তিকাও মুখস্থ করেন।
অতঃপর তিনি তাওহীদ, ফিক্হ এবং নাহু
শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করার পর
শায়খ আবদুর রাহমান বিন নাসির আল-
সা’দী (রঃ)এর পাঠশালায় যোগদান
করেন। সেখানে তিনি তাফসীর, হাদীছ,
ফারায়েয, ফিক্হ, উসূলে ফিক্হ
এবং আরবী ব্যকরণ অধ্যয়ন করেন।
যে সমস্ত শায়খদের ইলম, আকীদাহ
এবং পাঠদান পদ্ধতির
দ্বারা তিনি সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত
হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শায়খ আব্দুর
রাহমান বিন নাসের আল-সা’দী (রঃ)
সর্বপ্রথম।
উনাইযাতে থাকাবস্থায় তিনি শায়খ
আব্দুর রাহমান বিন আলী বিন আওদান
(রঃ)এর নিকট ইলমে ফারায়েয
এবং শায়খ আব্দুর রাজ্জাক
আফীফী (রঃ) এর নিকট ইলমে নাহু
এবং ইলমে বালাগাত শিক্ষা করেন।
রিয়াদ শহরে ইসলামিক
শিক্ষা ইন্সটিটিউট
খোলা হলে তিনি বন্ধুদের
পরামর্শক্রমে এবং তাঁর উস্তাদ শায়খ
আব্দুর রাহমান সা’দীর
অনুমতিক্রমে তথায় ভর্তি হন।
সেখানে তিনি দু’বছর অধ্যয়ন
কালে শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমীন
শানকীতী, আব্দুল আজীজ নিব নাসের
বিন রাশীদ এবং শায়খ আব্দুর রাহমান
আল-আফ্রিকীসহ অন্যান্য উস্তাদদের
নিকট থেকে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ
পান। এ সময়ই আল্লামা ইবনে বায
(রঃ)এর কাছে উপস্থিত হয়ে ছহীহ
বুখারী এবং ইমাম ইবনে তাইমীয়া (রঃ)
এর লিখিত বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন
করেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে হাদীছ
এবং ফিকহী মাজহাব সম্পর্কে বিশেষ
জ্ঞান অর্জন করেন। ইলম অর্জনের
ক্ষেত্রে যাদের
দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন
ইবনে বায (রঃ) ছিলেন তাঁদের
মধ্যে দ্বিতীয়।
অতঃপর তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন
সঊদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে
একাডেমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত
করে উনাইযায় ফেরত
এসে উনাইযা জামে মসজিদে পাঠ দান
শুরু করেন। তাঁর উস্তাদ আব্দুর
রাহমান সা’দী ইন্তেকাল করার পর
উন্য়াযা জামে মসজিদের ইমাম ও
খতীবের দায়িত্ব পালনসহ উস্তাদের
প্রতিষ্ঠিত উনায়যা কেন্দ্রীয়
লাইব্রেরীতে শিক্ষা দানের দায়িত্ব
পালন করেন। ছাত্রের
সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে লাইব্রেরীতে
স্থান দেয়া অসম্ভব হওয়ায় মসজিদেই
ক্লাশ নেওয়া শুরু করেন। এ
পর্যায়ে সঊদী আরবের বাইরে থেকেও
বিপুল সংখক ছাত্রের আগমণ
ঘটতে থাকে। জীবনের শেষ কাল
পর্যন্ত তিনি অত্র
মসজিদে শিক্ষা দানে ব্যস্ত ছিলেন।
সাঊদী সরকারের উলামা পরিষদেরও
তিনি সদস্য ছিলেন।
ব্যক্তিগত আমল-আখলাকঃ
শায়খ একজন উঁচু মানের আলেম হওয়ার
সাথে সাথে উন্নত চরিত্রের
অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন
অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল, বিনয়ী, নম্র
এবং আল্লাহ ভীরু।
জীবনের প্রতিটি কাজে তিনি রাসূল
(সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর
সুন্নাত বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতেন।
ফতোওয়া দানের
ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া না করে
ধীরস্থীরতা অবলম্বন করতেন।
তিনি মানুষের অভাব-অভিযোগের
কথা শুনতেন এবং সাধ্যানুসারে তাদের
প্রয়োজন পূরণ করতে সচেষ্ট
থাকতেন। বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক
সংগঠনকে তিনি বিশেষভাবে সহযোগিতা
প্রদান করতেন।
দাওয়াতী কর্মতৎপরতাঃ
তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত একজন
আলেম এবং দাঈ। পৃথিবীতে এমন কোন
তালেবে ইলম পাওয়া যাবেনা, যে শায়খ
ইবনে উছাইমীন সম্পর্কে অবগত নয়।
প্রচন্ড রোগে আক্রান্ত অবস্থায়ও
তিনি মক্কা শরীফে দারস্
এবং তালীমের কাজ আন্জাম দিতেন।
মৃত্যুর ছয়মাস পূর্বে তিনি চিকিৎসার
জন্য আমেরিকা সফরে গিয়ে বিভিন্ন
ইসলামী সেন্টারে উপস্থিত হয়ে লেকচার
প্রদান করেন। তথায় তিনি জুমআর
খুৎবা দেন এবং ইমামতি করেন।
সাঊদী আরব আল কুরআন রেডিওতেও
তিনি নিয়মিত শ্রোতাদের প্রশ্নের
উত্তর প্রদান করতেন।
ইলমী খিদমতঃ
ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম নামে তাঁর
একটি প্রসিদ্ধ কিতাব রয়েছে। এই
কিতাবটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ হওয়ার
সাথে সাথে বাংলাভাষী মুসলিমগণের
মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
দেশে ও বিদেশে কিতাবটি বহুবার
ছাপা হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর রচিত
কিতাব ও পুস্তিকার সংখ্যা অনেক।
তাঁর লেখনীর মধ্যে রয়েছেঃ-
১) শারহুল আকীদাহ আল-
ওয়াসিতীয়াহ।
২) কাশফুশ্ শুবহাত।
৩) আল কাওয়ায়েদুল মুছলা
৪) শারহুল আরবাঈন আন নাবুবীয়াহ।
৫) কিতাবুল ইলম।
৬) আশ্ শারহুল মুমতিউ (সাত ভলিওম)
৭) শারহু ছালাছাতুল উসূল
৮) আল উছূল মিন ঈলমিল উছূল।
এছাড়া রয়েছে তাঁর আরো অসংখ্য
ক্যাসেট ও ছোট ছোট পুস্তিকা, যা তাঁর
নামে প্রতিষ্ঠিত ইবনে উছাইমীন
কল্যাণ সংস্থা বিশেষ গুরুত্ব
সহকারে প্রচার করে থাকে।
বর্তমানে তাঁর ইসলামের খিদমত সমূহ
ওয়েব সাইটেও পাওয়া যায়।
ঠিকানাঃ
http://
www.ibnothaimeen.com/
index.shtml
পরলোক গমণঃ
এই স্বনামধন্য ও বিশ্ববরেণ্য
আলেমে দ্বীন দীর্ঘ দিন ইসলামের
খেদমত আন্জাম দেয়ার পর ১৪২১
হিঃ শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ
মাগরিবের নামাযের সামান্য
পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তাঁর
মৃত্যুতে সঊদী আরবের বাদশাসহ রাজ
পরিবারের সকল সদস্য, সে দেশের সকল
আলেম এবং সর্বস্তরের জনগণ
শোকাহত হন। বিশ্ব এক অপূরণীয়
ক্ষতি অনুভব করে।
আল্লাহর কাছে দু’আ করি তিনি যেন
শায়খের সমস্ত দ্বীনি খেদমত কবূল
করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল
ফেরদাউসে স্থান প্রদান করেন।
আমীন॥
আব্দুল্লাহ শাহেদ
Post on Dineralo.
Next post উমার (রাঃ) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃসৈয়দ রুবেল উদ্দিনব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
উমার (রাঃ) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ নবুওয়াতের
৬ষ্ঠ সনের যুল-হাজ্জ মাসে। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার
ইসলাম কবূলের জন্যে আল্লাহর
দরবারে দু’আ করেছিলেন। নবী (সাঃ)
বলেছিলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! উমার বিন
খাত্তাব এবং আবু জাহেল বিন হেশাম
এর মধ্য হতে আপনার নিকট যে অধিক
প্রিয়
তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।
আল্লাহর কাছে উমার (রাঃ) অধিক
প্রিয় ছিলেন”। (বুখারী)
উমার (রাঃ) অত্যন্ত কঠিন প্রকৃতির
লোক ছিলেন। মুশরিক থাকাবস্থায়
তিনি মুসলমানদেরকে কষ্ট দিতেন
এবং তাদের উপর কঠোর ছিলেন।
উমার (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহণের
ঘটনা এইযে, তাঁর বোন
ফাতেমা বিনতে খাত্তাব এবং তাঁর
স্বামী সাঈদ বিন যায়েদ গোপনে ইসলাম
গ্রহণ করেছিল। খাব্বাব (রাঃ)
ফাতেমাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।
একদিন উমার (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীদের
উপর আক্রমণ করার জন্য
তরবারি নিয়ে বের হলেন। এ সময়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
৪০ জনের মত লোক
নিয়ে সাফা পাহাড়ের
নিকটে একটি বাড়িতে অবস্থান
করছিলেন। সেখানে হামযাহ, আবু বকর
এবং আলী (রাঃ)ও ছিলেন। রাস্তায়
নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ এর
সাথে দেখা হলো।
নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহও তার
গোত্রের লোকদের অত্যাচারের
ভয়ে ইসলাম গোপন রেখেছিল।
তিনি উমারকে জিজ্ঞেস
করলেনঃ কোথায় যাচ্ছেন? উমার
বললেনঃ শুনেছি মুহাম্মাদ বেদীন
হয়ে গেছে, সে আমাদের মাঝে বিভেদ
সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের
মা’বূদদেরকে গালি দিচ্ছে এবং আমাদের
জ্ঞানীদেরকে বোকা বলছে ও আমাদের
দ্বীনকে দোষারূপ করছে। তাই
তাকে হত্যা করতে যাচ্ছি।
নুআইম বললেনঃ আপনার কি মনে হয়
মুহাম্মাদকে হত্যা করলে তার গোত্রের
লোকেরা আপনাকে ছেড়ে দিবে?
তা ছাড়া মুহাম্মাদকে হত্যার
পূর্বে নিজের ঘর ঠিক করা দরকার।
তোমার বোন এবং ভগ্নীপতি সাঈদ বিন
যায়েদ ইসলাম গ্রহণ করেছে। এ কথার
মাধ্যমে নুআইমের উদ্দেশ্য ছিল
উমারকে মুহাম্মাদ (সাঃ)এর
দিকে যাত্রা থেকে বিরত রাখা।
উমার মুহাম্মাদকে হত্যার সিদ্ধান্ত
পরিবর্তন করে বোনের বাড়ির
দিকে যাত্রা করল। এ সময় খাব্বাব
ফাতেমা এবং তাঁর
স্বামী সাঈদকে কুরআন মাযীদের
সূরা তহা পড়াচ্ছিলেন। উমারের আগমণ
অনুভব করে খাব্বাব ঘরের এক
পাশে লুকিয়ে গেলেন এবং ফাতেমাও
কুরআনের কপিটি লুকিয়ে ফেললন। অথচ
উমার এর আগেই খাব্বাবের কন্ঠস্বর
শুনেছিল।
উমার ঘরে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস
করলঃ আমি কিসের আওয়াজ
শুনতে পেলাম? তারা বললঃ তুমি কিছুই
শুনতে পাওনি। সে বললঃ আল্লাহর
শপথ! আমি শুনেছি, তোমরা উভয়েই
নাকি মুহাম্মাদের অনুসারী হয়ে গিয়েছ।
এই বলে সাঈদের উপর
ঝাপিয়ে পড়ে তাকে প্রহার করা শুরু
করল। ফাতেমা প্রতিরোধ
করতে গেলে তার মুখমন্ডলে আঘাত
করে রক্ত প্রবাহিত করে দিল।
পরিশেষে তারা স্বীকার করল যে,
আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি, আল্লাহ
এবং তাঁর রাসূলের উপরে ঈমান এনেছি।
তোমার মন যা চায় তাই করতে পার।
উমার তার বোনের চেহারায় রক্ত
দেখে লজ্জিত হল
এবং বললঃ তোমরা যে পুস্তিকাটি পাঠ
করতেছিলে তা আমাকে দাও।
আমি দেখতে চাই এতে কি রয়েছে।
ফাতেমা বললঃ আমাদের ভয় হচ্ছে,
তুমি এটিকে অপদস্ত
করবে এবং আমাদেরকে তা আর ফেরত
দিবেনা। উমার দেব-দেবীর নামে শপথ
করে বললঃ অবশ্যই তা ফেরত দিবে।
ফাতেমা বললঃ তুমি অপবিত্র। পবিত্র
লোক ব্যতীত অন্য কেউ কুরআন
স্পর্শ করতে পারেনা। উমার
উঠে গোসল করে আসল। ফাতেমা তার
হাতে কুরআন মযীদ দেয়ার পর
সে সূরা ত্বহা পাঠ করল। সূরা ত্বহার
প্রথমাংশ পাঠ করেই সে বললঃ কত
সুন্দর এই কালাম।
এ কথা শুনে খাব্বাব বের
হয়ে এসে বললঃ আপনার
ব্যাপারে আল্লাহর নবীর দু’আ কবূল
হয়ে গেছে।
কেননা আমি তাঁকে বলতে শুনেছি,
হে আল্লাহ! উমার ইবনে খাত্তাব
অথবা আবু জাহেল ইবনে হিশাম- এ
দু’জনের একজনের
মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী কর।
হে উমার! তুমি আল্লাহকে ভয় কর।
হে উমার! তুমি আল্লাহকে ভয় কর।
উমার (রাঃ) তখন বললেনঃ হে খাব্বাব!
মুহাম্মাদ কোথায় আছে?
আমাকে দেখিয়ে দাও। আমি তাঁর
কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করবো।
খাব্বাব বললেনঃ তিনি একদল সাহাবীসহ
সাফা পাহাড়ের নিকস্থ কোন
বাড়িতে অবস্থান করছেন।
উমার
তরবারি হাতে নিয়ে সেদিকে চললেন।
দরজায় গিয়ে করাঘাত করার
সাথে সাথে একজন দাড়িয়ে দরজার ফাঁক
দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখলেন, উমার
উন্মুক্ত
তরবারি হাতে নিয়ে উপস্থিত। ভীত-
সন্ত্রস্ত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সংবাদ দিলেন।
হামযাহ (রাঃ)
বললেনঃ তাকে আসতে বল। সে যদি ভাল
নিয়তে এসে থাকে তাহলে তার
সাথে আমরা ভাল ব্যবহার করব। আর
যদি মন্দ
নিয়তে এসে থাকে তবে আমরা তার
তলোওয়ার দিয়েই তাকে হত্যা করব।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেনঃ তাকে আসার অনুমতি দাও।
সে ভিতরে প্রবেশ করলে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতার
চাদর ধরে শক্ত করে টান দিলেন
এবং বললেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র
উমার! কি কারণে তুমি এখানে এসেছো?
আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় তোমার
উপরে আল্লাহর শাস্তি নাজিল হওয়ার
পূর্বে বিরত হবেনা।
এ কথা শুনে উমার (রাঃ)
বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল!
আমি এসেছি আল্লাহর
প্রতি এবং আল্লাহর রাসূলের
প্রতি ঈমান আনয়নের জন্যে।
এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন উঁচু
কন্ঠে তাকবীর পাঠ করলেন,
যা শুনে ঘরের সকলেই বুঝতে সক্ষম হল
যে, উমার মুসলমান হয়ে গেছে।
মুসলমানগণ সেখান থেকে বের
হয়ে আসলেন।
এভাবেই উমার (রাঃ) এবং হামযাহ (রাঃ)
এর ইসলাম গ্রহণের
মাধ্যমে তাঁরা শক্তিশালী হল।
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ উমার (রাঃ)
এর ইসলাম গ্রহণের পর
থেকে আমরা সম্মানিত ছিলাম।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা হল
তিনি যেন ইসলাম ও মুসলমানদের এই
করুণ পরিস্থিতিতে উমারের মত লোক
দিয়ে তার দ্বীনকে শক্তিশালী করেন।
Post in dineralo.
Next post ►প্রশ্ন-উত্তরে সিয়াম◄সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার কারণসমূহ
ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
Read More
৬ষ্ঠ সনের যুল-হাজ্জ মাসে। রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার
ইসলাম কবূলের জন্যে আল্লাহর
দরবারে দু’আ করেছিলেন। নবী (সাঃ)
বলেছিলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্! উমার বিন
খাত্তাব এবং আবু জাহেল বিন হেশাম
এর মধ্য হতে আপনার নিকট যে অধিক
প্রিয়
তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।
আল্লাহর কাছে উমার (রাঃ) অধিক
প্রিয় ছিলেন”। (বুখারী)
উমার (রাঃ) অত্যন্ত কঠিন প্রকৃতির
লোক ছিলেন। মুশরিক থাকাবস্থায়
তিনি মুসলমানদেরকে কষ্ট দিতেন
এবং তাদের উপর কঠোর ছিলেন।
উমার (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহণের
ঘটনা এইযে, তাঁর বোন
ফাতেমা বিনতে খাত্তাব এবং তাঁর
স্বামী সাঈদ বিন যায়েদ গোপনে ইসলাম
গ্রহণ করেছিল। খাব্বাব (রাঃ)
ফাতেমাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।
একদিন উমার (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীদের
উপর আক্রমণ করার জন্য
তরবারি নিয়ে বের হলেন। এ সময়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
৪০ জনের মত লোক
নিয়ে সাফা পাহাড়ের
নিকটে একটি বাড়িতে অবস্থান
করছিলেন। সেখানে হামযাহ, আবু বকর
এবং আলী (রাঃ)ও ছিলেন। রাস্তায়
নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ এর
সাথে দেখা হলো।
নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহও তার
গোত্রের লোকদের অত্যাচারের
ভয়ে ইসলাম গোপন রেখেছিল।
তিনি উমারকে জিজ্ঞেস
করলেনঃ কোথায় যাচ্ছেন? উমার
বললেনঃ শুনেছি মুহাম্মাদ বেদীন
হয়ে গেছে, সে আমাদের মাঝে বিভেদ
সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের
মা’বূদদেরকে গালি দিচ্ছে এবং আমাদের
জ্ঞানীদেরকে বোকা বলছে ও আমাদের
দ্বীনকে দোষারূপ করছে। তাই
তাকে হত্যা করতে যাচ্ছি।
নুআইম বললেনঃ আপনার কি মনে হয়
মুহাম্মাদকে হত্যা করলে তার গোত্রের
লোকেরা আপনাকে ছেড়ে দিবে?
তা ছাড়া মুহাম্মাদকে হত্যার
পূর্বে নিজের ঘর ঠিক করা দরকার।
তোমার বোন এবং ভগ্নীপতি সাঈদ বিন
যায়েদ ইসলাম গ্রহণ করেছে। এ কথার
মাধ্যমে নুআইমের উদ্দেশ্য ছিল
উমারকে মুহাম্মাদ (সাঃ)এর
দিকে যাত্রা থেকে বিরত রাখা।
উমার মুহাম্মাদকে হত্যার সিদ্ধান্ত
পরিবর্তন করে বোনের বাড়ির
দিকে যাত্রা করল। এ সময় খাব্বাব
ফাতেমা এবং তাঁর
স্বামী সাঈদকে কুরআন মাযীদের
সূরা তহা পড়াচ্ছিলেন। উমারের আগমণ
অনুভব করে খাব্বাব ঘরের এক
পাশে লুকিয়ে গেলেন এবং ফাতেমাও
কুরআনের কপিটি লুকিয়ে ফেললন। অথচ
উমার এর আগেই খাব্বাবের কন্ঠস্বর
শুনেছিল।
উমার ঘরে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস
করলঃ আমি কিসের আওয়াজ
শুনতে পেলাম? তারা বললঃ তুমি কিছুই
শুনতে পাওনি। সে বললঃ আল্লাহর
শপথ! আমি শুনেছি, তোমরা উভয়েই
নাকি মুহাম্মাদের অনুসারী হয়ে গিয়েছ।
এই বলে সাঈদের উপর
ঝাপিয়ে পড়ে তাকে প্রহার করা শুরু
করল। ফাতেমা প্রতিরোধ
করতে গেলে তার মুখমন্ডলে আঘাত
করে রক্ত প্রবাহিত করে দিল।
পরিশেষে তারা স্বীকার করল যে,
আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি, আল্লাহ
এবং তাঁর রাসূলের উপরে ঈমান এনেছি।
তোমার মন যা চায় তাই করতে পার।
উমার তার বোনের চেহারায় রক্ত
দেখে লজ্জিত হল
এবং বললঃ তোমরা যে পুস্তিকাটি পাঠ
করতেছিলে তা আমাকে দাও।
আমি দেখতে চাই এতে কি রয়েছে।
ফাতেমা বললঃ আমাদের ভয় হচ্ছে,
তুমি এটিকে অপদস্ত
করবে এবং আমাদেরকে তা আর ফেরত
দিবেনা। উমার দেব-দেবীর নামে শপথ
করে বললঃ অবশ্যই তা ফেরত দিবে।
ফাতেমা বললঃ তুমি অপবিত্র। পবিত্র
লোক ব্যতীত অন্য কেউ কুরআন
স্পর্শ করতে পারেনা। উমার
উঠে গোসল করে আসল। ফাতেমা তার
হাতে কুরআন মযীদ দেয়ার পর
সে সূরা ত্বহা পাঠ করল। সূরা ত্বহার
প্রথমাংশ পাঠ করেই সে বললঃ কত
সুন্দর এই কালাম।
এ কথা শুনে খাব্বাব বের
হয়ে এসে বললঃ আপনার
ব্যাপারে আল্লাহর নবীর দু’আ কবূল
হয়ে গেছে।
কেননা আমি তাঁকে বলতে শুনেছি,
হে আল্লাহ! উমার ইবনে খাত্তাব
অথবা আবু জাহেল ইবনে হিশাম- এ
দু’জনের একজনের
মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী কর।
হে উমার! তুমি আল্লাহকে ভয় কর।
হে উমার! তুমি আল্লাহকে ভয় কর।
উমার (রাঃ) তখন বললেনঃ হে খাব্বাব!
মুহাম্মাদ কোথায় আছে?
আমাকে দেখিয়ে দাও। আমি তাঁর
কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করবো।
খাব্বাব বললেনঃ তিনি একদল সাহাবীসহ
সাফা পাহাড়ের নিকস্থ কোন
বাড়িতে অবস্থান করছেন।
উমার
তরবারি হাতে নিয়ে সেদিকে চললেন।
দরজায় গিয়ে করাঘাত করার
সাথে সাথে একজন দাড়িয়ে দরজার ফাঁক
দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখলেন, উমার
উন্মুক্ত
তরবারি হাতে নিয়ে উপস্থিত। ভীত-
সন্ত্রস্ত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সংবাদ দিলেন।
হামযাহ (রাঃ)
বললেনঃ তাকে আসতে বল। সে যদি ভাল
নিয়তে এসে থাকে তাহলে তার
সাথে আমরা ভাল ব্যবহার করব। আর
যদি মন্দ
নিয়তে এসে থাকে তবে আমরা তার
তলোওয়ার দিয়েই তাকে হত্যা করব।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেনঃ তাকে আসার অনুমতি দাও।
সে ভিতরে প্রবেশ করলে রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতার
চাদর ধরে শক্ত করে টান দিলেন
এবং বললেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র
উমার! কি কারণে তুমি এখানে এসেছো?
আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় তোমার
উপরে আল্লাহর শাস্তি নাজিল হওয়ার
পূর্বে বিরত হবেনা।
এ কথা শুনে উমার (রাঃ)
বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল!
আমি এসেছি আল্লাহর
প্রতি এবং আল্লাহর রাসূলের
প্রতি ঈমান আনয়নের জন্যে।
এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন উঁচু
কন্ঠে তাকবীর পাঠ করলেন,
যা শুনে ঘরের সকলেই বুঝতে সক্ষম হল
যে, উমার মুসলমান হয়ে গেছে।
মুসলমানগণ সেখান থেকে বের
হয়ে আসলেন।
এভাবেই উমার (রাঃ) এবং হামযাহ (রাঃ)
এর ইসলাম গ্রহণের
মাধ্যমে তাঁরা শক্তিশালী হল।
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ উমার (রাঃ)
এর ইসলাম গ্রহণের পর
থেকে আমরা সম্মানিত ছিলাম।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা হল
তিনি যেন ইসলাম ও মুসলমানদের এই
করুণ পরিস্থিতিতে উমারের মত লোক
দিয়ে তার দ্বীনকে শক্তিশালী করেন।
Post in dineralo.
Next post ►প্রশ্ন-উত্তরে সিয়াম◄সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার কারণসমূহ
ব্লগ সম্পাদক ও এ্যাডমিনঃ সৈয়দ রুবেল উদ্দিন
ব্লগের প্রকাশিত পোস্ট গুলি ফেসবুকে শেয়ার করে আমাদের চলার পথকে আরো গতিময় করে তুলুন ।আমরা দিন রাত খাটিয়ে পোস্ট গুলি লেখি ।ব্লগে প্রকাশ করে আপনাদেরকে উপহার দেয় ।আপনারা যদি শেয়ার না করেন?তাহলে আমরা তো সামনে এগিয়ে যেতে পারবোনা ।আমার ব্লগ বাড়ীতে বেড়াতে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ।সাথে থাকুন সব সময় ।আল্লাহ্ হাফেজ ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি
(
Atom
)